মধ্যরাত থেকে ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা

মা ইলিশ রক্ষা ও নিরাপদ প্রজনন সুনিশ্চিত করতে বুধবার (৭ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে শুরু হচ্ছে ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা।

সারা দেশ

View more
শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা
শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

Video news
সারা বিশ্ব
ভারতে ৬৫০ বছরের পুরোনো শাহী মসজিদের অংশ কেন ভাঙতে চায় প্রশাসন?
ভারতে ৬৫০ বছরের পুরোনো শাহী মসজিদের অংশ কেন ভাঙতে চায় প্রশাসন?

হিন্দু ধর্মের মেলার আয়োজনকে কেন্দ্র করে শাহী মসজিদের একটি অংশ সরিয়ে সড়ক প্রশস্ত করার কাজ শুরু হয়, আর তা নিয়েই বিরোধের সূত্রপাত। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, মেলার সময় বাড়তি যানবাহনের চাপ ও ভক্তদের যাতায়াত সহজ করার জন্য ওই সড়ক প্রশস্ত করা জরুরি।

ভারতে সাবান-শ্যাম্পুর প্যাকেটেও নিরামিষের চিহ্ন দেওয়ার নির্দেশ
ভারতে সাবান-শ্যাম্পুর প্যাকেটেও নিরামিষের চিহ্ন দেওয়ার নির্দেশ

সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট প্যাকেটজাতে সংশোধন বিধি জারি করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন নির্দেশ নাঅনুযায়ী, কোনো প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান আমিষজাত না নিরামিষজাত, তা প্যাকেটের গায়ে নির্দিষ্ট চিহ্নের মাধ্যমে জানাতে হবে।

তথ্যপ্রযুক্তি
ইজিবাইকের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে নারী পর্যটকের মৃত্যু
ইজিবাইকের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে নারী পর্যটকের মৃত্যু

কক্সবাজারে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক (টমটম) চলন্ত অবস্থায় চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে সীমা আক্তার নামে এক নারী পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।

‘আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই’
‘আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই’

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলামকে তার এলাকার ‘বড় ভাই’ পরিচয় দিয়ে এএসআই ইলিয়াস হোসাইন থানার কার্যক্রম ও তদন্তকাজে প্রভাব খাটান। তবে এ অভিযোগের সত্যতাও আলাদাভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ফ্লাইদুবাইয়ের কো-পাইলট একাই হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত
ফ্লাইদুবাইয়ের কো-পাইলট একাই হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত

ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটে সহকর্মীর ওপর হামলা ও বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত কো-পাইলট সম্ভবত একাই এই কাজ করেছিলেন। ইসরায়েলি সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে রবিবার সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।

মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা, ২ কিশোর গ্রেপ্তার
মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা, ২ কিশোর গ্রেপ্তার

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে রিকশাচালক মো. ফয়েজ আহাম্মদকে (৪৩) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

তুষারঝড়ে ফিরে যায় দুই দল, থামেননি শাকিল
তুষারঝড়ে ফিরে যায় দুই দল, থামেননি শাকিল

চারদিকে শুধু সাদা আর সাদা। তুষারের ঘন পর্দা ভেদ করে কয়েক মিটারের বেশি সামনে দেখা যাচ্ছিল না। হিমশীতল বাতাস শরীরের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল ঝড়ের গতিতে। পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটুসমান নরম বরফে ডুবে যাচ্ছিল।

নীল দহন
নীল দহন

টরন্টো শহরের শীতের আলাদা এক ভাষা আছে।সেই ভাষা শব্দে নয়, তুষারে লেখা। জানালার ওপারে নিরবচ্ছিন্ন সাদা ঝরনা নেমে আসে, রাস্তার আলো কুয়াশা আর বরফের ভেতর ম্লান হয়ে যায়, আর মানুষ বুঝতে শেখে, পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর নীরবতাও কখনো কখনো খুব জোরে কথা বলে।সেদিনও তেমনই এক সন্ধ্যা।বাইরে মাইনাস দশ ডিগ্রি। ফায়ারপ্লেসে জ্বলতে থাকা আগুনের লালচে আলো ঘরের দেয়ালে ছায়া এঁকে দিচ্ছিল। হাতে ধোঁয়া ওঠা কফির মগ। আমরা তিনজন বসে গল্প করছিলাম।সায়েম ভাই, আমাদের কোম্পানির সিনিয়র লিড ইঞ্জিনিয়ার। প্রবাসে এসে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়, যাদের ঘরে ঢুকলেই মনে হয় বহুদিন পর নিজের বাড়িতে ফিরেছি। ভাবিও ঠিক তেমনই। তার আন্তরিকতা কখনো অতিথিপরায়ণতা বলে মনে হয় না; মনে হয় বড় বোনের মমতা।কফির কাপ নামিয়ে ভাবি হঠাৎ আমার দিকে তাকালেন।—নীল, একটা কথা বলব?মৃদু হেসে বললাম,—বলুন, ভাবি।—রাগ করবে না তো?—আপনার ওপর রাগ করার সাহস আমার নেই।তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—এত বছর হয়ে গেল। ক্যারিয়ার হয়েছে, নিজের অবস্থান হয়েছে। কিন্তু নিজের জন্য কী করলে? একা একা আর কত দিন? বিয়ে করার কথা কখনো ভাবো না?আমি হেসে বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চাইলাম।—সবাইকে দিয়ে সবকিছু হয় নাকি, ভাবি?সায়েম ভাই চশমাটা খুলে টেবিলে রাখলেন।—তোমার এই কথাটাই আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়। সারা দিন অফিসে তোমাকে দেখি। কাজে মন, বইয়ে মন, গিটার বাজাও, ভ্রমণ করো। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, জীবন একেবারে গুছিয়ে নিয়েছ। অথচ দিনের শেষে তুমি একাই ফিরে যাও।একটু থেমে তিনি আবার বললেন,—কখনো কি কাউকে ভালোবেসেছিলে?ঘরটা হঠাৎ যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল।ফায়ারপ্লেসের কাঠে আগুন ফেটে ছোট্ট একটা শব্দ হলো।আমি উত্তর দিলাম না।জানালার ওপারে তাকিয়ে রইলাম। সাদা তুষারের ভেতর হঠাৎ ভেসে উঠল বহু বছরের পুরোনো আরেকটা আকাশ। অনেক দূরের একটা বিকেল। আমি ধীরে বললাম,—মানুষ কখনো কখনো একটা গল্প কাউকে বলে না। কারণ, গল্পটা বললে সে আবার সেই সময়ে ফিরে যায়।ভাবি মৃদুস্বরে বললেন,—আজ ফিরে যাও। আমরা শুনব।আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। কফির মগটা টেবিলে রেখে বললাম,—জানেন ভাবি, পৃথিবীর সব ভালোবাসা মিলনের গল্প নয়। কিছু ভালোবাসা শুধু নীরবে মানুষের ভেতরে বেঁচে থাকে। কারও কাছে কোনো দাবি করে না, কোনো অধিকারও চায় না। শুধু মানুষটাকে সারা জীবন বদলে দেয়। আমার গল্পটাও তেমন।আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগের কথা। তখন ঢাকার উত্তরায় থাকতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। বাবার পক্ষে নিয়মিত টাকা পাঠানো সম্ভব হতো না। টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা, বাসাভাড়া আর খরচ চালাতাম। উত্তরার একটা পুরোনো বাড়ির চিলেকোঠার ছোট্ট ঘর ছিল আমার ঠিকানা। ঘরটা বড় ছিল না। একটা খাট, একটা পড়ার টেবিল, বইয়ের তাক আর জানালার পাশে রাখা পুরোনো একটা গিটার। কিন্তু আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ছিল ছাদ।সন্ধ্যা নামার আগে পড়ন্ত রোদ যখন আকাশজুড়ে লালচে রং ছড়িয়ে দিত, আমি গিটার হাতে ছাদে উঠে যেতাম। কখনো বাজাতাম। কখনো বই পড়তাম। কখনো কিছুই করতাম না। শুধু আকাশ দেখতাম। হয়তো মানুষ একা থাকলে আকাশের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি কথা বলে।ঠিক এমনই এক বিকেলে প্রথম তাকে দেখি। আমাদের পাশের ছয়তলা বাড়ির একটি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল সে। অদ্ভুত শান্ত একটি মেয়ে। তার হাতে কোনো মোবাইল ছিল না। কোনো বইও নয়। সে শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। বাতাসে তার চুল উড়ছিল।কিন্তু আমাকে থামিয়ে দিয়েছিল তার চোখ। কিছু কিছু চোখ থাকে, যেগুলোকে সুন্দর বলা যায় না। কারণ, সুন্দর শব্দটা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।সেই চোখ দুটো যেন নিজের ভেতর একটা বিকেল লুকিয়ে রেখেছিল। আমি তার নাম জানতাম না। কখনো জানার চেষ্টাও করিনি। নিজের মনেই একটা নাম দিয়েছিলাম—‘সুনয়না’।নামটা শুধু আমার ছিল। আমার কল্পনার। আমার নীরবতার। তার বাস্তব নাম কী ছিল, তখনো জানতাম না।তার পর থেকে প্রতিদিন বিকেলে আমি অপেক্ষায় থাকতাম। ছাদে উঠতাম। আর কিছুক্ষণ পর সে এসে দাঁড়াত সেই বারান্দায়।আমাদের মধ্যে কখনো কথা হয়নি। চোখাচোখিও খুব কম। তবু মনে হতো, বিকেল নামার সঙ্গে সঙ্গে দুজনের জীবন অদৃশ্য কোনো সেতুতে এসে মিলেছে।কখনো তাকে অনুসরণ করিনি। তার সম্পর্কে খোঁজ নিইনি। কারণ, দূরত্বেরও একটা সৌন্দর্য আছে। সব মানুষকে কাছে গিয়েই জানতে হয় না। কিছু মানুষ দূর থেকেই হৃদয়ের ভেতর জায়গা করে নেয়।এভাবেই কেটে গেল কয়েক মাস। একদিন বিকেলে ছাদে উঠে দেখলাম, বারান্দাটা ফাঁকা। ভাবলাম, হয়তো কোথাও গেছে।পরদিনও এল না।তারপর আরও এক দিন।এক সপ্তাহ।এক মাস।ঋতু বদলে গেল।আকাশের রং বদলে গেল। কিন্তু সেই বারান্দায় আর কাউকে দেখা গেল না। বুঝলাম, কিছু অপেক্ষার কোনো উত্তর হয় না।তারপর ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষ এসে গেল। পড়াশোনা, প্রজেক্ট, ইন্টারভিউ—জীবন অন্যদিকে মোড় নিতে শুরু করল। তবু মাঝেমধ্যে বিকেলের আকাশ দেখলে মনে হতো, কোথাও যেন একটা বারান্দা এখনো খালি দাঁড়িয়ে আছে। আর সেখানে কেউ একজন আর কখনো ফিরে আসবে না।অফিসে যোগ দেওয়ার তিন সপ্তাহের মাথায় প্রথমবার তার সঙ্গে কথা হলো।সেদিন দুপুরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। কাচঘেরা অফিসের জানালায় বৃষ্টির ফোঁটাগুলো লম্বা দাগ টেনে নিচে নেমে আসছিল। ক্যাফেটেরিয়ায় বসে এক কাপ কফি হাতে বাইরে তাকিয়ে ছিলাম। হঠাৎ পাশে এসে কেউ বলল,—এই সিটটা খালি?মুখ তুলে তাকাতেই বুকের ভেতরটা অকারণ ধক করে উঠল।সে।উত্তরার সেই বারান্দার মেয়েটি।আমি সামান্য হাসলাম।—অবশ্যই।সে বসে কফির কাপ নামিয়ে বলল,—আমি নতুন। এখনো কাউকে তেমন চিনি না।—আমিও খুব পুরোনো নই।সেদিনের কথোপকথন ছিল খুব সাধারণ। অফিস, কাজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার যানজট; এর বেশি কিছু নয়। আশ্চর্যের বিষয়, কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলতে কোনো আয়োজন লাগে না। যেন বহুদিনের চেনা।তার নাম জানলাম, সুস্মিতা।আমি নামটা মনে রাখলাম। তবু নিজের ভেতরে সে রয়ে গেল অন্য নামে—‘সুনয়না’।এরপর ধীরে ধীরে পরিচয় বাড়ল।অফিস শেষে মাঝেমধ্যে সবাই মিলে চা খেতে যেতাম। কোনো প্রজেক্ট শেষ হলে পুরো টিম রাত পর্যন্ত কাজ করত। সেই সব দীর্ঘ সন্ধ্যায় সুস্মিতাকে নতুন করে চিনতে শুরু করলাম।সে খুব কম কথা বলত। অকারণ হাসত না। তবে কেউ সমস্যায় পড়লে সবার আগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত।একদিন জানতে পারলাম, সে রবীন্দ্রসংগীত শেখে।আরেক দিন শুনলাম, অবসরে জলরঙে ছবি আঁকে।আমি অবাক হয়ে ভাবলাম, মানুষকে দূর থেকে দেখলে তার সৌন্দর্য দেখা যায়; কাছে এলে দেখা যায় তার নীরবতা। আর নীরবতাই একজন মানুষকে সবচেয়ে আলাদা করে।সেদিন অফিস থেকে বেরোতে বেরোতে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। বৃষ্টি থেমেছে। রাস্তার বাতিগুলো ভেজা ডামারের ওপর হলুদ আলো ফেলছে। আমি বললাম,—কফি খাবেন?সে একটু ভেবে মৃদু হেসে বলল,—আজ খাওয়া যেতে পারে।ছোট্ট একটি ক্যাফেতে আমরা জানালার পাশে বসলাম। বাইরে গাড়ির আলো ভেজা রাস্তায় ভেঙে পড়ছিল।অনেকক্ষণ গল্প হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি, বই, সিনেমা, ভ্রমণ, প্রিয় ঋতু। কথার ফাঁকে হঠাৎ সে জিজ্ঞেস করল,—আপনি এত চুপচাপ কেন?আমি হেসে বললাম,—সবাই সব কথা বলতে পারে না।সে জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,—আমার মনে হয়, যারা কম কথা বলে, তাদের ভেতরে অনেক গল্প জমে থাকে।আমি উত্তর দিলাম না। সত্যিই আমার ভেতরে একটি গল্প ছিল। যার শুরু হয়েছিল উত্তরার এক ছাদের বিকেলে।বহুবার ভেবেছি, আজ বলব। বলব, কয়েক বছর আগে প্রতিদিন বিকেলে আমি এক অচেনা মেয়েকে আকাশ দেখতে দেখতাম। বলব, তার জন্যই আমি সন্ধ্যার অপেক্ষা করতাম। বলব, তাকে না জেনেই একটা নাম দিয়েছিলাম।কিন্তু মানুষের জীবনে কিছু মুহূর্ত আসে, যখন সত্যি কথাটাই সবচেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে। আমি পারলাম না। শুধু কফির কাপে আঙুল ঘুরিয়ে যেতে লাগলাম।ঠিক তখনই তার ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে তার মুখে খুব কোমল একটা হাসি ফুটে উঠল। সে ফোন ধরল। নরম গলায় বলল,—হ্যাঁ... আমি বের হচ্ছি... আর পাঁচ মিনিট।ফোন রেখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—আমাকে উঠতে হবে।আমি শুধু মাথা নাড়লাম।ক্যাফের দরজার বাইরে এসে দেখি, একটা গাড়ি ধীরে ধীরে এসে থামল। গাড়ি থেকে একজন নেমে ছাতা খুলে তার দিকে এগিয়ে এল। সুস্মিতার মুখে যে হাসি ফুটে উঠল, তাতে কোনো দ্বিধা ছিল না, কোনো অভিনয়ও নয়। সে মানুষটিকে এমন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দেখল, যেমন মানুষ নিজের আপনজনকে দেখে। বিদায় নেওয়ার আগে সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—কাল দেখা হবে।আমি বললাম,—ভালো থাকবেন।গাড়িটা ধীরে ধীরে দূরে মিলিয়ে গেল।আমি অনেকক্ষণ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলাম। বৃষ্টি আবার শুরু হয়েছে। ভেজা শহরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে হঠাৎ মনে হলো, কিছু স্বপ্ন ভাঙার শব্দ বাইরে শোনা যায় না। সেগুলো শুধু মানুষের ভেতরেই প্রতিধ্বনি তোলে।সেদিন রাতেই প্রথম বুঝেছিলাম, ভালোবাসা সব সময় কাউকে পাওয়ার নাম নয়। কখনো কখনো সময়মতো কিছু না বলার নামও ভালোবাসা।পরদিন অফিসে গিয়ে সুস্মিতাকে দেখলাম না। ভাবলাম, হয়তো ছুটিতে আছে।পরদিনও এল না।এরপর আরও কয়েক দিন কেটে গেল।কাজের ব্যস্ততা আমাকে ডেস্কে আটকে রাখলেও মনটা বারবার করিডরের দিকে চলে যেত। এক বিকেলে সাহস করে মানবসম্পদ বিভাগের এক সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করলাম,—সুস্মিতা কি ছুটিতে?তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—জানেন না? ওর স্বামীকে সিঙ্গাপুরে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। তাড়াহুড়ো করেই ও চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছে। যাওয়ার আগেই সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছে। আপনি সেদিন ক্লায়েন্ট মিটিংয়ে ছিলেন, তাই হয়তো দেখা হয়নি।আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি। অদ্ভুতভাবে বুকের ভেতর কোনো বিস্ফোরণ ঘটল না। শুধু একটা নিঃশব্দ শূন্যতা নেমে এল, যেন বহু বছর আগে উত্তরার সেই বারান্দাটা আবার একবার খালি হয়ে গেল।এরপর জীবন খুব দ্রুত বদলে গেল। কাজের চাপ বাড়ল। পদোন্নতি হলো। নতুন শহর, নতুন দায়িত্ব, নতুন দেশ। একসময় কানাডার একটা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব গ্রহণ করলাম। বন্ধুরা বলেছিল,—স্বপ্নপূরণ হয়ে গেল!হয়তো সত্যিই হয়েছিল। কিন্তু মানুষ বুঝতে শেখে, সব স্বপ্নের সঙ্গে সব আনন্দ আসে না। কিছু সাফল্য খুব নিঃসঙ্গও হয়।টরন্টোতে আসার পর প্রথম শীতেই আমি বুঝলাম, তুষার শুধু শহর ঢেকে দেয় না, মানুষের স্মৃতিকেও সাদা করে দিতে চায়। কিন্তু সব স্মৃতি ঢেকে যায় না। কখনো কখনো কোনো কফির গন্ধ, কোনো বিকেলের আলো কিংবা কোনো বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা একাকী মানুষের ছায়া হঠাৎ বহু বছর আগের দরজা খুলে দেয়। সেই দরজার ওপাশে এখনো দাঁড়িয়ে আছে উত্তরার সেই বিকেল।আর একটি নাম, যে নাম পৃথিবীর কেউ জানত না। শুধু আমি।সুনয়না।’ফায়ারপ্লেসের আগুন তখন ধীরে ধীরে নিভে আসছে। কথা শেষ করতেই ঘরজুড়ে দীর্ঘ নীরবতা নেমে এল। ভাবি কফির ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কাপটার দিকে তাকিয়ে রইলেন। সায়েম ভাই উঠে এসে আমার পাশে দাঁড়ালেন। তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—তাহলে তুমি তাকে কোনো দিন জানাওনি?আমি মৃদু হেসে মাথা নাড়ালাম।—না।—আফসোস হয় না?জানালার বাইরে তাকালাম। তুষার পড়ছে। প্রতিটি সাদা কণা নিঃশব্দে মাটিতে মিশে যাচ্ছে। আমি ধীরে বললাম,—আফসোস হয় সেই ভালোবাসার জন্য, যেটা কাউকে কষ্ট দিয়ে নিজের করতে হয়। আমার গল্পে তেমন কিছু ছিল না। সে তার জীবন নিয়ে সুখী ছিল। আমি কেন আমার অনুভূতির ভার তার কাঁধে চাপিয়ে দিতাম?ভাবি খুব আস্তে বললেন,—কিন্তু তুমি তো একা রয়ে গেলে।আমি হেসে উত্তর দিলাম,—মানুষ সব সময় কারও অভাবে একা থাকে না। কখনো কখনো একটি সুন্দর স্মৃতির সঙ্গেও সারা জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায়।ঘড়ির কাঁটা তখন রাত বারোটা ছুঁয়েছে। বাইরে তুষারপাত আরও ঘন হয়েছে। বিদায় নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়াতেই সায়েম ভাই আমার কাঁধে হাত রাখলেন।—নীল...—জি?—জীবনে যদি আবার কোনো বিকেল এসে দাঁড়ায়, এবার যেন চুপ করে থেকো না।আমি কোনো উত্তর দিলাম না। শুধু মৃদু হাসলাম।বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির জানালার বাইরে অসংখ্য তুষারকণা উড়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ মনে হলো, মানুষ আসলে কাউকে ভুলে যায় না। সে শুধু স্মৃতির সঙ্গে বসবাস করতে শিখে যায়।সেদিন রাতে ঘরে ফিরে বহুদিন পর জানালার পাশে দাঁড়ালাম। দূরে বরফে ঢাকা শহর ঘুমিয়ে আছে।অন্ধকার কাচে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে মনে হলো, সময় আমার চুলে রুপালি রং ছড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু উত্তরার সেই একফালি আকাশ এখনো কোথাও রয়ে গেছে।আমি চোখ বন্ধ করলাম। কল্পনায় আবার একটি বারান্দা ভেসে উঠল। সেখানে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখ আজও স্পষ্ট নয়। শুধু চোখ দুটো স্পষ্ট। আমি নিঃশব্দে বললাম,—ভালো থেকো, সুনয়না।জানালার ওপারে তুষার পড়তেই থাকল। আর আমি বুঝলাম, কিছু ভালোবাসার শেষ অধ্যায় মিলনে লেখা হয় না। সেগুলো লেখা থাকে নীরবতায়।উত্তরা, ঢাকা

কনসিলার, ব্লাশ আর নিউড লিপ: মাত্র ৩ প্রোডাক্টেই কীভাবে ন্যাচারাল গ্ল্যাম আনেন জাহ্নবী কাপুর
কনসিলার, ব্লাশ আর নিউড লিপ: মাত্র ৩ প্রোডাক্টেই কীভাবে ন্যাচারাল গ্ল্যাম আনেন জাহ্নবী কাপুর

মেকআপ মানেই যেন অনেকগুলো প্রোডাক্ট, ঘন্টার পর ঘন্টা প্রস্তুতি। কিন্তু বলিউড তারকা জাহ্নবী কাপুর সাম্প্রতি তার ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন নিজের বিউটি লুক তৈরির পেছনের গল্প। যেখানে তিনি বলেছেন মাত্র তিনটি ধাপে তার সাজ হয়ে উঠেছে পরিপাটি, ফ্রেশ ও নেচারাল।প্রতিদিনের মেকআপে খুব বেশি কিছু না করেও কীভাবে ফ্রেশ ও গোছানো দেখানো যায়, জাহ্নবীর এই রুটিন তারই সহজ উদাহরণ। আরও মজার বিষয়, মেকআপ ব্রাশ বা স্পঞ্জের ওপর খুব বেশি নির্ভর না করে আঙুল দিয়েই তিনি বেশির ভাগ প্রোডাক্ট ব্লেন্ড করেছেন। ফলে পুরো সাজটি যেমন দ্রুত করা যায়, তেমনি এর ফিনিশও থাকে বেশ স্বাভাবিক। তার সাজের মূল তিনটি বিষয় হচ্ছে সতেজ বেস, নরম গোলাপি ব্লাশ আর নিউড-পিঙ্ক ঠোঁট। View this post on Instagram A post shared by Janhvi Kapoor (@janhvikapoor) ভারী বেস নয়, শুরু হোক কনসিলার দিয়েজাহ্নবীর রুটিনের প্রথম ধাপ কনসিলার। পুরো মুখে ভারী ফাউন্ডেশন লাগানোর বদলে যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করছেন তিনি। চোখের নিচে সরাসরি অ্যাপ্লিকেটর দিয়ে অল্প প্রোডাক্ট নিয়ে আঙুলের সাহায্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে ত্বকের রং কিছুটা সমান দেখালেও মুখ ভারী হয়ে যাচ্ছে না। এই ধরনের মেকআপে ব্লেন্ড করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্তর বাড়ানো যায়, এমন কনসিলারই ভালো। একবারে বেশি না দিয়ে অল্প অল্প করে লাগানোই মূল কৌশল।গালে নরম গোলাপি আভাবেসের পর জাহ্নবী ব্যবহার করছেন সফট পিঙ্ক লিকুইড ব্লাশ। গালে সরাসরি অল্প ব্লাশ নিয়ে আঙুল দিয়ে ট্যাপ করে ব্লেন্ড করেছেন তিনি। ফলে গালে ভারী রঙের বদলে এসেছে হালকা, সতেজ আভা। এই লুকের জন্য ক্রিম বা লিকুইড ব্লাশ বেশ কার্যকর। কারণ অল্প অল্প করে রং বাড়ানো যায়, ফলে মুখে ব্লাশের দাগও স্পষ্ট থাকে না।ঠোঁটে নিউড-পিঙ্কজাহ্নবীর পুরো মেকআপের সঙ্গে ঠোঁটের রংও বেশ নরম। শেষ ধাপে তিনি ব্যবহার করেছেন নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। গালের গোলাপি আভা আর ঠোঁটের একই পরিবারের রং পুরো লুকটিকে করেছে আরও গোছানো। খুব ফ্যাকাশে বেইজ নিউডের বদলে গোলাপি, রোজি বা হালকা ব্রাউন আন্ডারটোনের নিউড বেছে নিলে ঠোঁট আরও স্বাভাবিক দেখাবে। দিনের সাজে লিপস্টিক পুরো ঠোঁটে না দিয়ে মাঝখানে অল্প লাগিয়ে আঙুল দিয়ে ছড়িয়ে দিলেও পাওয়া যাবে আরও নরম ফিনিশ।চোখে শুধু এক কোট মাসকারাজাহ্নবী যে তিনটি মূল ধাপ দেখিয়েছেন, সেখানে মাসকারা ছিল না। তাই এটি মূল রুটিনের অংশ নয়; চাইলে বাড়তি সংযোজন হিসেবে রাখা যায়। বিশেষ করে দিনের সাজ সন্ধ্যার দিকে নিতে চাইলে এক বা দুই কোট মাসকারাই যথেষ্ট। এতে চোখ কিছুটা বেশি স্পষ্ট হবে, কিন্তু পুরো মেকআপের স্বাভাবিক মেজাজ নষ্ট হবে না।ভ্রু থাকুক নেচারালএই লুকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভ্রু। খুব গাঢ় করে আঁকার বদলে যেখানে ফাঁকা আছে, শুধু সেখানে হালকা করে ভরাট করাই যথেষ্ট। এরপর স্পুলি দিয়ে ভ্রু আঁচড়ে নিলে রংটা নরম হয়ে যাবে। এ জন্য পেন্সিল ব্যবহার করা যেতে পারে। লক্ষ্য হবে ভ্রুকে স্পষ্ট করে আঁকা নয়, বরং একটু গোছানো দেখানো।ত্বক যেন ত্বকের মতোই দেখায়জাহ্নবীর মেকআপের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এটাই। নিজের ত্বকের রং পুরোপুরি ঢেকে ফেলার চেষ্টা নেই। ভারী ফাউন্ডেশনের বদলে প্রয়োজনমতো কনসিলার ব্যবহার করায় ত্বকের স্বাভাবিক টেক্সচারও দেখা যায়। এই লুক করতে গিয়ে সবচেয়ে সহজ ভুল হতে পারে বারবার কভারেজ বাড়ানো। যেখানে প্রয়োজন শুধু সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করে থেমে যাওয়াই ভালো। এতে মেকআপ থাকবে হালকা, আর মুখও দেখাবে আরও স্বাভাবিক।ব্রাশ নয়, আঙুলেই ব্লেন্ডজাহ্নবীর রুটিন থেকে সবচেয়ে সহজে নেওয়া যায় যে কৌশল, সেটি হলো আঙুল দিয়ে মেকআপ ব্লেন্ড করা। কনসিলার ও ব্লাশের মতো লিকুইড বা ক্রিম প্রোডাক্ট অল্প করে আঙুলে নিয়ে ত্বকে ট্যাপ করে লাগালে দ্রুত কাজ হয় এবং প্রোডাক্টের পরিমাণও সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিশেষ করে ব্যস্ত সকালে এই পদ্ধতি বেশ সুবিধাজনক। একগাদা ব্রাশ বের করার দরকার নেই, আবার অতিরিক্ত মেকআপ করার ঝুঁকিও কমে।জাহ্নবীর তিন ধাপের সহজ রুটিনপুরো রুটিনকে একেবারে সহজ করে বললে, কনসিলার, ব্লাশ, নিউড লিপ। প্রথমে অল্প কনসিলার দিয়ে ত্বকের প্রয়োজনীয় অংশ সমান করুন। এরপর গালে নরম গোলাপি আভা দিন। সবশেষে নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। সব প্রোডাক্টই হালকা হাতে ব্যবহার করে আঙুল দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করতে হবে। এর সঙ্গে আরও একটু সাজানো লুক চাইলে যোগ করা যায় মাসকারা ও হালকা ভ্রু ডেফিনিশন। তবে মূল সৌন্দর্যটা থাকবে কম প্রোডাক্টে, হালকা হাতে এবং ত্বকের স্বাভাবিকতা বজায় রাখায়।জাহ্নবী কাপুরের সাম্প্রতিক মেকআপ রুটিন শেষ পর্যন্ত খুব সাধারণ একটি কথাই মনে করিয়ে দেয়। দৈনন্দিন গ্ল্যামের জন্য সবসময় অনেক কিছু দরকার হয় না। ত্বককে সমান করা, গালে একটু রং আর ঠোঁটে সামান্য উষ্ণতা এই তিনটিই যথেষ্ট হতে পারে। আসল কৌশল হলো মেকআপের স্তর হালকা রাখা এবং ত্বককে ত্বকের মতোই থাকতে দেওয়া।

ফরমাল পোশাকে গ্ল্যামারাস দেখালেন কিয়ারা
ফরমাল পোশাকে গ্ল্যামারাস দেখালেন কিয়ারা

ফ্যাশনের দুনিয়ায় কিয়ারা আদভানির সবচেয়ে বড় শক্তি তার বহুমুখী স্টাইল সেন্স। রেড কার্পেটের ঝলমলে গ্ল্যামার, ফটোশুট লুক কিংবা দৈনন্দিন পোশাক-প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের মতো করে স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করতে জানেন এই অভিনেত্রী। কখনো শাড়ি বা অন্য কোনো ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাকে তিনি হয়ে ওঠেন মোহময়ী, আবার কখনো পশ্চিমা পোশাকে ফুটিয়ে তোলেন আধুনিকতার ছাপ। তার সাম্প্রতিক ফটোশুটের লুকটিও সেই বহুমুখী ফ্যাশন ভাবনারই আরেকটি উদাহরণ। এবার কিয়ারার পছন্দ ছিল স্ট্রাকচার্ড পাওয়ার স্যুট। ক্যামেল-বেইজের একরঙা এই সাজে ছিল টেইলারিংয়ের নিখুঁত ছাপ, পুরুষালি পোশাকের অনুপ্রেরণা এবং নারীর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি-সবকিছুর সুন্দর সমন্বয়। পুরো লুকটি যেন দেখিয়ে দিল, পাওয়ার ড্রেসিং মানেই শুধু কঠোর বা ফরমাল হওয়া নয়, সঠিক কাট, রং ও স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে সেটিই হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত গ্ল্যামারাস। কিয়ারার স্যুটের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্ট্রাকচার্ড ওয়েস্টকোট। শরীরের উপরের অংশের সঙ্গে সুন্দরভাবে মানানসই এই ওয়েস্টকোটে ছিল গভীর ভি-নেকলাইন। সামনে একই ক্যামেল-বেইজ রঙের ছোট ছোট বোতামের সারি পোশাকটিতে এনে দিয়েছে পরিপাটি ফিনিশিং। ওয়েস্টকোটের ভেতরে কিয়ারা পরেছিলেন দুই রঙের বেইজ ও সাদা শার্ট। শার্টটির উষ্ণ বেইজ রঙের মূল অংশ ওয়েস্টকোটের সঙ্গে মিশে গেলেও নজর কেড়েছে এর ওভারসাইজড সাদা কলার। সঙ্গে ছিল স্টাইলিশ ফ্রেঞ্চ কাফ, যা পুরো পোশাকে এনে দিয়েছে খানিকটা ক্লাসিক ফরমাল আবহ। এর ওপর ছিল একই রঙের একটি স্ট্রাকচার্ড জ্যাকেট। টেইলারড শোল্ডার, পরিষ্কার ল্যাপেল এবং নিখুঁত কাটিংয়ের কারণে জ্যাকেটটি কিয়ারার সিলুয়েটকে আরও সুস্পষ্ট করে তুলেছে। নিচে ছিল একই ক্যামেল-বেইজ শেডের হাই-ওয়েস্টেড ওয়াইড-লেগ ট্রাউজার্স। প্যান্টের বাড়তি ভলিউম একদিকে যেমন স্বাচ্ছন্দ্য এনেছে, অন্যদিকে পুরো পোশাকটিকে দিয়েছে আধুনিক ও বিলাসবহুল আবহ। প্রচলিত টাইয়ের বদলে কিয়ারার গলায় দেখা গেছে চিকন বেইজ নেকটাই। কলারের নিচে পরিপাটি করে গুঁজে রাখা এই টাই পুরুষদের ক্লাসিক টেইলারিংয়ের ছোঁয়া এনে দিয়েছে নারীর পাওয়ার স্যুটে। পুরো পোশাকে থাকা সূক্ষ্ম প্লেড প্যাটার্নও লুকটিকে একঘেয়ে হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছে। জুতার ক্ষেত্রেও টোনাল স্টাইলিংয়ের পথেই হেঁটেছেন কিয়ারা। পায়ে ছিল উটের রঙের পয়েন্টেড স্টিলেটো পাম্প। সূচালো অগ্রভাগের এই জুতা তার পায়ের রেখাকে আরও দীর্ঘ দেখিয়েছে এবং মাথা থেকে পা পর্যন্ত একরঙা বিন্যাসটিও অটুট রেখেছে। অ্যাক্সেসরিজে রেখেছিলেন একবারে ছিমছাম । একজোড়া সোনালি স্টেটমেন্ট কানের দুল এবং মানানসই একটি আংটিতেই নজর কেড়েছেন। এর সঙ্গে এভিয়েটর সানগ্লাস যোগ করে কিয়ারা পুরো লুকে এনেছেন আরও দৃঢ় ভাব। সানগ্লাসের উপস্থিতিই আত্মবিশ্বাসী বার্তাটিকে আরও জোরালো করেছে। চুল ও মেকআপেও ছিল পরিমিতির ছাপ। পোশাকের কাটিং ও টেইলারিংকে লুকের মূল আকর্ষণ করে তুলতে কিয়ারা তার লম্বা, ঘন বাদামি চুল হালকা ঢেউ খেলানো এবং কিছুটা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে রেখেছেন। মেকআপে ছিল সফট-গ্ল্যাম আবহ- সুবিন্যস্ত ভ্রু, উষ্ণ টোনের আইশ্যাডো এবং নুড-গোলাপি লিপস্টিক। কিয়ারার এই লুকটি প্রমাণ করে, পাওয়ার ড্রেসিংয়ের আসল শক্তি পোশাকে যতটা, তার চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসে। ক্যামেল-বেইজের শান্ত রং, নিখুঁত টেইলারিং, পুরুষালি টেইলারিংয়ের অনুপ্রেরণা  এই লুকে কিয়ারা তৈরি করেছেন এমন এক ফ্যাশন স্টেটমেন্ট, যা একই সঙ্গে স্মার্ট, আধুনিক ও নজরকাড়া। এসএকেওয়াই

ঘুম ঠিক না হলে কী হয়? জানুন সুস্থ থাকার সহজ উপায়
ঘুম ঠিক না হলে কী হয়? জানুন সুস্থ থাকার সহজ উপায়

ঘুম শরীর ও মনের পুনরুদ্ধারের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের ভেতরে শুরু হয় নানা জটিলতা, যা ধীরে ধীরে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেকেই ঘুমকে অবহেলা করেন, অথচ সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি হচ্ছে ভালো ঘুম। যখন ঘুম ঠিকমতো হয় না, তখন শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে সহজেই সর্দি-কাশি বা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঘুমের ঘাটতি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায়, যা অতিরিক্ত খাওয়া ও ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। শুধু তাই নয়, নিয়মিত কম ঘুম মানে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যাওয়া। মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও এর প্রভাব ভয়াবহ। ঘুম কম হলে মন খারাপ লাগে, মনোযোগে ঘাটতি আসে, কাজের উদ্যম কমে যায়। অনেক সময় হতাশা, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা তৈরি হয়। শিক্ষার্থী বা কর্মজীবীদের ক্ষেত্রে এটি সরাসরি কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়। তবে সুস্থ থাকার জন্য ঘুম ঠিক রাখার কিছু সহজ উপায় অনুসরণ করা যায়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং জেগে ওঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। রাতে ঘুমানোর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা উচিত — মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপের আলো ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের ক্ষরণে বাধা দেয়। শোবার ঘরকে ঠান্ডা, অন্ধকার ও শান্ত রাখা ঘুমের মান বাড়ায়। কফি বা চা রাতের বেলা এড়িয়ে চলাই ভালো। দিনের বেলা হালকা ব্যায়াম ও সকালের রোদে কিছুক্ষণ সময় কাটানো ঘুমে সহায়তা করে। আর ঘুমানোর আগে ভারী খাবার না খাওয়াও জরুরি। ঘুমকে যদি গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তাহলে শরীর একসময় সিগন্যাল দিতে শুরু করবে — মাথা ভার, মেজাজ খারাপ, স্মৃতিশক্তি দুর্বল ইত্যাদি নানা রকম সমস্যা দেখা দেবে। তাই সুস্থ থাকতে হলে শুধু খাদ্য, ব্যায়াম বা ওষুধ নয় — একটি পরিপূর্ণ ঘুমই হতে পারে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।

দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সংকট: জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ
দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সংকট: জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ

বাংলাদেশে আবারও শুরু হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের নতুন সংকট। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা শহরে একটানা লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, এমনকি হাসপাতালের রোগীরাও অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তীব্র গরম ও অসহনীয় তাপদাহের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই ভুগছেন। শহরাঞ্চলে ফ্যান, এসি ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গরমে হাঁসফাঁস করছেন মানুষ। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে পানির পাম্প চলতে না পারায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, দিনে প্রায় ৬-৮ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর ফিরে আসছে না। বিশেষ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ছোট কারখানাগুলো এই বিদ্যুৎ সংকটে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ছোট দোকানদাররা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ সময় ফ্রিজ বন্ধ থাকায় খাবারদাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আইটি ও অনলাইনভিত্তিক কাজেও সমস্যা হচ্ছে, কারণ ইন্টারনেট রাউটার, কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি চালাতে বিদ্যুৎ অপরিহার্য। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং আয়-রোজগারে বড় ধাক্কা লাগছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, গ্রীষ্ম মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে জেনারেশন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস সংকটের কারণে পুরো উৎপাদন করতে পারছে না। অন্যদিকে আমদানি নির্ভর কয়লা ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সাময়িক এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে লোডশেডিং কমে আসবে। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, কতদিন এমন দুর্ভোগ চলবে? বিশেষ করে যেসব এলাকায় দিনে ৮-১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না, তাদের জন্য এ আশ্বাস কতটা কার্যকর হবে — তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এবং এর সমাধানে স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিকল্প জ্বালানি উৎস যেমন সৌর ও নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে গুরুত্ব না দিলে প্রতি বছরই এ ধরনের সংকটের পুনরাবৃত্তি হবে। এ অবস্থায় মানুষ চায় বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও দ্রুত সমাধান। বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন আর এক নিত্যকার দুর্ভোগে পরিণত না হয় — সেই প্রত্যাশাই করছে সারাদেশ।

Follow us

Top week

দুই বছর পর ফিরল গুড়পুকুরের মেলা
জাতীয়

দুই বছর পর ফিরল গুড়পুকুরের মেলা

News অক্টোবর ১, ২০২৬ 0

Rss feed news

হত্যার দুই বছর পর কবর থেকে সেলিম খান ও তাঁর ছেলের লাশ উত্তোলন
হত্যার দুই বছর পর কবর থেকে সেলিম খান ও তাঁর ছেলের লাশ উত্তোলন

<p>হত্যার দুই বছর পর কবর থেকে তোলা হয়েছে আলোচিত সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম খান ও তাঁর ছেলে চিত্রনায়ক শান্ত খানের লাশ। ৭ অক্টোবর তাঁদের লাশ তোলা হয়। বিস্তারিত ভিডিও প্রতিবেদনে…</p><figure></figure>

অক্টোবর ৭, ২০২৬
গেরিলা কায়দায় যন্তর মন্তরে যাওয়ার চেষ্টা, রাহুল-প্রিয়াঙ্কাকে পাঁজাকোলা করে তুলে নিয়ে গেল পুলিশ
গেরিলা কায়দায় যন্তর মন্তরে যাওয়ার চেষ্টা, রাহুল-প্রিয়াঙ্কাকে পাঁজাকোলা করে তুলে নিয়ে গেল পুলিশ

আজকের অভিযানের খবর পুলিশের কাছে ছিল না। ‘ইন্ডিয়া’ জোটও তা ঘোষণা করেনি। তাই জমায়েতের খবর পেয়ে পুলিশ জনপথ ঘিরে ফেলে।

অক্টোবর ৭, ২০২৬
১৩ মাসের বাচ্চাকে ২ লাখ টাকায় বিক্রি, দাদা-দাদিসহ পাঁচজন গ্রেপ্তার
১৩ মাসের বাচ্চাকে ২ লাখ টাকায় বিক্রি, দাদা-দাদিসহ পাঁচজন গ্রেপ্তার

এ ঘটনায় শিশুটির মা রোজিনা বেগম বাদী হয়ে মানব পাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে আজ সকালে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন।

অক্টোবর ৭, ২০২৬
ছুটে আসছিল স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ, যেভাবে রক্ষা পেল বাংলাদেশের স্যাটেলাইট
ছুটে আসছিল স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ, যেভাবে রক্ষা পেল বাংলাদেশের স্যাটেলাইট

স্যাটেলাইটের কাছ দিয়ে কোনো বস্তু যাওয়ার সময় সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি হয়। ২০০৯ সালে রাশিয়ার অকেজো একটি স্যাটেলাইটের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্যাটেলাইটের সংঘর্ষ হয়েছিল। এতে দুটি স্যাটেলাইটই ধ্বংস হয়ে যায়।

অক্টোবর ৭, ২০২৬
কুষ্টিয়ায় ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে দুই যুবককে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ
কুষ্টিয়ায় ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে দুই যুবককে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ

পরিবার দুটির অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন কুষ্টিয়া জেলা ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক উল ইসলাম। তাঁর দাবি, পুলিশের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ সঠিক নয়।

অক্টোবর ৭, ২০২৬
গ্রাম থেকে জাতিসংঘের মঞ্চে: ১৪ বছরের মানবিক উদ্যোগের আন্তর্জাতিক যাত্রা
গ্রাম থেকে জাতিসংঘের মঞ্চে: ১৪ বছরের মানবিক উদ্যোগের আন্তর্জাতিক যাত্রা

ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ক্যাপ্টেন এ কে এম গোলাম কিবরিয়া (সিআইপি) গত ২১ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাতিসংঘ ও ইউএনজিএ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন।

অক্টোবর ৭, ২০২৬
‘আফসোস, ভালো রেজাল্ট করলেও আমাদের সময় কেউ এমন আয়োজন করেনি’
‘আফসোস, ভালো রেজাল্ট করলেও আমাদের সময় কেউ এমন আয়োজন করেনি’

‘স্বপ্ন দেখো, জীবন গড়ো’ স্লোগানে সারা দেশের ৬৪টি জেলায় প্রথম আলোর আয়োজনে ও শিখোর পৃষ্ঠপোষকতায় এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে।

অক্টোবর ৭, ২০২৬
অণুর ডান–বাম রহস্য সমাধান করে রসায়নে নোবেল
অণুর ডান–বাম রহস্য সমাধান করে রসায়নে নোবেল

<p>প্রকৃতিতে সবকিছু সব সময় পুরোপুরি সমান থাকে না। মাঝেমধ্যে সামান্য এদিক-ওদিক হয়। কিন্তু সেই ছোট্ট পার্থক্য বারবার বাড়তে থাকলে একসময় সেটিই হয়ে উঠতে পারে বড় কোনো পরিবর্তনের কারণ। অণুর জগতেও এমন ঘটনা ঘটে। একই রাসায়নিক পদার্থের দুটি অণু দেখতে হুবহু একই রকম হতে পারে। অথচ একটি হতে পারে অন্যটির আয়নার প্রতিবিম্ব। পার্থক্য শুধু এটুকুই। কিন্তু এই সামান্য পার্থক্যই মাঝেমধ্যে খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। একটি অণু কাজে লাগতে পারে ওষুধ তৈরিতে, অন্যটি হয়ে উঠতে পারে ক্ষতিকর।</p><p>এই রহস্যের সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ২০২৬ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ফরাসি বিজ্ঞানী অঁরি কাগান এবং জাপানি বিজ্ঞানী কেনসো সোআই। তাঁদের গবেষণা দেখিয়েছে, রাসায়নিক বিক্রিয়ায় শুরুতে থাকা সামান্য অসমতাকে কীভাবে অনেক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া যায়। এমনকি একটি অণু কীভাবে নিজের মতো আরও অণু তৈরি হতে সাহায্য করতে পারে, সেটিও তাঁরা দেখিয়েছেন। রসায়নের জগতে আপাতদৃষ্টিতে ছোট এই ঘটনাগুলো কীভাবে বড় হয়ে ওঠে, তাঁদের কাজ আমাদের সেই রহস্য বুঝতে সাহায্য করেছে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/chemistry/q58rea3bv3">রসায়নের ডান–বাম রহস্য সমাধান করে নোবেল পেলেন দুই বিজ্ঞানী</a></aside><blockquote>ওষুধ বানানোর সময় অণুর একটি রূপ হয়তো জাদুর মতো রোগ সারিয়ে দিল; কিন্তু প্রতিবিম্ব রূপটি কোনো কাজ তো করবেই না, উল্টো শরীরের চরম সর্বনাশ করে ফেলতে পারে!</blockquote><h2><strong>দুই</strong></h2><p>একটা সহজ উদাহরণ দিয়ে বিষয়টা আরও ভালোভাবে বোঝার চেষ্টা করি। নিজের দুই হাতের দিকে তাকান। ডান হাত ও বাঁ হাত দেখতে হুবহু একরকম। কিন্তু ডান হাতের তালুর ওপর বাঁ হাতের তালুটা ঠিকমতো বসানোর চেষ্টা করে দেখুন, কিছুতেই মিলবে না। এরা একে অপরের আয়নার প্রতিচ্ছবি হলেও, পুরোপুরি এক জিনিস নয়।</p><p>রসায়নের জগতেও এমন অদ্ভুত ব্যাপার ঘটে। কিছু অণু আছে, যাদের ঠিক ডান ও বাঁ হাতি রূপ থাকে। এরা দেখতে একই রকম হলেও আয়নার প্রতিবিম্বের মতো উল্টো। বিজ্ঞানের ভাষায় এদের বলে কাইরাল অণু। আর এই যমজ রূপগুলোকে বলে এনানসিওমার।</p><p>সবচেয়ে বড় মুশকিল হলো, আমাদের শরীর এই যমজ অণুগুলোকে একভাবে দেখে না। ওষুধ বানানোর সময় অণুর একটি রূপ হয়তো জাদুর মতো রোগ সারিয়ে দিল; কিন্তু প্রতিবিম্ব রূপটি কোনো কাজ তো করবেই না, উল্টো শরীরের চরম সর্বনাশ করে ফেলতে পারে!</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/mub6c9hk/2.png"></figure><p>ষাট দশকের থ্যালিডোমাইড নামে ঘুমের ওষুধের কথাই ধরুন। এই ওষুধের একটা রূপ চমৎকার কাজ করত ঠিকই, কিন্তু এর প্রতিবিম্ব রূপটার কারণে হাজার হাজার শিশু মারাত্মক জন্মগত ত্রুটি নিয়ে পৃথিবীতে এসেছিল।</p><p>অণুর এই ডান ও বাঁ দিকের পার্থক্য যে শুধু ‘দেখতে কেমন’ তার মধ্যে আটকে নেই। বরং শরীরে এটা কতটা ভয়ংকর প্রভাব ফেলতে পারে, বিজ্ঞানীরা সেদিন খুব ভালোভাবেই তা টের পেয়েছিলেন।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/75gs6oo148">নোবেল পেয়ে কেমন কাটল ডাইসারোথের প্রথম দিন, দেখুন ছবিতে</a></aside><blockquote>কিছু অণু আছে, যাদের ঠিক ডান ও বাঁ হাতি রূপ থাকে। এরা দেখতে একই রকম হলেও আয়নার প্রতিবিম্বের মতো উল্টো। বিজ্ঞানের ভাষায় এদের বলে কাইরাল অণু।</blockquote><p>এরপর থেকেই রসায়নবিদদের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়, ল্যাবে কীভাবে এমন বিক্রিয়া ঘটানো যায়, যেখানে অণুর দুটি রূপ তৈরি না হয়ে শুধু আমাদের দরকারি রূপটাই তৈরি হবে! তবে কাজটা সহজ ছিল না।</p><p>এই গল্পের শুরু আরও অনেক আগে। ১৮৪০-এর দশকে ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর টারটারিক অ্যাসিড নিয়ে কাজ করছিলেন। সে সময় তিনি খেয়াল করলেন, এই অ্যাসিডের ক্রিস্টালগুলোর মধ্যে দুটো আলাদা রূপ আছে। সেগুলো ঠিক একটি অন্যটির প্রতিবিম্ব। পাস্তুর খুব সাবধানে চিমটার সাহায্যে এই দুই ধরনের স্ফটিক আলাদা করলেন। এরপর পানিতে গলিয়ে দেখলেন এক অদ্ভুত ব্যাপার! একটি দ্রবণ আলোকে ডান দিকে বাঁকিয়ে দিচ্ছে। প্রথমটি আলোকে যতটা ডানদিকে বাঁকিয়ে দিচ্ছে, দ্বিতীয়টি ঠিক ততটাই বাঁকাচ্ছে বাঁ দিকে। কিন্তু দুটোকে একসঙ্গে মেশালে আলোর গতিপথ আর বদলাচ্ছে না। যেন একটি অন্যটির শক্তিকে বাতিল করে দিচ্ছে। এভাবেই বিজ্ঞানীরা প্রথম বুঝতে পারলেন, অণুগুলোরও মানুষের মতো ডান ও বাঁ হাতি রূপ বা কাইরালিটি আছে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/wnyjwe6ge7">ফান্ডের জন্য আবেদন লেখার সময় এল নোবেল জয়ের খবর</a></aside><blockquote>১৮৪০-এর দশকে ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর টারটারিক অ্যাসিড নিয়ে কাজ করছিলেন। সে সময় তিনি খেয়াল করলেন, এই অ্যাসিডের ক্রিস্টালগুলোর মধ্যে দুটো আলাদা রূপ আছে।</blockquote><p>সবচেয়ে বড় বিস্ময় লুকিয়ে আছে আমাদের দেহের ভেতর। এই ডান-বাঁয়ের খেলায় প্রকৃতি যেন ইচ্ছে করেই একপক্ষ নিয়ে নিয়েছে। আমাদের শরীরের প্রোটিন যে অ্যামিনো অ্যাসিড দিয়ে তৈরি, তার সবগুলোই বাঁ-হাতি। আবার ডিএনএ বা আরএনএর ভেতরে যে শর্করার অণু থাকে, সেগুলোও শুধু একটি নির্দিষ্ট কাইরাল রূপই ব্যবহার করে। সেটি ডান-হাতি। অণুগুলোর এই একপেশে স্বভাবকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলে হোমোকাইরালিটি।</p><p>কিন্তু প্রশ্ন হলো, পৃথিবীর শুরুতে যখন জীবনের প্রথম স্পন্দন তৈরি হচ্ছিল, তখন তো এই একপেশে আধিপত্য থাকার কথা নয়। তাহলে কোটি কোটি বছর আগে কীভাবে ডান বা বাঁ হাতি অণুর কোনো একটি অন্যটির চেয়ে সামান্য বেশি তৈরি হলো? আর সেই সামান্য পার্থক্যই–বা কীভাবে এত বিশাল হয়ে গেল যে, আজ পুরো জীবজগত কেবল একটিমাত্র রূপই ব্যবহার করছে? এই রহস্যের জট খুলতেই বিজ্ঞানীরা নেমে পড়লেন এক দীর্ঘ রাসায়নিক অনুসন্ধানে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/znlljdz47p">নিউট্রিনো ডিটেক্টর তৈরি করে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল</a></aside><blockquote>ডিএনএ বা আরএনএর ভেতরে যে শর্করার অণু থাকে, সেগুলোও শুধু একটি নির্দিষ্ট কাইরাল রূপই ব্যবহার করে। সেটি ডান-হাতি। অণুগুলোর এই স্বভাবকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলে হোমোকাইরালিটি।</blockquote><h2><strong>তিন</strong></h2><p>ল্যাবে যখন কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটানো হয়, তখন সাধারণত অণুর দুটো রূপই সমানভাবে তৈরি হয়। অর্থাৎ, ৫০ শতাংশ ডান হাতি আর ৫০ শতাংশ বাঁ হাতি। কিন্তু রসায়নবিদরা যদি এমন কোনো অনুঘটক ব্যবহার করেন, যার নিজেরই ডান বা বাঁ হাতি হওয়ার ঝোঁক আছে, তখন বিক্রিয়ায় একটি রূপ বেশি তৈরি হতে পারে। এই ব্যাপারটাকে বলা হয় অপ্রতিসম বিক্রিয়া বা অ্যাসিমেট্রিকেল রিঅ্যাকশন। আর অনুঘটক হলো এমন একটি পদার্থ, যা রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটতে সাহায্য করে, কিন্তু বিক্রিয়া শেষে নিজে স্থায়ীভাবে শেষ হয়ে যায় না। বিয়ের ঘটকের সঙ্গে অনুঘটকের অনেকটা মিল আছে। ঘটক পাত্রী দেখে বিয়ে দিয়ে দেয় ঠিকই, কিন্তু নিজে বিয়ে করে না।</p><p>বিজ্ঞানীরা আগে ভাবতেন, ব্যাপারটা বুঝি পাটিগণিতের মতো সোজা। ধরুন, আপনি এমন একটি অনুঘটক ব্যবহার করলেন যার ৭৫ শতাংশ ডান-হাতি আর ২৫ শতাংশ বাঁ-হাতি। বিজ্ঞানীরা ভেবেছিলেন, বিক্রিয়া শেষে যে উৎপাদ পাওয়া যাবে, সেখানেও ঠিক ৭৫ শতাংশ ডান-হাতি অণুই থাকবে। অর্থাৎ, সম্পর্কটা হবে একদম সরলরৈখিক। কিন্তু ফরাসি বিজ্ঞানী অঁরি কাগান দেখিয়ে দিলেন, প্রকৃতির নিয়ম এতটাও সহজ নয়।</p><p>আশির দশকে কাগান এক অদ্ভুত জিনিস খেয়াল করলেন। তিনি দেখলেন, অনুঘটকের ভেতরের ডান বা বাঁ হাতি অণুগুলো একা একা কাজ করে না, বরং একটি ধাতব পরমাণুকে ঘিরে সেগুলো জোট বাঁধে। এখন যদি আপনার অনুঘটকে ৭৫ শতাংশ ডান এবং ২৫ শতাংশ বাঁ হাতি অণু থাকে, তাহলে সেই ধাতব পরমাণুর সঙ্গে তিন রকম জুটি তৈরি হতে পারে—ডান-ডান, বাঁ-বাঁ এবং ডান-বাঁ।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/1xadcsoyps">নিউট্রিনো কণা শনাক্ত করে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন ফ্রান্সিস হালজেন</a></aside><blockquote>আশির দশকে কাগান এক অদ্ভুত জিনিস খেয়াল করলেন। তিনি দেখলেন, অনুঘটকের ভেতরের ডান বা বাঁ হাতি অণুগুলো একা একা কাজ করে না, বরং একটি ধাতব পরমাণুকে ঘিরে সেগুলো জোট বাঁধে।</blockquote><p>কাগান দেখলেন, এই তিন জুটির কাজ করার ক্ষমতা মোটেও এক নয়। ধরুন, ডান-ডান আর বাঁ-বাঁ জুটি খুব চমৎকার কাজ করছে, কিন্তু ডান-বাঁ জুটিটা ভীষণ অলস, প্রায় কাজই করছে না! ফলে কী হবে? যেহেতু ডান-ডান জুটি বেশি সক্রিয়, তাই বিক্রিয়া শেষে উৎপাদে ডান-হাতি অণুর পরিমাণ ৭৫ শতাংশ ছাড়িয়ে হয়তো ৯০ শতাংশে গিয়ে ঠেকবে! অর্থাৎ, শুরুতে থাকা সামান্য পার্থক্যটা বিক্রিয়ার শেষে গিয়ে বিশাল ব্যবধান তৈরি করে ফেলছে। ১৯৮৬ সালে কাগান ঠিক এই ব্যাপারটাই প্রমাণ করে দেখান।</p><p>বিজ্ঞানের ভাষায় এবারের নোবেলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো ‘নন-লিনিয়ার ইফেক্ট’ বা অ-সরলরৈখিক প্রভাব। শব্দটা শুনতে খটমটে লাগলেও ব্যাপারটা কিন্তু ওই পাটিগণিতের হিসাব না মেলার মতোই সহজ। বাস্তব জীবনের একটা উদাহরণ দেওয়া যাক। ধরুন, কোনো ক্লাসের ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার আগে একটা বিশেষ গাইডলাইন দেওয়া হলো। সরল হিসাবে আশা করা যায়, ওই ক্লাসের সাফল্যের হারও ৬০ শতাংশের আশপাশেই থাকবে। কিন্তু রেজাল্ট বের হওয়ার পর দেখা গেল, সাফল্যের হার ৯০ শতাংশ! কারণ, ওই ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থী শুধু সংখ্যায় বেশি ছিল না, তারা বাকি ৪০ শতাংশের ওপর এমন প্রভাব ফেলেছে। সেটাই পুরো ক্লাসের সাফল্যের হার বদলে দিয়েছে।</p><p>রাসায়নিক বিক্রিয়াতেও ঘটে ঠিক একই ঘটনা। অণুগুলো কীভাবে একে অপরের সঙ্গে জোট বাঁধে বা বিক্রিয়া করে, সেটাই পালটে দেয় পুরো ফলাফল। কাগানের এই যুগান্তকারী কাজ রসায়নবিদদের বুঝিয়ে দিল, কাইরালিটি শুধু কোনো অণুর নিজস্ব বৈশিষ্ট্য নয়, বরং এক অণু অন্য অণুর সঙ্গে কীভাবে মিশছে, তার ওপরই নির্ভর করছে পুরো বিক্রিয়ার ভবিষ্যৎ।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/cnzid3s4z4">আলোর সাহায্যে কীভাবে মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রণ করা যায়, জানালেন নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী কার্ল ডাইসারোথ</a></aside><blockquote>যেহেতু ডান-ডান জুটি বেশি সক্রিয়, তাই বিক্রিয়া শেষে উৎপাদে ডান-হাতি অণুর পরিমাণ ৭৫ শতাংশ ছাড়িয়ে হয়তো ৯০ শতাংশে গিয়ে ঠেকবে!</blockquote><p>এই তথ্য কাজে লাগিয়ে সেগুলো বিক্রিয়াকে নিজেদের মতো করে সাজাতে পারে, যাতে একদম নিখুঁত ও বিশুদ্ধ এনানসিওমার পাওয়া যায়। এ কারণে কাগানের আবিষ্কার পরে নতুন নতুন অপ্রতিসম রাসায়নিক বিক্রিয়া নকশা করার গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ওষুধ, সুগন্ধি, স্বাদ, কৃষি রাসায়নিক এবং নতুন উপাদান তৈরিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি নতুন ধরনের বস্তু তৈরির ক্ষেত্রেও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তবে এখানেই গল্পের শেষ নয়।</p><p>কাগানের পর বিজ্ঞানীদের মাথায় আরও একটি কঠিন প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে লাগল। কাগান তো দেখালেন, শুরুতে থাকা সামান্য পার্থক্য কীভাবে বিশাল হয়ে ওঠে। কিন্তু শুরুতে যদি কোনো পার্থক্যই না থাকে, তবুও কি কোনো অণু নিজেই নিজের সংখ্যা বহুগুণে বাড়াতে পারে?</p><p>রসায়নের দুনিয়ায় অটোক্যাটালাইসিস বা স্বয়ংক্রিয় অনুঘটকের ধারণা নতুন নয়। সহজভাবে বললে, কোনো বিক্রিয়ায় যে পদার্থটি তৈরি হচ্ছে, সেটি নিজেই যদি আবার নিজেকে তৈরির কাজটা বাড়িয়ে দেয়, তবে তাকে সয়ংক্রিয় অনুঘটক বা স্ব-অনুঘটক বলে। একটা সহজ উদাহরণ আছে। ইথাইল অ্যাসিটেট ভাঙার একটি বিক্রিয়ায় অ্যাসিটিক অ্যাসিড অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। এতে অ্যাসিটিক অ্যাসিড তৈরি হয়। অর্থাৎ একটা তৈরি হওয়া পদার্থ আবার নিজেকে তৈরি করতে সাহায্য করতে পারে।</p><p>আরেকটু সহজভাবে বলি। ধরুন, আপনি একটি বুদ্ধিমান রোবট বানালেন। রোবটটা হুবহু তার নিজের মতোই আরেকটা রোবট বানাতে পারে। তাহলে এখন রোবট হলো দুটি। একটি আপনি বানিয়েছেন, অন্যটি রোবটটি নিজে বানিয়েছে। এবার ওই দুটি রোবট আবার দুটি রোবট বানাবে। তাহলে হবে চারটি রোবট। চারটি থেকে হবে আটটি…এভাবে রোবটের সংখ্যা বাড়তেই থাকবে।</p><p>কিন্তু কেনসো সোআইয়ের সামনে আরও কঠিন প্রশ্ন ছিল।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/cx4eeolb3k">যে আবিষ্কারের কারণে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন তিন বিজ্ঞানী</a></aside><blockquote>সহজভাবে বললে, কোনো বিক্রিয়ায় যে পদার্থটি তৈরি হচ্ছে, সেটি নিজেই যদি আবার নিজেকে তৈরির কাজটা বাড়িয়ে দেয়, তবে তাকে সয়ংক্রিয় অনুঘটক বা স্ব-অনুঘটক বলে।</blockquote><h2><strong>চার</strong></h2><p>এই নন-লিনিয়ার ইফেক্ট নিয়ে কাজ করতে গিয়ে একটি দারুণ ব্যাপার খেয়াল করলেন জাপানের টোকিও ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্সের রসায়নবিদ কেনসো সোআই। তিনি দেখলেন, তাঁর বিক্রিয়ায় যে অনুঘটক ব্যবহার করা হচ্ছে এবং বিক্রিয়া শেষে যে উৎপাদ পাওয়া যাচ্ছে, তাদের আণবিক কাঠামোর মধ্যে বেশ মিল আছে। তখন সোআইয়ের মাথায় এক অদ্ভুত বুদ্ধি এল। তিনি ভাবলেন, এমন কোনো বিক্রিয়া কি ডিজাইন করা সম্ভব, যেখানে বাইরে থেকে কোনো প্রভাবক দিতে হবে না, বরং বিক্রিয়ায় তৈরি হওয়া অণুটি নিজেই নিজের প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে?</p><p>শুরু হলো দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষা। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে এমন কয়েকটি বিক্রিয়ার কথা জানা থাকলেও, তার কোনোটিই কাইরাল বা অপ্রতিসম ছিল না। কিন্তু সোআই হাল ছাড়ার পাত্র নন। দিনের পর দিন পরীক্ষা চালানোর পর ১৯৯৫ সালে তিনি একটি যুগান্তকারী গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন।</p><p>সেখানে তিনি দেখান, তিনি একটি এনানসিওমারের মাত্র ২ শতাংশ বেশি পরিমাণ নিয়ে বিক্রিয়া শুরু করেছিলেন। কিন্তু বিক্রিয়াটি এতই স্বয়ংক্রিয় ছিল যে, সেটি নিজেই নিজের পক্ষে কাজ করতে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত সেই এনানসিওমারের পরিমাণ ৮৭ শতাংশে গিয়ে পৌঁছায়! অর্থাৎ, শুরুতে পার্থক্য ছিল যৎসামান্য। কিন্তু সেই সামান্য পার্থক্যই চক্রবৃদ্ধি হারে নিজের ক্ষমতা বাড়িয়ে নিয়েছে। একেই বলা যায় সেলফ-রেইনফোর্সিং বা স্ব-শক্তিবর্ধক।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/mogl1qvu35">আলো দিয়ে স্নায়ু নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি অপটোজেনেটিকসে চিকিৎসাবিজ্ঞানের নোবেল</a></aside><blockquote>শুরু হলো দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষা। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে এমন কয়েকটি বিক্রিয়ার কথা জানা থাকলেও, তার কোনোটিই কাইরাল বা অপ্রতিসম ছিল না। কিন্তু সোআই হাল ছাড়ার পাত্র নন।</blockquote><p>সোআইয়ের লক্ষ্য ছিল আরও বড়। তিনি এমন একটি বিক্রিয়া খুঁজছিলেন, যা পৃথিবীর বুকে প্রথম প্রাণের উৎপত্তির মতোই একদম শূন্য থেকে শুরু হবে। ২০০৩ সালে তিনি সেই অসাধ্য সাধন করলেন। ব্যাপারটা বুঝতে কয়েন টসের উদাহরণ দেওয়া যায়। আপনি একটি কয়েন ছুড়লে হেড বা টেল পড়ার সম্ভাবনা অর্ধেক অর্ধেক। শুরুতে পরপর দু-একবার হেড আসাটা নিতান্তই ভাগ্যের ব্যাপার। কিন্তু প্রথমবার হেড আসার পর যদি কয়েনের ভেতরে এমন কোনো ম্যাজিক শুরু হয় যে, পরের বার হেড আসার সম্ভাবনা আরও বেড়ে যাবে? তাহলে কয়েকবার কয়েন টসের পর দেখা যাবে শুধু হেডই আসছে!</p><p>সোআইয়ের বিক্রিয়াটিও ঠিক এভাবেই কাজ করে। তিনি নন-কাইরাল দ্রবণ দিয়ে বিক্রিয়া শুরু করেন। বিক্রিয়ায় ডান ও বাঁ উভয় রূপই তৈরি হতে থাকে। কিন্তু নিতান্তই ভাগ্যের জোরে কোনো একটি রূপ সামান্য একটু বেশি তৈরি হয়ে যায়। এই অতি সামান্য আধিক্যই (০.০০০০৫ শতাংশ) পুরো বিক্রিয়ার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য যথেষ্ট। তিনবার নতুন উপাদান যোগ করার পর দেখা যায়, ওই নির্দিষ্ট এনানসিওমারটি পুরো বিক্রিয়া দখল করে নিয়েছে। আর তার পরিমাণ ছাড়িয়ে গেছে ৯৯.৫ শতাংশ! অর্থাৎ শুরুতে যে পার্থক্য প্রায় চোখেই পড়ে না, রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সেটিই হয়ে গেছে বিশাল বড়। একেই রসায়নের ইতিহাসে বিখ্যাত সোআই রিঅ্যাকশন বলা হয়।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/zcxdn67h2u">অপটোজেনেটিকস আবিষ্কার করে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন তিন বিজ্ঞানী</a></aside><blockquote>সোআই নন-কাইরাল দ্রবণ দিয়ে বিক্রিয়া শুরু করেন। বিক্রিয়ায় ডান ও বাঁ উভয় রূপই তৈরি হতে থাকে। কিন্তু নিতান্তই ভাগ্যের জোরে কোনো একটি রূপ সামান্য একটু বেশি তৈরি হয়ে যায়।</blockquote><p>এখানে আরও একটি মজার বিষয় আছে। সোআই যদি একই বিক্রিয়াটি আবার নতুন করে শুরু করেন, তাহলে আগেরবার যে রূপটি  রাজত্ব করেছিল, এবারও যে সে-ই জিতবে তার কোনো গ্যারান্টি নেই! মানে প্রথমবার ডান-হাতি রুপটি বেশি পাওয়া গেলে দ্বিতীয়বারও যে ডান-হাতি রূপ বেশি পাওয়া যাবে, এমন কোনো গ্যারান্টি নেই। পরের বার হয়তো বাঁ-হাতি এনানসিওমারটি পুরো বিক্রিয়া দখল করে নিতে পারে। কারণ, শুরুতে ভাগ্যের জোরে ঠিক কোন রূপটি সামান্য একটু বেশি তৈরি হবে, তা আগে থেকে বলা মুশকিল। কিন্তু একবার যে রূপটি এই দৌড়ে চুল পরিমাণ এগিয়ে যায়, এই স্বয়ংক্রিয় অনুঘটক প্রক্রিয়া সেটাই বিজয়ের মুকুট পরিয়ে দেয়। এভাবেই কোটি কোটি বছর আগে হয়তো প্রকৃতিও ভাগ্যের জোরে আমাদের জীবনের জন্য শুধু বাঁ-হাতি অণুগুলোই বেছে নিয়েছিল!</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/feature/v8cspn1s31">নোবেল পেতে কেমন লাগে</a></aside><blockquote>সোআই যদি একই বিক্রিয়াটি আবার নতুন করে শুরু করেন, তাহলে আগেরবার যে রূপটি  রাজত্ব করেছিল, এবারও যে সে-ই জিতবে তার কোনো গ্যারান্টি নেই!</blockquote><h2><strong>পাঁচ</strong></h2><p>এবার চলুন টাইম মেশিনে চড়ে পৃথিবীর একদম শুরুর দিনগুলোতে ফিরে যাই। শুরুতে যদি ডান ও বাঁ-হাতি অ্যামিনো অ্যাসিড সমান সমান তৈরি হয়ে থাকে, তাহলে কোটি কোটি বছর ধরে জীবজগত কেন শুধু একটি রূপই বেছে নিল? কেন আমাদের প্রোটিনগুলো শুধু বাঁ-হাতি, আর ডিএনএর শর্করাগুলো শুধুই ডান-হাতি?</p><p>এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই ১৯৫৩ সালে চার্লস ফ্র্যাংক একটি চমৎকার গাণিতিক মডেল প্রস্তাব করেন। তাঁর মতে, তিনটি শর্ত পূরণ হলে শুরুতে থাকা খুব সামান্য একটি পার্থক্য ধীরে ধীরে বিশাল আকার ধারণ করে পুরো রাজত্ব দখল করে নিতে পারে। প্রথমত, বিক্রিয়াটি অপ্রতিসম হতে হবে। দ্বিতীয়ত, একটি প্রতিবিম্ব তৈরির হার বাড়িয়ে অন্যটি তৈরিতে বাধা দিতে হবে। তৃতীয়ত, তৈরি হওয়া পদার্থকে নিজের বিক্রিয়ায় অনুঘটক হিসেবে কাজ করতে হবে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/feature/ijx1ghsddo">নোবেল জেতার সহজ উপায়</a></aside><blockquote>চার্লস ফ্র্যাংকের মতে, তিনটি শর্ত পূরণ হলে শুরুতে থাকা খুব সামান্য একটি পার্থক্য ধীরে ধীরে বিশাল আকার ধারণ করে পুরো রাজত্ব দখল করে নিতে পারে।</blockquote><p>কাগান এবং সোআইয়ের কাজ মূলত ফ্র্যাংকের এই তাত্ত্বিক মডেলই বাস্তবে প্রমাণ করে দেখিয়েছে। এই দুই বিজ্ঞানীর কাজকে যদি আমরা একদম সহজ করে বলি, তাহলে ব্যাপারটা দাঁড়ায় এ রকম—অঁরি কাগান দেখিয়েছেন, রাসায়নিক বিক্রিয়ায় শুরুতে যে সামান্য পার্থক্য বা অসমতা থাকে, তা সবসময় পাটিগণিতের সরল নিয়মে এগোয় না। অণুগুলোর পারস্পরিক মেলামেশার কারণে সেই সামান্য পার্থক্যই বিক্রিয়া শেষে অনেক বড় হয়ে ধরা দিতে পারে। অন্যদিকে, কেনসো সোআই আরেক ধাপ এগিয়ে দেখালেন, বিক্রিয়ায় তৈরি হওয়া অণুটি যদি নিজেই নিজের অনুঘটক হয়ে যায়, তাহলে সেই সামান্য পার্থক্যটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চক্রবৃদ্ধি হারে নিজেকে বাড়াতে থাকে।</p><p>সহজ কথায়, কাগান দেখালেন কীভাবে পার্থক্য বাড়ানো যায়, আর সোআই দেখালেন কীভাবে সেই পার্থক্য নিজেই নিজেকে বহুগুণে বাড়িয়ে তোলে। এই দুটো কাজকে একসঙ্গে মেলালেই বোঝা যায়, কেন তাঁদের এই যুগান্তকারী আবিষ্কার নোবেল পুরস্কারের দাবিদার।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/feature/8itfeuyiqn">নোবেল পুরস্কারের সোনার মেডেলে অন্যপাশে কী থাকে</a></aside><blockquote>কেনসো সোআই আরেক ধাপ এগিয়ে দেখালেন, বিক্রিয়ায় তৈরি হওয়া অণুটি যদি নিজেই নিজের অনুঘটক হয়ে যায়, তাহলে সেই সামান্য পার্থক্যটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চক্রবৃদ্ধি হারে নিজেকে বাড়াতে থাকে।</blockquote><h2><strong>ছয়</strong></h2><p>তাঁদের এই গবেষণা শুধু পৃথিবীতে প্রাণের সূচনা কীভাবে হয়েছিল, তা বুঝতে সাহায্য করছে না, বরং কাগানের আবিষ্কৃত নন-লিনিয়ার ইফেক্ট এখন রসায়নবিদদের প্রতিদিনের কাজের অপরিহার্য হাতিয়ার। বিক্রিয়ার ফলাফল দেখেই বিজ্ঞানীরা এখন বুঝতে পারেন, ভেতরে অণুগুলো কীভাবে কাজ করছে। এই জ্ঞান কাজে লাগিয়ে তাঁরা এখন এমন সব বিক্রিয়া ডিজাইন করছেন, যা দিয়ে একদম নিখুঁত ওষুধ তৈরি করা যায়। কোনো ওষুধের অণুর দুটি রূপ থাকলে বিজ্ঞানীরা এখন সহজেই শুধু দরকারি রূপটিই বিশুদ্ধভাবে তৈরি করতে পারেন। শুধু ওষুধ নয়; সুগন্ধি, স্বাদ বাড়ানোর উপাদান, কৃষিকাজের রাসায়নিক এবং নতুন ধরনের উপাদান তৈরির ক্ষেত্রেও তাঁদের এই আবিষ্কার এক বিপ্লব ঘটিয়েছে।</p><p>তবে এখানে একটু সতর্ক হওয়া দরকার। সোআইয়ের বিক্রিয়াটি ল্যাবরেটরিতে তৈরি একটি কৃত্রিম বিক্রিয়া। এর মানে এই নয় যে, আজ থেকে প্রায় ৪০০ কোটি বছর আগে পৃথিবীতে ঠিক এই রাসায়নিক বিক্রিয়াটির মাধ্যমেই প্রাণের শুরু হয়েছিল। জীবনের একেবারে শুরুতে ঠিক কী ঘটেছিল, তার ১০০ ভাগ নিশ্চিত উত্তর হয়তো আমরা কখনোই পাব না।</p><p>তবে সোআইয়ের কাজ সারা বিশ্বের বিজ্ঞানীদের মধ্যে জীবনের উৎপত্তি নিয়ে এক নতুন উন্মাদনা তৈরি করেছে। কারণ, তাঁর কাজ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করে দিয়েছে, রসায়নের নিয়মের মধ্যেই নন-কাইরাল অণু থেকে হোমোকাইরালিটি অণু তৈরি হওয়া সম্ভব।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/feature/%E0%A6%86%E0%A6%B2%E0%A6%AB%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%A1-%E0%A6%A8%E0%A7%8B%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%89%E0%A6%87%E0%A6%B2-%E0%A6%8F%E0%A6%AC%E0%A6%82-%E0%A6%A8%E0%A7%8B%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%B2-%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0">আলফ্রেড নোবেলের উইল এবং নোবেল পুরষ্কার</a></aside><blockquote>সোআইয়ের বিক্রিয়াটি ল্যাবরেটরিতে তৈরি একটি কৃত্রিম বিক্রিয়া। এর মানে এই নয় যে, আজ থেকে প্রায় ৪০০ কোটি বছর আগে পৃথিবীতে ঠিক এই রাসায়নিক বিক্রিয়াটির মাধ্যমেই প্রাণের শুরু হয়েছিল।</blockquote><p>এ বারের নোবেল পুরস্কারের ঘোষণাটি শুনলে যে কারও একটু ভয় লাগতে পারে—‘অপ্রতিসম জৈব সংশ্লেষণে অরৈখিক প্রভাব ও স্ব-অনুঘটন আবিষ্কারের জন্য তাঁরা নোবেল পেয়েছেন।’ শব্দগুলো বেশ খটমটে, তাই না? কিন্তু এর ভেতরের গল্পটা ভীষণ সুন্দর। প্রকৃতির অনেক অণুই আয়নার প্রতিবিম্বের মতো দুটো রূপে থাকতে পারে। কিন্তু জীবজগৎ তার মধ্যে শুধু একটিকেই বেছে নিয়েছে। এই একটিকে বেছে নেওয়ার ঘটনা কীভাবে ঘটল, তা ছিল রসায়নের সবচেয়ে বড় রহস্যগুলোর একটি।</p><p>কাগান দেখালেন, রাসায়নিক বিক্রিয়ায় সামান্য ডান-বাঁয়ের পার্থক্যকে কীভাবে আরও বড় করা যায়। আর সোআই দেখালেন, সেই পার্থক্যকে কীভাবে এমন এক জাদুকরি পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যায়, যেখানে তৈরি হওয়া অণু নিজেই আবার নিজেকে তৈরি করতে পারে। রসায়নের এই অপ্রতিসম রহস্য সমাধানের অসামান্য স্বীকৃতি হিসেবেই অঁরি কাগান ও কেনসো সোআই পেলেন এই পুরস্কার।</p><h4>সূত্র: নোবেল প্রাইজ ডটঅর্গ</h4><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/feature/4lt6y95vxx">নোবেল নিয়ে পাঁচ তথ্য</a></aside>

অক্টোবর ৭, ২০২৬
যন্তর মন্তরে যাওয়ার চেষ্টা রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর, আটকে দিলো পুলিশ
যন্তর মন্তরে যাওয়ার চেষ্টা রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর, আটকে দিলো পুলিশ

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে যাওয়ার সময় ইন্ডিয়া জোটের এমপিদের আটকে দিয়েছে পুলিশ। এদিকে, বাংলাদেশে আসন্ন দুর্গাপুজায় টানা তিনদিন সরকারি ছুটি পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা, তবে তাদের জন্য এই সপ্তাহের একদিনের ছুটি কমছে। বিস্তারিত বিবিসি বাংলা লাইভ পাতায়...

অক্টোবর ৭, ২০২৬
ছয় কোটি বাংলাদেশি যে ছয় কারণে নিম্ন মধ্যবিত্ত থেকে দরিদ্র হওয়ার ঝুঁকিতে
ছয় কোটি বাংলাদেশি যে ছয় কারণে নিম্ন মধ্যবিত্ত থেকে দরিদ্র হওয়ার ঝুঁকিতে

মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক বলেছে, গত চার বছরে দেশটিতে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৮০ লাখ। এর মধ্যে গত এক বছরেই প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছেন। আরও প্রায় ছয় কোটি ২০ লাখ মানুষ, যারা এখন নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণিতে অবস্থান করছেন, তারাও দরিদ্র শ্রেণিতে নেমে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

অক্টোবর ৭, ২০২৬
মুক্তিযুদ্ধের স্থাপনায় বারবার আক্রমণ কেন?
মুক্তিযুদ্ধের স্থাপনায় বারবার আক্রমণ কেন?

ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাষ্কর্যে জুতার মালা পরানোর ঘটনা সামনে আসার পর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে ভাঙচুরের শিকার মুক্তিযুদ্ধের স্থাপনা ও ভাষ্কর্যের রক্ষা বা সংস্কারে বর্তমান সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে?

অক্টোবর ৭, ২০২৬
ব্রিটেনে সমকামী সেজে আশ্রয়ের আবেদন - সাহায্য করার অভিযোগে তিনজন গ্রেফতার
ব্রিটেনে সমকামী সেজে আশ্রয়ের আবেদন - সাহায্য করার অভিযোগে তিনজন গ্রেফতার

পূর্ব লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেলে অবস্থিত ‘আপনজন’ নামক একটি বাংলাদেশি এলজিবিটি সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্কিত পৃথক পৃথক ভুয়া দাবির অভিযোগে মঙ্গলবার ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে জাল প্রমাণ তৈরিতে সাহায্যের জন্য সাড়ে চার হাজার পাউন্ড পর্যন্ত অর্থ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে।

অক্টোবর ৭, ২০২৬
নেহা বোরা, বিজেপি সমর্থক পরিবারের মেয়ের আন্দোলনের 'অন্যতম মুখ' হয়ে ওঠার গল্প
নেহা বোরা, বিজেপি সমর্থক পরিবারের মেয়ের আন্দোলনের 'অন্যতম মুখ' হয়ে ওঠার গল্প

নেহা বোরার রাজনৈতিক উত্থানের শুরুটা হয় ২০২৬ সালের জুলাই মাসে। ভারতের তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনশনরত অভিজিৎ দীপকে ও সোনম ওয়াংচুকের পাশাপাশি তিনিও একটি পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।

অক্টোবর ৭, ২০২৬
ক্রিস্টা পাইকের ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় কী ঘটেছিল - এবং এরপর কী?
ক্রিস্টা পাইকের ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় কী ঘটেছিল - এবং এরপর কী?

যে মামলাটি বহু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে, সেই মামলায় দোষী সাব্যস্ত খুনি দুটি প্রাণঘাতী ইনজেকশন থেকে বেঁচে গিয়ে টেনেসির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

অক্টোবর ৭, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থ চেষ্টার পর আসামি ক্রিস্টা পাইকের জ্ঞান ফিরেছে, কথা বলেছেন
যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থ চেষ্টার পর আসামি ক্রিস্টা পাইকের জ্ঞান ফিরেছে, কথা বলেছেন

কয়েকদিন অচেতন অবস্থায় থাকার পর যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ক্রিস্টা পাইকের জ্ঞান ফিরেছে। তার সুস্থ হয়ে ওঠার ঘটনাকে নজিরবিহীন বলে অভিহিত করেছেন বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবীরা। তাদের অনেকে বলছেন যে, প্রাণঘাতী ইনজেকশন থেকে বেঁচে যাওয়া একমাত্র ব্যক্তি তিনিই।

অক্টোবর ৭, ২০২৬
চীনের ক্ষমতাবান নেতা হওয়ার আগে সবকিছু হারিয়েছিলেন শি জিনপিং
চীনের ক্ষমতাবান নেতা হওয়ার আগে সবকিছু হারিয়েছিলেন শি জিনপিং

৭৩ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদের জীবনটা খুব সহজ নয়, বরং বড় উত্থান-পতনে ঘেরা। বলা চলে, তিনি ছিলেন সেই 'রাজপুত্র' যিনি সবকিছু হারিয়েছিলেন। ‘প্রতিবিপ্লবী’ হিসেবে চিহ্নিত একজন ব্যক্তির পুত্র হওয়ায় কিশোর শি-কে জোর করে একটি পুনঃশিক্ষণ কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল।

অক্টোবর ৭, ২০২৬
অ্যাপসে লেনদেনের তথ্য পাবেন বিনিয়োগকারীরা 
অ্যাপসে লেনদেনের তথ্য পাবেন বিনিয়োগকারীরা 

সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) এর নতুন মোবাইল অ্যাপ বর্তমানে পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। চলতি মাসেই আনুষ্ঠানিকভাবে এটি চালু করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

অক্টোবর ৭, ২০২৬
পুলিশের পোশাক ও অস্ত্রসহ ৩ ডাকাত গ্রেপ্তার 
পুলিশের পোশাক ও অস্ত্রসহ ৩ ডাকাত গ্রেপ্তার 

ঢাকার সাভার উপজেলায় ডাকাতির ঘটনায় ডাকাত দলের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করছে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

অক্টোবর ৭, ২০২৬
সেকেন্ড ইলেভেনের ক্রিকেটারদের আবাসন সমস্যা নিয়ে ব্যাখ্যা বিসিবির
সেকেন্ড ইলেভেনের ক্রিকেটারদের আবাসন সমস্যা নিয়ে ব্যাখ্যা বিসিবির

ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুনত্ব আনতে একাধিক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

অক্টোবর ৭, ২০২৬
সিলেটের পূজামণ্ডপে আতশবাজি ও বিরক্তিকর কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ ডিসির
সিলেটের পূজামণ্ডপে আতশবাজি ও বিরক্তিকর কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ ডিসির

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সিলেটের প্রতিটি পূজামণ্ডপে আতশবাজি কিংবা দর্শনার্থী বা স্থানীয় মানুষের বিরক্তি বা উদ্বেগ সৃষ্টি করে এমন কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবদুল্লাহ আল মামুন।

অক্টোবর ৭, ২০২৬
রাহুল ও প্রিয়াঙ্কাকে আটক করেছে পুলিশ
রাহুল ও প্রিয়াঙ্কাকে আটক করেছে পুলিশ

টানা দ্বিতীয় দিনের মতো প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবি জানানোর সময় ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শীর্ষ নেতাদের আটক করা হয়েছে।

অক্টোবর ৭, ২০২৬
চট্টগ্রামে ৩ থানার ওসি পদে রদবদল
চট্টগ্রামে ৩ থানার ওসি পদে রদবদল

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) তিন থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পদে রদবদল করা হয়েছে। 

অক্টোবর ৭, ২০২৬
সিলেটে বিএনপির দুই পক্ষের কর্মসূচি, ১৪৪ ধারা জারি
সিলেটে বিএনপির দুই পক্ষের কর্মসূচি, ১৪৪ ধারা জারি

সিলেটের বিশ্বনাথ পৌর এলাকার কলেজ রোডস্থ ডাকবাংলা ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।

অক্টোবর ৭, ২০২৬
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক হতে হবে ন্যায্যতা ও সমতার ভিত্তিতে: নাহিদ
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক হতে হবে ন্যায্যতা ও সমতার ভিত্তিতে: নাহিদ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, “আবরার ফাহাদের চেতনাকে যদি আমরা ধারণ করতে চাই তাহলে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক ন্যায্যতার ভিত্তিতে, সমতার ভিত্তিতে পুনঃস্থাপন করতে হবে। পানির হিস্যায় আমরা এক চুল পরিমাণ ছাড় দেব না।”

অক্টোবর ৭, ২০২৬