রাতে বিছানায় শুয়েও ঘুম আসে না? ঘুমের ওষুধ নয়, হালকা নাশতা হিসেবে বেছে নিতে পারেন একটি কলা। তবে এই ফল কি সত্যিই ঘুম ভালো করতে পারে? জেনে নিন এর পুষ্টিগুণ ও ঘুমের সঙ্গে সম্পর্ক।
<p>পপসংগীতের বিশ্ব তারকা টেইলর সুইফটের ‘লাভ স্টোরি’ শুনে নিজের গান লেখার স্বপ্ন দেখেছিলেন <strong>রোদসী ইসফার ফাতেমী</strong>। এখন নিজেই গান লেখেন, সুর করেন, গানও গান। শুক্রবার দুপুরে ‘আরেকটু’ দিয়ে আলোচনায় আসা এই তরুণ শিল্পীর গল্প শুনলেন <strong>মকফুল হোসেন</strong></p><p>‘আমায় আরেকটু কি ভালো রাখা যায়/আমায় আরেকটু কি ভালোবাসা যায়।’ ‘আরেকটু’ গানে প্রিয়জনের কাছে আরও একটু ভালোবাসা চাওয়ার আকুতি তুলে ধরেছেন রোদসী ইসফার ফাতেমী।</p><p>গানের কথায় নিজেদের অনুভূতির মিল খুঁজে পাচ্ছেন বিভিন্ন বয়সের শ্রোতা। কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গানটি শেয়ার করছেন।</p><p>২৮ সেপ্টেম্বর রোদসীর ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হয় গানটি। আড়াই সপ্তাহে ভিডিওটি দেখা হয়েছে প্রায় ৭০ হাজার বার। মন্তব্য এসেছে সাড়ে তিন শর বেশি। </p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-16/97vtpauw/IMG8983.JPG.jpeg"><figcaption>রোদসী ইসফার ফাতেমী</figcaption></figure><p>মঈনুল হক নামের এক শ্রোতা লিখেছেন, ‘আমি আপনাকে কখনো চিনতাম না যদি এই গানটা সামনে না আসত। আমার চোখে এখন আপনি কোনো সাধারণ শিল্পী নয়, এককথায় অসাধারণ।’</p><p>গানটির কথা ও সুর রোদসীর নিজের। চার-পাঁচ মাস আগে গানটি লেখার কাজ শুরু করেন তিনি। পরে এক মাসের মধ্যে শেষ করেন। গানটির পেছনের গল্প বলতে গিয়ে রোদসী বলেন, ‘প্রিয়জনের কাছে আরও একটু ভালোবাসা চাওয়ার অনুভূতি থেকে গানটি লেখা। তখন আমার মনে হচ্ছিল, মানুষটিকে সরাসরি কথাগুলো বলতে পারলে ভালো হতো। কিন্তু সরাসরি না বলে নিজের অনুভূতিগুলো গানের মাধ্যমে প্রকাশ করেছি। আমার মনে হয়েছিল, যেটুকু চাইছি, সেটুকুই তো আসলে পাওয়ার কথা। তারপরও কেন আরও একটু চাইতে হচ্ছে, সেই অনুভূতি থেকেই গানটি লেখা।’</p><p>সুরেও সেই অনুভূতির প্রতিফলন ঘটাতে চেয়েছেন রোদসী। কখনো সুর চড়েছে, কখনো নেমেছে নিচে। সুরের এই ওঠানামার সঙ্গে নিজের অনুভূতিরও মিল খুঁজে পান তিনি।</p><figure></figure><aside><a href="https://www.prothomalo.com/entertainment/song/r0bcy5653u">‘প্রেমের মতোন লাগে’ গায়িকা মৌমিতাকে কতটা চেনেন</a></aside><p><strong>টেইলর সুইফটের গান শুনে অনুপ্রেরণা</strong></p><p>রোদসীর সংগীতজীবনে বড় প্রভাব টেইলর সুইফটের। ১৩ বছর বয়সে পত্রিকায় এই মার্কিন পপ তারকার খবর পড়েছিলেন তিনি। জেনেছিলেন, সুইফট নিজেই গান লেখেন। পরে শোনেন তাঁর ‘লাভ স্টোরি’। সেই গান শুনেই নিজের গান লেখার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন রোদসী।</p><p>রোদসী বলেন, ‘১৩ বছর বয়সে একদিন পত্রিকায় দেখেছিলাম, একজন নারী শিল্পীর অ্যালবাম সারা পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে। তিনি নিজেই গান লেখেন। এরপর টেইলর সুইফটের প্রথম গান শুনি। তখন মনে হয়েছিল, আমিও গান লিখতে চাই, নিজের অ্যালবাম বের করতে চাই। তাঁকে আবিষ্কার করার পরই নিজের গান লেখার ইচ্ছাটা তৈরি হয়। আমার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা তিনি।’</p><figure></figure><p>শুরুতে ইংরেজিতে গান লিখতেন রোদসী। গিটার বাজিয়ে নিজেই সুর করতেন। কয়েক বছর পর বাংলা গান লেখার আগ্রহ তৈরি হয় তাঁর। ১৭ বছর বয়সে লেখেন প্রথম বাংলা গান ‘এই শহরে’। পরে গানটি প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম ইপি সোনালী–তে।</p><figure></figure><p>নিজের গান লেখা ও সুর করার ক্ষেত্রে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে রোদসীকে। তাঁর মতে, এ অঞ্চলের সংগীতাঙ্গনে নারীদের বেশির ভাগ সময় কণ্ঠশিল্পী হিসেবেই দেখা হয়। গান লেখা ও সুর করার ক্ষেত্রে তাঁদের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম।</p><p>রোদসী বলেন, ‘আমাদের অঞ্চলের সংগীত অনেকটাই পুরুষকেন্দ্রিক। এখানে নারীদের বেশির ভাগ সময় কণ্ঠশিল্পী হিসেবে দেখা হয়। অনেক নারী প্লেব্যাক করেন, কিন্তু নিজেরা গান লেখা বা সুর করার উদাহরণ তুলনামূলকভাবে কম। আমি যখন শুরু করেছিলাম, তখন বাংলাদেশে নিজের গান লেখা ও সুর করা নারী শিল্পীর উদাহরণ খুব বেশি দেখিনি। আন্তর্জাতিক সংগীতের প্রভাব থাকায় আমার কাছে বিষয়টি একটু আলাদা ছিল। তবে চ্যালেঞ্জ এখনো আছে।’</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/entertainment/tv/7m4cp87s3b">‘তুমি তো চলেই যাবে’ দিয়ে আলোচিত, অর্পিতাকে কতটা চেনেন</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-16/5alwfrly/IMG1174.jpg"><figcaption>রোদসী ইসফার ফাতেমী</figcaption></figure><p><strong>পপসংগীতে নিজের পরিচয় গড়তে চান</strong></p><p>ছোটবেলা থেকেই পপসংগীতের প্রতি আগ্রহ রোদসীর। এই ধারার সুর, কথা ও মেলোডির সঙ্গে নিজের ব্যক্তিত্বের মিল খুঁজে পান তিনি। বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনে রকসংগীতের প্রভাব বেশি হলেও পপের জন্য আলাদা একটি পরিসর গড়ে তুলতে চান এই শিল্পী।</p><p>রোদসী বলেন, ‘পপসংগীত আমার সবচেয়ে পছন্দের। ছোটবেলা থেকেই পপ গান বেশি শুনেছি। এই সংগীতের সুর, কথা ও মেলোডির সঙ্গে নিজের ব্যক্তিত্বের মিল খুঁজে পাই। বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনে রকসংগীতের প্রভাব অনেক বেশি। আমি চাই, মানুষ পপসংগীতের দিকেও আরও মনোযোগী হোক। নতুন শিল্পীদের নিয়ে পপের একটি আলাদা পরিবেশ তৈরি হোক। আমার কাজের মাধ্যমে এই ধারায় কিছু অবদান রাখতে চাই।’</p><p>টেইলর সুইফটের পাশাপাশি বর্তমান সময়ের পপ তারকা অলিভিয়া রদ্রিগো ও সাবরিনা কার্পেন্টারের গানও শোনেন রোদসী। আন্তর্জাতিক পপসংগীতের প্রভাব তাঁর নিজের কাজেও রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। শ্রোতারা তাঁর গানের সঙ্গে অলিভিয়া রদ্রিগোর গানের মিল খুঁজে পেলে সেটিকে ইতিবাচকভাবেই দেখেন।</p> <figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-16/24zf9q55/IMG8984.JPG.jpeg"><figcaption>রোদসী ইসফার ফাতেমী </figcaption></figure><p>রোদসী বলেন, ‘অলিভিয়া রদ্রিগো এখন আমার অনুপ্রেরণার একজন। তাঁর গান অনেক শুনি। টেইলর সুইফট, অলিভিয়া রদ্রিগো ও সাবরিনা কার্পেন্টারের গান অনুসরণ করি। আমার সংগীতেও পপের প্রভাব আছে। তাই শ্রোতারা আমার গানের সঙ্গে অলিভিয়ার গানের মিল খুঁজে পেলে সেটি আমার কাছে স্বাভাবিক মনে হয়। বিষয়টি ভালো লাগছে।’</p><p>নিজের গানের পাশাপাশি নতুন শিল্পীদের জন্যও পপসংগীতে কাজের পরিসর তৈরি করতে চান রোদসী। তাঁর ভাষায়, ‘আমি চাই যে আমি আরেকটু পপের দিকে মানুষকে নিয়ে আসি বা আরও যারা নতুন নতুন আর্টিস্ট আসছে তো এখানে যেন একটা সিন তৈরি হয়।’</p><p>এরই মধ্যে হাবিব ওয়াহিদের সঙ্গে ‘শিহরণ’ শিরোনামের একটি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন রোদসী। গানটির কথা লিখেছেন তিনি নিজেই।</p><p><strong>নারীদের নিয়ে লাইভ ব্যান্ড</strong></p><p>নিজের গান নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি নারী বাদ্যযন্ত্রশিল্পীদের নিয়েও ভাবছেন রোদসী। তাঁর লাইভ ব্যান্ডের সদস্য সবাই নারী। উপযুক্ত নারী বাদ্যযন্ত্রশিল্পী খুঁজে পেতে প্রায় তিন মাস সময় লেগেছিল তাঁর।</p><p>রোদসী মনে করেন, সংগীতাঙ্গনে নারীদের শুধু কণ্ঠশিল্পী হিসেবে নয়, বাদ্যযন্ত্রশিল্পী ও সংগীতের অন্যান্য ক্ষেত্রেও কাজের সুযোগ থাকা প্রয়োজন। সেই সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে চান তিনি।</p><p>ব্যান্ডের সদস্যরা এখনো নিজেদের প্রস্তুত করছেন। তাই গানের সংগীতায়োজন ও মহড়ার বড় অংশ সামলাতে হচ্ছে রোদসীকে। ভবিষ্যতে এই দল নিয়ে নিজেদের গান তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর।</p> <figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-16/bkpgw65l/IMG7346.jpg"><figcaption>রোদসী ইসফার ফাতেমী</figcaption></figure><p><strong>১১ গানের অ্যালবাম</strong></p><p>‘আরেকটু’ রোদসীর দ্বিতীয় অ্যালবামের গান। অ্যালবামের নাম এখনো ঘোষণা করেননি তিনি। আগামী ডিসেম্বরে এটি প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। অ্যালবামে থাকবে প্রায় ১১টি গান। গানগুলো সাজানো হচ্ছে পপসংগীতকে প্রাধান্য দিয়ে।<br>সব কটি গানের কথা লিখেছেন রোদসী। চারটি গানের সংগীত প্রযোজনা, মিক্সিং ও মাস্টারিং করেছেন নিজেই। বাকি গানগুলোর কাজ করেছেন অন্য সংগীতশিল্পীদের সঙ্গে।</p><p>অ্যালবাম প্রকাশ উপলক্ষে একক কনসার্ট করারও পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। সেখানে নতুন অ্যালবামের পাশাপাশি আগের অ্যালবামের জনপ্রিয় গানগুলোও পরিবেশন করবেন। আপাতত প্লেব্যাক নিয়ে আলাদা কোনো পরিকল্পনা নেই রোদসীর। তবে পছন্দের কোনো সিনেমা বা গানের সঙ্গে নিজের যোগসূত্র খুঁজে পেলে কাজ করতে আপত্তি নেই তাঁর।</p><p>রোদসীর জন্ম লালমনিরহাটে, বেড়ে ওঠা ঢাকায়। তাঁর বাবা সংগীতশিল্পী সাজেদ ফাতেমী, মা সুলতানা পারভীন ইয়োগা প্রশিক্ষক। রোদসী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।</p>
ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে আজ জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ফুটবল লিগে আছে তিনটি ম্যাচ। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, লা লিগা ও ফ্রেঞ্চ লিগের ম্যাচও আছে।
ক্লান্ত থাকলে চোখের নিচে কালচে দাগ, ফোলা ভাব কিংবা সূক্ষ্ম ভাঁজ দেখা দিতে পারে। কারণ, চোখের চারপাশের ত্বক মুখের অন্য অংশের তুলনায় অনেক পাতলা ও সংবেদনশীল
<p>ঘর শুধু চার দেয়াল, আর একটি চাল নয়। ঘর মানে ঠিকানা। ঘর মানে নিরাপত্তা। ঘর মানে মর্যাদা। স্বল্প আয়ের পরিবারের জন্য ঘরই জীবনের প্রথম ভিত্তি। দারিদ্র্য আর অনিরাপদ ঘর একে অপরের সঙ্গে জড়িত। গরিব মানুষ দুর্বল ঘরে থাকে। বন্যা আসে, ঘূর্ণিঝড় আসে। ঘর ভাঙে। সঞ্চয় শেষ হয়। ঋণ বাড়ে। আবার নতুন করে শুরু করতে হয়। এভাবেই দারিদ্র্যের চক্র চলতে থাকে। </p><p>আবাসন ঋণ ও জলবায়ু-সহনশীল বাসস্থানের মাধ্যমে স্বল্প আয়ের মানুষকে দারিদ্র্যের চক্র থেকে বের করে আনছে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)। এই চক্র ভাঙতে পিকেএসএফ তাদের সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে চারটি উদ্যোগ নিয়েছে।</p><p>বাংলাদেশে আবাসন ঋণের চাহিদা অনেক। কিন্তু ছোট অঙ্কের ঋণ বাণিজ্যিক ব্যাংক দিতে চায় না। কারণ ঝুঁকি বেশি, লাভ কম। ব্যাংক চায় জমির দলিল ও বন্ধক। গরিব মানুষের তা থাকে না। ফলে নিজের সামান্য সঞ্চয়ে অল্প অল্প করে ঘর তোলেন তাঁরা। সেই ঘর হয় দুর্বল। অনেক সময় নির্মাণও অসম্পূর্ণ থাকে। পিকেএসএফ এই গ্যাপটি পূরণ করতে চেয়েছে। তাদের ঋণ সহজ শর্তের। বন্ধক লাগে না। মেয়াদ প্রচলিত ক্ষুদ্রঋণের তুলনামূলক দীর্ঘ, সুদের হার কম।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/mb2t0p5b6o">দুর্নীতি দূর না করতে পারলে দারিদ্র্য হটবে না</a></aside><p>২০১৬ সালে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে শুরু হয় ‘লো-ইনকাম কমিউনিটি হাউজিং সাপোর্ট প্রজেক্ট’ (এলআইসিএইচএসপি)। সাতটি সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে ১৩টি শহরে আবাসন ঋণ দেওয়া হয়। ২০২১ সালের মে পর্যন্ত ১২ হাজার ২ জন সদস্য ২৫৫ কোটি টাকা ঋণ পান। ৫৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ ঋণ গেছে স্বল্প আয়ের পরিবারে (যাদের মাসিক আয় ২৫,০০০ টাকা)। লক্ষ্য ছিল ৪০ শতাংশ। বিশ্বব্যাংকের মিশন প্রকল্পটিকে ‘অত্যন্ত সন্তোষজনক’ বলেছে। বাংলাদেশে এটি বিশ্বব্যাংকের দেওয়া সর্বোচ্চ রেটিং। মাঠের অভিজ্ঞতাও ইতিবাচক। ঋণগ্রহীতাদের স্বাস্থ্য ভালো হয়েছে। সন্তানের পড়াশোনার পরিবেশ উন্নত হয়েছে। সামাজিক মর্যাদা বেড়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ছোট ব্যবসার সুযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে।</p><p>এলআইসিএইচএসপির অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পিকেএসএফ ২০১৯ সালে নিজস্ব তহবিলে চালু করে ‘আবাসন ঋণ’ কর্মসূচি। জুন ২০২৬ পর্যন্ত ৪২টি জেলার ১৬০টি উপজেলায় ৩২টি সহযোগী সংস্থার ৩৬০টি শাখা কাজ করছে। ৫২ হাজার ১৮৪টি পরিবার ঋণ পেয়েছে। বিতরণ হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৪৩৭ কোটি টাকা। এই টাকায় কেউ নতুন ঘর তুলেছেন। কেউ পুরোনো ঘর মেরামত করেছেন। কেউ ঘর বাড়িয়েছেন। ঘর পাকা হয়েছে, আলো-বাতাস ঢুকেছে, স্যানিটেশন ঠিক হয়েছে। রান্নাঘর উন্নত হয়েছে।</p><blockquote>জলবায়ু ক্ষতি রক্ষায় আরও নিরাপদ ঘরের প্রয়োজন। বাংলাদেশ জলবায়ু ঝুঁকির অন্যতম শীর্ষ দেশ। উপকূলে ঘূর্ণিঝড় ও লবণাক্ততা। উত্তরাঞ্চলে বন্যা ও নদীভাঙন। সেখানে সাধারণ ঘর যথেষ্ট নয়। দরকার জলবায়ু-সহনশীল ঘর।</blockquote><p>ঘর কী দারিদ্র্য কমায়? এ বিষয়ে পিকেএসএফ ছয়টি কারণ চিহ্নিত করেছে। প্রথমত, ঘর পরিবারকে সমাজে পরিচিতি দেয়। দ্বিতীয়ত, ঘর নারীর ক্ষমতায়ন করে। নারী ঘরে সবচেয়ে বেশি সময় কাটান। নিরাপদ ও নিরিবিলি ঘর তাঁর মর্যাদা রক্ষা করে। ঘরের মালিকানা বা যৌথ মালিকানা থাকলে তাঁর দর-কষাকষির ক্ষমতা বাড়ে। তৃতীয়ত, ঘর শিক্ষাকে সহায়তা করে। ঘরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস থাকলে শিশুর পড়ার পরিবেশ উন্নত হয়। প্রতি বন্যায় বা সাইক্লোনে ঘর মেরামতে টাকা গেলে স্কুলের খরচে কম পড়ে, অনেক সময় থাকে না। চতুর্থত, ঘর স্বাস্থ্য রক্ষা করে। স্যাঁতসেঁতে ও ঘিঞ্জি ঘরে শ্বাসকষ্ট ও রোগ ছড়ায়। পঞ্চমত, ঘর একটি সম্পদ। গরিবের বড় সম্পদ প্রায়ই ঘর। এই সম্পদ থেকে গড়ে ওঠে আরও সম্পদ। ষষ্ঠত, ঘর কর্মসংস্থান তৈরি করে। রাজমিস্ত্রি, কাঠমিস্ত্রি, শ্রমিক ও নির্মাণসামগ্রীর ব্যবসায়ী আয় করেন। অনেকের ঘরই কর্মস্থল। সেখানে চলে সেলাই, হাঁস-মুরগি পালন বা ছোট দোকান।</p><p>জলবায়ু ক্ষতি রক্ষায় আরও নিরাপদ ঘরের প্রয়োজন। বাংলাদেশ জলবায়ু ঝুঁকির অন্যতম শীর্ষ দেশ। উপকূলে ঘূর্ণিঝড় ও লবণাক্ততা। উত্তরাঞ্চলে বন্যা ও নদীভাঙন। সেখানে সাধারণ ঘর যথেষ্ট নয়। দরকার জলবায়ু-সহনশীল ঘর। </p><p>গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডের (জিসিএফ) অর্থায়নে চলছে ‘রেজিলিয়েন্ট হোমস্টেড অ্যান্ড লাইভলিহুড সাপোর্ট টু দ্য ভালনারেবল কোস্টাল পিপল অব বাংলাদেশ’ (আরএইচএল) প্রকল্প। কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করা হচ্ছে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা ও কক্সবাজারের ২১টি উপজেলায়। ১৮টি সহযোগী সংস্থা এতে যুক্ত। লক্ষ্য ৩ হাজার বসতভিটা। প্রতিটি ঘরে উঁচু ভিটা, শক্ত কাঠামো, নিরাপদ স্যানিটেশন, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, সৌরবিদ্যুৎ ও উন্নত চুলা আছে। চারপাশে লাগানো হচ্ছে ঝড়-প্রতিরোধী গাছ। ২ লাখ ৫০ হাজারের বেশি গাছ এরই মধ্যে লাগানো হয়েছে। </p><p>২০২৫ সালের মে মাসে ঘূর্ণিঝড় ৭ জেলায় ৫০ হাজারের বেশি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত করে। সেই সময় আরএইচএল ঘরে নিরাপদ ছিল ৭০০ পরিবার। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সাতক্ষীরার আশাশুনিতে ভূমিকম্পে প্রকল্পের ইটের ঘরের কোনো ক্ষতি হয়নি বলে জানানো হয়েছে। ঘরের পাশাপাশি আছে আয় কর্মকাণ্ডে সহায়তা। উঁচু মাচায় ছাগল-ভেড়া পালন, লবণসহিষ্ণু সবজি চাষ, বস্তায় আদা চাষ ও কাঁকড়া চাষে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ২০২৫ সালে ৬ হাজার ১৮৮ জন আদা চাষি প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা আয় করেছেন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/pjfroi8ja3">বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনে আয়বৈষম্য যেভাবে দায়ী</a></aside><p>ইসিসিসিপি-ফ্লাড-মূল উদ্দেশ্য বন্যার বিরুদ্ধে উঁচু ভিটা। উত্তরাঞ্চলের বন্যা প্রবণ এলাকায় একই দর্শনে কাজ করেছে ইসিসিসিপি-ফ্লাড। জিসিএফ ও পিকেএসএফের মোট ১৩ দশমিক ৩৩ মিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্প চলেছে কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, গাইবান্ধা ও জামালপুরে। এখানে মূল কাজ ছিল ভিটা উঁচু করা। এলাকার আগের সর্বোচ্চ বন্যার উচ্চতার ওপরে ভিটা তোলা হয়েছে। এ পর্যন্ত ১৫ হাজার ৫৬৩টি ভিটা উঁচু করা হয়েছে। ভিটার ওপর বসেছে নলকূপ ও জলবায়ু-সহনশীল পায়খানা। ফলে সারা বছর নিরাপদ পানি মিলছে। একই সঙ্গে বন্যা-সহনশীল ধানের বীজ দেওয়া হয়েছে। চরে সবজি চাষের প্রশিক্ষণ হয়েছে। প্রায় ২ হাজার মাচা-ঘর তৈরি করে ছাগল-ভেড়া পালনে ঋণ দেওয়া হয়েছে। নারীপ্রধান পরিবার পেয়েছে অগ্রাধিকার। একই ধরনের সিসিসি প্রকল্পে ৫৭৫৯টি ভিটা উঁচু করা হয়েছে।</p><p>এখন আসছে নতুন সম্ভাবনা, আরও বড় পরিসরে কাজ করার সুযোগ। এডিবি দিচ্ছে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ। এর মাধ্যমে পিকেএসএফ ও সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে ২০৩১ সালের মধ্যে অন্তত ৪০ হাজার পরিবার আবাসন ঋণ পাবে। তাদের অন্তত ৩২ হাজার নারী। অন্তত ২৪ হাজার ঋণগ্রহীতা থাকবেন দুর্যোগ-প্রবণ এলাকায়। ঋণ হবে বন্ধক ছাড়া ও দীর্ঘমেয়াদি। নারীর আবাসন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বামী-স্ত্রী যৌথ উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হবে।</p><p>এই চার উদ্যোগ একটি বিষয় প্রমাণ করে। আবাসন শুধু অবকাঠামো নয়। এটি দারিদ্র্য বিমোচনের পথ। একটি ঘর একসঙ্গে নিজস্ব পরিচয়, নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সম্পদ ও কর্মসংস্থান গড়ে তোলে। জলবায়ু-সহনশীল ঘর সেই অর্জনকে দুর্যোগের হাত থেকেও বাঁচায়। আবাসন ব্যবস্থা উন্নয়নে তারপরও রয়েছে অনেক চ্যালেঞ্জ। চাহিদার তুলনায় তহবিল কম। নির্মাণসামগ্রীর দাম বাড়ছে। জলবায়ুর ঝুঁকিও বাড়ছে। তাই চাই আরও উপযুক্ত বিনিয়োগ। চাই সরকার, উন্নয়ন সহযোগী ও সহযোগী সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত উদ্যোগ।</p><p>নিরাপদ ঘর পেলে একটি পরিবার শুধু মাথা গোঁজার ঠাঁই পায় না, সে মাথা তুলে দাঁড়ানোর সাহসও পায়।</p><ul><li><p><strong>ড. একেএম নুরুজ্জামান </strong>সিনিয়র মহাব্যবস্থাপক, পিকেএসেফ</p></li></ul>
<p>আরব মরুভূমির এক ছোট্ট ও চঞ্চল প্রাণী ‘জারবোয়া’। খুব বেশি লাফায় বলে একে অনেকে মরু ইঁদুর বা ক্যাঙ্গারি ইঁদুর বলে। আত্মরক্ষার প্রয়োজনে এই প্রাণীটির এক অদ্ভুত প্রবৃত্তি হয়, যা প্রাচীনকাল থেকেই আরবদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছিল।</p><p>জারবোয়া যখন মাটির নিচে নিজের থাকার জন্য গর্ত তৈরি করে, তখন সে বিপদের সময় পালানোর জন্য একটি বিকল্প পথও খুঁড়ে রাখে। এই গোপন পথের মুখে সে মাটির খুব পাতলা একটি আস্তরণ দিয়ে রাখে, যেন বাইরে থেকে বোঝা না যায়। বিপদের আঁচ পেলে সে মাথা দিয়ে ধাক্কা দিয়ে সেই পাতলা মাটির স্তর ভেঙে দ্রুত পালিয়ে যায়।</p><p>আরবরা জারবোয়ার গর্তের এই প্রথম ও মূল পথকে বলত ‘কাসিয়া’ এবং দ্বিতীয় গোপন পথকে বলত ‘নাফিকা’। এই ‘নাফিকা’ শব্দ থেকেই ‘নিফাক’ বা মোনাফেকির ধারণাটি এসেছে। কারণ মোনাফেকদের চরিত্রও ঠিক এই প্রাণীর মতোই; তাদের বাইরে থাকে এক রূপ, আর ভেতরে থাকে গোপন গর্ত, যার মাধ্যমে তারা সুযোগ পেলে প্রতারণার আশ্রয় নেয়।</p><p>মক্কায় ইসলামের প্রথম যুগে মুসলিমদের অবস্থা যখন দুর্বল ছিল, তখন অবিশ্বাসীরা সরাসরি শত্রুতা প্রকাশ করত। কিন্তু মহানবী (সা.) ও তাঁর সাহাবিরা যখন হিজরত করে মদিনায় গেলেন, তখন সমাজচিত্র বদলে গেল। সেখানে এমন একদল মানুষের উদ্ভব হলো, যারা মুখে ইসলামের কথা বললেও ভেতরে ভেতরে অবিশ্বাস, অহংকার ও শত্রুতা লালন করত।</p><p>মদিনার নতুন পরিবেশে মুসলিমদের ক্ষমতা ও প্রভাব বাড়তে থাকায় তারা সরাসরি বিরোধিতা করার সাহস পায়নি। তাই তারা এমন এক ভয়াবহ আদর্শিক ও আচরণগত বিকৃতির পথ বেছে নিল, যার সঙ্গে মুসলিমরা আগে পরিচিত ছিল না।</p><aside><cite>সুরা হাদিদ, আয়াত: ১৪</cite>তোমরা নিজেরাই নিজেদের বিপদগ্রস্ত করেছ। তোমরা (মুমিনদের অমঙ্গলের) অপেক্ষায় ছিলে, তোমরা সন্দেহ পোষণ করেছিলে এবং মিথ্যা আশা তোমাদের প্রতারিত করেছিল; যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ এসে পৌঁছাল। আর প্রতারক (শয়তান) তোমাদের আল্লাহ সম্পর্কে প্রতারিত করেছিল।</aside><h3>মোনাফেকের মানসিক টানাপোড়েন </h3><p>মোনাফেকরা সবসময়ই এক ধরনের মানসিক দ্বন্দ্বে ভোগে। বাইরে তারা নিজেদের মুসলিম সমাজের অংশ হিসেবে জাহির করে, কিন্তু ভেতরে তারা সেই সমাজের নীতি ও মূল্যবোধের প্রতি প্রবল নেতিবাচক ধারণা পোষণ করে। এই স্ববিরোধিতার কারণে তাদের ভেতরটা সবসময় অশান্ত থাকে এবং তারা তীব্র মানসিক যন্ত্রণায় ভোগে।</p><p>এই মানসিক অবস্থা একটি ‘ব্যাধি’। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, “তাদের অন্তরে রয়েছে ব্যাধি। অতঃপর আল্লাহ তাদের ব্যাধি আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন।” (সুরা বাকারা, আয়াত: ১০)</p><p>এই ব্যাধি একপর্যায়ে ক্যান্সারের মতো সমাজে ছড়িয়ে পড়ে। তারা নিজেদের এই ব্যাধি অন্যদের মধ্যেও সংক্রমিত করতে চায়, যা শেষ পর্যন্ত সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোকে ধ্বংস করে এবং সমাজের সাধারণ শান্তি বিঘ্নিত করে।</p><p>পরকালেও যখন মুমিন ও মোনাফেকদের মধ্যে কথোপকথন হবে, তখন মোনাফেকরা মুমিনদের আলো থেকে একটু সুবিধা নিতে চাইবে। তারা দাবি করবে যে পৃথিবীতে তো তারা মুমিনদের কাতারেই ছিল। তারা ধূর্ততার সঙ্গে মুমিনদের জিজ্ঞেস করবে, “আমরা কি তোমাদের সঙ্গে ছিলাম না?”</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/religion/islam/k2eso0zymh">একটি মসজিদ নিয়ে নবীজি (সা.)–এর ব্যতিক্রমী নির্দেশ</a></aside><p>এর জবাবে তাদের কপটতার চারটি দিক উন্মোচন করে বলা হবে, “হ্যাঁ, কিন্তু তোমরা নিজেরাই নিজেদের বিপদগ্রস্ত করেছ। তোমরা (মুমিনদের অমঙ্গলের) অপেক্ষায় ছিলে, তোমরা সন্দেহ পোষণ করেছিলে এবং মিথ্যা আশা তোমাদের প্রতারিত করেছিল; যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ এসে পৌঁছাল। আর প্রতারক (শয়তান) তোমাদের আল্লাহ সম্পর্কে প্রতারিত করেছিল।” (সুরা হাদিদ, আয়াত: ১৪)</p><h3>মোনাফেকের ৪ বৈশিষ্ট্য </h3><p>উপরে জবাবের মাঝেই মোনাফেকদের প্রধান চারটি বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে।</p><p><strong>১. ভেতরে এক, বাইরে অন্য:</strong> তারা মুখে যা বলে, অন্তরে তা বিশ্বাস করে না এবং কাজেও তা প্রমাণ করে না। তারা এমন সব নৈতিক আদর্শের বুলি আওড়ায়, যা নিজেরা কখনোই পালন করে না। আবার তারা এমন সব কাজের সমালোচনা করে, যা তারা নিজেরাই গোপনে করে বেড়ায়।</p><p>এই ধরনের মানুষেরা নিজেদের নৈতিকতার একটি ‘ভুল সংকেত’ সমাজের সামনে উপস্থাপন করে। এর ফলে সমাজ যখন তাদের আসল রূপটি ধরে ফেলে, তখন মানুষের পারস্পরিক বিশ্বাস ও সামাজিক সংহতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।</p><p>নবীজি (সা.) বলেছেন, “মোনাফেকের নিদর্শন তিনটি: যখন কথা বলে মিথ্যা বলে, যখন প্রতিশ্রুতি দেয় ভঙ্গ করে এবং যখন তার কাছে আমানত রাখা হয়, সে তার খেয়ানত করে।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৩)</p><blockquote>যখন মানুষের ভেতরের সত্তা এবং বাইরের প্রদর্শিত রূপের মাঝে এই মাত্রার বিরোধ তৈরি হয়, তখন তা আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয় এবং মানসিক বিচ্ছিন্নতা তৈরি করে। মুমিনদের সাফল্য দেখলে এরা ভেতরে ভেতরে তীব্র ক্ষোভে জ্বলতে থাকে।</blockquote><p><strong>২. নেতিবাচক তৎপরতা:</strong> তারা দ্বিমুখী আচরণে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে এবং নৈতিক অবক্ষয় তাদের স্বভাবে পরিণত হয়। তারা অবলীলায় বড় বড় অপরাধ ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় এবং মিথ্যা শপথ করে নিজেদের আড়াল করার চেষ্টা করে।</p><p>এরা মূলত সমাজের ভেতর গুপ্তঘাতক হিসেবে কাজ করে। মক্কার অবিশ্বাসীরা ছিল সরাসরি শত্রু, যাদের মোকাবিলা করা তুলনামূলক সহজ ছিল, কারণ তাদের অবস্থান ছিল দিনের আলোর মতো স্পষ্ট। কিন্তু মদিনার মোনাফেকরা ছিল ঘাপটি মেরে থাকা শত্রু।</p><p>নবীজির ইন্তেকালের পর, ওহির আগমন বন্ধ হয়ে গেলে মোনাফেকদের এই চরিত্র আরও খোলামেলা রূপ নেয়।</p><p>সাহাবি হুজাইফা (রা.) সেই সময়ের সমাজচিত্র দেখে আক্ষেপ করে বলেছিলেন, “নবীজির যুগে যারা মোনাফেক ছিল, আজকের দিনের মোনাফেকরা তাদের চেয়েও জঘন্য। কারণ, তারা তাদের কপটতা গোপন রাখত, আর এরা প্রকাশ্যে তা করে বেড়ায়।” (ইবনে আবি শাইবা, <em>আল-মুসান্নাফ,</em> ৭/২৫৪, মাকতাবাতুর রুশদ, রিয়াদ, ২০০৪)</p><p><strong>৩. সত্যের প্রতি সংশয়: </strong>তারা না পারে পুরোপুরি সত্য গ্রহণ করতে, না পারে পুরোপুরি তা বর্জন করতে। কোরআনের ভাষায়, “তারা এর মাঝখানে দোদুল্যমান; না এদের দিকে, না ওদের দিকে।” (সুরা নিসা, আয়াত: ১৪৩)</p><p>তাদের এই দিশেহারা অবস্থাটি বোঝাতে গিয়ে একটি চমৎকার উপমা দেওয়া হয়েছে। হাদিসে বলা হয়েছে, “মোনাফেকের উদাহরণ হলো দুই পালের মাঝে ঘুরে বেড়ানো একটি ভেড়ার মতো। সে একবার এই পালের দিকে যায়, আবার ওই পালের দিকে যায়; সে বুঝতে পারে না কোনটির অনুসরণ করবে।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৭৮৪)</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/religion/islam/jlonr68gcg">শত্রুদের বিবরণ আছে সুরা মুনাফিকুনে </a></aside><p>যখন মানুষের ভেতরের সত্তা এবং বাইরের প্রদর্শিত রূপের মাঝে এই মাত্রার বিরোধ তৈরি হয়, তখন তা আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয় এবং মানসিক বিচ্ছিন্নতা তৈরি করে। মুমিনদের সাফল্য দেখলে এরা ভেতরে ভেতরে তীব্র ক্ষোভে জ্বলতে থাকে।</p><p>কোরআনে তাদের এই অবস্থার চিত্রায়ন করা হয়েছে এভাবে, “আর যখন তারা একান্তে মিলিত হয়, তখন তোমাদের প্রতি আক্রোশে তারা নিজেদের আঙুলের অগ্রভাগ কামড়ায়। বলে দাও, তোমাদের আক্রোশেই তোমরা মরো।” (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১১৯)</p><p>আবার যখন কোনো কঠিন মুহূর্ত বা ত্যাগ স্বীকারের সময় আসে, তখন তারা মৃত্যুভয়ে গুটিয়ে যায়। যেমন বলা হয়েছে, “অতঃপর যখন কোনো সুনির্দিষ্ট সুরা অবতীর্ণ হয় এবং তাতে যুদ্ধের কথা উল্লেখ থাকে, তখন যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে, তুমি তাদের দেখবে, মৃত্যুভয়ে মূর্ছিত ব্যক্তির মতো তারা তোমার দিকে তাকিয়ে আছে।” (সুরা মুহাম্মদ, আয়াত: ২০)</p><p><strong>৪. পার্থিব মোহ ও মরীচিকা</strong>: মোনাফেকি শূন্য থেকে জন্ম নেয় না। মানুষের বেপরোয়া আকাঙ্ক্ষা এবং নিরাপত্তা ও স্বীকৃতির আদিম প্রবৃত্তিগুলো যখন পথভ্রষ্ট হয়, তখনই কপটতার জন্ম হয়। মোনাফেকরা সবসময় শুধু নগদ লাভ ও স্বার্থের পেছনে ছুটে বেড়ায়। কোনো কাজ থেকে পার্থিব সুবিধা বা ক্ষমতা না পেলে তারা সেখানে পা মাড়ায় না।</p><aside><cite>ইমাম ইবনুল কাইয়িম আল-জাওজিয়্যা (রহ.)</cite>মোনাফেকি হলো এমন এক বিষাক্ত গাছ, যা মিথ্যা ও লোকদেখানো স্বভাব—এই দুটি নালার পানিতে বেড়ে ওঠে। আর এই নালা দুটির উৎস হলো অন্তর্দৃষ্টির দুর্বলতা ও সংকল্পের অভাব। এই চারটির সমন্বয়ে মোনাফেকির গাছ শক্তভাবে শিকড় গাড়ে।”</aside><h3>শেষ কথা </h3><p>বিশেষজ্ঞরা কপটতাকে সাধারণত তিনটি ভাগে ভাগ করে থাকেন।</p><p>প্রথমত, ‘অবচেতন কপটতা’—যেখানে মানুষ না বুঝেই নিজের নীতির বিরুদ্ধে কাজ করে।</p><p>দ্বিতীয়ত, ‘পরিস্থিতিগত কপটতা’—পরিবেশ বা কর্মক্ষেত্রের চাপে পড়ে নীতির সঙ্গে আপস করা।</p><p>এবং তৃতীয়ত, ‘চতুরতামূলক কপটতা’—যেখানে ব্যক্তি নিজের হীন স্বার্থ হাসিলের জন্য সম্পূর্ণ সচেতনভাবে প্রতারণার আশ্রয় নেয়। এই চতুরতামূলক কপটতাই সমাজের জন্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর।</p><p>আধুনিক জীবনব্যবস্থায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যাপক বিস্তারের ফলে এই কপটতা এক নতুন রূপ পেয়েছে। মানুষ এখন নিজেদের জীবনের একটি মিথ্যা ছবি অন্যের সামনে তুলে ধরতে পাগলপ্রায়।</p><p>ফলে সমাজে সাফল্য, উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও প্রতিযোগিতার মতো ইতিবাচক ধারণাগুলো মূল অর্থ হারিয়ে ফেলছে এবং মানুষ তার সহজাত মানবিক গুণাবলি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।</p><p>এই ব্যাধির শেকড় কতটা গভীর, তা বোঝাতে গিয়ে ইবনুল কাইয়িম (রহ.) একটি চমৎকার তুলনা টেনেছেন।</p><p>তিনি বলেন, “মোনাফেকি হলো এমন এক বিষাক্ত গাছ, যা মিথ্যা ও লোকদেখানো স্বভাব—এই দুটি নালার পানিতে বেড়ে ওঠে। আর এই নালা দুটির উৎস হলো অন্তর্দৃষ্টির দুর্বলতা ও সংকল্পের অভাব। এই চারটির সমন্বয়ে মোনাফেকির গাছ শক্তভাবে শিকড় গাড়ে।” (ইবনুল কাইয়িম, <em>মাদারিজুস সালিকিন, </em>১/৩৫৫, দারুল কিতাব আল-আরাবি, বৈরুত, ১৯৯৬)</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/religion/islam/1em5fin1bk">তওবা করেও কেন আমরা একই পাপে ফিরে যাই</a></aside>
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন