সাইকেলের সামনের খাঁচায়, পেছনের ক্যারিয়ারে রাখা হয়েছে বিভিন্ন পত্রিকা। সে সাইকেল নিয়ে ছুটছেন হকার। আবার আরেক পাশে পত্রিকার পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানি।
দেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণি ও আসন শূন্য থাকা সাপেক্ষে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে।
<p>বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে সরকারি ছুটি দেওয়া হয়। তবে কোনো কোনো দেশের ছুটির সংখ্যা অন্যদের তুলনায় বেশ বেশি। সাম্প্রতিক ‘<a href="https://www.msn.com/en-xl/news/other/countries-with-the-highest-number-of-public-holidays/ss-AA1JuQh3?ocid=msedgdhp&pc=U531&cvid=6ac07f48e55e45fa911c8d73eeeec49b&ei=49#image=31" target="_blank" rel="nofollow">স্টারসইনসাইডার</a>’–এর প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি সরকারি ছুটির ১০ দেশের মধ্যে এশিয়ার দেশগুলোর আধিপত্য রয়েছে। তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম।<br> <strong>১০. ম্যাকাও: ২০ দিন</strong><br>ম্যাকাওয়ে বছরে ২০ দিন সরকারি ছুটি থাকে। চীনা ও পর্তুগিজ সংস্কৃতির প্রভাব দেশটির ছুটির তালিকাতেও দেখা যায়।<br><strong>৯. চিলি: ২০ দিন<br></strong>চিলিতেও বছরে ২০ দিন সরকারি ছুটি। ক্যাথলিক ধর্মীয় দিবস, শ্রমিক দিবস ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর দিবস ছুটির তালিকায় রয়েছে।<br><strong>৮. লিশটেনস্টাইন: ২০ দিন</strong><br>ইউরোপের ছোট দেশ লিশটেনস্টাইনে সরকারি ছুটির সংখ্যা ২০ দিন। জাতীয় দিবস, অ্যাসাম্পশন ও অল সেন্টস ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ খ্রিষ্টান ধর্মীয় দিবসেও সরকারি ছুটি থাকে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/chakri/chakri-suggestion/xq8op4yi3l">দুই মাসে ক্যাডার হওয়া কঠিন, কিন্তু অসম্ভব নয়</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-05/30hdius6/16.jpg"><figcaption>শ্রীলঙ্কানরা বছরে ২৫ দিন সরকারি ছুটি কাটান</figcaption></figure><p><strong>৭. ভারত: ২১ দিন</strong><br>ভারতে বছরে ২১ দিন সরকারি ছুটি রয়েছে বলে তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। দেশটির বৈচিত্র্যময় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসব ছুটির তালিকাকে দীর্ঘ করেছে। তবে রাজ্যভেদে ছুটির তালিকায় পার্থক্য রয়েছে।<br><strong>৬. কম্বোডিয়া: ২১ দিন</strong><br>কম্বোডিয়ায় সরকারি ছুটি ২১ দিন। খেমার নববর্ষ, পূর্বপুরুষ স্মরণ দিবস ‘পচুম বেন’ এবং পানি উৎসব ‘বন ওম তুক’-এর মতো উৎসব সরকারি ছুটির তালিকায় রয়েছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2023-04/05fd3be7-c2ab-49ea-b9bf-d8dd3eae7b58/prothomalo_Kolakuli.webp"><figcaption>ঈদের নামাজ শেষে কোলাকুলি করছে শিশুরা। সরকারি ছুটির সংখ্যায় বাংলাদেশ রয়েছে পঞ্চম অবস্থানে।</figcaption></figure><p><strong>৫. বাংলাদেশ: ২২ দিন</strong><br>সরকারি ছুটির সংখ্যায় বাংলাদেশ রয়েছে পঞ্চম অবস্থানে। তালিকা অনুযায়ী, দেশে বছরে ২২ দিন সরকারি ছুটি থাকে। বিভিন্ন জাতীয় দিবসসহ ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক দিবসকে কেন্দ্র করে এসব ছুটি দেওয়া হয়। মাঝেমধ্যে নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি বাড়ে।<br><strong>৪. শ্রীলঙ্কা: ২৫ দিন</strong><br>শ্রীলঙ্কায় সরকারি ছুটির সংখ্যা ২৫ দিন। পূর্ণিমাকেন্দ্রিক ‘পয়া ডে’, সিংহলি ও তামিল নববর্ষ, বুদ্ধের জন্মদিন ভেসাক এবং খ্রিষ্টান ও মুসলিম ধর্মীয় দিবসে সাধারণত ছুটি থাকে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/chakri/employment/5yw1f825zx">আড়ংয়ে সেলস অ্যাসোসিয়েট পদে চাকরি, পদ ১০০</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-05/6o30cuzc/17.jpg"><figcaption>কম্বোডিয়ায় সরকারি ছুটি ২১ দিন</figcaption></figure><p><strong>৩. মিয়ানমার: ২৫ দিন</strong><br>মিয়ানমারেও বছরে ২৫ দিন সরকারি ছুটি। বৌদ্ধধর্মীয় উৎসবগুলোর পাশাপাশি চন্দ্রপঞ্জিকা অনুসরণ করা বিভিন্ন পূর্ণিমার দিনও ছুটির তালিকায় রয়েছে।<br><strong>২. ইরান: ২৬ দিন</strong><br>ইরানে সরকারি ছুটি ২৬ দিন। নওরোজ বা পারস্যের নববর্ষ ছাড়াও আশুরা ও ঈদের মতো ধর্মীয় দিবসেও ছুটি থাকে।<br><strong>১. নেপাল: ৩৫ দিন</strong><br>৩৫ দিন সরকারি ছুটি নিয়ে তালিকায় শীর্ষে রয়েছে নেপাল। দশাইন ও তিহারের মতো বড় হিন্দু উৎসবের পাশাপাশি বৌদ্ধ, ইসলাম ও খ্রিষ্টান ধর্মীয় বিভিন্ন উৎসবেও সরকারি ছুটি থাকে দেশটিতে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-05/71ik4ofi/18.jpg"><figcaption>চিলির নাগরিকেরা ২০ দিন ছুটি পান</figcaption></figure><aside><a href="https://www.prothomalo.com/education/higher-education/fbgg20k59q">নিউজিল্যান্ডে উচ্চশিক্ষা: ২৪টি যোগ্যতা থাকলেই পাবেন পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসা </a></aside>
যে সময়ে একজন নীতিনির্ধারকের নীতি তৈরি, সংস্কার ও বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা, সেই সময়ের একটি বড় অংশ যদি তাঁকে নতুন করে খাতটি শিখতেই ব্যয় করতে হয়, তাহলে নীতির গতি ও মান—দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
<p>বয়স মাত্র ১৮ বছর। এই বয়সেই মেক্সিকোর ফুটবলে নিজের প্রতিভার ছাপ রেখেছেন গিলবার্তো মোরা। খেলেছেন জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপেও। তাঁর ইউরোপের ফুটবলে পাড়ি জমানোর সম্ভাবনা নিয়েও চলছে আলোচনা। এর মধ্যেই মেক্সিকোর এই তরুণ মিডফিল্ডারের জীবনে এল বিশেষ এক মুহূর্ত। এমন এক প্রাপ্তি, যা হয়তো তাঁর কাছে অনেক বড় কোনো ট্রফি জয়ের আনন্দের চেয়েও কম নয়!</p><p>মোরাকে যে নিজের করা একটা বিশেষ তালিকায় বেছে নিয়েছেন লিওনেল মেসি। শুধু তা-ই নয়, আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কের কাছ থেকে পেয়েছেন বিশেষ একজোড়া ফুটবল বুটও।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/football/cpa9yxyzx4">মেসির চোখে ফুটবলে ভবিষ্যতের ১০ তারকা</a></aside><p>ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাসের ‘মেসি +১০’ প্রচারণার তৃতীয় মৌসুমে বিশ্বের ১০ প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ ফুটবলারকে ‘আগামীর তারকা’ হিসেবে বেছে নিয়েছেন সম্প্রতি আর্জেন্টিনাকে বিদায় বলা বিশ্বকাপজয়ী সাবেক অধিনায়ক। সেই তালিকায় জায়গা পেয়েছেন মেক্সিকোর ক্লাব জোলোস দে তিহুয়ানার মিডফিল্ডার মোরাও।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/1gba4b1l/gilmorita2026-10-17T161233.000Z2.jpg"><figcaption>মোরাকে পাঠানো মেসির উপহার।</figcaption></figure><p>মেসির নির্বাচিত তরুণদের একজন হওয়াই কম প্রাপ্তি নয়। তার ওপর উপহার হিসেবে মোরার হাতে এসেছে অ্যাডিডাসের বিশেষ সংস্করণের একজোড়া এফ৫০ ফুটবল বুট। ‘ফুটবল ই ফামিলিয়া’ সংস্করণের বুটটির রং গোলাপি, সাদা ও কালো। বুটের জিহ্বার অংশে রয়েছে মেসির নিজস্ব লোগো।</p><figure><blockquote data-instgrm-captioned data-instgrm-permalink="https://www.instagram.com/p/DemgmkFmroK/?utm_source=ig_embed&utm_campaign=loading" data-instgrm-version="14"><div> <a href="https://www.instagram.com/p/DemgmkFmroK/?utm_source=ig_embed&utm_campaign=loading" target="_blank"> <div> <div></div> <div> <div></div> <div></div></div></div><div></div> <div><svg width="50px" height="50px" viewbox="0 0 60 60" version="1.1" xmlns="https://www.w3.org/2000/svg" xmlns:xlink="https://www.w3.org/1999/xlink"><g stroke="none" stroke-width="1" fill="none" fill-rule="evenodd"><g transform="translate(-511.000000, -20.000000)" fill="#000000"><g><path d="M556.869,30.41 C554.814,30.41 553.148,32.076 553.148,34.131 C553.148,36.186 554.814,37.852 556.869,37.852 C558.924,37.852 560.59,36.186 560.59,34.131 C560.59,32.076 558.924,30.41 556.869,30.41 M541,60.657 C535.114,60.657 530.342,55.887 530.342,50 C530.342,44.114 535.114,39.342 541,39.342 C546.887,39.342 551.658,44.114 551.658,50 C551.658,55.887 546.887,60.657 541,60.657 M541,33.886 C532.1,33.886 524.886,41.1 524.886,50 C524.886,58.899 532.1,66.113 541,66.113 C549.9,66.113 557.115,58.899 557.115,50 C557.115,41.1 549.9,33.886 541,33.886 M565.378,62.101 C565.244,65.022 564.756,66.606 564.346,67.663 C563.803,69.06 563.154,70.057 562.106,71.106 C561.058,72.155 560.06,72.803 558.662,73.347 C557.607,73.757 556.021,74.244 553.102,74.378 C549.944,74.521 548.997,74.552 541,74.552 C533.003,74.552 532.056,74.521 528.898,74.378 C525.979,74.244 524.393,73.757 523.338,73.347 C521.94,72.803 520.942,72.155 519.894,71.106 C518.846,70.057 518.197,69.06 517.654,67.663 C517.244,66.606 516.755,65.022 516.623,62.101 C516.479,58.943 516.448,57.996 516.448,50 C516.448,42.003 516.479,41.056 516.623,37.899 C516.755,34.978 517.244,33.391 517.654,32.338 C518.197,30.938 518.846,29.942 519.894,28.894 C520.942,27.846 521.94,27.196 523.338,26.654 C524.393,26.244 525.979,25.756 528.898,25.623 C532.057,25.479 533.004,25.448 541,25.448 C548.997,25.448 549.943,25.479 553.102,25.623 C556.021,25.756 557.607,26.244 558.662,26.654 C560.06,27.196 561.058,27.846 562.106,28.894 C563.154,29.942 563.803,30.938 564.346,32.338 C564.756,33.391 565.244,34.978 565.378,37.899 C565.522,41.056 565.552,42.003 565.552,50 C565.552,57.996 565.522,58.943 565.378,62.101 M570.82,37.631 C570.674,34.438 570.167,32.258 569.425,30.349 C568.659,28.377 567.633,26.702 565.965,25.035 C564.297,23.368 562.623,22.342 560.652,21.575 C558.743,20.834 556.562,20.326 553.369,20.18 C550.169,20.033 549.148,20 541,20 C532.853,20 531.831,20.033 528.631,20.18 C525.438,20.326 523.257,20.834 521.349,21.575 C519.376,22.342 517.703,23.368 516.035,25.035 C514.368,26.702 513.342,28.377 512.574,30.349 C511.834,32.258 511.326,34.438 511.181,37.631 C511.035,40.831 511,41.851 511,50 C511,58.147 511.035,59.17 511.181,62.369 C511.326,65.562 511.834,67.743 512.574,69.651 C513.342,71.625 514.368,73.296 516.035,74.965 C517.703,76.634 519.376,77.658 521.349,78.425 C523.257,79.167 525.438,79.673 528.631,79.82 C531.831,79.965 532.853,80.001 541,80.001 C549.148,80.001 550.169,79.965 553.369,79.82 C556.562,79.673 558.743,79.167 560.652,78.425 C562.623,77.658 564.297,76.634 565.965,74.965 C567.633,73.296 568.659,71.625 569.425,69.651 C570.167,67.743 570.674,65.562 570.82,62.369 C570.966,59.17 571,58.147 571,50 C571,41.851 570.966,40.831 570.82,37.631"></path></g></g></g></svg></div><div> <div>View this post on Instagram</div></div><div></div> <div><div> <div></div> <div></div> <div></div></div><div> <div></div> <div></div></div><div> <div></div> <div></div> <div></div></div></div> <div> <div></div> <div></div></div></a></div></blockquote> </figure><p><br>বিশেষ এই বুট পাওয়ার পর নিজের আনন্দ আর ধরে রাখতে পারেননি মোরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে মেসি ও অ্যাডিডাসকে ধন্যবাদ জানিয়ে পোস্ট দিয়েছেন মেক্সিকান ফুটবলার। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘মেসি +১০ প্রকল্পের অংশ হতে পারাটা সম্মানের। আমাকে বেছে নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ মেসি ও অ্যাডিডাসকে। আপনার বুট পরে খেলতে পারাটা হবে আমার স্বপ্নপূরণ।’</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/football/3mccv19b8u">মেসির নামে ফুল, প্রকৃতির বুকে এক টুকরো আর্জেন্টিনা</a></aside><p>অবশ্য মোরার এই স্বীকৃতি হঠাৎ পাওয়া নয়। ক্লাব জোলোস দে তিহুয়ানার হয়ে নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে এরই মধ্যে নজর কেড়েছেন তিনি। মেক্সিকো জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতাও হয়েছে তাঁর। সব মিলিয়ে দেশটির ফুটবলে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় তরুণদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে এই মিডফিল্ডারকে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/jr59z2is/adidasmx2026-05-14T165813.000Z2.jpg"><figcaption>ইউরোপের কোন ক্লাব মোরার পরবর্তী গন্তব্য, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। </figcaption></figure><p><br>মেসির বিশেষ তালিকায় জায়গা পাওয়ায় মোরার পরিচিতি এখন আরও ছড়িয়ে পড়বে আন্তর্জাতিক ফুটবলে। একই সঙ্গে এটি মেক্সিকোর তরুণ ফুটবল প্রতিভার জন্যও একটি বড় স্বীকৃতি।<br>মোরার ভবিষ্যৎ নিয়েও অবশ্য কৌতূহলের কমতি নেই। ইউরোপের কোন ক্লাব তাঁর পরবর্তী গন্তব্য, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। </p><p>আপাতত ভবিষ্যতের সেই ভাবনা সরিয়ে রেখে বর্তমানের আনন্দটাই উপভোগ করতে পারেন মোরা। কারণ, ১৮ বছর বয়সেই তিনি এমন এক স্বীকৃতি পেয়েছেন, যা বিশ্বের অসংখ্য তরুণ ফুটবলারের স্বপ্ন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/football/a0s2q1fs2y">মেসি বিদায় নিয়েছেন, আর্জেন্টিনা দলে এসেছেন নতুন লিওনেল</a></aside>
বেসরকারি ব্যাংকে পরিবারতন্ত্রের প্রভাব কমাতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যেসব সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছিল, সেখান থেকে সরে আসছে বর্তমান সরকার।
<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-15/s8vgmqfs/PXL20261012234142902.jpg.jpeg"><figcaption>যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস রিও গ্র্যান্ডে ভ্যালিতে পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডি করছেন মো. আল আমীন মিয়া</figcaption></figure><p>একদিন যে ক্লাসে বসে গণিত শিখেছেন, সেখানেই শিক্ষক হয়ে ফিরবেন, কখনো ভাবেননি মো. আল আমীন মিয়া। যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করতে যাবেন, সেটাও তাঁর ভাবনায় ছিল। গণিতের প্রতি ভালোবাসাই তাঁর পথ ঠিক করে দিয়েছে। </p><p>ছাত্রজীবনে প্রতি রোববার প্রথম আলোর ‘স্বপ্ন নিয়ে’ পড়তেন। অন্যের সাফল্যের গল্প পড়ে ভাবতেন, একদিন হয়তো তাঁর জীবনও কাউকে স্বপ্ন দেখতে সাহস জোগাবে। সেই দিনটা কি চলেই এল? </p><p>সরকারি তিতুমীর কলেজে গণিত বিভাগে পড়েছেন তিনি। এরপর ৩৫তম বিসিএসের মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দেন নিজের বিভাগেই। এখন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস রিও গ্র্যান্ডে ভ্যালিতে (ইউটিআরজিভি) পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডি করছেন মো. আল আমীন মিয়া। পিএইচডি করতে যাওয়ার আগে তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবেও কাজ করেছেন। </p><h3>শিক্ষার্থী থেকে শিক্ষক </h3><p>উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পর একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন আল আমীন। তবে পছন্দের সাবজেক্ট না পাওয়ায় শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের জন্য অপছন্দের বিষয়ে পড়তে চাননি। </p><p>গণিতের প্রতি ছোটবেলা থেকেই ভালো লাগা ছিল। কঠিন কোনো সমস্যার সমাধান করতে পারার আনন্দ তাঁকে টানত। তাই গণিতটাই বেছে নেন। </p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/fashion/76c1qfiajh">ধূসর টি-শার্ট থেকে বিলাসবহুল ফ্যাশনে, মার্ক জাকারবার্গের বদলে যাওয়া স্টাইল</a></aside><p>সরকারি তিতুমীর কলেজের গণিত বিভাগে শিক্ষক হিসেবে ফিরে আসা আল আমীনের জীবনের বিশেষ এক অধ্যায়। সাবেক শিক্ষকদের সহকর্মী হিসেবে পাওয়া—এক অন্য রকম অনুভূতি। শিক্ষকতা করতে গিয়ে আল আমীন বুঝেছেন, একজন শিক্ষক শুধু পাঠ্যবইয়ের বিষয় শেখান না, শিক্ষার্থীর চিন্তা ও আত্মবিশ্বাস গঠনেও ভূমিকা রাখেন।</p><p>ক্লাস করানোর সময় বিভাগের বাইরের শিক্ষার্থীরাও নাকি আল আমীনের ক্লাসে এসে বসে থাকতেন। আসতেন মনোবিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরাও। তাঁদের সঙ্গে গণিতের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ ও স্বপ্ন নিয়েও কথা বলতেন তিনি। </p><p>অনেক শিক্ষার্থীকেই অন্য কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ না পাওয়ায় হতাশ হতে দেখেছেন। </p><p>আল আমীন বলেন, ‘আমি তাদের বলতাম, আমিও এই কলেজের শিক্ষার্থী ছিলাম। আমি বিসিএসে টিকেছি, ব্যাংকের চাকরির সুযোগ পেয়েছি। তুমি কোন প্রতিষ্ঠানে পড়ছ, সেটা তোমার ভবিষ্যতের সীমা নির্ধারণ করে না। তুমি যদি সত্যি বড় স্বপ্ন দেখতে পারো, স্বপ্ন অবশ্যই পূরণ করা সম্ভব।’</p><h3>গবেষণার নতুন দিগন্ত </h3><p>শিক্ষকতা করতে করতেই গবেষণার প্রতি আগ্রহ বাড়ে আল আমীনের। গণিতের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিকস, অপটিমাইজেশন ও কম্পিউটেশনাল সায়েন্সের সংযোগ তাঁকে আকৃষ্ট করে। </p><p>উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেন। শেষ পর্যন্ত মোট পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডির আমন্ত্রণ পান। এর মধ্যে বেছে নেন ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস রিও গ্র্যান্ডে ভ্যালির ম্যাথমেটিক্যাল অ্যান্ড স্ট্যাটিস্টিক্যাল সায়েন্সেস প্রোগ্রাম। </p><p>বর্তমানে সেখানে পিএইচডির পাশাপাশি গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে গবেষণায় যুক্ত আছেন। গাণিতিক অপটিমাইজেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রিইনফোর্সমেন্ট লার্নিং ব্যবহার করে এমন পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছেন, যাতে রোবট পরিবর্তনশীল পরিবেশে নিরাপদ ও দক্ষভাবে চলাচলের পথ নির্ধারণ করতে পারে।</p><p>আল আমীন বলেন, ‘শিল্পকারখানা, গুদাম ও হাসপাতালের মতো জায়গায় স্বয়ংক্রিয় রোবটের ব্যবহার বাড়ছে। ফলে মানুষের সঙ্গে একই পরিবেশে রোবটের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। আমার গবেষণার অভিজ্ঞতা থেকে আমি একটা বিষয় শিখেছি, কোনো মডেল প্রথমবার কাজ না করলে হাল ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। সমস্যার কারণ খুঁজতে হয়, নতুন পদ্ধতি চেষ্টা করতে হয়।’</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/si1izq5fgl">মানবজাতির যাত্রাপথ চিরতরে বদলে যাবে, বলছেন নোবেলজয়ী চিকিৎসক</a></aside><h3>স্বপ্ন ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় </h3><p>বাংলাদেশের সরকারি কলেজে শিক্ষকতা এবং যুক্তরাষ্ট্রে গবেষণার অভিজ্ঞতা থেকে আল আমীন মনে করেন, দুই জায়গারই নিজস্ব শক্তি আছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে গবেষণার অবকাঠামো, অর্থায়ন, ল্যাব সুবিধা এবং বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সহযোগিতার সুযোগ তুলনামূলক বেশি। </p><p>বাংলাদেশের গণিত শিক্ষায় পরিবর্তন আনতে স্নাতক পর্যায় থেকেই শিক্ষার্থীদের গবেষণায় যুক্ত করা, গণিতের সঙ্গে কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশলের সমন্বয় এবং আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ গবেষণার সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। </p><p>পিএইচডি শেষে গবেষণাকে আরও গভীর পর্যায়ে নিয়ে যেতে চান। একই সঙ্গে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও আন্তর্জাতিক মেন্টরশিপের সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখার ইচ্ছা তাঁর। </p><p>ছোটদের উদ্দেশে আল আমীনের বার্তা, ‘নিজের শুরুকে কখনো ছোট করে দেখবেন না। আপনি কোন প্রতিষ্ঠানে পড়ছেন, কোন অঞ্চল থেকে এসেছেন অথবা প্রথমবার কোথায় সুযোগ পাননি, এগুলোর কোনোটিই আপনার শেষ পরিচয় নয়।’</p><p>একসময় অন্যের গল্প পড়ে সাহস পেয়েছেন। এখন চান তাঁর গল্প পড়ে মফস্সলের কোনো শিক্ষার্থীও নিজের ওপর আস্থা রাখুক। আল আমীন বলেন, ‘আজ যদি আমার গল্প পড়ে মফস্সলের কোনো একজন শিক্ষার্থী নিজের মনে একবার বলে, “আমিও পারব”, তাহলে সেটিই আমার জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/85brya60iu">কলেজপড়ুয়া দুই ভাই কীভাবে পেলেন ৩০ হাজার ডলারের বিনিয়োগ</a></aside>
আর্জেন্টিনার বুয়েনস এইরেসের একটি পার্কে একদিন বিজ্ঞানীরা অবাক হয়ে শুনলেন, একটি পাখি এমন একটি সুরে ডাকছে, যা ওই এলাকার রুফাস-কলার্ড স্প্যারো পাখিরা ষাটের দশকে গাইত
<p><strong>রাধিকামোহন মৈত্রে</strong>র জন্ম রাজশাহীর তানোরের তালন্দ জমিদারবাড়িতে ১৯১৭ সালে। ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের এই প্রাজ্ঞ সাধক আচার্য হিসেবে পরিচিত। ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর জীবন, জ্ঞানচর্চা, সংগীতসাধনা, উত্তরাধিকারসহ নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন তাঁর জীবনীকার ও শিষ্য, প্রখ্যাত সরোদবাদক <strong>সোমজিৎ দাশগুপ্ত</strong>। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন <strong>খান</strong> <strong>মো. রবিউল আলম</strong>।</p><p><strong>খান মো. রবিউল আলম:</strong> আচার্য রাধিকামোহন মৈত্র সম্পর্কে এ প্রজন্মকে ধারণা দিন।</p><p><strong>সোমজিৎ দাশগুপ্ত:</strong> ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীত কত পুরোনো, তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন। ৬, ৭ বা ১০ হাজার বছরের পুরোনো হতে পারে। ভারতীয় সভ্যতা ও এর প্রাচীনত্ব বারবার উন্মুক্ত হচ্ছে। এটা কালজয়ী বা সময়োত্তীর্ণ, সুতরাং এখানে যাঁরা আচার্য, ঋষি, শিল্পী—তাঁদের কাজগুলোও কালোত্তীর্ণ। সেই পরম্পরাটি এভাবে চলে আসছে বলেই এ ধারাটি এত সমৃদ্ধ। যেসব ঋষি-শিল্পী কিংবদন্তি হয়ে গেছেন, তাঁরা কোনো প্রজন্মে হয়তো ৫০০ বছর বা ১ হাজার বছর আলোকিত বা কম শ্রুত হতে পারেন, কিন্তু তাতে কিছু যায় আসে না।</p><p>রাধিকামোহন মৈত্রের উপস্থিতি ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতে অনেকটা পাণিনির অষ্টাধ্যায়ী ব্যাকরণের মতো, যা ছাড়া প্রাচীন ভারতীয় ভাষা ও সংস্কৃতি গড়ে উঠতে পারে না। রাধিকামোহন মৈত্রকে বাদ দিলে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীত নানা রকমের আলো হারায়। বিষয়টি আধুনিক প্রজন্ম কতটা মনে রাখছে বা রাখছে না, তাতে কিছু আসে যায় না। এটা বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস আরণ্যক-এর মতো। কতজন এ উপন্যাসের কথা জানেন তাতে কি উপন্যাসটির কিছু যায় আসে? কিন্তু বাংলা সাহিত্যের যায় আসে। আরণ্যক-এর মতো বন নিয়ে দ্বিতীয় উপন্যাসটি হয়তো আর লেখা হবে না। তেমনই ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতে রাধিকামোহন মৈত্রের মতো আরেকজন পাওয়া খুব মুশকিল। আমার খুব শ্রদ্ধেয় শিল্পী রিতা গাঙ্গুলি বলেছেন, ‘উনি তো অবতারতুল্য।’ তো ও রকম যাঁরা হন তাঁরা তো অনেক প্রজন্মজুড়ে থাকতে এসেছেন কাজ নিয়ে, উপস্থিতি নিয়ে, শ্রদ্ধা নিয়ে। ভারতীয় শাস্ত্রীয় যন্ত্রসংগীতের রাগের বিশুদ্ধতা, বিরাটসংখ্যক রাগের প্রসার এবং অনেকগুলো বন্দিশ কম্পোজিশনে রাধিকামোহন মৈত্র বিশেষভাবে সমাদৃত। আরেকটি হলো রাগের বিশুদ্ধতা, যা দিয়ে রাগের সাধনা হয়, সার্থক সাধনা হয়। বিশুদ্ধতার চর্চা রাধিকামোহন মৈত্র করেছেন।</p><blockquote>রাধিকামোহন মৈত্র নিজের কর্তব্য করে গেছেন। তাঁর পরবর্তী প্রজন্ম, মানে তাঁর শিষ্যদের মধ্যে আমরা করছি। আমরা গুরুকৃত্যের কর্তব্য করছি। আকাশ তো আকাশই থাকে। আকাশের নিচ দিয়ে কোটি কোটি লোক হাঁটাচলা করে, লোকেরা মাথা তুলে আকাশের দিকে তাকাল কি না, আকাশটাকে দেখল কি না তাতে আকাশের কি কিছু আসে যায়? আমাদের শাস্ত্রীয় সংগীতে তাঁর উপস্থিতি ওই আকাশের মতো। আকাশ না থাকলে পৃথিবীর বারোটা বেজে যাবে। তেমনি তাঁরা না থাকলে মানুষ আবার গুহাবাসের সময়ে পৌঁছে যাবে।</blockquote><p><strong>রবিউল:</strong> শিষ্যদের ব্যাপারে পণ্ডিত রাধিকামোহন মৈত্র কতটা নিষ্ঠাবান ছিলেন?</p><p><strong>সোমজিৎ:</strong> রাধিকামোহন মৈত্র নিজের কর্তব্য করে গেছেন। তাঁর পরবর্তী প্রজন্ম, মানে তাঁর শিষ্যদের মধ্যে আমরা করছি। আমরা গুরুকৃত্যের কর্তব্য করছি। আকাশ তো আকাশই থাকে। আকাশের নিচ দিয়ে কোটি কোটি লোক হাঁটাচলা করে, লোকেরা মাথা তুলে আকাশের দিকে তাকাল কি না, আকাশটাকে দেখল কি না তাতে আকাশের কি কিছু আসে যায়? আমাদের শাস্ত্রীয় সংগীতে তাঁর উপস্থিতি ওই আকাশের মতো। আকাশ না থাকলে পৃথিবীর বারোটা বেজে যাবে। তেমনি তাঁরা না থাকলে মানুষ আবার গুহাবাসের সময়ে পৌঁছে যাবে।</p><p>তিনি গভীর শিল্পের উপাসক, যা তিনি ছড়িয়ে দিয়ে গেছেন। তাঁর কাছ থেকে ৩২ ধরনের বাদ্যযন্ত্র আমরা পাচ্ছি, যা অবিভক্ত বাংলায় ছড়িয়ে পড়েছিল। সারা ভারতবর্ষে তাঁর পরম্পরা ধরে রাখা হয়েছে। তাঁর সম্পর্কে জানা বা না-জানা অন্যদের কর্তব্যের মধ্যে পড়ে।</p><p>আধুনিক প্রজন্মের যাঁরা গান-বাজনা চর্চা করছেন, তাঁরা যেন তাঁকে যথেষ্ট স্মরণে রাখেন। তিনি তাঁর ধ্রুপদি দৃষ্টিভঙ্গি খুব দৃঢ়ভাবে ধরে রেখেছিলেন। আবার খুব আধুনিক ছিলেন ভেতরে-ভেতরে। তিনি বলতেন, আমি একভাবে শিখেছি, এখন তোমাদের একটু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে শেখাচ্ছি। সেই শেখানোর ফলটা এমন হয়েছিল যে পণ্ডিত রবিশঙ্কর একবার আমাকে বলেছিলেন, ‘তোমরা তো ওনার ছাত্র। তোমরা যেখানেই বসে গান-বাজনা করো না কেন, কেউ ফেলে দিতে পারবে না।’ এই কথার অর্থ হলো তাঁর শিষ্যদের বা পরম্পরার লোকদের বাতিল করা যাবে না, শুনতে হবে। জায়গাটি দিনে দিনে আরও প্রস্ফুটিত হচ্ছে।</p><p><strong>রবিউল:</strong> পণ্ডিত রাধিকামোহন মৈত্রের জানাশোনার পরিধি সম্পর্কে জানতে চাই।</p><p><strong>সোমজিৎ:</strong> তাঁর শিক্ষা, চর্চা, পরম্পরা ও চিন্তাভাবনা গভীর প্রভাব ফেলছে, ভবিষ্যতেও ফেলবে। রাধিকামোহন মৈত্র সব সময় শিক্ষা ও পড়াশোনাকে খুব গুরুত্ব দিয়েছেন। আমরা রামকৃষ্ণ ঠাকুরের কথা বলতে পারি। রামকৃষ্ণ ঠাকুরের পরম্পরার একটি ধারা রাধিকামোহন মৈত্র ও তাঁর শিষ্যরা। যেমন রামকৃষ্ণ ঠাকুরের শিষ্য ছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ। বিবেকানন্দের শিষ্য ছিলেন ভগবানচন্দ্র সেন। ভগবানচন্দ্রের শিষ্য হলেন রাধিকামোহন মৈত্র। সেই রামকৃষ্ণ বলেছেন, নরেন (স্বামী বিবেকানন্দ) লোকশিক্ষা দেবে। তার মানে লোকশিক্ষার দরকার আছে। লোকশিক্ষা দিতে হবে। লোকশিক্ষার কাজটি রামকৃষ্ণ মিশন এখনো করছে। এ লোকশিক্ষার বিষয়টিতে রাধিকামোহন মৈত্র খুব জোর দিতেন। পড়াশোনায় খুব জোর দিতেন। নিজেও অসামান্য পড়াশোনা করেছিলেন। তাঁর পড়াশোনার পরিধি আজও আমার কাছে ধাঁধার মতো মনে হয়। সব ব্যাপারে তাঁর শাস্ত্রীয় পড়াশোনা ছিল। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শনশাস্ত্র নিয়ে পড়েছিলেন। যাহোক, দর্শনশাস্ত্র নিয়ে তাঁর পড়াশোনা, কিন্তু হিউম্যান ফিজিওলজি নিয়ে প্রশ্ন করলেও তিনি উত্তর দিতে পারতেন। সত্যেন্দ্রনাথ বসুর সঙ্গে কোয়ান্টাম ফিজিকস নিয়ে আলোচনা করতেন। কোয়ান্টাম নিয়ে কবিতাও লিখেছিলেন। আবার সংস্কৃত পণ্ডিত গৌরীনাথ শাস্ত্রী বা এ রকম মানুষদের সঙ্গে সংস্কৃতশাস্ত্র নিয়ে আলোচনা করতেন। পাণিনির অষ্টাধ্যায় নিয়ে আলোচনা করতেন। ব্যাকরণ কৌমুদী নিয়েও আলোচনা হচ্ছে, বৈষ্ণবসাহিত্যের অনেক কিছু নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, রামায়ণ বা মহাভারতের বিভিন্ন পঙ্ক্তি আওড়াচ্ছেন। কী অসাধারণ জ্ঞান, ভাবা যায়! একজন মানুষের এত কিছু রপ্ত করা কীভাবে সম্ভব হয়েছে? অন্যদের কাছে শুনেছি, তাঁর বাবা ব্রজেন্দ্রমোহন মৈত্রও ওই রকম পণ্ডিত ছিলেন। আমরা তাঁকে বুড়ো দাদু বলে ডাকতাম। বুড়ো দাদু বলেছিলেন, সংগীতের বিষয়ে তিনি না-জ্ঞানে, না-চর্চায় রাধু বাবুর পর্যায়ে যেতে পেরেছেন।</p><blockquote>রাধিকামোহন মৈত্র কখনো পুরোনো হবেন না, উবে যাবেন না। তাঁর প্রাসঙ্গিকতা সব সময় থাকবে। ভারতীয় সংস্কৃতি, শাস্ত্রীয় সংগীত, রাগের বিশুদ্ধতা এবং বিপুলসংখ্যক রাগের সংগ্রহ ও প্রসারে তাঁর অবদান রয়েছে। ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীত ছাড়াও বিজ্ঞান, দর্শনসহ জ্ঞানের অন্যান্য শাখায় তাঁর ব্যাপক বিচরণ ছিল। পড়াশোনার গুরুত্ব আমরা তাঁর কাছ থেকে শিখেছি। কে কোনটা নেবে, তা নির্ভর করছে সে কী চর্চা করে, তার পারিবারিক আবহ কী ইত্যাদির ওপর।</blockquote><p><strong>রবিউল:</strong> রাধিকামোহন মৈত্র কখনো পুরোনা হয়ে যাবেন—এমন শঙ্কা কি রয়েছে?</p><p><strong>সোমজিৎ:</strong> রাধিকামোহন মৈত্র কখনো পুরোনো হবেন না, উবে যাবেন না। তাঁর প্রাসঙ্গিকতা সব সময় থাকবে। ভারতীয় সংস্কৃতি, শাস্ত্রীয় সংগীত, রাগের বিশুদ্ধতা এবং বিপুলসংখ্যক রাগের সংগ্রহ ও প্রসারে তাঁর অবদান রয়েছে। ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীত ছাড়াও বিজ্ঞান, দর্শনসহ জ্ঞানের অন্যান্য শাখায় তাঁর ব্যাপক বিচরণ ছিল। পড়াশোনার গুরুত্ব আমরা তাঁর কাছ থেকে শিখেছি। কে কোনটা নেবে, তা নির্ভর করছে সে কী চর্চা করে, তার পারিবারিক আবহ কী ইত্যাদির ওপর।</p><p><strong>রবিউল:</strong> রাধিকামোহনের সরোদসাধনার গভীরতা ও পরম্পরা সম্পর্কে জানতে চাই।</p><p><strong>সোমজিৎ:</strong> রাধিকামোহন মৈত্র একজন যুগন্ধর শিল্পী। তাঁর সরোদ বা যন্ত্রসংগীত বা সংগীতসাধনা সম্পর্কে বলার ধৃষ্টতা আমার নেই। অনেক বড় বড় শিল্পীও বলেছেন, তাঁদেরও ধৃষ্টতা নেই। তাঁদের কাছে যখন তাঁর সম্পর্কে সাক্ষাৎকার নিতে গেছি, তখন তাঁরা বলেছেন, তাঁর সম্পর্কে বলা খুব কঠিন। একটি বিশেষ দিক হলো, রাধিকামোহন মৈত্রের পরিবারে সংগীত আগে থেকেই ছিল। গত দুই শ সোয়া দুই শ বছরে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের বড় শিল্পীরা রাধিকামোহন মৈত্রদের রাজশাহীর জমিদারবাড়িতে গানবাজনা করেছেন। সেই রকম একটা পরিমণ্ডলে বড় বড় কীর্তনের শিল্পী পর্যন্ত সমবেত হতেন, কথকতা হতো, যাত্রাপালা হতো, সমৃদ্ধতম সংগীত সেখানে চর্চা হয়েছিল। কীর্তনাঙ্গের বাউল থেকে অতিসমৃদ্ধ কীর্তন চলেছিল। মৈত্রবাড়ির সংগীতের পরম্পরার প্রায় পাঁচ শ বছর হতে চলেছে। এত বড় পরম্পরার মধ্যে রাধিকামোহন মৈত্র জন্মেছিলেন। তাঁর ঠাকুরদা মৃদঙ্গম, পাখোয়াজ, শ্রীখোল ইত্যাদি বাজাতেন। আর সেই সময় সবাই অল্পবিস্তর গানবাজনা করতে পারতেন। সেই অল্পবিস্তরই আজকের জামানার তুলনায় অনেক সমৃদ্ধ ও অনেক উচ্চস্তরের ছিল। সেই চর্চা তাঁর পিতামহ ললিতামোহন মৈত্রের মধ্যে ছিল। ললিতামোহন তাঁর বন্ধু ভগবান চন্দ্র সেনের কাছে পাখোয়াজের শিক্ষা নিয়েছেন। ললিতামোহনদের বাড়ির দরবারে যাঁরা গানবাজনা করেছেন ভগবান চন্দ্র সেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম। ভগবানচন্দ্র সেন ছিলেন তাঁদের ঘরের মানুষ।</p><p><strong>রবিউল:</strong> রাধিকামোহন মৈত্রের গুরু কে বা কারা?</p><p><strong>সোমজিৎ:</strong> রাধিকামোহন মৈত্রের পেছনে যাঁর অবদান বেশি, তিনি হলেন প্রখ্যাত সরোদবাদক ওস্তাদ আমির খাঁ। তিনি শাহাজানপুরে থাকতেন। সেখান থেকে এসেছিলেন। দ্বারভাঙা রাজদরবার থেকে কলকাতার রাজা নবকৃষ্ণের বাড়িতে এসেছিলেন। সেখান থেকে চলে যান রাজশাহীতে রাধিকামোহন মৈত্রদের জমিদারবাড়িতে। আমির খাঁ রাধিকামোহন মৈত্রকে ৪ বছর বয়স থেকে ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত শিক্ষাদান করেছিলেন। তার মধ্যে সরোদ, সুরশৃঙ্গার, বীণা, সুরবাহার—এসব যন্ত্র ছিল। সংগীতের সামগ্রিক একটি শিক্ষা ওস্তাদ আমির খাঁ রাধিকামোহন মৈত্রকে দিয়েছিলেন।</p><p>...</p><p>সাক্ষাৎকারের পরবর্তী কিস্তিগুলো ক্রমান্বয়ে প্রকাশিত হবে।</p>
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন