ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় মনিরুল হাওলাদার (২৪) নামের এক তরুণ জড়িত বলে জানা গেছে। তাঁর গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের খালানিকান্দি এলাকায়। মনিরুল নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা।
হামলার ঘটনার পর আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে মনিরুলের বাড়িতে যান স্থানীয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা–কর্মীরা। একপর্যায়ে তাঁর পরিবারের সদস্যরা ঘরে তালা দিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

এ বিষয়ে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও সদর সার্কেল) ফারিহা রফিক বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পর মনিরুলের বাড়িতে সকাল থেকে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তাঁর পরিবারের সঙ্গেও পুলিশ যোগাযোগ করেছে। যেহেতু ঘটনা দেশের বাইরে, তাই তাঁর বিরুদ্ধে ওই দেশের আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা মনিরুলের বাড়িতে এখনো ঘটেনি। কেউ যেন তাঁদের বাড়িঘরে হামলা করতে না পারেন, সে ব্যাপারে পুলিশ সতর্ক আছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। তিনি সব ধরনের সহযোগিতাও করছেন।’
ইতালিপ্রবাসী মনিরুল ইসলাম ধুরাইল ইউনিয়নের খালানিকান্দি এলাকার মৃত শাজাহান হাওলাদারের ছেলে। তিনি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ধুরাইল ইউনিয়ন শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানের পর তিনি দেশ ছাড়েন।
আজ সকাল থেকে মনিরুলের বাড়িতে লোকজন ভিড় করতে থাকেন। মনিরুলের প্রতিবেশী চাচাতো ভাই রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সকাল সকালই মনিরুলের বাড়িতে গোয়েন্দা বিভাগের লোকজন আসতে শুরু করেন। পরে ভয় পেয়ে বাড়ির লোকজন সবাই পালিয়েছেন। কোথায় গেছেন, তা বলতে পারছি না।’
মনিরুলের বাড়িতে দুটি ভাঙাচোরা টিনশেড ঘর। একটি চারচালা, অন্যটি দোচালা। বাড়িতে তাঁর মা ও বড় ভাই থাকেন। মনিরুলের সৎভাই ওবায়দুল হাওলাদার বলেন, ‘দেড় বছর আগে ২৮ লাখ টাকা দিয়ে দালালের মাধ্যমে লিবিয়া হয়ে ইতালি পাড়ি জমায় মনিরুল। এলাকায় থাকা অবস্থায় সে ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মনিরুল গ্রামের বাড়িতে এখনো বাড়িঘর করতে পারেনি। ঋণের বোঝা ওর মা ও ভাইয়ের মাথার ওপরে। টাকাপয়সা কামানো বাদ দিয়ে বিদেশে গিয়াও দল করা শুরু করেছে। আমি সৎভাই, এক পয়সাও আমাকে দেয় না। বিদেশে বসে এ দেশের মান-সম্মান সব শেষ করে দিয়েছে। ওর বিচার করুক, আমরা ওর সাথে নাই।’
জেলা ছাত্রশক্তি সদস্যসচিব আরিয়ান সায়েম প্রথম আলোকে বলেন, ‘সকালে ঢাকা থেকে জুলাইযোদ্ধা আয়ান মাদারীপুরে আসেন। পরে আমরা পুলিশ নিয়ে মনিরুলের গ্রামের বাড়িতে যাই। মনিরুলের বাড়িতে তালা দেওয়া। আমরা আসার আগেই তাঁরা ঘর ছেড়ে চলে যান। মনিরুলের বাড়িতে আধা ঘণ্টা ছিলাম। কেউ মব করার চেষ্টাও করেনি। আমরা আসার পরে কেউ কিছু করেছে কি না, জানি না।’
আরিয়ান সায়েম জানান, তাঁরা সেখানে যাওয়ার পর স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানও এসেছিলেন। তিনি তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন এবং মনিরুলের বিচারের দায়িত্ব নেন।
এ বিষয়ে ধুরাইল ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, ‘মনিরুল দেশে থাকতে ছাত্রলীগ করছে। এখনো বিদেশে বসে ছাত্রলীগ করে বলে জেনেছি। কিন্তু এভাবে ঘটনা ঘটানো ঠিক হয়নি। সকালে কিছু লোক এসেছিলেন। তাঁরা মনিরুলের বিচার দাবি করে চলে গেছেন। আমি বাড়িতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছি। সদর থানার পুলিশও বিষয়টিতে নজর রেখেছে।’
৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে ইতালি গেছেন বাঁধন। বর্তমানে তিনি মেস্ত্রে শহরে অবস্থান করছেন। সোমবার রাতে ভাই ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে তিনি স্থানীয় একটি পার্কে গেলে এ হামলা ও হেনস্তার ঘটনা ঘটে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
রাজধানীর লালবাগে বাসা থেকে তৌহিদা হোসেন তিশা (৩০) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্বজনদের অভিযোগ, তাকে হত্যার পর মরদেহ ঝুলিয়ে দিয়ে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে বিসি দাস স্ট্রিট-সংলগ্ন একটি পাঁচতলা ভবন থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। তিশা ধোলাইখাল জোড়পুলের মো. গিয়াস উদ্দিনের মেয়ে। নিহতের ভাই রাজীব বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিশার শাশুড়ি ফোন করে তিশা গুরুতর অসুস্থ জানিয়ে তাদের দ্রুত ঘটনাস্থলে যেতে বলেন। খবর পেয়ে তারা সেখানে গিয়ে দেখতে পান তিশার নিথর দেহ সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছে। আরও পড়ুন চট্টগ্রামে যুবককে কুপিয়ে হত্যা রাজীব জানান, বেশ কিছুদিন ধরেই নানা পারিবারিক বিষয় নিয়ে তিশার সঙ্গে তার শাশুড়ির ঝগড়া চলছিল এবং বুধবার সকালেও তাদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। রাজীবের দাবি, তিশাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়। লালবাগ থানার পুলিশ জাতীয় জরুরি সেবার ৯৯৯ নম্বর থেকে ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল তৈরি করে। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। লালবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. বেলায়েত হোসাইন বলেন, ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। এটি হত্যা না কি আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। কেএজেডআইএ/একিউএফ
লেখক, শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের জাতীয় কনভেনশন আয়োজন করতে যাচ্ছে গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্য। ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে দিনব্যাপী এ কনভেনশন অনুষ্ঠিত হবে।‘কণ্ঠে মোদের কুণ্ঠাবিহীন নিত্য-কালের ডাক’ স্লোগানে আয়োজিত এ কনভেনশনে ঢাকাসহ দেশের অধিকাংশ জেলা থেকে লেখক, কবি, শিল্পী, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিকর্মীরা অংশ নেবেন বলে আয়োজকেরা জানিয়েছেন।রাজধানীর তোপখানায় উদীচী কার্যালয়ে বুধবার সকালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জাতীয় কনভেনশন প্রস্তুতি কমিটির সদস্যসচিব ও বিবর্তন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান লালটু। সভাপতিত্ব করেন গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের আহ্বায়ক ও উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন।কনভেনশনের লক্ষ্যলিখিত বক্তব্যে বলা হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান–পরবর্তী দেশের বর্তমান বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে এ কনভেনশনের আয়োজন করা হচ্ছে। সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সমৃদ্ধ ও সংগ্রামী ধারাকে রক্ষা ও বিকশিত করা এবং সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনের পরিপূরক গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি নির্মাণ এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।আয়োজকেরা বলেন, রাষ্ট্রের মৌলিক পরিবর্তন ও শোষণ-বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা ছাড়া কেবল ব্যক্তি বা দলের পরিবর্তন জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করতে পারে না। এ জন্য সর্বব্যাপী সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তোলার প্রয়োজন আছে।লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, মুক্ত গণমাধ্যম, মুক্তচিন্তা ও সংস্কৃতিচর্চার শঙ্কাহীন পরিবেশ এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মসূচিতে বাধা, মব সন্ত্রাস, নারী ও আদিবাসীদের ওপর নিপীড়ন এবং স্বাধীন মতপ্রকাশ ও সংস্কৃতির ওপর আক্রমণের ঘটনাও তুলে ধরা হয়।সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০২৩ সালের ৬ মে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিরুদ্ধে ৩১টি সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের যৌথ প্রতিবাদ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্য গঠনের সূত্রপাত। পরে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি।লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় ২০ জুলাই কারফিউ জারির পর ২৬ জুলাই জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবাদী গানের মিছিল ও সমাবেশের মাধ্যমে কারফিউ ভাঙার কর্মসূচি পালন করে সাংস্কৃতিক মোর্চাটি। এরপর ৩০ জুলাই গান নিয়ে রাজপথের কর্মসূচি এবং ২ আগস্ট ‘দ্রোহযাত্রা’ আয়োজনের কথাও উল্লেখ করা হয়।সংস্কৃতিকর্মীদের ঐক্যের আহ্বানসংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, দেশের সংস্কৃতিকর্মীদের দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস আছে। অতীতের সেই সংগ্রামী ভূমিকা ও গৌরব পুনরুদ্ধার করে জনগণের পক্ষে সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। বর্তমান সময়ের বিভ্রান্তি ও প্রতিকূলতা অতিক্রম করে ব্যাপক ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধভাবে সাংস্কৃতিক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তাঁরা।সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন গণসংস্কৃতি কেন্দ্রের উপদেষ্টা জাকির হোসেন, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, সমাজ অনুশীলন কেন্দ্রের সমন্বয়ক বিমল কান্তি দাশ এবং সমাজ চিন্তা ফোরামের রঞ্জন দাশ শিবু।কনভেনশনের কর্মসূচিজাতীয় নাট্যশালা প্রাঙ্গণে ১১ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় কনভেনশনের উদ্বোধন করবেন সাংবাদিক ও লেখক নূরুল কবীর। উদ্বোধনের পর সংক্ষিপ্ত শোভাযাত্রা শেষে জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে উদ্বোধনী অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।উদ্বোধনী অধিবেশনে অতিথি হিসেবে থাকবেন উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতৃত্বের দীপা দত্ত, লেখক-অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ এবং কারাবরণকারী বাউলশিল্পী আবুল সরকার। বেলা একটা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত মধ্যাহ্নবিরতির পর শুরু হবে সাংগঠনিক অধিবেশন। এটি চলবে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত। এরপর সন্ধ্যা সাতটা থেকে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত থাকবে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। রাত সাড়ে আটটায় কনভেনশনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে।
বার্সেলোনা ৫ : ১ ফেইনুর্ডগোলের বন্যা যেন থামছেই না বার্সেলোনায়। লা লিগায় সর্বশেষ দুই ম্যাচে পাঁচ গোল করে জিতেছিল তারা। এবার চ্যাম্পিয়নস লিগের শুরুটাও হলো পাঁচ গোলের জয় দিয়ে। বৃষ্টিভেজা ক্যাম্প ন্যুতে ফেইনুর্ডকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে ইউরোপের মঞ্চে নতুন মৌসুম শুরু করল হান্সি ফ্লিকের দল।শুধু সর্বশেষ তিন ম্যাচেই নয়, চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত খেলা ৫টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের চারটিতেই প্রতিপক্ষের জালে পাঁচবার বল জালে পাঠিয়েছে বার্সেলোনা।আজও দুটি গোল করেছেন রাফিনিয়া, একটি করে লামিনে ইয়ামাল, গ্যাব্রিয়েল জেসুস ও করিম আদেয়েমি।রবার্ট লেভানডফস্কি চলে যাওয়ার পর গোল করার জন্য হুলিয়ান আলভারেজকে দলে ভেড়াতে কী চেষ্টাই না করেছিল বার্সেলোনা। আতলেতিকো মাদ্রিদের কারণে তা না হওয়ায় দলবদলের শেষ দিনে গ্যাব্রিয়েল জেসুসকে দলে ভিড়িয়েছে দলটি। তবে বার্সেলোনা কোচ নাম্বার নাইনের কাজটা সারছেন ‘মেকশিফট’ স্ট্রাইকার রাফিনিয়াকে দিয়ে।আবারও জোড়া গোল করেছেন রাফিনিয়াআর, একজন প্রতিষ্ঠিত স্ট্রাইকার ছাড়া মৌসুম শুরু করা সেই বার্সেলোনাই এখন একের পর এক ম্যাচের গোলের বন্যা বইয়ে দিচ্ছে। এখন পর্যন্ত লিগে খেলা চার ম্যাচেই মোট ১৭ গোল করেছে বার্সেলোনা, যার ছয়টিই রাফিনিয়া।আজ ক্যাম্প ন্যুতে ফেইনুর্ডের বিপক্ষে গোলের খাতাও খুলেছেন এই ব্রাজিলিয়ানই। তৃতীয় মিনিটে সেই গোলটি আসে ইয়ামালের পাস থেকে। ২২ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন করিম আদেয়েমি। জোয়াও কানসেলোর পাস পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের বাঁকানো শটে ফেইনুর্ড গোলরক্ষক টিয়ার্ক আর্নস্টকে পরাস্ত করেন জার্মান ফরোয়ার্ড। প্রথমার্ধে বার্সেলোনা এগিয়ে থাকে ২–০ স্কোরলাইনে।গোলের উদ্যাপনে ডিগবাজি দেন করিম আদেয়েমিবাকি তিনটি গোলই এসেছে দ্বিতীয়ার্ধে। ৫৭ মিনিটে পেদ্রির পাস ধরে রাফিনিয়া করেন দ্বিতীয় গোল। ৭৭ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে গোল করে ব্যবধান ৪-০ করেন ইয়ামাল।৮২ মিনিটে ফেইনুর্ডের সেম স্টেইন একটি গোল শোধ করলেও তিন মিনিট পরই ইয়ামালের ক্রস থেকে হেডে গোল করেন জেসুস। বার্সেলোনার হয়ে এটি তাঁর প্রথম গোল। শেষ পর্যন্ত ৫-১ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা। যে জয়ে বড় তৃপ্তি মৌসুমের প্রথম পাঁচ প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচেই ২২ গোল করার।এমবাপ্পে নাকি হলান্ড, চ্যাম্পিয়নস লিগে রোনালদোর রেকর্ড কে ভাঙবেন