বিমানযাত্রীর পায়ুপথে ৩টি স্বর্ণের ডিম, দাম পৌনে ২ কোটি টাকা 

ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক যাত্রীর পায়ুপথে বিশেষভাবে লুকানো অবস্থায় তিনটি ডিম্বাকৃতির স্বর্ণের পেস্ট জব্দ করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রিভেন্টিভ টিম। জব্দ করা এসব স্বর্ণের মোট ওজন ১ কেজি ২৯০ গ্রাম। কাস্টমসের হিসাবে এর আনুমানিক দাম ১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।

সারা দেশ

View more
শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা
শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

Video news
সারা বিশ্ব
ভারতে ৬৫০ বছরের পুরোনো শাহী মসজিদের অংশ কেন ভাঙতে চায় প্রশাসন?
ভারতে ৬৫০ বছরের পুরোনো শাহী মসজিদের অংশ কেন ভাঙতে চায় প্রশাসন?

হিন্দু ধর্মের মেলার আয়োজনকে কেন্দ্র করে শাহী মসজিদের একটি অংশ সরিয়ে সড়ক প্রশস্ত করার কাজ শুরু হয়, আর তা নিয়েই বিরোধের সূত্রপাত। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, মেলার সময় বাড়তি যানবাহনের চাপ ও ভক্তদের যাতায়াত সহজ করার জন্য ওই সড়ক প্রশস্ত করা জরুরি।

ভারতে সাবান-শ্যাম্পুর প্যাকেটেও নিরামিষের চিহ্ন দেওয়ার নির্দেশ
ভারতে সাবান-শ্যাম্পুর প্যাকেটেও নিরামিষের চিহ্ন দেওয়ার নির্দেশ

সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট প্যাকেটজাতে সংশোধন বিধি জারি করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন নির্দেশ নাঅনুযায়ী, কোনো প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান আমিষজাত না নিরামিষজাত, তা প্যাকেটের গায়ে নির্দিষ্ট চিহ্নের মাধ্যমে জানাতে হবে।

তথ্যপ্রযুক্তি
ইজিবাইকের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে নারী পর্যটকের মৃত্যু
ইজিবাইকের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে নারী পর্যটকের মৃত্যু

কক্সবাজারে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক (টমটম) চলন্ত অবস্থায় চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে সীমা আক্তার নামে এক নারী পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।

‘আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই’
‘আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই’

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলামকে তার এলাকার ‘বড় ভাই’ পরিচয় দিয়ে এএসআই ইলিয়াস হোসাইন থানার কার্যক্রম ও তদন্তকাজে প্রভাব খাটান। তবে এ অভিযোগের সত্যতাও আলাদাভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ফ্লাইদুবাইয়ের কো-পাইলট একাই হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত
ফ্লাইদুবাইয়ের কো-পাইলট একাই হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত

ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটে সহকর্মীর ওপর হামলা ও বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত কো-পাইলট সম্ভবত একাই এই কাজ করেছিলেন। ইসরায়েলি সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে রবিবার সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।

মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা, ২ কিশোর গ্রেপ্তার
মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা, ২ কিশোর গ্রেপ্তার

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে রিকশাচালক মো. ফয়েজ আহাম্মদকে (৪৩) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

তুষারঝড়ে ফিরে যায় দুই দল, থামেননি শাকিল
তুষারঝড়ে ফিরে যায় দুই দল, থামেননি শাকিল

চারদিকে শুধু সাদা আর সাদা। তুষারের ঘন পর্দা ভেদ করে কয়েক মিটারের বেশি সামনে দেখা যাচ্ছিল না। হিমশীতল বাতাস শরীরের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল ঝড়ের গতিতে। পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটুসমান নরম বরফে ডুবে যাচ্ছিল।

নীল দহন
নীল দহন

টরন্টো শহরের শীতের আলাদা এক ভাষা আছে।সেই ভাষা শব্দে নয়, তুষারে লেখা। জানালার ওপারে নিরবচ্ছিন্ন সাদা ঝরনা নেমে আসে, রাস্তার আলো কুয়াশা আর বরফের ভেতর ম্লান হয়ে যায়, আর মানুষ বুঝতে শেখে, পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর নীরবতাও কখনো কখনো খুব জোরে কথা বলে।সেদিনও তেমনই এক সন্ধ্যা।বাইরে মাইনাস দশ ডিগ্রি। ফায়ারপ্লেসে জ্বলতে থাকা আগুনের লালচে আলো ঘরের দেয়ালে ছায়া এঁকে দিচ্ছিল। হাতে ধোঁয়া ওঠা কফির মগ। আমরা তিনজন বসে গল্প করছিলাম।সায়েম ভাই, আমাদের কোম্পানির সিনিয়র লিড ইঞ্জিনিয়ার। প্রবাসে এসে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়, যাদের ঘরে ঢুকলেই মনে হয় বহুদিন পর নিজের বাড়িতে ফিরেছি। ভাবিও ঠিক তেমনই। তার আন্তরিকতা কখনো অতিথিপরায়ণতা বলে মনে হয় না; মনে হয় বড় বোনের মমতা।কফির কাপ নামিয়ে ভাবি হঠাৎ আমার দিকে তাকালেন।—নীল, একটা কথা বলব?মৃদু হেসে বললাম,—বলুন, ভাবি।—রাগ করবে না তো?—আপনার ওপর রাগ করার সাহস আমার নেই।তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—এত বছর হয়ে গেল। ক্যারিয়ার হয়েছে, নিজের অবস্থান হয়েছে। কিন্তু নিজের জন্য কী করলে? একা একা আর কত দিন? বিয়ে করার কথা কখনো ভাবো না?আমি হেসে বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চাইলাম।—সবাইকে দিয়ে সবকিছু হয় নাকি, ভাবি?সায়েম ভাই চশমাটা খুলে টেবিলে রাখলেন।—তোমার এই কথাটাই আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়। সারা দিন অফিসে তোমাকে দেখি। কাজে মন, বইয়ে মন, গিটার বাজাও, ভ্রমণ করো। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, জীবন একেবারে গুছিয়ে নিয়েছ। অথচ দিনের শেষে তুমি একাই ফিরে যাও।একটু থেমে তিনি আবার বললেন,—কখনো কি কাউকে ভালোবেসেছিলে?ঘরটা হঠাৎ যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল।ফায়ারপ্লেসের কাঠে আগুন ফেটে ছোট্ট একটা শব্দ হলো।আমি উত্তর দিলাম না।জানালার ওপারে তাকিয়ে রইলাম। সাদা তুষারের ভেতর হঠাৎ ভেসে উঠল বহু বছরের পুরোনো আরেকটা আকাশ। অনেক দূরের একটা বিকেল। আমি ধীরে বললাম,—মানুষ কখনো কখনো একটা গল্প কাউকে বলে না। কারণ, গল্পটা বললে সে আবার সেই সময়ে ফিরে যায়।ভাবি মৃদুস্বরে বললেন,—আজ ফিরে যাও। আমরা শুনব।আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। কফির মগটা টেবিলে রেখে বললাম,—জানেন ভাবি, পৃথিবীর সব ভালোবাসা মিলনের গল্প নয়। কিছু ভালোবাসা শুধু নীরবে মানুষের ভেতরে বেঁচে থাকে। কারও কাছে কোনো দাবি করে না, কোনো অধিকারও চায় না। শুধু মানুষটাকে সারা জীবন বদলে দেয়। আমার গল্পটাও তেমন।আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগের কথা। তখন ঢাকার উত্তরায় থাকতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। বাবার পক্ষে নিয়মিত টাকা পাঠানো সম্ভব হতো না। টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা, বাসাভাড়া আর খরচ চালাতাম। উত্তরার একটা পুরোনো বাড়ির চিলেকোঠার ছোট্ট ঘর ছিল আমার ঠিকানা। ঘরটা বড় ছিল না। একটা খাট, একটা পড়ার টেবিল, বইয়ের তাক আর জানালার পাশে রাখা পুরোনো একটা গিটার। কিন্তু আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ছিল ছাদ।সন্ধ্যা নামার আগে পড়ন্ত রোদ যখন আকাশজুড়ে লালচে রং ছড়িয়ে দিত, আমি গিটার হাতে ছাদে উঠে যেতাম। কখনো বাজাতাম। কখনো বই পড়তাম। কখনো কিছুই করতাম না। শুধু আকাশ দেখতাম। হয়তো মানুষ একা থাকলে আকাশের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি কথা বলে।ঠিক এমনই এক বিকেলে প্রথম তাকে দেখি। আমাদের পাশের ছয়তলা বাড়ির একটি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল সে। অদ্ভুত শান্ত একটি মেয়ে। তার হাতে কোনো মোবাইল ছিল না। কোনো বইও নয়। সে শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। বাতাসে তার চুল উড়ছিল।কিন্তু আমাকে থামিয়ে দিয়েছিল তার চোখ। কিছু কিছু চোখ থাকে, যেগুলোকে সুন্দর বলা যায় না। কারণ, সুন্দর শব্দটা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।সেই চোখ দুটো যেন নিজের ভেতর একটা বিকেল লুকিয়ে রেখেছিল। আমি তার নাম জানতাম না। কখনো জানার চেষ্টাও করিনি। নিজের মনেই একটা নাম দিয়েছিলাম—‘সুনয়না’।নামটা শুধু আমার ছিল। আমার কল্পনার। আমার নীরবতার। তার বাস্তব নাম কী ছিল, তখনো জানতাম না।তার পর থেকে প্রতিদিন বিকেলে আমি অপেক্ষায় থাকতাম। ছাদে উঠতাম। আর কিছুক্ষণ পর সে এসে দাঁড়াত সেই বারান্দায়।আমাদের মধ্যে কখনো কথা হয়নি। চোখাচোখিও খুব কম। তবু মনে হতো, বিকেল নামার সঙ্গে সঙ্গে দুজনের জীবন অদৃশ্য কোনো সেতুতে এসে মিলেছে।কখনো তাকে অনুসরণ করিনি। তার সম্পর্কে খোঁজ নিইনি। কারণ, দূরত্বেরও একটা সৌন্দর্য আছে। সব মানুষকে কাছে গিয়েই জানতে হয় না। কিছু মানুষ দূর থেকেই হৃদয়ের ভেতর জায়গা করে নেয়।এভাবেই কেটে গেল কয়েক মাস। একদিন বিকেলে ছাদে উঠে দেখলাম, বারান্দাটা ফাঁকা। ভাবলাম, হয়তো কোথাও গেছে।পরদিনও এল না।তারপর আরও এক দিন।এক সপ্তাহ।এক মাস।ঋতু বদলে গেল।আকাশের রং বদলে গেল। কিন্তু সেই বারান্দায় আর কাউকে দেখা গেল না। বুঝলাম, কিছু অপেক্ষার কোনো উত্তর হয় না।তারপর ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষ এসে গেল। পড়াশোনা, প্রজেক্ট, ইন্টারভিউ—জীবন অন্যদিকে মোড় নিতে শুরু করল। তবু মাঝেমধ্যে বিকেলের আকাশ দেখলে মনে হতো, কোথাও যেন একটা বারান্দা এখনো খালি দাঁড়িয়ে আছে। আর সেখানে কেউ একজন আর কখনো ফিরে আসবে না।অফিসে যোগ দেওয়ার তিন সপ্তাহের মাথায় প্রথমবার তার সঙ্গে কথা হলো।সেদিন দুপুরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। কাচঘেরা অফিসের জানালায় বৃষ্টির ফোঁটাগুলো লম্বা দাগ টেনে নিচে নেমে আসছিল। ক্যাফেটেরিয়ায় বসে এক কাপ কফি হাতে বাইরে তাকিয়ে ছিলাম। হঠাৎ পাশে এসে কেউ বলল,—এই সিটটা খালি?মুখ তুলে তাকাতেই বুকের ভেতরটা অকারণ ধক করে উঠল।সে।উত্তরার সেই বারান্দার মেয়েটি।আমি সামান্য হাসলাম।—অবশ্যই।সে বসে কফির কাপ নামিয়ে বলল,—আমি নতুন। এখনো কাউকে তেমন চিনি না।—আমিও খুব পুরোনো নই।সেদিনের কথোপকথন ছিল খুব সাধারণ। অফিস, কাজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার যানজট; এর বেশি কিছু নয়। আশ্চর্যের বিষয়, কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলতে কোনো আয়োজন লাগে না। যেন বহুদিনের চেনা।তার নাম জানলাম, সুস্মিতা।আমি নামটা মনে রাখলাম। তবু নিজের ভেতরে সে রয়ে গেল অন্য নামে—‘সুনয়না’।এরপর ধীরে ধীরে পরিচয় বাড়ল।অফিস শেষে মাঝেমধ্যে সবাই মিলে চা খেতে যেতাম। কোনো প্রজেক্ট শেষ হলে পুরো টিম রাত পর্যন্ত কাজ করত। সেই সব দীর্ঘ সন্ধ্যায় সুস্মিতাকে নতুন করে চিনতে শুরু করলাম।সে খুব কম কথা বলত। অকারণ হাসত না। তবে কেউ সমস্যায় পড়লে সবার আগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত।একদিন জানতে পারলাম, সে রবীন্দ্রসংগীত শেখে।আরেক দিন শুনলাম, অবসরে জলরঙে ছবি আঁকে।আমি অবাক হয়ে ভাবলাম, মানুষকে দূর থেকে দেখলে তার সৌন্দর্য দেখা যায়; কাছে এলে দেখা যায় তার নীরবতা। আর নীরবতাই একজন মানুষকে সবচেয়ে আলাদা করে।সেদিন অফিস থেকে বেরোতে বেরোতে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। বৃষ্টি থেমেছে। রাস্তার বাতিগুলো ভেজা ডামারের ওপর হলুদ আলো ফেলছে। আমি বললাম,—কফি খাবেন?সে একটু ভেবে মৃদু হেসে বলল,—আজ খাওয়া যেতে পারে।ছোট্ট একটি ক্যাফেতে আমরা জানালার পাশে বসলাম। বাইরে গাড়ির আলো ভেজা রাস্তায় ভেঙে পড়ছিল।অনেকক্ষণ গল্প হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি, বই, সিনেমা, ভ্রমণ, প্রিয় ঋতু। কথার ফাঁকে হঠাৎ সে জিজ্ঞেস করল,—আপনি এত চুপচাপ কেন?আমি হেসে বললাম,—সবাই সব কথা বলতে পারে না।সে জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,—আমার মনে হয়, যারা কম কথা বলে, তাদের ভেতরে অনেক গল্প জমে থাকে।আমি উত্তর দিলাম না। সত্যিই আমার ভেতরে একটি গল্প ছিল। যার শুরু হয়েছিল উত্তরার এক ছাদের বিকেলে।বহুবার ভেবেছি, আজ বলব। বলব, কয়েক বছর আগে প্রতিদিন বিকেলে আমি এক অচেনা মেয়েকে আকাশ দেখতে দেখতাম। বলব, তার জন্যই আমি সন্ধ্যার অপেক্ষা করতাম। বলব, তাকে না জেনেই একটা নাম দিয়েছিলাম।কিন্তু মানুষের জীবনে কিছু মুহূর্ত আসে, যখন সত্যি কথাটাই সবচেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে। আমি পারলাম না। শুধু কফির কাপে আঙুল ঘুরিয়ে যেতে লাগলাম।ঠিক তখনই তার ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে তার মুখে খুব কোমল একটা হাসি ফুটে উঠল। সে ফোন ধরল। নরম গলায় বলল,—হ্যাঁ... আমি বের হচ্ছি... আর পাঁচ মিনিট।ফোন রেখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—আমাকে উঠতে হবে।আমি শুধু মাথা নাড়লাম।ক্যাফের দরজার বাইরে এসে দেখি, একটা গাড়ি ধীরে ধীরে এসে থামল। গাড়ি থেকে একজন নেমে ছাতা খুলে তার দিকে এগিয়ে এল। সুস্মিতার মুখে যে হাসি ফুটে উঠল, তাতে কোনো দ্বিধা ছিল না, কোনো অভিনয়ও নয়। সে মানুষটিকে এমন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দেখল, যেমন মানুষ নিজের আপনজনকে দেখে। বিদায় নেওয়ার আগে সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—কাল দেখা হবে।আমি বললাম,—ভালো থাকবেন।গাড়িটা ধীরে ধীরে দূরে মিলিয়ে গেল।আমি অনেকক্ষণ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলাম। বৃষ্টি আবার শুরু হয়েছে। ভেজা শহরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে হঠাৎ মনে হলো, কিছু স্বপ্ন ভাঙার শব্দ বাইরে শোনা যায় না। সেগুলো শুধু মানুষের ভেতরেই প্রতিধ্বনি তোলে।সেদিন রাতেই প্রথম বুঝেছিলাম, ভালোবাসা সব সময় কাউকে পাওয়ার নাম নয়। কখনো কখনো সময়মতো কিছু না বলার নামও ভালোবাসা।পরদিন অফিসে গিয়ে সুস্মিতাকে দেখলাম না। ভাবলাম, হয়তো ছুটিতে আছে।পরদিনও এল না।এরপর আরও কয়েক দিন কেটে গেল।কাজের ব্যস্ততা আমাকে ডেস্কে আটকে রাখলেও মনটা বারবার করিডরের দিকে চলে যেত। এক বিকেলে সাহস করে মানবসম্পদ বিভাগের এক সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করলাম,—সুস্মিতা কি ছুটিতে?তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—জানেন না? ওর স্বামীকে সিঙ্গাপুরে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। তাড়াহুড়ো করেই ও চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছে। যাওয়ার আগেই সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছে। আপনি সেদিন ক্লায়েন্ট মিটিংয়ে ছিলেন, তাই হয়তো দেখা হয়নি।আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি। অদ্ভুতভাবে বুকের ভেতর কোনো বিস্ফোরণ ঘটল না। শুধু একটা নিঃশব্দ শূন্যতা নেমে এল, যেন বহু বছর আগে উত্তরার সেই বারান্দাটা আবার একবার খালি হয়ে গেল।এরপর জীবন খুব দ্রুত বদলে গেল। কাজের চাপ বাড়ল। পদোন্নতি হলো। নতুন শহর, নতুন দায়িত্ব, নতুন দেশ। একসময় কানাডার একটা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব গ্রহণ করলাম। বন্ধুরা বলেছিল,—স্বপ্নপূরণ হয়ে গেল!হয়তো সত্যিই হয়েছিল। কিন্তু মানুষ বুঝতে শেখে, সব স্বপ্নের সঙ্গে সব আনন্দ আসে না। কিছু সাফল্য খুব নিঃসঙ্গও হয়।টরন্টোতে আসার পর প্রথম শীতেই আমি বুঝলাম, তুষার শুধু শহর ঢেকে দেয় না, মানুষের স্মৃতিকেও সাদা করে দিতে চায়। কিন্তু সব স্মৃতি ঢেকে যায় না। কখনো কখনো কোনো কফির গন্ধ, কোনো বিকেলের আলো কিংবা কোনো বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা একাকী মানুষের ছায়া হঠাৎ বহু বছর আগের দরজা খুলে দেয়। সেই দরজার ওপাশে এখনো দাঁড়িয়ে আছে উত্তরার সেই বিকেল।আর একটি নাম, যে নাম পৃথিবীর কেউ জানত না। শুধু আমি।সুনয়না।’ফায়ারপ্লেসের আগুন তখন ধীরে ধীরে নিভে আসছে। কথা শেষ করতেই ঘরজুড়ে দীর্ঘ নীরবতা নেমে এল। ভাবি কফির ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কাপটার দিকে তাকিয়ে রইলেন। সায়েম ভাই উঠে এসে আমার পাশে দাঁড়ালেন। তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—তাহলে তুমি তাকে কোনো দিন জানাওনি?আমি মৃদু হেসে মাথা নাড়ালাম।—না।—আফসোস হয় না?জানালার বাইরে তাকালাম। তুষার পড়ছে। প্রতিটি সাদা কণা নিঃশব্দে মাটিতে মিশে যাচ্ছে। আমি ধীরে বললাম,—আফসোস হয় সেই ভালোবাসার জন্য, যেটা কাউকে কষ্ট দিয়ে নিজের করতে হয়। আমার গল্পে তেমন কিছু ছিল না। সে তার জীবন নিয়ে সুখী ছিল। আমি কেন আমার অনুভূতির ভার তার কাঁধে চাপিয়ে দিতাম?ভাবি খুব আস্তে বললেন,—কিন্তু তুমি তো একা রয়ে গেলে।আমি হেসে উত্তর দিলাম,—মানুষ সব সময় কারও অভাবে একা থাকে না। কখনো কখনো একটি সুন্দর স্মৃতির সঙ্গেও সারা জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায়।ঘড়ির কাঁটা তখন রাত বারোটা ছুঁয়েছে। বাইরে তুষারপাত আরও ঘন হয়েছে। বিদায় নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়াতেই সায়েম ভাই আমার কাঁধে হাত রাখলেন।—নীল...—জি?—জীবনে যদি আবার কোনো বিকেল এসে দাঁড়ায়, এবার যেন চুপ করে থেকো না।আমি কোনো উত্তর দিলাম না। শুধু মৃদু হাসলাম।বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির জানালার বাইরে অসংখ্য তুষারকণা উড়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ মনে হলো, মানুষ আসলে কাউকে ভুলে যায় না। সে শুধু স্মৃতির সঙ্গে বসবাস করতে শিখে যায়।সেদিন রাতে ঘরে ফিরে বহুদিন পর জানালার পাশে দাঁড়ালাম। দূরে বরফে ঢাকা শহর ঘুমিয়ে আছে।অন্ধকার কাচে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে মনে হলো, সময় আমার চুলে রুপালি রং ছড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু উত্তরার সেই একফালি আকাশ এখনো কোথাও রয়ে গেছে।আমি চোখ বন্ধ করলাম। কল্পনায় আবার একটি বারান্দা ভেসে উঠল। সেখানে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখ আজও স্পষ্ট নয়। শুধু চোখ দুটো স্পষ্ট। আমি নিঃশব্দে বললাম,—ভালো থেকো, সুনয়না।জানালার ওপারে তুষার পড়তেই থাকল। আর আমি বুঝলাম, কিছু ভালোবাসার শেষ অধ্যায় মিলনে লেখা হয় না। সেগুলো লেখা থাকে নীরবতায়।উত্তরা, ঢাকা

কনসিলার, ব্লাশ আর নিউড লিপ: মাত্র ৩ প্রোডাক্টেই কীভাবে ন্যাচারাল গ্ল্যাম আনেন জাহ্নবী কাপুর
কনসিলার, ব্লাশ আর নিউড লিপ: মাত্র ৩ প্রোডাক্টেই কীভাবে ন্যাচারাল গ্ল্যাম আনেন জাহ্নবী কাপুর

মেকআপ মানেই যেন অনেকগুলো প্রোডাক্ট, ঘন্টার পর ঘন্টা প্রস্তুতি। কিন্তু বলিউড তারকা জাহ্নবী কাপুর সাম্প্রতি তার ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন নিজের বিউটি লুক তৈরির পেছনের গল্প। যেখানে তিনি বলেছেন মাত্র তিনটি ধাপে তার সাজ হয়ে উঠেছে পরিপাটি, ফ্রেশ ও নেচারাল।প্রতিদিনের মেকআপে খুব বেশি কিছু না করেও কীভাবে ফ্রেশ ও গোছানো দেখানো যায়, জাহ্নবীর এই রুটিন তারই সহজ উদাহরণ। আরও মজার বিষয়, মেকআপ ব্রাশ বা স্পঞ্জের ওপর খুব বেশি নির্ভর না করে আঙুল দিয়েই তিনি বেশির ভাগ প্রোডাক্ট ব্লেন্ড করেছেন। ফলে পুরো সাজটি যেমন দ্রুত করা যায়, তেমনি এর ফিনিশও থাকে বেশ স্বাভাবিক। তার সাজের মূল তিনটি বিষয় হচ্ছে সতেজ বেস, নরম গোলাপি ব্লাশ আর নিউড-পিঙ্ক ঠোঁট। View this post on Instagram A post shared by Janhvi Kapoor (@janhvikapoor) ভারী বেস নয়, শুরু হোক কনসিলার দিয়েজাহ্নবীর রুটিনের প্রথম ধাপ কনসিলার। পুরো মুখে ভারী ফাউন্ডেশন লাগানোর বদলে যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করছেন তিনি। চোখের নিচে সরাসরি অ্যাপ্লিকেটর দিয়ে অল্প প্রোডাক্ট নিয়ে আঙুলের সাহায্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে ত্বকের রং কিছুটা সমান দেখালেও মুখ ভারী হয়ে যাচ্ছে না। এই ধরনের মেকআপে ব্লেন্ড করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্তর বাড়ানো যায়, এমন কনসিলারই ভালো। একবারে বেশি না দিয়ে অল্প অল্প করে লাগানোই মূল কৌশল।গালে নরম গোলাপি আভাবেসের পর জাহ্নবী ব্যবহার করছেন সফট পিঙ্ক লিকুইড ব্লাশ। গালে সরাসরি অল্প ব্লাশ নিয়ে আঙুল দিয়ে ট্যাপ করে ব্লেন্ড করেছেন তিনি। ফলে গালে ভারী রঙের বদলে এসেছে হালকা, সতেজ আভা। এই লুকের জন্য ক্রিম বা লিকুইড ব্লাশ বেশ কার্যকর। কারণ অল্প অল্প করে রং বাড়ানো যায়, ফলে মুখে ব্লাশের দাগও স্পষ্ট থাকে না।ঠোঁটে নিউড-পিঙ্কজাহ্নবীর পুরো মেকআপের সঙ্গে ঠোঁটের রংও বেশ নরম। শেষ ধাপে তিনি ব্যবহার করেছেন নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। গালের গোলাপি আভা আর ঠোঁটের একই পরিবারের রং পুরো লুকটিকে করেছে আরও গোছানো। খুব ফ্যাকাশে বেইজ নিউডের বদলে গোলাপি, রোজি বা হালকা ব্রাউন আন্ডারটোনের নিউড বেছে নিলে ঠোঁট আরও স্বাভাবিক দেখাবে। দিনের সাজে লিপস্টিক পুরো ঠোঁটে না দিয়ে মাঝখানে অল্প লাগিয়ে আঙুল দিয়ে ছড়িয়ে দিলেও পাওয়া যাবে আরও নরম ফিনিশ।চোখে শুধু এক কোট মাসকারাজাহ্নবী যে তিনটি মূল ধাপ দেখিয়েছেন, সেখানে মাসকারা ছিল না। তাই এটি মূল রুটিনের অংশ নয়; চাইলে বাড়তি সংযোজন হিসেবে রাখা যায়। বিশেষ করে দিনের সাজ সন্ধ্যার দিকে নিতে চাইলে এক বা দুই কোট মাসকারাই যথেষ্ট। এতে চোখ কিছুটা বেশি স্পষ্ট হবে, কিন্তু পুরো মেকআপের স্বাভাবিক মেজাজ নষ্ট হবে না।ভ্রু থাকুক নেচারালএই লুকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভ্রু। খুব গাঢ় করে আঁকার বদলে যেখানে ফাঁকা আছে, শুধু সেখানে হালকা করে ভরাট করাই যথেষ্ট। এরপর স্পুলি দিয়ে ভ্রু আঁচড়ে নিলে রংটা নরম হয়ে যাবে। এ জন্য পেন্সিল ব্যবহার করা যেতে পারে। লক্ষ্য হবে ভ্রুকে স্পষ্ট করে আঁকা নয়, বরং একটু গোছানো দেখানো।ত্বক যেন ত্বকের মতোই দেখায়জাহ্নবীর মেকআপের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এটাই। নিজের ত্বকের রং পুরোপুরি ঢেকে ফেলার চেষ্টা নেই। ভারী ফাউন্ডেশনের বদলে প্রয়োজনমতো কনসিলার ব্যবহার করায় ত্বকের স্বাভাবিক টেক্সচারও দেখা যায়। এই লুক করতে গিয়ে সবচেয়ে সহজ ভুল হতে পারে বারবার কভারেজ বাড়ানো। যেখানে প্রয়োজন শুধু সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করে থেমে যাওয়াই ভালো। এতে মেকআপ থাকবে হালকা, আর মুখও দেখাবে আরও স্বাভাবিক।ব্রাশ নয়, আঙুলেই ব্লেন্ডজাহ্নবীর রুটিন থেকে সবচেয়ে সহজে নেওয়া যায় যে কৌশল, সেটি হলো আঙুল দিয়ে মেকআপ ব্লেন্ড করা। কনসিলার ও ব্লাশের মতো লিকুইড বা ক্রিম প্রোডাক্ট অল্প করে আঙুলে নিয়ে ত্বকে ট্যাপ করে লাগালে দ্রুত কাজ হয় এবং প্রোডাক্টের পরিমাণও সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিশেষ করে ব্যস্ত সকালে এই পদ্ধতি বেশ সুবিধাজনক। একগাদা ব্রাশ বের করার দরকার নেই, আবার অতিরিক্ত মেকআপ করার ঝুঁকিও কমে।জাহ্নবীর তিন ধাপের সহজ রুটিনপুরো রুটিনকে একেবারে সহজ করে বললে, কনসিলার, ব্লাশ, নিউড লিপ। প্রথমে অল্প কনসিলার দিয়ে ত্বকের প্রয়োজনীয় অংশ সমান করুন। এরপর গালে নরম গোলাপি আভা দিন। সবশেষে নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। সব প্রোডাক্টই হালকা হাতে ব্যবহার করে আঙুল দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করতে হবে। এর সঙ্গে আরও একটু সাজানো লুক চাইলে যোগ করা যায় মাসকারা ও হালকা ভ্রু ডেফিনিশন। তবে মূল সৌন্দর্যটা থাকবে কম প্রোডাক্টে, হালকা হাতে এবং ত্বকের স্বাভাবিকতা বজায় রাখায়।জাহ্নবী কাপুরের সাম্প্রতিক মেকআপ রুটিন শেষ পর্যন্ত খুব সাধারণ একটি কথাই মনে করিয়ে দেয়। দৈনন্দিন গ্ল্যামের জন্য সবসময় অনেক কিছু দরকার হয় না। ত্বককে সমান করা, গালে একটু রং আর ঠোঁটে সামান্য উষ্ণতা এই তিনটিই যথেষ্ট হতে পারে। আসল কৌশল হলো মেকআপের স্তর হালকা রাখা এবং ত্বককে ত্বকের মতোই থাকতে দেওয়া।

ফরমাল পোশাকে গ্ল্যামারাস দেখালেন কিয়ারা
ফরমাল পোশাকে গ্ল্যামারাস দেখালেন কিয়ারা

ফ্যাশনের দুনিয়ায় কিয়ারা আদভানির সবচেয়ে বড় শক্তি তার বহুমুখী স্টাইল সেন্স। রেড কার্পেটের ঝলমলে গ্ল্যামার, ফটোশুট লুক কিংবা দৈনন্দিন পোশাক-প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের মতো করে স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করতে জানেন এই অভিনেত্রী। কখনো শাড়ি বা অন্য কোনো ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাকে তিনি হয়ে ওঠেন মোহময়ী, আবার কখনো পশ্চিমা পোশাকে ফুটিয়ে তোলেন আধুনিকতার ছাপ। তার সাম্প্রতিক ফটোশুটের লুকটিও সেই বহুমুখী ফ্যাশন ভাবনারই আরেকটি উদাহরণ। এবার কিয়ারার পছন্দ ছিল স্ট্রাকচার্ড পাওয়ার স্যুট। ক্যামেল-বেইজের একরঙা এই সাজে ছিল টেইলারিংয়ের নিখুঁত ছাপ, পুরুষালি পোশাকের অনুপ্রেরণা এবং নারীর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি-সবকিছুর সুন্দর সমন্বয়। পুরো লুকটি যেন দেখিয়ে দিল, পাওয়ার ড্রেসিং মানেই শুধু কঠোর বা ফরমাল হওয়া নয়, সঠিক কাট, রং ও স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে সেটিই হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত গ্ল্যামারাস। কিয়ারার স্যুটের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্ট্রাকচার্ড ওয়েস্টকোট। শরীরের উপরের অংশের সঙ্গে সুন্দরভাবে মানানসই এই ওয়েস্টকোটে ছিল গভীর ভি-নেকলাইন। সামনে একই ক্যামেল-বেইজ রঙের ছোট ছোট বোতামের সারি পোশাকটিতে এনে দিয়েছে পরিপাটি ফিনিশিং। ওয়েস্টকোটের ভেতরে কিয়ারা পরেছিলেন দুই রঙের বেইজ ও সাদা শার্ট। শার্টটির উষ্ণ বেইজ রঙের মূল অংশ ওয়েস্টকোটের সঙ্গে মিশে গেলেও নজর কেড়েছে এর ওভারসাইজড সাদা কলার। সঙ্গে ছিল স্টাইলিশ ফ্রেঞ্চ কাফ, যা পুরো পোশাকে এনে দিয়েছে খানিকটা ক্লাসিক ফরমাল আবহ। এর ওপর ছিল একই রঙের একটি স্ট্রাকচার্ড জ্যাকেট। টেইলারড শোল্ডার, পরিষ্কার ল্যাপেল এবং নিখুঁত কাটিংয়ের কারণে জ্যাকেটটি কিয়ারার সিলুয়েটকে আরও সুস্পষ্ট করে তুলেছে। নিচে ছিল একই ক্যামেল-বেইজ শেডের হাই-ওয়েস্টেড ওয়াইড-লেগ ট্রাউজার্স। প্যান্টের বাড়তি ভলিউম একদিকে যেমন স্বাচ্ছন্দ্য এনেছে, অন্যদিকে পুরো পোশাকটিকে দিয়েছে আধুনিক ও বিলাসবহুল আবহ। প্রচলিত টাইয়ের বদলে কিয়ারার গলায় দেখা গেছে চিকন বেইজ নেকটাই। কলারের নিচে পরিপাটি করে গুঁজে রাখা এই টাই পুরুষদের ক্লাসিক টেইলারিংয়ের ছোঁয়া এনে দিয়েছে নারীর পাওয়ার স্যুটে। পুরো পোশাকে থাকা সূক্ষ্ম প্লেড প্যাটার্নও লুকটিকে একঘেয়ে হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছে। জুতার ক্ষেত্রেও টোনাল স্টাইলিংয়ের পথেই হেঁটেছেন কিয়ারা। পায়ে ছিল উটের রঙের পয়েন্টেড স্টিলেটো পাম্প। সূচালো অগ্রভাগের এই জুতা তার পায়ের রেখাকে আরও দীর্ঘ দেখিয়েছে এবং মাথা থেকে পা পর্যন্ত একরঙা বিন্যাসটিও অটুট রেখেছে। অ্যাক্সেসরিজে রেখেছিলেন একবারে ছিমছাম । একজোড়া সোনালি স্টেটমেন্ট কানের দুল এবং মানানসই একটি আংটিতেই নজর কেড়েছেন। এর সঙ্গে এভিয়েটর সানগ্লাস যোগ করে কিয়ারা পুরো লুকে এনেছেন আরও দৃঢ় ভাব। সানগ্লাসের উপস্থিতিই আত্মবিশ্বাসী বার্তাটিকে আরও জোরালো করেছে। চুল ও মেকআপেও ছিল পরিমিতির ছাপ। পোশাকের কাটিং ও টেইলারিংকে লুকের মূল আকর্ষণ করে তুলতে কিয়ারা তার লম্বা, ঘন বাদামি চুল হালকা ঢেউ খেলানো এবং কিছুটা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে রেখেছেন। মেকআপে ছিল সফট-গ্ল্যাম আবহ- সুবিন্যস্ত ভ্রু, উষ্ণ টোনের আইশ্যাডো এবং নুড-গোলাপি লিপস্টিক। কিয়ারার এই লুকটি প্রমাণ করে, পাওয়ার ড্রেসিংয়ের আসল শক্তি পোশাকে যতটা, তার চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসে। ক্যামেল-বেইজের শান্ত রং, নিখুঁত টেইলারিং, পুরুষালি টেইলারিংয়ের অনুপ্রেরণা  এই লুকে কিয়ারা তৈরি করেছেন এমন এক ফ্যাশন স্টেটমেন্ট, যা একই সঙ্গে স্মার্ট, আধুনিক ও নজরকাড়া। এসএকেওয়াই

ঘুম ঠিক না হলে কী হয়? জানুন সুস্থ থাকার সহজ উপায়
ঘুম ঠিক না হলে কী হয়? জানুন সুস্থ থাকার সহজ উপায়

ঘুম শরীর ও মনের পুনরুদ্ধারের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের ভেতরে শুরু হয় নানা জটিলতা, যা ধীরে ধীরে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেকেই ঘুমকে অবহেলা করেন, অথচ সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি হচ্ছে ভালো ঘুম। যখন ঘুম ঠিকমতো হয় না, তখন শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে সহজেই সর্দি-কাশি বা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঘুমের ঘাটতি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায়, যা অতিরিক্ত খাওয়া ও ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। শুধু তাই নয়, নিয়মিত কম ঘুম মানে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যাওয়া। মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও এর প্রভাব ভয়াবহ। ঘুম কম হলে মন খারাপ লাগে, মনোযোগে ঘাটতি আসে, কাজের উদ্যম কমে যায়। অনেক সময় হতাশা, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা তৈরি হয়। শিক্ষার্থী বা কর্মজীবীদের ক্ষেত্রে এটি সরাসরি কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়। তবে সুস্থ থাকার জন্য ঘুম ঠিক রাখার কিছু সহজ উপায় অনুসরণ করা যায়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং জেগে ওঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। রাতে ঘুমানোর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা উচিত — মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপের আলো ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের ক্ষরণে বাধা দেয়। শোবার ঘরকে ঠান্ডা, অন্ধকার ও শান্ত রাখা ঘুমের মান বাড়ায়। কফি বা চা রাতের বেলা এড়িয়ে চলাই ভালো। দিনের বেলা হালকা ব্যায়াম ও সকালের রোদে কিছুক্ষণ সময় কাটানো ঘুমে সহায়তা করে। আর ঘুমানোর আগে ভারী খাবার না খাওয়াও জরুরি। ঘুমকে যদি গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তাহলে শরীর একসময় সিগন্যাল দিতে শুরু করবে — মাথা ভার, মেজাজ খারাপ, স্মৃতিশক্তি দুর্বল ইত্যাদি নানা রকম সমস্যা দেখা দেবে। তাই সুস্থ থাকতে হলে শুধু খাদ্য, ব্যায়াম বা ওষুধ নয় — একটি পরিপূর্ণ ঘুমই হতে পারে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।

দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সংকট: জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ
দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সংকট: জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ

বাংলাদেশে আবারও শুরু হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের নতুন সংকট। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা শহরে একটানা লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, এমনকি হাসপাতালের রোগীরাও অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তীব্র গরম ও অসহনীয় তাপদাহের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই ভুগছেন। শহরাঞ্চলে ফ্যান, এসি ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গরমে হাঁসফাঁস করছেন মানুষ। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে পানির পাম্প চলতে না পারায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, দিনে প্রায় ৬-৮ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর ফিরে আসছে না। বিশেষ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ছোট কারখানাগুলো এই বিদ্যুৎ সংকটে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ছোট দোকানদাররা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ সময় ফ্রিজ বন্ধ থাকায় খাবারদাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আইটি ও অনলাইনভিত্তিক কাজেও সমস্যা হচ্ছে, কারণ ইন্টারনেট রাউটার, কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি চালাতে বিদ্যুৎ অপরিহার্য। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং আয়-রোজগারে বড় ধাক্কা লাগছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, গ্রীষ্ম মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে জেনারেশন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস সংকটের কারণে পুরো উৎপাদন করতে পারছে না। অন্যদিকে আমদানি নির্ভর কয়লা ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সাময়িক এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে লোডশেডিং কমে আসবে। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, কতদিন এমন দুর্ভোগ চলবে? বিশেষ করে যেসব এলাকায় দিনে ৮-১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না, তাদের জন্য এ আশ্বাস কতটা কার্যকর হবে — তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এবং এর সমাধানে স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিকল্প জ্বালানি উৎস যেমন সৌর ও নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে গুরুত্ব না দিলে প্রতি বছরই এ ধরনের সংকটের পুনরাবৃত্তি হবে। এ অবস্থায় মানুষ চায় বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও দ্রুত সমাধান। বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন আর এক নিত্যকার দুর্ভোগে পরিণত না হয় — সেই প্রত্যাশাই করছে সারাদেশ।

Follow us

Top week

তেল-চিনিতে বাড়তি দাম, সবজিতেও স্বস্তি নেই
জাতীয়

তেল-চিনিতে বাড়তি দাম, সবজিতেও স্বস্তি নেই

News অক্টোবর ২, ২০২৬ 0

Rss feed news

ভাষার চেনা ছক ভেঙেছেন অ্যান কার্সন
ভাষার চেনা ছক ভেঙেছেন অ্যান কার্সন

<p>কবিতা লিখছেন, অনুবাদ করছেন, প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য নিয়ে গবেষণা করছেন, আবার কখনো প্রবন্ধ লিখছেন, কখনো মঞ্চে পারফর্ম করছেন, কখনো ভিজ্যুয়াল আর্ট নিয়ে কাজ করছেন। অ্যান কারসনকে ঠিক কোন পরিচয়ে চেনা যায়, সেটাই যেন একটা ধাঁধা!</p><p> চার দশকের বেশি সময় ধরে সাহিত্যের চেনা ছক ভেঙে নিজের মতো করে লিখে চলেছেন এই কানাডীয় লেখক। ২০২৬ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারও উঠেছে তাঁর হাতে।</p><p> কারসনের বিশেষত্ব কেবল তাঁর লেখার ধরনে নয়। তাঁর লেখা পড়লে মনে হয়, চিন্তা করাটাও একটা সাহিত্যিক কাজ হতে পারে। গবেষণা আর সৃজনশীল লেখা যে আলাদা দুটো জগৎ নয়, বরং পাশাপাশি হাঁটতে পারে, সেটাই তিনি বারবার দেখিয়েছেন।</p><p> তাঁর লেখায় তথ্য আছে, আবার কল্পনাও আছে। আছে ইতিহাস, আছে কবিতা, আছে ব্যক্তিগত অনুভূতি। সব মিলিয়ে তাঁর বই যেন একই সঙ্গে সাহিত্য ও শিল্পের সমাবেশ।</p><p> প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য কারসনের লেখার বড় একটি অংশজুড়ে আছে। তবে পুরোনো লেখকদের তিনি কেবল গবেষণার বিষয় হিসেবে দেখেন না। বরং তাঁদের জীবনকে জানার চেষ্টা করেন।</p><p>স্যাফো, সিমোনিদিস, সফোক্লিস কিংবা ইউরিপিদিস, হাজার হাজার বছর আগের এসব লেখকের কথা তিনি আজকের মানুষের জীবন ও অনুভূতির সঙ্গে মিলিয়ে দেখেছেন।</p><p>প্রেম, আকাঙ্ক্ষা, শোক, একাকিত্ব, বিচ্ছেদ কিংবা মৃত্যু, মানুষের এসব অনুভূতি তো আর পুরোনো হয় না। তাই প্রাচীন গ্রিক সাহিত্যের শব্দও কারসনের লেখায় নতুন করে কথা বলেছে।</p><p>তাঁর কাছে প্রাচীন সাহিত্য কোনো জাদুঘরে তুলে রাখা পুরোনো জিনিস নয়। বরং এমন এক জগৎ, যেখান থেকে আজও নতুন নতুন অর্থ বের করা যায়।</p><p>কারসনের লেখায় একটি বিষয় বারবার ফিরে আসে, দূরত্ব। দুজন মানুষের মধ্যে দূরত্ব, এক ভাষা থেকে আরেক ভাষার দূরত্ব, জীবিত ও মৃতের দূরত্ব, কিংবা যা জানা যায়, আর যা কখনোই পুরোপুরি জানা সম্ভব নয়, এসব নিয়েই তিনি ভাবেন।</p><p>তাঁর কাছে ভালোবাসা মানেই কাউকে পাওয়া নয়। বরং কখনো কখনো না-পাওয়াটাও ভালোবাসার বড় অংশ। মানুষের জীবনের যে শূন্যতাগুলো থাকে, আমরা সাধারণত সেগুলোকে এড়িয়ে যাই, কারসন সেখানেই কলম ধরেছেন। এই কারণেই তাঁর লেখায় না পাওয়া, নীরবতা ও শূন্যতার এত গুরুত্ব।</p><blockquote>প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য কারসনের লেখার বড় একটি অংশজুড়ে আছে। তবে পুরোনো লেখকদের তিনি কেবল গবেষণার বিষয় হিসেবে দেখেন না। বরং তাঁদের জীবনকে জানার চেষ্টা করেন।</blockquote><p>কার্সনের লেখার ধরনও বেশ মজার। কোথাও কবিতা, কোথাও প্রবন্ধ, কোথাও অনুবাদ, কোথাও উদ্ধৃতি; আবার হঠাৎ এমন কিছু, যা প্রচলিত বইয়ের ছকের সঙ্গে একেবারেই মেলে না।</p><p>খণ্ডিত লেখা, কোলাজ, হঠাৎ থেমে যাওয়া; এসব তাঁর কাছে নিছক স্টাইল নয়। এগুলোর মাধ্যমে তিনি স্মৃতি, ভালোবাসা, হারানো কিংবা আকাঙ্ক্ষার মতো জটিল বিষয়কে তুলে ধরতে চান।</p><p>ইরোস দ্য বিটারসুইট (১৯৮৬), অটোবায়োগ্রাফি অব রেড (১৯৯৮), দ্য বিউটি অব দ্য হাজব্যান্ড (২০০১), নক্স (২০১০) ও ফ্লোট (২০১৬); এসব বইয়ে তিনি বারবার দেখিয়েছেন, কবিতা বা বই দেখতে ঠিক কেমন হতে হবে, তার কোনো বাঁধাধরা নিয়ম নেই।</p><p>তাঁর কাছে লেখার ধরন কেবল সাজসজ্জা নয়। কী বলা হচ্ছে, আর কীভাবে বলা হচ্ছে, দুটোই তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ।</p><blockquote>কার্সনের লেখার ধরনও বেশ মজার। কোথাও কবিতা, কোথাও প্রবন্ধ, কোথাও অনুবাদ, কোথাও উদ্ধৃতি; আবার হঠাৎ এমন কিছু, যা প্রচলিত বইয়ের ছকের সঙ্গে একেবারেই মেলে না।</blockquote><p><strong>কেন এত গুরুত্বপূর্ণ কারসন?</strong></p><p>কারসনের লেখায় একদিকে আছে বুদ্ধিবৃত্তিক দোলাচাল, অন্যদিকে আছে আবেগের গভীরতা। তিনি কঠিন বিষয় নিয়ে লেখেন, কিন্তু কেবল জ্ঞান বিতরণের জন্য নয়। বরং পাঠককে ভাবানোর জন্য, ভাবনার জগতে নেওয়ার জন্য। তাঁর লেখা কখনো মজার, কখনো বিষণ্ন, কখনো একটু আবেগে ভাসানো।</p><p>তরুণ লেখক ও গবেষকদের ওপরও তাঁর প্রভাব পড়েছে। অনেকেই এখন সাহিত্য সমালোচনা, অনুবাদ, কবিতা ও সৃজনশীল লেখার সীমানা আলাদা করে দেখছেন না।</p><p>কারসনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা সম্ভবত এটিই, সাহিত্যে সব প্রশ্নের উত্তর থাকতেই হবে, এমন কোনো কথা নেই। বরং কখনো কখনো ভালো সাহিত্য এমন প্রশ্নই তৈরি করে, যার উত্তর খুঁজতে পাঠককে বই বন্ধ করার পরও ভাবতে হয়।</p><p>সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার এমন লেখকদেরই স্বীকৃতি দেয়, যাঁরা সাহিত্যের সম্ভাবনাকে একটু হলেও বড় করে দেন। অ্যান কারসন সেই কাজটি করেছেন নিজের মতো করে।</p><p>কবিতা ও গবেষণা, প্রাচীন ও আধুনিক সময়, চিন্তা ও অনুভূতি, সবকিছুর মাঝখানে তিনি তৈরি করেছেন নিজের এক অদ্ভুত সাহিত্য ভুবন। সেখানে ভাষা কেবল লেখার মাধ্যম নয়; ভাষা নিজেই হয়ে ওঠে ভাবনার খোরাক।</p>

অক্টোবর ৮, ২০২৬
পা দিয়ে মাড়িয়ে তৈরি হচ্ছিল ময়দার ডো, জরিমানা এক লাখ টাকা
পা দিয়ে মাড়িয়ে তৈরি হচ্ছিল ময়দার ডো, জরিমানা এক লাখ টাকা

পা দিয়ে মাড়িয়ে তৈরি হচ্ছিল ময়দার ডো, জরিমানা এক লাখ টাকা

অক্টোবর ৮, ২০২৬
ঝিনাইদহ,শরীয়তপুর ও মাগুরায় কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা
ঝিনাইদহ,শরীয়তপুর ও মাগুরায় কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

<p>ঝিনাইদহ, শরীয়তপুর ও মাগুরা জেলায় আজ বৃহস্পতিবার এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘স্বপ্ন দেখো জীবন গড়ো’ স্লোগান নিয়ে প্রথম আলোর উদ্যোগে শিক্ষার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘শিখো’র পৃষ্ঠপোষকতায় এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলার শিক্ষার্থীদের এই সংবর্ধনা দেওয়া হবে। আজকের আয়োজন নিয়ে ছবির গল্প</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-08/0yl3k0ke/1.-Jhenaidah-meritorious-studentsreceptionProthom-AloShikho08102026.jpg"><figcaption>‘মাদক, মিথ্যা ও মুখস্থকে না বলি’—হাত উঁচু করে এই শপথ নিচ্ছে কৃতী শিক্ষার্থীরা। জোহান ড্রিম ভ্যালি পার্ক অ্যান্ড রিসোর্ট, ঝিনাইদহ, ৮ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-08/g6k3xjsx/2.-Jhenaidah-meritorious-studentsreceptionProthom-AloShikho08102026.jpg"><figcaption> ক্রেস্ট হাতে কৃতী শিক্ষার্থী। জোহান ড্রিম ভ্যালি পার্ক অ্যান্ড রিসোর্ট, ঝিনাইদহ, ৮ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-08/w4daeum5/3.-Jhenaidah-meritorious-studentsreceptionProthom-AloShikho08102026.jpg"><figcaption>কুইজ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিচ্ছেন অতিথিরা। জোহান ড্রিম ভ্যালি পার্ক অ্যান্ড রিসোর্ট, ঝিনাইদহ, ৮ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-08/e8z359oz/4.-Jhenaidah-meritorious-studentsreceptionProthom-AloShikho08102026.jpg"><figcaption>কৃতী শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস। জোহান ড্রিম ভ্যালি পার্ক অ্যান্ড রিসোর্ট, ঝিনাইদহ, ৮ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-08/bsxatb3g/5.-Shariatpur-meritorious-studentsreceptionProthom-AloShikho08102026.jpg"><figcaption>জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছে শিক্ষার্থীরা। সদর উপজেলা অডিটোরিয়াম, শরীয়তপুর, ৮ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-08/28xxzzl1/6.-Shariatpur-meritorious-studentsreceptionProthom-AloShikho08102026.jpg"><figcaption>অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশনায় শিশুশিল্পীরা। সদর উপজেলা অডিটোরিয়াম, শরীয়তপুর, ৮ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-08/34d2fauk/7.-Shariatpur-meritorious-studentsreceptionProthom-AloShikho08102026.jpg"><figcaption>জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা। সদর উপজেলা অডিটোরিয়াম,শরীয়তপুর, ৮ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-08/vrjjozfo/8.-Magurameritorious-studentsreceptionProthom-AloShikho08102026.JPG"><figcaption>কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বন্ধু ও সহপাঠীদের সঙ্গে ছবি তোলে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা। নোমানী ময়দান, মাগুরা, ৮ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-08/a3qbur7c/9.-Magurameritorious-studentsreceptionProthom-AloShikho08102026.JPG"><figcaption>জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। জেলা অডিটোরিয়াম, মাগুরা, ৮ অক্টোবর</figcaption></figure>

অক্টোবর ৮, ২০২৬
দক্ষিণ এশিয়ায় তীব্র তাপপ্রবাহের মোকাবিলায় বাংলাদেশসহ ৪ দেশের নতুন উদ্যোগ
দক্ষিণ এশিয়ায় তীব্র তাপপ্রবাহের মোকাবিলায় বাংলাদেশসহ ৪ দেশের নতুন উদ্যোগ

<p>প্রশান্ত মহাসাগরজুড়ে এল নিনোর শক্তি বাড়ছে। এর প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়ায় আরেকটি তীব্র তাপপ্রবাহের মৌসুমের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে চরম তাপের প্রভাব মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করার উদ্যোগ নিয়েছে ভারত, নেপাল, বাংলাদেশ ও ভুটান। আজ বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে শুরু হওয়া গ্লোবাল হিট ফোরামে চার দেশের তাপপ্রবাহ পরিস্থিতি, প্রস্তুতি ও ঘাটতি নিয়ে নতুন চারটি ‘কান্ট্রি ব্রিফ’ প্রকাশ করা হয়েছে।</p><p> গ্লোবাল হিট হেলথ ইনফরমেশন নেটওয়ার্কের (জিএইচএইচআইএন) দক্ষিণ এশিয়া হাবের উদ্যোগে এসব ব্রিফ প্রকাশ করা হয়। দক্ষিণ এশিয়ায় চরম তাপের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে থাকায় দেশগুলোর প্রস্তুতি ও সক্ষমতা পর্যালোচনার অংশ হিসেবে এসব মূল্যায়ন করা হয়েছে। এতে দেশগুলো কীভাবে তীব্র গরম মোকাবিলা করছে, আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং কোথায় গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি রয়েছে, তা তুলে ধরা হয়েছে।</p><p> নয়াদিল্লিতে কাউন্সিল অন এনার্জি, এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ওয়াটার এই দক্ষিণ এশিয়া হাব পরিচালনা করছে। এর অংশীদার হিসেবে রয়েছে সাসটেইনেবল ফিউচার্স কোলাবোরেটিভ , ন্যাচারাল রিসোর্সেস ডিফেন্স কাউন্সিল, ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথ এবং জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন (ইউএনএসকাপ)। উদ্যোগটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) যৌথ জলবায়ু ও স্বাস্থ্য কর্মসূচির সঙ্গেও সমন্বিত।</p><p>দক্ষিণ এশিয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাপপ্রবাহের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব বেড়েছে। অতিরিক্ত গরম শুধু অস্বস্তি তৈরি করে না, এটি বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং বাইরে কাজ করা মানুষের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। তাপজনিত অসুস্থতা ও মৃত্যুর পাশাপাশি হৃদ্‌রোগ, শ্বাসতন্ত্রের রোগসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়তে পারে।</p><p>চার দেশের নতুন মূল্যায়নের লক্ষ্য হলো তাপের স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় কোথায় অগ্রগতি হয়েছে এবং কোথায় আরও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন, তা চিহ্নিত করা। নীতিনির্ধারণ, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, আগাম সতর্কতা ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় এসব তথ্য কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে।</p><p>ব্যাংককে আয়োজিত গ্লোবাল হিট ফোরামে দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান তাপঝুঁকি এবং এর স্বাস্থ্যগত প্রভাব নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ভবিষ্যতে তাপপ্রবাহের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে তাপকে শুধু আবহাওয়াজনিত ঘটনা হিসেবে না দেখে জনস্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি হিসেবে মোকাবিলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।</p><p>১৯৮০ সালের পর থেকে অনুভূত তাপমাত্রা বেড়েছে প্রায় সাড়ে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পূর্বাভাসের সঙ্গে হাসপাতালকে যুক্ত করে তাপজনিত অসুস্থতা পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুপারিশ।</p><p>বাংলাদেশে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা মিলিয়ে মানুষের শরীরে অনুভূত তাপমাত্রা ১৯৮০ সালের পর থেকে প্রায় সাড়ে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। বছরের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সময় এখন বিপজ্জনক আর্দ্র গরমের মধ্যে কাটছে।</p><p>বাংলাদেশে জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনায় তাপকে ঝুঁকি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের জন্য তৈরি হয়েছে দেশের প্রথম নগর তাপপ্রবাহ মোকাবিলা কর্মপরিকল্পনা। তাপজনিত অসুস্থতা মোকাবিলায় জাতীয় নির্দেশিকা এবং জনসচেতনতামূলক ‘বিট দ্য হিট’ প্রচারও চালু হয়েছে।</p><p>তবে এসব উদ্যোগের পরও জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে আলাদা তাপপ্রবাহ মোকাবিলা কর্মপরিকল্পনার ঘাটতি রয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসের সঙ্গে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে যুক্ত করে তাপজনিত অসুস্থতা পর্যবেক্ষণের একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলাও জরুরি।</p><p>গ্লোবাল হিট হেলথ ইনফরমেশন নেটওয়ার্কের (জিএইচএইচআইএন) দক্ষিণ এশিয়া হাবের বাংলাদেশবিষয়ক প্রথম মূল্যায়নে এসব তথ্য ও সুপারিশ উঠে এসেছে। আজ বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ডের ব্যাংককের গ্লোবাল হিট ফোরামে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানের তাপ ও স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে চারটি পৃথক মূল্যায়ন প্রকাশ করা হয়।</p><h3>চার দেশের প্রথম মূল্যায়ন </h3><p>জিএইচএইচআইএনের দক্ষিণ এশিয়া হাব থেকে দেশ চারটির তাপ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে এটিই প্রথম মূল্যায়ন।</p><p>প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনো শক্তিশালী হচ্ছে বলে মূল্যায়ন প্রকাশের সময় জানানো হয়েছে। এতে দক্ষিণ এশিয়ায় আরেকটি তীব্র গরমের মৌসুমের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এ পরিস্থিতির মধ্যেই বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটান তাপের প্রভাব মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ শুরু করেছে।</p><h3>পরিকল্পনা এগিয়েছে, বাস্তবায়নে ঘাটতি </h3><p>চার দেশের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ায় তাপ মোকাবিলার প্রস্তুতি সবচেয়ে দ্রুত এগিয়েছে পরিকল্পনা, আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও আগাম সতর্কবার্তার ক্ষেত্রে। চার দেশই কোনো না কোনোভাবে তাপপ্রবাহ মোকাবিলা কর্মপরিকল্পনা ও আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা তৈরি করেছে।</p><p>কিন্তু এসব পরিকল্পনা ও সতর্কবার্তাকে মাঠপর্যায়ের সুরক্ষায় রূপ দেওয়ার ব্যবস্থা একই গতিতে এগোয়নি। তাপজনিত অসুস্থতা পর্যবেক্ষণ, স্থানীয় পর্যায়ের উদ্যোগে অর্থায়ন এবং স্বাস্থ্য, শ্রম ও নগর–পরিকল্পনায় তাপের ঝুঁকি যুক্ত করার ক্ষেত্রে এখনো বড় ঘাটতি রয়েছে। কয়েকটি দেশে বড় পরিসরে কাজ শুরু হলেও অগ্রগতি সর্বত্র সমান নয়।</p><p>একসময় দক্ষিণ এশিয়ার সমতল অঞ্চলেই তীব্র গরম বেশি দেখা যেত। এখন সেই গরম হিমালয় অঞ্চলের নেপাল ও ভুটানেও ছড়িয়ে পড়ছে।</p><h3>বাংলাদেশের স্বাস্থ্যঝুঁকি যথেষ্ট স্বীকৃতি পায়নি </h3><p>ব্র্যাক জেমস পি গ্র্যান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের ড. ফারজানা মিশা বলেন, ‘তাপ এই অঞ্চলের স্বাস্থ্যঝুঁকিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম স্বীকৃত একটি। বন্যা বা ঘূর্ণিঝড়ের তুলনায় এটি কম দৃশ্যমান। কিন্তু স্বাস্থ্য, কাজ ও খাদ্যনিরাপত্তার ওপর এর ক্ষতি কোনো অংশে কম নয়। বাংলাদেশে আমরা এরই মধ্যে কিছু উদ্যোগ নিতে শুরু করেছি। তাপজনিত অসুস্থতা মোকাবিলায় একটি জাতীয় নির্দেশিকা এবং নারায়ণগঞ্জে প্রথম নগর তাপপ্রবাহ মোকাবিলা কর্মপরিকল্পনা তৈরি হয়েছে। ঢাকা, রাজশাহী ও অন্যান্য নগর কেন্দ্রেও একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এখন দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে একই পদক্ষেপ প্রয়োজন। এমন স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে এবং প্রয়োজনীয় অর্থায়ন করতে হবে, যাতে গরম আসার আগেই ঝুঁকি শনাক্ত করা এবং মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আগে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।’</p><p>বাংলাদেশবিষয়ক মূল্যায়নে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে তাপপ্রবাহ মোকাবিলার জন্য নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা তৈরির সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের আবহাওয়ার পূর্বাভাসকে হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত করে তাপ ও স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বলা হয়েছে।</p><h3>ভারত এগিয়েছে সবচেয়ে বেশি </h3><p>চার দেশের মধ্যে ভারত তাপ মোকাবিলায় প্রতিক্রিয়াভিত্তিক ত্রাণ কার্যক্রম থেকে আগাম ঝুঁকি কমানোর দিকে সবচেয়ে বেশি এগিয়েছে।</p><p>সিইইডব্লিউর জেলা পর্যায়ের গবেষণায় দেখা গেছে, ভারতের ৫৭ শতাংশ জেলা উচ্চ বা অতি উচ্চ তাপঝুঁকিতে রয়েছে। এসব জেলায় দেশটির প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মানুষ বাস করে।</p><p>ভারতে শহর ও জেলা পর্যায়ে ২৫০টির বেশি তাপপ্রবাহ মোকাবিলা কর্মপরিকল্পনা চালু রয়েছে। দুর্যোগঝুঁকি ব্যবস্থাপনার অর্থায়নের আওতায় তাপপ্রবাহকে সরকারিভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবেও স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তাপজনিত অসুস্থতা পর্যবেক্ষণের জাতীয় ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে এবং ১৮ হাজারের বেশি চিকিৎসা কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।</p><p>তবে ভারতের পরিকল্পনাগুলোকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার গণ্ডির বাইরে নিয়ে যাওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিটি পরিকল্পনায় নির্দিষ্ট অর্থায়ন ও মানুষের স্বাস্থ্যের ফলাফল মূল্যায়নের ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়েছে।</p><h3>নেপালে ৪০ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রার ৫০ দিন </h3><p>হিমালয়ের উচ্চভূমির দেশ নেপাল এত দিন প্রধানত বন্যা, খরা ও অন্যান্য পানি ও আবহাওয়াজনিত দুর্যোগের মুখোমুখি হতো। দেশটি এখন চরম গরমের ঝুঁকির মধ্যেও পড়েছে।</p><p>নেপালের জাতীয় আবহাওয়া বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় তরাই সমভূমিতে ৫০ দিন তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে ছিল।</p><p>নেপাল এরই মধ্যে প্রথম কেন্দ্রীয় তাপপ্রবাহ মোকাবিলা পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে এবং ঝুঁকির মাত্রাভিত্তিক সতর্কবার্তা দিচ্ছে। কিন্তু দেশটির স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় এখনো নিয়মিতভাবে তাপজনিত অসুস্থতার তথ্য সংরক্ষণ করা হয় না।</p><p>তরাই অঞ্চলের হাসপাতালগুলোতে তাপজনিত কারণে ভর্তি রোগীর তথ্য নথিবদ্ধ করা বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করা হয়েছে। আবহাওয়া বিভাগের সতর্কবার্তা মাঠপর্যায়ে পৌঁছানো এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও শক্তিশালী করতে বলা হয়েছে।</p><h3>ভুটানের শীতল উপত্যকাতেও বাড়ছে গরম </h3><p>ভুটানের দক্ষিণাঞ্চলীয় নিচু এলাকাগুলো উষ্ণ হয়ে উঠছে। এর প্রভাবে আগে শীতল থাকা উপত্যকাতেও তাপমাত্রা বাড়ছে। যেসব জনগোষ্ঠীকে আগে কখনো চরম গরম মোকাবিলার পরিকল্পনা করতে হয়নি, তারাও এখন ঝুঁকিতে পড়ছে।</p><p>ভুটানের জাতীয় নীতিতে তাপ মোকাবিলার দায়িত্ব স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে দেওয়া হয়েছে। ২০২২ সালের একটি বিধিমালায় শ্রমিকদের তাপ থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা রাখার নির্দেশও রয়েছে।</p><p>বন্যা ও হিমবাহের হ্রদ থেকে সৃষ্ট দুর্যোগের আগাম সতর্কতা ব্যবস্থায় ভুটান তুলনামূলকভাবে এগিয়ে। এই ব্যবস্থাকে তাপের ক্ষেত্রেও সম্প্রসারণ করা সম্ভব বলে মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন নীতি ও দায়িত্বকে এক জায়গায় এনে একটি সমন্বিত জাতীয় তাপপ্রবাহ মোকাবিলা কর্মপরিকল্পনা তৈরির সুপারিশ করা হয়েছে।</p><h3>পূর্বাভাসকে সুরক্ষায় রূপ দিতে হবে </h3><p>সিইইডব্লিউর ফেলো এবং জিএইচএইচআইএন দক্ষিণ এশিয়া হাবের চেয়ারম্যান বিশ্বাস চিতালে বলেন, চরম গরম এখন দক্ষিণ এশিয়ার সারা বছরের আঞ্চলিক ঝুঁকি। তবে এই ঝুঁকি মোকাবিলায় অঞ্চলটিকে একেবারে শুরু থেকে কাজ করতে হচ্ছে না। প্রতিটি দেশেই পাঁচ বছর আগের তুলনায় তাপ পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।</p><p>বিশ্বাস চিতালের মতে, এখন মূল কাজ হলো আবহাওয়ার পূর্বাভাসের সঙ্গে স্বাস্থ্যব্যবস্থা, স্থানীয় বাজেট এবং শ্রমবিধিকে যুক্ত করা। একটি সতর্কবার্তা যেন মানুষের জন্য কার্যকর সুরক্ষায় পরিণত হয়।</p><p>ইউএনএসক্যাপের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি এবং দুর্যোগঝুঁকি হ্রাস বিভাগের পরিচালক কিয়ং কো বলেন, তাপ সীমান্তে থেমে থাকে না। তাই এর মোকাবিলাও সীমান্তের মধ্যে আটকে থাকা উচিত নয়। দেশগুলো পূর্বাভাস বিনিময় করতে পারে, ব্যবস্থা নেওয়ার তাপমাত্রাসীমা সমন্বয় করতে পারে এবং আগে থেকে চালু দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মধ্যে তাপের ঝুঁকি যুক্ত করতে পারে।</p><p>গ্লোবাল হিট ফোরামের পর দক্ষিণ এশিয়া হাব বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করে একটি আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি তৈরি করবে। তাপের মৌসুমের আগে ও পরে চার দেশের সরকারের জন্য পরিস্থিতি মূল্যায়নও প্রস্তুত করা হবে। লক্ষ্য হবে তাপবিষয়ক বৈজ্ঞানিক তথ্যকে সমন্বিত কার্যক্রমে রূপ দেওয়া এবং অঞ্চলের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা।</p>

অক্টোবর ৮, ২০২৬
ছবি এঁকে ক্যানসার আক্রান্ত শিশুর পাশে আরেক শিশু আরিয়ান
ছবি এঁকে ক্যানসার আক্রান্ত শিশুর পাশে আরেক শিশু আরিয়ান

<p>আর দশটা শিশুর মতো আরিয়ানও একদম ছোটবেলা থেকে ছবি আঁকে। আগে আঁকত দেয়ালে, এখন আঁকে বিভিন্ন ক্যানভাসে। আট বছর পেরোনো আরিয়ান এখন এই আঁকাআঁকির মাধ্যমেই নিয়েছে দারুণ এক উদ্যোগ। ২৪-২৬ সেপ্টেম্বর তার সব চিত্রকর্ম নিয়ে ঢাকায় আয়োজিত হলো ‘ডুডলস অ্যান্ড ড্রিমস’ শীর্ষক একক প্রদর্শনী। এই প্রদর্শনী থেকে উঠে আসা সব অর্থ দেওয়া হবে ক্যানসারের সঙ্গে লড়ছে, এমন এক শিশুর চিকিৎসা সহায়তায়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-08/apwgitpc/0.jpg"><figcaption>২৪-২৬ সেপ্টেম্বর আরিয়ান সিরাজ মাহমুদের চিত্রকর্ম নিয়ে ঢাকায় আয়োজিত হলো ‘ডুডলস অ্যান্ড ড্রিমস’ শীর্ষক একক প্রদর্শনী</figcaption></figure><p>রাজধানীর আগা খান একাডেমির ফিফথ গ্রেডে পড়ে আরিয়ান সিরাজ মাহমুদ। রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার হার্ডকো ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে আয়োজিত হলো ‘ডুডলস অ্যান্ড ড্রিমস’ শীর্ষক আরিয়ানের একক চিত্রকর্ম প্রদর্শনী। সহযোগিতায় ছিল বাংলাদেশ ক্যানসার এইড ট্রাস্ট (ব্যানকাট)।</p><p>এক দুপুরে গিয়েছিলাম আরিয়ানের প্রদর্শনী ঘুরে দেখতে। স্কুল আঙিনায় ঢুকতেই চোখে পড়ল এক পাশে চলতে থাকা শিক্ষার্থীদের ফুটবল টুর্নামেন্ট। উল্টো দিকে স্কুলের ক্যাফেটেরিয়া। সেখানেই চলছিল ‘ডুডলস অ্যান্ড ড্রিমস’ প্রদর্শনী।</p><p>একটি টেবিলে সারি সারি সাজিয়ে রাখা আরিয়ানের রংবেরঙের সব ক্যানভাস। সঙ্গে আরিয়ানের চিত্রকর্ম দিয়ে তৈরি টি–শার্ট, চাবির রিং ও মগ। তবে এসবের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ল আরিয়ানের প্রিয় সব কাল্পনিক চরিত্রের ছবি। গডজিলা, ব্যাটম্যান, সুপারম্যান—এসব চরিত্র আরিয়ান এঁকেছে বিভিন্ন ক্যানভাস ও সামগ্রীতে। সব মিলিয়ে ২০টি চিত্রকর্ম নিয়ে ছিল প্রদর্শনীটি।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/5rh1qkht2w">যে কারণে আপনার সন্তানকে অভাব কী, তা বোঝাবেন</a></aside><h3>শিশুর পাশে শিশুরা</h3><p>প্রদর্শনীতে গিয়ে দেখা হলো আরিয়ানের সঙ্গে। সে যা বলল, তার সারমর্ম হলো, একমাত্র আঁকাআঁকির মাধ্যমে এমন এক জগৎ তৈরি করা সম্ভব, যা একান্তই নিজের। সেই জগতের গল্পগুলোও তার। এতে নেই কোনো বাঁধাধরা নিয়ম কিংবা কোনো সীমানা। নিজের ইচ্ছেমতো সাজানো যায় এই জগৎকে।</p><p>আরিয়ানের আঁকাআঁকির শুরুটা ছিল দেয়ালে আর খাতায়। নিজের ইচ্ছেমতো হিজিবিজি আঁকত। তবে এখন সে সুপারহিরোদের আঁকতেই ভালোবাসে। প্রদর্শনীর জন্য সে নিজের তৈরি করা নানান চরিত্রের ডুডলও এঁকেছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-08/sy3p5y05/0.jpg"><figcaption>আরিয়ানের চিত্রকর্মের সঙ্গে ছিল চিত্রকর্ম দিয়ে তৈরি টি–শার্ট, চাবির রিং ও মগ</figcaption></figure><p>তিন দিনের এই আয়োজন নিয়ে কথা হচ্ছিল আরিয়ানের মা এবং ‘ডুডলস অ্যান্ড ড্রিমস’–এর আয়োজক নিশাত হামিদের সঙ্গে। উদ্যোগটির পেছনের ভাবনার সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে আরিয়ান আঁকাআঁকি করতে ভালোবাসে। ওর আগ্রহটা আমরা বুঝতে পেরেছিলাম। সেখান থেকেই মনে হলো, এমন কিছু করা যায় কি না, যা করলে আরিয়ানের মনে হবে সে তার সৃষ্টি দিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারছে। সেই থেকেই এমন ভাবনা।’</p><p>ক্যানসার আক্রান্ত একটি শিশুর পাশে দাঁড়াতে আরিয়ানের এই আয়োজন। বিষয়টি নিয়ে বলতে গিয়ে নিশাত বলেন, ‘এই প্রদর্শনীর শিল্পী একজন শিশু, ক্রেতারাও ছিল শিশু এবং এখান থেকে পুরো অর্থও যাবে আরেকটি শিশুর কাছে। অর্থাৎ পুরো ব্যাপারটাই শিশুদের জন্য।’</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/6utlits0x7">সন্তানকে পরীক্ষায় ভালো ফল করতে যেভাবে সাহায্য করবেন</a></aside><h3>আরিয়ানের স্বপ্ন</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-08/wro6hukk/0.jpg"><figcaption>মা নিশাত হামিদের সঙ্গে আরিয়ান</figcaption></figure><p>প্রদর্শনী নিয়ে কথা হলো ব্যানকাটের ফাইন্যান্স কন্ট্রোলার আবু রায়হানের সঙ্গে। আরিয়ানের এই উদ্যোগ নিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতিটি শিশু যদি এভাবে সভানুভূতিশীল হতে শুরু করে, তবে সত্যিই এই পৃথিবী বদলে দেওয়া সম্ভব। মা–বাবার শিশুকে এভাবে গড়ে তুললে অন্যের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমেই প্রকৃত আনন্দ খুঁজে পায়।’</p><p>নিজের সৃজনশীলতা কাজে লাগিয়ে একটি শিশুর পাশে দাঁড়াতে পেরে ছোট্ট আরিয়ানের কেমন লাগছে? জানতে চাইলে আরিয়ান বলল, ‘খুব ভালো লাগছে যে আমি আমার আঁকা দিয়ে আমার মতোই একজনের পাশে থাকতে পারছি।’</p><p>নিশাত হামিদ জানালেন, প্রদর্শনী থেকে উঠে এসেছে ৩০ হাজার টাকা। এর সঙ্গে আরও কিছু টাকা যোগ করে ব্যানকাটের তত্ত্বাধানে তুলে দেওয়া হবে ক্যানসার আক্রান্ত শিশু শোভার হাতে।</p><p>সামনের দিনগুলোয় এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলে জানাল আরিয়ান।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/wod6qhsbnr">সন্তানকে প্রাণোচ্ছল করে তুলতে ১৬৫ বছর আগের এই সুইডিশ রহস্য মেনে চলুন </a></aside>

অক্টোবর ৮, ২০২৬
খুচরা ব্যাংকিং ব্যবসা বিক্রি করবে, গ্রাহকদের চিঠি দিয়ে জানাল স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড
খুচরা ব্যাংকিং ব্যবসা বিক্রি করবে, গ্রাহকদের চিঠি দিয়ে জানাল স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড

চিঠিতে বলা হয়েছে, গ্রাহকদের সেবা পেতে অসুবিধা হবে না। বিক্রির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে ১৮-২৪ মাস সময় লাগতে পারে।

অক্টোবর ৮, ২০২৬
পাঠকের ছবি (৮ অক্টোবর ২০২৬)
পাঠকের ছবি (৮ অক্টোবর ২০২৬)

<p>পাঠকের পাঠানো ছবি থেকে বাছাই করা ছবি নিয়মিত প্রকাশিত হয় নাগরিক সংবাদে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-08/r9cxocix/200.jpg"><figcaption> কাপ্তাই লেকের বুকে পর্যটক নিয়ে ছুটে চলছে নৌযান। ছবিটি ৪ অক্টোবর ২০২৬ রাঙামাটির বড়গাং এলাকা থেকে তোলা</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-08/8nrs31b9/201.jpg"><figcaption>নদীর ওপারেই ভারত। বৈকারী সীমান্ত, সাতক্ষীরা। ছবিটি সম্প্রতি তোলা</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-08/8p0xaphz/202.jpg"><figcaption>আড়িয়াল খাঁ নদে ঘেরজাল দিয়ে মাছ শিকার। ছবিটি মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার আলীপুর গ্রামের মোল্লারহাট এলাকার আড়িয়াল খাঁ নদের পাড় থেকে ৬ অক্টোবর ২০২৬ তোলা</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-08/z57gil2g/203.jpg"><figcaption> ভোরের সোনালি আলোর সঙ্গে ফুটে আছে জল নীলাম্বরী ফুল। বেতুয়া, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ। ছবিটি সম্প্রতি তোলা</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-08/1ip6w9t7/204.png"><figcaption>ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে বাসটি রাস্তার মাঝখানে, তাই সৃষ্ট হয়েছে জ্যাম। বাসটির হেলপার রাস্তায় চলমান অন্য গাড়িগুলোকে বাসটিকে টেনে নিরাপদ স্থানে রাখার অনুরোধ করলেও কেউ কথা শোনেনি। ঘটনাটি বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতাল থেকে পর্যবেক্ষণ করা। শ্যামলী, ঢাকা, ৭ অক্টোবর ২০২৬</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-08/bs5folt1/205.jpg"><figcaption> নদীর বুকে নৌকার সারি, তীরে ব্যস্ত জনপদ—বাংলার নদীকেন্দ্রিক জীবনযাত্রার এক চিরচেনা ছবি। নদী শুধু আমাদের প্রকৃতির অংশ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের জীবিকা, বাণিজ্য ও ঐতিহ্য। নদীকে বাঁচিয়ে রাখাই হতে পারে এই সম্ভাবনাময় জীবনধারা এগিয়ে নেওয়ার অন্যতম পথ। বড় স্টেশন মোলহেড, চাঁদপুর। ছবিটি সম্প্রতি তোলা</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-08/0sjt2vg9/206.jpg"><figcaption>নীরব মলচত্বর। মলচত্বর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ছবিটি সম্প্রতি তোলা</figcaption></figure>

অক্টোবর ৮, ২০২৬
বিড়ালের খোঁজে এলাকায় মাইকিং, সন্ধান দিতে পারলে পুরস্কার
বিড়ালের খোঁজে এলাকায় মাইকিং, সন্ধান দিতে পারলে পুরস্কার

৪ অক্টোবর তাঁদের পুরুষ বিড়াল ‘মিরুশি’ নিখোঁজ হয়। এটির গায়ের রং সাদা ও হালকা ধূসরমিশ্রিত। শরীর ও লেজে ঘন লম্বা পশম রয়েছে।

অক্টোবর ৮, ২০২৬
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে তিন শতাংশেরও বেশি
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে তিন শতাংশেরও বেশি

চট্টগ্রামে বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার জন্য দুবাইভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। এদিকে, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা দাবি করেছে, তারা সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। চোখ রাখুন বিবিসি বাংলার লাইভ পাতায়...

অক্টোবর ৮, ২০২৬
আপত্তি ও বিক্ষোভের মুখেই দুবাইয়ের কোম্পানির হাতে চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল
আপত্তি ও বিক্ষোভের মুখেই দুবাইয়ের কোম্পানির হাতে চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলেও এটি নিয়ে বিদেশি কোম্পানির সাথে চুক্তি করার কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। কিন্তু বন্দরের শ্রমিক কর্মচারীদের বিরোধিতার মুখে সরকার সেই কার্যক্রম স্থগিত করেছিল।

অক্টোবর ৮, ২০২৬
মৎস্যকন্যা বা জলপরী মিথ কোথা থেকে এলো?
মৎস্যকন্যা বা জলপরী মিথ কোথা থেকে এলো?

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মারমেইড বা জলপরী নিয়ে মানুষের আগ্রহের যেন অন্ত নেই। বিশ্বের ভিন্ন ভিন্ন মহাদেশের কোথাও জলপরী, কোনো দেশে মারমেইড, কোথাও মাদার অফ ওয়াটার বা জলের মা, কোথাও সাইরেন, আবার কোনো কোনো জায়গায় এটি মৎস্যকন্যাসহ নানা নামে পরিচিত।

অক্টোবর ৮, ২০২৬
ইসরায়েলে সাত অক্টোবর হামলা নিয়ে নেতানিয়াহু সরকারের ভূমিকায় প্রশ্ন উঠছে কেন?
ইসরায়েলে সাত অক্টোবর হামলা নিয়ে নেতানিয়াহু সরকারের ভূমিকায় প্রশ্ন উঠছে কেন?

ইসরায়েলে তিন বছর আগে যা ঘটেছে তার জন্য কোনো ব্যক্তিগত দায়িত্ব নিতে বা রাষ্ট্রীয় তদন্তের নির্দেশ দিতে অস্বীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

অক্টোবর ৮, ২০২৬
বলিউড অভিনেতা নানা পাটেকর মারা গেছেন
বলিউড অভিনেতা নানা পাটেকর মারা গেছেন

বলিউড অভিনেতা নানা পাটেকর ৭৫ বছর বয়সে মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার সকালে গোয়া রাজ্যে তার মৃত্যু হয়।

অক্টোবর ৮, ২০২৬
পত্রিকা: 'প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে নিরাপত্তাসহ একগুচ্ছ বার্তা নিয়ে দিল্লিতে ত্রিবেদী'
পত্রিকা: 'প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে নিরাপত্তাসহ একগুচ্ছ বার্তা নিয়ে দিল্লিতে ত্রিবেদী'

তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরকে সামনে রেখেই একগুচ্ছ বার্তা নিয়ে দিল্লি গেছেন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী; চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ২৯ শতাংশ; এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়ে নির্ধারণ করলেও তা মানছেন না বিক্রেতারা— এ সংক্রান্ত খবর ঢাকা থেকে প্রকাশিত পত্রিকায় গুরুত্ব পেয়েছে।

অক্টোবর ৮, ২০২৬
ভারতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে বিরোধী দলগুলো ও তরুণরা কেন আন্দোলনে?
ভারতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে বিরোধী দলগুলো ও তরুণরা কেন আন্দোলনে?

ককরোচ জনতা পার্টি, বামপন্থি দল ও সংগঠনগুলোর যে বিক্ষোভ ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে গত সপ্তাহ ধরে শুরু হয়েছে, তাদের সঙ্গে ইন্ডিয়া জোটের দলগুলোও যুক্ত হয়েছে।

অক্টোবর ৮, ২০২৬
সাইবেরিয়ায় রুশ ল্যাব কর্মীর মৃত্যু কি প্লেগেই হয়েছে? প্লেগ কি জটিল রোগ?
সাইবেরিয়ায় রুশ ল্যাব কর্মীর মৃত্যু কি প্লেগেই হয়েছে? প্লেগ কি জটিল রোগ?

সাইবেরিয়ার প্লেগ গবেষণা কেন্দ্রের একজন রুশ কর্মীর মৃত্যুর পর ওই ল্যাব থেকে বিরল রোগের জীবানু ছড়িয়ে পড়ার জল্পনা উস্কে দিয়েছে। যদিও কর্তৃপক্ষ এখন আর এ সংযোগ স্বীকার করছে না। তাহলে ওই ল্যাব কর্মী ঠিক কীভাবে মারা গেলেন? আর প্লেগ নিয়ে মানুষের কতটা চিন্তিত হওয়া উচিত?

অক্টোবর ৮, ২০২৬
টানা তৃতীয়বার বিশ্বসেরা ২% গবেষক তালিকায় বেরোবির অধ্যাপক ফেরদৌস
টানা তৃতীয়বার বিশ্বসেরা ২% গবেষক তালিকায় বেরোবির অধ্যাপক ফেরদৌস

গবেষণার আন্তর্জাতিক মঞ্চে অনন্য কৃতিত্ব অর্জন করেছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান।

অক্টোবর ৮, ২০২৬
মোটরসাইকেল নিয়ে বিরোধে ঢাবির দুই হলে ছাত্রদল-শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে আহত ৪
মোটরসাইকেল নিয়ে বিরোধে ঢাবির দুই হলে ছাত্রদল-শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে আহত ৪

মোটরসাইকেল নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মাস্টারদা সূর্যসেন হল ও সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন।

অক্টোবর ৮, ২০২৬
দেশে প্রথমবার সরকারি ট্রেজারি বন্ড পুনঃক্রয় নিলাম
দেশে প্রথমবার সরকারি ট্রেজারি বন্ড পুনঃক্রয় নিলাম

সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনায় প্রথমবারের মতো সরকারি ট্রেজারি বন্ড পুনঃক্রয় বা ‘বাইব্যাক’ নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মাধ্যমে মেয়াদপূর্তির আগেই বাজার থেকে সরকারি সিকিউরিটিজ কিনে নেওয়ার কার্যক্রম শুরু করল সরকার।

অক্টোবর ৮, ২০২৬
বগুড়ায় ২ শিশুকে ধর্ষণ, আসামির ৬০ বছর কারাদণ্ড
বগুড়ায় ২ শিশুকে ধর্ষণ, আসামির ৬০ বছর কারাদণ্ড

বগুড়ার কাহালু উপজেলায় ছয় বছর বয়সী দুই শিশুকে ধর্ষণের দায়ে নুর ইসলাম (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে দুটি মামলায় ৩০ বছর করে মোট ৬০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

অক্টোবর ৮, ২০২৬
ইউক্রেনে রাশিয়ার গ্লাইড বোমা হামলায় নিহত ৩০
ইউক্রেনে রাশিয়ার গ্লাইড বোমা হামলায় নিহত ৩০

ইউক্রেনের ক্রামাতোরস্কে দুটি বেসামরিক বাসে রাশিয়ার ‘গ্লাইড বোমা’ হামলায় ৩০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।

অক্টোবর ৮, ২০২৬
চরফ্যাশনে ১৩০০ জেলের মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরণ শুরু
চরফ্যাশনে ১৩০০ জেলের মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরণ শুরু

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার জিন্নাগড় ইউনিয়নে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান উপলক্ষে মাছ ধরার নিষিদ্ধ সময়ে নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরণ শুরু হয়েছে। 

অক্টোবর ৮, ২০২৬
নোবিপ্রবিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-প্রযুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন
নোবিপ্রবিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-প্রযুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী তৃতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘মেশিন ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইমার্জিং টেকনোলজিস (এমআইইটি-২০২৬)’।

অক্টোবর ৮, ২০২৬
পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধে ফরহাদকে হত্যা করে বোন-ভগ্নিপতি, সন্দেহ পুলিশের
পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধে ফরহাদকে হত্যা করে বোন-ভগ্নিপতি, সন্দেহ পুলিশের

রাজধানীর শাহজাহানপুরে মোহাম্মদ ফকরুল হাসান ফরহাদকে (৪৪) গলা কেটে হত্যার ঘটনায় নিহতের বোন ও ভগ্নিপতিকে গ্রেপ্তার করেছে শাহজাহানপুর থানা পুলিশ। পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জের ধরে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে সন্দেহ করছে পুলিশ।

অক্টোবর ৮, ২০২৬