জাতীয়

রুটিরুজির টানে বাংলাদেশে নেপালের তারকারা

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
রুটিরুজির টানে বাংলাদেশে নেপালের তারকারা
রুটিরুজির টানে বাংলাদেশে নেপালের তারকারা

রাজধানীর ১০০ ফিট ধরে খানিকটা এগোলেই বেরাইদে ফর্টিস এফসির তিনতলা ক্লাব ভবন। শান্ত নিরিবিলি পরিবেশ। সেখানেই দেখা মেলে আরিক বিস্তা, অনন্ত তামাংয়ের। দুজনই নেপাল জাতীয় দলের তারকা ফুটবলার। নিজ দেশে ঘরোয়া খেলা নেই, ফিফার নিষেধাজ্ঞায় ফুটবল থমকে গেছে। অগত্যা রুটিরুজির তাগিদে আবারও বাংলাদেশে এসেছেন দুই ফুটবলার।

বাংলাদেশের লিগে নেপালিদের খেলার ঐতিহাসিক এক প্রেক্ষাপট আছে। আশির দশকের শুরুতে গণেশ থাপা মোহামেডানে যোগ দিয়েছিলেন। বেশ কয় বছর সাদা–কালোয় খেলার পাশাপাশি আবাহনী, ওয়ান্ডারার্স ও রহমতগঞ্জের জার্সিও গায়ে জড়িয়েছেন। বাংলাদেশে খেলেই নেপালের ফুটবলে বড় তারকা হয়ে ওঠেন গণেশ। পরে হরি খাড়কা, বালগোপাল মহারজনসহ অনেকে এসেছেন, তবে তাঁরা সবাই খেলেছেন বিদেশি কোটায়। গত মৌসুম থেকে বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলে প্রবর্তিত হয় সাফ কোটা। প্রথমবার আসা ১১ জনের ৮ জনই ছিলেন নেপালের। এবারও ১৯ জনের ১৪ জনই হিমালয়ের দেশটির।

এই ১৪ জনের ৮-৯ জনই আবার নেপাল জাতীয় দলের খেলোয়াড়। ২৬ বছর বয়সী মিডফিল্ডার আরিক বিস্তা গত মৌসুমে ব্রাদার্সে খেলেন, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সেরা সেন্টারব্যাক ২৮ বছরের অনন্ত তামাং ফর্টিসেই ছিলেন। এবার বসুন্ধরা কিংসে আসছেন নেপাল জাতীয় দলের তারকা মিডফিল্ডার রহিত চাঁদ, ফরোয়ার্ড মানিশ ঢাঙ্গি ও অঞ্জন বিস্তা।

এত নেপালি ফুটবলার বাংলাদেশে আসার কথা বলতে গিয়ে আরিক নিজ দেশের ফুটবলের ভঙ্গুর অবস্থাকেই তুলে আনেন, ‘নেপালি ফুটবলারদের মান ভালো। ফলে বাংলাদেশি ক্লাবগুলো নেপালিদের প্রতি আস্থা রাখছে। নেপালে লিগ হচ্ছে না নিয়মিত। তিন বছর ধরে আমাদের ওখানে শীর্ষ লিগ নেই। তাই সুযোগ পেলে নেপালের ফুটবলাররা বাংলাদেশে আসছে।’

বন্যা-ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে নেপালের অবস্থা বিপর্যপ্ত। দেশটির সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ফুটবলও সংকটে। ২০১৫ সালে ভয়াবহ ভূমিকম্পের কারণে টানা ৩ বছর শীর্ষ লিগ বন্ধ ছিল। গত ১১ বছরে সেই লিগ হয়েছে মাত্র চারবার। শীর্ষ পর্যায়ের ‘মার্টার্স মেমোরিয়াল এ-ডিভিশন লিগ’ সর্বশেষ হয়েছে ২০২৩ সালে। মার্চ থেকে জুন মাস পর্যন্ত তিন মাসের সিঙ্গেল লিগে খেলেছে ১৪টি ক্লাব।

এ-ডিভিশন মাঠে ফেরানো যাচ্ছে না দেখে অল নেপাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (আনফা) পুরোনো জাতীয় লিগ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়। শীর্ষ লিগের ১৩টিসহ ১৭টি ক্লাব নিয়ে এ বছর জানুয়ারিতে সিঙ্গেল লিগ–ভিত্তিতে লিগ শুরু হলেও মার্চে তা স্থগিত করে দেওয়া হয়। বেশ কিছু ক্লাব কোনো বৈধ ওয়ার্ক পারমিট ছাড়াই বিদেশি খেলোয়াড় মাঠে নামিয়েছিল, যা আইনগত জটিলতা তৈরি করে। খেলোয়াড়েরা পড়েন আর্থিক ক্ষতির মুখে।

বাংলাদেশের ক্লাবে নেপালি ফুটবলাররা মাসে দেড় থেকে আড়াই হাজার ডলার বেতন পান। তাতে আরিকের জীবনে স্বস্তি এসেছে।

এমনিতেই নেপালের শীর্ষ লিগের ফুটবলাররাও পরিবার চালাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। তার ওপর এখন তো খেলাই বন্ধ। খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক ও সুযোগ-সুবিধার দাবিতে আন্দোলন হলেও আনফা কোনো সমাধান দিতে পারেনি। উল্টো আনফার শীর্ষ কর্মকর্তারা মন্তব্য করেছেন, বিদেশে চলে যাওয়া খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। বিমানবন্দরে গিয়ে তাঁদের আটকে রাখা সম্ভব নয়।

ঘরোয়া লিগ নিয়ে অনিশ্চতায় নেপালি ফুটবলারদের অনেকেই পাড়ি জমাচ্ছেন বিদেশে। জাতীয় দলের নিয়মিত ডিফেন্ডার দীনেশ রাজবংশী, সুমন আরিয়াল, মিডফিল্ডার তেজ তামাং, আশিষ লামাসহ অনেক তারকা অস্ট্রেলিয়ায় চলে গেছেন। গত কয়েক বছরে দেশছাড়া ফুটবলারের সংখ্যাটা ৪০-৫০ জনের মতো।

কঠিন পরিস্থিতিতে বাফুফে ও বাংলাদেশের ক্লাবগুলো নেপালিদের জন্য রুটিরুজির নতুন পথ খুলে দিয়েছে। বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা আরিকের কণ্ঠে, ‘আমাদের জন্য একটা সুযোগ বাংলাদেশে খেলা। এখানে নেপালি ফুটবলারদের জন্য বেতন বেশ ভালো, সেটাও ডলারে। এটা স্বস্তিকর আমাদের জন্য।’

বাংলাদেশের ক্লাবে নেপালি ফুটবলাররা মাসে দেড় থেকে আড়াই হাজার ডলার বেতন পান। তাতে আরিকের জীবনে স্বস্তি এসেছে। ২০২০ সালে ঢাকায় ফিফা প্রীতি ম্যাচে নেপাল জাতীয় দলে অভিষেক হওয়া আরিক জানান, আনফার অধীনে খেলা স্থবির হলেও গ্রামগঞ্জে প্রচুর ম্যাচ হয়। নেপালে অনেক ফুটবলার খেপ খেলেন। ওখান থেকে যা পান, তা দিয়েই চলেন ফুটবলাররা।

বাংলাদেশি লিগের মান ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আরিক বেশ খুশি, ‘বাংলাদেশে ঘরোয়া মৌসুম আট-নয় মাসব্যাপী হয়। নেপালে শুধু সিঙ্গেল লিগ হয়। এ দেশে ছয়-সাতটি মাঠে খেলা হয়। নেপালে ভেন্যু মাত্র তিনটি—দশরথ ও আনফা কমপ্লেক্স যার অন্যতম। নেপালে সাধারণত আফ্রিকান ফুটবলার আনে ক্লাবগুলো। এখানে ব্রাজিলিয়ানসহ নানা দেশের ফুটবলার আসে, বিশ্বকাপে খেলা ফুটবলারও আসছে। লিগের মান ভালো হওয়ায় নেপালিরা আসতে চায়, শিখতে চায়।’

আনফার কার্যক্রমে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের অভিযোগে গত জুনে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নেপালকে নিষিদ্ধ করে ফিফা। নভেম্বরে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে তাই নেপালের খেলা অনিশ্চিত। নেপালকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সাফে খেলা নিশ্চিত করতে সময় বেঁধে দিয়েছে সাফ কর্তৃপক্ষ।

প্রতিবেশী দেশগুলো যখন আন্তর্জাতিক ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছে, নেপালের ফুটবলাররা তা দেখছেন অসহায় বসে। ব্যথিত কণ্ঠে আরিক বলছিলেন, ‘বাংলাদেশসহ সব দেশ ফিফা আন্তর্জাতিক ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমরা চেয়ে চেয়ে দেখছি। এটা ভীষণ বেদনার। নেপালের ফুটবলে সামনে কী হবে, কিছুই বুঝতে পারছি না।’

জাতীয় দলের হয়ে ৭২টি ম্যাচ খেলা অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার অনন্ত তামাংও হতাশ, ‘আমরা সাফ খেলতে পারব কি না, ফিফার নিষেধাজ্ঞা উঠবে কি না, কিছুই জানি না। এ অবস্থায় জীবন-জীবিকার টানে বাংলাদেশে খেলার সুযোগ পাওয়া বড় স্বস্তি।’

নিজ দেশে যখন ফুটবলের আলো নিভে আসছে, তখন বাংলাদেশই যেন হিমালয়ের তারকাদের ক্যারিয়ার বাঁচানোর বড় আশ্রয়।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
আসিফের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান কোনো রাজনৈতিক চাপে নয়: দুদক
আসিফের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান কোনো রাজনৈতিক চাপে নয়: দুদক

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও এনসিপি নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান কোনো রাজনৈতিক চাপ বা প্রভাবে করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সচিব মো. সাইদুর রহমান খান। দুদক স্বাধীন ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে আইনানুগভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলেও জানান তিনি। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দুদক সচিব আরও বলেন, দুদক একটি স্বায়ত্তশাসিত স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। আমরা কারও দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কোনো মামলা পরিচালনা করছি না। আমরা ন্যায়নিষ্ঠার সঙ্গে আইনানুগভাবে আমাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছি। আরও পড়ুন আমাকে শুধু ১০% দিয়েন, চলতে কষ্ট হচ্ছে: আসিফ মাহমুদ এর আগে দুদক সচিব সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক ও তার ছেলে জিয়াউল হকের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা এবং প্রায় ১৪ কোটি টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) সাবেক মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দিনের নামে মামলার বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে কীসের ভিত্তিতে এবং কী যাচাই-বাছাই করে অনুসন্ধান করা হচ্ছে, এটি রাজনৈতিক চাপের কারণে কি না–সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে সাইদুর রহমান খান বলেন, আমরা আজকের বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকি, আর না যাই। দুদক সচিব বলেন, আপনারা নিশ্চয়ই জানেন, আমাদের কমিশন পাঁচ মাস ছিল না। অনেকগুলো বিষয় আমাদের পেন্ডিং রয়েছে। এগুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি। পাইপলাইনে আরও আছে। আপনারা দেখবেন, সময়মতো সবগুলো আপনাদের সামনে উপস্থাপিত হবে। আসিফের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান কোনো টার্গেট করে করা হচ্ছে কি না–এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা এরকম কোনো টার্গেট করে করছি না। যেহেতু পেন্ডিং ছিল, পেন্ডিং লিস্ট অনুযায়ী আমরা এগুলো উপস্থাপন করছি। তিনি বলেন, সামনে আপনারা লক্ষ্য করবেন যে, আমরা কোনো পক্ষপাতিত্ব করে এরকম কাজ পরিচালনা করছি না। আরও পড়ুন ঢাকা উত্তরে আসিফ ও দক্ষিণ সিটিতে এনসিপির মেয়র প্রার্থী পাটওয়ারী অন্তর্বর্তী সরকারের অন্য উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ থাকলে দুদক সেগুলো দেখছে কি না, জানতে চাইলে সচিব বলেন, এই মুহূর্তে আমি বলতে পারছি না। যদি অভিযোগ এসে থাকে, নিশ্চয়ই আইনের আওতায় তিনিও আসবেন। দুদক সচিব আরও বলেন, অন্যান্য উপদেষ্টা, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসছে বা যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, আমরা সেগুলো আইনানুগভাবে দেখছি। অন্য কোনো উপদেষ্টার বিরুদ্ধে অভিযোগ আসছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।  গতকাল রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে বিদেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ পাওয়ার কথা জানায় দুদক। এসএম/এমকেআর

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
শেষ হলো বাংলাদেশ রোবট অলিম্পিয়াডের জাতীয় পর্ব

শেষ হলো বাংলাদেশ রোবট অলিম্পিয়াডের জাতীয় পর্ব

লেনোভোর নতুন দুটি মডেলের মনিটর বাজারে

লেনোভোর নতুন দুটি মডেলের মনিটর বাজারে

ডেঙ্গুতে এক দিনে সর্বোচ্চ সংক্রমণ, মৃত্যু ৮

ডেঙ্গুতে এক দিনে সর্বোচ্চ সংক্রমণ, মৃত্যু ৮

স্টেশনে এসে ‘ফোন ধরিস না কেন’ বলেই ট্রেনকর্মীদের থাপড়াতে থাকেন যুবদল নেতা
স্টেশনে এসে ‘ফোন ধরিস না কেন’ বলেই ট্রেনকর্মীদের থাপড়াতে থাকেন যুবদল নেতা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফোন না ধরায় কমিউটার ট্রেনের টিকিট কাউন্টারের ব্যবস্থাপক ও বুকিং ক্লার্ককে চড়থাপ্পড়ের অভিযোগ উঠেছে যুবদলের স্থানীয় এক নেতার বিরুদ্ধে। আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে এ ঘটনা ঘটে। এতে আড়াই ঘণ্টা টিকিট কাউন্টার বন্ধ রাখা হয়, দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।মারধরের শিকার ব্যক্তিরা হলেন ঢাকা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলপথে চলাচলকারী তিতাস কমিউটার ট্রেনের টিকিট কাউন্টারের ব্যবস্থাপক মহিউদ্দিন আহমেদ ওরফে সজীব ও বুকিং ক্লার্ক মো. কাউসার হোসেন। অভিযুক্ত যুবদল নেতার নাম নাজমুল হুদা ওরফে সানি। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক।ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক মো. শাহ আলম মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, কে বা কারা এসে তাঁদের (টিকিট কাউন্টারের ব্যবস্থাপক ও ক্লার্ক) চড়থাপ্পড় মেরে চলে যান। পরে তিতাস কমিউটারের লোকজন কাউন্টার বন্ধ করে ফেলেন। যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে ঢাকায় কথা বলে কাউন্টার খুলে টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়। ভুক্তভোগীরা এখনো কোনো অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে প্রতিদিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ঢাকা পর্যন্ত তিতাস কমিউটার ট্রেন চলাচল করে। প্রতিদিন সকাল সাড়ে পাঁচটায় জেলার আখাউড়া রেলওয়ে জংশন থেকে যাত্রী নিয়ে কমিউটার ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ঢাকা থেকে ফিরে দুপুর সাড়ে ১২টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশন থেকে ট্রেনটি আবার ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। বিকেল ছয়টায় ঢাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উদ্দেশে ট্রেনটি আবার ছেড়ে আসে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ঢাকা পর্যন্ত ভাড়া ৭৫ টাকা।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিতাস কমিউটার ট্রেন সরকারি হলেও চলে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়। এই ট্রেনের টিকিট বিক্রি ও অন্যান্য কার্যক্রম চলে ইজারার মাধ্যমে ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পাওয়া প্রতিষ্ঠান।ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর যুবদলের যুগ্ম–আহ্বায়ক নাজমুল হুদা ওরফে সানিস্থানীয় লোকজন ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আজ বেলা ১১টার দিকে তিতাস কমিউটার ট্রেনের বুকিং ক্লার্ক কাউসার স্টাফ কক্ষ থেকে স্টেশনের টিকিট কাউন্টারের উদ্দেশে রওনা হন। যাওয়ার পথে স্টেশন এলাকায় অজ্ঞাত কয়েকজন কালোবাজারি টিকিটের জন্য তাঁকে মারধর ও হেনস্তা করেন। পরে তিতাস কমিউটার ট্রেন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে কিছুক্ষণ কাউন্টার বন্ধ করে টিকিট বিক্রি বন্ধ রাখা হয়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে যুবদল নেতা নাজমুল হুদা স্টেশনে পৌঁছে ট্রেনের টিকিট কাউন্টারের ব্যবস্থাপক মহিউদ্দিন আহমেদ ও বুকিং ক্লার্ক কাউসারকে চড়থাপ্পড় মারেন।তিতাস কমিউটার ট্রেনের কাউন্টারের ব্যবস্থাপক মহিউদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, বেলা ১১টার দিকে বুকিং ক্লার্ক কাউসারকে ফোন করে দুটি টিকিট চান যুবদল নেতা সানি (নাজমুল হুদা)। টিকিটের জন্য তাঁর দুজন লোক পাঠাবেন বলে জানান। কিছুক্ষণের জন্য কাউন্টার বন্ধ আছে, এখন টিকিট দেওয়া অসম্ভব; তাই লোককে পরে পাঠাতে বলে বুকিং ক্লার্ক ফোন রেখে দেন।ঘটনার বর্ণনায় মহিউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, ‘বেলা সাড়ে ১১টার দিকে স্টেশনে এসে কাউন্টার থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে কাউসারকে চড়থাপ্পড় মারেন সানি ভাই। এগিয়ে গিয়ে আমি এর কারণ জানতে চাই। তিনি তখন আমাকেও চড় মারেন আর বলতে থাকেন, “ফোন ধরিস না কেন।” পরে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে তাঁকে ফিরিয়ে নিয়ে যান। পরে নিরাপত্তাহীনতায় আমরা দুইটা পর্যন্ত কাউন্টার বন্ধ রাখি। সানি ভাই প্রায়ই লোক পাঠিয়ে টিকিট নেন। দীর্ঘদিন ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে তিতাস কমিউটার ট্রেনের এজেন্টশিপ নেওয়ার জন্য চেষ্টা করছেন। কিন্তু ট্রেনের ইজারাদার প্রতিষ্ঠান তাতে সাড়া দিচ্ছে না।’মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন যুবদল নেতা নামজুল হুদা। প্রথম আলোর কাছে তিনি দাবি করেন, কমিউটার ট্রেনের লোকজনকে অনেক মাস ধরে বলা হচ্ছে, বাইরে যেন টিকিন না বিক্রি করে। তারা ৭৫ টাকার টিকিট বাইরে বেশি দামে কালোবাজারিসহ নিজের লোকের কাছে ১৫০ টাকা করে বিক্রি করে। বাইরে সেই টিকিট ২০০ টাকায় বিক্রি হয়। কালোবাজারের লোকদের কাছে টিকিট বিক্রির বিষয়ে চাপ দেওয়ায় আজ কাউন্টার বন্ধ করে দেয়।যুবদল নেতার অভিযোগ প্রসঙ্গে কাউন্টারের ব্যবস্থাপক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এখন কেউ যদি লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কিনে নিয়ে বাইরে বেশি দামে বিক্রি করে, এতে আমাদের কী করার আছে। আমরা বেশি দামে বাইরে টিকিট বিক্রি করি না, অভিযোগ সত্য না। বিষয়টি নিয়ে বিএনপির নেতৃবৃন্দের কাছে অভিযোগ করেছি।’

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
সাবেক উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের নামে ভুয়া মন্তব্য প্রচার

সাবেক উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের নামে ভুয়া মন্তব্য প্রচার

বাড়িতে গাঁজার ‘খুচরা দোকান’, মা-ছেলেসহ গ্রেফতার ৩

বাড়িতে গাঁজার ‘খুচরা দোকান’, মা-ছেলেসহ গ্রেফতার ৩

জজ মিয়া হত্যা মামলায় আরও ৫ জন গ্রেফতার

জজ মিয়া হত্যা মামলায় আরও ৫ জন গ্রেফতার

নতুন সড়ক পুনরায় কেটে নষ্ট করতে দেওয়া হবে না: ডিএসসিসি প্রশাসক
নতুন সড়ক পুনরায় কেটে নষ্ট করতে দেওয়া হবে না: ডিএসসিসি প্রশাসক

জনগণের অর্থে নির্মিত নতুন সড়ক কোনো সংস্থার সমন্বয়হীনতার কারণে পুনরায় কেটে নষ্ট করতে দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি ব্যক্ত করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রায়েরবাজার স্লুইস গেট থেকে কামরাঙ্গীরচর লোহার ব্রিজ পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শনকালে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। সেই সঙ্গে নতুন সড়ক না কেটে বিকল্প উপায়ে কাজ সম্পাদন করার জন্য ওয়াসা কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানান। ডিএসসিসির আওতাধীন ইনার সার্কুলার রিং রোড পরিদর্শনকালে আবদুস সালাম বলেন, ‘দীর্ঘ দু-তিন বছর ধরে চরম কষ্ট সহ্য করার পর আজ এলাকার মানুষের সামনে একটি নতুন রাস্তা দৃশ্যমান হয়েছে। কিন্তু ওয়াসা ‘বর্ধিত ঢাকা পানি সরবরাহ রেজিলিয়েন্স প্রকল্প’-এর আওতায় এই নতুন রাস্তা আবার খুঁড়ে প্রায় ছয় ফুট ব্যাসের পানির লাইন বসাতে চায়। আমরা একাধিক সভা করে তাদের বিকল্প রুট নির্ধারণের অনুরোধ জানিয়েছি। জনগণকে পুনরায় ভোগান্তিতে ফেলে এবং জনঅর্থের অপচয় করে আমি এই রাস্তা খোঁড়ার অনুমতি দিতে পারবো না।’ আরও পড়ুন ঢাকা দক্ষিণ সিটির জনগণ বঞ্চিতদের তালিকায় শীর্ষে: ফজলুল করীম মারুফ প্রকল্পের বিবরণ তুলে ধরে প্রশাসক জানান, এক হাজার ১৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে চার দশমিক ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ আট লেনের সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে, যার মধ্যে চারটি লেন এক্সপ্রেসওয়ে এবং চারটি লেন সার্ভিস রোড হিসেবে ব্যবহৃত হবে। এছাড়া প্রকল্পের আওতায় দুই কিলোমিটার সংযোগ সড়ক, ১০ কিলোমিটার ফুটপাত, ১০ কিলোমিটার ড্রেন, তিনটি ভেহিকুলার ওভারপাস, তিনটি ফ্লাইওভার, আটটি স্লুইস গেট, ছয়টি বাস-বে এবং ছয়টি যাত্রী ছাউনি নির্মিত হচ্ছে। পাশাপাশি দুই কিলোমিটার রিটেইনিং ওয়াল এবং প্রায় ৪৮০টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ও আটটি টাওয়ার স্থানান্তরের কাজ চলছে। আবদুস সালাম আরও জানান, প্রথম ধাপের কাজের ভৌত অগ্রগতি এরই মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। এই ধাপের পর দ্বিতীয় ধাপে লোহার ব্রিজ থেকে পোস্তগোলা পর্যন্ত সড়ক সম্প্রসারণ করা হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণবঙ্গের ২১টি জেলার বাস ঢাকা শহরের মূল যানজটে না ঢুকে সরাসরি এই রিং রোড ব্যবহার করে উত্তরবঙ্গে যাতায়াত করতে পারবে। ফলে সমগ্র রাজধানীর পাশাপাশি বিশেষ করে কামরাঙ্গীরচর, লালবাগ ও হাজারীবাগ এলাকার যানজট নিরসনে আমূল পরিবর্তন আসবে। তাই উন্নয়নকাজের আগেই সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে আন্তঃসমন্বয় থাকা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন। এমএমএ/একিউএফ

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
ওটিটিতে ‘বিশ্বনাথ অ্যান্ড সন্স’, দর্শকদের উচ্ছ্বাস

ওটিটিতে ‘বিশ্বনাথ অ্যান্ড সন্স’, দর্শকদের উচ্ছ্বাস

নারায়ণগঞ্জ জেলা-মহানগর হেফাজতে ইসলামের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা

নারায়ণগঞ্জ জেলা-মহানগর হেফাজতে ইসলামের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা

সাতক্ষীরায় পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

সাতক্ষীরায় পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

0 Comments