জাতীয়

শাহপুরের দম্পতি

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
শাহপুরের দম্পতি
শাহপুরের দম্পতি

স্টিলের পাতিল নামে একজন ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছে। প্রোফাইল পিকচারে চকচকে পাতিল। কভার ফটোতে লেখা, ‘সম্পর্ক যতই গরম হোক, হাতল ধরে রাখুন।’ দেখে বেশ ক্রিয়েটিভ মনে হলো। দ্রুত নিজের অ্যাকাউন্ট সেটিংসে গেলাম। নাম পরিবর্তন করে রাখলাম, মুরগির ঝোল। তারপর.. মুরগির ঝোল accepted the friend request of স্টিলের পাতিল। স্টিলের পাতিল সঙ্গে সঙ্গে ইনবক্সে লিখল, ‘ভাই, একা একা ভালো লাগতেছিল না।’ আমি বললাম, ‘সমস্যা নাই। সংসার পাতাই।’

আমাদের সংসার পাততে বেশি সময় লাগল না। প্রথমে এল প্লাস্টিকের গামলা। ওর বায়ো, ‘আমি সস্তা। প্রয়োজনের সময় আমাকেই খুঁজবেন।’ এরপর বিরিয়ানির এলাচি। সে একটু অহংকারী। মাঝেমধ্যে পোস্ট দেয়, ‘আমাকে কামড় দেওয়ার আগে মনে রাখবেন, বিরিয়ানির সম্মান আমার হাতে।’ তারপর এল সুইটির রান্নাঘর। সুইটি কে, কেউ জানে না। কিন্তু প্রতিদিন দুপুরে সে রান্নার ভিডিও শেয়ার করে। হানি নাটস যোগ দেওয়ার পর গ্রুপে অশান্তি শুরু হলো। সে প্রতিটি পোস্টের নিচে লিখত, ‘শরীরে দুর্বলতা থাকলে ইনবক্স করেন।’ তার সঙ্গে শিলাজিৎ মধুর ঝগড়া। ‘আপনারটা খাঁটি না।’ ‘আপনি নকল।’ ‘ল্যাব রিপোর্ট দেখান।’ ‘আগে ট্রেড লাইসেন্স দেখান।’ কাঠের মজবুত আসবাব এসে পরিস্থিতি শান্ত করল। সে বলল, ‘ভাইসব, মারামারি কইরেন না। খাট লাগলে যোগাযোগ কইরেন।’

একদিন হিসাব করে দেখলাম, আমাদের প্রায় সবই আছে। বললাম, ‘এখন দরকার একটা বাসা।’ তিন দিন খোঁজার পর পেলাম। পরীনগর সবুজের বাসা। প্রোফাইল পিকচারে একতলা পুরোনো বাড়ি। উঠানে আমগাছ। বায়োতে লেখা, ‘শান্ত পরিবেশ। পরিবার নিয়ে থাকার উপযোগী। সরাসরি মালিক।’ আমরা সবাই একসঙ্গে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠালাম। বাসা এক্সেপ্ট করল। তারপর বুঝলাম, শুধু বাসা দিয়ে হবে না। এলাকা লাগবে। বাজার করব কোথায়? রিকশা ডাকব কীভাবে? খুঁজতে খুঁজতে পেলাম।

শাহপুর গ্রাম দক্ষিণপাড়া পূর্ব মাথা নতুন ব্রিজসংলগ্ন হাজী কুদ্দুস মেম্বারের পুকুরের পশ্চিম পাশ যুব উন্নয়ন সমাজকল্যাণ ও অনলাইন ক্রয়-বিক্রয় পরিবার। 

স্টিলের পাতিল বলল, ‘এটাই নে। নাম শুনে মনে হচ্ছে লোকেশন দিতে দিতে অ্যাডমিনের জীবন শেষ।’ এলাকাও আমাদের এক্সেপ্ট করল। এবার সমস্যা একটাই। মানুষ নাই। আমি পোস্ট দিলাম, ‘পাতিল, রান্নাঘর, আসবাব, বাসা, এলাকা, সব রেডি। সংসার পূর্ণ করতে হবু দম্পতি দরকার। আগ্রহীরা কমেন্ট করেন।’ রাত সাড়ে বারোটায় একটা নতুন বিয়ে করা দম্পতি কমেন্ট করল, ‘বাসা ভাড়া হয়ে গেছে? না হলে কাল দেখতে আসতে পারি।’ পরীনগর সবুজের বাসা রিপ্লাই দিল, ‘ভাড়া হয়নি। লোকেশন ইনবক্সে দিলাম।’

পরদিন দুপুরে নিউজ ফিডে ভাইরাল সংবাদ।

শাহপুরে দম্পতি নিখোঁজ।

তাদের শেষ লোকেশন ট্র্যাক করে পুলিশ পরিত্যক্ত এক বাড়িতে ঢুকেছে। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে রক্তমাখানো স্টিলের পাতিল ও প্লাস্টিকের গামলা। আরও পাওয়া গেছে বিরিয়ানি, ভাঙা মধুর বোতল এবং সদ্য বানানো কাঠের খাট। সব কটিতে রক্তের নমুনা থাকায় পুলিশ এগুলো প্রাথমিক আলামত হিসেবে বিবেচনা করছে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, কর্মস্থল ঢাকা
বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, কর্মস্থল ঢাকা

বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি ‘এসও টু এসইও’ পদে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এরই মধ্যে আবেদন শুরু হয়েছে, চলবে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে পারবেন। তবে প্রার্থীকে অবশ্যই স্নাতক অথবা সমমান ডিগ্রিধারী হতে হবে। এক নজরে বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ তথ্যের ধরন বিবরণ প্রতিষ্ঠানের নাম বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি বিভাগের নাম ট্রেড অপারেশনস ডিপার্টমেন্ট পদের নাম এসও টু এসইও পদসংখ্যা নির্ধারিত নয় চাকরির ধরন বেসরকারি, ফুল টাইম প্রার্থীর ধরন নারী- পুরুষ শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক অথবা সমমান অভিজ্ঞতা ৪ বছর বেতন ও অন্যান্য সুবিধা আলোচনা সাপেক্ষে বয়সসীমা নির্ধারিত নয় সূত্র বিডিজবস ডটকম আবেদন করার নিয়ম ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আবেদন শুরু: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আবেদনের শেষ তারিখ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আবেদন পদ্ধতি: অনলাইনে কর্মস্থল: ঢাকা জেলায় কাজ করার মানসিকতা থাকা আবশ্যক। আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি। আরও পড়ুন৫৩৮ জনকে নিয়োগ দেবে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, আবেদন ফি ৫৬ টাকাএইচএসসি পাসে বিজিবির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন ফি ৫৬ টাকাসেনাবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, ৪০ বছর বয়সেও আবেদনের সুযোগনৌবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এইচএসসি পাসেই অফিসার ক্যাডেট হওয়ার সুযোগসেনাবাহিনীর চাকরি পেতে যেসব যোগ্যতা আপনাকে এগিয়ে রাখবে১১২ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেবে বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনসেনাবাহিনী নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এসএসসি পাসেই আবেদন১৪২ জনকে নিয়োগ দেবে সমরাস্ত্র কারখানা, এসএসসি পাসেও আবেদনসেনাবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এইচএসসি পাসেই আবেদনের সুযোগ এমআইএইচ

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
সাতকানিয়ায় পিচ্চি জাহিদ হত্যা মামলায় ১০ আসামি গ্রেফতার

সাতকানিয়ায় পিচ্চি জাহিদ হত্যা মামলায় ১০ আসামি গ্রেফতার

গুদামে সর্বোচ্চ মজুতের পরও ‘চাপে পড়ে’ চাল কিনছে সরকার

গুদামে সর্বোচ্চ মজুতের পরও ‘চাপে পড়ে’ চাল কিনছে সরকার

ওবায়দুল কাদেরসহ পলাতক ৭ আসামির ভাগ্যে কী, ট্রাইব্যুনালে রায় আজ

ওবায়দুল কাদেরসহ পলাতক ৭ আসামির ভাগ্যে কী, ট্রাইব্যুনালে রায় আজ

যে কাজটি করে মাত্র ১৪ দিনেই আরও আশাবাদী হয়ে উঠতে পারেন, বলছেন মনোবিজ্ঞানী
যে কাজটি করে মাত্র ১৪ দিনেই আরও আশাবাদী হয়ে উঠতে পারেন, বলছেন মনোবিজ্ঞানী

‘ওয়াশিংটন পোস্ট’–এ লেখাটি লিখেছেন কলাম লেখক ডানা মিলব্যাঙ্ক। লেখাটিতে লেখকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থাকায় সেটি তাঁর ভাষাতেই প্রকাশিত হলো।অনেক সময় প্রকৃতি মনে করিয়ে দেয় যে কেউ একা নয়, মানুষ অনেক বড় একটি সময় ও জীবনের ধারাবাহিকতার অংশশীতকালকে জীবনের বেশির ভাগ সময়ই আমি এমন একটি ঋতু হিসেবে দেখেছি, যেটা কোনোভাবে কম্বল, ওভারকোট, সোয়েটারে চেপে পার করে দিতে হয়। যতটা সম্ভব ঘরের ভেতরে থেকে, জানালাটা খুলে কেবল বাইরে একটু উঁকি দিয়ে দেখে, আবার চট করে জানালা লাগিয়ে দিয়ে।অপেক্ষা করতাম প্রথম ড্যাফোডিল ফুল ফোটার, যে সময় ঠান্ডা জ্বরের মৌসুম কমে আসে, দিন বড় হতে শুরু করে, আর আমিও যেন নিজস্ব ‘শীতনিদ্রা’ থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসতে পারি। কিন্তু এখন শীত পার হওয়ার জন্য অপেক্ষা করি না; বরং শীত আমার কাছে হয়ে উঠেছে আশা পুনর্গঠনের ঋতু।সম্প্রতি এক বন্ধুর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শেনানডোয়া ন্যাশনাল পার্কে হাঁটতে গিয়ে বিষয়টি নতুন করে উপলব্ধি করলাম। তীব্র ঠান্ডার মধ্যেও চারপাশের প্রকৃতি ছিল বিস্ময়কর সুন্দর। বরফে জমে থাকা ঝরনা, গাছের নিচে বরফের সূক্ষ্ম নকশা, শত শত বছরের পুরোনো গাছ, অরণ্যের মাটিতে জন্মানো ছোট ছোট উদ্ভিদ—সবকিছু যেন প্রকৃতির নিজস্ব এক গল্প বলছিল।স্ত্রীর ক্যানসারের সংবাদ পেয়ে কেন সিনেমা দেখতে গিয়েছিলেন আয়ুষ্মান খুরানাপ্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ আশার অনুভূতি বাড়াতে পারেপুরোনো কেবিন, পাথরের দেয়াল, একটি পরিত্যক্ত কবরস্থান। এসব দেখতে দেখতে মনে হলো, এই জায়গায় আমার আগে কত মানুষ এসেছে, কত জীবন কেটে গেছে।একসময় যারা এখানে বাস করত, তারা নেই; কিন্তু প্রকৃতি রয়ে গেছে। শত শত বছরের পুরোনো গাছগুলো আজও দাঁড়িয়ে আছে। হঠাৎ মনে হলো, আমি একা নই; আমি অনেক বড় একটি সময় ও জীবনের ধারাবাহিকতার অংশ।অরণ্য থেকে ফিরে আমার মনে হলো, পৃথিবীর সবকিছু নিয়ে হঠাৎ খুব আশাবাদী হয়ে যাইনি। কিন্তু হতাশার একটা অংশ যেন সরে গেছে। তার জায়গায় এসেছে নিজের দেশ ও পৃথিবীর জন্য কিছু করার নতুন ইচ্ছা।গবেষণা কী বলছে?একাধিক গবেষণায় প্রমাণিত, প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানো আমাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য উপকারী। প্রকৃতির বৈচিত্র্য মানসিক ক্লান্তি কমায়, আর তার বিশালতা আমাদের মধ্যে বিস্ময় ও গভীর সংযোগের অনুভূতি তৈরি করে।বিশেষ করে প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ আশার অনুভূতি বাড়াতে পারে। এই আশা অবশ্য ‘সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে’ ধরনের সরল আশাবাদ নয়; বরং এটি হতাশার কাছে হার না মানার এবং নিজের লক্ষ্য পূরণে কিছু করার ক্ষমতা ও ইচ্ছা তৈরি করে।কনকর্ডিয়া ইউনিভার্সিটি অব এডমন্টনের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হলি-অ্যান পাসমোর প্রকৃতির এই মানসিক উপকারিতা নিয়ে গবেষণা করেছেন। তাঁর তৈরি ‘নোটিশিং নেচার ইনভেনশন’ পদ্ধতিটি অত্যন্ত সহজ।টানা ১৪ দিন প্রকৃতির অন্তত একটি বিষয় মন দিয়ে লক্ষ্য করতে হবে। একটি পাখি, গাছ, আকাশ, ফুল কিংবা সূর্যের আলো। এরপর সেই মুহূর্তে আপনার মনে কী অনুভূতি তৈরি হয়েছে, তা লিখে রাখতে হবে। দুই সপ্তাহে ১০টি পর্যবেক্ষণ করলেও ‘ইতিবাচক পার্থক্য তৈরি করার মতো উপযোগী’ উপকার পাওয়া যেতে পারে।৪১ বছর বয়সে আবার মা হচ্ছেন মাহিরা খান, টরন্টোর লালগালিচায় বেবি বাম্পপ্রতিদিন একটু সময় নিয়ে আকাশ দেখুন, পাখির ডাক শুনুন, গাছের পাতার দিকে তাকানগবেষণায় দেখা গেছে, এই ১৪ দিনের অনুশীলন যাঁরা সম্পন্ন করেছেন, তাঁদের জীবন নিয়ে সন্তুষ্টির মাত্রা যাঁরা অনুশীলন করেননি, সেই দলের তুলনায় ৬৮ শতাংশ বেশি। আর গভীর ইতিবাচক অনুভূতির মাত্রা ৭৭ শতাংশ বেশি ছিল।সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এর জন্য আপনাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রকৃতির মধ্যে থাকতে হবে না। জানালা দিয়ে আকাশ দেখা, একটি পাখির ডাক শোনা কিংবা ঘরের গাছটির দিকে মন দিয়ে তাকানোও যথেষ্ট হতে পারে। প্রকৃতির সৌন্দর্য অনুভব করতে পারার জন্য বিশেষ কোনো ঋতুরও প্রয়োজন নেই। শীতেও প্রকৃতি একইভাবে আমাদের মন ভালো করতে পারে।প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানো আমাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য উপকারীআমাদের চারপাশে যখন এত রাগ, হতাশা ও অনিশ্চয়তা, তখন প্রকৃতির দিকে তাকানোকে কেউ হয়তো তুচ্ছ মনে করতে পারেন। কিন্তু হতাশা আমাদের নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারে। আর আশা আমাদের কিছু করার শক্তি দেয়।তাই প্রতিদিন একটু সময় নিয়ে আকাশ দেখুন। পাখির ডাক শুনুন। গাছের পাতার দিকে তাকান। সূর্যাস্তের রং খেয়াল করুন। তারপর নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন, ‘এই মুহূর্তে আমি কী অনুভব করছি?’হয়তো মাত্র ১৪ দিনের এই ছোট্ট অভ্যাসই আপনাকে পৃথিবীকে নতুন চোখে দেখতে শেখাবে এবং নিজের ভেতরেও ফিরিয়ে আনবে একটু আশা।সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্টপরিবারের প্রবীণ সদস্যের সঠিক পুষ্টি কীভাবে নিশ্চিত করবেন 

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
কৃষক, গ্রামীণ উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্য ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচির গুরুত্ব

কৃষক, গ্রামীণ উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্য ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচির গুরুত্ব

ব্যস্ত শহরে সন্ধ্যার অতিথি শত শত চড়ুই

ব্যস্ত শহরে সন্ধ্যার অতিথি শত শত চড়ুই

ইউক্রেনে পুতিনের এ কেমন তাণ্ডব, কে থামাবে?

ইউক্রেনে পুতিনের এ কেমন তাণ্ডব, কে থামাবে?

নিতুন কুন্ডুর নকশায় প্রথম স্বাধীনতা দিবসের ডাকটিকিট
নিতুন কুন্ডুর নকশায় প্রথম স্বাধীনতা দিবসের ডাকটিকিট

আজ ১৫ সেপ্টেম্বর, শিল্পী নিতুন কুন্ডুর ২০তম প্রয়াণ দিবস। চিত্রশিল্পী, ভাস্কর, মুক্তিযোদ্ধা ও শিল্পপতি—সব ছাপিয়ে তিনি ছিলেন এক স্বপ্নদ্রষ্টা মানুষ, যিনি শিল্পকে ভালোবেসেছিলেন জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত। তিনি ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম স্বাধীনতা দিবসের ডাকটিকিটের নকশাকার।  মুক্তিযুদ্ধ চলাকালেই তৎকালীন মুজিবনগর সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক হিসেবে বাংলাদেশের নামে ডাকটিকিট প্রকাশের উদ্যোগ নেয়। এই লক্ষ্যে সরকার গঠিত ডাকটিকিট কমিটিতে পটুয়া কামরুল হাসানের পাশাপাশি নিতুন কুন্ডুকে অন্যতম সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।অবশ্য যুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকার কর্তৃক প্রকাশিত বাংলাদেশের প্রথম ডাকটিকিটের মূল নকশাকার ছিলেন বিমান মল্লিক, যিনি ছিলেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী একজন ভারতীয় বাঙালি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভারত সরকার স্বপ্রণোদিতভাবে একটি ডাকটিকিট নকশা ও মুদ্রণ করে বাংলাদেশকে উপহার হিসেবে প্রদান করে।এরপর ঐতিহাসিক ঘটনাটি ঘটে ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ—বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে। এবারই প্রথম একজন সার্বভৌম ও স্বাধীন দেশের নাগরিক তথা প্রথিতযশা শিল্পী হিসেবে নিতুন কুন্ডুর ওপর অর্পিত হয় ডাকটিকিট নকশা করার গুরুদায়িত্ব।বাংলাদেশ ডাক বিভাগের প্রথম মহাপরিচালক এ এম আহসান উল্লাহ তাঁর স্মৃতিচারণামূলক গ্রন্থ ‘বাংলাদেশের ডাকটিকেট আদি ইতিহাস ও কিছু প্রাসংগিক কথা’-তে লিখেছেন:‘ ...শুরুতে ডাকটিকিট প্রকাশ নিয়ে বড়ই বিব্রত অবস্থায় পড়ি। কেননা কোন কিছুই আমাদের নেই। আর্টিস্ট, ডিজাইনার, সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেস ইত্যাদির কোন কিছুরই হদিস নেই। এই সকল সমস্যা সমাধান একদিনে হবারও নয়। কাজেই ধাপে ধাপে এর সমাধান করার লক্ষ্যে প্রথমে একটি ডাকটিকিট উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করি এবং সেই পরিষদে অন্তর্ভুক্ত করি একজন শীর্ষস্থানীয় শিল্পী, একজন ডাকটিকিট অনুরাগী সংসদ সদস্য, একজন চিন্তাবিদ এবং সেই সংগে ডাক বিভাগ প্রধান। শুরুতে তারা ছিলেন সর্বজনাব কামরুল হাসান, আশরাফ আলী চৌধুরী, ড. নীলিমা ইব্রাহীম, আব্দুস সালাম এবং আমি নিজে। জনাব কামরুল হাসানের সৌজন্যে আরও কিছু খ্যাতনামা শিল্পীর সহযোগিতা পাই এ ব্যাপারে যেমন জনাব কাইয়ুম চৌধুরী, নিতুন কুণ্ডু।...সবার মিলিত প্রচেষ্টায় ডাকটিকিট প্রকাশনার কাজ ধাপে ধাপে এগুতে থাকে।’স্বাধীনতার প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে নিতুন কুন্ডু যে ডাকটিকিটটি প্রস্তুত করেন, তা ছিল মূলত পোস্টার ঢঙে আঁকা। এর মূল নকশায় ছিল সংগ্রামের অমর প্রতীক হিসেবে প্রজ্বলিত একটি মশাল। একই নকশা ব্যবহার করে তিনটি ভিন্ন রঙে ডাকটিকিটগুলো প্রকাশ করা হয়—লাল রঙের ২০ পয়সা, নীল রঙের ৬০ পয়সা এবং বেগুনি রঙের ৭৫ পয়সা মানের ডাকটিকিট। নিতুন কুন্ডুর মুক্তিযুদ্ধকালীন পোস্টারের সাথে এই ডাকটিকিটের নকশার এক অপূর্ব সামঞ্জস্য ছিল; মনে হতো যুদ্ধক্ষেত্রের সেই চেতনা যেন ডাকটিকিটের ফ্রেমে এসে নতুন স্বাধীন দেশের দিগন্ত উন্মোচন করছে।

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
সবজির আড়তে শ্রমিকের ব্যস্ততা

সবজির আড়তে শ্রমিকের ব্যস্ততা

সূর্যের আলো ছাড়াই বেঁচে থাকে ডেভিল ফ্লাওয়ার, কীভাবে

সূর্যের আলো ছাড়াই বেঁচে থাকে ডেভিল ফ্লাওয়ার, কীভাবে

‘জানজিরে’ তারকা দানিয়াল কি সত্যিই বাগ্‌দান সেরেছেন

‘জানজিরে’ তারকা দানিয়াল কি সত্যিই বাগ্‌দান সেরেছেন

0 Comments