পরীক্ষা

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের স্থান পরিবর্তন, সময় একই আছে

অক্টোবর ২৯, ২০২৬
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের স্থান পরিবর্তন, সময় একই আছে
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের স্থান পরিবর্তন, সময় একই আছে
<p>এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬–এর ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানের বিজ্ঞপ্তিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আগামী শনিবার (৩১ অক্টোবর ২০২৬) বেলা ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে ফলাফল প্রকাশের ঘোষণা দেওয়া হবে। এর আগে ফলাফল প্রকাশের অনুষ্ঠানটি রাজধানীর সেগুনবাগিচার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে হওয়ার কথা ছিল।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/education/gdjtmpe5jp">প্রাথমিকে শিক্ষকতায় প্রকৌশলী-চিকিৎসক–এমফিল-পিএইচডিসহ ৩০ ধরনের ডিগ্রিধারীরা</a></aside><p>আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির প্রকাশিত সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন।</p><p>এদিকে এর আগে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অনলাইনে রেজাল্ট পোর্টাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যম ও মুঠোফোনে এসএমএস বা খুদে বার্তায় ফলাফল পাবেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ড বা পত্রিকা অফিসে কোনো ফলাফল পাওয়া যাবে না।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/education/higher-education/w10ysi0rr2">এআই যুগে গণিত শেখা কি জরুরি, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ জেনে নিন</a></aside><p>এ বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় গত ২ জুলাই। লিখিত পরীক্ষা ৮ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হয়। এবার নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ পরীক্ষার্থী অংশ নেন। অবশ্য পরীক্ষায় বেশ কিছুসংখ্যক পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/education/higher-education/5dp552hmbv">উন্নত ক্যারিয়ার গঠনে যে ১০ বিদেশি ভাষা শিক্ষা এগিয়ে রাখবে আপনাকে </a></aside>

Prothomalo

View more
সখীপুরে দুই বাক্স গ্রেনেডসদৃশ বস্তু উদ্ধার, গায়ে লেখা ‘ইস্ট পাকিস্তান পুলিশ, টাঙ্গাইল’
সখীপুরে দুই বাক্স গ্রেনেডসদৃশ বস্তু উদ্ধার, গায়ে লেখা ‘ইস্ট পাকিস্তান পুলিশ, টাঙ্গাইল’

বৃহস্পতিবার দুপুরে মাটি কাটার সময় বাক্স দুটি পান উপজেলার কালিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আশরাফ আলী ও তাঁর ছেলে।

অক্টোবর ২৯, ২০২৬
সুষ্ঠু নির্বাচনকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা করছে জামায়াত: রিজভী
সুষ্ঠু নির্বাচনকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা করছে জামায়াত: রিজভী

<p>সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই অনিয়মের অভিযোগ তুলে জামায়াতে ইসলামী একটি শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।</p><p> আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ডেমরার নবী টাওয়ারে বিএনপির প্রয়াত নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ ও সাবেক কাউন্সিলর বাদল সরদারের স্মরণে আয়োজিত দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিজভী এ কথা বলেন।</p><p> ঢাকা-৫ আসনের বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে জামায়াতের রাজনৈতিক ভূমিকার সমালোচনা করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা কারও নাম উল্লেখ না করে শেষ মুহূর্তে মনগড়া অনিয়মের অভিযোগ তোলা হচ্ছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নির্বাচনকে মানুষের কাছে হেয়প্রতিপন্ন করাই তাদের লক্ষ্য। তবে জনগণ সচেতন, অপপ্রচার চালিয়ে জামায়াত সফল হতে পারবে না।</p><p>উল্লেখ্য, ঠাকুরগাঁও–১ আসনে আজ উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। এই নির্বাচন নিয়ে ইসি সন্তুষ্ট।</p><p>সাবেক সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণা করে রিজভী বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি ছিলেন আপসহীন ও আদর্শবান সিপাহসালার। শত শত ভুয়া মামলা, রিমান্ডে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং কারাবাসে তাঁর স্বাস্থ্য ভেঙে পড়েছিল। চিকিৎসাবঞ্চিত করে তাঁকে তিলে তিলে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।</p><p>রুহুল কবির রিজভী আরও বলেন, শুধু সালাহউদ্দিন আহমেদ নন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া থেকে শুরু করে বহু নেতা-কর্মীকে এভাবে পরিকল্পিতভাবে নিপীড়ন করা হয়েছে।</p><p>অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা-৫ সংসদীয় আসনের প্রধান সমন্বয়কারী নবীউল্লাহ নবী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, বিএনপির স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন।</p><p>এ সময় বিএনপির স্বেচ্ছাসেবাবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি জাহিদুর রহমান, ছাত্রদলের সহসভাপতি তৌহিদুর রহমান আউয়ালসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।</p><p>আলোচনা শেষে প্রয়াত দুই নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ ও বাদল সরদারের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।</p>

অক্টোবর ২৯, ২০২৬
চলচ্চিত্রকার জাফর পানাহির আবারও কারাদণ্ড, সম্পদ বাজেয়াপ্ত
চলচ্চিত্রকার জাফর পানাহির আবারও কারাদণ্ড, সম্পদ বাজেয়াপ্ত

চলচ্চিত্রকার জাফর পানাহির আবারও কারাদণ্ড, সম্পদ বাজেয়াপ্ত

অক্টোবর ২৯, ২০২৬
বিমানের যান্ত্রিক ত্রুটি সারল ৫ ঘণ্টা পর, নারিতা থেকে ঢাকার পথে প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইট
বিমানের যান্ত্রিক ত্রুটি সারল ৫ ঘণ্টা পর, নারিতা থেকে ঢাকার পথে প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইট

<p>জাপানের নারিতা থেকে নির্ধারিত সময়ের পাঁচ ঘণ্টা বিলম্বে ঢাকার পথে রওনা দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ফ্লাইটটি ছাড়তে এই বিলম্ব হয়।</p><p> আজ বৃহস্পতিবার জাপানের স্থানীয় সময় রাত পৌনে ১১টার দিকে ফ্লাইটটি নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সফরে থাকা একজন সদস্য প্রথম আলোকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।</p><p>চার দিনের সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করার কথা ছিল। তবে উড়োজাহাজে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় নির্ধারিত সময়ে ফ্লাইটটি ছাড়তে পারেনি।</p><p>ত্রুটি সারানোর পর স্থানীয় সময় রাত সোয়া ১০টার দিকে উড়োজাহাজটি যাত্রার জন্য প্রস্তুত হয়। এরপর পৌনে ১১টার দিকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয় ফ্লাইটটি।</p><p>এর আগে বিকেল পাঁচটার দিকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস জানায়, প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিজি ৩৭৭ ফ্লাইটটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে নারিতা থেকে ঢাকার উদ্দেশে উড্ডয়নে বিলম্ব হচ্ছে। ত্রুটি নিরসনে বিমানের উড্ডয়নকর্মী ও প্রকৌশল দল কাজ করছিল।</p><p>প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ২৬ অক্টোবর জাপানের রাজধানী টোকিও পৌঁছান। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে এ সফরে যান তিনি। সফর শেষে আজ দেশে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/z16yzl6c0l">যান্ত্রিক ত্রুটিতে বিলম্ব হচ্ছে জাপান থেকে প্রধানমন্ত্রীর ঢাকামুখী ফ্লাইট</a></aside><p>পরে বিমানের জনসংযোগ বিভাগ রাত ৮টা ৩৪ মিনিটে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, কারিগরি ত্রুটি মেরামতের পর প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী ফ্লাইট বিজি ৩৭৭ জাপানের নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে নিরাপদে উড্ডয়ন করেছে।</p><p>বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, উড়োজাহাজটি বাংলাদেশ সময় রাত ৭টা ৫৫ মিনিটে উড্ডয়ন করে। ফ্লাইটটি ৩০ অক্টোবর রাত ৩টায় ঢাকায় অবতরণের কথা রয়েছে। বিমানের প্রকৌশলীরা ও জাপানের টেকনিশিয়ানরা ত্রুটি মেরামত করেন। এ সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং বিমানের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক উপস্থিত ছিলেন।</p>

অক্টোবর ২৯, ২০২৬
সার্বিয়াকে শিক্ষার্থীরা যেভাবে পুনরুদ্ধার করল
সার্বিয়াকে শিক্ষার্থীরা যেভাবে পুনরুদ্ধার করল

<p>দুই বছর আগের কথা, রাজনীতি নিয়ে আমার কোনো রকম উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল না। আমি তখন নিজের শহর নোভি সাদের ‘ফ্যাকাল্টি অব টেকনিক্যাল সায়েন্সেসে’ হিউম্যান রিকোর্স বিষয়ে পিএইচডি করছিলাম; স্বাভাবিক নিয়মেই কাটছিল জীবন।</p><p>কিন্তু ২০২৪ সালের নভেম্বরে নোভি সাদের সদ্য সংস্কার করা ট্রেন স্টেশনের ছাউনি ভেঙে পড়ে ১৬ জন মানুষের প্রাণ কাড়ল, আর সবকিছু বদলে গেল। মর্মন্তুদ এই ঘটনার প্রতিবাদে আমি রাস্তায় নেমে মিছিলে যোগ দিলাম। আমার মতো আরও অনেকেরই সেদিন মনে হয়েছিল—এবার সত্যিই একটা বড় পরিবর্তনের সময় এসেছে।</p><p>এটা কিন্তু কোনো এড়ানো-অসম্ভব দুর্ঘটনা ছিল না। কাঠামোগত দুর্নীতি আর বিচারহীনতার সংস্কৃতিই যে এই ধসের মূল কারণ, তা একেবারেই স্পষ্ট ছিল। অথচ একটি নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চালিয়ে নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার করার বদলে ন্যায়বিচারের দাবি তোলায় কর্তৃপক্ষ উল্টো আমাদের ওপর চড়াও হলো।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/8ibe9zoaba">লুলার বিজয় ইউরোপের আন্দোলনে যে কারণে উদ্দীপনা ছড়াল</a></aside><p>আমাদের নামানো হলো রাজপথে, চলল কাদা ছোড়াছুড়ি ও আক্রমণ; আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নীরব দর্শক হয়ে রইল। বাধ্য হয়ে আমরা আমাদের শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আশ্রয় নিলাম, অনুষদের ভবনগুলোতে নিজেদের অবরুদ্ধ করে দীর্ঘস্থায়ী লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিলাম।</p><p>সার্বিয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ উপেক্ষিত হয়ে এসেছে, কিন্তু আমাদের প্রতিবাদী সভাগুলোতে আমরা নিশ্চিত করেছি যেন তা মেনে চলা হয়। আন্দোলন যতই দানা বেঁধেছে, প্রতিটি প্রতিবাদের লক্ষ্য আমরা সুনির্দিষ্ট রেখেছি—একটি দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারকে আমাদের দাবি মানতে বাধ্য করা।</p><p>যেকোনো স্বাধীন দেশে যেসব দাবি স্বতঃস্ফূর্তভাবেই মেনে নেওয়া হতো, আমরা তেমন কিছু মৌলিক দাবিই করেছিলাম। যেমন নোভি সাদ রেলওয়ে স্টেশনের সংস্কার–সংক্রান্ত সব নথি কোনো রকম কাটছাঁট ছাড়া প্রকাশ করতে হবে এবং কাজের সঙ্গে যুক্ত সবাইকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। </p><p>রাজপথে আমাদের ওপর যারা হামলা চালিয়েছিল, তাদের গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু এসব দাবি মানার বদলে, রাষ্ট্রে বসে থাকা কর্তাব্যক্তিরা আমাদের ‘ফ্যাসিস্ট’ ও ‘দেশদ্রোহী’ আখ্যা দিতে শুরু করলেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-29/3ts61844/PJPNYLDLCJL4JMTVTP2SLYXJ6E.avif"><figcaption>সার্বিয়ার নির্বাচনের দৃশ্য </figcaption></figure><p>সোচ্চার হওয়ার কারণে আমাকে ব্যক্তিগতভাবেও নিশানা বানানো হলো। সংবাদমাধ্যম ও যোগাযোগের দায়িত্বে থাকায়, দেশের হাতে গোনা দু-একটি স্বাধীন গণমাধ্যমে আমাকে সাক্ষাৎকার দিতে হতো। এর পরিণতিতে শাসকের প্রচারযন্ত্র আমার বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার অর্থ পাচার এবং বিদেশি শক্তির সঙ্গে ষড়যন্ত্রের কাল্পনিক অভিযোগ আনল।</p><p>রাষ্ট্রদ্রোহের মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে অনেককে দেশ ছাড়তে হলো; কেউ কেউ ভুয়া ও বেআইনিভাবে সংগ্রহ করা প্রমাণের ভিত্তিতে মাসের পর মাস বন্দী রইলেন। </p><p>আমাদের অনেকের ওপর নজরদারি চালানো হলো, মা-বাবাকে হুমকি দেওয়া হলো, চাকরিচ্যুত করা হলো এবং সরকার সমর্থক ট্যাবলয়েডগুলোতে নাম ধরে টানাটানি করা হলো।</p><p>কিন্তু কোনো ভয়ভীতিই আমাদের দমাতে পারেনি, বরং আমাদের সংকল্পকে আরও দৃঢ় করেছে। শেষ পর্যন্ত যখন পরিষ্কার হয়ে গেল যে এই শাসকগোষ্ঠী কখনো নতি স্বীকার করবে না, তখন আমরা নিজেরাই নির্বাচনের ময়দানে নামার সিদ্ধান্ত নিলাম। </p><p>আর এভাবেই জন্ম নিল ‘স্টুডেন্ট লিস্ট’। উন্মুক্ত ও গণতান্ত্রিক আলোচনার মাধ্যমে আমরা সততা ও যোগ্যতাসম্পন্ন মানুষদের মনোনীত করলাম—এমন কিছু মানুষকে, যাঁরা এক স্তব্ধ হয়ে যাওয়া সমাজের স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।</p><blockquote>আমরা আমাদের দেশকে মুক্ত করেছি এবং সার্বিয়ার স্বাধীন নাগরিক হিসেবে আজ আমরা গর্বিত। এই ঐতিহাসিক পরিবর্তন যদি কোনো কিছু প্রমাণ করে থাকে, তা হলো—এই দেশ কোনো অস্পৃশ্য শাসকগোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। </blockquote><p>আমাদের লক্ষ্য ছিল স্পষ্ট ও অবিচল—আমরা চেয়েছিলাম সার্বিয়া চলুক আইনের শাসনে, স্বাধীন পাবলিক প্রতিষ্ঠান, স্বচ্ছতা এবং বিভাজিত এক জাতির মধ্যে পারস্পরিক সংহতির ওপর ভিত্তি করে।</p><p>পুরো সার্বিয়াজুড়ে আমরা হাজার হাজার কিলোমিটার পথ হেঁটেছি, নিরলস প্রচারণা চালিয়েছি—আর আমার বিশ্বাস, এর মাধ্যমেই সাধারণ মানুষের মনে ফের আশার আলো জ্বলে উঠেছিল। সরকারের কোনো মিথ্যা প্রচারণাই সেই ভেজালহীন তৃণমূল গণজোয়ারকে চেপে রাখতে পারেনি।</p><p>অবশেষে সেই সরকারের পতন ঘটেছে, আর এখন শুরু হচ্ছে সার্বিয়াকে নতুন করে গড়ে তোলার যৌথ প্রচেষ্টা। ঠিকই, সমালোচকেরা হয়তো তর্ক তুলতে পারেন যে আমরা সংসদে রাজনীতিতে অনভিজ্ঞদের বসিয়েছি।</p><p>কিন্তু আসল সত্য হলো, আমরা এমন মানুষদের সংসদীয় আসনগুলোতে এনেছি, যাঁরা দেশের সেবা করতে ব্যাকুল এবং শেখার মানসিকতা রাখেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-29/hhqeonx7/EZSWK7HSW5NGXJR2MJN6CU726A.avif"><figcaption>সার্বিয়ার শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের দৃশ্য</figcaption></figure><p>আমাদের নতুন নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মধ্যে রয়েছেন অধ্যাপক, চিকিৎসক, আইনজীবী, কৃষক ও বিজ্ঞানী—যাঁরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ। তাঁদের সবারই রয়েছে সৎ কাজ ও নাগরিক সততার এক দীর্ঘ উজ্জ্বল রেকর্ড। </p><p>প্রথাগত রাজনৈতিক পটভূমি তাঁদের না থাকতে পারে, কিন্তু বিগত দুই বছর ধরে তাঁরা সুশাসন ও জনআস্থা অর্জনের বাস্তবতা খুব কাছ থেকে অধ্যয়ন করেছেন। সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত না থাকার এই বিষয়টিই আসলে সার্বিয়ার মানুষকে আমাদের ওপর আস্থা রাখতে উৎসাহিত করেছে—তারা কোনো চটকদার বক্তৃতা বা কূটকৌশলে ভোট দেয়নি, তারা ভোট দিয়েছে সৎ ও নিষ্কলঙ্ক মানুষকে।</p><p>এই বিজয়ের পর আমরা রাতারাতি অলৌকিক কোনো পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি না, আর তেমন কিছু আশাও করছি না। আমরা সার্বিয়ার জন্য খুব স্বাভাবিক কিন্তু মৌলিক একটি পরিবর্তন চাই—একটি স্বাভাবিক, সঠিকভাবে কাজ করা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/xfjrk35an5">ইউরোপ কেন যুদ্ধের জন্য তৈরি হচ্ছে</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/c2xmhskb10">ট্রাম্প-পুতিনের ইউক্রেন ছকের বিরুদ্ধে কতক্ষণ টিকবে ইউরোপ</a></aside><p>আমাদের এই প্রথম কাজই হবে বিচারহীনতার সংস্কৃতি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া। আর তার জন্য প্রয়োজন শতভাগ স্বাধীন প্রসিকিউটর, সম্পূর্ণ স্বচ্ছ সরকারি কেনাকাটা বা ঠিকাদারি প্রক্রিয়া এবং যারা রাষ্ট্রীয় সম্পদকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি মনে করে লুটপাট করেছে, তাদের আইনগত জবাবদিহি নিশ্চিত করা।</p><p>দীর্ঘদিন ধরে আমাদের শিক্ষক, স্বাস্থ্যকর্মী ও সরকারি কর্মকর্তারা রাজনৈতিক দলের দাসত্ব করতে বাধ্য হয়েছেন এবং তাঁদের অভিজ্ঞতার কোনো মূল্যায়ন হয়নি। আমরা সেই নিষ্ঠাবান সরকারি কর্মচারীদের মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে চাই।</p><p>আমরা আমাদের দেশকে মুক্ত করেছি এবং সার্বিয়ার স্বাধীন নাগরিক হিসেবে আজ আমরা গর্বিত। এই ঐতিহাসিক পরিবর্তন যদি কোনো কিছু প্রমাণ করে থাকে, তা হলো—এই দেশ কোনো অস্পৃশ্য শাসকগোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। </p><p>এই দেশ আমাদের সবার। আমরা প্রমাণ করেছি মানুষের আত্মমর্যাদা নিয়ে কোনো আপস হয় না। এবার আসল কাজ শুরু। এই বিজয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ভয়ের রাজত্বের অবসান ঘটল। বহু বছরের মধ্যে এই প্রথম, আমরা মুক্ত বাতাসে শ্বাস নিতে পারছি।</p><ul><li><p><strong>নোভাক সিমিইন</strong> সার্বিয়ার স্টুডেন্ট লিস্ট আন্দোলনের সদস্য। <em>দ্য গার্ডিয়ান</em> থেকে সংক্ষেপে অনূদিত।</p></li></ul>

অক্টোবর ২৯, ২০২৬
মাটিতে ফেলে বুকে গুলি, মেয়ের সামনে বাবাকে হারানোর আর্তনাদ
মাটিতে ফেলে বুকে গুলি, মেয়ের সামনে বাবাকে হারানোর আর্তনাদ

মাটিতে ফেলে বুকে গুলি, মেয়ের সামনে বাবাকে হারানোর আর্তনাদ

অক্টোবর ২৯, ২০২৬
জেলে-কন্যা লিকার হাতে জাতীয় ব্যাডমিন্টনের শিরোপা, কাঁদলেন মা-মেয়ে
জেলে-কন্যা লিকার হাতে জাতীয় ব্যাডমিন্টনের শিরোপা, কাঁদলেন মা-মেয়ে

আজ ৪০তম জাতীয় ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপের নারী এককের ফাইনালে সাবেক চ্যাম্পিয়ন উর্মি আক্তারকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছেন লিকা পোদ্দার।

অক্টোবর ২৯, ২০২৬
আওয়ামী লীগের ‘ডিএনএ’র মধ্যে কোনো গণতন্ত্রের বীজ ছিল না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
আওয়ামী লীগের ‘ডিএনএ’র মধ্যে কোনো গণতন্ত্রের বীজ ছিল না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আওয়ামী লীগের ‘ডিএনএ’র মধ্যে কোনো গণতন্ত্রের বীজ ছিল না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অক্টোবর ২৯, ২০২৬
মধ্যবয়সী নারীর ব্যথা, কারণ কি মেনোপজ
মধ্যবয়সী নারীর ব্যথা, কারণ কি মেনোপজ

<p>২০২৬ সালের বিশ্ব মেনোপজ দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল—‘মধ্যবয়সে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা বা ক্রনিক পেইন।’ ১৮ অক্টোবর ছিল ‘বিশ্ব মেনোপজ দিবস’।</p><p>মেনোপজ নারীর জীবনের অবশ্যম্ভাবী একটি অধ্যায়। সাধারণত ৪৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সের মধ্যে নারীদের শরীরে হরমোন নিঃসরণ কমতে থাকায় নিয়মিত পিরিয়ড বন্ধ হয়ে যায়। </p><p>কিন্তু এই পরিবর্তন মানে কেবল প্রজনন ক্ষমতার সমাপ্তি নয়, বরং এটি নারীস্বাস্থ্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। এ বছর দিবসটির মূল বিষয় ছিল—মধ্যবয়সী নারীদের জয়েন্টে ও পেশিতে ব্যথা, পেশি শক্ত ও ক্ষয় হওয়া এবং বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার সঙ্গে মেনোপজের সম্পর্ক উন্মোচন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/health/0e0642s0f0">নারীরা কি অনিদ্রাজনিত সমস্যায় বেশি ভোগেন</a></aside><p>ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমে যাওয়ার কারণে এই বয়সে এসে অনেক নারী হাড়ের ক্ষয় বা অস্টিওপোরোসিস, গাঁটে ব্যথা এবং মাইগ্রেনের মতো সমস্যায় ভুগে থাকেন। এসব ব্যথা নারীদের দৈনন্দিন জীবন ও কর্মক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। </p><p>সামাজিক ট্যাবু বা সংকোচের কারণে আমাদের দেশের নারীরা প্রায়ই এই ব্যথা ও মানসিক চাপকে কেবল ‘বয়সের দোষ’ বলে সহ্য করেন। অথচ একটু সচেতনতা, সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপিসহ চিকিৎসকের পরামর্শে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এই কষ্ট বহুলাংশে কমাতে পারে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/health/klc6rnd6kr">যে ৩ কারণে পুরুষের চেয়ে নারীর দ্বিগুণ আয়রন প্রয়োজন</a></aside><h3>মেনোপজে যেসব সতর্কসংকেত অবহেলা করা যাবে না </h3><p>মেনোপজের সময় কিছু লক্ষণকে স্বাভাবিক পরিবর্তন মনে করে অবহেলা করা বিপজ্জনক হতে পারে। টানা ১২ মাস মাসিক বন্ধ থাকার পর যোনিপথে সামান্য রক্তপাত, রক্তমিশ্রিত স্রাব বা বাদামি স্রাব হলেও দ্রুত স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। </p><p>অতিরিক্ত বা দীর্ঘস্থায়ী রক্তপাত, তীব্র তলপেটের ব্যথা কিংবা অকারণে ওজন কমে যাওয়ার মতো লক্ষণও ভালো নয়।</p><p>এ ছাড়া বুকে ব্যথা, হঠাৎ শ্বাসকষ্ট, মুখ বেঁকে যাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া অথবা শরীরের এক পাশ দুর্বল হয়ে পড়লে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। এসব লক্ষণকে মেনোপজের উপসর্গ ভেবে অপেক্ষা করা উচিত নয়। </p><p>দীর্ঘস্থায়ী বিষণ্নতা, অসহনীয় উদ্বেগ কিংবা নিজের ক্ষতি করার চিন্তা দেখা দিলেও দ্রুত পেশাদার চিকিৎসকের সহায়তা নিতে হবে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/health/a28xkc5ipc">৪০-এর আগেই মেনোপজ? জানুন কারণ ও চিকিৎসা</a></aside>

অক্টোবর ২৯, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।