interview

সোমজিৎ দাশগুপ্তের সাক্ষাৎকার: রাধিকামোহন সব সময় প্রাসঙ্গিক

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
সোমজিৎ দাশগুপ্তের সাক্ষাৎকার: রাধিকামোহন সব সময় প্রাসঙ্গিক
সোমজিৎ দাশগুপ্তের সাক্ষাৎকার: রাধিকামোহন সব সময় প্রাসঙ্গিক
<p><strong>রাধিকামোহন মৈত্রে</strong>র জন্ম রাজশাহীর তানোরের তালন্দ জমিদারবাড়িতে ১৯১৭ সালে। ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের এই প্রাজ্ঞ সাধক আচার্য হিসেবে পরিচিত। ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর জীবন, জ্ঞানচর্চা, সংগীতসাধনা, উত্তরাধিকারসহ নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন তাঁর জীবনীকার ও শিষ্য, প্রখ্যাত সরোদবাদক <strong>সোমজিৎ দাশগুপ্ত</strong>। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন <strong>খান</strong> <strong>মো. রবিউল আলম</strong>।</p><p><strong>খান মো. রবিউল আলম:</strong> আচার্য রাধিকামোহন মৈত্র সম্পর্কে এ প্রজন্মকে ধারণা দিন।</p><p><strong>সোমজিৎ দাশগুপ্ত:</strong> ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীত কত পুরোনো, তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন। ৬, ৭ বা ১০ হাজার বছরের পুরোনো হতে পারে। ভারতীয় সভ্যতা ও এর প্রাচীনত্ব বারবার উন্মুক্ত হচ্ছে। এটা কালজয়ী বা সময়োত্তীর্ণ, সুতরাং এখানে যাঁরা আচার্য, ঋষি, শিল্পী—তাঁদের কাজগুলোও কালোত্তীর্ণ। সেই পরম্পরাটি এভাবে চলে আসছে বলেই এ ধারাটি এত সমৃদ্ধ। যেসব ঋষি-শিল্পী কিংবদন্তি হয়ে গেছেন, তাঁরা কোনো প্রজন্মে হয়তো ৫০০ বছর বা ১ হাজার বছর আলোকিত বা কম শ্রুত হতে পারেন, কিন্তু তাতে কিছু যায় আসে না।</p><p>রাধিকামোহন মৈত্রের উপস্থিতি ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতে অনেকটা পাণিনির অষ্টাধ্যায়ী ব্যাকরণের মতো, যা ছাড়া প্রাচীন ভারতীয় ভাষা ও সংস্কৃতি গড়ে উঠতে পারে না। রাধিকামোহন মৈত্রকে বাদ দিলে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীত নানা রকমের আলো হারায়। বিষয়টি আধুনিক প্রজন্ম কতটা মনে রাখছে বা রাখছে না, তাতে কিছু আসে যায় না। এটা বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস আরণ্যক-এর মতো। কতজন এ উপন্যাসের কথা জানেন তাতে কি উপন্যাসটির কিছু যায় আসে? কিন্তু বাংলা সাহিত্যের যায় আসে। আরণ্যক-এর মতো বন নিয়ে দ্বিতীয় উপন্যাসটি হয়তো আর লেখা হবে না। তেমনই ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতে রাধিকামোহন মৈত্রের মতো আরেকজন পাওয়া খুব মুশকিল। আমার খুব শ্রদ্ধেয় শিল্পী রিতা গাঙ্গুলি বলেছেন, ‘উনি তো অবতারতুল্য।’ তো ও রকম যাঁরা হন তাঁরা তো অনেক প্রজন্মজুড়ে থাকতে এসেছেন কাজ নিয়ে, উপস্থিতি নিয়ে, শ্রদ্ধা নিয়ে। ভারতীয় শাস্ত্রীয় যন্ত্রসংগীতের রাগের বিশুদ্ধতা, বিরাটসংখ্যক রাগের প্রসার এবং অনেকগুলো বন্দিশ কম্পোজিশনে রাধিকামোহন মৈত্র বিশেষভাবে সমাদৃত। আরেকটি হলো রাগের বিশুদ্ধতা, যা দিয়ে রাগের সাধনা হয়, সার্থক সাধনা হয়। বিশুদ্ধতার চর্চা রাধিকামোহন মৈত্র করেছেন।</p><blockquote>রাধিকামোহন মৈত্র নিজের কর্তব্য করে গেছেন। তাঁর পরবর্তী প্রজন্ম, মানে তাঁর শিষ্যদের মধ্যে আমরা করছি। আমরা গুরুকৃত্যের কর্তব্য করছি। আকাশ তো আকাশই থাকে। আকাশের নিচ দিয়ে কোটি কোটি লোক হাঁটাচলা করে, লোকেরা মাথা তুলে আকাশের দিকে তাকাল কি না, আকাশটাকে দেখল কি না তাতে আকাশের কি কিছু আসে যায়? আমাদের শাস্ত্রীয় সংগীতে তাঁর উপস্থিতি ওই আকাশের মতো। আকাশ না থাকলে পৃথিবীর বারোটা বেজে যাবে। তেমনি তাঁরা না থাকলে মানুষ আবার গুহাবাসের সময়ে পৌঁছে যাবে।</blockquote><p><strong>রবিউল:</strong> শিষ্যদের ব্যাপারে পণ্ডিত রাধিকামোহন মৈত্র কতটা নিষ্ঠাবান ছিলেন?</p><p><strong>সোমজিৎ:</strong> রাধিকামোহন মৈত্র নিজের কর্তব্য করে গেছেন। তাঁর পরবর্তী প্রজন্ম, মানে তাঁর শিষ্যদের মধ্যে আমরা করছি। আমরা গুরুকৃত্যের কর্তব্য করছি। আকাশ তো আকাশই থাকে। আকাশের নিচ দিয়ে কোটি কোটি লোক হাঁটাচলা করে, লোকেরা মাথা তুলে আকাশের দিকে তাকাল কি না, আকাশটাকে দেখল কি না তাতে আকাশের কি কিছু আসে যায়? আমাদের শাস্ত্রীয় সংগীতে তাঁর উপস্থিতি ওই আকাশের মতো। আকাশ না থাকলে পৃথিবীর বারোটা বেজে যাবে। তেমনি তাঁরা না থাকলে মানুষ আবার গুহাবাসের সময়ে পৌঁছে যাবে।</p><p>তিনি গভীর শিল্পের উপাসক, যা তিনি ছড়িয়ে দিয়ে গেছেন। তাঁর কাছ থেকে ৩২ ধরনের বাদ্যযন্ত্র আমরা পাচ্ছি, যা অবিভক্ত বাংলায় ছড়িয়ে পড়েছিল। সারা ভারতবর্ষে তাঁর পরম্পরা ধরে রাখা হয়েছে। তাঁর সম্পর্কে জানা বা না-জানা অন্যদের কর্তব্যের মধ্যে পড়ে।</p><p>আধুনিক প্রজন্মের যাঁরা গান-বাজনা চর্চা করছেন, তাঁরা যেন তাঁকে যথেষ্ট স্মরণে রাখেন। তিনি তাঁর ধ্রুপদি দৃষ্টিভঙ্গি খুব দৃঢ়ভাবে ধরে রেখেছিলেন। আবার খুব আধুনিক ছিলেন ভেতরে-ভেতরে। তিনি বলতেন, আমি একভাবে শিখেছি, এখন তোমাদের একটু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে শেখাচ্ছি। সেই শেখানোর ফলটা এমন হয়েছিল যে পণ্ডিত রবিশঙ্কর একবার আমাকে বলেছিলেন, ‘তোমরা তো ওনার ছাত্র। তোমরা যেখানেই বসে গান-বাজনা করো না কেন, কেউ ফেলে দিতে পারবে না।’ এই কথার অর্থ হলো তাঁর শিষ্যদের বা পরম্পরার লোকদের বাতিল করা যাবে না, শুনতে হবে। জায়গাটি দিনে দিনে আরও প্রস্ফুটিত হচ্ছে।</p><p><strong>রবিউল:</strong> পণ্ডিত রাধিকামোহন মৈত্রের জানাশোনার পরিধি সম্পর্কে জানতে চাই।</p><p><strong>সোমজিৎ:</strong> তাঁর শিক্ষা, চর্চা, পরম্পরা ও চিন্তাভাবনা গভীর প্রভাব ফেলছে, ভবিষ্যতেও ফেলবে। রাধিকামোহন মৈত্র সব সময় শিক্ষা ও পড়াশোনাকে খুব গুরুত্ব দিয়েছেন। আমরা রামকৃষ্ণ ঠাকুরের কথা বলতে পারি। রামকৃষ্ণ ঠাকুরের পরম্পরার একটি ধারা রাধিকামোহন মৈত্র ও তাঁর শিষ্যরা। যেমন রামকৃষ্ণ ঠাকুরের শিষ্য ছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ। বিবেকানন্দের শিষ্য ছিলেন ভগবানচন্দ্র সেন। ভগবানচন্দ্রের শিষ্য হলেন রাধিকামোহন মৈত্র। সেই রামকৃষ্ণ বলেছেন, নরেন (স্বামী বিবেকানন্দ) লোকশিক্ষা দেবে। তার মানে লোকশিক্ষার দরকার আছে। লোকশিক্ষা দিতে হবে। লোকশিক্ষার কাজটি রামকৃষ্ণ মিশন এখনো করছে। এ লোকশিক্ষার বিষয়টিতে রাধিকামোহন মৈত্র খুব জোর দিতেন। পড়াশোনায় খুব জোর দিতেন। নিজেও অসামান্য পড়াশোনা করেছিলেন। তাঁর পড়াশোনার পরিধি আজও আমার কাছে ধাঁধার মতো মনে হয়। সব ব্যাপারে তাঁর শাস্ত্রীয় পড়াশোনা ছিল। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শনশাস্ত্র নিয়ে পড়েছিলেন। যাহোক, দর্শনশাস্ত্র নিয়ে তাঁর পড়াশোনা, কিন্তু হিউম্যান ফিজিওলজি নিয়ে প্রশ্ন করলেও তিনি উত্তর দিতে পারতেন। সত্যেন্দ্রনাথ বসুর সঙ্গে কোয়ান্টাম ফিজিকস নিয়ে আলোচনা করতেন। কোয়ান্টাম নিয়ে কবিতাও লিখেছিলেন। আবার সংস্কৃত পণ্ডিত গৌরীনাথ শাস্ত্রী বা এ রকম মানুষদের সঙ্গে সংস্কৃতশাস্ত্র নিয়ে আলোচনা করতেন। পাণিনির অষ্টাধ্যায় নিয়ে আলোচনা করতেন। ব্যাকরণ কৌমুদী নিয়েও আলোচনা হচ্ছে, বৈষ্ণবসাহিত্যের অনেক কিছু নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, রামায়ণ বা মহাভারতের বিভিন্ন পঙ্ক্তি আওড়াচ্ছেন। কী অসাধারণ জ্ঞান, ভাবা যায়! একজন মানুষের এত কিছু রপ্ত করা কীভাবে সম্ভব হয়েছে? অন্যদের কাছে শুনেছি, তাঁর বাবা ব্রজেন্দ্রমোহন মৈত্রও ওই রকম পণ্ডিত ছিলেন। আমরা তাঁকে বুড়ো দাদু বলে ডাকতাম। বুড়ো দাদু বলেছিলেন, সংগীতের বিষয়ে তিনি না-জ্ঞানে, না-চর্চায় রাধু বাবুর পর্যায়ে যেতে পেরেছেন।</p><blockquote>রাধিকামোহন মৈত্র কখনো পুরোনো হবেন না, উবে যাবেন না। তাঁর প্রাসঙ্গিকতা সব সময় থাকবে। ভারতীয় সংস্কৃতি, শাস্ত্রীয় সংগীত, রাগের বিশুদ্ধতা এবং বিপুলসংখ্যক রাগের সংগ্রহ ও প্রসারে তাঁর অবদান রয়েছে। ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীত ছাড়াও বিজ্ঞান, দর্শনসহ জ্ঞানের অন্যান্য শাখায় তাঁর ব্যাপক বিচরণ ছিল। পড়াশোনার গুরুত্ব আমরা তাঁর কাছ থেকে শিখেছি। কে কোনটা নেবে, তা নির্ভর করছে সে কী চর্চা করে, তার পারিবারিক আবহ কী ইত্যাদির ওপর।</blockquote><p><strong>রবিউল:</strong> রাধিকামোহন মৈত্র কখনো পুরোনা হয়ে যাবেন—এমন শঙ্কা কি রয়েছে?</p><p><strong>সোমজিৎ:</strong> রাধিকামোহন মৈত্র কখনো পুরোনো হবেন না, উবে যাবেন না। তাঁর প্রাসঙ্গিকতা সব সময় থাকবে। ভারতীয় সংস্কৃতি, শাস্ত্রীয় সংগীত, রাগের বিশুদ্ধতা এবং বিপুলসংখ্যক রাগের সংগ্রহ ও প্রসারে তাঁর অবদান রয়েছে। ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীত ছাড়াও বিজ্ঞান, দর্শনসহ জ্ঞানের অন্যান্য শাখায় তাঁর ব্যাপক বিচরণ ছিল। পড়াশোনার গুরুত্ব আমরা তাঁর কাছ থেকে শিখেছি। কে কোনটা নেবে, তা নির্ভর করছে সে কী চর্চা করে, তার পারিবারিক আবহ কী ইত্যাদির ওপর।</p><p><strong>রবিউল:</strong> রাধিকামোহনের সরোদসাধনার গভীরতা ও পরম্পরা সম্পর্কে জানতে চাই।</p><p><strong>সোমজিৎ:</strong> রাধিকামোহন মৈত্র একজন যুগন্ধর শিল্পী। তাঁর সরোদ বা যন্ত্রসংগীত বা সংগীতসাধনা সম্পর্কে বলার ধৃষ্টতা আমার নেই। অনেক বড় বড় শিল্পীও বলেছেন, তাঁদেরও ধৃষ্টতা নেই। তাঁদের কাছে যখন তাঁর সম্পর্কে সাক্ষাৎকার নিতে গেছি, তখন তাঁরা বলেছেন, তাঁর সম্পর্কে বলা খুব কঠিন। একটি বিশেষ দিক হলো, রাধিকামোহন মৈত্রের পরিবারে সংগীত আগে থেকেই ছিল। গত দুই শ সোয়া দুই শ বছরে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের বড় শিল্পীরা রাধিকামোহন মৈত্রদের রাজশাহীর জমিদারবাড়িতে গানবাজনা করেছেন। সেই রকম একটা পরিমণ্ডলে বড় বড় কীর্তনের শিল্পী পর্যন্ত সমবেত হতেন, কথকতা হতো, যাত্রাপালা হতো, সমৃদ্ধতম সংগীত সেখানে চর্চা হয়েছিল। কীর্তনাঙ্গের বাউল থেকে অতিসমৃদ্ধ কীর্তন চলেছিল। মৈত্রবাড়ির সংগীতের পরম্পরার প্রায় পাঁচ শ বছর হতে চলেছে। এত বড় পরম্পরার মধ্যে রাধিকামোহন মৈত্র জন্মেছিলেন। তাঁর ঠাকুরদা মৃদঙ্গম, পাখোয়াজ, শ্রীখোল ইত্যাদি বাজাতেন। আর সেই সময় সবাই অল্পবিস্তর গানবাজনা করতে পারতেন। সেই অল্পবিস্তরই আজকের জামানার তুলনায় অনেক সমৃদ্ধ ও অনেক উচ্চস্তরের ছিল। সেই চর্চা তাঁর পিতামহ ললিতামোহন মৈত্রের মধ্যে ছিল। ললিতামোহন তাঁর বন্ধু ভগবান চন্দ্র সেনের কাছে পাখোয়াজের শিক্ষা নিয়েছেন। ললিতামোহনদের বাড়ির দরবারে যাঁরা গানবাজনা করেছেন ভগবান চন্দ্র সেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম। ভগবানচন্দ্র সেন ছিলেন তাঁদের ঘরের মানুষ।</p><p><strong>রবিউল:</strong> রাধিকামোহন মৈত্রের গুরু কে বা কারা?</p><p><strong>সোমজিৎ:</strong> রাধিকামোহন মৈত্রের পেছনে যাঁর অবদান বেশি, তিনি হলেন প্রখ্যাত সরোদবাদক ওস্তাদ আমির খাঁ। তিনি শাহাজানপুরে থাকতেন। সেখান থেকে এসেছিলেন। দ্বারভাঙা রাজদরবার থেকে কলকাতার রাজা নবকৃষ্ণের বাড়িতে এসেছিলেন। সেখান থেকে চলে যান রাজশাহীতে রাধিকামোহন মৈত্রদের জমিদারবাড়িতে। আমির খাঁ রাধিকামোহন মৈত্রকে ৪ বছর বয়স থেকে ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত শিক্ষাদান করেছিলেন। তার মধ্যে সরোদ, সুরশৃঙ্গার, বীণা, সুরবাহার—এসব যন্ত্র ছিল। সংগীতের সামগ্রিক একটি শিক্ষা ওস্তাদ আমির খাঁ রাধিকামোহন মৈত্রকে দিয়েছিলেন।</p><p>...</p><p>সাক্ষাৎকারের পরবর্তী কিস্তিগুলো ক্রমান্বয়ে প্রকাশিত হবে।</p>

Prothomalo

View more
প্রধানমন্ত্রী আসবেন, রাজশাহী নগরের সড়কে পিচঢালাই, রাঙানো হচ্ছে দেয়াল
প্রধানমন্ত্রী আসবেন, রাজশাহী নগরের সড়কে পিচঢালাই, রাঙানো হচ্ছে দেয়াল

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফর উপলক্ষে নগরের বিভিন্ন সড়কে চলছে সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ।

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
পানি সর্বনিম্ন কত তাপমাত্রায় ঠান্ডা হয়েও তরল থাকতে পারে
পানি সর্বনিম্ন কত তাপমাত্রায় ঠান্ডা হয়েও তরল থাকতে পারে

<p>পানিকে অতিশীতল করারও একটি সীমা আছে। পৃষ্ঠতল বা বাইরের কোনো কণা বরফ তৈরির সূচনা না করলেও পানির অণুগুলো নিজেরাই দৈবক্রমে এমন গুচ্ছ তৈরি করতে পারে, যা স্থায়ী বরফের স্ফটিকে পরিণত হয়। তাপমাত্রা যথেষ্ট কমে গেলে এই প্রক্রিয়া দ্রুত ঘটতে থাকে। মেঘের আকারের ছোট পানির ফোঁটার ক্ষেত্রে এই সীমা প্রায় ২৩৫ কেলভিন, অর্থাৎ মাইনাস ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। </p><p>ফোঁটার আকার ও অন্যান্য পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে সীমাটি কিছুটা বদলাতে পারে। তাই মাইনাস ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসকে অনেক সময় অতিশীতল পানির একটি প্রচলিত সীমা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এর চেয়েও কম তাপমাত্রায় তরল পানি থাকতে পারে কি না, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের আগ্রহ দীর্ঘদিনের। পানির এমন একটি তাপমাত্রার অঞ্চল রয়েছে, যেখানে তরল অবস্থা এত দ্রুত বরফে পরিণত হতে পারে যে তা পরিমাপ করা কঠিন। বিজ্ঞানীরা একে কখনো কখনো ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’ বলেন।</p><p>২০১৪ সালে জোনাস সেলবার্গের নেতৃত্বে একদল গবেষক ভ্যাকুয়ামে বা শূন্যস্থানে ছড়িয়ে দেওয়া ক্ষুদ্র পানির ফোঁটার ওপর এক্স-রে লেজার ব্যবহার করেন। ফোঁটাগুলো বাষ্পীভবনের কারণে দ্রুত ঠান্ডা হচ্ছিল। গবেষকেরা প্রায় ২২৭ কেলভিন বা মাইনাস ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো চরম তাপমাত্রাতেও তরল পানির উপস্থিতি শনাক্ত করেন। কিছু ফোঁটা প্রায় এক মিলিসেকেন্ডের জন্য তরল অবস্থায় ছিল।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/31lwgtpelk">পানি হিমাঙ্কের নিচেও তরল থাকে কীভাবে</a></aside><blockquote>পানির এমন একটি তাপমাত্রার অঞ্চল রয়েছে, যেখানে তরল অবস্থা এত দ্রুত বরফে পরিণত হতে পারে যে তা পরিমাপ করা কঠিন। বিজ্ঞানীরা একে কখনো কখনো নো ম্যানস ল্যান্ড বলেন।</blockquote><p>তবে এই তাপমাত্রার হিসাব নিয়ে পরে প্রশ্ন ওঠে। ২০১৮ সালে ক্লডিয়া গয় ও তাঁর সহকর্মীরা বাষ্পীভবনের সময় পানির ফোঁটার আকার ও তাপমাত্রা নিয়ে গবেষণা করেন। তাঁদের পরীক্ষায় প্রায় ৬.৪ মাইক্রোমিটার চওড়া কিছু ফোঁটা ২৩০.৬ কেলভিন বা মাইনাস ৪২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাতেও তরল ছিল। তাঁদের ফলাফল থেকে বোঝা যায়, আগের গবেষণায় পানির তাপমাত্রার সীমা হয়তো আরও কম ধরে নেওয়া হয়েছিল।</p><p>২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক নর্থওয়েস্ট ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির একদল গবেষক ভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করেন। তাঁরা বরফের পাতলা স্তরের ওপর লেজার রশ্মি প্রয়োগ করে অতি অল্প সময়ের জন্য তরল পানির মতো অবস্থা তৈরি করেন। এই অবস্থার তাপমাত্রা ছিল প্রায় ২৪৫ থেকে ১৯০ কেলভিন, অর্থাৎ মাইনাস ২৮ থেকে মাইনাস ৮৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে এই পরীক্ষা ছিল ভিন্ন ধরনের নমুনা ও পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে। তাই একে পানির ক্ষুদ্র ফোঁটার আগের রেকর্ডগুলোর সরাসরি বিকল্প হিসেবে দেখা যায় না।</p><h4>সূত্র: সায়েন্স এবিসি</h4><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/wv7gyrt9bm">পানি কি ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার চেয়ে বেশি গরম হতে পারে</a></aside>

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
মৃত্তিকায় চিন্ময়ী: মাটির বুকেই মহাশক্তির প্রকাশ
মৃত্তিকায় চিন্ময়ী: মাটির বুকেই মহাশক্তির প্রকাশ

মাটির গভীরে লুকিয়ে থাকে সৃষ্টির আদিম গল্প। চট্টগ্রামের রাজাপুকুর লেনের ‘মৃত্তিকায় চিন্ময়ী’ সেই গল্পকেই শিল্পের ভাষায় তুলে ধরে, যেখানে মাটির স্পর্শে মৃন্ময়ী দুর্গা হয়ে ওঠেন চিন্ময়ী।

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
এলাকার ট্যালেন্টেড বড় ভাই রবীন্দ্রনাথ
এলাকার ট্যালেন্টেড বড় ভাই রবীন্দ্রনাথ

<p>মানুষ মূলত তিন ধরনের। এক, যারা রবীন্দ্রনাথকে অতিমাত্রায় শ্রদ্ধা করে। তিন, যারা রবীন্দ্রনাথকে সহ্যই করতে পারে না। আর এই দুই ধরনের মানুষের মধ্যে আছে আমার মতো কিছু মানুষ, যারা রবীন্দ্রনাথকে মনে করে এলাকার ট্যালেন্টেড বড় ভাই টাইপ। সুযোগ পেলে আমরাও রবীন্দ্রনাথের মতো ভালো, কিংবা তার চেয়েও ভালো লিখতে পারতাম। জাস্ট সুযোগটা পাইনি আর কী! আর এই ফাঁকা মাঠেই রবীন্দ্রনাথ সাহিত্যটাহিত্য করে নোবেল পেয়ে গেছে।</p><p>একবার প্রথম ক্যাটাগরির, অর্থাৎ রবীন্দ্রনাথকে অতিমাত্রায় ভক্তিশ্রদ্ধা করেন এমন একজন আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনার প্রিয় সাহিত্যিক কে?</p><p>আমি গম্ভীর গলায় বললাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর!</p><p>তিনি বেশ আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, কেন বলুন তো! এই জেনারেশনের কাউকে আমি বলতে শুনিনি, রবীন্দ্রনাথ তার প্রিয় সাহিত্যিক!</p><p>আমি আরও গম্ভীর গলায় বললাম, মাঝেমধ্যেই আমার ঘুমের সমস্যা হয়। রাতে সহজে ঘুম আসতে চায় না। তখন রবীন্দ্রনাথের গান ছাড়ি। ঝিমানি টাইপ গান। কিছুক্ষণের মধ্যেই আমার ঘুম চলে আসে।</p><p>আমার সাথে ওই ভদ্রলোক এর পরে আর দ্বিতীয়বার কথা বলেননি। কয়েকবার চলতি পথে দেখা হয়েছে, তিনি এমন ভঙ্গি করে আমাকে পাশ কাটিয়ে চলে গেছেন, যেন আমি কোনো ক্রিমিনাল!</p><p>তিন নাম্বার ক্যাটাগরির মানুষের অভিযোগের অবশ্য আগামাথা নেই। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর অভিযোগ, রবীন্দ্রনাথ নাকি বাংলাদেশের স্বাধীনতাই চাননি!</p><p>ফেসবুকের অসংখ্য স্বঘোষিত ইতিহাসবিদের মতোই আমার এক দূরসম্পর্কের মামারও এমন ধারণা। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, এই তথ্য কই পাইছেন?</p><p>তিনি বললেন, এক মুরুব্বির কাছ থেকে শুনেছেন। সেই মুরুব্বি তার জীবনে একটা মিথ্যা কথাও বলেন নাই।</p><p>এই ডিফেন্স ভাঙার সাধ্য আছে কার! এদের সাথে আমি তার আর কোনো তর্কেই যাই না।</p><p>রসিকতার পাশাপাশি দুটো সিরিয়াস কথা বলি এবার। মাঝে কয়েক বছর পেটেভাতে বিজ্ঞাপনের কপি লিখেছিলাম। ক্রিয়েটিভ একটা লাইন লেখার জন্য সে কী হাপিত্যেশ! প্রায়ই মাথা যখন খালি হয়ে যেত, রবীন্দ্রনাথকে স্মরণ করতাম। অনুরোধে হোক কিংবা অন্য কোনো কারণে, রবীন্দ্রনাথ নিজেও অনেক বিজ্ঞাপনের কপি জিঙ্গেল ইত্যাদি লিখেছেন। সুলেখা কালির বিজ্ঞাপন লিখতে গিয়ে তিনি লিখেছিলেন—‘সুলেখা কালি। এই কালি কলঙ্কের চেয়েও কালো।’</p><p>যেই মানুষটা একটা বিজ্ঞাপনের কপিও এত চমৎকার করে লেখেন, তাঁকে ভালো না বেসে উপায় কী! রবীন্দ্রনাথকে তাই গুরুদেবের মতো ভারিক্কি আসনে দূরে দূরে না রেখে আমার রোজকার জীবনের অংশ হিসেবেই গ্রহণ করি। যেন আপন কোনো মানুষ, যার গান শুনে সমস্ত দিনের ক্লান্তি ভুলে শান্তিতে একটু ঘুমানো যায়। দেশের এই অবস্থায় শান্তিতে একটুখানি ঘুমানো যে কী কষ্টের, তা তো কারও অজানা নয়, তাই না?</p> <p>—বি.স.</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/hjysl5gcgx">পরের জন্মে AI হব</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/z87t7zqecu">স্মার্টফোনের অবসর চেয়ে আবেদন</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/88lpnc5wio">রসচিঠি ২০</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/bwluvlmmu8">বিবাহিত পুরুষ চেনার সহজ উপায়</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/kdnfiunl2l">চাঁদাবাজের বর্ণ পরিচয়</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/mrplq2ed70">ইলিশ আছে, ইলিশ হ্যাজ!</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/1b2pl7u0b9">ভদ্র ছেলেরা কখনো হাফপ্যান্ট পরে বাইরে যায়?</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/hfgieb5c91">ককটেল সমাচার</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/fwdnjtnd6a">তেলের সুপ্ত প্রভাব</a></aside>

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে মাখোঁ বললেন, ‘ফরাসিরা ফ্রান্সের সঙ্গে এমন করতে পারে কীভাবে’
সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে মাখোঁ বললেন, ‘ফরাসিরা ফ্রান্সের সঙ্গে এমন করতে পারে কীভাবে’

রাজধানী প্যারিসে বিক্ষোভকারী ও লুটপাটকারীদের সঙ্গে পুলিশের নতুন করে সংঘর্ষের পর গতকাল রোববার মাখোঁ এই নিন্দা জানান।

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
সংরক্ষিত বনভূমিতে তরমুজখেত, ৫০০ ঝাউগাছ উপড়ে ফেলার অভিযোগ
সংরক্ষিত বনভূমিতে তরমুজখেত, ৫০০ ঝাউগাছ উপড়ে ফেলার অভিযোগ

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলের জমি বন্দোবস্ত নিয়ে তরমুজখেত তৈরির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
প্রথম আলোর জন্মদিনে রাজশাহী বন্ধুসভার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
প্রথম আলোর জন্মদিনে রাজশাহী বন্ধুসভার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

উদ্যোগের আওতায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, নির্দিষ্ট একটি বিদ্যালয়ের প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্মদিনে বন্ধুসভার বন্ধুরা প্রত্যেককে উপহার হিসেবে একটি করে বই উপহার দেবেন। শুধু বই উপহার দিয়েই দায়িত্ব শেষ নয়; প্রতি চার থেকে পাঁচ মাস অন্তর উপহার পাওয়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজন করা হবে পাঠচক্র।

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
পত্রিকার পাতায় সাজানো মণ্ডপ, বার্তা সঠিক তথ্যের
পত্রিকার পাতায় সাজানো মণ্ডপ, বার্তা সঠিক তথ্যের

সাইকেলের সামনের খাঁচায়, পেছনের ক্যারিয়ারে রাখা হয়েছে বিভিন্ন পত্রিকা। সে সাইকেল নিয়ে ছুটছেন হকার। আবার আরেক পাশে পত্রিকার পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানি।

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তিতে নীতিমালা, এক শাখায় ৫৫ শিক্ষার্থী, ফি-কোটা পদ্ধতি কেমন
সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তিতে নীতিমালা, এক শাখায় ৫৫ শিক্ষার্থী, ফি-কোটা পদ্ধতি কেমন

দেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণি ও আসন শূন্য থাকা সাপেক্ষে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে।

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন