জাতীয়

শিল্পে বিশ্বাসের নিপুণ বরাভয়

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
শিল্পে বিশ্বাসের নিপুণ বরাভয়
শিল্পে বিশ্বাসের নিপুণ বরাভয়

বাংলাদেশে ইসলামি ক্যালিগ্রাফি এখন আর কেবল আরবি অক্ষরের সৌন্দর্যচর্চা নয়, ধীরে ধীরে এটি হয়ে উঠছে স্বতন্ত্র এক ভিজ্যুয়াল আর্টের পরিসর। শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরে গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হওয়া আর্ট অব ফেইথ শিল্পকর্ম প্রদর্শনী ২০২৬ সেই পরিবর্তনেরই একটি জোরালো প্রতিফলন। প্রদর্শনীটি শেষ হবে ১৬ সেপ্টেম্বর।

ইসলামি ক্যালিগ্রাফি বলতে বাংলাদেশে একসময় বোঝাত আরবি ও উর্দু নির্দিষ্ট অক্ষরের চর্চা। মাত্র দুই দশকে সেই চর্চা বদলে গেছে অনেকখানি। ক্যালিগ্রাফি পেইন্টিং ও পেইন্টিং ক্যালিগ্রাফির নতুন ধারা তৈরি হয়েছে, রং ও তার প্রয়োগে নৈপুণ্যের প্রভাব বেড়েছে বহুগুণ। একসময় যে চর্চা সীমাবদ্ধ ছিল ড্রয়িংরুম আর ক্যালেন্ডারের পাতায়, তা এখন পৌঁছে গেছে পাবলিক ওয়ালেও। জুলাইয়ের গ্রাফিতি উৎসবে দেয়ালে দেয়ালে দেখা গেছে বাংলা ও আরবি ক্যালিগ্রাফির অনবদ্য ও শক্তিশালী প্রকাশ।

মাধ্যমেও এসেছে বৈচিত্র্য। শিল্পীরা আর কাগজ-ক্যানভাসে সীমাবদ্ধ নেই; চট, কাঠ, রেজিন, স্টিল, বুনন ও বৈদ্যুতিক লাইটিংয়ের ব্যবহারেও হাত পাকিয়েছেন। বিষয়বস্তুতেও ধর্মীয় বাণীর পাশাপাশি জায়গা করে নিয়েছে সমকালীন রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রসঙ্গ। অক্ষর থেকে পেইন্টিং, দেয়াল থেকে পাবলিক স্পেস, কাগজ থেকে বহুমাত্রিক মাধ্যম, নিছক ধর্মীয় অলংকরণ থেকে সমকালীন ভাবনা—এ যাত্রাই সম্ভবত গত দুই দশকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।

মাত্র দুই দশকে অপ্রাতিষ্ঠানিকভাবে ইসলামি ক্যালিগ্রাফির চর্চা করেন এমন মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সহস্রাধিক। চাইলেই এখন ৫০-১০০ শিল্পীর প্রদর্শনী আয়োজন করে ফেলা যায়।

রাজধানীর গ্যালারিগুলোতে সাধারণত যেসব আর্ট এক্সিবিশন হয়, তার তুলনায় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী গ্যালারিতে দর্শনার্থীর সংখ্যা ছিল চোখে পড়ার মতো বেশি। এর একটা কারণ সম্ভবত জাদুঘরের অবস্থান ও পরিচিতি। আরেকটা কারণ ধর্মীয় বিষয়বস্তুর প্রতি সাধারণ দর্শকের স্বতঃস্ফূর্ত আগ্রহ, যা প্রচলিত সমকালীন শিল্প প্রদর্শনীতে সব সময় দেখা যায় না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রদর্শনীর প্রচার হয়েছে ভালোভাবে, যা তরুণ দর্শকদের টেনে আনতে সাহায্য করেছে বলে মনে হয়েছে। পুরো গ্যালারি ছিল ছবিতে ভরা, অধিকাংশ দেয়ালে দুই সারি ছবি টানানো, কিছু অংশে তিন সারি ছবিও দেখা গেছে।

আয়োজক সংগঠন ইসলামিক কালচারাল অর্গানাইজেশনের সভাপতি ইসমাইল হুসাইন জানালেন, ২০১ জন শিল্পীর ৩১০টি শিল্পকর্ম প্রদর্শিত হয়েছে এই প্রদর্শনীতে। নবীন-প্রবীণ শিল্পীর পাশাপাশি জায়গা পেয়েছে ২১ জন শিশুশিল্পীর কাজও।

প্রদর্শিত শিল্পকর্মের বেশির ভাগই ইসলামি ক্যালিগ্রাফি। কোরআনের আয়াত, হাদিসের বাণী আর মনীষীদের কথামালা আরবি ও বাংলায় নানা রঙে ও নৈপুণ্যে চিত্রিত হয়েছে। কিছু নিসর্গচিত্রও ছিল প্রদর্শনীতে, তার মধ্যে কিছু রিয়েলিস্টিক, কিছু সেমি–রিয়েলিস্টিক, কিছু আবার সম্পূর্ণ বিমূর্ত।

শিল্পী আনাস খান তাঁর স্টিলের শিল্পকর্মে ব্যবহার করেছেন আরবের সুগন্ধি। তাঁর ভাষ্য, ‘শিল্পকর্ম সাধারণত দেখার বিষয়, আমি চেয়েছি সুগন্ধির ব্যবহারে একে বিশেষায়িত করতে। সম্ভবত আমি সফল, দর্শনার্থীরা ভালোই উপভোগ করছেন।’ ঘ্রাণকে শিল্পের উপকরণ বানানোর এই সিদ্ধান্ত প্রদর্শনীর মাধ্যম-বৈচিত্র্যের সবচেয়ে সাহসী উদাহরণগুলোর একটি।

নারী শিল্পীদের অংশগ্রহণও ছিল লক্ষণীয়। তাবাসসুম আম্বিয়া সামিরা, যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ক্রাফট বিভাগে পড়েন, জানালেন শিল্পকর্মে বৈপ্লবিক থিমের ব্যবহার তাঁকে অন্য রকম অনুভূতি দেয়। তাঁর একটি ক্যানভাসে এঁকেছেন ফিলিস্তিনের পতাকা ও কেফিয়াহ, মাঝে ব্যবহৃত গ্রেনেটে ফুলগাছে ফুল ফুটে আছে। কেবল বিপ্লব বা প্রতিবাদ নয়, দেশীয় ঐতিহ্যের প্রতিও তাঁর দরদ স্পষ্ট। আরেকটি কাজে এঁকেছেন জামদানির টেক্সচার ও চারপাশে অক্ষরের নানা শৈল্পিক উপস্থাপনা। ধর্মীয় ক্যালিগ্রাফির পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রতীক ও দেশীয় কারুকাজের এই মিশেল প্রদর্শনীর সবচেয়ে সমকালীন দিকটি স্পষ্ট করে তোলে।

সিনিয়র শিল্পীদের মধ্যে অধ্যাপক ড. আবদুস সাত্তার, আরিফুর রহমান, ইব্রাহীম মণ্ডল ও আমিনুল ইসলাম আমিনের শিল্পকর্ম প্রদর্শিত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে আমিনের একটি কাজ বিশেষভাবে দৃষ্টি কেড়েছে। সাদা কাগজে কালো কলমের ক্রস-হ্যাচিং পদ্ধতিতে তিনি এঁকেছেন সুরা আর-রাহমানের সেই বিখ্যাত পুনরাবৃত্ত আয়াত, গোটা সুরাজুড়ে যা এসেছে ৩১ বার। এর বাংলা ভাবার্থ, তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নিয়ামতকে অস্বীকার করবে। কেবল আয়াতের অর্থ নয়, রেখার প্রতিটি স্তর কীভাবে একটির পর একটি বসেছে তার কারুকাজেই বোঝা যায় ধৈর্য আর মনোযোগের কতটা বিনিয়োগ হয়েছে এই একটি কাজে।

শিল্পী জোবায়ের আহমদ জামিলের কাজও আলাদাভাবে বলার দাবি রাখে। তিনি শিল্পকর্ম গড়তে রংতুলির ব্যবহারই করেননি। ছালার চট, টুকরা টুকরা কাঠ ও পাটের রশি দিয়ে গড়েছেন এক অসাধারণ কম্পোজিশন, যার সামনে মুগ্ধ হয়ে লম্বা সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। মোল্লা হানিফ, উসাইদ মুহাম্মাদ, সুলতান আমানুর রহমান, সিফাতুল্লাহ, আব্দুর রহমান রুমি, ত্বাসীন ত্বাহা, ওসমান হায়াত, রেদওয়ান নুর, আজিজুল হক রিয়াজ, আবরারুল হক, আজমিরা মুনা, রাইসা তাসনিম, ইশরাত আমিনা, সাওদা ইসলাম, সুলতানা জয়নব ও মুশফিকা মেহেকের কাজও প্রশংসার দাবি রাখে, যদিও প্রতিটি নিয়ে আলাদা করে বলার সুযোগ এই স্বল্প পরিসরের লেখায় নেই।

গত দুই যুগে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে অনেক ক্যালিগ্রাফি প্রদর্শনী হয়েছে, তার অধিকাংশই আমার দেখা। বিষয়, মাধ্যম ও নৈপুণ্যের বৈচিত্র্যের বিচারে এই প্রদর্শনী আমার কাছে বিশেষ মনে হয়েছে। শিল্পীর সংখ্যা ও প্রদর্শিত শিল্পকর্মের পরিমাণ বিবেচনায়, আমার দেখা প্রদর্শনীগুলোর মধ্যে এটি নিঃসন্দেহে অন্যতম বৃহৎ, বরং বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ইসলামি ক্যালিগ্রাফি প্রদর্শনীর মধ্যে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড়গুলোর একটি বলা যায়। বাংলাদেশি শিল্পীদের পাশাপাশি ভারতের দুজন শিল্পীও এবার তাঁদের শিল্পকর্ম পাঠিয়েছেন। আয়োজকদের আশা, আগামী বছর ঢাকায় তাঁরা আন্তর্জাতিক পরিসরে ক্যালিগ্রাফি প্রদর্শনীর আয়োজন করবেন।

এই প্রদর্শনীর সবচেয়ে বড় অর্জন হয়তো শিল্পকর্মের সংখ্যা নয়, বরং ইসলামি ক্যালিগ্রাফিকে নিছক ধর্মীয় অলংকরণের গণ্ডি থেকে বের করে এক বিস্তৃত শিল্পভাষার দিকে নিয়ে যাওয়ার প্রয়াস। এই ভাষা এখনো তার নিজস্ব নন্দনতত্ত্ব, সীমা ও সম্ভাবনা খুঁজে চলেছে। তবে আর্ট অব ফেইথ শিল্পকর্ম প্রদর্শনী ২০২৬ দেখিয়ে দিল, সেই অনুসন্ধান ইতিমধ্যে অনেকখানি এগিয়েছে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আজিজুল হক আটক
আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আজিজুল হক আটক

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার মো. আজিজুল হক আরজুকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে লালমাটিয়া মিনা বাজারের সামনে থেকে স্থানীয় ছাত্রদল নেতাদের সহায়তায় তাকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তি খন্দকার মো. আজিজুল হক আরজু (৬৯) পাবনা জেলার আমিনপুর থানার নাটিয়াবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ২০১৪ সালে পাবনা-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল হালিম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আরও পড়ুন রাষ্ট্রপতিকে বরণে প্রস্তুত সিলেট তিনি জানান, আটকের সময় ধস্তাধস্তিতে আজিজুল হক আরজু সামান্য আহত হন। তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় পুলিশি প্রহরায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাকে চিকিৎসকের কাছে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে মোহাম্মদপুর থানা। টিটি/এমআরএম

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
হুতি–সৌদির সংঘাতে ট্রাম্প কি নতুন বিপদে পড়ছেন

হুতি–সৌদির সংঘাতে ট্রাম্প কি নতুন বিপদে পড়ছেন

প্রাতিষ্ঠানিক সংকট ও সামাজিক মেরুকরণের নতুন বাস্তবতা

প্রাতিষ্ঠানিক সংকট ও সামাজিক মেরুকরণের নতুন বাস্তবতা

বেক্সিমকো ফার্মার পর্ষদ ছাড়ছেন সালমান এফ রহমান

বেক্সিমকো ফার্মার পর্ষদ ছাড়ছেন সালমান এফ রহমান

যে কারণে ভারত থেকে টনে টনে ইলিশ আমদানি হচ্ছে বাংলাদেশে
যে কারণে ভারত থেকে টনে টনে ইলিশ আমদানি হচ্ছে বাংলাদেশে

বাংলাদেশের বেনাপোল বন্দর দিয়ে গত দুই মাসে প্রায় সাত কোটি টাকা মূল্যের প্রায় সাড়ে তিন লাখ কেজির (৩৫০ টন) বেশি ইলিশ বাংলাদেশে আমদানি করেছে ১৯টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান। যদিও দেশের অনেক বাজারেই এসব মাছ বাংলাদেশের মাছ বলেই বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। ভারত থেকে আরও ইলিশ বাংলাদেশের পথে রয়েছে বলে আমদানিকারক, কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং বা সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে যেই ইলিশ আসছে সেগুলোর বেশিরভাগই ভারতের গুজরাট থেকে আসছে। আবার দুর্গাপুজোর আগে বাংলাদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গে ইলিশ পাঠানো নিয়ে প্রতি বছরই কূটনৈতিক বিতর্ক হয়। কিন্তু এ বছর পদ্মার ইলিশের বদলে এখন পশ্চিমবঙ্গ থেকেই বাংলাদেশে যাচ্ছে বিপুল পরিমাণ গুজরাতি ইলিশ, পেট্রাপোল- বেনাপোল সীমান্তপথে। পশ্চিমবঙ্গ চিল্ড ফিশ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ জানিয়েছেন, গত প্রায় দু’মাসে পশ্চিমবঙ্গ হয়ে প্রায় ৫০০ মেট্রিক টন ইলিশ বাংলাদেশে রফতানি হয়েছে। তার দাবি, রফতানি হওয়া এই ইলিশের প্রায় পুরোটাই গুজরাত থেকে আসছে। বাংলাদেশে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে যেই ধারণা পাওয়া গেছে তাহলো- মূলত বাংলাদেশের বাজারে ইলিশের যেই দাম তার চেয়ে ভারত থেকে আনা ইলিশের দাম কয়েকগুণ কম পড়ে বলেই ব্যবসায়ীরা ইলিশ আমদানিতে উৎসাহিত হয়েছেন। যশোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুল মামুন বলছেন, মৎস্য অধিদপ্তর থেকে যথাযথ অনুমতি নিয়েই কিছু প্রতিষ্ঠান ইলিশ আমদানি করছে কিন্তু কেন এই আমদানি করা হচ্ছে সে সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা নেই। মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক বলেছেন, ব্যবসায়ীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে তারা সীমিত পরিসরে ইলিশ আমদানির কিছু অনুমতি দিয়েছেন। ইলিশ গবেষক ড. আনিসুর রহমান বলছেন, নদী দূষণ, কারেন্ট জাল ব্যবহার করে জাটকা নিধন, বালু উত্তোলনসহ বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশে জলসীমায় যথেষ্ট ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না বলে বাজারে ইলিশের সংকট তৈরি হয়েছে। সে কারণেই বিভিন্ন পথে ইলিশ আসছে বলে মনে করেন তিনি। ইলিশের দাম কি এ বছর আর কমবে?বাংলাদেশের পরিচিতি ছিল ইলিশ রফতানিকারক দেশ হিসেবেই। কিন্তু এখন জানা যাচ্ছে যে, বাংলাদেশ এখন ভারত থেকে বিপুল পরিমাণে ইলিশও আমদানি করছে। যশোর জেলা মৎস্য বিভাগ বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাস অর্থাৎ জুলাই ও অগাস্টে মোট ৩ লাখ ৫২ হাজার ৪৮৪ কেজি ইলিশ ভারত থেকে বাংলাদেশে আমদানি করেছে ১৯টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান। আমদানি করা এসব ইলিশের মূল্য প্রায় সাত কোটি টাকা। বেনাপোল স্থলবন্দরের মৎস্য কোয়ারেন্টাইন পরিদর্শক আশওয়াদুল আলমও এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কিন্তু ভারত থেকে কেন আমদানি হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে যশোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুল মামুন বলছেন, এবারই প্রথম ইলিশ এভাবে আমদানি করতে দেখছেন তারা। ‘এর সঠিক কারণ জানা নেই। হয়তো ওদের ওখানে বেশি ধরা পড়েছে সেজন্য হতে পারে। আমাদের কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আমদানির অনুমতি নিয়ে ব্যবসায়ীরা আমদানি করছে। ফলে আমরাও অনুমতি দিচ্ছি,’ বলেন তিনি। বাংলাদেশে প্রায় দুই দশক একনাগাড়ে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির পর হুট করেই গত তিন বছর ধরে ইলিশের উৎপাদন ক্রমাগত কমার পাশাপাশি মাছটির গড় ওজনও কমতে শুরু করেছিল, যা নিয়ে গবেষকরা উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিলেন। এর মধ্যেই ভারত থেকে ইলিশ আমদানির খবরে রীতিমত তোলপাড় চলছে, পাশাপাশি কৌতূহলও তৈরি হয়েছে যে বাংলাদেশে এখন ইলিশের মৌসুম থাকা সত্ত্বেও কেন এই সময়ে ভারত থেকে ইলিশ আমদানি করা হচ্ছে। এ কৌতূহল বা প্রশ্নের মূল কারণ হলো ২০১৮ সালে বাংলাদেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা মাছটির পূর্ণাঙ্গ জীবনরহস্য উন্মোচনের কৃতিত্ব অর্জনের পর আশা করা হয়েছিল যে বাংলাদেশে ইলিশের সংরক্ষণ, উৎপাদন ও গুণগত মানের ক্ষেত্রে বড় অগ্রগতি অর্জিত হবে। ইলিশ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর হয়ে কাজ করা একটি সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার কামরুজ্জামান বলছেন, চাহিদার তুলনায় বাজারে যোগান কম বলেই ব্যবসায়ীরা ইলিশ আমদানি করছেন। ‘সরকারের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েই তো তারা আমদানি করছেন। আবার লাভ না থাকলে ব্যবসায়ীরা আমদানি করবেন কেন,’ বলেন তিনি। ওদিকে আবার ভারত থেকে এবারই প্রথম ইলিশ আমদানি হয়েছে এমনটিও নয়। গত বছর জুলাইতে মূলত এই আমদানি শুরু হয়েছিল। কিন্তু এখন বাংলাদেশ শুধু আমদানি করছে তা নয়। গত অর্থবছরে ইলিশ রফতানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে চরম ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। কর্মকর্তারা বলছেন, বারশ টন রফতানির লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ সেবার ১১০ টনেরও কম ইলিশ রফতানি করেছে। যদিও ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য ছয় বছর মেয়াদি প্রকল্প ২০২০ সালে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেটি কতটা কার্যকর হয়েছে এখন সেই প্রশ্নও তুলেছেন মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক খালেদ কনক নিজেও। ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য চারশ কোটি টাকার প্রকল্প ছিল। গত সরকারের সময়ে সেটি কতটা কাজে লাগল কিংবা গাফিলতি ছিল কি-না সবকিছু খতিয়ে দেখতে হবে। ইলিশ উৎপাদন কমলো কেন সেটি বের করতে হবে, বলেন তিনি। ভারত থেকে ইলিশ আমদানি সরকার কিভাবে দেখছে জানতে চাইলে মহাপরিচালক বলেন, ইলিশ আমদানি নিষিদ্ধ না এবং অল্প স্বল্প আগেও বিভিন্ন সময় এসেছে। ‘এবার বাজারে ইলিশ কম দেখা যাচ্ছে। ব্যবসায়ীদের আবেদনে সীমিত পরিসরে কিছু আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ইলিশ সাগরের মাছ। প্রজননের জন্য নদীতে আসে। সমুদ্র থেকে হয়তো ওরা (ভারতীয়রা) ধরে ফেলছে। আমাদের মজুত কমছে। এসব কারণেই অল্প পরিমাণে আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে,’ বলেন তিনি। যদিও মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা ও আমদানিকারকদের কয়েকজনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারত থেকে আসা ইলিশের সর্বোচ্চ ক্রয় মূল্য পড়ে দুই ডলার ( প্রায় ২৪৬ টাকা) কিংবা তারও কম। এরপর দেশে কাস্টমসসহ নানা শুল্কসহ বিভিন্ন ব্যয় শেষে এর যা দাম পড়ে তা বাংলাদেশের বাজারের একই ওজনের একটি ইলিশের চেয়ে অনেক কম। ‘এখানে ব্যবসায়ীদের অনেক লাভ হয় আমদানি করতে পারলে। গত দুই মাস বাজারে ইলিশ খুবই কম। আমদানি করা মাছ দেদারসে বিক্রি হচ্ছে যশোর অঞ্চলে,’ বলেন একজন কর্মকর্তা। বাজারে সংকট কতটাগত কয়েক সপ্তাহে যারা ঢাকার বাজারে গিয়ে ইলিশ কিনেছেন বা কিনতে চেয়েছেন তাদের কয়েকজনের সাথে আলাপ করে জানা গেছে তারা, ৫শ গ্রামের বেশি ওজনের ইলিশ ১৬০০ টাকা, ১ কেজির ওপরে ২৮০০, আটশ/নয়শ গ্রামের মাছ ২২-২৪শ এবং ৭শ গ্রামের ইলিশ ১৮শ টাকা কিংবা এসব দামের কাছাকাছি মূল্যে দাম চাইতে দেখেছেন। অথচ মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউটের তথ্যানুযায়ী দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনের প্রায় ১২ শতাংশ আসে ইলিশ থেকে। এছাড়া পৃথিবীর মোট ইলিশের প্রায় ৬০ ভাগ উৎপন্ন হয় বাংলাদেশে। এখন বিশ্বে উৎপাদিত মোট ইলিশের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই বাংলাদেশে হয় বলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় দাবি করে থাকে। কর্মকর্তারা বলছেন, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫ লাখ ৭১ হাজার মেট্রিক টন ইলিশ উৎপাদন হয়েছিল। পরের বছর ২০২৩-২৪ সময়ে উৎপাদন হয় ৫ লাখ ২৯ হাজার মেট্রিক টন আর ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে উৎপাদন হয়েছে ৫ লাখ ৪ হাজার মেট্রিক টন। আবার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আনুষ্ঠানিক হিসেব না পাওয়া গেলেও কর্মকর্তারা যে ধারণা দিয়েছেন তাতে উৎপাদন হয়েছে ৫ লাখ টনেরও কম। ইলিশ বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত ড. আনিসুর রহমান বলছেন, ইলিশের এমন পরিস্থিতি হবার কারণগুলো চিহ্নিত করে সরকারের উচিত দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া। তার ধারণা, সাগর থেকে নদীতে আসার পথ অর্থাৎ ইলিশের মাইগ্রেটরি রুট ক্ষতিগ্রস্থ হওয়াও এক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। ‘নানা ধরনের ক্ষতিকর উপায়ে মাছ ধরা এবং কীটনাশক ব্যবহারও ইলিশের প্রজনন ও বেড়ে ওঠার স্থানকে হুমকির মুখে ফেলেছে,’ বলেন তিনি। গুজরাটে ইলিশের বিপুল জোগানএ বছর গুজরাটে ইলিশের বিপুল জোগান হয়েছে বলে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মাছ রপ্তানিকারক সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ। ফলে সেখানে মাছের উদ্বৃত্ত জোগান তৈরি হয়েছে এবং দামও কমেছে। তার বক্তব্য, বাংলাদেশে শুধু ইলিশেরই নয়, ইলিশের ডিমেরও বড় চাহিদা রয়েছে। আর গুজরাট থেকে আসা ইলিশে প্রচুর পরিমাণে ডিম পাওয়া যাচ্ছে। ‘বাংলাদেশে ক্রেতারা ডিম-সহ বড় আকারের ইলিশ পছন্দ করেন। আবার সেখানকার কারখানাগুলোতে ইলিশের ডিম প্রসেসিং, প্যাকেজিং করে আমেরিকা ও ব্রিটেনের মতো দেশে আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানিও করা হয়। গুজরাটের ইলিশ আকারে বড় এবং ডিমে ভরা থাকে। ফলে বাংলাদেশে ইলিশ এবং ইলিশের ডিম, দু'টিরই বড় চাহিদা রয়েছে, যা গুজরাটের মাছ দিয়ে আমরা মেটাতে পারছি।’ মাকসুদের মতে, এখন ইলিশের এই বাণিজ্যিক পথটি মূলত গুজরাটের ভারুচ থেকে পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ার পাইকারি বাজার হয়ে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত। ভারুচের ভাদভূতের কাছে মাছ ব্যবসায়ীদের সংগঠনের সভাপতি চিমন ট্যান্ডেল বলেন, গত পাঁচ বছর ধরে ইলিশের উৎপাদন খুবই ভালো হয়েছে। মূলত পশ্চিমবঙ্গেই এই মাছ পাঠানো হয়, সেখান থেকে তা বাংলাদেশেও রফতানি করা হয়। তিনি বলেন, গুজরাট থেকে পাঠানো ইলিশের সবচেয়ে বেশি চাহিদা পশ্চিমবঙ্গেই। ভাদভূত থেকেও রেফ্রিজারেটেড ট্রাকে সরাসরি বাংলাদেশে মাছ পাঠানো হয়। পরিমাণ কম হলে ট্রেনের কনটেনারে পাঠানো হয়, তবে সাধারণত পরিমাণ বেশি হলে ট্রাকই ব্যবহার করা হয়। তার মতে, প্রতিদিন ভারুচ থেকে তিনটি ট্রাক ছাড়ে, প্রতিটিতে গড়ে ২৫০টি বাক্স থাকে। প্রতি বাক্সে থাকে ৬০ কেজি ইলিশ। মৎস্যজীবী দীপকভাই মাচ্ছি বলেন, ইলিশের মরশুম চলে জুনের মাঝামাঝি থেকে নবরাত্রি পর্যন্ত। বর্তমানে প্রতি কেজি ইলিশের দাম ৬০০ থেকে ৭০০ ভারতীয় রুপি। তার দাবি, এই তিন মাসের মরশুমে ছোট মাপের মৎস্যজীবীরাও প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করেন। গুজরাটে সবচেয়ে বেশি ইলিশ উৎপাদন হয় ভাদভূতের কাছে, যেখানে নর্মদা নদী সাগরে মিশেছে। এছাড়া জম্বুসার ও হানসোটেও কিছু ইলিশ উৎপাদন হয়। হাওড়ার কালীবাবুর বাজার মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রথীকান্ত বার দাবি করেন, এই বছর বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরাও পশ্চিমবঙ্গের বাজারে এসে খুচরো পরিমাণে, প্রায় দেড় থেকে ৩ মেট্রিক টন, ইলিশ কিনছেন। তবে তারাও গুজরাট ও মহারাষ্ট্র থেকে আসা বড় আকারের ইলিশই বেশি পছন্দ করছেন। পশ্চিমবঙ্গের একাধিক মৎস্যজীবী সংগঠনের নেতা জয়কৃষ্ণ হালদার ইলিশের জোগানের এই পরিবর্তনের জন্য জলদূষণ এবং 'ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিশিং' অর্থাৎ শিল্পভিত্তিক মাছ ধরাকে দায়ী করেছেন। ‘আমরা বার বার বলছি নিষিদ্ধ গাছের ওষুধ ব্যবহার বন্ধ করো। শহরের বর্জ্যপদার্থ জলে ফেলা বন্ধ করো। কিন্তু কে কার কথা শোনে?’ তিনি আরও বলেন, ১১ মাস ধরে বড় মোটরচালিত নৌযান ব্যবহার করে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিশিংয়ের ফলেও সাধারণ মৎস্যজীবীদের মাছের জোগানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সূত্র: বিবিসি বাংলা জেএইচ

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
৬ বছর পর মঞ্চে ফিরে কাঁদলেন ‘টাইটানিক’ গায়িকা

৬ বছর পর মঞ্চে ফিরে কাঁদলেন ‘টাইটানিক’ গায়িকা

পঞ্চগড়ে এবার যুবদল নেতার ওপর হামলা

পঞ্চগড়ে এবার যুবদল নেতার ওপর হামলা

আর্জেন্টাইন ক্লাবের ৮৭ বছরের রেকর্ড গুঁড়িয়ে দিলো রোনালদোর আল নাসর

আর্জেন্টাইন ক্লাবের ৮৭ বছরের রেকর্ড গুঁড়িয়ে দিলো রোনালদোর আল নাসর

এসি ১৬-তে চালিয়েও ঘর ঠান্ডা হচ্ছে না? রিমোটের সেটিংস বদলান
এসি ১৬-তে চালিয়েও ঘর ঠান্ডা হচ্ছে না? রিমোটের সেটিংস বদলান

গরমের দিনে ঘরে এসি চালিয়েও যদি প্রত্যাশামতো ঠান্ডা না হয়, তাহলে অনেকেই ধরে নেন এসিতে যান্ত্রিক সমস্যা হয়েছে। কিন্তু সব সময় এমনটা নয়। অনেক ক্ষেত্রে এসির রিমোটের ভুল সেটিংয়ের কারণেও ঘর ঠিকমতো ঠান্ডা হয় না। বিশেষ করে মোড সেটিং ভুল থাকলে এসি চললেও ঠান্ডা বাতাস পাওয়া যায় না। এসির রিমোটে সাধারণত কুল, ড্রাই, ফ্যান, অটো কিংবা হিটের মতো বিভিন্ন মোড থাকে। এর মধ্যে ঘর দ্রুত ঠান্ডা করার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কুল মোড। রিমোটে এই মোড সাধারণত তুষারের মতো একটি চিহ্ন বা ‘কুল’ লেখা দিয়ে বোঝানো হয়। এসি ঠান্ডা না করলে প্রথমেই দেখে নিন এটি কুল মোডে রয়েছে কি না। অনেক সময় ভুল করে রিমোটে ফ্যান মোড চালু হয়ে যায়। এই মোডে এসির ইনডোর ইউনিট শুধু বাতাস ঘোরায়, কিন্তু ঘর ঠান্ডা করার প্রক্রিয়া চালায় না। ফলে ফ্যানের মতো বাতাস পাওয়া গেলেও তাপমাত্রা খুব একটা কমে না। তাই ঠান্ডা চাইলে ফ্যান নয়, কুল মোড নির্বাচন করুন। আরও পড়ুন কম দামে সেরা এসি কিনতে চান, টিপস জেনে নিন আবার ড্রাই মোড নিয়েও অনেকের বিভ্রান্তি থাকে। এই মোডের মূল কাজ ঘরের অতিরিক্ত আর্দ্রতা কমানো। বর্ষাকালে বা বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলে এটি কাজে লাগতে পারে। তবে দ্রুত ঘর ঠান্ডা করার প্রয়োজন হলে সাধারণত কুল মোড বেশি উপযোগী। রিমোটের টেম্পারেচার সেটিংস-ও গুরুত্বপূর্ণ। যদি ২৬-২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে এসি সেট করা থাকে, তাহলে খুব কম তাপমাত্রার মতো ঠান্ডা অনুভূত নাও হতে পারে। দ্রুত ঠান্ডা করার জন্য কেউ কেউ ১৬ বা ১৮ ডিগ্রিতে নামিয়ে দেন। কিন্তু এতে সব সময় ঘর দ্রুত ঠান্ডা হবে এমন নয়। বরং প্রয়োজন অনুযায়ী ২৪-২৬ ডিগ্রির মধ্যে তাপমাত্রা রাখা আরামদায়ক ও তুলনামূলকভাবে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হতে পারে। আরেকটি বিষয় হলো ফ্যান স্পিড। খুব কম ফ্যান স্পিডে বাতাস ঘরে ছড়াতে সময় লাগতে পারে। তাই ঘর দ্রুত ঠান্ডা করতে শুরুতে মিডিয়াম বা হাই ফ্যান স্পিড ব্যবহার করা যেতে পারে। পরে ঘর ঠান্ডা হয়ে গেলে ফ্যানের গতি কমিয়ে দেওয়া যায়। আরও পড়ুন এসি কত তাপমাত্রায় চালালে বিদ্যুৎ বিল কমবে জানেন? তবে রিমোটের সেটিং ঠিক থাকার পরও যদি এসি ঠান্ডা না করে, তাহলে অন্য কারণ খুঁজতে হবে। নোংরা এয়ার ফিল্টার, বাইরের ইউনিটে ময়লা জমা, পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল না করা কিংবা রেফ্রিজারেন্টের সমস্যা এর কারণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে নিজে এসি খুলে পরীক্ষা না করে দক্ষ টেকনিশিয়ানের সাহায্য নেওয়াই নিরাপদ। তাই এসি ঠান্ডা করছে না দেখলেই সার্ভিসিংয়ের জন্য ছুটে যাওয়ার আগে একবার রিমোট হাতে নিন। মোড, টেম্পারেচার এবং ফ্যান স্পিড- এই তিনটি সেটিং ঠিক আছে কি না দেখে নিন। অনেক সময় বড় সমস্যার মতো মনে হওয়া বিষয়টি আসলে রিমোটের একটি ভুল সেটিংয়েই আটকে থাকে। কেএসকে

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
হিসাব নম্বর ভুল হলেই ধরা পড়বে, সঞ্চয়পত্রে চালু এভিএস

হিসাব নম্বর ভুল হলেই ধরা পড়বে, সঞ্চয়পত্রে চালু এভিএস

ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুন: রোগী–স্বজনদের আতঙ্ক কাটেনি, তদন্ত কমিটি গঠন

ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুন: রোগী–স্বজনদের আতঙ্ক কাটেনি, তদন্ত কমিটি গঠন

চার আলোচ্যসূচি নিয়ে আজ বসছে সচিব সভা

চার আলোচ্যসূচি নিয়ে আজ বসছে সচিব সভা

0 Comments