জাতীয়

শিশুর সৃজনশীলতা বিকাশে শুরু হচ্ছে ‘দোলন ক্রিয়েটিভ ভিশন’

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
শিশুর সৃজনশীলতা বিকাশে শুরু হচ্ছে ‘দোলন ক্রিয়েটিভ ভিশন’
শিশুর সৃজনশীলতা বিকাশে শুরু হচ্ছে ‘দোলন ক্রিয়েটিভ ভিশন’

শিশু-কিশোরদের সৃজনশীলতা, পর্যবেক্ষণ শক্তি, কল্পনাশক্তি ও শিল্পচর্চাকে উৎসাহিত করতে শিশুদের পত্রিকা দোলন আয়োজন করছে ‘দোলন ক্রিয়েটিভ ভিশন ২০২৬’। চিত্রশিল্প ও মোবাইল ফটোগ্রাফিকে সমন্বয় করে আয়োজিত এ বিশেষ কর্মশালায় ৫ম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করতে পারবে।

আগামী ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বাংলা একাডেমিতে বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে মূল কর্মশালা। প্রথম দিন মোবাইল ফটোগ্রাফি এবং দ্বিতীয় দিন চিত্রশিল্পের বেসিক বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

কর্মশালায় শিক্ষার্থীদের শুধু ছবি আঁকা কিংবা ছবি তোলার কৌশল শেখানো হবে না; বরং চারপাশের পরিবেশকে কীভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হয়, বিষয় নির্বাচন, ফ্রেমিং, কম্পোজিশন, আলো-ছায়া, রং, আকার, গভীরতা ও দৃষ্টিভঙ্গির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কেও ধারণা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে মোবাইল ক্যামেরাকে কীভাবে সৃজনশীল কাজে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়েও থাকবে হাতেকলমে শেখার সুযোগ।

আরও পড়ুন

বিশ্বব্যাপী শিশু-কিশোরদের মেধা কি কমছে?

কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে থাকবেন আলোকচিত্র শিল্পী ও মোশন গ্রাফিক্স ডিজাইনার অনুপ রায় এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির চিত্রাংকন ও সৃজন প্রশিক্ষক তানজিমা তাবাচ্ছুম এশা।

বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে আগামী ১০ অক্টোবর ঢাকার লালবাগ কেল্লায় অনুষ্ঠিত হবে ‘আউটডোর ক্রিয়েটিভ ডে’। সেখানে শিক্ষার্থীরা দলভিত্তিক বিভিন্ন দৃশ্য, স্থাপত্য, প্রকৃতি, আলো-ছায়া ও পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করে মোবাইলে ছবি তুলবে। পরে নিজের তোলা ছবিকে ভিত্তি করে বাসায় ছবি আঁকবে এবং সেই শিল্পকর্ম দোলনের কাছে জমা দেবে।

আয়োজকদের মতে, ছবি শুধু তোলা নয়—ছবি দেখার অভ্যাসও একটি সৃজনশীল শিক্ষা। তথ্যপ্রযুক্তির এই সময়ে শিশুদের মোবাইল ফোন ব্যবহার পুরোপুরি বাদ দেওয়া সম্ভব নয়। তাই মোবাইলকে শুধু বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে না দেখে এর সৃজনশীল ও ইতিবাচক ব্যবহার শেখানোই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।

আরও পড়ুন

শিশুর লেখাপড়ার হাতেখড়িতে মায়ের করণীয়

দোলন পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক কামাল মুস্তাফা বলেন, ‌‘শিশুরা যেন আনন্দের সঙ্গে শিখতে পারে, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য। বর্তমানে শিশুরা মোবাইল ফোনের প্রতি অনেক বেশি আকৃষ্ট হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তির যুগে মোবাইল থেকে তাদের পুরোপুরি দূরে রাখাও সম্ভব নয়। তাই তারা যেহেতু মোবাইল ব্যবহার করছে, আমরা চাই সেই মোবাইল দিয়েই তারা সৃজনশীল কিছু শিখুক—ছবি তুলুক, ছবি দেখুক এবং ছবি আঁকুক।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এই আয়োজনের মাধ্যমে শিশুরা শুধু ফটোগ্রাফি ও চিত্রশিল্প শিখবে না, তারা বাইরে গিয়ে প্রকৃতি, স্থাপত্য ও চারপাশের পরিবেশকে নতুনভাবে দেখার সুযোগ পাবে। বিশেষ করে লালবাগ কেল্লা আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেখানে গিয়ে শিশুরা ছবি তুলবে, জায়গাটিকে দেখবে, জানবে এবং সেই অভিজ্ঞতা থেকেই শিল্পকর্ম তৈরি করবে। আমরা চাই প্রযুক্তির সঙ্গে শিল্প, আনন্দের সঙ্গে শিক্ষা এবং শিশুদের সঙ্গে আমাদের ঐতিহ্যের একটি সুন্দর সংযোগ তৈরি হোক।’

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য থাকবে নোটবুক, পেন ও টিফিন। কর্মশালা শেষে প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীকে সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে। কর্মশালায় অংশগ্রহণ ও রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানতে হোয়াটসঅ্যাপে ০১৭৫৮৮৩৩০৭৫ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। রেজিস্ট্রেশনের শেষ সময় ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

এসইউ

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
হজ এজেন্সির কাছে জমা দেওয়া টাকার জাকাত দিতে হবে?
হজ এজেন্সির কাছে জমা দেওয়া টাকার জাকাত দিতে হবে?

প্রশ্ন: হজের জন্য টাকা জমা রাখলে ওই টাকার জাকাত দিতে হয় বলে জানি। প্রশ্ন হলো, হজের জন্য যে টাকা হজ এজেন্সিকে দিয়ে দিয়েছি, হজে যাওয়ার আগ পর্যন্ত কি ওই টাকার জাকাত দিতে হবে? উত্তর: যে টাকা হজের খরচ বাবদ হজ্ব এজেন্সির কাছে জমা দেওয়া হয়েছে, ওই টাকার জাকাত আপনাকে দিতে হবে না। কারণ আপনি এখনও হজে না গেলেও আপনার টাকা জমা দেওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট সার্ভিস দেওয়ার শর্তে ওই টাকার মালিক এজেন্সি হয়ে যায়। তাই ওই টাকার জাকাত আর আপনার ওপর আসবে না। কেউ যদি ভবিষ্যতে হজ্বে যাওয়ার নিয়তে নিজের কাছেই টাকা জমা রাখে এবং তা নেসাব পরিমাণ হয় এবং নেসাব পরিমাণ টাকা এক বছর ধরে জমা থাকে, তাহলে ওই টাকার জাকাত আদায় করতে হবে। জাকাত ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম ও গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। কোনো প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থবুদ্ধিসম্পন্ন মুসলিম ব্যক্তির মালিকানায় শরিয়ত নির্ধারিত সীমার বেশি সম্পদ হিজরি ১ বছর ধরে কারো কাছে থাকলে তাকে সম্পদশালী গণ্য করা হয় এবং তার বর্ধনশীল সম্পদের ২.৫ শতাংশ বা ১/৪০ অংশ দান করতে হয়। আরও পড়ুন অগ্রিম জাকাত আদায়ের বিধান জাকাত ওয়াজিব হয় বর্ধনশীল সম্পদের ওপর যা ৪ ধরনের হয়ে থাকে:  ১. স্বর্ণ ২ রৌপ্য ৩. ব্যবসায়িক পণ্য  ৪. নগদ অর্থ কেউ যদি এক বছর ধরে নেসাব পরিমাণ বর্ধনশীল সম্পত্তি অর্থাৎ ৭ তোলা বা ৮৭.৪৫ গ্রাম বা এর বেশি স্বর্ণ অথবা সাড়ে ৫২ তোলা বা ৬১২.৩৫ গ্রাম রৌপ্যের মালিক থাকে অথবা ৮৭.৪৫ গ্রাম বা এর বেশি স্বর্ণের মূল্যের সমপরিমাণ নগদ অর্থ তার কাছে থাকে, তাহলে ইসলামের দৃষ্টিতে সে সম্পদশালী ব্যক্তি গণ্য হবে এবং তার ওপর জাকাত ওয়াজিব হবে। নগদ অর্থ, স্বর্ণ/ রৌপ্য বা ব্যবসায়ের সম্পদ যেদিন নেসাব পর্যায়ে পৌঁছাবে, সেদিন থেকেই জাকাতের বর্ষগণনা শুরু হবে। জাকাতের বর্ষ পূর্ণ হওয়ার দিনে ওই ব্যক্তির মালিকানায় যে পরিমাণ বর্ধনশীল সম্পদ অর্থাৎ নগদ অর্থ, ব্যবসায়ের সম্পদ, স্বর্ণ বা রৌপ্য থাকবে, তার ৪০  ভাগের ১ ভাগ বা ২.৫ শতাংশ জাকাত হিসেবে দান করে দিতে হবে। কেউ এক বছর ধরে নেসাব পরিমাণ সম্পত্তির মালিক থাকলে নিজের মালিকানাধীন সমুদয় বর্ধনশীল সম্পদের জাকাত দিতে হবে; শুধু যে সম্পদ এক বছর ধরে তার কাছে রয়েছে ওই সম্পদের নয়। সে বছরের শেষে বা মাঝামাঝি সময়ে কিছু অর্থ বা স্বর্ণ লাভ করে থাকলে তাও জাকাতের হিসেবে যুক্ত হবে। মানুষের স্থাবর সম্পত্তি যেমন জমি, বাড়ি ইত্যাদির ওপরও জাকাত ওয়াজিব হয় না যদি সেগুলো ব্যবসার পণ্য না হয়। একইভাবে যে গাড়ি বা বাড়ি ভাড়া দেওয়া হয়, ওই গাড়ি বা বাড়িরও জাকাত দিতে হয় না। যেহেতু সেগুলো অর্থ আয়ের মাধ্যম হলেও ব্যবসার পণ্য নয়। আরও পড়ুন শাড়ি বা লুঙ্গি দিয়ে জাকাত দেওয়া যাবে কি? ওএফএফ

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
আরএফএল গ্রুপে নিয়োগ, ৪০ বছর বয়সেও আবেদনের সুযোগ

আরএফএল গ্রুপে নিয়োগ, ৪০ বছর বয়সেও আবেদনের সুযোগ

বাড়িতে ইলিশ মাছের কাঁটা ছাড়াবেন যেভাবে

বাড়িতে ইলিশ মাছের কাঁটা ছাড়াবেন যেভাবে

এলএনজিতে ভর করে গ্যাসের সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে

এলএনজিতে ভর করে গ্যাসের সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে

তন্ময়ের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন মাঝপথেই থামিয়ে দিলো ডেঙ্গু
তন্ময়ের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন মাঝপথেই থামিয়ে দিলো ডেঙ্গু

এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ২০ বছর বয়সি শাকিবুল ইসলাম তন্ময়। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিতে ঢাকায় ভর্তি কোচিংও শুরু করেছিলেন। তবে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে অকালে মারা গেলেন এই মেধাবী তরুণ। তন্ময় চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার বেলগাছি গ্রামের তারিকুল ইসলামের ছেলে। ঢাকায় থাকা অবস্থায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হলে তিনি বাড়ি ফিরে আসেন। পরে তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। রাজশাহীতে নেওয়ার পথে নাটোরের লালপুর এলাকায় দুপুর আড়াইটার দিকে তার মৃত্যু হয়। তন্ময়ের স্বজনরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন নিয়ে ঢাকায় ভর্তি কোচিং করছিলেন তিনি। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন, সহপাঠী ও বন্ধুবান্ধবের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে চুয়াডাঙ্গার জান্নাতুল মাওলা কবরস্থান মসজিদে তন্ময়ের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে সেখানেই তাকে দাফন করা হয়। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস বলেন, তন্ময় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন। সদর হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহীতে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি জেনেছেন। হুসাইন মালিক/এফএ

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
‘জীবনে উত্থান-পতন আসবেই’, হঠাৎ কেন এই বার্তা দিলেন পূর্ণিমা

‘জীবনে উত্থান-পতন আসবেই’, হঠাৎ কেন এই বার্তা দিলেন পূর্ণিমা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একনেক সভা শুরু

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একনেক সভা শুরু

শিক্ষিকা রনজিনা হত্যা: মোটরসাইকেল-ভ্যানিটি ব্যাগসহ গ্রেফতার ২

শিক্ষিকা রনজিনা হত্যা: মোটরসাইকেল-ভ্যানিটি ব্যাগসহ গ্রেফতার ২

জনপ্রতিনিধির অভাবে ভোগান্তিতে রাজশাহীর ৭২ ইউনিয়নের মানুষ
জনপ্রতিনিধির অভাবে ভোগান্তিতে রাজশাহীর ৭২ ইউনিয়নের মানুষ

নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির অনুপস্থিতিতে ইউনিয়ন পরিষদের সেবা কার্যক্রমের গতি কমে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলার সাধারণ মানুষ। ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত চেয়ারম্যান বা সদস্যকে না পেয়ে অনেককেই ফিরে যেতে হচ্ছে। ছোটখাটো বিরোধ নিষ্পত্তি, নাগরিক সনদ, বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্রসহ প্রয়োজনীয় সেবা পেতে একাধিকবার পরিষদে যেতে হচ্ছে অনেক নাগরিককে। কোথাও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা কর্মচারীরা উপস্থিত থাকলেও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অনুপস্থিতিতে অনেক সেবা আগের মতো সহজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দীর্ঘ সময় ধরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন না হওয়ায় রাজশাহীর ৯টি উপজেলার ৭২টি ইউনিয়ন পরিষদে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। প্রশাসনিকভাবে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম চালু থাকলেও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অনুপস্থিতিতে জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, স্থানীয় পর্যায়ে জবাবদিহি এবং ছোটখাটো সমস্যা ও বিরোধ নিষ্পত্তির স্বাভাবিক ব্যবস্থায় দুর্বলতা দেখা দিয়েছে। ফলে গ্রামীণ মানুষের কাছে সবচেয়ে কাছের সরকারি প্রতিষ্ঠান ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে অনেকেই কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে আগের চেয়ে বেশি সময় ও অর্থ ব্যয় করছেন। তবে জনপ্রতিনিধি সংকটের মধ্যেও গ্রাম আদালতের কার্যক্রম তুলনামূলকভাবে সচল রয়েছে। রাজশাহী জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৭২টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে বর্তমানে ৬৭টিতে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম চালু রয়েছে। বাকি পাঁচটি ইউনিয়নে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম নেই। ফলে অধিকাংশ ইউনিয়নে স্থানীয় পর্যায়ে ছোটখাটো দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ নিষ্পত্তির কার্যক্রম ধীরগতিভাবে হলেও অব্যাহত রয়েছে। ‌‌‘চে‌য়ারম্যান না থাকায় ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান অথবা দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউপি সদস্যের মাধ্যমে গ্রাম আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। ফলে জনপ্রতিনিধি সংকটের মধ্যেও অধিকাংশ ইউনিয়নে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম চালু রয়েছে।’ জেলা প্রশাসনের মতে, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত রাজশাহীর সক্রিয় গ্রাম আদালতগুলোতে মোট ৯ হাজার ৩৪৯টি মামলা এসেছে। এর মধ্যে আগের অপেক্ষমাণ মামলা ছিল ৩৩৭টি। ইউনিয়ন পরিষদে নতুন করে দায়ের হয়েছে ৮ হাজার ৪১৮টি মামলা। এছাড়া জেলা আদালত থেকে গ্রাম আদালতে পাঠানো হয়েছে ৫৯৪টি মামলা। এসব মামলার মধ্যে ৯ হাজার ২০৮টি নিষ্পত্তি হয়েছে। আর ১৪১টি মামলা এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। এদিকে জনপ্রতিনিধি সংকটের মধ্যেও সক্রিয় গ্রাম আদালতগুলোতে আসা প্রায় ৯৮ শতাংশ মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এতে স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত ও তুলনামূলক কম খরচে বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে গ্রাম আদালতের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আরও পড়ুন শহুরে ডেঙ্গুর থাবায় আক্রান্ত প্রত্যন্ত উত্তরাঞ্চল তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু গ্রাম আদালতে মামলা নিষ্পত্তির হার দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সামগ্রিক সেবার চিত্র বোঝা যাবে না। কারণ গ্রাম আদালতের বাইরে জন্মনিবন্ধন, নাগরিকত্ব ও বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্র, স্থানীয় বিরোধের প্রাথমিক সমাধান, সরকারি সহায়তা ও বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমসহ ইউনিয়ন পরিষদের রয়েছে বহুমুখী সেবা। ‘গ্রাম আদালতকে আরও কার্যকর ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। গ্রাম আদালত পরিচালনার জন্য মন্ত্রণালয় পর্যায়ে পৃথক সেন্ট্রাল ডেস্ক, জেলা পর্যায়ে জেলা ডেস্ক এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা ডেস্ক তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পৃথক বাজেট রাখার প্রয়োজন রয়েছে।’ রাজশাহীর বিভিন্ন ইউনিয়নের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সদস্যদের অনুপস্থিতিতে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে আগের মতো সহজে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না অনেকেই। স্থানীয় কোনো সমস্যা নিয়ে আলোচনা, পারিবারিক বা সামাজিক বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ, বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ কিংবা সরকারি সেবা সম্পর্কে তথ্য জানতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির খোঁজে একাধিকবার পরিষদে যেতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সময় নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে যাতায়াতসহ নানা ধরনের অতিরিক্ত খরচও হচ্ছে। বাগমারা উপজেলার হামিরকুৎসা ইউনিয়নের বাসিন্দা জয়নাল আবেদিন বলেন, আগে ইউনিয়ন পরিষদে গেলেই চেয়ারম্যান-মেম্বারদের পাওয়া যেত। কোনো সমস্যা হলে সরাসরি তাদের সঙ্গে কথা বলা যেত। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বা স্থানীয় কোনো সমস্যা নিয়ে কার কাছে যেতে হবে, সেটিও সহজে জানা যেত। এখন অনেক ক্ষেত্রে কার কাছে গেলে সমস্যার সমাধান হবে, সেটিই বুঝতে পারেন না। স্থানীয়ভাবে যে সমস্যার সমাধান হওয়ার কথা, সেটিও অনেক কঠিন হয়ে যাচ্ছে। বাঘা উপজেলার নুরেছা বেগম বলেন, গ্রামের মানুষের জন্য রাজশাহী শহরে গিয়ে আদালতে মামলা করা সহজ না। আদালতে যেতে হলে যাতায়াতের পাশাপাশি আইনজীবীসহ বিভিন্ন খরচ রয়েছে। গ্রাম আদালত ঠিকভাবে কার্যকর থাকলে স্থানীয় পর্যায়েই অনেক বিরোধের সমাধান করা সম্ভব। এতে সাধারণ মানুষের সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হয়। ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় সাধারণ মানুষ আগের মতো সহজে নিজেদের সমস্যা নিয়ে কথা বলতে পারছেন না। অনেক সময় একটি ছোট কাজের জন্যও পরিষদে একাধিকবার যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ দুটোই নষ্ট হচ্ছে। জনগণের ভোগান্তি কমাতে সরকারকে দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ফিরিয়ে আনা উচিত। পবা উপজেলা বাসিন্দা মাহমুদুল হাসান বলেন, ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় সাধারণ মানুষ আগের মতো সহজে নিজেদের সমস্যা নিয়ে কথা বলতে পারছেন না। অনেক সময় একটি ছোট কাজের জন্যও পরিষদে একাধিকবার যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ দুটোই নষ্ট হচ্ছে। জনগণের ভোগান্তি কমাতে সরকারকে দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ফিরিয়ে আনা উচিত। আরও পড়ুন ম্যানগ্রোভ বন ঘেঁষে রেস্তোরাঁ নির্মাণ, হুমকিতে গঙ্গামতির জীববৈচিত্র্য স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকলে প্রশাসনিকভাবে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম চালু রাখা সম্ভব হলেও জনগণের অংশগ্রহণ, প্রতিনিধিত্ব ও জবাবদিহির জায়গায় ঘাটতি তৈরি হতে পারে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সরাসরি অভিযোগ ও সমস্যা শুনে স্থানীয় পর্যায়ে সমাধানের উদ্যোগ নেন। তাদের অনুপস্থিতিতে সেই সরাসরি যোগাযোগের জায়গাটি দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম চললেও জনগণের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির সম্পর্ক আগের মতো কার্যকর থাকে না। তাদের মতে, গ্রাম আদালতে বিপুলসংখ্যক মামলা নিষ্পত্তির পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে যে বিকল্প ব্যবস্থায় স্থানীয় বিচার কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া সম্ভব। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদের সামগ্রিক সেবার ক্ষেত্রে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির দীর্ঘমেয়াদি বিকল্প তৈরি করা কঠিন। তাই একদিকে গ্রাম আদালতের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, জনবল ও বাজেট নিশ্চিত করতে হবে; অন্যদিকে ইউনিয়ন পরিষদে পূর্ণাঙ্গ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিত্ব ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও জরুরি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষক ড. স্বপ্নীল রহমান বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা দায়িত্বে না থাকায় বর্তমানে বিকল্প ব্যবস্থায় কার্যক্রম চলছে। এতে প্রশাসনিকভাবে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হলেও জনগণের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের মতো সরাসরি যোগাযোগ ও সমস্যাগুলো জানার সুযোগ থাকছে না। দীর্ঘমেয়াদে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির বিকল্প তৈরি করা কঠিন। তাই সরকারকে দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন দিয়ে জনপ্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের নাগরিকরা তাদের প্রাপ্য সেবা ও অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে প্রশাসনিক কর্মকর্তারা বলছেন, নির্বাচিত চেয়ারম্যান না থাকলেও গ্রাম আদালতের কার্যক্রম যেন বন্ধ না হয়ে যায়, সে জন্য বিকল্প ব্যবস্থায় আদালতের কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান অথবা দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউপি সদস্যের মাধ্যমে গ্রাম আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। ফলে জনপ্রতিনিধি সংকটের মধ্যেও অধিকাংশ ইউনিয়নে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সচল রাখা সম্ভব হয়েছে। রাজশাহী জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা বলেন, চেয়ারম্যান না থাকায় ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান অথবা দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউপি সদস্যের মাধ্যমে গ্রাম আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। ফলে জনপ্রতিনিধি সংকটের মধ্যেও অধিকাংশ ইউনিয়নে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম চালু রয়েছে। আরও পড়ুন সঙ্গী হারালে একাকী জীবন, বংশবৃদ্ধি থমকে হারিয়ে যাচ্ছে শকুন তিনি আরও বলেন, গ্রাম আদালতকে আরও কার্যকর ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। গ্রাম আদালত পরিচালনার জন্য মন্ত্রণালয় পর্যায়ে পৃথক সেন্ট্রাল ডেস্ক, জেলা পর্যায়ে জেলা ডেস্ক এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা ডেস্ক তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পৃথক বাজেট রাখার প্রয়োজন রয়েছে। এনএইচআর/এএসএম

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
মাগুরা জেলা কারাগারের কয়েদির ঢামেকে মৃত্যু, পরিবারের ক্ষোভ

মাগুরা জেলা কারাগারের কয়েদির ঢামেকে মৃত্যু, পরিবারের ক্ষোভ

প্রতিদিন ৩০ মিনিট ওয়াশিং মেশিন চালালে মাসে বিদ্যুৎ বিল কত?

প্রতিদিন ৩০ মিনিট ওয়াশিং মেশিন চালালে মাসে বিদ্যুৎ বিল কত?

গরু চুরি করে বিএনপি নেতার গোয়ালঘরে রেখে গেল চোর!

গরু চুরি করে বিএনপি নেতার গোয়ালঘরে রেখে গেল চোর!

0 Comments