জাতীয়

শোবার ঘরই আপনার রোগের কারণ নয় তো?

News সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ 0

সারা দিনের ক্লান্তি নিয়ে শোবার ঘরেই আমরা পাই প্রশান্তি। তবে কখনো কখনো এই ঘরও হয়ে উঠতে পারে আপনার রোগের কারণ। কিংবা বাড়িয়ে দিতে পারে কোনো রোগের ভোগান্তি। এ সম্পর্কে ধানমন্ডির পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও সহকারী অধ্যাপক ডা. সাইফ হোসেন খান-এর সঙ্গে কথা বলে জানাচ্ছেন রাফিয়া আলম

শোবার ঘরের দেয়াল, বিছানা, বালিশ, কার্পেট, এমনকি সুগন্ধিও আপনার স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে

শোবার ঘরের দেয়াল, বিছানা, বালিশ, কার্পেট, এমনকি সুগন্ধিও আপনার স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গের ব্যবহারের ভুলের কারণেও। তবে কিছু বিষয় খেয়াল রাখলেই এই ঝুঁকি কমিয়ে ফেলা সম্ভব।

বিছানা-বালিশ ঠিকঠাক তো?

  • ভুল বালিশ ব্যবহারে ঘাড়ব্যথা হতে পারে। ভুল বিছানায় ঘুমালে বাড়ে কোমরব্যথার ঝুঁকি। এসব অনুষঙ্গ কেনার সময় স্বাস্থ্যের দিকটা মাথায় রাখুন। কখন বদলে ফেলতে হবে, তা-ও জেনে রাখুন।

  • বালিশ হতে হবে আরামদায়ক। তবে এতটাও নরম নয়, যা মাথার চাপে নিচু হয়ে যায়।

  • খুব উঁচু বা খুব নিচু বালিশ নেবেন না। এমন উচ্চতার বালিশ বেছে নিন, যাতে ঘাড়ের স্বাভাবিক বক্রতা (কার্ভ) বজায় থাকে।

  • বিছানা হতে হবে একটু শক্তপোক্ত (মাঝারি দৃঢ়তার), যেন শরীরের ভারে সহজে নিচু হয়ে না যায়। শক্ত জাজিমের ওপর নরম তোশক বিছিয়ে নিলে কিন্তু লাভ হবে না। বিছানায় শোবার সময় মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক বক্রতা বজায় থাকতে হবে। তবে অতিরিক্ত শক্ত বিছানা ব্যবহার করাও উচিত নয়।

যত্ন নিন, বদল আনুন

বালিশ, জাজিম, তোশক, ম্যাট্রেস সময়মতো বদলে ফেলুন
  • বালিশ, জাজিম, তোশক, ম্যাট্রেস সময়মতো বদলে ফেলুন। এসবের স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট হলে, অর্থাৎ অল্প চাপেই আকৃতি বদলে গেলে বুঝতে হবে, বদলে নেওয়ার সময় হয়ে গেছে।

  • তবে যত্নের সঙ্গে ব্যবহার করলে জাজিম, তোশক ও ম্যাট্রেস বহুদিন টেকে।

  • জাজিম, তোশক বা ম্যাট্রেস—শোবার জন্য যেটিই ব্যবহার করুন না কেন, মাস তিনেক পরপর (কিংবা নির্দেশনা অনুযায়ী) সেটির অবস্থান বদলে ফেলুন। অর্থাৎ মাথার দিক ঘুরিয়ে পায়ের দিকে আনুন।

  • একই সঙ্গে তা পুরোপুরি উল্টে দিন (যদি ওলটানো যায়)। অর্থাৎ নিচের পৃষ্ঠকে ওপরের দিকে নিয়ে আসুন। তবে মেমোরি ফোম ম্যাট্রেস বা পিলো-টপ ম্যাট্রেসের মতো আধুনিক ম্যাট্রেস ওলটানোর সুযোগ নেই।

  • তুলার বালিশ, জাজিম বা তোশক বছরে অন্তত একবার কড়া রোদে দেওয়া ভালো।

ঘরের যত কাপড়

বিছানার চাদর, বালিশের কভার, পর্দা, কার্পেট, শতরঞ্জি, পাপোশ প্রভৃতি অনুষঙ্গ অবশ্যই পরিষ্কার রাখুন
  • বিছানার চাদর, বালিশের কভার, পর্দা, কার্পেট, শতরঞ্জি, পাপোশ প্রভৃতি অনুষঙ্গ অবশ্যই পরিষ্কার রাখুন। এসবে লুকিয়ে থাকতে পারে নানা অণুজীব এবং বাতাসে ভেসে আসা বিভিন্ন কণা।

  • এসবের কারণে শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষত কারও যদি হাঁপানি থাকে কিংবা অ্যালার্জিজনিত অন্যান্য সমস্যা থাকে, তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি অনেকটাই বেশি।

  • তবে সচেতন থাকা প্রয়োজন সবারই। পরিষ্কার দেখালেও প্রতি সপ্তাহেই অন্তত বিছানার চাদর ও বালিশের কভার বদলে ফেলা উচিত।

ঘরের পরিবেশ

ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের ওপর আলোর প্রত্যক্ষ প্রভাব আছে। আলো, শব্দ ও অস্বস্তিকর তাপমাত্রার কারণে গভীর ঘুমে বাধা আসতে পারে

ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের ওপর আলোর প্রত্যক্ষ প্রভাব আছে। আলো, শব্দ ও অস্বস্তিকর তাপমাত্রার কারণে গভীর ঘুমে বাধা আসতে পারে।

ভালো ঘুম না হলে দীর্ঘমেয়াদি নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ে। বাতাসে রাসায়নিকের উপস্থিতি কিংবা ঘরে ছত্রাকের উপস্থিতির কারণে শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহের ঝুঁকি বাড়তে পারে (বিশেষত যাঁদের হাঁপানি বা অ্যালার্জি আছে)।

তাই খেয়ালে রাখুন এসব বিষয়

বিছানায় শুতে গেলেই হাঁচি, নাক বন্ধ বা শ্বাসকষ্ট? অ্যালার্জিমুক্ত থাকার পরামর্শগুলো মানুন
শোবার ঘরে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন, যাতে ঘর আর্দ্র বা স্যাঁতসেঁতে হয়ে না পড়ে
  • বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন, যাতে ঘর আর্দ্র বা স্যাঁতসেঁতে হয়ে না পড়ে। প্রয়োজনে ডিহিউমিডিফায়ার ব্যবহার করুন।

  • দেয়াল, ছাদ বা আসবাব স্যাঁতসেঁতে হয়ে গেলে বা এসবে ছত্রাক দেখা দিলে দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা করুন।

  • ঘুমের সময় ঘর অন্ধকার রাখুন। বাইরের আলো ঠেকাতে ‘ব্ল্যাকআউট’ পর্দা ব্যবহার করতে পারেন। ডিমলাইটের আলোও ভালো ঘুমের অন্তরায় হতে পারে।

  • বাইরে শব্দ থাকলে ঘুমের সময় জানালা আটকে দিন। তবে ঘরের ভেতর বাতাস চলাচলের ব্যবস্থাও রাখুন। এ ক্ষেত্রে দরজা কিছুটা খোলা রাখতে পারেন।

  • ঘরের তাপমাত্রা আরামদায়ক রাখতে চেষ্টা করুন।

  • মশা তাড়াতে কয়েল, স্প্রে বা অন্যান্য রাসায়নিক পণ্যের পরিবর্তে মশারি ব্যবহার করুন।

  • সুগন্ধ আনতে চাইলে প্রাকৃতিক উপায় (যেমন ধোঁয়ায় অ্যালার্জি না থাকলে প্রাকৃতিক মোম, পরাগরেণুতে অ্যালার্জি না থাকলে ফুল) বেছে নেওয়া ভালো।

  • ঘরে, বারান্দায় বা বাথরুমে ধূমপান করবেন না।

অনুষঙ্গের সঠিক ব্যবহার

অপরিষ্কার বা ভেজা পায়ে বিছানায় উঠবেন না
  • বিছানায় শুয়ে টেলিভিশন দেখা ঠিক নয়। দীর্ঘক্ষণ ঘাড় বাঁকা করে থাকলে ঘাড়ব্যথার ঝুঁকি বাড়ে। এ ছাড়া ভালো ঘুমের জন্য বিছানা কেবল বিশ্রামের জন্য রাখাই ভালো।

  • বিছানায় খাবার নেবেন না। খাবারের কণা ঘুমের সময় অস্বস্তির কারণ হতে পারে।

  • অপরিষ্কার বা ভেজা পায়ে বিছানায় উঠবেন না। পাপোশ ব্যবহার করুন।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
পার্বত্য অঞ্চলে অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর স্থাপনের দাবি খাগড়াছড়ি আসনের এমপির
পার্বত্য অঞ্চলে অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর স্থাপনের দাবি খাগড়াছড়ি আসনের এমপির

পার্বত্য অঞ্চলে অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন খাগড়াছড়ি আসনের এমপি আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া। ৮ সেপ্টেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে তিনি এ দাবি জানান। বিস্তারিত ভিডিওতে—

News সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ 0
হামলার ঘটনায় ইতালিতে মামলা করলেন বাঁধন

হামলার ঘটনায় ইতালিতে মামলা করলেন বাঁধন

মশা মারা হচ্ছে, ডেঙ্গু কমছে না কেন?

মশা মারা হচ্ছে, ডেঙ্গু কমছে না কেন?

কাপড়ের আড়ালে আনা পুরোনো আইফোনসহ বিভিন্ন ব্যান্ডের ১,৬৫৫ মুঠোফোন জব্দ

কাপড়ের আড়ালে আনা পুরোনো আইফোনসহ বিভিন্ন ব্যান্ডের ১,৬৫৫ মুঠোফোন জব্দ

সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করলেন খলিলুর রহমান
সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করলেন খলিলুর রহমান

চার দশক পর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসনে আরেকবার বসল বাংলাদেশ। আজ মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।গত ২ জুন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদের নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রার্থী খলিলুর রহমান ৯৯ ভোট পেয়ে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দূত আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিসকে পরাজিত করেন।নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় অনুযায়ী মঙ্গলবার দুপুরে খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের নতুন অধিবেশন শুরু হয়। সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার আগে ৮১তম অধিবেশন নিয়ে নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি। এরপর তিনি কাজ শুরু করেন।জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ২২ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের ভাষণের মধ্য দিয়ে শুরু হবে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক। এ অধিবেশনে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।সাবেক পেশাদার কূটনীতিক খলিলুর রহমান কর্মজীবনের বড় অংশজুড়ে জেনেভা ও নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে বিভিন্ন সংস্থায় দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯১ সালে জেনেভায় জাতিসংঘ বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলনের (আঙ্কটাড) বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দেন খলিলুর রহমান। এরপর ২৫ বছর নিউইয়র্ক ও জেনেভায় জাতিসংঘের বিভিন্ন জ্যেষ্ঠ পদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি; ছিলেন জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রকাশনার প্রধান লেখক।বাংলাদেশ ২০২০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে নির্বাচনে প্রার্থিতা ঘোষণা করে। তবে এই পদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে দেশের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয় গত ২৭ ফেব্রুয়ারি। এর পর থেকে পূর্ণমাত্রার কূটনৈতিক প্রচার শুরু হয়। দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির সুযোগ ছিল না । তবে স্বল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ এবং বহুপক্ষীয় কূটনৈতিক ফোরামে অত্যন্ত সক্রিয় ও কৌশলগত প্রচার চালিয়ে আন্তর্জাতিক সমর্থন অর্জনে সফল হন। অপর দিকে বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাস ২০১৬ সালে তাদের প্রার্থিতা ঘোষণা করে। এক দশক ধরে ধারাবাহিক প্রচার চালায় দেশটি।১৯৮৬ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও রাজনীতিবিদ হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী। রাজনীতিতে যোগদানের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের ফাঁকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। পরে জাতীয় সংসদের স্পিকার হন হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী।

News সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ 0
বাঁধনের ওপর হামলায় জড়িত নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা মনিরুলের পরিবার ঘরে তালা দিয়ে গ্রাম ছাড়ল

বাঁধনের ওপর হামলায় জড়িত নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা মনিরুলের পরিবার ঘরে তালা দিয়ে গ্রাম ছাড়ল

ডেঙ্গুতে বছরে সর্বোচ্চ মৃত্যু ও অন্যান্য খবর

ডেঙ্গুতে বছরে সর্বোচ্চ মৃত্যু ও অন্যান্য খবর

রূপপুর প্রকল্পের বায়েক অফিসে গভীর রাতে অগ্নিকাণ্ড

রূপপুর প্রকল্পের বায়েক অফিসে গভীর রাতে অগ্নিকাণ্ড

0 Comments