বলিউড

রজনী–ঝড় চলছেই, আট দিনে কত আয় করল ‘জেলার ২’

অক্টোবর ২৩, ২০২৬
রজনী–ঝড় চলছেই, আট দিনে কত আয় করল ‘জেলার ২’
রজনী–ঝড় চলছেই, আট দিনে কত আয় করল ‘জেলার ২’
১৫ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর থেকেই বক্স অফিসে দাপট দেখাচ্ছে ছবিটি। প্রথম সপ্তাহে ভারতের বাজারের পাশাপাশি বিদেশের বাজার থেকেও এসেছে বিপুল অর্থ।

Prothomalo

View more
১১৪ বলে ডাবল সেঞ্চুরি, ৪২৯ রান তাড়া—রাওয়ালপিন্ডিতে রেকর্ডের পর রেকর্ড
১১৪ বলে ডাবল সেঞ্চুরি, ৪২৯ রান তাড়া—রাওয়ালপিন্ডিতে রেকর্ডের পর রেকর্ড

ওয়ানডেতে দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরি। হ্যারি ব্রুকের ব্যাটে একের পর এক রেকর্ড গড়েছে ইংল্যান্ড; কিন্তু রাওয়ালপিন্ডিতে গতকাল দিন শেষে সব আলো কেড়ে নিয়েছে শ্রীলঙ্কা।

অক্টোবর ২৩, ২০২৬
শতবর্ষের পথে শামসুর রাহমান: সাহিত্য, স্মৃতি ও আমাদের দায়
শতবর্ষের পথে শামসুর রাহমান: সাহিত্য, স্মৃতি ও আমাদের দায়

<p>২০২৬ সালের ২৩ অক্টোবর কবি শামসুর রাহমানের ৯৭তম জন্মবার্ষিকী। ২০২৯ সালে শততম হবে। অর্থাৎ শামসুর রাহমানের মৃত্যুর প্রায় দুই দশক পর তাঁর জন্মবার্ষিকী নিয়ে কথা বলা কেবল একজন প্রয়াত কবিকে স্মরণ করার জন্য নয়; বরং এটি আমাদের বর্তমানকে বোঝার একটি সাহিত্যিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রয়াস হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। আর একই সঙ্গে এটিও মনে করিয়ে দিতে চাই, কবির শততম জন্মবার্ষিকীর জন্য আমরা কতটা প্রস্তুত। প্রস্তুতিস্বরূপ অন্তত তিনটি কাজ করা প্রয়োজন: সাহিত্য সংরক্ষণ ও প্রকাশ, চর্চা ও প্রসার এবং স্মৃতি রক্ষা। শামসুর রাহমানের মতো এই উচ্চতার কবির জন্য এর থেকে কম কিছু হওয়া উচিত নয়।</p><p>সাহিত্য সংরক্ষণের জন্য কবির প্রকাশিত ও অপ্রকাশিত সব কবিতা, প্রবন্ধ, অনুবাদ এবং চিঠি ইত্যাদি সংগ্রহ করে নির্ভরযোগ্য ‘রচনাবলি’ প্রকাশ করা প্রয়োজন। এই কাজটি খুবই দ্রুত হওয়া উচিত৷ কারণ, কাজটি দ্রুত হলেই কবির পরিবার–পরিজন খুব বেশি সাহায্য করতে পারবে। সংরক্ষণের অভাবে বহু মাস্টারপিস কালের গহ্বরে হারিয়ে গেছে। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডিজিটাল আর্কাইভও খুব জরুরি। এমনটা হলে নতুন প্রজন্মের পাঠকের কাছে খুব সহজে পৌঁছে যাবে। এসবের পাশাপাশি কবির শ্রেষ্ঠ কবিতাগুলো বিভিন্ন ভাষায় না হলেও অন্তত ইংরেজিতে অনুবাদ করা প্রয়োজন। এমনটা হলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিভিন্ন দেশের বড় বড় কবিদের সঙ্গে কবি শামসুর রাহমানের তুলনামূলক অধ্যয়ন হওয়ার সুযোগ হয়ে উঠবে।</p><blockquote>কবির জন্ম-মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর কবিতা নিয়ে আবৃত্তি অনুষ্ঠান, সেমিনার ও সাহিত্য আড্ডার আয়োজন করা। বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ চাইলে দীর্ঘমেয়াদি ‘কবি শামসুর রাহমান ফেলোশিপ’ চালু করতে পারে। যেখানে নিয়মিত সেমিনার-সিম্পোজিয়াম হতে পারে। আর এমনটা হলে কবির সাহিত্যকর্মের ওপর গবেষণা হওয়ার একটা বন্দোবস্ত হবে। উন্মোচিত হবে নতুন নতুন দিক।</blockquote><p>দ্বিতীয় বিষয়টি হলো চর্চা ও প্রসার। কবির জন্ম-মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর কবিতা নিয়ে আবৃত্তি অনুষ্ঠান, সেমিনার ও সাহিত্য আড্ডার আয়োজন করা। বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ চাইলে দীর্ঘমেয়াদি ‘কবি শামসুর রাহমান ফেলোশিপ’ চালু করতে পারে। যেখানে নিয়মিত সেমিনার-সিম্পোজিয়াম হতে পারে। আর এমনটা হলে কবির সাহিত্যকর্মের ওপর গবেষণা হওয়ার একটা বন্দোবস্ত হবে। উন্মোচিত হবে নতুন নতুন দিক।</p><p>তৃতীয়টি হলো স্মৃতিরক্ষা কেন্দ্র স্থাপন করা, যেখানে কবির ব্যবহৃত জিনিসপত্র, খাতা, কলম ও দুর্লভ ছবি ইত্যাদি সহকারে একটি সংগ্রহশালা থাকবে। নরসিংদীর রায়পুরায় পাড়াতলী কলিম উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ে ‘কবি শামসুর রাহমান স্মৃতি গ্রন্থাগার’ ২০০৯ সালে নির্মিত হলেও তা আলোর মুখ আর দেখেনি কখনো।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-08-16/7cj5isqn/1.webp"><figcaption>শ্যামলীর বাসায় টেবিলে লিখছেন কবি শামসুর রাহমান। ২০০০ সালের ১ জানুয়ারি </figcaption></figure><p>এরপরও প্রস্তুতিস্বরূপ এই মহাযজ্ঞ আয়োজন করা চাট্টিখানি কথা নয়। কারণ, শামসুর রাহমান প্রতিভাবান কবি। আর প্রতিভাবানরা সহজে কোনো কিছু মেনে নেন না। সমাজের সেলাই করা কাপড়ের মধ্যে নিজেদের ঢুকিয়ে দেন না। তাই প্রতিভাবান কবিদের যথেষ্ট প্রতিদ্বন্দ্বী থাকে। জীবদ্দশাতে তো বটেই; মৃত্যুর পরেও তা চলমান থাকতে পারে। উদাহরণ হিসেবে মহাকবি জন মিল্টনের কথাই ধরা যাক। সমসাময়িক রাজনৈতিক বৈরিতার সম্মুখীন হওয়ার পরও সাহিত্যিক প্রতিদ্বন্দ্বী বিশেষ করে কুৎসা তাঁকে খানিকটা পর্দার আড়ালে নিয়ে চলে যায়। এই কাজ জারি থাকে বহু বছর। এমনকি টি এস এলিয়টও অনেক সময় ধরে মিল্টন–বিরোধী সমালোচনায় নিয়োজিত ছিলেন। যদিও পরবর্তী সময়ে তিনি তাঁর নিজের ভুল বুঝতে পেরেছিলেন। যেমনটা বুঝতে পেরেছিলেন কবিগুরু নিজেও: মাইকেল মধুসূদন দত্তের মেঘনাদবধ কাব্যের কড়া সমালোচনা করেছিলেন প্রথম জীবনে। কিন্তু সেই মিল্টনই ইংরেজি ভাষার শ্রেষ্ঠ কবি। সেই মধুসূদনই বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ কবি।</p><blockquote>শামসুর রাহমানের কবিতা বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে আমরা দেখি জাতীয়তাবাদী সমালোচনা খুব অগ্রাধিকার পাচ্ছে। সেটা হয়তো সময়ের দাবি ছিল। আবার পুরাণভিত্তিক সমালোচনার ক্ষেত্রেও দেখি কোনো না কোনোভাবে জাতীয়তাবাদী সমালোচনা ঠাঁই করে নিয়েছে। এমনটা চলতে থাকলে দেখা যাবে মুষ্টিমেয় কবিতার মধ্যেই পাঠক ও সমালোচক ঘুরপাক খাচ্ছে। তাই এখন সময় এসেছে শামসুর রাহমানের কবিতাকে বিভিন্ন সমালোচনার লেন্স দিয়ে দেখার।</blockquote><p>শামসুর রাহমানেরও প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছে। সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা রাজনৈতিক বাইনারির অংশ। সেখানে কাব্য ও শিল্প অনুপস্থিত। উপস্থিত রয়েছে আদর্শগত ও রাজনৈতিক পার্থক্য। রাজনৈতিক ও আদর্শিক মেরুকরণের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে ব্যক্তি মূল্যায়ন। ফলে শামসুর রাহমানের কবিতার নান্দনিকতা, আধুনিকতা বা শব্দের কারিগরি নিয়ে আলোচনা তেমন হয়নি বললেই চলে। এরপরও উল্লেখযোগ্য কাজ করেছেন হুমায়ুন আজাদ: শামসুর রাহমান/নিঃসঙ্গ শেরপা নামক একটি গুরুত্বপূর্ণ সমালোচনা গ্রন্থ রচনা করেছেন ১৯৮৩ সালে। পরবর্তী সময়ে গাজী আজিজুর রহমান আরেকটি বই লেখেন কবিদের কবি: জীবনানন্দ দাশ, শামসুর রাহমান, আবুল হাসান ২০১০ সালে। এই বইয়েও ছোট পরিসরে শামসুর রাহমান নিয়ে বেশ ভালো কাজ হয়েছে। এই দুটি বই ছাড়া শামসুর রাহমানের সাহিত্যকর্মের ওপর তেমন কোনো সিরিয়াস কাজ হয়েছে বলে মনে হয় না। এ ছাড়া বিভিন্ন পত্রিকা, লিটল ম্যাগাজিন, মাসিক, ত্রৈমাসিক ইত্যাদি বিভিন্ন জায়গায় শামসুর রাহমানকে নিয়ে অসংখ্য লেখা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। সেসব প্রয়াসও খুব খারাপ নয়। তবে এখন একটু ভিন্নভাবে কাজ করার সময় এসেছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2023-10/4966c44b-de79-404a-92f2-7c56c53e1d86/f438e8dda15f3708e2d7e5927e8803e6_5db0720c2efe1.jpg"><figcaption>কবি শামসুর রাহমান</figcaption></figure><p>শামসুর রাহমানের কবিতা বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে আমরা দেখি জাতীয়তাবাদী সমালোচনা খুব অগ্রাধিকার পাচ্ছে। সেটা হয়তো সময়ের দাবি ছিল। আবার পুরাণভিত্তিক সমালোচনার ক্ষেত্রেও দেখি কোনো না কোনোভাবে জাতীয়তাবাদী সমালোচনা ঠাঁই করে নিয়েছে। এমনটা চলতে থাকলে দেখা যাবে মুষ্টিমেয় কবিতার মধ্যেই পাঠক ও সমালোচক ঘুরপাক খাচ্ছে। তাই এখন সময় এসেছে শামসুর রাহমানের কবিতাকে বিভিন্ন সমালোচনার লেন্স দিয়ে দেখার। লেন্সগুলো আধুনিক নয় তবে তা কখনো শামসুর রাহমানের ওপর তেমনভাবে প্রয়োগ করা হয়নি। কিংবা খুব কম বাঙালি কবি–সাহিত্যিকের কপালেই তা জুটেছে। যেমন উত্তর-ঔপনিবেশিক সমালোচনা, মার্ক্সবাদী সমালোচনা, আধুনিকতাবাদী ও অস্তিত্ববাদী সমালোচনা, আর্কিটাইপাল সমালোচনা, আন্তপাঠিক সমালোচনা বা ইন্টারটেক্সচুয়াল সমালোচনা ইত্যাদি।</p><p>জাতীয়তাবাদী সমালোচনা তাঁর কবিতায় বাঙালি জাতীয় পরিচয়, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনাকে বুঝতে সাহায্য করেছে। আর পুরাণভিত্তিক সমালোচনার মাধ্যমে তাঁর কবিতায় পৌরাণিক চরিত্র, প্রতীক ও আখ্যানের পুনর্ব্যবহার এবং সেগুলোর নতুন অর্থ নির্মাণ বিশ্লেষণও করা হয়েছে খানিকটা; যদিও এই দুই ক্ষেত্রেই আরও বিশদভাবে কাজ করার সুযোগ আছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2022-10/093fa07d-3334-4bf2-bb35-2a85bab3f6f5/Dsc_0121.jpg"><figcaption>শামসুর রাহমান (২৩ অক্টোবর ১৯২৯—১৭ আগস্ট ২০০৬)</figcaption></figure><p>আর অন্যদিকে উত্তর-ঔপনিবেশিক সমালোচনা সাংস্কৃতিক আধিপত্য, রাজনৈতিক দমন ও প্রতিরোধের দিকগুলো সাধারণত উন্মোচন করে। শামসুর রাহমানের কবিতাতেও বিস্তর সুযোগ রয়েছে। মার্ক্সবাদী সমালোচনা শ্রেণিবৈষম্য, শোষণ, ক্ষমতা ও সামাজিক অন্যায়ের বিশ্লেষণেও কার্যকর হতে পারে। আধুনিকতাবাদী ও অস্তিত্ববাদী সমালোচনার সাহায্যে নগরজীবন, নিঃসঙ্গতা, ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য ও অস্তিত্বের সংকট অনুধাবন করার জন্য শামসুর রাহমান হয়তো বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ কবি। এই সময়ে খুব বেশি আলোচিত হচ্ছে পরিবেশগত সমালোচনা বা ইকোক্রিটিসিজম। আর জোরেশোরে খুব উচ্চারিত হচ্ছে উত্তর-মানবতাবাদ বা পোস্টহিউম্যানিজম। এসব তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগের সময়ও এসেছে।</p><p>তাই শামসুর রাহমানের ৯৭তম জন্মবার্ষিকী যতটা না কবির নিজের তার চেয়েও অনেক বেশি পাঠক ও সমালোচকের। আর সময় যত যাবে এই দায়ের বোঝা ততই বাড়বে।</p>

অক্টোবর ২৩, ২০২৬
রজনী–ঝড় চলছেই, আট দিনে কত আয় করল ‘জেলার ২’
রজনী–ঝড় চলছেই, আট দিনে কত আয় করল ‘জেলার ২’

১৫ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর থেকেই বক্স অফিসে দাপট দেখাচ্ছে ছবিটি। প্রথম সপ্তাহে ভারতের বাজারের পাশাপাশি বিদেশের বাজার থেকেও এসেছে বিপুল অর্থ।

অক্টোবর ২৩, ২০২৬
বাংলাদেশে সাড়ে ৭৭ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে জাপান
বাংলাদেশে সাড়ে ৭৭ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে জাপান

<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-22/gm622kie/uimage-12.jpg"><figcaption>এই ইলাস্ট্রেশনে জাপানিজ ১০ হাজার ইয়েনের ব্যাংক নোট দেখানো হয়েছে</figcaption></figure><p>বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে আগামী পাঁচ বছরে এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বা ৬ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে জাপান। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ ৭৭ হাজার ৪৭০ কোটি টাকা (১ ডলার ১২২ টাকা ধরে)। জাপানের গণমাধ্যম নিক্কেই এশিয়া আজ বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। তাদের ওই প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সও একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।</p><p>প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের জন্য এই অর্থের সংস্থান করতে রাজি হয়েছে জাপান সরকার। এতে বলা হয়েছে, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে অনুষ্ঠেয় শীর্ষ বৈঠক শেষে যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে এই বিনিয়োগের বিষয়টি ঘোষণা করা হবে।</p><p>নিক্কেই এশিয়া বলছে, এই ঘোষণার প্রধান লক্ষ্য বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা এবং এশীয় অঞ্চলে চীনের প্রভাব হ্রাস করা। পাশাপাশি বাংলাদেশকে বিনিয়োগের কেন্দ্র হিসেবে তৈরি করা।</p><p>জাপানের এই বিনিয়োগ বাংলাদেশে অটোমোবাইল, অন্যান্য উৎপাদন শিল্প এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় করা হবে। একই সঙ্গে জাপানি ট্রেডিং হাউস সুমিতোমো করপোরেশনসহ অন্য অংশীদারদের উদ্যোগে গড়ে তোলা ‘বাংলাদেশ স্পেশাল ইকোনমিক জোন’-এ জাপানি কোম্পানিগুলো বিনিয়োগ করবে।</p><p>প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের সঙ্গে গত ফেব্রুয়ারিতে অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি সই করেছে জাপান।</p><p>চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৬ অক্টোবর জাপান যাবেন। সফরের দ্বিতীয় দিনে ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর সম্মানে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নৈশভোজেও তিনি অংশ নেবেন।</p><p>প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ, জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদারের আলোচনা হবে বলে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন। গত মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, কৃষি, মৎস্যসম্পদ, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার বিষয়ে জাপানের সঙ্গে আটটির মতো সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে তিন-চারটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে বলে তাঁরা আশা করছেন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/akoqto2f94">প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে টোকিওতে থাকবেন না রাষ্ট্রদূত, সমন্বয়ে গেছেন মন্ত্রণালয়ের সচিব</a></aside><p>প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশ, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ডিজিটাল উদ্ভাবন, গবেষণা বৃদ্ধি, মানবসম্পদ উন্নয়নসহ নতুন নতুন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন পররাষ্ট্রসচিব।</p><p>জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে মেট্রোরেল, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত ও যোগাযোগ প্রকল্প নির্মাণ ও বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে আসছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/eogyg76st1">প্রধানমন্ত্রীর সফরে ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ আরও জোরদারের প্রত্যাশা জাপানের</a></aside>

অক্টোবর ২২, ২০২৬
মাইক্রোসফটের সিইও বললেন, ‘ দীর্ঘ সময়ে এমন ঘটনা দেখিনি’
মাইক্রোসফটের সিইও বললেন, ‘ দীর্ঘ সময়ে এমন ঘটনা দেখিনি’

<p>ওয়েবসাইট তৈরি ও পরিচালনায় বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ পিএইচপিতে দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি ধরা পড়ার পর জরুরি ব্যবস্থা নিয়েছে বিভিন্ন দেশের সরকার। ত্রুটি ধরা পড়ার খবর সামনে আসার পর বুধবার রাত থেকে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের সরকার ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান তাদের ওয়েবসাইট বন্ধ করে দিয়েছে। এরপরও লাখ লাখ হ্যাকিংয়ের চেষ্টা হয়েছে বলে জানা গেছে।</p><p>এইচটিএমএল ও পাইথনের মতো পিএইচপি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ। এর ডেভেলপাররা বুধবার দুটি নিরাপত্তাত্রুটি ঠিক করার জন্য হালনাগাদ সংস্করণ প্রকাশ করেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে পিএইচপিতে থাকা এসব ত্রুটি শনাক্ত করা হয়। ব্যবহারকারীদের তা দ্রুত হালনাগাদ করার আহ্বান জানানো হয়।</p><p>বেলজিয়ামের সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান আইকিডো সিকিউরিটির সহপ্রতিষ্ঠাতা ম্যাডেলিন লরেন্স বলেন, ত্রুটিগুলো সংশোধন করে পিএইচপির হালনাগাদ সংস্করণ আসার আগেই ত্রুটিগুলো–সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য সামনে চলে আসে। এরপর থেকে এসব ত্রুটি কাজে লাগিয়ে ওয়েবসাইটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য সাইবার হামলার চেষ্টার খবর পাওয়া যাচ্ছে। হামলাকারীদের এসব ত্রুটির সুযোগ নেওয়া ঠেকাতে প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত ওয়েবসাইট হালনাগাদ করছে।</p><p>তবে ওয়েবসাইট হালনাগাদ করার প্রচেষ্টার মধ্যেই লাখ লাখ হ্যাকিংয়ের চেষ্টা হয়েছে বলে জানিয়েছে ক্লাউড সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ক্লাউডফ্লেয়ার। বুধবার প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ম্যাথিউ প্রিন্স বলেন, ‘নিরাপত্তা ত্রুটির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরের ৪৫ মিনিটে সাইবার হামলার চেষ্টা বেড়ে কয়েক হাজার হয়ে যায়। দুই ঘণ্টার মধ্যে সংখ্যাটি কয়েক লাখে পৌঁছায়। এখন তা আরও বেশি।’</p><p>জাপানের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আজ বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, জরুরি নিরাপত্তাব্যবস্থার অংশ হিসেবে তারা সাময়িকভাবে কিছু অনলাইন সেবা বন্ধ রেখেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান মিতসুবিশি ইউএফজে ফাইন্যান্সিয়াল গ্রুপ, উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা এএনএ ও ইস্ট জাপান রেলওয়ে। জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয় ও আবহাওয়া সংস্থাও অনলাইন সেবা সীমিত করেছে।</p><p>এদিকে ফ্রান্সের টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান অরেঞ্জ জানিয়েছে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাদের কয়েকটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানে পিএইচপিভিত্তিক ওয়েবসাইট ও সফটওয়্যারে প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। চীনের অন্যতম বড় ক্লাউড কম্পিউটিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান টেনসেন্ট ক্লাউডও গ্রাহকদের পিএইচপির হালনাগাদ সংস্করণ ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছে।</p><p>পিএইচপিতে এই নিরাপত্তাত্রুটির কারণে যে দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে, তা ইন্টারনেট সচল রাখতে ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং প্রযুক্তির জন্য বড় একটি পরীক্ষা বলে উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এ বিষয়ে মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সত্য নাদেলা বুধবার বলেন, ‘দীর্ঘ সময়ের মধ্যে এমন ঘটনা কখনো দেখিনি।’ তিনি বলেন, নিরাপত্তা বজায় রেখে রক্ষণাবেক্ষণ করা যায়, এমন ডিজিটালব্যবস্থা তৈরির গুরুত্ব এই ঘটনা আবারও তুলে ধরেছে।</p><p>একে গত দুই বছরের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর ঘটনাগুলোর অন্যতম হিসেবে উল্লেখ করেছেন জার্মানির সাইবার সিকিউরিটিবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ফ্রাউনহোফের ইনোভেশন প্ল্যাটফর্মের সায়েন্টিফিক পরিচালক হায়া শ্কুলম্যান। এসব ঝুঁকিকে বাস্তব উল্লেখ করে ত্রুটি সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।</p>

অক্টোবর ২২, ২০২৬
প্রশাসনে শিষ্টাচার সংকট: কেন এই পতন?
প্রশাসনে শিষ্টাচার সংকট: কেন এই পতন?

প্রশাসনে শিষ্টাচার সংকট: কেন এই পতন?

অক্টোবর ২২, ২০২৬
খুলনায় সকালে যুবক, সন্ধ্যায় গৃহবধূ খুন
খুলনায় সকালে যুবক, সন্ধ্যায় গৃহবধূ খুন

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা নগরে পৃথক দুটি হত্যাকাণ্ডের পেছনে মাদক ব্যবসাসংক্রান্ত বিরোধ থাকতে পারে।

অক্টোবর ২২, ২০২৬
এবার নেটফ্লিক্সে আসছেন ওসি হারুন, ‘বোহেমিয়ান ঘোড়া’ দৌড়াবে ‘শাদি কা সিয়াপ্পা’ হয়ে
এবার নেটফ্লিক্সে আসছেন ওসি হারুন, ‘বোহেমিয়ান ঘোড়া’ দৌড়াবে ‘শাদি কা সিয়াপ্পা’ হয়ে

<p>বাংলাদেশের জনপ্রিয় দুই ওয়েব সিরিজ ‘মহানগর’ ও ‘বোহেমিয়ান ঘোড়া’ এবার দেখা যাবে নেটফ্লিক্সে। আশফাক নিপুণ পরিচালিত ‘মহানগর’ এবং অমিতাভ রেজা চৌধুরীর ‘বোহেমিয়ান ঘোড়া’সহ হইচইয়ের ১৪টি সিরিজ যুক্ত হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় এই স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে। তবে নেটফ্লিক্সে ‘বোহেমিয়ান ঘোড়া’ মুক্তি পাবে ‘শাদি কা সিয়াপ্পা’ নামে। হইচই ও নেটফ্লিক্সের নতুন অংশীদারত্বের আওতায় বাংলা ভাষার এসব গল্প হিন্দি, তামিল ও তেলুগু ভাষায় দেখার সুযোগ পাবেন দর্শকেরা।<br>আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আনুষ্ঠানিকভাবে এই অংশীদারত্বের ঘোষণা দিয়েছে হইচই। প্রতিষ্ঠানটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী দুই বছরে হইচইয়ে মুক্তি পাওয়া সব নতুন সিরিজ হিন্দি, তামিল ও তেলুগু ভাষায় একচেটিয়াভাবে নেটফ্লিক্সে দেখানো হবে। পাশাপাশি হইচইয়ের আগে মুক্তি পাওয়া নির্বাচিত সিরিজও যুক্ত হবে প্ল্যাটফর্মটিতে। দুই প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে নতুন মৌলিক সিরিজ নির্মাণেরও পরিকল্পনা করেছে।</p><p><strong>নেটফ্লিক্সে বাংলাদেশের দুই সিরিজ</strong><br> এই অংশীদারত্বের ঘোষণায় বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ ‘মহানগর’ ও ‘বোহেমিয়ান ঘোড়া’। দুটি সিরিজই হইচইয়ে মুক্তির পর দর্শকমহলে আলোচনা তৈরি করেছে।<br>আশফাক নিপুণ পরিচালিত ক্রাইম থ্রিলার ‘মহানগর’-এর কেন্দ্রীয় চরিত্র ওসি হারুন। এই চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম। থানাকে কেন্দ্র করে ক্ষমতার অপব্যবহার, অপরাধ, রাজনৈতিক প্রভাব ও নানা স্বার্থের দ্বন্দ্ব উঠে এসেছে সিরিজটির গল্পে। প্রচলিত পুলিশি চরিত্রের বাইরে ওসি হারুনের উপস্থিতি, তাঁর সংলাপ ও ঘটনাপ্রবাহ দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করে। সিরিজটির একাধিক মৌসুম নির্মিত হয়েছে।</p><p>অন্যদিকে অমিতাভ রেজা চৌধুরী পরিচালিত ‘বোহেমিয়ান ঘোড়া’য়ও রয়েছেন মোশাররফ করিম। তাঁর সঙ্গে অভিনয় করেছেন রুনা খান, সাদিয়া আয়মান, তানজিকা আমিন, মৌসুমী হামিদসহ অনেকে। সম্পর্ক, ব্যক্তিগত টানাপোড়েন ও বিচিত্র সব পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে এগিয়েছে সিরিজটির গল্প। হাস্যরসের পাশাপাশি এতে রয়েছে মানবিক সম্পর্কের নানা জটিলতা। নেটফ্লিক্সে সিরিজটির নাম রাখা হয়েছে ‘শাদি কা সিয়াপ্পা’। হিন্দিভাষী দর্শকদের কাছে গল্পটি নতুন নামে পরিচিতি পাবে। অন্যদিকে ‘মহানগর’ থাকছে ‘মহানগর’ নামেই।<br>তবে বাংলাদেশের এই দুই সিরিজ ঠিক কবে থেকে নেটফ্লিক্সে দেখা যাবে, তা এখনো নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি। কোন কোন দেশে সিরিজ দুটি পাওয়া যাবে, সে বিষয়েও আলাদা কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।</p><p><strong>তালিকায় আরও যেসব সিরিজ</strong><br>নেটফ্লিক্সের ঘোষিত প্রথম তালিকায় মোট ১৪টি সিরিজ রয়েছে। বাংলাদেশের দুটি প্রযোজনার পাশাপাশি এতে জায়গা পেয়েছে কলকাতার বিভিন্ন ঘরানার আলোচিত ওয়েব সিরিজ।<br>তালিকায় রয়েছে ‘ম্যাডাম ইন্সপেক্টর’, ‘সম্পূর্ণা’, ‘লজ্জা’, ‘একেন স্যারজি’, ‘আনজান সায়ে’, ‘দ্য কার্স অব পর্ণশবরী’, ‘ব্লাডলাইনস’, ‘দ্য অ্যাডভেঞ্চার্স অব দাদি অ্যান্ড জগ্গা’, ‘রাত অভি বাকি হ্যায়’, ‘অচিন্ত: ট্রায়াল বাই ল’, ‘কুইন্স’এবং ‘পরিণীতা: আ লাভ স্টোরি’।<br>এসব সিরিজের গল্পে রয়েছে অপরাধ ও রহস্যের অনুসন্ধান, গোয়েন্দা অভিযান, লোককথাভিত্তিক ভৌতিক ঘটনা, নারীর ব্যক্তিগত ও সামাজিক সংকট, আদালতের লড়াই এবং প্রেমের নানা গল্প।</p><p>নেটফ্লিক্স জানিয়েছে, বিভিন্ন স্বাদের গল্পের এই সংগ্রহের উদ্দেশ্য দর্শকদের সামনে বাংলা বিনোদনের বৈচিত্র্য তুলে ধরা। ফলে যাঁরা বাংলা ভাষা বোঝেন না, তাঁরাও নিজেদের পরিচিত ভাষায় গল্পগুলো উপভোগ করার সুযোগ পাবেন।</p><p><strong>৬ নভেম্বর আসছে প্রথম নতুন সিরিজ</strong><br>অংশীদারত্বের আওতায় শুধু পুরোনো সিরিজই নয়, হইচইয়ের নতুন সিরিজও বাংলা ভাষায় মুক্তির সঙ্গে সঙ্গে হিন্দি, তামিল ও তেলুগু ভাষায় নেটফ্লিক্সে আসবে।<br>এই উদ্যোগের প্রথম নতুন সিরিজ ‘দ্য কার্সড টেম্পল অব কৌরিবুড়ি’। আগামী ৬ নভেম্বর মুক্তির কথা রয়েছে লোককথানির্ভর এই ভৌতিক সিরিজের। এতে অভিনয় করেছেন জিতু কমল, শোলাঙ্কি রায় ও পাওলি দাম।<br>লোকবিশ্বাস, রহস্য ও অতিপ্রাকৃত ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্মিত সিরিজটি হইচইয়ে বাংলায় মুক্তি পাবে। একই সময়ে নেটফ্লিক্সে পাওয়া যাবে এর হিন্দি, তামিল ও তেলুগু সংস্করণ। পরবর্তী মাসগুলোতে পর্যায়ক্রমে আরও নতুন সিরিজ যুক্ত হবে বলে জানিয়েছে নেটফ্লিক্স। তবে সেসব সিরিজের পূর্ণাঙ্গ তালিকা ও মুক্তির দিনক্ষণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।</p><p><strong>শুধু সম্প্রচার নয়, তৈরি হবে নতুন সিরিজও</strong><br>নেটফ্লিক্স ও হইচইয়ের এই সহযোগিতা কেবল কনটেন্ট সম্প্রচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। দুটি প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে নতুন মৌলিক সিরিজও তৈরি করবে।<br>নেটফ্লিক্সের ঘোষণা অনুযায়ী, হইচইয়ের নির্বাচিত কিছু গল্প নতুনভাবে রূপান্তর করা হবে। এসব সিরিজ প্রযোজনা করবে হইচই স্টুডিওজ। পরিচিত গল্পগুলোকে ভিন্ন আঙ্গিক, নতুন নির্মাণশৈলী ও সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গিতে দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।<br>অর্থাৎ আগে নির্মিত সিরিজ অন্য ভাষায় ডাবিং করার পাশাপাশি একই গল্পের নতুন সংস্করণ তৈরিরও সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এসব প্রকল্পে নতুন নির্মাতা, চিত্রনাট্যকার ও অভিনয়শিল্পীদের যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠান দুটি।<br>তবে কোন গল্পগুলো নতুনভাবে নির্মিত হবে, কারা পরিচালনা করবেন কিংবা কবে থেকে এসব সিরিজের কাজ শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।</p><p><strong>বাংলা কনটেন্টের নতুন বাজার</strong><br>২০১৭ সালে ভারতের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এসভিএফের ডিজিটাল উদ্যোগ হিসেবে যাত্রা শুরু করে হইচই। বাংলা ভাষার সিনেমা ও ওয়েব সিরিজকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা প্ল্যাটফর্মটি পরে বাংলাদেশেও নিজস্ব কনটেন্ট নির্মাণে গুরুত্ব দেয়।<br>হইচইয়ের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, তাদের সংগ্রহে রয়েছে দুই হাজার ঘণ্টার বেশি কনটেন্ট। এর মধ্যে শতাধিক মৌলিক সিরিজের পাশাপাশি রয়েছে সিনেমা, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ও তথ্যচিত্র। বিশ্বজুড়ে বাংলাভাষী দর্শকদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।<br>২০২৩ সালে হইচই স্টুডিওজ চালুর মাধ্যমে চলচ্চিত্র প্রযোজনায়ও নিজেদের কার্যক্রম বিস্তৃত করে প্রতিষ্ঠানটি। হইচইয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিষ্ণু মোহতা এসভিএফের নির্বাহী পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।<br>অন্যদিকে নেটফ্লিক্স নিজস্ব প্রযোজনার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের কনটেন্ট সংগ্রহের ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে। হইচইয়ের সঙ্গে এই অংশীদারত্ব তারই একটি নতুন উদাহরণ।</p><p>বিশেষ করে বাংলা সিরিজের হিন্দি, তামিল ও তেলুগু সংস্করণ প্রকাশের ফলে ভারতের আরও বড় দর্শকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে নির্বাচিত গল্পের নতুন রূপান্তর নির্মিত হলে বাংলা কনটেন্টের বাজার আরও বিস্তৃত হতে পারে।<br>বাংলাদেশের জন্যও এই উদ্যোগ তাৎপর্যপূর্ণ। ‘মহানগর’ ও ‘বোহেমিয়ান ঘোড়া’র মতো দেশীয় প্রযোজনা ভারতের বিভিন্ন ভাষাভাষী দর্শকের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ পাচ্ছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী ও গল্পের সঙ্গে নতুন দর্শকদের পরিচয় ঘটতে পারে।<br>তবে নেটফ্লিক্সের ঘোষণায় মূলত ভারতজুড়ে বহুভাষিক সম্প্রচারের বিষয়টিই নির্দিষ্ট করা হয়েছে। ফলে সিরিজগুলো বিশ্বের সব দেশে একই সময়ে দেখা যাবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।<br>বাংলাদেশের দুই আলোচিত সিরিজের অন্তর্ভুক্তি এবং আগামী দুই বছর ধরে নতুন বাংলা সিরিজের বহুভাষিক সম্প্রচারের পরিকল্পনা—সব মিলিয়ে নেটফ্লিক্স ও হইচইয়ের এই অংশীদারত্ব বাংলা ওয়েব কনটেন্টের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।</p>

অক্টোবর ২২, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন