জাতীয়

অদম্য শিল্পী নিতুন কুন্ডু

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
অদম্য শিল্পী নিতুন কুন্ডু
অদম্য শিল্পী নিতুন কুন্ডু

শিল্পী নিতুন কুন্ডুর মৃত্যুর পরপরই ২০০৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর প্রথম আলোর শুক্রবারের সাময়িকীতে মতিউর রহমানের এ নিবন্ধটি প্রকাশিত হয়। পরে ২০১৪ সালে প্রথমা প্রকাশন থেকে প্রকাশিত ‘আকাশ ভরা সূর্য তারা: কবিতা-গান-শিল্পের ঝরনাধারায়’ বইয়ে লেখাটি স্থান পায়। এত দিন প্রথম আলোর ছাপা কাগজের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকা লেখাটি আজ নিতুন কুন্ডুর মৃত্যুদিনে অনলাইন পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো।

একটা একক চিত্র প্রদর্শনী হওয়ার কথা ছিল শিল্পী নিতুন কুন্ডুর। একবার তারিখ ঠিক করা হলো ২০০৫ সালের ডিসেম্বরে, তারপর ২০০৬ সালের মার্চে। পরে সেই তারিখ আরও পিছিয়ে দেওয়া হলো। তিনি ভাবছিলেন, ছবির সঙ্গে বইয়ের প্রচ্ছদ ও প্রকাশনা, বিভিন্ন সময়ে করা পোস্টার এবং বিশেষ করে তাঁর ভাস্কর্য—সব মিলিয়ে বিরাট হইচই করে ৩৮ বছর পর একক প্রদর্শনীটি করবেন। সদা মহাব্যস্ত মানুষ নিতুন কুন্ডু, আমাদের নিতুনদা। এত বড় প্রতিষ্ঠান, কারখানা, এত লোক, এত রকম চিন্তাভাবনা—তার মধ্যেও প্রদর্শনীর জন্য ছবি আঁকছিলেন। বেশ কিছু ছবি জমেও ছিল। প্রদর্শনীর লক্ষ্যে অনেক দূর এগিয়েও গিয়েছিলেন। কিন্তু সেই একক বড় চিত্র প্রদর্শনী আর করা হলো না।

এক-দুই দশক ধরে কতবার যে তিনি বলেছেন, ‘আমি আবার শিল্পকলার জগতে পুরোপুরি ফিরে যেতে চাই। শেষ পর্যন্ত শিল্পকর্ম নিয়েই থাকতে চাই।’

নিতুনদা শিল্পী হিসেবেই আমৃত্যু থাকতে চেয়েছিলেন। সে জন্য নিজের পছন্দের নতুন ইজেল করেছেন, ছাপযন্ত্র (প্রেস) বসিয়েছেন, ছবি করতে কম্পিউটারের ব্যবহার শিখেছেন—এসব নিয়েই কাজ করছিলেন। শিল্পী নিতুন কুন্ডুর সে ইচ্ছা আর পূরণ হলো না। একক প্রদর্শনীর আগেই তাঁকে চলে যেতে হলো। নিতুনদার সঙ্গে কথা হয়েছিল, ওই প্রদর্শনী নিয়ে আমি লিখব। তাঁর শিল্পীজীবন, জীবনসংগ্রাম নিয়ে লিখতে হবে আমাকে। তারিখ পিছিয়ে যায়, সময় চলে যায়। এভাবে একসময় নিতুনদাও আমাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেলেন। একে কি আমরা বিদায় বলব?

যখন নিতুনদাকে নিয়ে লিখছি, তখন তিনি আর আমাদের মাঝে নেই। আমরা জানতাম, তাঁর হৃদ্রোগ ছিল। ১৯৯২ সালে দিনরাত সার্ক ফোয়ারা নির্মাণের কাজ করছিলেন। যখন কাজ প্রায় শেষ, তখন তিনি হৃদ্রোগে গুরুতরভাবে আক্রান্ত হয়েছিলেন। সে খবর পেয়েই হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলাম। আমার হাত ধরে রেখেছিলেন অনেকক্ষণ। তাঁর দুচোখে তখন জল। পরে নিতুনদার হৃৎপিণ্ডে অস্ত্রোপচারও করতে হয়েছিল। তারপর তিনি আবার আগের মতোই বিপুল উদ্যমে কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। যত দিন বেঁচে থাকবেন, মনের আনন্দে কাজ করে যাবেন—এটা ছিল তাঁর জীবনমন্ত্র। তিনি বেঁচে থাকতে চেয়েছিলেন সব সময় কাজের মধ্যে, শিল্পের মধ্যে। বাস্তবেও তাঁর মৃত্যু হলো কাজের মধ্যেই, যেন লড়াইয়ের মাঠে বীরের মতোই তিনি বিদায় নিলেন।

কাজ নিয়ে চীনে গিয়েছিলেন নিতুনদা। আগের রাতে ফিরেছেন। পরদিনই সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কারখানা আর স্টুডিওতে কাজ করতে করতেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন নিত্য গোপাল কুন্ডু; নিতুন কুন্ডু হিসেবেই যিনি সর্বাধিক পরিচিত। সে সময় আমি ছিলাম ভারতের চেন্নাই শহরে। তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁর মেয়ে—তাঁর ‘মামণি’ অমিতি কুন্ডু ফোনে আমাকে জানায়, বাবা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের ফলে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। দেশের বাইরে চিকিত্সার জন্য নেওয়ার মতো হলেই এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হবে, এমন আশা ছিল অমিতির। ভেবেছিল, নিতুনদা আবার জেগে উঠবেন। এমন খবর শোনার পর অমিতিকে কোনো কিছুই বলার ছিল না আমার।

কাইয়ুম চৌধুরীর আঁকা নিতুন কুন্ডুর প্রতিকৃতি

অমিতিকে দেখে আসছি ওর ছোটবেলা থেকে, তখন আজিমপুরের বাসায় থাকতেন নিতুনদা। ১৯৭৪ সালে ওর জন্ম। মাঝখানে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিল, পড়ালেখা করে এসেছে স্থাপত্যবিদ্যায়, গৃহসজ্জায়। নিতুনদার বুকপকেটে সব সময় থাকত অমিতির একটা ছবি। এর উল্টো পিঠে থাকত ছেলে বাবু অর্থাৎ অনিমেষের ছবি। নিতুনদা এ ছবি ছাড়া কোথাও যেতেন না। কত ঘরোয়া অনুষ্ঠানে মেয়ের কথা বলতে বলতে আবেগে আপ্লুত হয়ে সবাইকে দেখাতেন সেই ছবি। একবার জাপানে গেলেন, ভুল করে সেই ছবি নেওয়া হয়নি। পরে ঢাকা থেকে কুরিয়ারের মাধ্যমে তা পাঠাতে হয়েছিল। কী আশ্চর্য, যেদিন তিনি অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন, সেদিন তাঁর প্রিয় মামণি আর বাবুর ছবি বুকপকেটে ছিল না। রাতে পরা জামা গায়ে দিয়েই অফিসে চলে গিয়েছিলেন সকালে। এখন সে জন্য ফাল্গুনী বউদির দুঃখের শেষ নেই। অমিতির জিজ্ঞাসা, ‘কেন এমন হলো?’ হয়তো বুকের কাছে মামণির ছবিটি থাকলে তার জাদুস্পর্শে তিনি জেগে উঠতেন!

১৯৫৫ সালে বলতে গেলে প্রায় সহায়-সম্বলহীনভাবে নিতুন কুন্ডু ঢাকায় আসেন। প্রকৌশলী হবেন নাকি শিল্পী—এই নিয়ে তিনি তখন ছিলেন দ্বিধাগ্রস্ত। শেষ পর্যন্ত তিনি শিল্পী হওয়ারই সিদ্ধান্ত নেন। ঢাকায় তখন তাঁর থাকার কোনো জায়গা ছিল না। শহীদ মিনারের পেছনে হোস্টেলের ব্যারাকের বারান্দা অথবা মেডিক্যাল কলেজ হোস্টেলে বন্ধুর কক্ষে মাটিতে বিছানা পেতে থাকতেন। টাকার অভাবে বহুদিন কাটিয়েছেন প্রায় না খেয়ে। সামান্য রোজগারের জন্য গুলিস্তান সিনেমা হলের ব্যানার-পোস্টার তৈরি করে দিয়েছেন, এঁকেছেন সামান্য পারিশ্রমিকের বিনিময়ে। এ রকম ছোটখাটো নানা কাজ করে তাঁর ছাত্রজীবন চালিয়েছেন। আর্ট কলেজের ছাত্রজীবনে ক্লাসের সহপাঠীদের মধ্যে ছাত্রীদের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব ছিল বেশ। সে জন্য তাঁদের কমনরুমে তাঁর যাতায়াত ছিল অবারিত। তখন মাখন লাগানো পাউরুটির প্রতি তাঁর খুব লোভ ছিল। কিন্তু খাওয়ার সাধ্য ছিল না। ছাত্রী বন্ধুদের কেউ তা দিলে খুব খুশি হয়ে খেতেন। এ কথা তিনি অনেকবার বলেছেন আমাদের। এ রকম অর্থকষ্টের মধ্যেও অদম্য সাহসের জন্য সেরা ছাত্রের স্বীকৃতি পান তিনি। নিজেকে শিল্পী হিসেবে গড়ে তোলেন। নানা দুঃখ-কষ্টের মধ্যে থেকেও সামনে এগিয়ে গেছেন আমাদের নিতুনদা।

১৯৫৯ সালে সে সময়ের ঢাকা আর্ট কলেজ থেকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান নিয়ে বিএফএ (ব্যাচেলর অব ফাইন আর্টস) পাস করেন নিতুনদা। জীবনের স্বপ্ন ছিল শিল্পী হয়ে বেঁচে থাকবেন, শিক্ষকতা করবেন। কিন্তু সে সময় কলেজের অধ্যক্ষ শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন তাঁকে শিক্ষকতা করার সুযোগ দেননি। এ নিয়ে তাঁর ক্ষোভ ছিল, কষ্ট ছিল। স্বাধীনতার পরও যখন নিতুনদার কোনো চাকরি ছিল না, তখনো একান্তভাবে চেয়েছিলেন ঢাকা আর্ট কলেজে (চারুকলা) শিক্ষকতা করতে। সতীর্থদের কারণে তখনো তিনি সে সুযোগ পেলেন না। মাঝখানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন চারুকলা বিভাগ খোলা হয়, সেখানেও চেষ্টা করেছিলেন। তখনো তাঁকে শিক্ষকতা করতে দেওয়া হয়নি। তিনি শিক্ষক হতে পারেননি। সে জন্য শিল্পকলার জগতে বিচরণের স্থায়ী ভূমি তৈরি করতে পারেননি। সেই কারণে কখনো কখনো তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁর কষ্টের কথা বহুবার আমাদের কাছে বলেছেন। এই দুঃখ তাঁর কোনো দিনও যায়নি। প্রবল এক বেদনাবোধ নিয়েই এই বিপুল ব্যস্ত জীবন আর তাঁর বর্ণাঢ্য পৃথিবী থেকে চলে যেতে হলো।

ছাত্র অবস্থাতেই নিতুন কুন্ডু সুকুমার শিল্পকর্মের জন্য সুনাম অর্জন করেছেন। পুরস্কৃত হয়েছেন। বাস্তবধর্মী কাজ দিয়ে শিল্পীজীবন শুরু করলেও ধীরে ধীরে তিনি বিমূর্ত চিত্রকলার দিকে চলে যান। তবে এ কথা ঠিক, বাস্তবতাকে কখনো পুরোপুরি বিসর্জন দেননি। মনে পড়ে ১৯৬৮ সালে মার্কিন তথ্যকেন্দ্রে তাঁর শেষ একক প্রদর্শনীর ছবিগুলোর কথা। মূর্ত আর বিমূর্ত শিল্পকর্মের মিলিত সে প্রদর্শনীতে তেলচিত্রের সঙ্গে ঢাকায় তখন প্রায় নতুন মাধ্যম সেরিগ্রাফের কতগুলো ভালো প্রিন্ট ছিল। তার মধ্যে একটা ছিল ‘মিছিল’ (প্রসেশন)। এই ছবির একটা প্রিন্ট সেই সময় তিনি আমাকে দিয়েছিলেন। স্বাধীনতার পর ঢাকায় ফিরে ছবিটি আর খুঁজে পাইনি।

‘সাবাস বাংলাদেশ’, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৯২

১৯৬৯ কি ’৭০ সালে গুলশান জনতা ব্যাংকের জন্য তিনি তেলচিত্রের একটা ম্যুরাল করেছিলেন। নিতুনদার আজিমপুরের বাসায় দীর্ঘ সময় বসে বসে তাঁর ম্যুরাল আঁকা দেখতাম। বসার ঘরটা তেমন বড় ছিল না। মনে পড়ে, বৃষ্টি ছিল, আবহাওয়া ছিল স্যাঁতসেঁতে, রং কিছুতেই শুকাচ্ছিল না। তার মধ্যেই কাজ করেছেন। যেদিন ম্যুরালটা জনতা ব্যাংকের দেয়ালে লাগাবেন, সেদিন ট্রাকে নিতুনদার সঙ্গে আমরাও গিয়েছিলাম। এ রকম অজস্র স্মৃতি এখন মনের মধ্যে মিছিল করে আসে।

স্বাধীনতার পর নিতুনদা তখন আর কোনো কাজ, চাকরি বা আয়ের সংস্থান করতে না পেরে প্রথমে তাঁর আজিমপুরের বাসাতেই ঘর সাজানোর জিনিস তৈরির কাজ শুরু করেন। তারপর ১৯৭৫ সালে শুক্রাবাদে দ্য ডিজাইনার্স নামে একটা ওয়ার্কশপ চালু করেন। তাঁর যাত্রা শুরু হয়েছিল মাটির ছাইদানি আর কাঠের নানা ধরনের নিত্যব্যবহার্য সামগ্রী তৈরির মধ্য দিয়ে। তার আগে কিছুদিন বিজ্ঞাপন সংস্থা বিটপীতে কাজ করেছেন। এরপর সত্তরের দশকের প্রায় শেষে তোপখানা রোডে আর্ট ইন ক্র্যাফট নামে টিনশেডের একটা ওয়ার্কশপ স্থাপন করেন। এভাবেই নিতুন কুন্ডু বিটপীর কর্ণধার রেজা আলীর সঙ্গে মিলে সেখানে অটবির যাত্রা শুরু করেন। মাটি আর কাঠের নানা পণ্যের সঙ্গে তিনি কোটপিন, ক্রেস্ট, ট্রফি, ঘর সাজানোর নানা সরঞ্জাম, ধাতব আসবাবপত্র তৈরি করতে শুরু করেন। সেই সময়ে প্রচুর কাজ করেছেন, কাউকেই কোনো কাজে না করেননি। আশি আর নব্বইয়ের দশকে প্রায় প্রতিটি জাতীয় কিংবা রাষ্ট্রীয় পুরস্কারের ট্রফি বা কাপ তৈরি করেছেন নিজ হাতে, সব পরিকল্পনাও ছিল তাঁর।

এভাবে পোড়ামাটি, কাঠ, চামড়া, লোহা, তামা বা সোনা দিয়ে নানা কাজ করতে করতে ১৯৮৪ সালে অটবিকে মিরপুরে নিয়ে যান এবং এককভাবে গড়ে তোলেন প্রতিষ্ঠানটিকে। আর তাঁকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ক্রমাগত তিনি সামনে এগিয়ে গেছেন। এভাবেই অটবি বড় থেকে আরও বড় হতে থাকে। এর পেছনে ছিল নিতুনদার অক্লান্ত শ্রম, মেধা আর শিল্পবোধ। এমনও সময় গেছে, যখন একনাগাড়ে দিনরাত কাজ করেছেন। কাজের ব্যাপারে তাঁর এমন একটা মনোভাব ছিল যে ‘আমি বিশ্রাম নেব না’। বলতেন, ‘কাজকে আমি সন্তানের মতো ভালোবাসি।’

নিতুনদা নতুন নতুন নকশায় নতুন নতুন সামগ্রী তৈরি করেছেন। নিজেও উদ্ভাবন করেছেন অনেক সামগ্রী। উপাদান হিসেবে ব্যবহার করেছেন কাঠ, লোহা, স্টিল, অন্যান্য ধাতু, এমনকি পরে প্লাস্টিকও। বিদেশ থেকে সম্পূর্ণ নতুন ধরনের যন্ত্রপাতি আমদানি করে মিরপুরের পর শ্যামপুরে স্থাপন করেন বিরাট শিল্পকারখানা। সে এক বিশাল কর্মযজ্ঞ। মিরপুর ও শ্যামপুরের কারখানা এবং মতিঝিল ও গুলশান অফিসের স্থাপত্যভাবনা, নকশা ও প্রকৌশলকর্ম—সব তাঁর নিজের পরিকল্পনায় তৈরি করা। কতক মেশিনের ছোট-বড় নাট-বল্টু নিজে তৈরি করেছেন। কতক মেশিনের যন্ত্রাংশ তৈরি করেছেন। নতুন নতুন মেশিন উদ্ভাবন করেছেন। এমনকি শ্যামপুরে পুরো একটা লিফট তৈরি করেছিলেন তিনি, শুধু মোটরটি ছাড়া। এ রকম কাজপাগল, পরিশ্রমী মানুষ আমরা আর দেখিনি। তিনি যা দেখতেন, যা ভাবতেন, তা-ই তৈরি করতে পারতেন। শুধু চিত্রকলা বা ভাস্কর্যই নয়, আসবাবপত্রসহ নানা পণ্যের সবকিছুতেই ছিল তাঁর শৈল্পিক ছোঁয়া।

একুশের ড্রয়িং, পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সংকলন, ১৯৬৯

সোনারগাঁও হোটেলের মোড়ে দৃষ্টিনন্দন সার্ক ফোয়ারা ছাড়াও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনের ফোয়ারা কদম ফুল ইত্যাদি তাঁর সৃষ্টিশীল আধুনিক ভাস্কর্যের নিদর্শন। এসব এখন রয়েছে অযত্নে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিরাট ভাস্কর্য ‘শাবাশ বাংলাদেশ’ তাঁর অনন্য সৃষ্টি, যা সব সময় আমাদের অনুপ্রাণিত করবে। কোনো কাজ পছন্দ হলে সে কাজ তিনি করেই ছাড়তেন। অর্থ পেলেন কি না, সে পরোয়া করতেন না। ‘শাবাশ বাংলাদেশ’ করার জন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যে অর্থ তিনি পেয়েছিলেন, ব্যয় করেছিলেন তার চেয়ে বেশি।

জীবনযাপনে ছিলেন অত্যন্ত সাদাসিধে। ঘড়ি ছিল তাঁর খুব পছন্দের জিনিস। পরেছেন সব সময় সাধারণ প্যান্ট-শার্ট। খাবারের তালিকায় থাকত খুব সাধারণ কিছু আর খেতেন পরিমিত। বিদেশে গেলে সঙ্গে চাল-ডাল আর আলু নিয়ে যেতেন, সেদ্ধ করে খেয়ে নিতেন। শুধু তাঁর জুতায় একটু বিশেষত্ব ছিল, তিনি সাধারণত কালো রঙের চেইন লাগানো বুটজুতা পরতেন—কি শীতে, কি গ্রীষ্মে। এ ধরনের জুতা পরার ফলে শক্ত পায়ে দাঁড়িয়ে কাজ করতে সুবিধা হতো। আমার কাছে নিতুনদাকে সব সময়ই একজন দারুণ সুন্দর মানুষ বলে মনে হয়েছে!

নিতুনদার সঙ্গে আমার পরিচয় ১৯৬৬ সালে ছাত্র ইউনিয়নের দশম প্রাদেশিক সম্মেলনের পোস্টার আনতে গিয়ে। তখন আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ইউনিয়ন ও সংস্কৃতি সংসদের কর্মী। নীল রঙের ওপর সাদা পায়রার ছবি—ওই দুই রঙের পোস্টারটি এখনো আমার চোখে ভাসে। ওই সম্মেলনের দ্বিতীয় পোস্টারটি করে দিয়েছিলেন আমাদের আরেক শিল্পীবন্ধু প্রাণেশ কুমার মণ্ডল। সেই পরিচয় থেকে ধীরে ধীরে আমরা অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়ি, একটা আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তারপর বছরের পর বছর ধরে তিনি আমাদের জন্য ড্রয়িং, একুশের স্মরণিকার প্রচ্ছদ, পোস্টার, মঞ্চ, মঞ্চসজ্জা, বড় তোরণ ইত্যাদি নানা কাজ করে দিয়েছেন। সাপ্তাহিক একতা পত্রিকার নামলিপিও তিনি করে দিয়েছিলেন। তখন তিনি ঢাকায় মার্কিন তথ্যকেন্দ্রের প্রধান শিল্পী। তাতে কি, চাকরির জন্য কোনো মায়া ছিল না। যেকোনো কাজে সদা প্রস্তুত। কখনো-সখনো শেষ সময়ে এসেও দুর্দান্ত সব কাজ করে দিতেন। কত ছোট, সামান্য কাজ নিয়ে গেছি তাঁর আজিমপুরের বাসায়, সেগুনবাগিচার অফিসে! তাঁর অফিসে কত সকাল-দুপুর-সন্ধ্যা কাটিয়েছি কাজে-অকাজে গল্প করে। সেসব সময়ের অনেক কিছু ধূসর হয়ে গেলেও আজও কিছু কিছু মনে পড়ে।

বাংলাদেশের স্বাধিকার, স্বাধীনতা আন্দোলন যত এগিয়েছে, নিতুনদার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ততই আমাদের বেড়েছে। আবুল হাসনাত, মফিদুল হক আর আমি বয়সের ব্যবধান সত্ত্বেও আমরা তাঁর বন্ধু হয়ে গিয়েছিলাম। গল্প আর আলোচনায় ষাটের দশকের সেই উত্তাল দিনগুলোতে আমরা ফিরে গেছি বারবার। কখনো কখনো রেগে গিয়ে তিনি বলতেন, ‘তোদের জন্য কত সময় দিলাম, কত কিছু করলাম, এখন দেশের এ হাল কেন, বল!’

এচিং, ১৯৯০

সেই ষাটের দশকের সময় আমরা কমিউনিস্ট আন্দোলনের নানা ‘নিষিদ্ধ’ কাজে কখনো তাঁর বাড়ি, কখনো তাঁর গাড়ি ব্যবহার করেছি। এসবের মধ্য দিয়ে আমাদের মধ্যে যোগাযোগ আরও বেড়েছে, গড়ে উঠেছে গভীর আত্মিক সম্পর্ক। একাত্তরের সশস্ত্র সংগ্রামের সময়ে নিতুনদার সাদা ভক্সওয়াগন গাড়িটি আমাদের রাজনৈতিক বন্ধুদের দিয়ে গিয়েছিলেন কাজের জন্য।

শুধু শিল্পসংক্রান্ত কাজ নয়; জীবনের সমস্ত দুঃখ-কষ্ট আর আনন্দ-বেদনার কথা বলেছি, একই সঙ্গে শুনেছি সাফল্যের কথা, বলাবলি করেছি স্বপ্নের কথা। সবকিছু আমরা ভাগ করে নিয়েছিলাম। নিতুনদার কথা যখন মনে পড়ে, তখন তাঁর লড়াকু জীবনযুদ্ধের কথা মনে পড়ে যায়।

মনে পড়ে, ২৫ মার্চের রাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণহত্যার পর ২৭ তারিখে কারফিউ প্রত্যাহার করা হলে আমরা শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরীকে খুঁজে পেলেও আজিমপুরে একই পাড়ায় বসবাসকারী নিতুন কুন্ডুর দেখা পাইনি। তাঁর জন্য আমরা উদ্বিগ্ন ছিলাম। পরে এপ্রিলে একবার আমি গ্রাম থেকে ঢাকায় এলেও তাঁর কোনো খোঁজ পাইনি। সেই ভয়ংকর সময়েও তোপখানা রোডের মার্কিন তথ্যকেন্দ্র অফিসের দরজায় গিয়ে তাঁর খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম।

এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে আমরা আমাদের সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘ পথ পায়ে পায়ে হেঁটে নৌকায় করে, বাসে চড়ে ত্রিপুরার আগরতলায় পৌঁছাই। সেখানে গিয়েও আমাদের চেষ্টা ছিল বাংলাদেশে যারা আমাদের বন্ধু, তাদের খুঁজে বের করা। আমরা সব সময় ঢাকায় অবস্থানরত কমরেডদের অনুরোধ জানাতাম নিতুনদাকে খুঁজে বের করতে। তাঁদের সাহায্যে একদিন হঠাৎ করেই নিতুনদা আগরতলায় আমাদের ক্র্যাফট হোস্টেল ক্যাম্পে এসে উপস্থিত হয়েছিলেন। সেদিন তাঁকে পেয়ে কী যে আনন্দ হয়েছিল! তাঁকে বুকে জড়িয়ে ধরেছিলাম। সেদিন সারা দুপুর আমরা একসঙ্গে গল্প আর খাওয়াদাওয়া করি। আমাদের গল্প যেন আর শেষ হতে চায় না। তারপর তিনি কলকাতায় চলে যান। সেখানে শিল্পী কামরুল হাসান, দেবদাস চক্রবর্তী প্রমুখের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের কাজে জড়িয়ে পড়েন।

স্বাধীনতার পর ঢাকায় ফিরে নিতুনদা আর মার্কিন তথ্যকেন্দ্রের চাকরিতে যোগ দেননি। তখন তাঁর জীবনে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। কিন্তু এটা ছিল তাঁর সচেতন সিদ্ধান্ত। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে সরাসরি।

এখনো মনে পড়ে, ১৯৭২ সালে নিতুনদার বিয়েতে শিল্পী দেবদাস চক্রবর্তী, মফিদুল হকসহ আমরা কয়েকজন বরযাত্রী হয়ে কলকাতায় গিয়েছিলাম। সেদিন ঢাকা থেকে বিমানের ফ্লাইট বেশ কয়েক ঘণ্টা বিলম্ব হওয়ায় বিয়ের লগ্ন পেরিয়ে যায় কি না, তা নিয়ে আমাদের উদ্বেগের শেষ ছিল না। বিমানে সন্ধ্যায় কলকাতায় পৌঁছে দেখি, বর ও কনে দুই বাড়ির আত্মীয়রাই ভীষণ দুশ্চিন্তা নিয়ে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছেন।

ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে নব্বইয়ের দশকের শেষ পর্যন্ত আমাদের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, লেখালেখি, সাংবাদিকতা জীবনের বিস্তৃত সময়ে বহু কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীর সঙ্গে আমাদের পরিচয় হয়েছে, যোগাযোগ হয়েছে। আমরা সবার সহযোগিতা পেয়েছি। বলা যায়, বাংলাদেশে সেই ষাটের দশক থেকে গণতন্ত্রের জন্য লড়াইয়ে আমরা পাশাপাশি একসঙ্গে পথ চলেছি। তাঁদের মধ্যে আমরা সামনে পেয়েছি কামরুল হাসান, রণেশ দাশগুপ্ত, শহীদুল্লা কায়সার, শামসুর রাহমান, আলতাফ মাহমুদ, ইমদাদ হোসেন, দেবদাস চক্রবর্তী, সন্জীদা খাতুন, আনিসুজ্জামান, কাইয়ুম চৌধুরী, গোলাম মুস্তাফা, নিতুন কুন্ডু, অজিত রায়, রফিকুন নবীসহ অনেককে। তাঁদের কেউ কেউ মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। কারও মৃত্যু হয়েছে পরে। এই শিল্পী-সাহিত্যিকদের সবাই আমাদের জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছেন, এখনো করে চলেছেন। তাঁরা সবাই আমাদের জন্য গভীর প্রেরণার উত্স ছিলেন, এখনো আছেন।

নিতুন কুন্ডুর মতো প্রতিভা এ দেশে খুব বিরল। আমরা তো আমাদের চোখের সামনেই তাঁর নেতৃত্বে অটবির অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি দেখেছি। এ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি আধুনিক, শিল্পসম্মত ও রুচিশীল সামগ্রী তৈরি করেছেন। তাঁর অধীনে কাজ করেছে মেকানিক্যাল, ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারসহ অন্যান্য পেশার অনেক মানুষ। অটবির কর্মিসংখ্যা এখন প্রায় দুই হাজার। এককথায় বলা চলে, সব সময় তিনি চলতেন সময়ের আগে আগে। এ রকম একজন সৎ, নিষ্ঠাবান ও পরিশ্রমী মানুষকে কাছ থেকে দেখা জীবনের এক বিরল অভিজ্ঞতা।

পেইন্টিং, তেলরং, ১৯৮৬

অত্যন্ত মা-ভক্ত ছিলেন নিতুনদা। মা বীণাপাণি কুন্ডু আর বাবা জ্ঞানেন্দ্রনাথ কুন্ডুকে ভীষণ মান্য করতেন। গভীর ভালোবাসতেন স্ত্রী ফাল্গুনী কুন্ডুকে। তাঁর দুটি সুন্দর ও যোগ্য ছেলেমেয়েকে ভালো ছাত্র ও মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সব সময় স্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতার কথা বলতেন। মেয়ে অমিতি ও ছেলে অনিমেষ যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা শেষ করে দেশে ফিরে এসে অটবির বিশাল সাম্রাজ্যের হাল ধরেছে। আমরা আশা করব, বাবা নিতুন কুন্ডুর প্রচণ্ড ভালোবাসায় সিক্ত অমিতি-অনিমেষ অটবিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। ওদের প্রতি রয়েছে আমাদের ভালোবাসা।

একটা কথা না বললেই নয়। বাংলাদেশে বিগত দশকগুলোতে একজন সংখ্যালঘু নাগরিকের জন্য সামগ্রিক পরিস্থিতি খুব সহায়ক ছিল না। নিতুনদার বন্ধুবান্ধব, ঘনিষ্ঠজনদের অনেকেই ভারতে চলে গেছেন। কেউ কেউ যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো দেশে গিয়ে স্থায়ী বসতি গড়েছেন। অনেকেই নিতুনদাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন ভারত বা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বসবাস করতে। বলেছেন, ‘ছেলেমেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে থাকে, আপনারাও সেখানে গিয়ে স্থায়ীভাবে থাকুন।’ এ ব্যাপারে তাঁর সোজাসাপ্টা জবাব ছিল, ‘আমার এই জন্মভূমি, এই বাংলাদেশ ছেড়ে আমি কোথাও যাব না। যত বাধাবিপত্তি আসুক, আমি এ দেশেই থাকব, ঢাকাতেই থাকব। এ দেশ গড়ে তোলায় ভূমিকা রাখব।’

নিতুনদা তাঁর কথা রেখেছেন। তিনি বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা কখনো ভাবেননি। এ দেশেই থেকেছেন, এ দেশেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এ দেশের আলো-বাতাসেই মিশে গেছে তাঁর দেহভস্ম। নিত্য গোপাল কুন্ডু, আমাদের প্রিয় নিতুনদা, শুধু আমাদের কাছেই নন; দেশের মানুষের সামনে ভবিষ্যতেও উজ্জ্বল তারকা হিসেবেই দীপ্যমান থাকবেন।

২০১৪ সালে প্রথমা প্রকাশন থেকে প্রকাশিত ‘আকাশ ভরা সূর্য তারা: কবিতা-গান-শিল্পের ঝরনাধারায়’ বইয়ে লেখাটি স্থান পেয়েছে।

আজও গভীর বেদনার সঙ্গে মনে পড়ে, আমার প্রতি, আমাদের প্রতি নিতুনদার ভালোবাসার কথাগুলো, স্মৃতিগুলো। প্রথম আলো প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রতি শীতে নভেম্বরে গুলশানের হোটেল স্যাফরনে স্বজন-বন্ধুদের জন্য বড় একটা প্রীতিসম্মিলনের আয়োজন করেছি। প্রতিটি অনুষ্ঠানে নিতুনদা আসতেন। পুরোটা সময় থেকে সবার শেষে আমাদের সঙ্গে খেয়েছেন, আমাদের সঙ্গে একই সময়ে গাড়িতে উঠে বিদায় নিয়েছেন। বিদায় নেওয়ার আগে প্রতিবার নিবিড় উষ্ণতায় হাতে হাত ধরে রাখতেন কিছুটা সময়। আমাদের সাফল্যে নিতুনদার আনন্দ ও উষ্ণতা অনুভব করতাম গভীরভাবে। আমাদের জন্য তাঁর মনের গভীরে একটা গর্বও ছিল। এই ছিলেন আমাদের নিতুনদা।

শেষের বছরগুলোতে কাজের ব্যস্ততায় দেখা হতো কম। দেখা হলেই সেই উষ্ণতা আর গভীর অন্তরঙ্গতায় মুগ্ধ হতাম—কখনো তাঁর বাসায়, কখনো আমাদের বাসায়। এ দুঃখ এখন আমার যায় না যে নিতুনদার সঙ্গে আরও বেশি বেশি দেখা হলো না কেন, কেন আরও কথা হলো না? এ দুঃখ কোনো দিনই যাবে না। যখনই নিতুনদার কথা মনে পড়ে, চোখে পানি চলে আসে, বুকের ভেতরটায় হাহাকার করে ওঠে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
ইমরান খানের চিকিৎসা নিশ্চিতে অস্ট্রেলিয়ার ৭ অধিনায়কের চিঠি
ইমরান খানের চিকিৎসা নিশ্চিতে অস্ট্রেলিয়ার ৭ অধিনায়কের চিঠি

একের পর এক সাবেক ক্রিকেটাররা পাশে দাঁড়াচ্ছেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানের। এবার অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ৭ ক্রিকেটার কারাগারে বন্দি ইমরানের মানবিক উদ্বেগ জানিয়ে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওংয়ের কাছে চিঠি দিয়েছেন তারা। সেই চিঠিতে স্বাক্ষর করা ৭ সাবেক অজি ক্রিকেটাররা হলেন- অ্যালান বোর্ডার, গ্রেগ চ্যাপেল, ইয়ান চ্যাপেল, বেলিন্দা ক্লার্ক, কিম হিউজেস, মার্ক টেলর এবং স্টিভ ওয়াহ। তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, কূটনীতিক বা রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে নয়, বরং সাবেক অধিনায়ক হিসেবে মানবিক কারণে তারা বিষয়টি নিয়ে কথা বলছেন। চিঠিতে ইমরান খানের বিরুদ্ধে চলমান আইনি বা রাজনৈতিক মামলার বিষয়ে কোনো অবস্থান নেয়নি সাবেক অধিনায়কদের দলটি। সেটিকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে তারা বলেছেন, আটক যেকোনো ব্যক্তির সঙ্গে মানবিক আচরণ করা মৌলিক মানবিকতার বিষয় তার রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক। এর আগে গত ২৩ আগস্ট বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ২২ সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে চিঠি দিয়ে ইমরানের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। সেই চিঠিতে তিনটি নির্দিষ্ট দাবি জানানো হয় — ইমরানের নিজের চিকিৎসকদের অন্তর্ভুক্ত করে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিত মেডিকেল বোর্ডকে স্বাধীনভাবে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার সুযোগ দেওয়া, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সাপ্তাহিক পারিবারিক সাক্ষাৎ নিশ্চিত করা এবং মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশ অনুযায়ী দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া। চিঠিতে ইমরানের ছেলে ও বোনদের উদ্বেগের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। তারা কয়েক মাস ধরে ইমরানের স্বাস্থ্য ও কারাগারে তার চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছেন। বিশেষ করে সীমিত চিকিৎসাসেবা, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগে বিধিনিষেধ এবং আইনজীবীদের সঙ্গে সীমিত যোগাযোগের বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে। এটি ছিল ইমরানকে নিয়ে সাবেক ক্রিকেটারদের তৎপরতার সর্বশেষ ঘটনা। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ১৪ সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক একই বিষয়ে চিঠি দিয়েছিলেন। পরে পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার জাভেদ মিয়াঁদাদ, ওয়াসিম আকরাম ও মঈন খানও ইমরানের বিষয়ে কথা বলেছেন। বর্তমান অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও এ নিয়ে মন্তব্য করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক গ্রেগ চ্যাপেল গত মাসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওংয়ের সঙ্গে এ বিষয়ে সাক্ষাতের অনুরোধও করেছিলেন। তবে এখন পর্যন্ত তার কাছ থেকে কোনো জবাব পাননি। আইএন

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
ওবায়দুল কাদেরের মৃত্যুদণ্ড

ওবায়দুল কাদেরের মৃত্যুদণ্ড

মিশিগানে ২০২৮ সালের ৪২তম ফোবানা সম্মেলন

মিশিগানে ২০২৮ সালের ৪২তম ফোবানা সম্মেলন

ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ডের সময় ৫টি সিঁড়ির ৪টিতেই তালা ছিল

ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ডের সময় ৫টি সিঁড়ির ৪টিতেই তালা ছিল

একঝলক (১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬)
একঝলক (১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬)

আমনের মাঠে চারা ধান রোপণ করছেন কৃষক। হেতালবুনিয়া, খুলনা, ১৫ সেপ্টেম্বরশজনেগাছের ডালে বসে ডানা ঝাপটে গা ঝাড়া দিচ্ছে এক জোড়া বুলবুলি। কামিলা ছড়ি, রাঙামাটি, ১৫ সেপ্টেম্বরলেবুগাছের কচি পাতায় জমেছে শিশিরের বিন্দু। তঞ্চঙ্গ্যাপাড়া, রাঙামাটি, ১৫ সেপ্টেম্বরধনেপাতার বীজ বপনের জন্য ঘোড়া দিয়ে চাষ শেষে জমিতে মই দিচ্ছেন কৃষক। ডাক্তারখানা, রংপুর, ১৫ সেপ্টেম্বরবর্ষার পানি জমে থাকা নিচু জমি থেকে শালুক তুলছেন এক নারী। মাইলাগী, ঘিওর, মানিকগঞ্জ, ১৫ সেপ্টেম্বরমাছ ধরার জালের ছেঁড়া অংশ সেলাই করছেন এই গৃহবধূ। পসরা, গেরদা, ফরিদপুর, ১৪ সেপ্টেম্বরমাঠে কাজের ফাঁকে বাড়ি থেকে আনা সকালের খাবার খাচ্ছেন কৃষক। হেতালবুনিয়া, বটিয়াঘাটা, খুলনা, ১৫ সেপ্টেম্বরশিকার শেষে কলাগাছের ওপর দাঁড়িয়ে ডানা ঝাপটাচ্ছে পানকৌড়ি। দ্বীপচর, দোগাছি, পাবনা, ১৫ সেপ্টেম্বরবাড়ির সামনে খেলনা ঢোল নিয়ে খেলায় মেতে উঠেছে এক শিশু। অযোধ্যাপুর, রংপুর, ১৫ সেপ্টেম্বরবিক্রির জন্য সকালে ডাঁটাশাক তুলে হাটের পথে রওনা হয়েছেন এই প্রবীণ। দ্বীপচর সেতু, দোগাছি, পাবনা, ১৫ সেপ্টেম্বর

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
রোগী পৌঁছে দিয়ে ফেরার পথে স্পিডবোটের সঙ্গে বাল্কহেডের সংঘর্ষ, নিহত ২

রোগী পৌঁছে দিয়ে ফেরার পথে স্পিডবোটের সঙ্গে বাল্কহেডের সংঘর্ষ, নিহত ২

আরও এক বছর পিআইবির ডিজি থাকছেন ফারুক ওয়াসিফ

আরও এক বছর পিআইবির ডিজি থাকছেন ফারুক ওয়াসিফ

আকিজ ফুডে নিয়োগ, ফ্রেশার প্রার্থীদের আবেদনের সুযোগ

আকিজ ফুডে নিয়োগ, ফ্রেশার প্রার্থীদের আবেদনের সুযোগ

সেপসিস: সাধারণ সংক্রমণ যখন হয়ে ওঠে জীবনসংকট
সেপসিস: সাধারণ সংক্রমণ যখন হয়ে ওঠে জীবনসংকট

একজন প্রবীণ রোগীর কয়েক দিন ধরে প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া ও সামান্য জ্বর ছিল। পরিবারের সবাই ভেবেছিলেন, এটি সাধারণ প্রস্রাবের সংক্রমণ—ওষুধ খেলেই ভালো হয়ে যাবে। কিন্তু এক রাতে তিনি হঠাৎ এলোমেলো কথা বলতে শুরু করলেন। শ্বাস দ্রুত হয়ে গেল, শরীর ঠান্ডা ও ঘামযুক্ত মনে হলো। হাসপাতালে নেওয়ার পর জানা গেল, তিনি সেপসিসে আক্রান্ত হয়েছেন। এ ধরনের ঘটনা বিরল নয়। সংক্রমণকে আমরা অনেক সময় ছোট সমস্যা হিসেবে দেখি। কিন্তু কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেই সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীরের প্রতিক্রিয়াই এত তীব্র ও অনিয়ন্ত্রিত হয়ে ওঠে যে শরীর নিজের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষতি করতে শুরু করে। এই জীবনসংকটপূর্ণ অবস্থার নাম সেপসিস। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে প্রতিবছর বিশ্বে প্রায় ৪ কোটি ৯০ লাখ মানুষ সেপসিসে আক্রান্ত হন এবং প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু এর সঙ্গে সম্পর্কিত। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে এর বোঝা বেশি। অথচ দ্রুত লক্ষণ শনাক্ত করে জরুরি চিকিৎসা শুরু করা গেলে অনেক জীবন রক্ষা করা সম্ভব। সেপসিস কি শুধু রক্তে জীবাণু? অনেকে সেপসিসকে “রক্তে জীবাণু” বা “রক্তে বিষক্রিয়া” বলে থাকেন। কিন্তু বিষয়টি আরও বিস্তৃত। সেপসিসে জীবাণুর পাশাপাশি সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীরের অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রতিক্রিয়ায় রক্তচাপ কমে যেতে পারে এবং মস্তিষ্ক, হৃদ্‌যন্ত্র, ফুসফুস, কিডনি ও লিভারের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কার্যক্ষমতা নষ্ট হতে পারে। নিউমোনিয়া, প্রস্রাবের সংক্রমণ, পেটের ভেতরের সংক্রমণ, পিত্তনালির সংক্রমণ, ত্বক বা ক্ষতের সংক্রমণ—এসব থেকে সেপসিস হতে পারে। অস্ত্রোপচার বা হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পরও কখনো গুরুতর সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক বা পরজীবী—বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ থেকে সেপসিস সৃষ্টি হতে পারে। তাই সেপসিস মানেই যে একটি নির্দিষ্ট জীবাণু বা রোগ, তা নয়। কোন লক্ষণগুলো বিপদের সংকেত? সেপসিসের শুরু সব সময় একই রকম হয় না। কারও প্রচণ্ড জ্বর হতে পারে, আবার প্রবীণ বা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন রোগীর জ্বর নাও থাকতে পারে। কয়েকটি লক্ষণ বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে— * হঠাৎ বিভ্রান্ত হয়ে যাওয়া বা অসংলগ্ন কথা বলা* শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া বা অস্বাভাবিক দ্রুত শ্বাস নেওয়া* হৃদ্‌স্পন্দন খুব দ্রুত হওয়া বা নাড়ি দুর্বল মনে হওয়া* জ্বর, প্রচণ্ড কাঁপুনি অথবা অস্বাভাবিক ঠান্ডা লাগা* ত্বক ঠান্ডা, ফ্যাকাশে, ঘামযুক্ত বা ছোপছোপ হয়ে যাওয়া* প্রচণ্ড ব্যথা বা এমন অসুস্থ বোধ করা, যা আগের তুলনায় অনেক বেশি* প্রস্রাবের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়া* অতিরিক্ত দুর্বলতা, ঘুমঘুম ভাব বা জাগাতে কষ্ট হওয়া একটি লক্ষণ দেখলেই যে সেপসিস হয়েছে, তা বলা যায় না। তবে কারও সংক্রমণ আছে বা সম্প্রতি সংক্রমণ হয়েছে এবং তার সঙ্গে এ ধরনের দ্রুত অবনতি দেখা দিলে সেপসিসের কথা ভাবতে হবে। কারা বেশি ঝুঁকিতে? সেপসিস যে কারও হতে পারে। তবে নবজাতক ও ছোট শিশু, প্রবীণ, গর্ভবতী ও সদ্য সন্তান প্রসবকারী নারী, ডায়াবেটিস বা দীর্ঘস্থায়ী কিডনি-লিভারের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং ক্যানসারের চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের ঝুঁকি বেশি। যাঁদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম, যাঁদের শরীরে ক্যাথেটার বা অন্য কোনো চিকিৎসা-যন্ত্র রয়েছে এবং যাঁরা সম্প্রতি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন বা বড় অস্ত্রোপচার করিয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। পরিবারের করণীয় কী? সেপসিস ঘরে বসে চিকিৎসা করার রোগ নয়। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে তাঁকে নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিতে হবে। স্বাস্থ্যকর্মীকে পরিষ্কারভাবে বলতে হবে—কোথায় সংক্রমণ ছিল, কখন থেকে সমস্যা শুরু হয়েছে এবং রোগীর আচরণ, শ্বাসপ্রশ্বাস বা প্রস্রাবের পরিমাণে কী পরিবর্তন এসেছে। প্রয়োজনে একটি সরল কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করা যায়—“রোগীর সংক্রমণ আছে। এটি কি সেপসিস হতে পারে?” হাসপাতালে চিকিৎসকেরা রোগীর রক্তচাপ, শ্বাসপ্রশ্বাস, অক্সিজেনের মাত্রা, রক্ত ও অন্যান্য পরীক্ষা এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যক্ষমতা মূল্যায়ন করেন। সংক্রমণের সম্ভাব্য উৎস অনুযায়ী দ্রুত অ্যান্টিবায়োটিক বা অন্য চিকিৎসা, শিরায় তরল এবং প্রয়োজনে অক্সিজেন ও নিবিড় পরিচর্যার ব্যবস্থা করা হয়। নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করে হাসপাতালে যেতে দেরি করা উচিত নয়। আবার ভাইরাসজনিত সাধারণ রোগে অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়াও সঠিক নয়। অ্যান্টিবায়োটিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার জীবাণুর ওষুধপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ভবিষ্যতের গুরুতর সংক্রমণের চিকিৎসাকে কঠিন করে তুলতে পারে। সেপসিস কি প্রতিরোধ করা যায়? সব সেপসিস প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। তবে সংক্রমণ প্রতিরোধ ও দ্রুত চিকিৎসার মাধ্যমে ঝুঁকি কমানো যায়। সময়মতো প্রয়োজনীয় টিকা নেওয়া, নিয়মিত হাত পরিষ্কার রাখা, কাটা বা ক্ষত পরিষ্কার ও ঢেকে রাখা এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকের দেওয়া অ্যান্টিবায়োটিক নির্ধারিত নিয়মে গ্রহণ করতে হবে। কোনো সংক্রমণ চিকিৎসার পরও উন্নতি না হলে বা নতুন করে শ্বাসকষ্ট, বিভ্রান্তি কিংবা অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত পুনরায় চিকিৎসা নিতে হবে। সেপসিসে সময় অত্যন্ত মূল্যবান। রোগীর অবস্থা দ্রুত বদলে যেতে পারে। তাই সচেতনতার মূল কথা আতঙ্ক সৃষ্টি করা নয়; বরং বিপদের লক্ষণগুলো চিনে সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া। একটি সাধারণ সংক্রমণের সঙ্গে যদি রোগীর আচরণ, শ্বাসপ্রশ্বাস বা সামগ্রিক অবস্থার হঠাৎ পরিবর্তন ঘটে, অপেক্ষা করবেন না। দ্রুত চিকিৎসা নিন এবং প্রশ্ন করুন—“এটি কি সেপসিস হতে পারে?” এই একটি প্রশ্ন কখনো একটি জীবন বাঁচিয়ে দিতে পারে। লেখক: কনসালট্যান্ট গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট, অরল্যান্ডো হেলথ, ফ্লোরিডা শিক্ষক, গবেষক, লেখক ও স্বাস্থ্যসেবা প্রশাসক। এইচআর/এএসএম

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জাতীয় সংসদ, গণতন্ত্রের সিঁড়ি

ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জাতীয় সংসদ, গণতন্ত্রের সিঁড়ি

জাপানি নারীদের মতো সুন্দর চুল পেতে যা করবেন

জাপানি নারীদের মতো সুন্দর চুল পেতে যা করবেন

ইসলাম গ্রহণের ৯০০ বছর উপলক্ষে মালদ্বীপে বৃহৎ মসজিদ নির্মাণ

ইসলাম গ্রহণের ৯০০ বছর উপলক্ষে মালদ্বীপে বৃহৎ মসজিদ নির্মাণ

0 Comments