<p>একটা সময় ছিল আমাদের এখানে সাবুদানাকে মনে করা হতো শুধু রোগীর পথ্য। অথচ এই সাবুদানা দিয়েই কিন্তু বানানো যায় মজাদার নানা পদ। রেসিপি দিয়েছেন <strong>অসিত কর্মকার</strong></p><h3>উপকরণ</h3><ul><li><p>সাবুদানা: আধা কাপ</p></li><li><p>টাটকা ছানা: ১ কাপ (পানি ঝরানো ও হাত দিয়ে ভালো করে মসৃণ করে নেওয়া)</p></li><li><p>চিনি: আধা কাপ (স্বাদ অনুযায়ী কমবেশি হতে পারে)</p></li><li><p>কনডেন্সড মিল্ক: ৩-৪ টেবিল চামচ</p></li><li><p>ঘি: ২ টেবিল চামচ</p></li><li><p>এলাচগুঁড়া: আধা চা-চামচ</p></li><li><p>জাফরান: সাজানোর জন্য</p></li></ul><h3>প্রণালি</h3><ul><li><p>সাবুদানা ভালো করে ধুয়ে ১ ঘণ্টা অল্প পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। </p></li><li><p>সেই সাবুদানা সেদ্ধ করে পানি ছেঁকে নিন। </p></li><li><p>ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে রাখুন, যাতে দানাগুলো একটার গায়ে অন্যটা লেগে না যায়।</p></li><li><p>ওই কড়াইতে ঘি দিয়ে মসৃণ করে রাখা ছানা ও চিনি যোগ করুন। </p></li><li><p>কম আঁচে ছানা ও চিনি অনবরত নাড়তে থাকুন, যতক্ষণ না চিনি গলে ছানার সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। </p></li><li><p>খেয়াল রাখবেন ছানা যেন খুব বেশি শুকিয়ে না যায় বা শক্ত না হয়ে যায়। </p></li><li><p>ছানা নরম থাকা অবস্থায় সেদ্ধ সাবুদানা, কনডেন্সড মিল্ক কড়াইতে দিয়ে দিন। </p></li><li><p>সব উপকরণ একসঙ্গে কম আঁচে ৩-৪ মিনিট রান্না করুন। </p></li><li><p>যতক্ষণ না মিশ্রণটি কড়াইয়ের গা ছেড়ে দলা পাকিয়ে আসছে। </p></li><li><p>মিশ্রণটি নামানোর ঠিক আগে এলাচগুঁড়া ছড়িয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। </p></li><li><p>এবার গ্যাস বন্ধ করে মিশ্রণটি একটি থালায় ঢেলে হালকা ঠান্ডা হতে দিন। </p></li><li><p>মিশ্রণটি পুরোপুরি ঠান্ডা করবেন না, সামান্য গরম বা ঈষদুষ্ণ থাকতেই হাতে অল্প ঘি মাখিয়ে অল্প অল্প অংশ নিয়ে গোল গোল করে লাড্ডুর আকারে গড়ে নিন। </p></li><li><p>ওপরে একটি করে কিশমিশ বা পেস্তাকুচি দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।</p></li></ul><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/recipe/d0q2mqm786">তুলসী–মধুর চায়ের রেসিপি</a></aside>
চুক্তি সই, এনসিটি পরিচালনা করবে ডিপি ওয়ার্ল্ড
নিহত নারীদের মধ্যে দুজন পোশাক কারখানার শ্রমিক ও একজন গৃহবধূ। তাঁদের কেউ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন, কেউবা ঋণগ্রস্ত হয়ে ‘আত্মহত্যা’ করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
<p>চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি ইউনিয়নের ঘোড়ামরা এলাকায় উপকূল থেকে আনুমানিক তিন বছর বয়সী এক শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার বেলা তিনটার দিকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। তবে লাশ উদ্ধার হওয়া শিশুর পরিচয় জানা যায়নি।</p><p>নৌ পুলিশ জানায়, আজ দুপুর ১২টার দিকে প্রথমে স্থানীয় বাসিন্দারা শিশুর লাশ দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। শিশুটির শরীরে কোনো কাপড় ছিল না। ধারণা করা হচ্ছে, চার থেকে পাঁচ দিন আগে সাগরের পানিতে পড়ে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।</p><p>কুমিরা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ছমিউদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, শিশুটির পরিচয় পাওয়া যায়নি। চার থেকে পাঁচ দিন আগে তার মৃত্যু হতে পারে। এ ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হবে।</p>
আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টের আগে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, ওয়ানডে বা টি–টুয়েন্টি নয়, টেস্ট ক্রিকেটটাই তিনি বেশি খেলতে চান।
<p>মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন কয়েক দিন আগে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডকে ইরানে আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।</p><p> এই নির্দেশনায় হামলা চালানোর কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচির উল্লেখ ছিল না এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। তবে মার্কিন ও ইসরায়েলি সূত্রগুলো জানাচ্ছে, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই এবং সম্ভবত ইসরায়েলি নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগেই এ হামলা চালানো হতে পারে।</p><p> আগামী তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে আবার যুদ্ধ শুরু হলে তা মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, যুদ্ধের প্রভাবে তেলের দাম বেড়ে যেতে পারে।</p><p> পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে বলেন, প্রতিরক্ষা দপ্তরের কাজ হলো প্রেসিডেন্টের কাছে সামরিক বিকল্প তৈরি ও তা উপস্থাপন করা।</p><p> হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের কাছে সব ধরনের পথ খোলা রয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে তিনি সেগুলোর প্রয়োগ করতে পারেন।</p><p>ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। ইরানের অর্থনীতি ভঙ্গুর অবস্থায় থাকায় যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। ইরান ধ্বংস হয়ে গেছে, এখন দুটি উপায়ের যেকোনো একটির মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে—সহজ পথ অথবা কঠিন পথ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতেই সব কার্ড রয়েছে এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যা ভালো, সেটাই করবেন।</p><p>সংবাদমাধ্যম দ্য আটলান্টিক গতকাল বুধবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই ইরানে হামলা চালানোর বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছেন।</p><p>প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার ক্যাম্প ডেভিডে ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা দল যুদ্ধ এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে কয়েক ঘণ্টা ধরে বৈঠক করেছে।</p><p>একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন, বৈঠকের একটি অংশে ইরানে আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর সম্ভাব্য বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।</p><p>বৈঠকের পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, এতে ‘দীর্ঘমেয়াদি’ পররাষ্ট্রনীতি পরিকল্পনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।</p><p>মার্কিন কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় কোনো অগ্রগতি হয়নি। কাতারি মধ্যস্থতাকারীরা এখনো যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা প্রস্তাবের বিষয়ে ইরানি জবাবের অপেক্ষায় রয়েছেন। ওই প্রস্তাবে পারমাণবিক কর্মসূচিতে ছাড় দেওয়ার দাবি অন্তর্ভুক্ত ছিল।</p><p>দ্বিতীয় একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেন, ‘ইরানে আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করা নিয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে। নির্বাচনের আগে হামলা চালানোর সম্ভাবনা খুব বেশি নেই, তবে আমরা তা উড়িয়ে দিচ্ছি না। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর হামলার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।’</p><h3>পর্দার আড়ালে কী হচ্ছে </h3><p>প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গতকাল ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলেছেন। টানা কয়েক সপ্তাহ কথা না হওয়ার পর কয়েক দিনের মধ্যে তাঁদের এটি দ্বিতীয় ফোনালাপ।</p><p>এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু ‘৭ অক্টোবরের গণহত্যার শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ ও শ্রদ্ধা’ নিয়ে কথা বলেছেন।</p><p>প্রথম ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানান, নেতানিয়াহু ইরান ইস্যুতে তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে বৈঠক করার পরেই ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর ফোনে আলাপ হয়।</p><p>যুদ্ধবাজ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু গত সোমবার মার্কো রুবিওর সঙ্গে কথা বলেছিলেন।</p><p>ইরানে যদি আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু হয়, তবে তা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে করবে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এতে অংশ নেবে।</p><p>দুই ইসরায়েলি কর্মকর্তা দাবি করেন, ইরানি শাসকগোষ্ঠী বর্তমানে চরম হতাশ ও আতঙ্কে রয়েছে, যার ফলে তারা আগে হামলা চালিয়ে বসতে পারে।</p><p>ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানান, ইরানিরা ইতিমধ্যে দুটি আকস্মিক হামলার শিকার হয়েছে। তারা তৃতীয় কোনো আকস্মিক হামলার মুখোমুখি হতে চায় না।</p><p>যুদ্ধ আবার শুরু হলে তা ইসরায়েলি নির্বাচনেও প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, প্রতিশোধ হিসেবে ইরান দেশটিতে শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারে।</p><p>নতুন করে এই উত্তেজনা বৃদ্ধি কিংবা কেবল টান টান উত্তেজনা বা জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হওয়াটাও রাজনৈতিকভাবে নেতানিয়াহুকে সুবিধা দিতে পারে। নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে তাঁকে ঘিরে বিরোধীদের আক্রমণ কমে যেতে পারে।</p>
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেওয়া ঠাকুরগাঁও-১ (সদর-রুহিয়া-ভূল্লী) আসনের উপনির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের পর প্রার্থীরা প্রচার শুরু করেছেন।
<p>আবাসন ব্যবসায়ীদের দ্বারা গ্রাহক হয়রানি বন্ধে নিয়মিত নজরদারি ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার পাশাপাশি আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (রাজউক) নির্দেশনা দিয়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।</p><p> বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।</p><p>বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, রাজধানীতে অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে ভবন নির্মাণ এবং আবাসিক এলাকায় অনুমোদনবহির্ভূত বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধে রাজউককে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি।</p><p>আজকের বৈঠকে রাজউকের সার্বিক কার্যক্রম, চলমান আবাসন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও নিরীক্ষা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়। পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের প্রাপ্য প্লট দ্রুত নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি অতীতে প্লট বরাদ্দে সংঘটিত অনিয়ম ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। নতুন ভূমিনির্ভর প্রকল্পের পরিবর্তে বহুতল অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণের মাধ্যমে আবাসন সুবিধা সম্প্রসারণের বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলেছে কমিটি।</p><p>পরিকল্পিত ও টেকসই নগরায়ণের লক্ষ্যে সমন্বিত ইউটিলিটি ব্যবস্থা ও ভূগর্ভস্থ কেব্ল ব্যবস্থা, নতুন বাণিজ্যিক ভবনে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত ওয়াশরুম ও নামাজের স্থান নিশ্চিতকরণ এবং ঢাকার লেক সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি ঢাকা শহরে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সম্প্রসারণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সুপারিশ করা হয়।</p><p>বৈঠকে নিরীক্ষা কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে আধুনিক ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে নিরীক্ষা দ্রুত সম্পন্ন ও অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির তাগিদ দেওয়া হয়।</p><p>কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কমিটির সদস্যদের মধ্যে হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, তাহসিনা রুশদীর, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া ও মোহাম্মদ কামাল হোসেন বৈঠকে অংশ নেন।</p><p>বৈঠকে কমিটির সদস্য, সিএজি কার্যালয়, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, রাজউক, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।</p>
<p>কবিতা লিখছেন, অনুবাদ করছেন, প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য নিয়ে গবেষণা করছেন, আবার কখনো প্রবন্ধ লিখছেন, কখনো মঞ্চে পারফর্ম করছেন, কখনো ভিজ্যুয়াল আর্ট নিয়ে কাজ করছেন। অ্যান কারসনকে ঠিক কোন পরিচয়ে চেনা যায়, সেটাই যেন একটা ধাঁধা!</p><p> চার দশকের বেশি সময় ধরে সাহিত্যের চেনা ছক ভেঙে নিজের মতো করে লিখে চলেছেন এই কানাডীয় লেখক। ২০২৬ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারও উঠেছে তাঁর হাতে।</p><p> কারসনের বিশেষত্ব কেবল তাঁর লেখার ধরনে নয়। তাঁর লেখা পড়লে মনে হয়, চিন্তা করাটাও একটা সাহিত্যিক কাজ হতে পারে। গবেষণা আর সৃজনশীল লেখা যে আলাদা দুটো জগৎ নয়, বরং পাশাপাশি হাঁটতে পারে, সেটাই তিনি বারবার দেখিয়েছেন।</p><p> তাঁর লেখায় তথ্য আছে, আবার কল্পনাও আছে। আছে ইতিহাস, আছে কবিতা, আছে ব্যক্তিগত অনুভূতি। সব মিলিয়ে তাঁর বই যেন একই সঙ্গে সাহিত্য ও শিল্পের সমাবেশ।</p><p> প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য কারসনের লেখার বড় একটি অংশজুড়ে আছে। তবে পুরোনো লেখকদের তিনি কেবল গবেষণার বিষয় হিসেবে দেখেন না। বরং তাঁদের জীবনকে জানার চেষ্টা করেন।</p><p>স্যাফো, সিমোনিদিস, সফোক্লিস কিংবা ইউরিপিদিস, হাজার হাজার বছর আগের এসব লেখকের কথা তিনি আজকের মানুষের জীবন ও অনুভূতির সঙ্গে মিলিয়ে দেখেছেন।</p><p>প্রেম, আকাঙ্ক্ষা, শোক, একাকিত্ব, বিচ্ছেদ কিংবা মৃত্যু, মানুষের এসব অনুভূতি তো আর পুরোনো হয় না। তাই প্রাচীন গ্রিক সাহিত্যের শব্দও কারসনের লেখায় নতুন করে কথা বলেছে।</p><p>তাঁর কাছে প্রাচীন সাহিত্য কোনো জাদুঘরে তুলে রাখা পুরোনো জিনিস নয়। বরং এমন এক জগৎ, যেখান থেকে আজও নতুন নতুন অর্থ বের করা যায়।</p><p>কারসনের লেখায় একটি বিষয় বারবার ফিরে আসে, দূরত্ব। দুজন মানুষের মধ্যে দূরত্ব, এক ভাষা থেকে আরেক ভাষার দূরত্ব, জীবিত ও মৃতের দূরত্ব, কিংবা যা জানা যায়, আর যা কখনোই পুরোপুরি জানা সম্ভব নয়, এসব নিয়েই তিনি ভাবেন।</p><p>তাঁর কাছে ভালোবাসা মানেই কাউকে পাওয়া নয়। বরং কখনো কখনো না-পাওয়াটাও ভালোবাসার বড় অংশ। মানুষের জীবনের যে শূন্যতাগুলো থাকে, আমরা সাধারণত সেগুলোকে এড়িয়ে যাই, কারসন সেখানেই কলম ধরেছেন। এই কারণেই তাঁর লেখায় না পাওয়া, নীরবতা ও শূন্যতার এত গুরুত্ব।</p><blockquote>প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য কারসনের লেখার বড় একটি অংশজুড়ে আছে। তবে পুরোনো লেখকদের তিনি কেবল গবেষণার বিষয় হিসেবে দেখেন না। বরং তাঁদের জীবনকে জানার চেষ্টা করেন।</blockquote><p>কার্সনের লেখার ধরনও বেশ মজার। কোথাও কবিতা, কোথাও প্রবন্ধ, কোথাও অনুবাদ, কোথাও উদ্ধৃতি; আবার হঠাৎ এমন কিছু, যা প্রচলিত বইয়ের ছকের সঙ্গে একেবারেই মেলে না।</p><p>খণ্ডিত লেখা, কোলাজ, হঠাৎ থেমে যাওয়া; এসব তাঁর কাছে নিছক স্টাইল নয়। এগুলোর মাধ্যমে তিনি স্মৃতি, ভালোবাসা, হারানো কিংবা আকাঙ্ক্ষার মতো জটিল বিষয়কে তুলে ধরতে চান।</p><p>ইরোস দ্য বিটারসুইট (১৯৮৬), অটোবায়োগ্রাফি অব রেড (১৯৯৮), দ্য বিউটি অব দ্য হাজব্যান্ড (২০০১), নক্স (২০১০) ও ফ্লোট (২০১৬); এসব বইয়ে তিনি বারবার দেখিয়েছেন, কবিতা বা বই দেখতে ঠিক কেমন হতে হবে, তার কোনো বাঁধাধরা নিয়ম নেই।</p><p>তাঁর কাছে লেখার ধরন কেবল সাজসজ্জা নয়। কী বলা হচ্ছে, আর কীভাবে বলা হচ্ছে, দুটোই তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ।</p><blockquote>কার্সনের লেখার ধরনও বেশ মজার। কোথাও কবিতা, কোথাও প্রবন্ধ, কোথাও অনুবাদ, কোথাও উদ্ধৃতি; আবার হঠাৎ এমন কিছু, যা প্রচলিত বইয়ের ছকের সঙ্গে একেবারেই মেলে না।</blockquote><p><strong>কেন এত গুরুত্বপূর্ণ কারসন?</strong></p><p>কারসনের লেখায় একদিকে আছে বুদ্ধিবৃত্তিক দোলাচাল, অন্যদিকে আছে আবেগের গভীরতা। তিনি কঠিন বিষয় নিয়ে লেখেন, কিন্তু কেবল জ্ঞান বিতরণের জন্য নয়। বরং পাঠককে ভাবানোর জন্য, ভাবনার জগতে নেওয়ার জন্য। তাঁর লেখা কখনো মজার, কখনো বিষণ্ন, কখনো একটু আবেগে ভাসানো।</p><p>তরুণ লেখক ও গবেষকদের ওপরও তাঁর প্রভাব পড়েছে। অনেকেই এখন সাহিত্য সমালোচনা, অনুবাদ, কবিতা ও সৃজনশীল লেখার সীমানা আলাদা করে দেখছেন না।</p><p>কারসনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা সম্ভবত এটিই, সাহিত্যে সব প্রশ্নের উত্তর থাকতেই হবে, এমন কোনো কথা নেই। বরং কখনো কখনো ভালো সাহিত্য এমন প্রশ্নই তৈরি করে, যার উত্তর খুঁজতে পাঠককে বই বন্ধ করার পরও ভাবতে হয়।</p><p>সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার এমন লেখকদেরই স্বীকৃতি দেয়, যাঁরা সাহিত্যের সম্ভাবনাকে একটু হলেও বড় করে দেন। অ্যান কারসন সেই কাজটি করেছেন নিজের মতো করে।</p><p>কবিতা ও গবেষণা, প্রাচীন ও আধুনিক সময়, চিন্তা ও অনুভূতি, সবকিছুর মাঝখানে তিনি তৈরি করেছেন নিজের এক অদ্ভুত সাহিত্য ভুবন। সেখানে ভাষা কেবল লেখার মাধ্যম নয়; ভাষা নিজেই হয়ে ওঠে ভাবনার খোরাক।</p>
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন