<p>প্রথম আলো ট্রাস্টের আয়োজনে অনলাইন মাদকবিরোধী পরামর্শ সভায় আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. সরদার আতিক। ২০২৩ সালের ১৭ এপ্রিল উক্ত আয়োজনে ‘মানসিক চাপ সামলাবেন কীভাবে’ এই বিষয়ের উপর আলোচনা করেন তিনি। পরামর্শ সভার আলোচনা থেকে নিম্নোক্ত অংশটি তুলে ধরা হলো।</p><p>কোনো চিন্তা বা দুশ্চিন্তা যখন একজন মানুষকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে, তখনই বুঝতে হবে তিনি মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। আর এই চাপ থেকে তাৎক্ষণিক মুক্তি পাওয়ার খোঁজে অনেকেই সিগারেট, ঘুমের ওষুধ বা মাদকের মতো মারাত্মক ক্ষতিকর উপাদানে আসক্ত হয়ে পড়ছেন। ‘মানসিক চাপ সামলাবেন কীভাবে’—শীর্ষক পরামর্শ সভায় এ তথ্য জানান ডা. সরদার আতিক।</p><p>তিনি উল্লেখ করেন, ‘অনেকেই মানসিক চাপ থেকে সাময়িক উপশম পেতে মাদক নেওয়া শুরু করেন, যা পরবর্তী সময়ে স্থায়ী আসক্তিতে রূপ নেয়। মানসিক চাপ জীবনেরই অংশ। কিন্তু এর সমাধান কখনোই মাদক বা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ঘুমের ওষুধ হতে পারে না। সাময়িক স্বস্তির এই শর্টকাট পথ মানুষকে দীর্ঘমেয়াদি ও ভয়াবহ অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়। তাই মানসিক চাপ মোকাবিলায় ক্ষতিকর উপায়ের ওপর নির্ভর না করে সঠিক ও সুস্থ জীবনধারা বজায় রাখতে হবে।’</p>
<p>মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেবেন বলে জানিয়েছেন ইশরাক হোসেন। ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে ইশরাক হোসেন এ কথা জানান। দেখুন ভিডিওতে...</p><figure></figure>
<p>বাবার হাত থেকে প্রথমবার পানীয়টা নিয়ে মুখে দিয়েছিলেন সেবাস্তিয়ান ভিয়েরা। তারপর? তেতো স্বাদে মুখ বিকৃত হওয়ার জোগাড়! ভালো লাগেনি একটুও। বহু বছর পর নিজের সন্তানদের হাতে সেই একই পানীয় তুলে দিয়েছিলেন ভিয়েরা। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হলো। ছেলেমেয়েদের মুখেও সেই একই বিরক্তি। এত গরম! এত তেতো! মানুষ এসব খায় কীভাবে?</p><p>অথচ সেই পানীয়টাই একসময় হয়ে উঠল ভালোবাসার। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বয়ে চলা এক অদ্ভুত পারিবারিক উত্তরাধিকার।</p><p>পানীয়টার নাম মাতে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/football/ngx4y4ql1m">মেসির সবচেয়ে পছন্দের খাবার কী, কেমন তাঁর ডায়েট চার্ট</a></aside><p>উরুগুয়ের সাবেক গোলকিপার ভিয়েরা ২০০৪ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে জাতীয় দলের হয়ে ১৫টি ম্যাচ খেলেছেন। ফুটবলের কত স্মৃতিই না তাঁর! কিন্তু মাতে নিয়ে স্মৃতিটা অন্য রকম। ভিয়েরার কথায়, ‘বাবা প্রথম আমাকে মাতে খেতে দিয়েছিলেন। একেবারেই ভালো লাগেনি। আসলে প্রথমবার খেয়ে কারও ভালো লাগাটা বিরল। আমার সন্তানদেরও একই অভিজ্ঞতা। বলেছিল, খুব গরম, খুব তেতো। কিন্তু ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে যাবেন। তারপর একসময় প্রেমে পড়ে যাবেন।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/jbc4re80/blt5532ea7177a28be4.webp"><figcaption>মেসির মতো এখন অনেক ফুটবলারের প্রিয় পানীয় মাতে।</figcaption></figure> <p> প্রেম!</p><p> এক পেয়ালা তেতো পানীয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক! শুনতে অদ্ভুত লাগতে পারে। কিন্তু দক্ষিণ আমেরিকার মানুষের কাছে এটা মোটেও অস্বাভাবিক নয়। আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে, প্যারাগুয়ে কিংবা ব্রাজিলের কিছু অঞ্চলে মাতে নিছক পানীয় নয়। জীবনযাপনের অংশ। সামাজিকতার অনুষঙ্গ। কখনো বন্ধুত্বের সেতু, কখনো স্মৃতির সঙ্গে বর্তমানের যোগসূত্র।</p><p> আর এই প্রেমের নতুন দূত হয়েছেন ফুটবলাররা।</p><p>লিওনেল মেসি, লুইস সুয়ারেজ, এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, দারউইন নুনিয়েজ। তালিকাটা অনেক লম্বা। এবার সেখানে নতুন নাম আর্লিং হলান্ড।</p><p> ম্যানচেস্টার সিটির নরওয়েজীয় স্ট্রাইকার গত রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাতে হাতে নিজের একটি ছবি দিয়েছেন। সঙ্গে ধন্যবাদ জানিয়েছেন সিটির বর্তমান ও সাবেক তিন আর্জেন্টাইন ফুটবলার এনজো ফার্নান্দেজ, হুলিয়ান আলভারেজ ও জেরোনিমো রুলিকে। তাঁদের সৌজন্যেই নাকি এই ‘চমৎকার পানীয়ের’ সঙ্গে পরিচয় হলান্ডের।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/4de0unbn/erling2026-10-18T124011.000Z.jpg"><figcaption>সম্প্রতি হলান্ড প্রেমে পড়েছেন মাতের।</figcaption></figure> <p> ভাবুন একবার!</p><p>নরওয়ের এক ফুটবলার দক্ষিণ আমেরিকার শতাব্দীপ্রাচীন এক পানীয়ের প্রেমে পড়েছেন। মাঝখানে সেতুবন্ধন করেছে ফুটবল। বিশ্বায়নের যুগে ফুটবলের এমন সাংস্কৃতিক গোলও কম সুন্দর নয়!</p><p> অবশ্য মাতে এখন আর দক্ষিণ আমেরিকার একান্ত নিজস্ব সম্পদ নয়। ফুটবলারদের হাত ধরে অনেক আগেই ছড়িয়ে পড়েছে ইউরোপে। দলের বাসে ওঠার সময় এক হাতে ছোট্ট পেয়ালা, অন্য হাতে গরম পানির ফ্লাস্ক। কখনো অনুশীলনে যাওয়ার পথে, কখনো ম্যাচের আগে ড্রেসিংরুমে। ফুটবলারদের এমন ছবি এখন বেশ পরিচিত।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/football/6z5n0pq29g">ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, চল্লিশেও ‘নবযৌবন’ যাঁর</a></aside><p>কিন্তু কী আছে এই পানীয়তে?</p><p> মাতে তৈরি হয় দক্ষিণ আমেরিকার স্থানীয় একধরনের চিরসবুজ গাছের শুকনা পাতা থেকে। গাছটির নাম ইয়েরবা মাতে। উষ্ণ পানিতে সেই পাতা ভিজিয়ে তৈরি করা হয় পানীয়। তারপর বিশেষ ধরনের ধাতব নল দিয়ে চুমুক দেওয়া হয়। নলটির নাম ‘বোমবিয়া’।</p><p> ঐতিহ্যগতভাবে মাতে পান করার পাত্র তৈরি হয় শুকনা, ভেতরটা ফাঁপা করে নেওয়া লাউজাতীয় ফল থেকে। এর নাম কালাবাশ। এখন অবশ্য কাঠ, কাচ কিংবা ধাতুর পাত্রও পাওয়া যায়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/za49on00/GettyImages_2282975479_2048x1431.webp"><figcaption>২০২৬ বিশ্বকাপে মাতের সাজে উরুগুয়ের এক দর্শক।</figcaption></figure><p> দেখতে যতটা সহজ, এর ইতিহাস ততটাই গভীর।</p><p> ধারণা করা হয়, প্রথম মাতে পান করতেন দক্ষিণ আমেরিকার আদিবাসী গুয়ারানি জনগোষ্ঠীর মানুষ। বর্তমান প্যারাগুয়ে এবং আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও দক্ষিণ ব্রাজিলের কিছু অঞ্চলে তাঁদের বসবাস ছিল। এখনো আছে।</p><p> অর্থাৎ মাতে পান করার ঐতিহ্য ঔপনিবেশিক যুগেরও আগের।</p><p>আর্জেন্টিনার ন্যাশনাল ইয়েরবা মাতে ইনস্টিটিউটের রাউল রোমেরো বলেছেন, ‘এই পানীয়ের গভীর সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক শিকড় রয়েছে। উপনিবেশ স্থাপনের আগেই এ অঞ্চলের আদিবাসীদের মধ্যে এর প্রচলন ছিল। মানুষের কাছে মাতে পান করার গুরুত্ব অপরিসীম।’</p><p> সেই প্রাচীন পানীয়ই একুশ শতকে এসে বিশ্বকাপজয়ী মেসির নিত্যসঙ্গী!</p><p> ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের কথা মনে আছে?</p><p> আর্জেন্টিনা সেবার বিশ্বকাপ জিতেছিল। মেসির হাতে উঠেছিল বহু আরাধ্য সোনালি ট্রফি। কিন্তু সেই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের সঙ্গে আরেকটি জিনিসও কাতারে গিয়েছিল। সেটি মাতে।</p><p> কতটা?</p><p> ২৪০ কেজি!</p><p> হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন। আর্জেন্টিনা দল কাতারে নিয়ে গিয়েছিল ২৪০ কেজি মাতে পাতা। যেন বিশ্বকাপের দীর্ঘ অভিযানে প্রিয় পানীয়ের কোনো ঘাটতি না হয়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/1wfwoowq/images.jpg"><figcaption>মেসির মতো তাঁর স্ত্রীরও প্রিয় মাতে।</figcaption></figure> <p> উরুগুয়ের ফুটবলারদের অবস্থাও একই। বিশ্বকাপ চলাকালে উরুগুয়ের প্রেস কর্মকর্তা ফেলিপে কোতেলো দ্য অ্যাথলেটিককে বলেছিলেন, ‘ফুটবলাররা সবাই এটা নিয়ে পাগল। সারাক্ষণ পান করছে। শেষ হবে না। আর শেষ হয়ে গেলেও সমস্যা নেই। আরও আনিয়ে নেব।’</p><p> এ যেন ফুটবলের পাশাপাশি আরেকটা অদৃশ্য প্রতিযোগিতা। মাঠে গোল করার লড়াই, মাঠের বাইরে মাতে পান করার!</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/football/hxd2wl5t73">মেসি না রোনালদো: বয়স ৩০ পেরোনোর পর কে বেশি ভালো</a></aside><p>২০২৪ কোপা আমেরিকাতেও দেখা গিয়েছিল একই ছবি। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলারদের সঙ্গে ঘুরেছে তাঁদের প্রিয় ছোট্ট পেয়ালা।</p><p> উরুগুয়ের দলে তখন মাতে প্রেমিকদের অঘোষিত নেতা লুইস সুয়ারেজ, রোনালদ আরাউহো, নিকোলাস দে লা ক্রুস, আগুস্তিন কানোবিও ও রদ্রিগো বেন্তানকুর।</p><p> আর্জেন্টিনার দলেও কম প্রতিযোগিতা ছিল না। এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, নিকো গঞ্জালেস, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। আর অবশ্যই মেসি ও রদ্রিগো দি পল।</p><p> মেসি ও দি পলের মাতে পান করার আবার নির্দিষ্ট সময় ছিল। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৯টায় মেসির হোটেলকক্ষে বসত দুজনের আসর।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/e4k03cnw/74338687514197562235088974704197516834378045n.jpg"><figcaption>মেসি, রদ্রিগো দি পল ও আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তাপিয়া। সবার পছন্দ মাতে।</figcaption></figure> <p> একটু কল্পনা করুন দৃশ্যটা।</p><p> বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক মেসি বসে আছেন। পাশে বন্ধু দি পল। সামনে মাতে। হয়তো ফুটবল নিয়ে কথা হচ্ছে, হয়তো একেবারেই ব্যক্তিগত কিছু। কিংবা কোনো কথাই হচ্ছে না। দুই বন্ধুর নীরবতার মধ্যেও যে একধরনের কথোপকথন থাকে!</p><p> আসলে মাতে পানের মূল আকর্ষণ এখানেই।</p><p> পানীয়ের স্বাদ নয়, পান করার উপলক্ষ।</p><p>উরুগুয়ের সাবেক গোলকিপার ভিয়েরা যেমন বলেছেন, ‘উরুগুয়ের হয়ে খেলার সময় আমাদের সঙ্গে সব সময় মাতে থাকত। সব সময়। সত্যি বলতে, আমার মনে পড়ে না এমন কোনো সতীর্থ পেয়েছি, যে মাতে পান করত না। মাতে মানুষকে এক করে। কেউ মাতে তৈরি করলে আপনি থামবেন, একটু গল্প করবেন, হয়তো সঙ্গে কিছু পেস্ট্রিও খাবেন। বিশেষ করে সকালের রুটিনে এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।’</p><p> শুধু সকাল কেন?</p><p> ভিয়েরার স্মৃতিতে মাতে সর্বত্র, ‘হোটেলে, অনুশীলনে যাওয়ার পথে, বাসে, ম্যাচের আগে ড্রেসিংরুমে। নির্দিষ্ট কোনো জায়গা নেই। কেউ ম্যাচের আগে পছন্দ করে, কেউ রাতে। প্রত্যেকের নিজস্ব অভ্যাস আছে।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/xd6u0d8a/blt085d207a30aef09e.webp"><figcaption>মাতে পছন্দ সুয়ারেজেরও।</figcaption></figure> <p> তবে এই অভ্যাসের পেছনে শুধু সামাজিকতা নয়, শরীরের চাহিদাও কাজ করে।</p><p> মাতেতে আছে ক্যাফেইন, অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ। কফির তুলনায় ক্যাফেইন কম, তবে ব্ল্যাক টির চেয়ে বেশি। ফলে শক্তি ও সতেজতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। কেউ কেউ মনে করেন, ক্ষুধাও কিছুটা কমায়।</p><p> সুইজারল্যান্ডের এফসি বাসেলের ক্রীড়া পুষ্টিবিদ্যা বিভাগের প্রধান হোসে ব্লেসা এর আগে কাজ করেছেন সৌদি আরবের আল নাসরে। সেখানে তাঁর সঙ্গে ছিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। দক্ষিণ আমেরিকার বাইরের ফুটবলারদের মধ্যে রোনালদোও মাতের বিখ্যাত ভক্ত।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/football/cpa9yxyzx4">মেসির চোখে ফুটবলে ভবিষ্যতের ১০ তারকা</a></aside><p>ব্লেসার ব্যাখ্যা, ‘যেসব ফুটবলার মাতে পান করেন, তাঁরা সাধারণত বেশি তরল গ্রহণ করেন বলে শরীরে পানির ভারসাম্য ভালো থাকে। এতে ক্যাফেইন আছে, যা সহনশক্তি, উদ্যম ও মানসিক মনোযোগ বাড়িয়ে ক্রীড়া পারফরম্যান্স উন্নত করতে সাহায্য করে। এতে অ্যান্টি–অক্সিডেন্টও আছে, যা ফ্রি র্যাডিকেলের বিরুদ্ধে কাজ করে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা শক্তিশালী করতে সাহায্য করতে পারে।’</p><p> তবে সাবধানবাণীও আছে। রাতে মাতে পান না করার পরামর্শ দেন ব্লেসা। ক্যাফেইনের কারণে ঘুমের সমস্যা হতে পারে।</p><p> কিন্তু ফুটবলারদের কাছে এসব বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা সম্ভবত গৌণ। আসল ব্যাপারটা অন্য জায়গায়।</p><p> যেমন আঁতোয়ান গ্রিজমান।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/tg82kji6/up85mcyxntex0ab33ozd.jpg"><figcaption>ফরাসি ফুটবলার আঁতোয়ান গ্রিজমানেরও নিত্যসঙ্গী মাতে।</figcaption></figure> <p> ফ্রান্সের এই বিশ্বকাপজয়ী ফরোয়ার্ড দক্ষিণ আমেরিকান নন। কিন্তু মাতে তাঁরও প্রিয় পানীয়। আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ের ফুটবলারদের সঙ্গে দীর্ঘদিন খেলার সুবাদে তাঁর মধ্যেও গড়ে উঠেছে এই অভ্যাস।</p><p> ইংল্যান্ডের ফুটবলারদের মধ্যেও মাতে প্রেমের সংক্রমণ হয়েছে। সাবেক টটেনহাম ডিফেন্ডার এরিক ডায়ার ২০১৮ সালে বলেছিলেন, ‘আমাদের অনেক ফুটবলার মাতে পান করা শুরু করেছে। দলে অনেক আর্জেন্টাইন ছিল। তাদের সঙ্গে আমিও শুরু করি। এখন ইংলিশ ফুটবলাররা দক্ষিণ আমেরিকান হওয়ার ভান করছে। আমি কিছুটা আসক্ত হয়ে পড়েছি।’</p><p> কী মজার ব্যাপার!</p><p>ফুটবল মাঠে দক্ষিণ আমেরিকানদের ড্রিবলিং, স্কিল কিংবা পায়ের কারুকাজ নকল করতে চান ইউরোপীয়রা। মাঠের বাইরেও এখন তাঁদের অনুকরণ!</p><p> তবে আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ের মানুষের কাছে মাতে নিয়ে আবেগের গভীরতা বোঝা ইউরোপীয়দের পক্ষে হয়তো সহজ নয়।</p><p> আর্জেন্টিনার ন্যাশনাল ইয়েরবা মাতে ইনস্টিটিউটের হিসাবে, দেশটিতে বছরে মাথাপিছু মাতে পান করার পরিমাণ ছয় কেজির বেশি। ৯০ শতাংশের বেশি পরিবারে মাতে আছে।</p><p> সেখানে মাতে দিবস আছে। মাতে বিশেষজ্ঞ আছেন, যাঁদের বলা হয় ‘মাতে সোমেলিয়ে’। মাতে স্বাদের আইসক্রিম আছে। এমনকি মাতে স্বাদের চিপসও পাওয়া যায়। সেই চিপসের প্যাকেটে আবার মেসির ছবি!</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/3hr5gooa/images.jpg"><figcaption>প্রয়াত পোপ ফ্রান্সিসও ছিলেন মাতের ভক্ত</figcaption></figure> <p> বুয়েনস এইরেসে জন্ম নেওয়া প্রয়াত পোপ ফ্রান্সিসও ছিলেন মাতের ভক্ত।</p><p> উরুগুয়েতে তো মাতের জনপ্রিয়তা রীতিমতো জাতীয় আবেগের পর্যায়ে। ২০২৪ সালে রাজধানী মন্টেভিডিওর ইনডিপেনডেন্স স্কয়ারে শিল্পীরা তৈরি করেছিলেন বিশাল আকারের রংবেরঙের মাতে পাত্রের শিল্পকর্ম।</p><p> ২০২২ বিশ্বকাপে উরুগুয়ে দলের মাসকটের নাম ছিল ‘বোতিহা’। সেটি আসলে মানুষের সমান আকারের একটি থার্মোস ফ্লাস্ক!</p><p> ২০১৯ সালে মাতে ইমোজি চালু হওয়ার পরও উরুগুয়েতে রীতিমতো আনন্দের উপলক্ষ তৈরি হয়েছিল।</p><p> তবে ভালোবাসা যেখানে গভীর, সেখানে অভিমানও থাকে। কখনো কখনো সেই অভিমান রীতিমতো জাতীয় বিতর্কে রূপ নেয়।</p><p>২০২২ বিশ্বকাপের কথাই ধরুন।</p><p> আর্জেন্টিনা দলের কাতারে নিয়ে যাওয়া মাতে পাতা নিয়ে হঠাৎ দেশটিতে বিতর্ক শুরু হলো। কারণ, পাতাগুলো আর্জেন্টিনার নয়। উৎপাদন হয়েছিল উরুগুয়েতে, প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছিল ব্রাজিলে।</p><p> ব্যস, শুরু হয়ে গেল হইচই!</p><p> আর্জেন্টিনার সাবেক পার্লামেন্ট সদস্য লুইস পাস্তোরি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, ‘এটা অস্বাভাবিক এবং ব্যাখ্যাতীত। আর্জেন্টিনায় কয়েক ডজন খুব ভালো মাতে ব্র্যান্ড আছে। তার পরেও অন্য দেশের মাতে নেওয়া, এটা প্রায় উসকানি দেওয়ার মতো ব্যাপার।’</p><p> ভাবা যায়!</p><p> মেসিরা বিশ্বকাপ খেলতে গেছেন। অথচ দেশে বিতর্ক চলছে, তাঁরা কোন দেশের মাতে পান করছেন!</p><p> আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অবশ্য সমালোচনাকে খুব একটা গুরুত্ব দেয়নি। তবে দুই বছর পর কোপা আমেরিকায় আর সেই ‘ভুল’ করেনি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/dw7zx347/HKag5ybwAAiN8z.jpg"><figcaption>এমি মার্তিনেজের মাতের পেয়ালাটা দেখুন। ২০২২ বিশ্বকাপে সেই বিখ্যাত সেভের ছবি আছে সেখানে।</figcaption></figure> <p> সেবার ফুটবলারদের হাতে ছিল আর্জেন্টিনার নিজস্ব ব্র্যান্ড কাচামাইয়ের মাতে। ব্র্যান্ডটি আর্জেন্টিনা দলের আনুষ্ঠানিক স্পনসরও হয়ে যায়। দেশের বাজারে তাদের পণ্যের প্যাকেটে জায়গা পান মেসি, এমিলিয়ানো মার্তিনেজ ও হুলিয়ান আলভারেজ।</p><p>ফুটবল আর মাতে মিলে তৈরি হয় নতুন বাণিজ্যও।</p><p> তবে মাতে শুধু আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে কিংবা ইউরোপের ফুটবলেই সীমাবদ্ধ নয়। সিরিয়া ও লেবাননেও পানীয়টি জনপ্রিয়। দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলাররা যেখানে গেছেন, সেখানেই কমবেশি ছড়িয়েছেন মাতের সংস্কৃতি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/5031iwqv/TELEMMGLPICT000165940968_trans_NvBQzQNjv4Bq8xEq3_Kjgbj9jEp2eo4Cy1Vse9JsN00kzbUr3IXHaGo.jpg"><figcaption>কোভিডের পর এখন আর একই পেয়ালায় কয়েকজন মিলে মাতে পান করার অভ্যাস নেই। </figcaption></figure> <p> কোভিড মহামারি অবশ্য এই সংস্কৃতিতে সামান্য পরিবর্তন এনেছে। আগে একই পেয়ালা ও একই ধাতব নল দিয়ে কয়েকজন মিলে মাতে পান করতেন। সংক্রমণের আশঙ্কায় এখন অনেকে সেই অভ্যাস থেকে সরে এসেছেন।</p><p> কিন্তু মাতে ঘিরে আড্ডা, বন্ধুত্ব কিংবা একসঙ্গে সময় কাটানোর আনন্দটা হারিয়ে যায়নি।</p><p> বরং বিশ্বজুড়ে ফুটবল যত ছড়াচ্ছে, ততই নতুন মানুষ পরিচিত হচ্ছেন এই পানীয়ের সঙ্গে।</p><p> হলান্ড তার সর্বশেষ উদাহরণ।</p><p>নরওয়ের বরফঢাকা প্রকৃতি আর আর্জেন্টিনার রোদেলা ফুটবল সংস্কৃতির মধ্যে কত দূরত্ব! ভাষা আলাদা। খাবার আলাদা। জীবনযাপনের ছন্দও আলাদা। অথচ এক পেয়ালা মাতে সেই দূরত্বটা কি অনায়াসে ঘুচিয়ে দিতে পারে!</p><p> ফুটবলে একটা ভালো পাস যেমন দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে অদৃশ্য বোঝাপড়ার জন্ম দেয়, মাতে তেমনি দুজন মানুষের মধ্যে তৈরি করে বন্ধনের সেতু। মেসি থেকে সুয়ারেজ, রোনালদো থেকে গ্রিজমান, এবার হলান্ড। ভিন্ন দেশ, ভিন্ন ভাষা, ভিন্ন সংস্কৃতি। অথচ সবাইকে এক জায়গায় এনে দাঁড় করিয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার এক প্রাচীন পানীয়।</p><p> ফুটবলে গোল করতে লাগে একটা বল। বন্ধুত্ব করতে কখনো কখনো শুধু এক পেয়ালা মাতেই যথেষ্ট।</p>
হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ ব্যবহারকারীর হয়ে সরাসরি অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করতে পারে না। কারণ, অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত ফোন নম্বরটির প্রকৃত মালিকানা যাচাই করার সুযোগ তাদের নেই।
পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার খবর প্রকাশের পর একের পর এক ফেসবুক পোস্ট ও হোয়াটসঅ্যাপে অডিও বার্তা দিয়ে সংবাদটিকে ‘গুজব’ বলে দাবি করেছিলেন ইশরাক হোসেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফর উপলক্ষে নগরের বিভিন্ন সড়কে চলছে সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ।
মাটির গভীরে লুকিয়ে থাকে সৃষ্টির আদিম গল্প। চট্টগ্রামের রাজাপুকুর লেনের ‘মৃত্তিকায় চিন্ময়ী’ সেই গল্পকেই শিল্পের ভাষায় তুলে ধরে, যেখানে মাটির স্পর্শে মৃন্ময়ী দুর্গা হয়ে ওঠেন চিন্ময়ী।
<p>মানুষ মূলত তিন ধরনের। এক, যারা রবীন্দ্রনাথকে অতিমাত্রায় শ্রদ্ধা করে। তিন, যারা রবীন্দ্রনাথকে সহ্যই করতে পারে না। আর এই দুই ধরনের মানুষের মধ্যে আছে আমার মতো কিছু মানুষ, যারা রবীন্দ্রনাথকে মনে করে এলাকার ট্যালেন্টেড বড় ভাই টাইপ। সুযোগ পেলে আমরাও রবীন্দ্রনাথের মতো ভালো, কিংবা তার চেয়েও ভালো লিখতে পারতাম। জাস্ট সুযোগটা পাইনি আর কী! আর এই ফাঁকা মাঠেই রবীন্দ্রনাথ সাহিত্যটাহিত্য করে নোবেল পেয়ে গেছে।</p><p>একবার প্রথম ক্যাটাগরির, অর্থাৎ রবীন্দ্রনাথকে অতিমাত্রায় ভক্তিশ্রদ্ধা করেন এমন একজন আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনার প্রিয় সাহিত্যিক কে?</p><p>আমি গম্ভীর গলায় বললাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর!</p><p>তিনি বেশ আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, কেন বলুন তো! এই জেনারেশনের কাউকে আমি বলতে শুনিনি, রবীন্দ্রনাথ তার প্রিয় সাহিত্যিক!</p><p>আমি আরও গম্ভীর গলায় বললাম, মাঝেমধ্যেই আমার ঘুমের সমস্যা হয়। রাতে সহজে ঘুম আসতে চায় না। তখন রবীন্দ্রনাথের গান ছাড়ি। ঝিমানি টাইপ গান। কিছুক্ষণের মধ্যেই আমার ঘুম চলে আসে।</p><p>আমার সাথে ওই ভদ্রলোক এর পরে আর দ্বিতীয়বার কথা বলেননি। কয়েকবার চলতি পথে দেখা হয়েছে, তিনি এমন ভঙ্গি করে আমাকে পাশ কাটিয়ে চলে গেছেন, যেন আমি কোনো ক্রিমিনাল!</p><p>তিন নাম্বার ক্যাটাগরির মানুষের অভিযোগের অবশ্য আগামাথা নেই। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর অভিযোগ, রবীন্দ্রনাথ নাকি বাংলাদেশের স্বাধীনতাই চাননি!</p><p>ফেসবুকের অসংখ্য স্বঘোষিত ইতিহাসবিদের মতোই আমার এক দূরসম্পর্কের মামারও এমন ধারণা। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, এই তথ্য কই পাইছেন?</p><p>তিনি বললেন, এক মুরুব্বির কাছ থেকে শুনেছেন। সেই মুরুব্বি তার জীবনে একটা মিথ্যা কথাও বলেন নাই।</p><p>এই ডিফেন্স ভাঙার সাধ্য আছে কার! এদের সাথে আমি তার আর কোনো তর্কেই যাই না।</p><p>রসিকতার পাশাপাশি দুটো সিরিয়াস কথা বলি এবার। মাঝে কয়েক বছর পেটেভাতে বিজ্ঞাপনের কপি লিখেছিলাম। ক্রিয়েটিভ একটা লাইন লেখার জন্য সে কী হাপিত্যেশ! প্রায়ই মাথা যখন খালি হয়ে যেত, রবীন্দ্রনাথকে স্মরণ করতাম। অনুরোধে হোক কিংবা অন্য কোনো কারণে, রবীন্দ্রনাথ নিজেও অনেক বিজ্ঞাপনের কপি জিঙ্গেল ইত্যাদি লিখেছেন। সুলেখা কালির বিজ্ঞাপন লিখতে গিয়ে তিনি লিখেছিলেন—‘সুলেখা কালি। এই কালি কলঙ্কের চেয়েও কালো।’</p><p>যেই মানুষটা একটা বিজ্ঞাপনের কপিও এত চমৎকার করে লেখেন, তাঁকে ভালো না বেসে উপায় কী! রবীন্দ্রনাথকে তাই গুরুদেবের মতো ভারিক্কি আসনে দূরে দূরে না রেখে আমার রোজকার জীবনের অংশ হিসেবেই গ্রহণ করি। যেন আপন কোনো মানুষ, যার গান শুনে সমস্ত দিনের ক্লান্তি ভুলে শান্তিতে একটু ঘুমানো যায়। দেশের এই অবস্থায় শান্তিতে একটুখানি ঘুমানো যে কী কষ্টের, তা তো কারও অজানা নয়, তাই না?</p> <p>—বি.স.</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/hjysl5gcgx">পরের জন্মে AI হব</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/z87t7zqecu">স্মার্টফোনের অবসর চেয়ে আবেদন</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/88lpnc5wio">রসচিঠি ২০</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/bwluvlmmu8">বিবাহিত পুরুষ চেনার সহজ উপায়</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/kdnfiunl2l">চাঁদাবাজের বর্ণ পরিচয়</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/mrplq2ed70">ইলিশ আছে, ইলিশ হ্যাজ!</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/1b2pl7u0b9">ভদ্র ছেলেরা কখনো হাফপ্যান্ট পরে বাইরে যায়?</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/hfgieb5c91">ককটেল সমাচার</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/fwdnjtnd6a">তেলের সুপ্ত প্রভাব</a></aside>
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন