জাতীয়

সূর্যের আগে ওঠার অভ্যাসে বদলে গেছে তাঁদের জীবন

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
সূর্যের আগে ওঠার অভ্যাসে বদলে গেছে তাঁদের জীবন
সূর্যের আগে ওঠার অভ্যাসে বদলে গেছে তাঁদের জীবন

১৪ আগস্ট শুক্রবার ভোর সাড়ে পাঁচটা। মেঘনার স্বচ্ছ পানিতে জাল ফেলেছেন কয়েকজন জেলে। পাশাপাশি থাকা দুটি রেলসেতু ও একটি সড়কসেতুর ওপর দিয়ে চলছে ট্রেন ও যানবাহন। নদীতে ছুটছে নৌকা। এরই মধ্যে নদীর পাড়ে একে একে জড়ো হচ্ছেন মানুষ। কেউ হাঁটছেন, কেউ দৌড়াচ্ছেন, কেউবা করছেন শরীরচর্চা। এক পাশে ছোটদের ফুটবল খেলা। ওই দিন ভোরে মেঘনার তিন সেতুর কিশোরগঞ্জের ভৈরব প্রান্তে এমনই দৃশ্যই দেখা গেল।

এ দৃশ্য অবশ্য শুধু শুক্রবারের নয়, প্রতিদিন ভোরে কয়েক শ মানুষ এখানে প্রাতর্ভ্রমণে আসেন। কেউ আসেন একা, কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে। আবার কয়েকটি বড় দল নিয়মিত শরীরচর্চা করে। এসব দলের আলাদা আলাদা পরিচয় থাকলেও একটি বিষয়ে তাদের মিল ‘সূর্যের আগে উঠি’ ধারণাকে মানা।

প্রায় পাঁচ বছর ধরে ‘সূর্যের আগে উঠি’ প্রতিপাদ্য মেনে দলগত শরীরচর্চা করছেন অন্তত চারটি বড় দল। এসব দলের কমিটি নেই, নেই সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক। তাঁদের কথা, যে দলেই থাকুন, যেখানেই শরীরচর্চা করুন, দিন শুরু করতে হবে সূর্য ওঠার আগে। এই অভ্যাস এখন অনেকের জীবনের অংশ হয়ে গেছে। দেড় দশক আগে নদীর পাড় প্রাতর্ভ্রমণকেন্দ্রিক ‘সূর্যের আগে উঠি’ নামে একটি সংগঠন ছিল। এখন সংগঠনটি নেই। তবে নামকরণের বিশেষ্যত্বকে চারটি সংগঠন ধারণ করে আছে।

‘সূর্যের আগে উঠি’ স্লোগানে ভৈরবে দলবেঁধে শরীরচর্চা করছেন একদল মানুষ। সম্প্রতি মেঘনা সেতুর ভৈরব প্রান্ত থেকে তোলা

হাঁটা থেকে ম্যারাথন
১৪ আগস্ট সকাল পৌনে ছয়টার দিকে প্রাতর্ভ্রমণের পোশাক পরে নদীর পাড়ে হাঁটছিলেন মফিজুল ইসলাম। তিনি কাকলি খেলাঘর আসর ভৈরব শাখার সভাপতি। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর দলের ১৫ জন সদস্য জড়ো হন। দলটি ‘ম্যারাথন দৌড় গ্রুপ’ নামে পরিচিত। সড়কসেতুর নিচে কিছুক্ষণ ওয়ার্মআপ করে তাঁরা উঠে গেলেন সেতুর ওপর। পরে শুরু হয় হালকা দৌড়। প্রায় এক কিলোমিটার পেরিয়ে তাঁরা পৌঁছালেন আশুগঞ্জ প্রান্তে। দলের সদস্যদের মধ্যে শিক্ষক, ব্যাংকার, চিকিৎসক ও মসজিদের ইমাম আছেন।

মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘আগে রাত জেগে থাকতাম। সকালে উঠতে কষ্ট হতো। পরে কয়েকজন মিলে ঠিক করলাম, সূর্য ওঠার আগেই উঠব। এখন এটা আমাদের অভ্যাস হয়ে গেছে।’

এই দলের সদস্য ব্যাংক ব্যবস্থাপক হাবিবুর রহমান বলেন, নিয়মিত হাঁটার কারণে তাঁর ওজন ১০ কেজি কমেছে। তাঁদের একটি মেসেঞ্জার গ্রুপও আছে। সেখানে স্বাস্থ্যসচেতনতার নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। কেউ টানা তিন দিন নদীর পাড়ে না এলে তাঁকে জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হয়।

শরীরচর্চা শেষে দলগতভাবে উচ্চ স্বরে হাসছেন ভৈরবের একদল মানুষ। তাঁদের ভাষ্য, এভাবে হাসলে শরীর ও মন দুটিই চাঙা থাকে। সম্প্রতি মেঘনা সেতুর ভৈরব প্রান্ত থেকে তোলা

প্রভাষক সজল কুমার দেব ও ব্যাংকার আল আমিনের কাছে হাঁটা এখন অনেকটা আসক্তির মতো। তাঁরা বলেন, নিয়মিত হাঁটার কারণে ওজন নিয়ন্ত্রণে আছে। শরীর–মন দুই–ই ভালো থাকে।

ব্যবসায়ী আল উদ্দিন আলী, প্রভাষক ইমরান হোসাইন ও ব্যাংকার মঞ্জুরুল কবির বলেন, এখন আর ঘড়িতে তাঁদের অ্যালার্ম দিতে হয় না। নিজেরাই ভোরে ঘুম থেকে উঠে যান। পরিবারের কয়েকজন সদস্যও এখন ভোরে ওঠেন।

এই দলের প্রশিক্ষক মঞ্জু মিয়া বলেন, সদস্যরা হাঁটার চেয়ে দৌড়াতে বেশি পছন্দ করেন। অনেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে ম্যারাথন দৌড়ে অংশ নেন। ভবিষ্যতে তাঁরা একটি ম্যারাথন ক্লাব প্রতিষ্ঠার কথা ভাবছেন।

এভারগ্রিন চত্বর
দুটি সেতুর মাঝখানে রয়েছে একটি চত্বর। নাম ‘এভারগ্রিন চত্বর’। এটি ঘিরে গড়ে উঠেছে আরেকটি বড় প্রাতর্ভ্রমণকারী দল। ছয় বছর ধরে সক্রিয় এই দলের সদস্য প্রায় ৫০ জন।

১৪ আগস্ট সেখানে গিয়ে দেখা যায়, নিয়মিত ব্যায়ামের পাশাপাশি তাঁরা ইয়োগা করছেন। ঢাকার চিকিৎসক আতাউর রহমান এসে তাঁদের ইয়োগা করান। ব্যায়াম শেষে সবাই মিলে ভুনাখিচুড়ি খান। প্রতি শুক্রবার এমন আয়োজন এখন তাঁদের নিয়মিত কর্মসূচির অংশ। এর পাশাপাশি দলটি নিয়ম করে উচ্চ স্বরে হাসার চর্চাও করে। শরীরচর্চার পর চলে আড্ডা। সেই আড্ডায় উঠে আসে ভৈরবের পরিবেশ, শিক্ষা, পরিচ্ছন্নতা, সমাজ, রাষ্ট্র ও বন্ধুত্বের নানা প্রসঙ্গ।

নাসির উদ্দিন, কাজী উসমান গণি, আবদুল মতিন, রফিকুল ইসলাম, মনমোহন, মোশারফ হোসেন, মোফাজ্জল হোসেন ও ইদ্রিস মিয়া দলটির কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

আবদুল মতিন বলেন, ‘বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিন আমরা নিয়ম করে নদীর পাড়ে আসি।’

দলটির প্রশিক্ষক কাজী উসমান গণি বলেন, ‘আমাদের গ্রুপের সবাইকে সূর্যের আগে উঠতেই হয়। সকাল পৌনে ছয়টার মধ্যে নদীর পাড়ে আসতে হয়। ৩০ মিনিট ব্যায়াম ও ৩০ মিনিট হাঁটার পেছনে প্রতিদিন সময় দিই।’

শরীরচর্চার সঙ্গে সবুজায়ন
মো. বাবুল, জাকির হোসেন, চিকিৎসক আবুল কাসেম, আলা উদ্দিন ও কাইজার চৌধুরীসহ কয়েকজনের নেতৃত্বে আরেকটি দল নিয়মিত প্রাতর্ভ্রমণ করেন। হাঁটা শেষে তাঁদের কেউ কেউ মেঘনার পানিতে গোসল করে বাড়ি ফেরেন।

শরীরচর্চার পাশাপাশি পরিবেশ নিয়েও কাজ করেন দলটির সদস্যরা। নদীর পাড়ের আগাছা পরিষ্কার করেন। সামাজিক ও নাগরিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন। তাঁদের উদ্যোগে নদীর পাড়ে লাগানো হয়েছে অসংখ্য কৃষ্ণচূড়া ও দুটি বটগাছ। বটগাছ দুটি এখন ডালপালা ছড়িয়ে ছায়া দিতে শুরু করেছে।

মো. বাবুল বলেন, ‘হাঁটার পাশাপাশি গাছ লাগানো ও আগাছা পরিষ্কার আমাদের নিয়মিত কাজ।’

দুই দশকের প্রাতর্ভ্রমণ
মেঘনার পাড়ে প্রাতর্ভ্রমণের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ভৈরব সরকারি হাজি আসমত কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শামসুজ্জামানের। তাঁর নেতৃত্বে একটি বড় দল প্রায় দুই দশক ধরে নদীর পাড়ে নিয়মিত হাঁটছে।

একসময় তাঁর নেতৃত্বে নদীর পাড়কেন্দ্রিক ‘গাঙ সমিতি’ নামে একটি সৃজনশীল সংগঠনও গড়ে ওঠে। সংগঠনটি এখনো সক্রিয়। বর্তমানে প্রাতর্ভ্রমণকারীদের একটি বড় অংশকে নিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন ট্যুরিস্ট ক্লাব। স্বাস্থ্যসচেতন থাকা ও চারপাশকে ভালোভাবে দেখাই এই ক্লাবের মূল উদ্দেশ্য।

শামসুজ্জামান বলেন, প্রাতর্ভ্রমণ থেকে মনে হয়েছে, সম্পূর্ণ সুস্থ থাকতে হলে ভ্রমণও করতে হবে। আমরা হাঁটি, দেশ ভ্রমণ করি।

প্রাতর্ভ্রমণকারীদের মতে, তিন সেতুর ভৈরব প্রান্ত এখন শুধু প্রাতর্ভ্রমণের জায়গা নয়, এখানে প্রতিনিয়ত মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ তৈরি হচ্ছে। শরীরচর্চার পাশাপাশি গড়ে উঠেছে বন্ধুত্ব ও পরিবেশের প্রতি মমতা।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
আরও এক বছর পিআইবির ডিজি থাকছেন ফারুক ওয়াসিফ
আরও এক বছর পিআইবির ডিজি থাকছেন ফারুক ওয়াসিফ

আরও এক বছর প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর মহাপরিচালক (ডিজি) থাকছেন সাংবাদিক ফারুক ওয়াসিফ। ‘প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) আইন, ২০১৮’-এর ধারা ৯(২) অনুযায়ী তাকে এ নিয়োগ দিয়ে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। অন্য যে কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান/সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে আবারও ফারুক ওয়াসিফ এ পদে নিয়োগ পেয়েছেন। যোগদানের তারিখ থেকে তার নিয়োগ কার্যকর হবে। এই নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্র দিয়ে নির্ধারিত হবে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে। আরও পড়ুন পিআইবির ডিজি হলেন ফারুক ওয়াসিফ অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ফারুক ওয়াসিফকে পিআইবির মহাপরিচালক নিয়োগ দেয়। তিনি সাংবাদিক ও লেখক হিসেবে পরিচিত এবং নিয়োগের আগে দৈনিক সমকালের পরিকল্পনা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আরএমএম/ইএ

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
আকিজ ফুডে নিয়োগ, ফ্রেশার প্রার্থীদের আবেদনের সুযোগ

আকিজ ফুডে নিয়োগ, ফ্রেশার প্রার্থীদের আবেদনের সুযোগ

সেপসিস: সাধারণ সংক্রমণ যখন হয়ে ওঠে জীবনসংকট

সেপসিস: সাধারণ সংক্রমণ যখন হয়ে ওঠে জীবনসংকট

ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জাতীয় সংসদ, গণতন্ত্রের সিঁড়ি

ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জাতীয় সংসদ, গণতন্ত্রের সিঁড়ি

জাপানি নারীদের মতো সুন্দর চুল পেতে যা করবেন
জাপানি নারীদের মতো সুন্দর চুল পেতে যা করবেন

লম্বা, ঘন ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুলের আকাঙ্ক্ষা কমবেশি সবারই থাকে। কিন্তু প্রতিদিনের ব্যস্ততা, পরিবেশের দূষণ, অনিয়মিত জীবনযাপন কিংবা চুলের প্রতি প্রয়োজনীয় যত্নের অভাবে অনেকেরই চুল হয়ে ওঠে রুক্ষ ও ভঙ্গুর। বাড়তে থাকে চুল পড়ার সমস্যাও। তখন কেউ দামি শ্যাম্পু, কেউ সিরাম আবার কেউ নানা ধরনের হেয়ার মাস্কের ওপর ভরসা করেন। অথচ চুলের যত্নে সবসময় দামি পণ্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নয়। প্রতিদিনের কিছু ছোট অভ্যাসও চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে। চুলের যত্নে জাপানি রুটিনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় স্ক্যাল্পের পরিচর্যা, কোমলভাবে চুল পরিষ্কার করা এবং ভেজা চুলের সঙ্গে সাবধানী আচরণে। অর্থাৎ শুধু চুলের ওপরের অংশ সুন্দর দেখালেই হবে না, চুল যে জায়গা থেকে বেড়ে ওঠে সেই স্ক্যাল্পকেও রাখতে হবে পরিচ্ছন্ন ও সুস্থ। বাড়িতেই খুব সহজে এই অভ্যাসগুলোর কিছু অনুসরণ করা যায়। চুলের যত্নে জাপানি সৌন্দর্য রহস্য, ক্যামেলিয়া তেল শ্যাম্পুর সময় স্ক্যাল্পে আলতো ম্যাসাজ চুল পরিষ্কার করার সময় শুধু চুলের গোড়ায় শ্যাম্পু মেখে দ্রুত ধুয়ে ফেললেই হবে না। স্ক্যাল্পও পরিষ্কার করা জরুরি। শ্যাম্পু করার সময় আঙুলের ডগা দিয়ে মাথার ত্বকে ধীরে ধীরে ম্যাসাজ করতে পারেন। মাথার সামনের অংশের পাশাপাশি ওপরের ও পেছনের অংশেও আলতোভাবে আঙুল চালান। তবে এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি-স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করার সময় নখ ব্যবহার করবেন না। নখ দিয়ে ঘষাঘষি করলে মাথার ত্বকে আঁচড় বা জ্বালাপোড়া হতে পারে। আঙুলের ডগা দিয়ে হালকা হাতে ম্যাসাজ করাই ভালো। এতে স্ক্যাল্প পরিষ্কার করার পাশাপাশি শ্যাম্পু ছড়িয়ে দিতেও সুবিধা হয়। শ্যাম্পুর আগে অল্প তেল চুল ধোয়ার আগে অল্প পরিমাণ তেল ব্যবহারের অভ্যাস অনেকের চুলের যত্নের রুটিনে থাকতে পারে। চুলের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত তেল অল্প করে ব্যবহার করলে শুষ্কতা কমাতে এবং চুলকে নরম রাখতে সাহায্য করতে পারে। চুলের জন্য ক্যামেলিয়া তেল জনপ্রিয় জাপানি হেয়ার ট্রিটমেন্ট অয়েল। এই হালকা তেলটি কোনো অবশিষ্টাংশ না রেখে চুলের গোড়ায় গভীরভাবে প্রবেশ করে। জাপানিরা ভেজা চুলে কয়েক ফোঁটা এই তেল লাগান, বিশেষ করে চুলের মাঝের অংশ এবং আগায়। জাপানি হেয়ার অয়েলগুলো ভারী, তৈলাক্ত অনুভূতি ছাড়াই চুলে উজ্জ্বলতা ও সুরক্ষা যোগ করে। ভেজা চুলে তোয়ালে চালাবেন আলতো হাতে চুল ধোয়ার পর ভেজা চুল নিয়ে সবচেয়ে বেশি ভুল করেন অনেকেই। মাথার পানি দ্রুত শুকানোর জন্য তোয়ালে দিয়ে জোরে ঘষতে থাকেন। কিন্তু ভেজা চুল তুলনামূলকভাবে নাজুক থাকে। তাই এভাবে ঘষাঘষি করলে চুলের ওপর অতিরিক্ত টান পড়ে ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়তে পারে। চুল ধোয়ার পর তোয়ালে দিয়ে ঘষার পরিবর্তে আলতো করে চেপে অতিরিক্ত পানি শুষে নিন। নরম তোয়ালে বা মাইক্রোফাইবার তোয়ালে ব্যবহার করতে পারেন। পরিষ্কার ও নরম সুতির টি-শার্টও এক্ষেত্রে বিকল্প হতে পারে। এতে ভেজা চুলের ওপর অপ্রয়োজনীয় ঘর্ষণ কমানো সম্ভব। চাল ধোয়া পানি দিয়ে চুলের যত্ন চাল ধোয়া পানি দিয়ে চুলের যত্ন নেওয়ার চল জাপানে অনেক পুরোনো। ঘরোয়া সৌন্দর্যচর্চার এই পদ্ধতিতে চাল ধোয়ার পর পাওয়া পানি ব্যবহার করা হয় চুলের যত্নে। চালের পানিতে থাকা কিছু পুষ্টি উপাদান চুলকে মসৃণ ও উজ্জ্বল দেখাতে সাহায্য করতে পারে বলে মনে করা হয়। এই পদ্ধতি অনুসরণ করতে প্রথমে চাল ভালোভাবে ধুয়ে সেই পানি একটি পরিষ্কার পাত্রে নিতে হবে। এরপর পানিটি ঢেকে ১২-২৪ ঘণ্টা ঠান্ডা জায়গায় রেখে দেওয়া হয়। পরে চুলে শ্যাম্পু করার পর শেষবার চুল ধোয়ার সময় এই চাল ধোয়া পানি ব্যবহার করা যায়। চাল ধোয়া পানি চুলে দেওয়ার পর কয়েক মিনিট রেখে সাধারণ পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে পারেন। নিয়মিত ব্যবহারে কারো কারো চুল তুলনামূলকভাবে নরম ও মসৃণ হবে। অতিরিক্ত গরমে চুল শুকাবেন না হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহারের অভ্যাস থাকলে তাপমাত্রার দিকে নজর দেওয়া জরুরি। অতিরিক্ত গরম বাতাস চুলের আর্দ্রতা কমিয়ে সেটিকে আরও শুষ্ক ও ভঙ্গুর করে তুলতে পারে। তাই ড্রায়ার ব্যবহারের আগে তোয়ালে দিয়ে চুলের অতিরিক্ত পানি আলতোভাবে শুষে নিন। এরপর প্রয়োজন হলে কম বা মাঝারি তাপমাত্রায় ড্রায়ার ব্যবহার করুন। ড্রায়ার চুলের একেবারে কাছে ধরে দীর্ঘ সময় একই জায়গায় গরম বাতাস দেবেন না। সম্ভব হলে কিছুটা দূরত্ব রেখে ড্রায়ার নড়াচড়া করে ব্যবহার করুন। আরও পড়ুন পেঁয়াজের খোসার পানিতে কি সত্যিই চুল গজায়? চুলের পাশাপাশি স্ক্যাল্পকেও গুরুত্ব দিন জাপানি হেয়ার কেয়ারের এই অভ্যাসগুলো থেকে মূল যে বিষয়টি শেখা যায়, তা হলো-চুলের যত্ন শুধু চুলের দৈর্ঘ্য বা বাহ্যিক সৌন্দর্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। স্ক্যাল্প পরিষ্কার রাখা, চুলের সঙ্গে কোমল আচরণ করা এবং অতিরিক্ত তাপ ও ঘর্ষণ এড়িয়ে চলাও গুরুত্বপূর্ণ। আরও পড়ুন লিপস্টিক লাগিয়েও ঠোঁট থাকবে ন্যাচারাল, জেনে নিন কীভাবে করবেন চুল পড়ার পরিমাণ হঠাৎ বেড়ে গেলে, দীর্ঘদিন চুল পাতলা হতে থাকলে কিংবা স্ক্যাল্পে চুলকানি, খুশকি বা অন্য কোনো সমস্যা দেখা দিলে কারণটি খুঁজে বের করা জরুরি। সে ক্ষেত্রে নিজের মতো করে একের পর এক পণ্য ব্যবহার না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে ভালো। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, ভোগ এসএকেওয়াই

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
ইসলাম গ্রহণের ৯০০ বছর উপলক্ষে মালদ্বীপে বৃহৎ মসজিদ নির্মাণ

ইসলাম গ্রহণের ৯০০ বছর উপলক্ষে মালদ্বীপে বৃহৎ মসজিদ নির্মাণ

মিয়ানমারে পাচারের সময় ৭৫০ বস্তা সিমেন্ট জব্দ, আটক ৫

মিয়ানমারে পাচারের সময় ৭৫০ বস্তা সিমেন্ট জব্দ, আটক ৫

সম্পর্ক সুন্দর, নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী রাখতে এই পাঁচ বিষয় মনে রাখুন

সম্পর্ক সুন্দর, নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী রাখতে এই পাঁচ বিষয় মনে রাখুন

0 Comments