<p>জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘ভারতের সঙ্গে কোনো ধরনের বৈরিতা বা শত্রুতা আমাদের প্রত্যাশা নয়, কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে আমাদের স্বার্থ সুরক্ষা হচ্ছে কি না। আমাদের সঙ্গে ভারতের অভিন্ন অনেকগুলো নদী রয়েছে। আন্তর্জাতিক নদী আইন অনুসারে এসব নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা বাংলাদেশের পাওয়ার কথা থাকলেও গত পাঁচ দশকেও বাংলাদেশ তা পায়নি।’</p><p> আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর পলাশী মোড়ে আগ্রাসনবিরোধী আট স্তম্ভের সামনে ২০১৯ সালে ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ) নির্যাতনে নিহত বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের স্মরণে আয়োজিত সভায় অংশ নিয়ে নাহিদ ইসলাম এ কথা বলেন। আবরারের সপ্তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ‘আবরার ফাহাদ স্মৃতি সংসদের’ ব্যানারে এই স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।</p><p>১৯৯৬ সালে হওয়া গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ভারত বলে আসছে তারা বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক চায়, বাংলাদেশকে তারা প্রতিবেশী হিসেবে দেখতে চায়। গঙ্গার পানিবণ্টনে নতুন চুক্তি কীভাবে হচ্ছে, সেখানে সেটা প্রমাণ করতে হবে। এই চুক্তি শুধু নবায়ন করলেই হবে না, নতুন করে স্বাক্ষর করতে হবে। এটা শুধু পানিবণ্টনের প্রশ্ন নয়, বরং নদীর যৌথ হিস্যার প্রশ্ন। ফলে নদী ব্যবস্থাপনায়ও বাংলাদেশের অংশীদারত্ব লাগবে।</p><p>নদীতে সব সময় নাব্যতা বজায় রাখতে ন্যূনতম প্রবাহ নিশ্চিত করা, শুষ্ক মৌসুমে ঘাটতি হলে তা ভারত-বাংলাদেশ সমানভাবে নেওয়া—এই ‘গ্যারান্টি ক্লজ’সহ গঙ্গা চুক্তি নতুন করে করার দাবি জানান নাহিদ ইসলাম। বিএনপি সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, আবরার ফাহাদের চেতনাকে সমুন্নত করতে চাইলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক সমতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে পুনঃস্থাপন করতে হবে। ভারত যদি সত্যিকার অর্থেই প্রতিবেশীর সঙ্গে সুসম্পর্ক চায়, তাহলে গঙ্গা-তিস্তাসহ সব অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন চুক্তি সমভাবে ও ন্যায্যভাবে সম্পাদন করতে হবে।</p><h3>শুধু বোয়িং কিনলেই চলবে না... </h3><p>বক্তব্যে ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের উদ্দেশে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, শুধু বোয়িং বিমান কিনলেই চলবে না, সরকার গঙ্গার পানিচুক্তির নবায়ন বা নতুন চুক্তি কী করে সম্পাদন করে, সেখানে বাংলাদেশের স্বার্থ কতটা আদায় করতে পারে, সেটা দেখতে হবে।</p><p>সরকার ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দিলেও বাংলাদেশের স্বার্থ কোনোভাবেই রক্ষা করতে পারছে না বলে অভিযোগ নাহিদের। তিনি বলেন, ‘গঙ্গা চুক্তিসহ যত আন্তর্জাতিক চুক্তি হয়েছে, সেগুলো সংসদে আলোচনা করতে হবে। জনগণের স্বার্থ সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই আমরা সেই চুক্তির পক্ষ বা বিপক্ষ নেব।’</p><h3>আবরার হত্যার রায় কার্যকরের দাবি </h3><p>নাহিদ বলেন, আবরার ফাহাদ তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে কিছু বলেনি, তৎকালীন সরকার ফ্যাসিস্ট ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে কিছু বলেনি। ভারত ফেনী নদীকে কেন্দ্র করে যে চুক্তি বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পাদন করেছিল বা করতে যাচ্ছিল, সেটা নিয়ে সমালোচনা করেছিল মাত্র। সেই সমালোচনার কারণে তাঁকে নির্যাতন করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় থাকাটা যে ভারতীয় আগ্রাসনেরই এক্সটেনশন ছিল, সেটা সুস্পষ্ট হয়েছিল আবরার হত্যার ঘটনার মধ্য দিয়ে।</p><p>সব আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে আবরার ফাহাদ হত্যার রায় অবিলম্বে কার্যকর করার দাবি জানান নাহিদ। তিনি বলেন, ‘আমরা খুনিদের ফাঁসির দণ্ড অবিলম্বে কার্যকর দেখতে চাই। বাংলাদেশ যদি সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে পারে, তাহলে আবরার ফাহাদের আত্মা শান্তি পাবে বলে আমরা মনে করি।’</p><p>আবরার ফাহাদ স্মৃতি সংসদের আহ্বায়ক, এনসিপির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন। এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সালেহউদ্দিন সিফাতের সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য দেন কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার, আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান ও মাহফুজ আলম, এনসিপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ইসহাক সরকার, যুবসংগঠন জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম, ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির সাবেক সভাপতি জাহিদ আহসান প্রমুখ।</p>
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে বিদ্যালয় থেকে এক শিশুশিক্ষার্থীকে কৌশলে ডেকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ।
বিয়ের রীতিনীতি কিংবা ঐতিহ্যের অন্যতম একটি অংশ আংটিবদল। এই প্রথা প্রতিটি পরিবারের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে গেছে। তবে রীতির প্রচলন এমনি এমনি হয়নি। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস।
রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে হেনস্তা করে পদত্যাগপত্রে সই করানোর অভিযোগের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন চিকিৎসক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা
<p>শ্রমিক সংগঠনের দাবির মুখে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের জন্য নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। চলতি মাসেই মজুরি বোর্ড গঠিত হতে পারে—এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন শ্রম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।</p><p> জানা যায়, গত সপ্তাহে সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, শ্রমসচিব মো. আবদুর রহমান তরফদার, তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ও নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের জন্য নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়।</p><p>বিষয়টি নিশ্চিত করে শ্রমসচিব মো. আবদুর রহমান তরফদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘তৈরি পোশাকশিল্পে মজুরি পুনর্নির্ধারণের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া আমরা শুরু করেছি। প্রথমেই মালিক ও শ্রমিকপক্ষের কাছে থেকে তাদের প্রতিনিধির নাম চাওয়া হবে। তারপরই মজুরি বোর্ডের প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।’ তিনি জানান, মালিক ও শ্রমিকপক্ষের নাম পাওয়া গেলে চলতি মাসেই মজুরি বোর্ড গঠন করা হবে।</p><p>সরকার শ্রম আইন সংশোধন করে শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময়কাল পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর নির্ধারণ করেছে। তৈরি পোশাকশ্রমিকদের সর্বশেষ ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হয়েছিল ২০২৩ সালের নভেম্বরে। আর কার্যকর হয় ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে। আগামী নভেম্বরে মজুরি ঘোষণার তিন বছর পূর্ণ হবে।</p><p>শ্রম আইন সংশোধন হওয়ার পর, নাকি আগে থেকে তিন বছর সময় গণনা করা হবে, তা নিয়ে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের ভিন্নমত রয়েছে। শ্রমিকনেতারা বলছেন, আইন অনুযায়ী চলতি বছরই নতুন মজুরিকাঠামো করতে হবে। অন্যদিকে মালিকপক্ষের নেতারা বলছেন, আইন পাসের পর থেকেই সময় গণনা হওয়া উচিত।</p><p>এ বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রমসচিব মো. আবদুর রহমান তরফদার বলেন, মালিক, শ্রমিক ও সরকারের শ্রমসংক্রান্ত কারিগরি কমিটির সভায় বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। সেখানে সম্ভব না হলে জাতীয় ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের (টিসিসি) সভায় যাবে। সেখানেও না হলে সরকারের উচ্চপর্যায় সিদ্ধান্ত নেবে।</p><p>২০২৩ সালে তৈরি পোশাক খাতের ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার ৫০০ টাকা হয়। এ ক্ষেত্রে মজুরি বৃদ্ধি পেয়েছিল ৫৬ দশমিক ২৫ শতাংশ। ওই মজুরিকাঠামোতে সাতটি গ্রেডের বদলে পাঁচটি গ্রেড করা হয়।</p><p>জানতে চাইলে বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম প্রথম আলোকে বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতির এই সময়ে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবি যৌক্তিক। একই সঙ্গে বাড়তি মজুরি দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি পোশাক কারখানার রয়েছে কি না, সেটিও দেখতে হবে। বর্তমান মজুরিকাঠামোতে বহু কারখানা টিকতে না পেরে বন্ধ হয়েছে। নতুন করে মজুরি বাড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে।</p>
<p>হত্যার দুই বছর পর কবর থেকে তোলা হয়েছে আলোচিত সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম খান ও তাঁর ছেলে চিত্রনায়ক শান্ত খানের লাশ। ৭ অক্টোবর তাঁদের লাশ তোলা হয়। বিস্তারিত ভিডিও প্রতিবেদনে…</p><figure></figure>
আজকের অভিযানের খবর পুলিশের কাছে ছিল না। ‘ইন্ডিয়া’ জোটও তা ঘোষণা করেনি। তাই জমায়েতের খবর পেয়ে পুলিশ জনপথ ঘিরে ফেলে।
এ ঘটনায় শিশুটির মা রোজিনা বেগম বাদী হয়ে মানব পাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে আজ সকালে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন