<p>সরকারের মুখে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কথা থাকলেও তাদের অন্তরে আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের পরিবর্তে ক্ষমতাকেন্দ্রিক ব্যবসা, দুর্নীতি ও আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের পথে হাঁটছে। জুলাই গণহত্যার বিচারও দায়সারা বিষয়ে পরিণত হয়েছে।</p><p> আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘জুলাই গণহত্যার বিচার: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার ব্যবধান’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় হাসনাত আবদুল্লাহ এ কথা বলেন। এনসিপির জুলাই গণহত্যা ও গুমের বিচার পর্যবেক্ষণবিষয়ক কমিটি এ সভার আয়োজন করে।</p><p>হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, তাঁরা রাষ্ট্রকাঠামোর পরিবর্তন চেয়েছিলেন, কিন্তু বাস্তবে কেবল চেয়ার বদল হয়েছে। কেউ সংসদ সদস্য হয়েছেন, কেউ মন্ত্রী হয়েছেন; কিন্তু রাষ্ট্রের কাঠামোর কোনো পরিবর্তন হয়নি। তিনি আরও বলেন, ‘ফিটনেসবিহীন গাড়িতে দক্ষ চালক বসালেও গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব নয়। রাষ্ট্রের কাঠামো ঠিক না হলে সরকারও সফল হবে না।’</p><p>আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্যাতিত বিএনপির নেতা-কর্মীরা এখন দলে গুরুত্ব পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি দাবি করেন, ৫ আগস্টের পর বিএনপিতে যুক্ত হওয়া একটি অংশ ব্যবসায়িক সুবিধা এবং প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পাচ্ছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/4xj7c9zr9h">বিধবা কার্ড দেওয়া হলেও এমপির বউ সবার আগে পাবে: হাসনাত আবদুল্লাহ</a></aside><p>জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঘটনায় হওয়া হত্যা মামলাগুলোর তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে এনসিপির এই নেতা বলেন, ভুক্তভোগীদের সঙ্গে আলোচনা না করেই অনেক মামলায় ঢালাওভাবে বিপুলসংখ্যক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। পরে এসব মামলা অর্থ আদায় ও আপস-বাণিজ্যের উপলক্ষ হয়ে উঠছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়ার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগকে দল হিসেবে বিচারের মুখোমুখি করার আহ্বান জানান।</p><p>সরকারের অর্থনৈতিক নীতির সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কঠিন। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ডিলারশিপ ও সরকারি ঠিকাদারি কাজ বণ্টনে স্বজনপ্রীতিরও অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ তুলে জবাবদিহি দাবি করেন এনসিপির এই নেতা।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/politics/2zbvs1u58s">এনসিপিতে আসছে ‘সুপার সিক্স’: পাটওয়ারী, হাসনাত, সারজিস ও আসিফ মাহমুদ পাচ্ছেন নতুন পদ</a></aside><p>আলোচনা সভায় এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল আমিন বলেন, জুলাই গণহত্যার বিচার এখন দায়সারা বিষয়ে পরিণত হয়েছে। সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে আটক হওয়ার খবর ছড়িয়ে সরকার কৃতিত্ব নিয়েছিল। কিন্তু পরে তিনি ছাড়া পাওয়ার পর সরকার নীরব হয়ে যায়। এ ছাড়া চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে বিএনপির সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।</p><p>এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে মাত্র ১৩টি মামলার বিচারকাজ চলছে। বিচার ত্বরান্বিত করতে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানান তিনি। তাঁর অভিযোগ, সরকার এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে না।</p><p>এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব হুমায়রা নূর বলেন, জুলাই গণহত্যার মামলার তদন্তের দায়িত্বে থাকা কিছু পুলিশ সদস্যের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কয়েকটি মামলায় প্রকৃত অপরাধীদের পাশাপাশি সম্পূর্ণ নির্দোষ ব্যক্তিদেরও আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে তদন্ত ও বিচারকাজে সর্বোচ্চ আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।</p><p>সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন ন্যাশনাল লইয়ার্স অ্যালায়েন্সের সদস্যসচিব আইনজীবী এরশাদুল বারী খন্দকার এবং জুলাই শহীদ মাহমুদুর রহমান সৈকতের বোন সাবরিনা আফরোজ।</p>
সম্পর্কে নিজের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে চাওয়া স্বাভাবিক। সঙ্গীর যত্ন, মনোযোগ ও সহযোগিতার মাধ্যমে অনেকে সেই নিশ্চয়তা খুঁজে পান। কিন্তু সমস্যা তৈরি হয় তখন, যখন নিজের প্রয়োজন সরাসরি না জানিয়ে অন্যজনের কাছ থেকে নির্দিষ্ট ব্যবহার প্রত্যাশা করা হয়।
<p>পাকিস্তানে গভর্নরের শাসন ও জরুরি অবস্থা জারির পদক্ষেপ হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করা হবে বলে আজ মঙ্গলবার জানিয়েছেন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) চেয়ারম্যান গহর আলী খান। তিনি বলেন, ‘গভর্নরের শাসন ও জরুরি অবস্থা জারির বিরুদ্ধে আমরা হাইকোর্টে আবেদন করছি।’ সেই সঙ্গে তাঁর দল সাংবিধানিক ও আইনি লড়াই চালিয়ে যাবে বলে জানান তিনি।</p><p>পিটিআই নেতা গহর বলেন, তাঁর দল একটি অবাধ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও স্বাধীন বিচার বিভাগের সমর্থক।</p><p>একটি গণতান্ত্রিক সরকার উৎখাত করে জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন জারি করাকে অবৈধ বলে আখ্যা দেন পিটিআই প্রধান। দলটির সাধারণ সম্পাদক সালমান আকবর রাজা বলেন, ‘আন্দোলন করা— এটা আমাদের অধিকার।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-13/a29uglyd/ImranLong-March.avif"><figcaption>সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পেশোয়ারে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতা-কর্মীদের লংমার্চ</figcaption></figure><p>পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে পিটিআই এবং পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের মুখোমুখি অবস্থানের মধ্যে গত রোববার খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন জারি করা হয়।</p><p>প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সরকার সংবিধানের নিরাপত্তাসংক্রান্ত দুটি অনুচ্ছেদের আওতায় এ জরুরি অবস্থা জারির ঘোষণা দেয়। এর ফলে সেখানে পিটিআই পরিচালিত প্রাদেশিক সরকারের সব কার্যক্রম কার্যত স্থগিত হয়ে গেছে।</p><p>সরকার ও পিটিআইয়ের মধ্যে চলমান এ দ্বন্দ্বে সমঝোতার চেষ্টা করছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম-পাকিস্তানের (জেইউআই-এফ) নেতা মাওলানা ফজলুর রহমান। উভয় পক্ষই সম্ভাব্য সংঘাতের পথ এড়াতে তাঁর দ্বারস্থ হয়েছেন। এ নিয়ে পিটিআইয়ের সাধারণ সম্পাদক সালমান আরও বলেন, ‘মাওলানা ফজলুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী সব বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীও বলেছিলেন, বিষয়টি মন্ত্রিসভার বৈঠকে এগিয়ে নেবেন। কিন্তু এরপর সরকার আলোচ্যসূচি বদলে ফেলে।’</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/pakistan/dch104aybw">খাইবার পাখতুনখাওয়ায় গভর্নর শাসনের অর্থ কী, চলতে পারে কত দিন</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/pakistan/7uf52o2qc2">বন্দী ইমরানকে নিয়ে পাকিস্তানের রাজনীতি কেন ঘুরপাক খাচ্ছে</a></aside><p>পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী বলেছেন, খাইবার পাখতুনখাওয়ায় রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কোনো ইচ্ছা সরকারের নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সন্ত্রাস মোকাবিলায় সব রাজনৈতিক দলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।</p><p>খাইবার পাখতুনখাওয়ায় গভর্নরের শাসন জারির পর গত সোমবার সড়ক অবরোধের কারণে প্রাদেশিক রাজধানী পেশোয়ারের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ ছিল। গতকাল মঙ্গলবার পেশোয়ারের সব সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখা হয়। তবে পেশোয়ারে সাত দিনের জন্য সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে জেলা প্রশাসন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/pakistan/o0kovpa9iu">পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা জারি</a></aside>
<p>বিএনপির নেতা ও ঢাকা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ মঙ্গলবার রাত ৮টা ১০ মিনিটে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।</p><p> সালাহউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুর খবর ফেসবুক জানিয়েছেন তাঁর ছেলে ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ। এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমার আব্বু আর নেই। সে তার রবের কাছে চলে গিয়েছেন। রাত ৮টা ১০ মিনিটে এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।’</p><p>বাবার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়ে তানভীর আহমেদ আরও লিখেছেন, ‘মহান আল্লাহপাক রাব্বুল আলামিন আমার আব্বুকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন। আমিন।’</p><p>তানভীরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সালাহউদ্দিন আহমেদের জানাজা আগামীকাল বুধবার জোহর নামাজের পর শ্যামপুর-কদমতলীর লাল মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে।</p><p>সালাহউদ্দিন আহমেদ বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন। তিনি রাজধানীর শ্যামপুর-কদমতলী এলাকায় বিএনপির প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ঢাকা-৪ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ১৯৯১ সালের পঞ্চম, ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ এবং ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।</p><p>২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সালাহউদ্দিন আহমেদ ঢাকা-৫ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিবুর রহমান মোল্লার কাছে পরাজিত হন। পরে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবার ঢাকা-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পান তিনি। ওই নির্বাচনে প্রচারণার সময় তাঁর গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে।</p><p>সালাহউদ্দিন আহমেদ বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন তিনি।</p>
<p>অর্থনীতিতে পরিবেশবান্ধব রূপান্তরের মাধ্যমে আগামী ২০৩৫ সাল নাগাদ বাংলাদেশের মোট বিনিয়োগ ৪ দশমিক ৫ শতাংশ এবং রপ্তানি ২ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়ানো সম্ভব। একই সঙ্গে দেশে প্রকৃত মজুরি, ব্যক্তিগত ভোগ এবং কর্মসংস্থানও বাড়তে পারে।</p><p> তবে এসব লক্ষ্য অর্জনে অর্থনীতিকে জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর উন্নয়নের পথ থেকে সরিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দিকে নিয়ে যেতে হবে।</p><p> রাজধানীর একটি হোটেলে আজ মঙ্গলবার ‘সবুজ প্রবৃদ্ধি কি বাংলাদেশের উন্নয়নের পরবর্তী ধাপকে এগিয়ে নিতে পারবে?’ শীর্ষক এক নীতিসংলাপে এমন অভিমত উঠে আসে। সংলাপটির আয়োজন করে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম)। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সেলিম রায়হান।</p><p>প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য মনজুর হোসেন, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ফাহমিদা খাতুন এবং শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো. ফজলুল হক।</p><p>সংলাপে ‘বাংলাদেশে পরিবেশবান্ধব প্রবৃদ্ধি অর্জন: উন্নয়ন বিকল্প, নীতিসামঞ্জস্য এবং উত্তরণের চ্যালেঞ্জসমূহ’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধে ২০২৬ থেকে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত দেশের অর্থনীতির সম্ভাব্য গতিপথ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে প্রচলিত উন্নয়নধারা, মাঝারি মাত্রার জ্বালানি রূপান্তর এবং অতিমাত্রায় জ্বালানি রূপান্তর ও পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগ—তিনটি পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া হয়। মডেলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, অতিমাত্রায় জ্বালানি রূপান্তরের পরিস্থিতিতে প্রচলিত উন্নয়নধারার তুলনায় বিনিয়োগ ও রপ্তানি বেশি বাড়তে পারে।</p><p>প্রবন্ধের প্রাক্কলন অনুযায়ী, আগামী ২০৩৫ সাল নাগাদ ব্যাপক জ্বালানি রূপান্তর করা গেলে বিনিয়োগ সাড়ে ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি মানুষের প্রকৃত মজুরি ১ দশমিক ৫ শতাংশ, ব্যক্তিগত ভোগ ১ দশমিক ৩ শতাংশ ও মোট কর্মসংস্থান ১ দশমিক ১ শতাংশ বাড়বে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, যন্ত্রপাতি, পরিবহন ও নির্মাণ খাতে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য, প্রাকৃতিক গ্যাস ও কয়লাসংশ্লিষ্ট খাতের প্রবৃদ্ধি কমতে পারে।</p><p>প্রবন্ধে বলা হয়েছে, পরিবেশদূষণের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে বড় ধরনের স্বাস্থ্যগত ও জনকল্যাণমূলক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। বায়ুদূষণ, অনিরাপদ পানি, অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন ও সিসাদূষণের কারণে ২০১৯ সালে ক্ষতির পরিমাণ ছিল জিডিপির ১৭ দশমিক ৬ শতাংশের সমপরিমাণ। অর্থাৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হিসাবের বাইরে পরিবেশদূষণের কারণে মানুষের স্বাস্থ্য, শ্রমের উৎপাদনশীলতা ও সামগ্রিক কল্যাণে প্রভাব পড়ে।</p><p>মূল প্রবন্ধে আরও বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ২০৫০ সাল নাগাদ আনুমানিক ২৩০ বিলিয়ন বা ২৩ হাজার কোটি মার্কিন ডলার প্রয়োজন হবে। এই অর্থের সংস্থান নিশ্চিত করতে সরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, বাণিজ্যিক ব্যাংক, গ্রিন বন্ড এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।</p><p>সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় অর্থায়নের বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতির প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ প্রশমনসংক্রান্ত বিভিন্ন খাতে রাখা হয়, আর আমাদের মতো দেশগুলোর জন্য মাত্র ৩৫ শতাংশ অভিযোজন কর্মসূচিতে বরাদ্দ রাখা হয়। কিন্তু এসব অর্থও যথাযথভাবে পাওয়া যায় না।’</p><p>ফাহমিদা খাতুনের মতে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি রূপান্তরের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে। তৈরি পোশাকসহ রপ্তানি খাতগুলোকেও নানা শর্তের মুখে পড়তে হবে।</p><p>জিইডির সদস্য (সচিব) মনজুর হোসেন বলেন, যুদ্ধের প্রভাবে জীবাশ্ম জ্বালানি খাতে বিপুল ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। তাই নবায়নযোগ্য জ্বালানি ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। সরকার এটাকে খুব প্রাধান্য দিচ্ছে। আর অর্থায়নের জন্য সবুজ বা নীল বন্ড এবং সুকুকের চিন্তা করা হচ্ছে। আর সৌরবিদ্যুতের জন্য স্থানের অভাব হবে না। নদীর পাড়ে, গ্রামে টিনের চালে স্থাপন করা যাবে। এটি সব সময়ই ব্যয়বহুল। তাই বলে পিছিয়ে আসার সুযোগ নেই। এটা ভবিষ্যৎ অস্তিস্তের লড়াই।</p><p>এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, ‘সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা আরেকটু গভীরে গিয়ে দেখা দরকার। আমাদের জনবহুল দেশে জায়গার সমস্যা আছে। আর সরকারি নীতির মধ্যেও সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। হাইড্রোপাওয়ারের সম্ভাবনাও পর্যালোচনা করে দেখা দরকার।’</p><p>সমাপনী বক্তব্যে সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিনির্ভরতা একধরনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে জ্বালানি রূপান্তরে বিপুল বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। সেখানে আন্তর্জাতিক তহবিলের পাশাপাশি দেশীয় এবং বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসতে হবে।</p>
<p>সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে হয়রানি ও হেনস্তার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁর সরকারের ১২ জন উপদেষ্টা। আজ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এ ঘটনার কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন তাঁরা।</p><p> সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর থেকে হুইলচেয়ারে করে বের হওয়ার সময় অধ্যাপক ইউনূসকে হেনস্তা করার ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা যায়, অধ্যাপক ইউনূসের দিকে এগিয়ে গিয়ে কয়েকজন লোক উচ্চ স্বরে স্লোগান দিচ্ছেন। এ সময় বিক্ষোভকারীরা তাঁকে উদ্দেশ করে ‘হোয়াই ইউ কাম হিয়ার’সহ নানা অপবাদসূচক কথা বলে চিৎকার করছিলেন। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রবাসী সমর্থকের বিরুদ্ধে তাঁকে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে।</p><p>এ ঘটনার খবর প্রকাশের পর বিবৃতি দিয়েছেন সাবেক উপদেষ্টারা। বিবৃতিতে তাঁরা বলেছেন, ‘সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে লক্ষ্য করে অব্যাহত হয়রানি, অনলাইনে অপপ্রচার এবং পরিকল্পিত আক্রমণের ঘটনায় আমরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছি ও কঠোরতম নিন্দা জানাচ্ছি।’</p><p>বিবৃতিদাতারা হলেন সাবেক উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, সিআর আবরার, আসিফ নজরুল, আদিলুর রহমান খান, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, সাখাওয়াত হোসেন, ফারুক-ই-আজম, ফরিদা আখতার, শারমিন এস মুরশিদ, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।</p><p>বিবৃতিতে সাবেক এই উপদেষ্টারা বলেছেন, ‘বছরের পর বছর লাগামহীন অর্থনৈতিক লুটপাট, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধসে পড়া ও দুর্নীতি, পদ্ধতিগত দমন–পীড়ন এবং ব্যাপক পরিসরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে আমাদের দেশ যখন বিপর্যস্ত হয়ে পুরোপুরি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছিল, সেই সময় দেশ পুনর্গঠনের অত্যন্ত কঠিন কাজ সামলাতে অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। এই অন্তর্বর্তী সরকারই গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো জঘন্য কর্মকাণ্ডের অবসান ঘটিয়েছিল, যেগুলো ফ্যাসিবাদী শাসনামলে নিয়মিত ঘটানো হতো।’</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/7r38c4aqkv"> যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যাপক ইউনূসকে হেনস্তার নিন্দা জানিয়েছে সরকার</a></aside><p>বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে। তাদের আশা ছিল, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলের ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং মানবাধিকার রক্ষার কাজগুলো ধারাবাহিকভাবে চলবে।</p><p>‘গভীর অনুতাপের সঙ্গে আমরা লক্ষ করছি, কিছু রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত ও একটি স্বার্থান্বেষী মহল নিয়মিতভাবে অধ্যাপক ইউনূসের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ অপপ্রচার ও ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে এবং তাঁকে শারীরিকভাবে আঘাত করার হুমকি দিচ্ছে। আমরা এমন কাপুরুষোচিত কৌশলের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি, যেগুলো অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি এবং অন্তর্বর্তী সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা ও ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।’</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/politics/nx5mnfwqcj">যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যাপক ইউনূসকে হেনস্তার দায় শেখ হাসিনার: জামায়াতের আমির</a></aside><p>সাবেক উপদেষ্টারা বলেন, ‘আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই, যতই ভয় দেখানো হোক, মিথ্যাচার, অনলাইনে হয়রানি বা ব্যক্তিগত হুমকি দেওয়া হোক, তাতে জুলাই প্রতিশ্রুতির পরিবর্তনগুলোর প্রতি আমাদের সংকল্প একটুও টলবে না।’</p><p>বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের জনগণ ও তরুণদের বিপুল আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে সংস্কার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার যে ঐতিহাসিক জনসমর্থন অর্জিত হয়েছে, তা ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিবাদী শাসক গোষ্ঠী ও তাদের সমর্থকদের বিদ্বেষপূর্ণ অপপ্রচার ও অপচেষ্টায় মুছে ফেলা সম্ভব হবে না।’</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/2z4t6bomi9">অধ্যাপক ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা</a></aside>
ম্যাচ শেষে নিজের আক্ষেপের কথা লুকাননি অধিনায়ক নাজমুল। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে জয় না পাওয়াকে হতাশাজনক বলেছেন অধিনায়ক।
<p>ইরানে প্রতিবছর ১২ অক্টোবর ‘হাফিজ দিবস’ বা ‘হাফিজ মেমোরিয়াল ডে’ (Hafez Day) উদ্যাপিত হয়। চতুর্দশ শতাব্দীর বিখ্যাত পারস্য কবি হাফিজের সাহিত্যকর্ম, সুফি–দর্শন এবং অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দিনটি পালন করা হয়। এই বিশেষ দিনটির তাৎপর্য অনুধাবন করে গত ১২ অক্টোবর কলকাতায় ইরান সোসাইটিতে ছায়ানটের (কলকাতা) উদ্যোগে সোমঋতা মল্লিকের ভাবনায় ‘তরুণ ইরান-কবি কাঁদে নিরজনে’ শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের মূল বিষয়: নজরুল সাহিত্য ও সংগীতে ইরানীয় প্রভাব। আলোচনা, কবিতা পাঠ ও সংগীতে অংশগ্রহণ করেন বিশিষ্ট আলোচক ও ছায়ানটের (কলকাতা) শিল্পীরা।</p><p> অনুষ্ঠান শুরু হয় সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে। দুই ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইরান সোসাইটির সভাপতি মোহাম্মদ মানসুর আলম এবং ছায়ানটের (কলকাতা) সভাপতি সোমঋতা মল্লিক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ‘পুবের কলম’ পত্রিকার সম্পাদক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আহমদ হাসান ইমরান, বুদ্ধিজীবী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ওয়াএজুল হক, বিশিষ্ট লেখক ও সঞ্চালক মনিরুল ইসলাম। তাঁদের সুচিন্তিত বক্তব্য অনুষ্ঠানকে সমৃদ্ধ করে। ছায়ানটের এ ধরনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সম্পর্কে তাঁরা ভূয়সী প্রশংসা করেন।</p><p>অনুষ্ঠানে নজরুল-অনূদিত কাব্যগ্রন্থ ‘রুবাইয়াৎ-ই-হাফিজ’ ও ‘রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম’ থেকে রুবাই পাঠ করেন ছায়ানটের (কলকাতা) বাচিকশিল্পীরা। অংশগ্রহণে তিস্তা দে, সোমা রায়, অন্বেষা মুখার্জী, দেবলীনা চৌধুরী, শর্মিষ্ঠা রায়, পারমিতা চৌধুরী, পিয়ালী ঘোষ, মৌমিতা ঘোষ, অনিন্দিতা ঘোষ। সোমঋতা মল্লিকের পরিচালনায় সমবেতভাবে পরিবেশিত হয় দুটি নজরুলসংগীত, যেখানে নজরুল ইরানের প্রসঙ্গের অবতারণা করেছেন অথবা ইরানীয় সুর থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। “পরি’ জাফরানি ঘাগরি” ও ‘বুলবুলি নীরব নার্গিস-বনে’—দুটি নজরুলসংগীত পরিবেশন করেন চম্পা মিত্র, বিচিত্রা ঘোষ, নন্দিনী নন্দী, স্বাতী ভট্টাচার্য, সোমা রায় বর্মণ, গৌরী ধর, চন্দ্রা মজুমদার এবং সুরূপা মল্লিক। অনুষ্ঠানে সোমঋতার কণ্ঠে শোনা যায় বেশ কয়েকটি নজরুলসংগীত। ‘নাচে ইরানী মেয়ে’, ‘শুকনো পাতার নূপুর পায়ে’, ‘ফুলের জলসায় নীরব কেন কবি’—অনুষ্ঠানের বিষয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সোমঋতা চমৎকারভাবে গানগুলো নির্বাচন করেছেন।</p><blockquote>দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: dp@prothomalo.com</blockquote><p>প্রাণাধিক প্রিয় পুত্র বুলবুলের মৃত্যুর পর কাজী নজরুল ইসলামের অনূদিত কাব্যগ্রন্থ ‘রুবাইয়াৎ-ই-হাফিজ’ প্রকাশিত হয়। বইটি নজরুল উৎসর্গ করেছিলেন তাঁর প্রাণপ্রিয় পুত্র বুলবুলকে। মুখবন্ধে নজরুল লেখেন—“বাঙলার শাসনকর্ত্তা গিয়াসুদ্দিনের আমন্ত্রণকে ইরানের কবি সম্রাট হাফিজ উপেক্ষা করেছিলেন। আমার আহ্বান উপেক্ষিত হয়নি। যে পথ দিয়ে আমার পুত্রের ‘জানাজা’ (শব-যান) চ’লে গেল, সেই পথ দিয়ে আমার বন্ধু, আমার প্রিয়তম ইরানী কবি আমার দ্বারে এলেন। আমার চোখের জলে তাঁর চরণ অভিষিক্ত হ’ল।” নজরুল মূল ফারসি থেকেই হাফিজের রুবাইয়াৎ অনুবাদ করেন। হাফিজের রুবাইয়াত সম্পর্কে নজরুল লিখেছেন—“সত্যকার হাফিজকে চিনতে হলে তাঁর গজল-গান—প্রায় পঞ্চশতাধিক পড়তে হয়। তাঁর রুবাইয়াত বা চতুষ্পদী কবিতাগুলি প’ড়ে মনে হয়, এ যেন তাঁর অবসর কাটানোর জন্যই লেখা। অবশ্য এতেও তাঁর সেই দর্শন, সেই প্রেম, সেই শারাব, সাকী তেমনি ভাবেই জড়িয়ে আছে। এ যেন তাঁর অতল সমুদ্রের বুদ্বুদ-কণা। তবে এ ক্ষুদ্র বিম্ব হলেও এতে সারা আকাশের গ্রহ-তারার প্রতিবিম্ব প’ড়ে এক রামধনুর কণার মতো রাঙিয়ে তুলেছে। হয়তো ছোট বলেই এ সুন্দর।” ইরানের কবিদের প্রতি নজরুল ছিলেন অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল। ‘রুবাইয়াৎ-ই-হাফিজ’-এর মুখবন্ধে নজরুল লিখেছেন—“হাফিজকে আমরা—কাব্য-রস-পিপাসুর দল—কবি বলেই সম্মান করি, কবিরূপেই দেখি। তিনি হয়ত বা সূফী দরবেশও ছিলেন। তাঁর কবিতাতেও সে আভাস পাওয়া যায় সত্য। শুনেছি, আমাদের দেশেও মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর, কেশব সেন প্রভৃতি হাফিজের কবিতা উপাসনামন্দিরে আবৃত্তি করতেন। তবু তাঁর কবিতা শুধু কবিতাই। তাঁর দর্শন ওমর খৈয়ামের দর্শন প্রায় এক। এঁরা সকলেই আনন্দ-বিলাসী। ভোগের আনন্দকেই এঁরা এই জীবনের চরম আনন্দ বলে স্বীকার করেছেন। ইরানের অধিকাংশ কবিই যে শারাব-সাকী নিয়ে দিন কাটাতেন, এত মিথ্যা নয়। তবে, এও মিথ্যা নয় যে, মদিরাকে এঁরা জীবনে না হোক কাব্যে প্রেমের আনন্দের প্রতীকরূপেই গ্রহণ করেছিলেন!”</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-13/5sd5ixp5/4.jpeg"></figure><p>শুধু ‘রুবাইয়াৎ-ই-হাফিজ’ নয়, নজরুল-অনূদিত ‘রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম’ বিশেষভাবে সমাদৃত। ‘রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম’-এর সচিত্র প্রথম সংস্করণ ১৯৫৯ সালের ডিসেম্বর মাসে (পৌষ, ১৩৬৬ বঙ্গাব্দ) প্রকাশিত হয়। ভূমিকা লিখেছিলেন সৈয়দ মুজতবা আলী এবং চিত্রায়ণ করেছিলেন খালেদ চৌধুরী। দ্বিতীয় সংস্করণ ১৩৭০ বঙ্গাব্দের কার্তিকে প্রকাশিত হয়। দ্বিতীয় সংস্করণে নজরুলের নিজের লেখা ‘ওমরের কাব্য ও দর্শন’ শিরোনামের রচনাটি ভূমিকা হিসেবে প্রথম প্রকাশিত হয়। অনুষ্ঠানে অতিথিদের হাতে ছায়ানটের (কলকাতা) পক্ষ থেকে নজরুল-অনূদিত ‘রুবাইয়াৎ-ই-হাফিজ’ তুলে দেওয়া হয়।</p><p>আসাদুল হকের লেখা ‘নজরুল যখন বেতারে’ বইটি থেকে জানা যায়, ১৯৪০ সালের ১৬ মার্চ সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে বেতারে প্রচারিত হয় সংগীতানুষ্ঠান ‘ইরানের স্বপ্ন’। পারস্যের সুরের ওপর রচিত গান দিয়ে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানটি রচনা ও সংগঠনায় ছিলেন কাজী নজরুল, বর্ণনায় ছিলেন অনিল দাস।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-13/lpepo5fy/5.jpeg"></figure><p>১৯২৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর কলকাতার এলবার্ট হলে (বর্তমান কফি হাউস) বাংলার হিন্দু-মুসলমানের পক্ষ থেকে চেতনার কবি কাজী নজরুল ইসলামকে বিপুল সমারোহে ও আন্তরিকতার সঙ্গে সংবর্ধনা জানানো হয়। সংবর্ধনা সভার সভাপতি বিজ্ঞানাচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের অভিভাষণের পর জাতির পক্ষ থেকে ‘নজরুল-সংবর্ধনা সমিতির সভ্যবৃন্দ’ কবিকে একটি মানপত্র প্রদান করেন। সভায় মানপত্রটি পাঠ করেন মি. এস ওয়াজেদ আলি। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে ইরানীয় সংস্কৃতির অত্যন্ত সার্থক সমন্বয় সাধন করেছিলেন নজরুল। সেই বিষয়টি চমৎকারভাবে মানপত্রে তুলে ধরা হয়—“তুমি বাঙলার মধুবনের শ্যামা কোয়েলার কণ্ঠে ইরানের গুলবাগিচার বুলবুলের বুলি দিয়াছ, রসালের কণ্ঠে সহকার-সাথে আঙুরলতিকার বাহুবন্ধন রচনা করিয়াছ। তুমি বাঙালির শ্যামশান্ত কণ্ঠে ইরানী-সাকীর লাল শিরাজির আবেশ-বিহ্বলতা দান করিয়াছ। আজ তোমার আসন প্রান্তে হাতের বাঁশী রাখিয়া তাহারা তোমার সম্মুখে দাঁড়াইয়াছে। তুমি তাহাদের শ্রদ্ধাসুন্দর চিত্ত-নিবেদন গ্রহণ কর।” নজরুলের বৈচিত্র্যময় সৃষ্টিশীল জীবনের এই বিশেষ দিকটি সম্পর্কে সবাইকে অবগত করার উদ্দেশ্যেই ছায়ানটের (কলকাতা) এই বিশেষ উদ্যোগ। দীর্ঘ ১৯ বছরের পথচলায় ইরান সোসাইটিতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানকে ছায়ানটের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই মনে করছেন উপস্থিত দর্শকেরা।</p>
<p>যুক্তরাষ্ট্রের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তা করার কঠোর নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। আজ মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানানো হয়েছে।</p><p>বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘স্থগিত থাকা (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সন্ত্রাসী রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহভাজন একদল অপরাধী নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে হয়রানির পেছনে রয়েছেন বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।’</p><p>পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের মিশনকে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে যেতে বলেছে, যাতে ‘অপরাধীদের’ শনাক্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।</p><p>গতকাল সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর থেকে হুইলচেয়ারে করে বের হওয়ার সময় অধ্যাপক ইউনূসকে হেনস্তা করার ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা যায়, অধ্যাপক ইউনূসের দিকে এগিয়ে গিয়ে কয়েকজন লোক উচ্চস্বরে স্লোগান দিচ্ছেন। এ সময় বিক্ষোভকারীরা তাঁকে উদ্দেশ করে ‘হোয়াই ইউ কাম হিয়ার’সহ নানা অপবাদসূচক কথা বলে চিৎকার করছিলেন। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রবাসী সমর্থকের বিরুদ্ধে তাঁকে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে।</p>
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন