জাতীয়

সরকারকেই পরিষ্কার করতে হবে তারা মালয়েশিয়া সিন্ডিকেটে জড়িত নয়: জামায়াত আমির

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
সরকারকেই পরিষ্কার করতে হবে তারা মালয়েশিয়া সিন্ডিকেটে জড়িত নয়: জামায়াত আমির
সরকারকেই পরিষ্কার করতে হবে তারা মালয়েশিয়া সিন্ডিকেটে জড়িত নয়: জামায়াত আমির

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সিন্ডিকেট বন্ধে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর জন্য ২৫টি এজেন্সি চূড়ান্ত করা হয়েছে। এসব এজেন্সি কিসের ভিত্তিতে নির্বাচন করা হয়েছে, তা সরকারকে পরিষ্কার করতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে ‘সিন্ডিকেট ও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার: বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান এ কথা বলেন। সেমিনারের আয়োজন করে জামায়াতে ইসলামী।

সেমিনারে জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, ‘২৫টি এজেন্সিকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। বোঝা যাচ্ছে, তারা হবে মাস্টার এজেন্সি। তাদের আন্ডারে (আওতায়) অ্যাসোসিয়েট (সহযোগী) থাকবে। ক্রাইটেরিয়াটা (যোগ্যতা) কী এখানে? ইতিমধ্যেই বিভিন্ন গণমাধ্যমে আপনারাই নিয়ে এসেছেন যে এমন কিছু এজেন্সি আছে, যাদের পূর্বের কোনো অভিজ্ঞতা নেই। তো কিসের ভিত্তিতে এটা সিলেক্ট (নির্ধারণ) করা হলো?’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘তাহলে আমরা যেটা শুনছি, সেইটা যে ১৫ থেকে ২২ কোটি টাকা সেখানে ইনভেস্ট করা হচ্ছে, ওইটা? যদি ওইটা হয়ে থাকে, তাহলে আমরা এটাকে অত্যন্ত ঘৃণার সঙ্গে ধিক্কার জানাই। নিশ্চয়ই সরকারের সঙ্গে জড়িত না হলে এটা হয় কীভাবে? সরকারকেই পরিষ্কার করতে হবে তারা জড়িত নয়। সরকারকে পরিষ্কার করতে হবে, কোন ক্রাইটেরিয়ার (যোগ্যতা) ভিত্তিতে এদেরকে সিলেক্ট করা হয়েছে।’

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীদের শোষণ বন্ধের দাবি জানান জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার তিনবার বন্ধ হয়েছে। আবার চালুর পর এটি চতুর্থবার বন্ধ হোক, তাঁরা তা চান না। এ জন্য শ্রমিক পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করার পাশাপাশি কোনো সিন্ডিকেটকে সুযোগ না দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

জামায়াতের আমির বলেন, ‘আমরা কোনো সিন্ডিকেট চাই না, আমরা একটা সুস্থ শ্রমবাজার পরিবেশ চাই। সমস্যাটা শুধু মালয়েশিয়াকে ঘিরে নয়, দুনিয়ার বিভিন্ন জায়গায় সমস্যা হচ্ছে বিশেষ করে এশিয়া এবং মিডেল ইস্টের দেশগুলোতেই বেশি হচ্ছে।’

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে অতীতে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট এখনো কার্যকর রয়েছে বলে অভিযোগ করেন শফিকুর রহমান। দাতো শ্রী আমিন নামের একজনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে এই ব্যক্তি মালয়েশিয়ায় সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিল। সেটি এখনো চালু আছে। এই ব্যক্তির সঙ্গে কোনো কোনো নেতা এখনো গোপনে বৈঠক করেন।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা সরকারকে বলব, বন্ধ করেন। কোনো আমিনের নাম আর শুনতে চাই না। এই আমিনরা কী করবে বাংলাদেশ দেখে ফেলেছে।’

নেপাল, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়া যেভাবে মালয়েশিয়ার সঙ্গে শ্রমবাজার নিয়ে আলোচনা করে, বাংলাদেশকেও সেভাবে আলোচনা করার আহ্বান জানান শফিকুর রহমান। সরকার উদ্যোগ নিলে বিরোধী দল সব ধরনের সহযোগিতা করবে বলেও জানান তিনি।

সিন্ডিকেট বন্ধে সরকারকে বাধ্য করা হবে বলে ঘোষণা দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, সরকার সেটি না করলে জনগণই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। যদি জামায়াত কোনো দিন ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ পায়, তাহলে এই সিন্ডিকেটের অস্তিত্ব রাখা হবে না।

‘উচ্ছৃঙ্খল বিরোধী দল হতে চাই না’

সেমিনারে সরকারের সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় যাওয়ার আগে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, এখন সেগুলো অস্বীকার করছে এবং উল্টো পথে চলছে। কাউকে সরিয়ে কাউকে বসানোর দাবিতে বিরোধী দল আন্দোলন করছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিটি দাবি আদায় না করে তাঁরা ঘরে ফিরবেন না।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘উচ্ছৃঙ্খল বিরোধী দল হতে চাই না। এর মাধ্যমে কোনো কলঙ্ক লেপন করতে চাই না। আবার আমরা মহান আল্লাহ ছাড়া আর কারও কাছে অনুগত হব না। জায়গামতো কথা বলব, যা উচিত মনে করব, চোখের দিকে তাকিয়ে তা বলব।’

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ‘যা ন্যায্য কথা, তা বলব। আইন যা করে করুক। এটার পরোয়া করি না। সেই আইনও হওয়ার পথে বাধা দেব।…আর যদি এরপরে গায়ের জোরে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে যা ন্যায়, যা সত্য তা বলতেই থাকব। আইন যতবার পারে আমার ওপর প্রয়োগ করুক।’

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোট বাদ করার চিন্তা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, তারা যেখানেই থাকুক, তাদের ভোট দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জামায়াতের নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইনজীবী শাহরিয়ার কবির। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সাবেক কূটনৈতিক সাকিব আলী, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, হামিদুর রহমান আযাদ ও এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান (মিলন), ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আতিকুর রহমান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধানসহ অনেকে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
সমালোচনার মুখে ‘অচেনা’ তিন প্রবাসীকে উপদেষ্টা করার সিদ্ধান্ত স্থগিত
সমালোচনার মুখে ‘অচেনা’ তিন প্রবাসীকে উপদেষ্টা করার সিদ্ধান্ত স্থগিত

সিলেট মহানগর বিএনপির উপদেষ্টা পরিষদে তিনজন ‘অচেনা’ প্রবাসীকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়েছে। আপত্তি, সমালোচনা এবং গঠনতন্ত্র না মানা—মূলত এই তিন কারণে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চার দিনের মাথায় বিষয়টি নিয়ে পিছু হটেছেন সিলেট মহানগর নেতৃত্ব। উপদেষ্টা পরিষদে অন্তর্ভুক্ত করা তিনজন হলেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ফয়ছল আহমদ ও মোহাম্মদ হুমায়ুন মিলাদ এবং যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সাইফুর হারুন। তাঁদের উপদেষ্টা পরিষদে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি ১৩ সেপ্টেম্বর এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছিলেন সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসেইন ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী। এর পর থেকে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিএনপিতে ব্যাপক আলোচনা–সমালোচনা শুরু হয়।সাদিকুর রহমান, সহসভাপতি, মহানগর বিএনপিকমিটি সিলেট মহানগরের। আর উপদেষ্টা করা হচ্ছে প্রবাসীদের। প্রবাসে থেকে তাঁরা কীভাবে দেশে থাকা নেতা-কর্মীদের উপদেশ দেবেন? এটি উল্লেখ করেই সাংগঠনিক সভায় আমি প্রতিবাদ জানিয়েছি।সিলেট মহানগর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা হচ্ছিল, যাঁদের উপদেষ্টা করা হয়েছে, তাঁরা দলীয় রাজনীতিতে ‘অচেনা’। কেন্দ্রের অনুমতি ছাড়াই তাঁদের অগঠনতান্ত্রিকভাবে উপদেষ্টা পরিষদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।এ বিষয়ে যোগাযোগ করলে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসেইন আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিষয়টি (উপদেষ্টা পরিষদের তিনজন সংযোজনের বিজ্ঞপ্তি) আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। এর গঠনপ্রক্রিয়া যথাযথ ছিল না।’তিনজন প্রবাসীকে উপদেষ্টার পদ দেওয়া নিয়ে যুক্তরাজ্যে থাকা বিএনপির দুজন নেতা, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা একজন এবং সিলেট মহানগরের চারজন নেতার সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো। তাঁরা বলেছেন, উপদেষ্টা পরিষদে পদ পাওয়া তিনজনের কেউই রাজনৈতিকভাবে পরিচিত নন। তাঁরা সেভাবে দলীয় কর্মকাণ্ডে (যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে) কখনো অংশ নেননি।শহীদুল ইসলাম, সদস্য, যুক্তরাজ্য বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিফয়সল আহমদ জাসাসের একটি পদে ছিলেন, তবে তিনি যুক্তরাজ্য বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় নন। অন্যদিকে মোহাম্মদ হুমায়ুন দলীয় রাজনীতিতে তেমন পরিচিত নন। আমরা বিএনপির নেতা-কর্মীরা উনাকে চিনি না। মহানগর বিএনপির উপদেষ্টা পরিষদে তাঁরা ঠাঁই পাওয়ায় যুক্তরাজ্য বিএনপিতেও সমালোচনা হচ্ছে।যুক্তরাজ্য বিএনপির দুইবারের সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শহীদুল ইসলামের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলেছে প্রথম আলো। তিনি বলেন, ‘ফয়সল আহমদ জাসাসের একটি পদে ছিলেন, তবে তিনি যুক্তরাজ্য বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় নন। অন্যদিকে মোহাম্মদ হুমায়ুন দলীয় রাজনীতিতে তেমন পরিচিত নন। আমরা বিএনপির নেতা-কর্মীরা উনাকে চিনি না। মহানগর বিএনপির উপদেষ্টা পরিষদে তাঁরা ঠাঁই পাওয়ায় যুক্তরাজ্য বিএনপিতেও সমালোচনা হচ্ছে।’ যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সাইফুর হারুনের বিষয়ে সেখানে থাকা বিএনপির একজন নেতার সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো। একই বিষয়ে প্রথম আলো কথা বলেছে সিলেট মহানগর বিএনপির চারজন নেতার সঙ্গে। কেউই তাঁর বিষয়ে তথ্য দিতে পারেননি।তিন প্রবাসীকে উপদেষ্টা করার সিদ্ধান্তের বিষয়ে সিলেট মহানগর বিএনপির একজন দায়িত্বশীল নেতা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর ভাইয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে ওই তিন প্রবাসীকে উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। অথচ দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এ ধরনের পদে কোনোভাবেই মহানগর বিএনপির সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদকের অনুমোদন দেওয়ার সুযোগ নেই।’বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, চেয়ারম্যানের পরামর্শক্রমে দলের মহাসচিব মহানগর নির্বাহী কমিটির অনুমোদন দেবেন। স্থানীয়ভাবে সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদকের এ ধরনের অনুমোদন দেওয়ার সুযোগ নেই।মহানগর কমিটিতে তিনবার সভাপতি বদলসিলেট মহানগর বিএনপির কমিটি গঠিত হয় ২০২৩ সালের ১০ মার্চ সম্মেলনে, ভোটের মাধ্যমে। এতে সভাপতি পদে নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক পদে ইমদাদ হোসেন চৌধুরী ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে সৈয়দ সাফেক মাহবুব দায়িত্ব পান। তবে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য ২০২৪ সালের ১ আগস্ট সভাপতির পদ থেকে নাসিম হোসাইনকে সরিয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।এরপর ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর সিলেট মহানগর বিএনপির ১৭০ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় কমিটি। ঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক প্যানেল মেয়র রেজাউল হাসান কয়েস লোদীকে। পরে চলতি বছরের ৬ আগস্ট আবার নাসিম হোসাইনকে স্বপদে বহাল করে কেন্দ্রীয় কমিটি।রেজাউল হাসান কয়েস লোদী ও ইমদাদ হোসেন চৌধুরী দায়িত্ব পালনকালে প্রথমবারের মতো বর্তমান মহানগর কমিটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়। গত জুন মাসে ৫৭ জন নেতাকে ওই উপদেষ্টা পরিষদে রাখা হয়।জুনে উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের বিষয়ে রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, ‘প্রথমে মৌখিকভাবে, পরে লিখিতভাবে কেন্দ্রীয় কমিটির সংশ্লিষ্টদের অবহিত করেই আমরা উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করেছিলাম।’সর্বশেষ ১৩ সেপ্টেম্বর নতুন করে আরও তিনজনকে উপদেষ্টা পরিষদে নেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে গতকাল বুধবার রাতে অনুষ্ঠিত মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সভায় আলোচনা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গউছ।মহানগর বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, কেন্দ্রকে অবহিত না করে উপদেষ্টা পরিষদে তিনজন প্রবাসীকে পদ দেওয়ার বিষয়ে ওই সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন জি কে গউছ। এ ছাড়া আরও দু–তিনজন নেতা বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।এই সভার বিষয়ে ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও মহানগর বিএনপির সহসভাপতি সাদিকুর রহমান প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘কমিটি সিলেট মহানগরের। আর উপদেষ্টা করা হচ্ছে প্রবাসীদের। প্রবাসে থেকে তাঁরা কীভাবে দেশে থাকা নেতা-কর্মীদের উপদেশ দেবেন? এটি উল্লেখ করেই সাংগঠনিক সভায় আমি প্রতিবাদ জানিয়েছি।’

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
৩০ বলে সেঞ্চুরি, পাওয়ার প্লেতে বিশ্ব রেকর্ড—ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে অভিষেকের ইতিহাস

৩০ বলে সেঞ্চুরি, পাওয়ার প্লেতে বিশ্ব রেকর্ড—ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে অভিষেকের ইতিহাস

রাজধানীর একাধিক লেকের দূষণ রোধে উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর এবং অন্যান্য খবর

রাজধানীর একাধিক লেকের দূষণ রোধে উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর এবং অন্যান্য খবর

ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহ-মালেকের ছবি মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস বিকৃতি: গণতান্ত্রিক যুক্ত ফ্রন্ট

ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহ-মালেকের ছবি মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস বিকৃতি: গণতান্ত্রিক যুক্ত ফ্রন্ট

সেপটিক ট্যাংকে নেমে অসুস্থ, হাসপাতালে রাজমিস্ত্রিসহ দুজনের মৃত্যু
সেপটিক ট্যাংকে নেমে অসুস্থ, হাসপাতালে রাজমিস্ত্রিসহ দুজনের মৃত্যু

ফরিদপুরে নির্মাণাধীন একটি ভবনের সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে কাজ করতে নেমে অসুস্থ হয়ে রাজমিস্ত্রিসহ দুজনের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার বাঁখুণ্ডা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।মারা যাওয়া দুজন হলেন রাজমিস্ত্রি মো. শাওন হোসেন (২৪) ও দিনমজুর হৃদয় শেখ (২০)। শাওন ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার বাসিন্দা। হৃদয়ের বাড়ি ফরিদপুর সদর উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের চর মঙ্গলকোট গ্রামে।স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল নয়টার দিকে বাঁখুণ্ডা এলাকায় মো. কাওসার মিয়ার নির্মাণাধীন ভবনের নতুন সেপটিক ট্যাংকের ছাদের বাঁশ খোলার জন্য নামেন শাওন। কিছুক্ষণ পর তিনি সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে উদ্ধারের জন্য ট্যাংকের ভেতরে প্রবেশ করেন হৃদয়। পরে তিনিও অসুস্থ হয়ে পড়েন। ধারণা করা হচ্ছে, সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের কারণে তাঁরা অসুস্থ হয়ে পড়েন।স্থানীয় লোকজন দুজনকে উদ্ধার করে সকাল ১০টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শাওনের মৃত্যু হয়। বুধবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে হৃদয়ও মারা যান।ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) খলিলুর রহমান জানান, পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শাওনের মরদেহ বুধবার এবং হৃদয়ের মরদেহ বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় থানায় দুটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে সিট দখল, র‍্যাগিং ও ধূমপান নিষিদ্ধ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে সিট দখল, র‍্যাগিং ও ধূমপান নিষিদ্ধ

ক্ষমা চাওয়া, দল বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত থেকে কেন সরে এসেছিল জামায়াত

ক্ষমা চাওয়া, দল বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত থেকে কেন সরে এসেছিল জামায়াত

আবার অশান্ত মণিপুর, অন্তত দুজন নিহত

আবার অশান্ত মণিপুর, অন্তত দুজন নিহত

ময়মনসিংহে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে শিশুকে যৌন নির্যাতন ও হত্যা, কিশোর আটক
ময়মনসিংহে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে শিশুকে যৌন নির্যাতন ও হত্যা, কিশোর আটক

ময়মনসিংহের নান্দাইলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে ছেলেশিশুকে যৌন নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগে এক কিশোরকে আটক করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার একটি গ্রাম থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়।নিহত শিশুটি (৬) স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ত। আটক কিশোরের (১৫) বাড়িও একই গ্রামে।পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, আজ সকাল ১০টার দিকে জলপাই কুড়ানোর কথা বলে শিশুটিকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় ওই কিশোর। এরপর শিশুটিকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে ওই কিশোরকে জিজ্ঞাসা করা হলে সে অসংলগ্ন কথাবার্তা বলতে থাকে। পরে সে জানায়, তাদের বাড়ির টয়লেটের পাশে শিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখেছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী স্বজনেরা সেখানে গিয়ে কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় শিশুটির লাশ দেখতে পান।পুলিশের ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই কিশোর শিশুটিকে তার বসতঘরে নিয়ে যৌন নির্যাতনের চেষ্টা করে। সে চিৎকার করলে ঘরে থাকা শাবল দিয়ে তাকে আঘাত করে। এতে শিশুটি মারা যায়।নান্দাইল মডেল থানার পুলিশ বেলা দুইটার দিকে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজহারুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এক কিশোরকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬–এ এমআইএসটির সাফল্য

বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬–এ এমআইএসটির সাফল্য

এক বছরের কাজের বিবরণ দিলেন ডাকসু নেতারা, প্রশাসনের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ

এক বছরের কাজের বিবরণ দিলেন ডাকসু নেতারা, প্রশাসনের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ

তীরে দাঁড়িয়ে ছিল শিশু শামীম, স্পিডবোটের ঢেউয়ের তোড়ে ভেসে গেল মেঘনায়

তীরে দাঁড়িয়ে ছিল শিশু শামীম, স্পিডবোটের ঢেউয়ের তোড়ে ভেসে গেল মেঘনায়

0 Comments