জাতীয়

শরৎচন্দ্রের সাহিত্যে বাঙালির হৃদয়াবেগ ও মানবিকতার অনন্ত পাঠ

News সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ 0
শরৎচন্দ্রের সাহিত্যে বাঙালির হৃদয়াবেগ ও মানবিকতার অনন্ত পাঠ
শরৎচন্দ্রের সাহিত্যে বাঙালির হৃদয়াবেগ ও মানবিকতার অনন্ত পাঠ

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আবির্ভাব রবীন্দ্র-প্রতাপের এমন এক সময়ে, যখন বাংলা সাহিত্যের আকাশে রবীন্দ্রনাথের দীপ্তি প্রায় সর্বগ্রাসী। সাহিত্যরুচি, ভাষা, কাব্যবোধ, মনন ও নন্দনতত্ত্ব—সবখানেই রবীন্দ্র-প্রভাবের প্রবল বিস্তার। সেই সময়েই শরৎচন্দ্র এলেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক স্বর নিয়ে। তিনি রবীন্দ্রনাথকে অনুসরণ করলেন না, বঙ্কিমচন্দ্রের ঘটনাবহুল আখ্যানের পুনরাবৃত্তিও করলেন না; বরং প্রবেশ করলেন মানুষের একান্ত অন্তঃপুরে—যেখানে প্রেম আছে, অভিমান আছে, দারিদ্র্য আছে, লজ্জা আছে, সামাজিক নিষেধ আছে, পরাজয় আছে, অথচ সবকিছুর গভীরে আছে এক অবিনাশী মানবহৃদয়।

এ কারণেই বাঙালি পাঠক শরৎচন্দ্রকে কেবল একজন ঔপন্যাসিক হিসেবে গ্রহণ করেননি; তাঁকে আপনজনের মতো করে হৃদয়ে ধারণ করেছেন। বাংলা কথাসাহিত্যে এমন পাঠক সম্পৃক্ততা বিরল। তাঁর চরিত্রেরা আমাদের চারপাশের মানুষ—আমাদের ঘরের মানুষ, পাশের বাড়ির মানুষ, গ্রামের মানুষ, শহরের মধ্যবিত্ত মানুষ, সমাজের প্রান্তে পড়ে থাকা মানুষ। তাদের কান্না আমাদের কান্নার মতো, তাদের ব্যর্থতা আমাদের ব্যর্থতার মতো, তাদের প্রেম আমাদের দীর্ঘশ্বাসের মতো। ফলে শরৎচন্দ্রের সাহিত্য পড়া মানে কেবল একটি গল্প পড়া নয়; বরং নিজেরই কোনো বিস্মৃত অনুভূতির মুখোমুখি দাঁড়ানো।

হুমায়ুন আজাদ যথার্থই বলেছিলেন, শরৎচন্দ্র বাঙালির ‘ভাবাবেগের জায়গাটি’ খুলে দিয়েছিলেন। তবে এই ভাবাবেগকে আরও নির্দিষ্ট করে ‘হৃদয়াবেগ’ বলতে চাই। শরৎচন্দ্রের মানুষেরা কেবল আবেগপ্রবণ নয়; তারা হৃদয় দিয়ে পৃথিবীকে বিচার করে। যুক্তি, সামাজিক বিধান, জাতপাত, অর্থনৈতিক স্বার্থ—এসবের ঊর্ধ্বে কখনো কখনো তাদের হৃদয় একটি স্বতন্ত্র নৈতিক বিধান তৈরি করে। সেই বিধানই শরৎসাহিত্যের গভীরতম শক্তি।

শরৎচন্দ্রের ‘বিলাসী’ গল্পের দিকে তাকালেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। জাতপাত, বর্ণভেদ ও সামাজিক শ্রেণিবিভাজনে জর্জরিত এক সমাজে সাপুড়ের মেয়ে বিলাসীর অকৃত্রিম ভালোবাসা মৃত্যুঞ্জয়ের জীবনকে আমূল পরিবর্তিত করে। মৃত্যুঞ্জয় শুধু সামাজিক বিধিনিষেধ অতিক্রম করে বিলাসীকে গ্রহণই করে না; তার জীবনযাপন, পরিচয় ও মূল্যবোধেও ঘটে এক গভীর রূপান্তর। এখানে প্রেম কোনো অলংকার নয়, কোনো রোমান্টিক আয়োজনও নয়; প্রেম হয়ে ওঠে সামাজিক প্রথার বিরুদ্ধে এক নীরব অথচ প্রবল মানবিক বিদ্রোহ।

‘মেজদিদি’তে কেষ্টার প্রতি হেমাঙ্গিনীর মমতা একই মানবিক বোধের অন্য রূপ। রক্তের সম্পর্ক যেখানে ব্যর্থ, সেখানে হৃদয়ের সম্পর্ক আশ্রয় দেয়। সমাজের বিধান মানুষকে বিচ্ছিন্ন করে, কিন্তু মানবিকতা তাকে আবার মানুষের কাছে ফিরিয়ে আনে। শরৎচন্দ্র যেন বারবার দেখাতে চান—মানুষের প্রকৃত পরিচয় তার জাতিতে নয়, বর্ণে নয়, সম্পদে নয়; তার প্রকৃত পরিচয় হৃদয়ের সক্ষমতায়।

এই মানবিকতার সবচেয়ে মর্মস্পর্শী প্রকাশ ‘মহেশ’-এ। গফুরের নিজের ঘরে অন্ন নেই, নিজের সন্তানের মুখে খাবার নেই; তবু মহেশ তার কাছে নিছক একটি গবাদিপশু নয়। মহেশ হয়ে ওঠে তার সংসারের এক সদস্য, তার দারিদ্র্যের সঙ্গী, তার নিঃসঙ্গতার আশ্রয়। নিজের খাবার থেকে ভাগ দিয়ে, ভাঙা ঘরের ছন ছিঁড়ে খেতে দিয়ে অভাবের মধ্যেও প্রাণীটির প্রতি যে মমতা গফুর দেখায়—তা নিছক পশুপ্রেমের সীমায় আবদ্ধ থাকে না। মহেশ ক্রমে ব্যক্তিসত্তার মর্যাদা পেয়ে যায়।

১০ টাকায় মহেশকে বিক্রি করার পর তাকে যখন রশি ধরে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন গফুরের আকস্মিক উন্মত্ততা পাঠককে শুধু আবেগাপ্লুত করে না; মানুষের অসহায় ভালোবাসার এক নির্মম সত্যের সামনে দাঁড় করায়। যে মানুষটি নিজেই ক্ষুধার্ত, সেই মানুষটির হৃদয়ে অন্য একটি প্রাণীর জন্য এত গভীর মমতা কীভাবে জন্ম নেয়—এই প্রশ্নের মধ্যেই শরৎচন্দ্রের মানবতাবাদ নিহিত।

আধুনিক বস্তুবাদী সভ্যতা মানুষকে ক্রমশ হিসাবি করে তুলছে। সম্পর্কের মধ্যেও লাভ-ক্ষতির অঙ্ক প্রবেশ করেছে। ভালোবাসা কখনো কখনো সুবিধার সমীকরণে পরিণত হচ্ছে। মানুষ তার প্রয়োজনের বাইরে তাকাতে ভুলে যাচ্ছে। অথচ শরৎচন্দ্রের সাহিত্য আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—মানুষ যতই যান্ত্রিক হোক, তার অন্তর্গত হৃদয় সম্পূর্ণ যন্ত্রে পরিণত হয় না। কোথাও না কোথাও মমতার একটি ক্ষীণ প্রদীপ জ্বলে থাকে। সেই প্রদীপই মানুষকে মানুষ করে রাখে।

শরৎচন্দ্রের চরিত্র সৃষ্টির আরেকটি অনন্য দিক তাঁর নারী চরিত্র। বাংলা সাহিত্যে নারীর জীবনকে এত গভীর সহানুভূতি, মমতা ও অন্তর্দৃষ্টির সঙ্গে উপস্থাপনকারী লেখক খুব বেশি নেই। তাঁর নারীরা কেবল প্রেমের উপকরণ নয়, কেবল পুরুষের জীবনের পরিপূরকও নয়; তারা নিজস্ব যন্ত্রণা, আকাঙ্ক্ষা, আত্মমর্যাদা, সিদ্ধান্ত ও স্বপ্ন নিয়ে পূর্ণ মানুষ।

‘বড়দিদি’, ‘দেবদাস’, ‘পরিণীতা’, ‘বিরাজ বৌ’, ‘শুভদা’, ‘দত্তা’, ‘চরিত্রহীন’, ‘গৃহদাহ’, ‘শেষপ্রশ্ন’—প্রতিটি রচনায় নারীজীবনের ভিন্ন ভিন্ন সংকট, সম্ভাবনা ও অন্তর্গত ক্ষতকে তিনি উন্মোচন করেছেন। বিশেষ করে সমাজের তথাকথিত পতিতা বা পতিত চরিত্রগুলোর প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি বিস্ময়করভাবে মানবিক। তিনি তাদের পেশা দিয়ে বিচার করেননি; তাদের মানুষ হিসেবে দেখেছেন। ফলে পাঠকের মনে ঘৃণার পরিবর্তে মায়া জন্ম নেয়, অবজ্ঞার পরিবর্তে সহানুভূতি জাগে। একজন শিল্পীর মানবিকতার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা সম্ভবত এখানেই।

শরৎচন্দ্রের এই দৃষ্টিভঙ্গিকে কেউ কেউ পাশ্চাত্য সাহিত্যিকদের প্রভাবের ফল হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। এমিল জোলা, দস্তয়েভস্কি কিংবা ওয়াল্ট হুইটম্যানের প্রভাবের কথাও আলোচনায় এসেছে। কিন্তু শরৎচন্দ্রকে কেবল পাশ্চাত্য প্রভাবের আলোয় বিচার করলে তাঁর সৃষ্টির নিজস্ব মাটির গন্ধটি অনুধাবন করা কঠিন। তাঁর সাহিত্য মূলত বাংলার মাটি, নদী, গ্রাম, মধ্যবিত্ত সংসার, সামাজিক বিধিনিষেধ, পারিবারিক টানাপোড়েন এবং মানুষের সহজাত অনুভূতি থেকে উৎসারিত। তিনি জীবনকে দূর থেকে দেখেননি; জীবনের ভেতরে প্রবেশ করেছিলেন।

তাঁর নিজের ভাষাতেই বলা যায়—জীবনে সঞ্চিত অভিজ্ঞতারই প্রতিফলন তাঁর সাহিত্যে। এই জীবন-অভিজ্ঞতাই তাঁর সাহিত্যের প্রধান পুঁজি। ভবঘুরে জীবনের বিচিত্র অভিজ্ঞতা, মানুষের সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ এবং সমাজের বিভিন্ন স্তর পর্যবেক্ষণের ক্ষমতা তাঁকে এমন এক বাস্তবতাবোধ দিয়েছিল, যা কেবল কল্পনার আশ্রয়ে অর্জন করা সম্ভব নয়।

‘শ্রীকান্ত’ তার অনন্য প্রমাণ। শ্রীকান্ত যেন এক ব্যক্তিমানুষের আত্মপরিচয়ের অনুসন্ধান, আর তার ভেতর দিয়ে শরৎচন্দ্র দেখেছেন বিস্তৃত ভারতবর্ষীয় সমাজকে। ইন্দ্রনাথ চরিত্রটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম স্মরণীয় কিশোর চরিত্র। সাহস, দুরন্তপনা, উদারতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও মানবিক দৃঢ়তায় সে অনন্য। রাত্রির অন্ধকারে শ্রীকান্তকে সঙ্গে নিয়ে মাছ চুরি করতে যাওয়া যেমন রোমাঞ্চকর, তেমনি মরদেহকে নৌকায় তুলে নেওয়ার ঘটনায় তার ‘মরার আবার জাত কী রে!’ উচ্চারণটি তার চরিত্রের অন্তর্গত অসাম্প্রদায়িক মানবতাকে একমুহূর্তে উন্মোচিত করে।

এই একটি বাক্যেই যেন শরৎচন্দ্রের বৃহৎ মানবতাবাদী দর্শনের প্রতিধ্বনি শোনা যায়। জীবিত মানুষের জাত নিয়ে যে সমাজ এত বিভক্ত, মৃত্যুর পরও সে মানুষকে জাতের খাঁচায় বন্দী করতে চায়। ইন্দ্রনাথ সেই বিভাজনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বলে, মৃত মানুষের আবার জাত কী? এই প্রশ্ন শুধু একটি চরিত্রের সংলাপ নয়; এটি এক গভীর সামাজিক প্রশ্ন।

‘রাজলক্ষ্মী’ ও ‘শ্রীকান্ত’-এর সম্পর্কেও শরৎচন্দ্র প্রেমকে প্রচলিত সংজ্ঞার বাইরে নিয়ে গেছেন। সেখানে প্রেম শুধু মিলনের আকাঙ্ক্ষা নয়; প্রেম স্মৃতি, দায়িত্ব, অপরাধবোধ, আত্মমর্যাদা, বিচ্ছেদ এবং প্রত্যাবর্তনের এক জটিল মনস্তত্ত্ব। শরৎচন্দ্রের প্রেম তাই নিছক রোমান্টিক নয়; তার সঙ্গে মিশে থাকে জীবনের নির্মম বাস্তবতা।

‘দেবদাস’-এর জনপ্রিয়তার রহস্যও এখানেই। দেবদাস কেবল একজন ব্যর্থ প্রেমিক নয়; সে এক সামাজিক ও মানসিক পরাজয়ের প্রতীক। পার্বতীর সঙ্গে তার সম্পর্ক সামাজিক শ্রেণিবিভাজন, পারিবারিক অহংকার ও ব্যক্তিগত দুর্বলতার কাছে পরাজিত হয়। চন্দ্রমুখীর ভালোবাসা তার সামনে মুক্তির একটি সম্ভাবনা তৈরি করলেও দেবদাস নিজের অন্তর্গত দুর্বলতার কারাগার থেকে বেরিয়ে আসতে পারে না। ফলে ‘দেবদাস’ কেবল প্রেমের গল্প নয়; এটি আত্মবিনাশী দ্বিধা, সামাজিক সংকোচ এবং অপূর্ণতার এক চিরন্তন আখ্যান।

শরৎচন্দ্রের জনপ্রিয়তার আরেকটি কারণ তাঁর অসাধারণ গল্প বলার ক্ষমতা। তিনি পাঠককে গল্পের বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখেন না; গল্পের ভেতরে টেনে নেন। ‘বড়দিদি’ প্রকাশের পর পাঠকের একাংশের ধারণা হয়েছিল, এটি রবীন্দ্রনাথের লেখা। পরবর্তী সময়ে ‘শ্রীকান্ত’-এর ধারাবাহিক প্রকাশের ক্ষেত্রেও পাঠকের আগ্রহ তাঁকে একাধিক খণ্ড রচনায় উদ্বুদ্ধ করে। এই পাঠক সম্পৃক্ততাই তাঁর সাহিত্যিক জনপ্রিয়তার গভীর ভিত্তি।

তবে জনপ্রিয়তা মানেই শিল্পের সরলীকরণ নয়। শরৎচন্দ্রের সাহিত্যকে কেবল আবেগনির্ভর বা অতিরিক্ত বর্ণনাময় বলে পাশ কাটিয়ে যাওয়া তাঁর শিল্পসত্তাকে খাটো করা। যে লেখক সাধারণ মানুষের দুঃখকে এমন সর্বজনীন করে তুলতে পারেন, যে লেখক প্রান্তিক মানুষের বেদনা পাঠকের ব্যক্তিগত বেদনায় রূপান্তরিত করতে পারেন, তাঁর শিল্পের ভিত নিছক আবেগের ওপর দাঁড়িয়ে নেই। সেখানে রয়েছে সূক্ষ্ম সমাজবোধ, চরিত্র পর্যবেক্ষণ এবং মানুষের মনস্তত্ত্ব সম্পর্কে গভীর অন্তর্দৃষ্টি।

একালের পাঠক নতুন তত্ত্ব, নতুন দর্শন, নতুন নন্দনতত্ত্বের সঙ্গে পরিচিত। আধুনিকতা, উত্তরাধুনিকতা, নারীবাদ, মার্ক্সবাদ, মনোবিশ্লেষণ, অস্তিত্ববাদ—সাহিত্য পাঠের নানা নতুন দরজা আমাদের সামনে খুলেছে। এসব দৃষ্টিভঙ্গি অবশ্যই প্রয়োজনীয়। কিন্তু নতুন তত্ত্বের আলো হাতে নিয়ে পুরোনো শিল্পকে অন্ধকার বলে ঘোষণা করা কখনোই প্রজ্ঞার লক্ষণ নয়। রবীন্দ্রনাথ বড় না নজরুল বড়—এই প্রশ্ন যেমন অবান্তর, তেমনি শামসুর রাহমান বড় না আল মাহমুদ বড়, বঙ্কিম বড় না শরৎ বড়—এ ধরনের তুলনামূলক শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণও সাহিত্যের প্রকৃত মূল্যায়ন নয়।

প্রত্যেক মহৎ স্রষ্টার নিজস্ব মহাকাশ আছে। রবীন্দ্রনাথের আকাশ রবীন্দ্রনাথের, নজরুলের আগুন নজরুলের, বঙ্কিমের স্থাপত্য বঙ্কিমের, শরৎচন্দ্রের হৃদয়জগৎ শরৎচন্দ্রের। একজনের আলো দিয়ে অন্যজনের সূর্য মাপা যায় না।

শরৎচন্দ্রের বিরুদ্ধে সবচেয়ে প্রচলিত অভিযোগগুলোর একটি হলো—তিনি সমস্যা চিহ্নিত করেছেন, কিন্তু সমস্যার উত্তরণের পথ দেখাননি। এ অভিযোগের মধ্যেও কিছু সত্য থাকতে পারে, কিন্তু সাহিত্যকে কি সর্বদা সমাধানের নির্দেশিকা হতে হবে? একজন ঔপন্যাসিক সমাজের অসুখ শনাক্ত করবেন, মানুষের যন্ত্রণা দেখাবেন, সংকটের অন্তর্গত কারণ উন্মোচন করবেন—এটিও তো সাহিত্যের বড় কাজ। চিকিৎসক রোগনির্ণয় করেন; প্রত্যেক রোগীর জীবনযাপনের সম্পূর্ণ বিধান তিনি লিখে দেন না। সাহিত্যিকও তেমনি সমাজের আয়না ধরতে পারেন। সেই আয়নায় নিজের মুখ দেখে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত পাঠকই নেবেন।

‘গৃহদাহ’-এ মহিম, অচলা ও সুরেশের সম্পর্কের মধ্য দিয়ে শরৎচন্দ্র যে নৈতিক ও সামাজিক দ্বন্দ্ব নির্মাণ করেছেন, তার পরিণতি নিয়েও বিতর্ক আছে। কিন্তু বিতর্কই তো সাহিত্যকে জীবন্ত রাখে। একইভাবে ‘চরিত্রহীন’, ‘শেষপ্রশ্ন’ কিংবা ‘পথের দাবী’—প্রতিটি রচনায় তিনি সমাজের প্রচলিত মূল্যবোধকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছেন। কোথাও তিনি অগ্রসর, কোথাও তাঁর সময়ের সীমাবদ্ধতায় আবদ্ধ; কিন্তু তাঁর প্রশ্ন করার সাহসকে অস্বীকার করা যায় না।

এখানেই শরৎচন্দ্রকে পুনরায় পাঠ করার প্রয়োজন। তাঁকে কেবল ‘জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক’ বলে ছোট করা যেমন অন্যায়, তেমনি তাঁকে তাঁর সময়ের বাইরে দাঁড় করিয়ে বিচার করাও অনুচিত। একজন শিল্পীকে বুঝতে হলে তাঁর সময়, সমাজ, মূল্যবোধ ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেই তাঁকে দেখতে হয়। শরৎচন্দ্র তাঁর সময়ের সন্তান, কিন্তু তাঁর মানবিকতা সময়ের সীমানা অতিক্রম করেছে।

বঙ্কিমচন্দ্রের শিল্পশক্তি অসামান্য; রবীন্দ্রনাথের মনোজগৎ অনন্ত; কিন্তু শরৎচন্দ্র মানুষের চোখের জল, ঘরের অন্ধকার, অভাবের দীর্ঘশ্বাস, প্রেমের অপমান, নারীর নিঃশব্দ বেদনা, প্রান্তিক মানুষের অবহেলা এবং সাধারণ মানুষের হৃদয়ের গোপন আলোকে এমনভাবে সাহিত্যে ধারণ করেছেন যে তাঁর পাঠ কখনো সম্পূর্ণ পুরোনো হয়ে যায় না।

আজকের পৃথিবীতে মানুষ আগের চেয়ে অনেক বেশি সংযুক্ত, অথচ অনেক বেশি একা। প্রযুক্তি মানুষকে কাছে এনেছে, কিন্তু হৃদয়ের দূরত্বও বাড়িয়েছে। সম্পর্ক দ্রুত তৈরি হয়, দ্রুত ভেঙে যায়। অনুভূতি প্রকাশের ভাষা বেড়েছে, কিন্তু অনুভব করার ক্ষমতা যেন কোথাও ক্ষীণ হয়েছে। এই সময়েই শরৎচন্দ্রের কাছে ফিরে যাওয়া জরুরি।

শরৎচন্দ্র আমাদের শেখান—মানুষকে তার পরিচয়ে নয়, তার হৃদয়ে দেখতে। পতিতাকে কেবল পতিতা হিসেবে নয়, একজন মানুষ হিসেবে দেখতে; দরিদ্রকে করুণার বস্তু না করে তার মর্যাদা বুঝতে; পশুর মধ্যেও স্নেহের অধিকারী এক প্রাণকে চিনতে; নারীকে কেবল সংসারের অলংকার নয়, পূর্ণ মানবসত্তা হিসেবে গ্রহণ করতে; জাতপাতের প্রাচীরের ওপারে গিয়ে মানুষকে মানুষ হিসেবে চিনতে।

শরৎচন্দ্র তাই কেবল গল্পকার নন; তিনি বাঙালির হৃদয়ের এক নিবিড় ভাষ্যকার। তাঁর সাহিত্য আমাদের শেখায়, সভ্যতার সমস্ত বাহ্যিক চাকচিক্য, মতবাদ, দর্শন ও তর্কের শেষে মানুষকে মানুষ করে রাখে তার হৃদয়। যত দিন মানুষের চোখে জল থাকবে, যত দিন ভালোবাসা অসম্পূর্ণ থেকেও মানুষের জীবনকে আলোড়িত করবে, যত দিন সমাজের নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে কোনো একটি কোমল হৃদয় দাঁড়িয়ে যাবে, তত দিন শরৎচন্দ্র পাঠের প্রয়োজন ফুরাবে না।

মানুষই যেখানে শেষ কথা, সেখানে শরৎচন্দ্রের সাহিত্য কখনো অসাড় হতে পারে না। তাঁর কলমের কালি দিয়ে কেবল কাহিনি লেখা হয়নি; সেখানে মিশে আছে বাঙালির দীর্ঘদিনের কান্না, ভালোবাসা, অভিমান, মমতা ও মানবিকতার উষ্ণ রক্তধারা।

এ কারণেই শরৎচন্দ্রকে বারবার পড়তে হয়। নতুন তত্ত্বের চোখে নয় শুধু, নিজের হৃদয়ের চোখেও। তাঁকে পুনর্মূল্যায়ন করার অর্থ অতীতকে আঁকড়ে থাকা নয়; বরং বর্তমানের যান্ত্রিকতার মধ্যে মানুষকে আবার মানুষ হিসেবে আবিষ্কার করা।
শরৎচন্দ্রের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব সম্ভবত এখানেই। তিনি আমাদের ভুলতে দেননি যে মানুষ শেষ পর্যন্ত একটি হৃদয়বান প্রাণী। আর সেই হৃদয়ের ভাষা যত দিন পৃথিবীতে থাকবে, শরৎচন্দ্রও তত দিন বেঁচে থাকবেন পাঠকের অন্তরে।

শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ, ঢাকা কলেজ

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
পাকিস্তানকে চোখ রাঙাচ্ছে তিন দিনে ইনিংস হার
পাকিস্তানকে চোখ রাঙাচ্ছে তিন দিনে ইনিংস হার

পাকিস্তান: ১৩৩ ও ৫২/২। ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংস: ৪৫৩। চার বলেই ০ রানে ২ উইকেট। এরপর ৩২০ রানের প্রথম ইনিংস ঘাটতি। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানের সামনে শুরুতেই ছিল পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ। দিন শেষে সেই চ্যালেঞ্জ আরও কঠিন হয়েছে। বৃষ্টির কারণে আগেভাগে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষের সময় দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তানের রান ২ উইকেটে ৫২। ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসের ৪৫৩ রানের চেয়ে এখনো ২৬৮ রানে পিছিয়ে তারা। অর্থাৎ তিন দিনেই ইনিংস হারের শঙ্কা চোখ রাঙাচ্ছে পাকিস্তানকে।হেডিংলি ও লর্ডসে মোট ১৬ নেওয়া ওলি রবিনসন পাকিস্তানকে তাড়া করে ফিরছেন এজবাস্টনেও। প্রথম ইনিংসে ৩ উইকেট নেওয়া এই পেসার আজ দ্বিতীয় ইনিংসের প্রথম বলেই সাইম আইয়ুবকে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ বানিয়েছেন। তড়িঘড়ি করে সিপিএল থেকে ডেকে নিয়ে আসা সাইম দুই ইনিংসেই ফিরলেন শূন্য রানে।রবিনসন প্রথম ওভারে শুধু সাইমকেই ফেরাননি, তিন বল পর আবদুল্লাহ শফিককে প্রথম স্লিপে জো রুটের ক্যাচ বানিয়ে পাকিস্তানকে ঠেলে দেন ০/২-এ। ৬ ওভারে ৩ মেডেনসহ ১০ রানে ২ উইকেট নিয়ে দিন শেষ করেছেন রবিনসন। এই সিরিজে তাঁর উইকেট এখন ২১, গড় মাত্র ৬.৬৬।এর আগে ৪ উইকেটে ১৫৬ রানে দিন শুরু করা ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংসে আরও ২৯৭ রান যোগ করে। এমিলিও গে (৬০) ও হ্যারি ব্রুক (৭৫) ফিফটি পেয়েছিলেন গতকালই, আজই পেয়েছেন জেমি স্মিথ, ড্যান লরেন্স ও রবিসনসনও। লরেন্স করেন ৬৫, স্মিথ ৬৯, রবিনসন ৫০। শেষ দিকে জফরা আর্চারের ২৭ বলে অপরাজিত ৩২ রানে ইংল্যান্ডের ইনিংসটা আরও বড় হয়।পাকিস্তানের হয়ে অভিষিক্ত রাজাউল্লাহ ৪ উইকেট নিয়েছেন। তবে ৪৫৩ রানের পাহাড় ঠেকাতে পারেনি তাঁর বোলিং। দ্বিতীয় ইনিংসে শান মাসুদ ২১ ও আজান আওয়াইস ২৯ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছেন। বৃষ্টি না এলে পাকিস্তানের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত। এখন তৃতীয় দিনে ২৬৮ রান পেরিয়ে ইংল্যান্ডকে আবার ব্যাটিংয়ে নামানোর লক্ষ্য নিয়েই নামতে হবে পাকিস্তানকে।

News সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ 0
ইন্টারনেট ঘেঁটে বের করেন চেতনানাশক, কোমল পানীয়র সঙ্গে খাইয়ে বন্ধুকে হত্যা

ইন্টারনেট ঘেঁটে বের করেন চেতনানাশক, কোমল পানীয়র সঙ্গে খাইয়ে বন্ধুকে হত্যা

র‍্যাব বিলুপ্ত, বিরোধী দলের আপত্তির মুখে পাস হলো  ‘এসআরবি’ বিল

র‍্যাব বিলুপ্ত, বিরোধী দলের আপত্তির মুখে পাস হলো ‘এসআরবি’ বিল

একীভূত পাঁচ ব্যাংকের আমানতের মুনাফায় হেয়ারকাট বাতিল

একীভূত পাঁচ ব্যাংকের আমানতের মুনাফায় হেয়ারকাট বাতিল

ভারতে ব্রিকস সম্মেলনে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী এবং আন্যান্য খবর
ভারতে ব্রিকস সম্মেলনে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী এবং আন্যান্য খবর

ভারতে ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর না যাওয়ার সিদ্ধান্ত, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকছে না। এ ছাড়া অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলোর বিস্তারিত শুনুন প্রথম আলোর অডিও সংবাদে...

News সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ 0
এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে লাশ উদ্ধার: ‘স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি’ দিলেন বাসচালক

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে লাশ উদ্ধার: ‘স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি’ দিলেন বাসচালক

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট লংমার্চে মিটলে 
আমরাই আগে করতাম: প্রধানমন্ত্রী

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট লংমার্চে মিটলে আমরাই আগে করতাম: প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪৭৬, মামলা ৩৯

রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪৭৬, মামলা ৩৯

ভিপির ‘ব্যবস্থা নেব’ হুমকির পর অবশেষে সাংবাদিকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ রাকসুর
ভিপির ‘ব্যবস্থা নেব’ হুমকির পর অবশেষে সাংবাদিকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ রাকসুর

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) নেতাদের বক্তব্য ও বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের সঙ্গে তৈরি হওয়া ‘ভুল–বোঝাবুঝির’ জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে রাকসু। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে রাকসুর কোনো নেতা সাংবাদিকদের উদ্দেশে অবমাননাকর বক্তব্য দিলে এর দায় ব্যক্তিগতভাবে তাঁর বলে গণ্য হবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।আজ বৃহস্পতিবার রাকসুর মিডিয়া ও প্রকাশনা বিভাগের পক্ষ থেকে ক্যাম্পাসের সাংবাদিকদের উদ্দেশে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়।বিবৃতিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক কিছু ঘটনাবলির মাধ্যমে রাকসুর সঙ্গে ক্যাম্পাসের সাংবাদিক সংগঠনগুলোর যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে এগিয়ে আসা প্রয়োজন। রাকসুর কিছু নেতার বক্তব্যসহ নানা ইস্যুতে যে ভুল–বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে, তা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে না, বরং সংকট তৈরি করে।যেসব ঘটনা ক্যাম্পাসের জন্য সংকট তৈরি করছে, তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে রাকসু বলেছে, ‘রাকসুর কেউ এর পর থেকে সাংবাদিকদের উদ্দেশে অবমাননাকর কোনো বক্তব্য দিলে, সে দায় একান্তই তার ব্যক্তিগত বলে গণ্য হবে এবং এর দায় প্রতিষ্ঠান হিসেবে রাকসু নেবে না।’সাংবাদিকেরা সব সময় বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে ও দাবি আদায়ের ব্যাপারে কাঁধে কাঁধ রেখে তাদের সঙ্গে লড়াই করেছেন বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, সাংবাদিকদের সঙ্গে যেকোনো যৌক্তিকতা ও ইনসাফের ব্যাপারে তাদের কাজের ধারা অব্যাহত থাকবে। তবে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আপস না করার ব্যাপারে সবাই একমত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছে রাকসু।এর আগে গত ২৭ জুলাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে ঢুকে তিন শিক্ষার্থীকে দফায় দফায় মারধরের ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেন রাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ। প্রকাশিত সংবাদে ব্যবহৃত শব্দ নিয়ে আপত্তি তুলে তিনি বলেন, ‘আপনারা বলেছেন, আমরা হামলা করেছি। এটা কোন ধরনের কথা? তারা হামলা করেছে, আমরা প্রতিরোধ করেছি। আপনারা এই শব্দ বলতে এত কাঁপাকাঁপি করেন কেন? আর আপনারা এত মায়া কান্না দেখান কেন ছাত্রলীগের প্রতি?’ছাত্রলীগের প্রতি মায়াকান্না দেখানো সাংবাদিকদের জড়ো করে ব্যবস্থা নেব: রাকসু ভিপিসাংবাদিকদের উদ্দেশে রাকসু ভিপি আরও বলেছিলেন, ‘এত মায়া কান্না করা যাবে না। আপনারা সাংবাদিকেরা যেসব শব্দ ব্যবহার করেন, এগুলোর বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেব। আপনারা কালকে ছাত্রলীগকে ডিফেন্স করে (পক্ষ হয়ে) অনেকে নিউজ করেছেন। এই সাংবাদিক এখানেও অনেকে আছে। আমরা সেগুলো জড়ো করে করে এখানে ব্যবস্থা নেব।’রাকসু ভিপির এমন বক্তব্যে দেশব্যাপী সমালোচনা তৈরি হয়। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসের তিনটি সাংবাদিক সংগঠন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (রাবিসাস), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটি (রুরু) রাকসুর কার্যক্রম বয়কটের ঘোষণা দেয় এবং ভিপিকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানায়।রাকসুর সব কর্মসূচি বর্জনের ঘোষণা সাংবাদিকদের, ভিপিকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি

News সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ 0
সংসদে গালাগালির শিকার হয়েছেন, অভিযোগ রুমিন ফারহানার

সংসদে গালাগালির শিকার হয়েছেন, অভিযোগ রুমিন ফারহানার

আয়ারল্যান্ডে নাগরিকত্ব আইনে শিগগিরই আসছে বড় পরিবর্তন

আয়ারল্যান্ডে নাগরিকত্ব আইনে শিগগিরই আসছে বড় পরিবর্তন

একটি রিক্রুটিং এজেন্সির অফিস সিলগালা ও জরিমানা

একটি রিক্রুটিং এজেন্সির অফিস সিলগালা ও জরিমানা

0 Comments