রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা হলের এক শিক্ষার্থীকে ‘শিবিরের গুপ্ত’ আখ্যা দিয়ে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে হল শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রদলের নেতারা দাবি করেছেন, ওই শিক্ষার্থীকে কোনো ধরনের হেনস্তা করা হয়নি।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম মোহাম্মদ আসিফ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর অভিযোগ, হলে আসন দেওয়ার কথা বলে হল ছাত্রদলের সভাপতি মেহেদী হাসান (ফুয়াদ) তাঁর মুঠোফোন নিয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য খোঁজেন এবং ছাত্রশিবিরের রাজনীতি করে ছাত্রদলে ঢোকার চেষ্টার অভিযোগ তুলে তাঁকে নির্যাতন করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’ ও ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ’ নামের দুটি গ্রুপে মোহাম্মদ আসিফের বক্তব্যের একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে। ওই ভিডিওতে তিনি ছাত্রদলের নেতাদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন। অন্যদিকে হল ছাত্রদলের সভাপতি মেহেদী হাসান ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে হল ছাত্রশিবিরের সভাপতির কথোপকথনের কিছু স্ক্রিনশট পোস্ট করেন। যেখানে তাঁদের মধ্যে কথোপকথন রেকর্ড করার নির্দেশনা সংক্রান্ত বিষয় আছে। তবে সেগুলো প্রথম আলোর পক্ষ থেকে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ভিডিওতে মোহাম্মদ আসিফ বলেন, পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে তিনি কয়েকবার হল প্রাধ্যক্ষের কাছে আসনের জন্য অনুরোধ করেছেন। পরে গণরুমে ফাঁকা আসনের বিষয়ে জানতে গেলে কয়েকজন শিক্ষার্থী তাঁকে হল ছাত্রদলের সভাপতি মেহেদী হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। তাঁর (মেহেদী) সঙ্গে কথা বললে তিনি ছাত্রদল করলে আসন দেওয়া হবে বলে জানান। আসনের আশায় তিনি ছাত্রদলের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার বিষয়ে রাজি হন।
ভিডিওতে আসিফ অভিযোগ করে বলেন, পরে মেহেদী হাসানের কক্ষে গেলে একটি গ্রুপে যুক্ত করার কথা বলে তাঁর (আসিফ) মুঠোফোন নেওয়া হয়। এ সময় ফোনের বিভিন্ন বিষয় দেখে ছাত্রশিবিরের রাজনীতিতে জড়িত অভিযোগ তুলে ‘শিবিরের গুপ্ত’ হিসেবে হলে আসার অভিযোগ করেন তিনি। একপর্যায়ে ছাত্রদলের আরও কয়েকজন সেখানে আসেন এবং তাঁকে বিভিন্ন হুমকি দেন। পরে তাঁকে গণরুমে নিয়ে মারধর করা হয়। এ সময় তাঁর মুঠোফোন নিয়ে বিভিন্ন ভিডিও করা হয় এবং তাঁর কাছ থেকে বিভিন্ন কথা বলিয়ে ও লিখিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে কথা বলতে মোহাম্মদ আসিফের মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল করলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান বলেন, ‘তাঁকে কোনো ধরনের মারধর করা হয়নি। আসিফকে ব্যবহার করে ছাত্রদলকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, আসিফ তিন মাস ধরে অবৈধভাবে হলে থাকছিলেন। তিনি যে আসনে ছিলেন, তা অন্য একজনকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। থাকার সমস্যার কথা জানালে তাঁকে হল প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলতে বলা হয়েছিল।
মেহেদী হাসানের দাবি, ওই শিক্ষার্থী আগে ছাত্রশিবিরের ওয়ালফেয়ার ভবনে সাত মাস থেকেছেন। হল ছাত্রদলের গ্রুপে যুক্ত করার জন্য তাঁর ফোন নিয়ে তিনি হল শিবিরের সভাপতির সঙ্গে তাঁর কথোপকথন দেখতে পান। তিনি শিবিরের সভাপতির সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ করে নিজ থেকেই ছাত্রদলে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন। গোপনে ছাত্রদলের তথ্য শিবিরকে দেওয়ার কথাও শিবির সভাপতিকে হোয়াটসঅ্যাপে জানিয়েছেন। এমনকি তাঁর (আসিফ) ও প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে সাক্ষাতের সময়ের কথাবার্তা রেকর্ড করার নির্দেশও দেওয়ার তথ্য আছে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে সকালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে দেখা করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতারা। এ সময় তাঁরা হল প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ, জড়িত ছাত্রদল নেতাদের শাস্তি, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং আসন বণ্টনে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবি জানান।
জানতে চাইলে হল ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মেহেদী হাসান বলেন, ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে ছাত্রশিবিরের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি হল সংসদের ভিপি, হল ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও হল ছাত্রদলের সভাপতির সঙ্গে একইভাবে যোগাযোগ করেছেন। ছাত্রশিবিরের ওয়েলফেয়ার ভবনে আসিফের থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, আর্থিকভাবে অসচ্ছল প্রথম বর্ষের প্রায় ১০০ শিক্ষার্থী সেখানে থাকেন। তাঁদের সবাই শিবিরের রাজনীতি করেন না। ওই শিক্ষার্থী সেখানে ছিলেন কি না, তাঁর জানা নেই।

এ ঘটনায় বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহন মার্কেটে সংবাদ সম্মেলন করে হল শাখা ছাত্রদল। সংবাদ সম্মেলনে ওই শিক্ষার্থীর ছাত্রশিবিরের রাজনীতিতে জড়িত থাকার দাবি করে বিভিন্ন স্ক্রিনশট প্রদর্শন করা হয়। এ সময় গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে প্রচলিত আইনে ওই শিক্ষার্থীর বিচারের দাবি জানান ছাত্রদলের নেতারা।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, বিষয়টি জানার পর মেহেদীকে ফোন করে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটানোর নির্দেশ দেন। কোনো হয়রানি বা অপ্রীতিকর আচরণ ছাড়াই ওই শিক্ষার্থীকে হল প্রশাসনের মাধ্যমে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ বিষয়ে শহীদ শামসুজ্জোহা হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আল-আমিন সরকার বলেন, রাত তিনিটার দিকে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। পরে হলে গিয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে তাঁর কার্যালয়ে নিয়ে কথা বলেন। এ সময় ওই শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়েছে—এমন কিছু তাঁকে জানানো হয়নি। তিনি শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসা করলেও তিনিও মারধরের কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীর মুঠোফোনে ব্যক্তিগত তথ্য থাকায় এবং অন্যরা ফোনটি নেওয়ার চেষ্টা করায় তিনি সেটি নিজের কার্যালয়ে রেখে দেন। পরে ভোরের দিকে শিক্ষার্থীকে তাঁর কক্ষে পাঠানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুনুর রশীদ বলেন, ‘বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। আমরা প্রাধ্যক্ষ ও শিক্ষার্থীদের বক্তব্য শুনেছি। তবে এখনো সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর বক্তব্য শুনতে পারিনি। প্রকৃত ঘটনা জানার জন্য অবশ্যই তাঁর বক্তব্য জানা প্রয়োজন। এ বিষয়ে তদন্তের পর আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার শনির আখড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ডাকাতির প্রস্তুতির সময় পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ও যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এ তথ্য জানান। গ্রেফতাররা হলেন- মো. আল আমিন ওরফে রমজান (৩০), মো. সাজিম প্রকাশ সানি (২১), মো. রিফাত দেওয়ান (২৪), মো. রাকিব (২২) ও বিপ্লব (২৬)। আরও পড়ুন বিদেশ থেকে ফেরার পথে আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেফতার যাত্রাবাড়ী থানার বরাত দিয়ে আকতার হোসেন বলেন, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে শনির আখড়া এলাকার দনিয়া কলেজের পাশে কয়েকজন লোক দেশীয় অস্ত্রসহ ডাকাতির প্রস্তুতি গ্রহণ করছিল। বিষয়টি যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ জানতে পারে। সিটিটিসি ও যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ সেখানে একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে তিনটি চাকু, একটি ধারালো চাপাতি, একটি ধারালো সুইচ গিয়ার এবং চারটি লোহার রড উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। কেআর/এমআরএম
ছিনতাইয়ে বাধা দেওয়ায় রাজধানীর পল্লবীতে মো. সজীব (২২) নামের এক তরুণকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। ওই অভিযোগে করা মামলায় মো. জুয়েল ওরফে বাল্লা জুয়েলের (২৬) তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাতের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। আরও পড়ুন বাসার গেটে দাঁড়িয়ে ছিলেন, হঠাৎ পাশের ভবন থেকে সিলিন্ডার পড়ে গেলো প্রাণ এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মাহবুব হাসান আসামিকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার অভিযোগ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার দিকে পল্লবী থানার সেকশন-১০-এর ব্লক-এ এলাকায় প্যারিস রোডসংলগ্ন কাঠালতলা মাঠে সজীবের পথরোধ করেন কয়েকজন। দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে টাকা ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় ছিনতাইয়ে বাধা দিলে সজীবকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর ও এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে ধারালো ছুরি দিয়ে তার পেটের ডান পাশে আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৪ সেপ্টেম্বর সকালে তিনি মারা যান। আরও পড়ুন নুসরাত হত্যা / কারাগারেই জন্ম-বেড়ে ওঠা, ৭ বছর পর মুক্ত বাতাসে শিশু মোবাশ্বেরা নিহত সজীব পল্লবী এলাকায় ভ্যানে করে কাপড় বিক্রি করতেন। এ ঘটনায় সজীবের মা কোহিনুর বেগম বাদী হয়ে পল্লবী থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে গত ১৪ সেপ্টেম্বর পল্লবীর এক বাসা থেকে মো. জুয়েল ওরফে বাল্লা জুয়েলকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করা হলে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এমডিএএ/কেএসআর
দেশের প্রকট বেকার সমস্যা নিরসন এবং বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তরুণদের চাকরিপ্রার্থী না বানিয়ে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার অংশ হিসেবে আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) শুরু হচ্ছে ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক আবেদনপ্রক্রিয়া। উপজেলা পর্যায়ে সম্ভাবনাময় তরুণদের খুঁজে বের করে তাঁদের হাতে ব্যবসার পুঁজি তুলে দিতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নতুন পদক্ষেপ।কর্মসূচির প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের আট বিভাগের আট জেলা মানিকগঞ্জ, ফেনী, নওগাঁ, ঝিনাইদহ, ভোলা, হবিগঞ্জ, রংপুর ও নেত্রকোনার ৬৪টি উপজেলায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।৫১তম বিসিএস সাধারণ না বিশেষ, কোনটি আগে আসছেকর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত প্রার্থীরা তাঁদের নতুন বা বিদ্যমান ব্যবসা পরিচালনার জন্য মোট ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পাবেন। এই অর্থায়নের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এতে ঋণের পাশাপাশি বিনা মূল্যে অনুদানের সুযোগ রাখা হয়েছে। মোট সহায়তার ৫০ শতাংশ, অর্থাৎ সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা দেওয়া হবে ব্যাংকঋণ হিসেবে। আর বাকি ৫০ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা দেওয়া হবে এককালীন অনুদান হিসেবে।বাংলাদেশ ব্যাংক নিশ্চিত করেছে, এই অর্থায়নের জন্য উদ্যোক্তাকে কোনো ধরনের সহায়তামূলক জামানত দিতে হবে না। তবে ব্যাংকের প্রদত্ত অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। নির্ধারিত সময়ে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে বা অন্য কাজে অর্থ ব্যবহার করা হলে অনুদানের সুবিধাটি বাতিল হয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে অনুদানের টাকাও ঋণে রূপান্তরিত হবে এবং তা পরবর্তী সময়ে সরকারি পাওনা হিসেবে আদায় করা হবে।আবেদনের যোগ্যতা ও ঋণ পাওয়ার শর্তাবলি কর্মসূচির আওতায় সুবিধা পেতে আবেদনকারীকে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। আবেদন গ্রহণের শেষ তারিখে প্রার্থীর বয়স সর্বোচ্চ ২৮ বছরের মধ্যে হতে হবে। প্রার্থীকে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে এবং তাঁর কাছে একটি বাস্তবায়নযোগ্য ব্যবসায়িক ধারণা বা পরিকল্পনা থাকতে হবে।এর আগে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়েছেন—এমন কেউ এ কর্মসূচিতে আবেদন করতে পারবেন না। পাশাপাশি ঋণখেলাপি ব্যক্তি বা সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মচারীরা এ প্রকল্পের আওতায় আসবেন না। আবেদনে কোনো ভুল বা মিথ্যা তথ্য দেওয়া হলে তা সরাসরি বাতিল করা হবে।কৃষিভিত্তিক শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হস্তশিল্প, মৎস্য, পশুপালন, পর্যটন, হালকা প্রকৌশল এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের তরুণেরা এ সুবিধার আওতায় আসবেন। এ ছাড়া ই-কমার্স, ফিনটেক, এডটেক, অ্যাগ্রিটেক, হেলথটেকসহ প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপ ও যেকোনো আয় উপযোগী বৈধ উদ্যোগে অর্থায়ন করা হবে।সমাজসেবায় ১৪৮৫ পদে নিয়োগ: আবেদনকারী কত, পরীক্ষার তারিখ কবেজরুরি তথ্য ও আবেদন নিয়মাবলি আবেদন শুরুর তারিখ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬আবেদনের শেষ তারিখ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬বয়সসীমা: আবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখে সর্বোচ্চ ২৮ বছরঅর্থায়নের পরিমাণ: মোট ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত (ঋণ ও অনুদান ৫০:৫০ অনুপাত)প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর নেবে ৫৩৮ জন, জেনে নিন চাকরির সব তথ্যঋণের শর্ত: সম্পূর্ণ জামানতহীন ঋণ ও সহজ শর্ত আবেদনের প্রক্রিয়া: বাংলাদেশে ব্যাংকে অফিশিয়াল ওয়েবসাইট, এসএমই পোর্টাল এবং দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে আবেদন ফরমটি সরাসরি ডাউনলোড করা যাবে।আবেদন জমা দেওয়ার স্থান: নিজ এলাকার যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখাপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র: পূরণ করা আবেদন ফরম, জাতীয় পরিচয়পত্র, ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রদত্ত নাগরিকত্ব সনদ, ছবি এবং শিক্ষাগত ও প্রশিক্ষণ সনদ (যদি থাকে)।আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীতে নিয়োগ, বেতন শুরু ৩১,৫০০ টাকায়