জাতীয়

সংরক্ষণের অভাবে বিলুপ্ত হচ্ছে দেশি ধানের জাত

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
সংরক্ষণের অভাবে বিলুপ্ত হচ্ছে দেশি ধানের জাত
সংরক্ষণের অভাবে বিলুপ্ত হচ্ছে দেশি ধানের জাত

দেশে খাদ্যের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে উচ্চ ফলনশীল (উফশি) ধানের চাষ। বেশি ফলনের আশায় কৃষকেরা ধীরে ধীরে দেশি ও স্থানীয় জাতের ধান চাষ থেকে সরে আসছেন। এতে একদিকে উফশি ধানের আবাদ বাড়ছে, অন্যদিকে হারিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় জাতের ধান।

হাওর-বাঁওড় ও কৃষিজমি ঘেরা মৌলভীবাজারে আমন ধানের চাষই সবচেয়ে বেশি। তবে সময়ের সঙ্গে বোরো ও আউশ ধানের আবাদও বেড়েছে। জেলার তিন মৌসুমেই স্থানীয় জাতের ধানের পরিবর্তে উফশি জাতের চাষে কৃষকের আগ্রহ বেড়েছে। চলতি বছরও বোরো, আউশ ও আমন-তিন মৌসুমেই উফশি ধানের চাষ হয়েছে সবচেয়ে বেশি।

কৃষিবিদদের মতে, এসব ধানে ফলন বেশি হলেও দীর্ঘমেয়াদে জমির উর্বরতা কমছে। পাশাপাশি স্থানীয় জাত সংরক্ষণ ও সরকারি ব্যবস্থাপনায় গবেষণার ঘাটতিতে হারিয়ে যাচ্ছে দেশি জাতের ধান।

‘এ জেলায় সবচেয়ে বেশি উচ্চ ফলনশীল ধান চাষ করা হয়। কৃষকেরা আগ্রহ নিয়ে তা চাষ করেন। কৃষকেরা মনে করেন টাকা খরচ করে চাষ করছি ফলন বেশি পেতে হবে। এজন্য দেশি জাতের ধান চাষে আগ্রহ হারিয়েছেন।’

জেলার কৃষকেরা জানান, কৃষিতে ফসল বেশি পাওয়ার আসায় প্রায় সব কৃষক উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান চাষ করছেন। ধান চাষে গত কয়েকবছরে খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এজন্য কৃষকেরা যে জাতের ধান বেশি ফলন হয় এই জাতের প্রতি ঝুঁকেছেন। সরকার থেকেও উচ্চ ফলনশীল ধানের বীজ দেওয়া হয়। এক দশক আগেও দেশি জাতের প্রচুর ধান চাষ করেছেন কৃষকেরা। দেশি ধান উৎপাদন কম হলেও স্বাদ অনেক বেশি। দেশি ধানের চেয়ে উফশি ও হাইব্রিড ধানের ফলন প্রায় দ্বিগুণ। সরকারের উচিত দেশি প্রজাতির ধানকে গবেষণার মাধ্যমে উচ্চ ফলনশীল জাতে রূপান্তর করা।

আরও পড়ুন

রাবির প্লাজমা প্রযুক্তিতে ধান-আলু-বেগুনে জিংক বাড়েছে ৫৯-২০৪ শতাংশ

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাগ্রোনমি অ্যান্ড হাওর অ্যাগ্রিকালচার বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নূর হোসেন মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের দেশে ১৫ থেকে ২০ বছর আগে হাওর বা নন হাওর এলাকায় যে দেশীয় ধান চাষ করা হতো এগুলো এখন আর পাওয়া যায় না। এগুলো নিয়ে বিদেশিরা সংরক্ষণ করলেও আমাদের দেশে পুরোপুরিভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি। যদিও জিন গবেষণা কেন্দ্রে আমাদের কিছু ধান সংরক্ষণ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমি দেখেছি জার্মানে আমাদের দেশীয় লোকাল প্রজাতির কয়েক হাজার জাতের ধান সংরক্ষণ করা আছে। তারা নিয়মিত এগুলো নিয়ে গবেষণা করে। তবে আমাদের দেশে এগুলো নিয়ে গবেষণা কম হয়। আমাদের দেশীয় জাতের ধানে পুষ্টি ও স্বাদ অনেক বেশি এছাড়া জলবায়ুর সঙ্গে ঠিকে থাকতে পারে। হাইব্রিড ধানের উৎপাদন বেশি দেশীয় ধানের চেয়ে। দেশীয় ধান প্রতি একর জমিতে যা উৎপাদন হয় এরচেয়ে দ্বিগুণ বেশি উফশি ও হাইব্রিড ধান উৎপাদন হয়। এতে কৃষকেরা লাভবান হন।

ড. মোহাম্মদ নূর হোসেন মিয়া বলেন, আমাদের দেশে দেশীয় ধানের নম্বর রেজিস্ট্রার এবং বীজ সংরক্ষণের অভাবে তা বিলুপ্ত হচ্ছে। উন্নত দেশে জার্মপ্লাজম সেন্টারে গবেষণা করে বীজ সংরক্ষণ করে। আমাদের দেশি ধান গবেষণা করে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। দেশি জাতের কয়েক হাজার প্রজাতির ধান ছিল, এখন আর নেই।

‘আমাদের দেশে স্থানীয় জাতের ধান নিয়ে ব্যাপকভাবে গবেষণা করা প্রয়োজন। দেশীয় জাতের ধান গবেষণার মাধ্যমে যদি একটু ফলন বাড়ানো যায় তাহলে কৃষকেরা আগ্রহ নিয়ে তা চাষ করবেন। গ্রামের বড় ও মাঝারি কৃষকেরা শতশত বিঘা জমিতে ধান চাষ করেন। তাদের হাতে দেশীয় জাতের ধানের বীজ দিলে আগ্রহ নিয়ে কিছু জমিতে হলেও ধান চাষ করবেন। উচ্চ ফলনশীল বা হাইব্রিড জাতের ধান চাষের কারণে জমির উর্বরতাও কমে যায়। দেশীয় জাতের ধানগুলো যেনো একেবারে হাঁড়িয়ে না যায় এজন্য সরকারের উচিত ব্যাপকভাবে গবেষণা করা।’

মৌলভীবাজার কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ৯৮ হাজার ৩০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ২৯৫ হেক্টর জমিতে দেশি স্থানীয় জাতের ধান ও ১৭৫ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড জাতের ধান চাষ করা হয়েছে। বাকি জমিতে উফশি ধান চাষ করা হয়েছে। দেশীয় ধানের চেয়ে উফশি জাতের ধানে খরচ একটু বেশি হলেও ফসল উৎপাদন হয় কয়েক গুণ বেশি। বিশেষ করে কৃষকেরা উচ্চ ফলনশীল ব্রি ধান ১২২, ৯৮, ২৮, ২৯ সহ বিভিন্ন জাতের ধান বেশি চাষ করছেন। এতে করে কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন।

আরও পড়ুন

চর জাগে-বসতি গড়ে, ভোগান্তি কাটে না ৩০ হাজার মানুষের

জেলার বিভিন্ন উপজেলার বিস্তীর্ণ আমন ফসলের মাঠ ঘুরে দেখা যায়, চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধান গাছ কালচে রঙ ধারণ করেছে। পুরো ফসলের মাঠ কৃষকেরা অধিক লাভের আসায় উচ্চ ফলনশীল (উফশি) ধান চাষ করছেন। বেশিরভাগ কৃষকেরা বাজারের কৃষিঘর নামে দোকান থেকে বীজ কিনে রোপণ করেছেন। হাতেগোনা কয়েকজন কৃষক ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য অল্পসংখ্যক জমিতে দেশি জাতের ধান চাষ করছেন। ধান কাটা ও মাড়াই পর্যন্ত আবহাওয়া ভালো থাকলে ফলন ভালো হওয়ার আশা করছেন। দেশি ধান একর প্রতি ৩৫-৪০ মণ পাওয়া গেলে উফশি বা হাইব্রিড ধান ৭০-৮০ মণ পাওয়া যায়। উচ্চ ফলনশীল জাতে ফলন বেশি হওয়ায় এসব জাত চাষে কৃষকের আগ্রহ বেশি।

কৃষক সাদিকুর রহমান, রেজওয়ান মিয়া জানান, একদশক আগেও ব্যাপকভাবে চিনিগুঁড়া ও কালজিরা, বিন্নি, শালি, ফুল বালাম, লক্ষ্মীবিলাস, লোহাজাং, পাইজম, লালচল্লিশসহ শতশত দেশীয় জাতের ধান চাষ করেছেন তারা। যখন এসব ধান চাষ করতেন তখন পরের বছর আবার চাষের জন্য এসব ধানের বীজ সংরক্ষণ করতেন। তবে ধীরে ধীরে সবকিছু হারিয়ে গেছে।

তারা আরও জানান, এখন হাতে গোনা কয়েকজন কৃষক শখ করে বিন্নি বা কালজিরা ধান চাষ করছেন, তাও হয়তো মাত্র কয়েক শতক জমিতে। সব কৃষক এখন অধিক ফলনের আশায় উচ্চ ফলনশীল জাত চাষ করছেন। এতে করে কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন। সবমিলিয়ে কৃষকেরা দেশীয় জাতের ধান চাষে আগ্রহ হারিয়েছেন। বাজারে বা সরকার থেকে হাইব্রিড বা উফশি জাতের ধানের বীজ দেওয়া হয় চাষের জন্য।

জেলার রাজনগর উপজেলার কৃষক মিজান আহমেদ বলেন, আমি নিজে থেকেই অনেক চেষ্টা করছি দেশি জাতের ধান চাষ করার জন্য। তবে বীজ সংরক্ষণ করতে পারিনি। এখন শখের বসে ১৫ শতক জায়গায় সুগন্ধি কালজিরা বা স্থানীয়ভাবে (নি ধান) বলে এসব চাষ করি। এই জায়গায় দেড় থেকে দুই মণ ধান চাষ হয়। স্থানীয় বাজারে ১০০ থেকে ১২০ টাকা প্রতি কেজি চাল বিক্রি করা যায়। আমরা চাই দেশি জাতের অন্তত কিছু জাত রূপান্তর করে কৃষকদের মধ্যে বীজ দেওয়া হোক।

আরও পড়ুন

ম্যানগ্রোভ বন ঘেঁষে রেস্তোরাঁ নির্মাণ, হুমকিতে গঙ্গামতির জীববৈচিত্র্য

কৃষক আদিল আহমেদ বলেন, আমরা প্রতি বছর আমন, বোরো ও আউশধান চাষ করি। আমাদের প্রায় ৪০ একর জমি আছে। কৃষিতে খরচ অনেক বেড়ে গেছে। এজন্য দেশি জাতের ধান চাষ করে পোষায় না। দেশি ধানের চেয়ে দ্বিগুণ ফলন হয় উফশি জাতের ধানে। আমরা নিজেদের খাওয়ার জন্য কালজিরা ও বিন্নি কিছু জমিতে চাষ করি। এছাড়া আর কোনো দেশীয় জাতের ধান চাষ করি না। আমরাও চাই দেশি প্রজাতির ধান চাষ করতে। তবে ফলন কম ও খরচ বিবেচনা করে তা আর করা হয় না। দেশীয় জাতের বীজ যদি রুপান্তর করে উচ্চ ফলনশীল করা যেতো তাহলে হয়তো আবার আমরা দেশীয় জাতের ধান চাষ করতে আগ্রহী হতাম।

‘আমাদের দেশে দেশীয় ধানের নম্বর রেজিস্ট্রার এবং বীজ সংরক্ষণের অভাবে তা বিলুপ্ত হচ্ছে। উন্নত দেশে জার্মপ্লাজম সেন্টারে গবেষণা করে বীজ সংরক্ষণ করে। আমাদের দেশি ধান গবেষণা করে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। দেশি জাতের কয়েক হাজার প্রজাতির ধান ছিল, এখন আর নেই।’

কৃষিবিদ শাকের আহমেদ বলেন, আমাদের দেশে স্থানীয় জাতের ধান নিয়ে ব্যাপকভাবে গবেষণা করা প্রয়োজন। দেশীয় জাতের ধান গবেষণার মাধ্যমে যদি একটু ফলন বাড়ানো যায় তাহলে কৃষকেরা আগ্রহ নিয়ে তা চাষ করবেন। গ্রামের বড় ও মাঝারি কৃষকেরা শতশত বিঘা জমিতে ধান চাষ করেন। তাদের হাতে দেশীয় জাতের ধানের বীজ দিলে আগ্রহ নিয়ে কিছু জমিতে হলেও ধান চাষ করবেন। উচ্চ ফলনশীল বা হাইব্রিড জাতের ধান চাষের কারণে জমির উর্বরতাও কমে যায়। দেশীয় জাতের ধানগুলো যেনো একেবারে হাঁড়িয়ে না যায় এজন্য সরকারের উচিত ব্যাপকভাবে গবেষণা করা।

মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দীন বলেন, এ জেলায় সবচেয়ে বেশি উচ্চ ফলনশীল ধান চাষ করা হয়। কৃষকেরা আগ্রহ নিয়ে তা চাষ করেন। কৃষকেরা মনে করেন টাকা খরচ করে চাষ করছি ফলন বেশি পেতে হবে। এজন্য দেশি জাতের ধান চাষে আগ্রহ হারিয়েছেন।

তিনি বলেন, যত সময় যাচ্ছে ততই আমাদের দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। খাদ্যের অভাব দূর করার জন্য উৎপাদন বাড়াতে হবে। একটা সময় জনসংখ্যা কম ছিল মানুষ দেশি জাতের ধান চাষ করেছেন। এখন উৎপাদন বাড়ানো খুবই প্রয়োজন।

এনএইচআর

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
মেট্রোরেলের পিলারে ফাটলের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
মেট্রোরেলের পিলারে ফাটলের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

মেট্রোরেলের পিলারে ফাটল ও বিয়ারিং প্যাডে ত্রুটির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে একনেক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বস্তুত এই যে এমআরটির লাইন সিক্সের যে অবস্থা, সেটার তদন্ত করা হচ্ছে এবং এটা এটা যেন দ্রুত নিরাপদ এবং নির্ভরযোগ্যতার জায়গায় আমরা নিতে পারি সে বিষয়ে কাজ করা হচ্ছে। এখানে যদি কোনো ত্রুটি কিংবা গাফিলতি কিংবা অবহেলা কিংবা কোনো দুর্নীতির কারণে এ ধরনের মানে দুর্বলতাগুলো তৈরি হয়ে থাকে, তাহলে তার জবাবদিহি নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা হবে। আরও পড়ুন সংসদে মন্ত্রী / মেট্রোরেলের ২৭ বিয়ারিং প্যাড ক্রিটিক্যাল, ৪৬ পিয়ারে ফাটল তিনি বলেন, মেট্রোরেলের ক্ষেত্রে যে কয়েকটি বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে আসছে, সেটা হচ্ছে কোয়ালিটি। বর্তমান সরকারের প্রধান গুরুত্বের জায়গা হচ্ছে যে আমরা বিপুল অর্থ ব্যয় করছি, কিন্তু একটা কোয়ালিটি সার্ভিস যেন আমরা পাই। দুই নম্বর জিনিস হচ্ছে যে, এই কোয়ালিটি সার্ভিসটা মেইনটেইন করার ক্ষেত্রেও এই যারা মানে অর্থ জোগানকারী প্রতিষ্ঠান এবং যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত মানে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান, তাদের এখানে একটা কমপ্লায়েন্সে আনা হবে। ‘তিন নম্বর হচ্ছে, যেহেতু আন্ডারগ্রাউন্ড জায়গাটা আছে—যেটা হিসাবটা আগে ধরা হয়নি—ঝুঁকি। ঝুঁকি মানে হচ্ছে যতটুকু আন্ডারগ্রাউন্ড আছে, সেই আন্ডারগ্রাউন্ডের ওপরে যে আমাদের স্থাপনা, বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে অফিস-বিল্ডিং, রাস্তাঘাট সবকিছু, ওইখানে যদি কোনো অংশে ফাটল ধরে, কোনো দুর্ঘটনা হয়, তাহলে এই প্রতিষ্ঠানগুলো কিন্তু সেটার ক্ষতিপূরণ শুধু না, ওইটার রিপেয়ারমেন্ট থেকে শুরু করে সবকিছুর দায় নেবে; এবং এটা তিন বছরব্যাপী এই জিনিসটা তাদের থাকবে, বিশেষ করে ইয়ের... ক্ষেত্রে।’ মেট্রোরেল প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনেকগুলো দিক নতুন নতুন সংযোজন হয়েছে। যেসব সংযোজনের ফলে একদিকে যেমন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে, কিন্তু অন্যদিকে নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিগত জায়গাতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আমাদের বর্তমান সরকারের একটা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হচ্ছে যে প্রযুক্তি স্থানান্তর হবে সব প্রকল্পের ক্ষেত্রে একটা গুরুত্বপূর্ণ ক্রাইটেরিয়া। ‘প্রযুক্তি স্থানান্তরের ব্যবস্থাটা প্যারালালি আমরা কীভাবে শুরু করতে পারবো, অর্থাৎ আমাদের কেবল জনবলের দিক থেকে নয়, প্রাতিষ্ঠানিকভাবেও প্রযুক্তি স্থানান্তর আমরা কীভাবে করতে পারবো, সেই জায়গাটাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনার মধ্যে আছে, যেটা নিয়ে প্যারালাল এবং সম্পূরক প্রকল্পগুলো তৈরি হবে।’ আরও পড়ুন আড়াই লাখ কোটি টাকায় হবে আরও তিন মেট্রোরেল, একনেকে অনুমোদন আন্ডারগ্রাউন্ড প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তায় তিনি বলেন, ঢাকায় জনসংখ্যার যে চাপ, তাতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে যাতায়াতের বড় অংশ আন্ডারগ্রাউন্ডে নিয়ে যাওয়া অত্যন্ত জরুরি। গণপরিবহনের এই সুবিধার ফলে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি সাশ্রয় হবে, ভ্রমণের দূরত্ব ও সময় কমবে এবং মানুষের কর্মঘণ্টা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে। প্রকল্প ব্যয় ও ঋণ সুবিধা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেরিতে প্রকল্প শুরু করার কারণে আগে যে ধরনের ঋণ সুবিধা বা কম খরচের সুবিধা পাওয়া যেত, তা এখন আর নেই। ভবিষ্যতে এই ব্যয় আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে একটি টেকনিক্যাল কমিটির পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনার পর রিপোর্ট অনুযায়ী ব্যয় কিছুটা কমিয়েছে। মেট্রোরেলের গুণগত মান ও নিরাপত্তা নিয়ে তিনি বলেন, অর্থ ব্যয়ের বিপরীতে সেবার কোয়ালিটি এবং নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করাকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে। মাটির নিচে কাজ করার সময় ওপরের বাড়িঘর বা স্থাপনায় কোনো ফাটল বা ক্ষতি হলে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সেই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং তিন বছরব্যাপী রিপেয়ারমেন্ট বা মেরামতের দায়িত্ব পালন করতে হবে। পাতাল রেলপথের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আন্ডারগ্রাউন্ডে রেলপথ অত্যন্ত জরুরি। কারণ, যে পরিমাণ জনসংখ্যা এখন ঢাকায়, তাতে তাদের চলাচলের জন্য যদি বড় অংশ আমরা আন্ডারগ্রাউন্ডে না নিতে পারি, তাহলে আসলে আমাদের পক্ষে এই ঢাকায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা একটা নাগরিক সুবিধা সংক্রান্ত শহরে পরিণত করা যাবে না। আর এটা মনে রাখা দরকার যে, এটা কিন্তু একটা গণপরিবহন। ‘তো সব বিবেচনায় যে, এই যে গণপরিবহনের যে সুবিধা, নাগরিকদের যে সুবিধা, এর ফলে যে ধরেন, যে পরিমাণ সাশ্রয় করবে দীর্ঘমেয়াদে...অর্থাৎ আপনি ডিজেল বলেন, তেলে বলেন, সেটারও একটা হিসাব বের করে দেখানো হয়েছে—একেকটা প্রকল্পে ৪১ হাজার টন তেল সেভ হবে। দূরত্ব কমে আসবে প্রায় ৬০০ কিলোমিটারের মতো।’ প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি আরও বলেন, মানুষের যে কর্মঘণ্টা, তাদের যে পরিমাণ জার্নি করতে হয় শহরের মধ্যে, এই সবগুলো জিনিস কমে এসে নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি, মানুষের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি—সব ক্ষেত্রে এটার ভূমিকা আছে। সেই ভূমিকার জায়গা থেকে এই বিষয়গুলো যে, আমরা হয়তো আগে প্রকল্প শুরু করলে যে ধরনের ঋণ সুবিধায় থাকতে পারতাম এবং কস্টের (খরচ) সুবিধায় থাকতে পারতাম, সেটা এই মুহূর্তে এসে বাস্তবতা দাঁড়িয়েছে যে, আমরা সেই ঋণ সুবিধাতেও নাই, কস্টের সুবিধাতেও নাই। কিন্তু অবস্থাটা আবার এরকম দাঁড়িয়েছে যে, আমরা আরও যদি মানে সামনের দিকে যাই, তাহলে হচ্ছে আমাদের এই... এই ঋণ সুবিধাও বর্তমানে, আজ এই মুহূর্তে আজকের দিনে যেটা সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে সেটাও পাওয়া যাবে না এবং কস্ট আরও বাড়তে থাকবে। এমওএস/ইএ

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
বিশ্বমানের মানবসম্পদ গড়তে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ

বিশ্বমানের মানবসম্পদ গড়তে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ

জামিন না পেয়ে এজলাসে গালিগালাজ, পুলিশের ওপর হামলা

জামিন না পেয়ে এজলাসে গালিগালাজ, পুলিশের ওপর হামলা

চামড়া খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণে বৈঠক, ইতালি সফরের প্রস্তাব রাষ্ট্রদূতের

চামড়া খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণে বৈঠক, ইতালি সফরের প্রস্তাব রাষ্ট্রদূতের

আগামী বছর ঢাকা–নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট চালুর লক্ষ্য
আগামী বছর ঢাকা–নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট চালুর লক্ষ্য

আগামী বছর ঢাকা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) বিমানবন্দরে সরাসরি ফ্লাইট চালুর লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। এ জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) ইন্টারন্যাশনাল এভিয়েশন সেফটি অ্যাসেসমেন্ট (আইএএসএ) ক্যাটাগরি-১ স্ট্যাটাস গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। আজ বুধবার সচিবালয়ে নিজের কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে মন্ত্রী এ কথা বলেন। মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, দুই দেশের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিকের যাতায়াতের সুবিধা বিবেচনায় সরকার আগামী বছর ঢাকা–নিউইয়র্ক (জেএফকে) রুটে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার লক্ষ্যে কাজ করছে।যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে এফএএর আইএএসএ ক্যাটাগরি-১ স্ট্যাটাস গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।সাক্ষাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা হয়। মন্ত্রী বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকে বিশ্বখ্যাত লিগ্যাসি এয়ারলাইনস হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নতুন উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি এরই মধ্যে করা হয়েছে।এসব উড়োজাহাজের সরবরাহ দ্রুত করার ওপর গুরুত্ব দেন রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেন, বোয়িং কোম্পানির তৈরি উড়োজাহাজের ডেলিভারির সময় দ্রুত করা অত্যন্ত জরুরি।বিমান খাতের উন্নয়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও রাষ্ট্রদূতকে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার দেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। আকাশপথে যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নে এভিয়েশন মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নের কাজ চলছে।বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের অংশ হিসেবে সম্প্রতি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অত্যাধুনিক এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম উদ্বোধন করা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। পাশাপাশি বগুড়ায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন রশিদুজ্জামান মিল্লাত।ফ্লাইট চালুতে সহযোগিতা করবে যুক্তরাষ্ট্রসাক্ষাতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বলেন, বাংলাদেশের এভিয়েশন হাব হওয়ার অগ্রযাত্রায় যুক্তরাষ্ট্র পাশে আছে। ঢাকা–নিউইয়র্ক রুটে ফ্লাইট চালুর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের সহযোগিতা করবে বলেও তিনি জানান।বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাতের উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীরা আগ্রহী বলেও জানান রাষ্ট্রদূত। দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটুট থাকবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।সাক্ষাতে পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ায় এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে শুভেচ্ছা জানান ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের পর্যটন খাত নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়।এ সময় মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার। দেশের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন স্পটকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে উন্নীত করতে বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করছে বর্তমান সরকার। পাশাপাশি বাংলাদেশের পর্যটন খাতের প্রচারে রাষ্ট্রদূতের বিভিন্ন পর্যটন স্পট সফরের বিষয়েও আলোচনা হয়।

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
শাপলা চত্বরের মামলায় হাসিনা, আজিজসহ পলাতক ৩০ আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের আদেশ

শাপলা চত্বরের মামলায় হাসিনা, আজিজসহ পলাতক ৩০ আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের আদেশ

নাইকির স্নিকার্সের ট্রেন্ডি লুকে পোপ লিও এলেন ভ্যানিটি ফেয়ারের ‘বেস্ট ড্রেসড’-এর তালিকায়

নাইকির স্নিকার্সের ট্রেন্ডি লুকে পোপ লিও এলেন ভ্যানিটি ফেয়ারের ‘বেস্ট ড্রেসড’-এর তালিকায়

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে শ্রীলঙ্কার সাবেক ফার্স্ট লেডিকে তলব

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে শ্রীলঙ্কার সাবেক ফার্স্ট লেডিকে তলব

মোবাইলের চ্যাট-হিসাবে মিললো সাড়ে ৭২ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির তথ্য
মোবাইলের চ্যাট-হিসাবে মিললো সাড়ে ৭২ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির তথ্য

মোবাইল ফোনের চ্যাট হিস্ট্রি, বিক্রয়সংক্রান্ত গোপন মেসেজ ও হিসাবের ছবি বিশ্লেষণ করে সিগারেট উৎপাদনকারী একটি প্রতিষ্ঠানের প্রায় সাড়ে ৭২ কোটি টাকার ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক ফাঁকির তথ্য উদঘাটন করেছে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২ সেপ্টেম্বর গাজীপুরের ভার্গো টোব্যাকো লিমিটেডে এ আকস্মিক অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন দলিলাদি ও তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করে ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের ঢাকার প্রিভেন্টিভ টিম। পরে জব্দ করা মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করে রাজস্ব ফাঁকির এসব তথ্য পাওয়া যায়। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের দুটি টিম একযোগে সিগারেট কারখানা এবং এর কাছাকাছি একটি গুদামে অভিযান চালায়। এসময় কারখানার গেট বাইরে থেকে বন্ধ থাকলেও ভেতরে উৎপাদন কার্যক্রম চলছিল। বারবার গেট খুলতে বলা হলেও কেউ সাড়া না দেওয়ায় গোয়েন্দা দলের সদস্যরা দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করেন। এনবিআর জানায়, কারখানার ভেতরে গিয়ে গোয়েন্দা দল সিগারেট উৎপাদনের কার্যক্রম দেখতে পায়। এসময় কারখানা চত্বরে ধোঁয়া দেখে সেখানে গিয়ে ব্যবহৃত ব্যান্ডরোল ও নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট পোড়ানোর বিষয়টি দেখতে পান কর্মকর্তারা। সংস্থাটি জানায়, পোড়ানো সিগারেটের দলিলাদি দেখতে চাইলে সংশ্লিষ্টরা তা দেখাতে পারেননি। এ ধরনের সিগারেট ও ব্যান্ডরোল পোড়ানোর জন্য বিভাগীয় কর্মকর্তার অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি বলে তারা জানান। পরে প্রতিষ্ঠানটির জেনারেল ম্যানেজার লিখিত বিবৃতিতে আনুমানিক ৫০ লাখ শলাকা নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট পোড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। গোয়েন্দা দল পোড়া ব্যান্ডরোলের অবশিষ্টাংশ আলামত হিসেবে জব্দ করে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অভিযানে কারখানা এবং তৎসংলগ্ন গুদাম ও আবাসিক ভবনে তল্লাশি চালিয়ে ব্যবহৃত স্ট্যাম্প/ব্যান্ডরোল, সিগারেট উৎপাদনের বিভিন্ন কাঁচামাল ও তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। এসময় কিছু বিদেশি ব্র্যান্ডের সিগারেটের নমুনা ও খালি প্যাকেটও পাওয়া যায়। এসব বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান চলছে। ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানায়, প্রাথমিক অনুসন্ধান ও জব্দ করা আলামত পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি বৈধ স্ট্যাম্প/ব্যান্ডরোল ব্যবহারের পাশাপাশি ব্যবহৃত স্ট্যাম্প/ব্যান্ডরোল ব্যবহার করে গোপনে সিগারেট উৎপাদন ও বাজারজাত করে আসছিল। জব্দ করা মোবাইল ফোনের চ্যাট হিস্ট্রি, বিক্রয়সংক্রান্ত গোপন মেসেজ এবং হিসাবের ছবি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে অধিদপ্তরের আইটি ও সাইবার ফরেনসিক টিম। প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, কারখানাটি দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদিত সিগারেটের একটি বড় অংশ কোনো ভ্যাট চালান ছাড়াই বাজারে সরবরাহ করে আসছিল। এসব তথ্য মূল হিসাব বইয়ে গোপন রাখা হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। এনবিআর জানায়, উদ্ধার করা পণ্য ও প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, সরকারের প্রাপ্য ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বাবদ প্রায় সাড়ে ৭২ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির তথ্য উদঘাটন হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ এবং সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসএম/এমআইএইচএস

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
সরকারি ল্যাট্রিন দেওয়ার নামে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

সরকারি ল্যাট্রিন দেওয়ার নামে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

এআই কি আগামী এক দশকেই সব মানুষকে মেরে  ফেলবে

এআই কি আগামী এক দশকেই সব মানুষকে মেরে ফেলবে

গাজায় ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ধসে শিশুসহ নিহত ১৪, ধ্বংসস্তূপে চাপা ৫০ শিশুসহ প্রায় ১০০

গাজায় ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ধসে শিশুসহ নিহত ১৪, ধ্বংসস্তূপে চাপা ৫০ শিশুসহ প্রায় ১০০

0 Comments