রসায়ন

অণুর ডান–বাম রহস্য সমাধান করে রসায়নে নোবেল

অক্টোবর ৭, ২০২৬
অণুর ডান–বাম রহস্য সমাধান করে রসায়নে নোবেল
অণুর ডান–বাম রহস্য সমাধান করে রসায়নে নোবেল
<p>প্রকৃতিতে সবকিছু সব সময় পুরোপুরি সমান থাকে না। মাঝেমধ্যে সামান্য এদিক-ওদিক হয়। কিন্তু সেই ছোট্ট পার্থক্য বারবার বাড়তে থাকলে একসময় সেটিই হয়ে উঠতে পারে বড় কোনো পরিবর্তনের কারণ। অণুর জগতেও এমন ঘটনা ঘটে। একই রাসায়নিক পদার্থের দুটি অণু দেখতে হুবহু একই রকম হতে পারে। অথচ একটি হতে পারে অন্যটির আয়নার প্রতিবিম্ব। পার্থক্য শুধু এটুকুই। কিন্তু এই সামান্য পার্থক্যই মাঝেমধ্যে খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। একটি অণু কাজে লাগতে পারে ওষুধ তৈরিতে, অন্যটি হয়ে উঠতে পারে ক্ষতিকর।</p><p>এই রহস্যের সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ২০২৬ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ফরাসি বিজ্ঞানী অঁরি কাগান এবং জাপানি বিজ্ঞানী কেনসো সোআই। তাঁদের গবেষণা দেখিয়েছে, রাসায়নিক বিক্রিয়ায় শুরুতে থাকা সামান্য অসমতাকে কীভাবে অনেক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া যায়। এমনকি একটি অণু কীভাবে নিজের মতো আরও অণু তৈরি হতে সাহায্য করতে পারে, সেটিও তাঁরা দেখিয়েছেন। রসায়নের জগতে আপাতদৃষ্টিতে ছোট এই ঘটনাগুলো কীভাবে বড় হয়ে ওঠে, তাঁদের কাজ আমাদের সেই রহস্য বুঝতে সাহায্য করেছে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/chemistry/q58rea3bv3">রসায়নের ডান–বাম রহস্য সমাধান করে নোবেল পেলেন দুই বিজ্ঞানী</a></aside><blockquote>ওষুধ বানানোর সময় অণুর একটি রূপ হয়তো জাদুর মতো রোগ সারিয়ে দিল; কিন্তু প্রতিবিম্ব রূপটি কোনো কাজ তো করবেই না, উল্টো শরীরের চরম সর্বনাশ করে ফেলতে পারে!</blockquote><h2><strong>দুই</strong></h2><p>একটা সহজ উদাহরণ দিয়ে বিষয়টা আরও ভালোভাবে বোঝার চেষ্টা করি। নিজের দুই হাতের দিকে তাকান। ডান হাত ও বাঁ হাত দেখতে হুবহু একরকম। কিন্তু ডান হাতের তালুর ওপর বাঁ হাতের তালুটা ঠিকমতো বসানোর চেষ্টা করে দেখুন, কিছুতেই মিলবে না। এরা একে অপরের আয়নার প্রতিচ্ছবি হলেও, পুরোপুরি এক জিনিস নয়।</p><p>রসায়নের জগতেও এমন অদ্ভুত ব্যাপার ঘটে। কিছু অণু আছে, যাদের ঠিক ডান ও বাঁ হাতি রূপ থাকে। এরা দেখতে একই রকম হলেও আয়নার প্রতিবিম্বের মতো উল্টো। বিজ্ঞানের ভাষায় এদের বলে কাইরাল অণু। আর এই যমজ রূপগুলোকে বলে এনানসিওমার।</p><p>সবচেয়ে বড় মুশকিল হলো, আমাদের শরীর এই যমজ অণুগুলোকে একভাবে দেখে না। ওষুধ বানানোর সময় অণুর একটি রূপ হয়তো জাদুর মতো রোগ সারিয়ে দিল; কিন্তু প্রতিবিম্ব রূপটি কোনো কাজ তো করবেই না, উল্টো শরীরের চরম সর্বনাশ করে ফেলতে পারে!</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/mub6c9hk/2.png"></figure><p>ষাট দশকের থ্যালিডোমাইড নামে ঘুমের ওষুধের কথাই ধরুন। এই ওষুধের একটা রূপ চমৎকার কাজ করত ঠিকই, কিন্তু এর প্রতিবিম্ব রূপটার কারণে হাজার হাজার শিশু মারাত্মক জন্মগত ত্রুটি নিয়ে পৃথিবীতে এসেছিল।</p><p>অণুর এই ডান ও বাঁ দিকের পার্থক্য যে শুধু ‘দেখতে কেমন’ তার মধ্যে আটকে নেই। বরং শরীরে এটা কতটা ভয়ংকর প্রভাব ফেলতে পারে, বিজ্ঞানীরা সেদিন খুব ভালোভাবেই তা টের পেয়েছিলেন।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/75gs6oo148">নোবেল পেয়ে কেমন কাটল ডাইসারোথের প্রথম দিন, দেখুন ছবিতে</a></aside><blockquote>কিছু অণু আছে, যাদের ঠিক ডান ও বাঁ হাতি রূপ থাকে। এরা দেখতে একই রকম হলেও আয়নার প্রতিবিম্বের মতো উল্টো। বিজ্ঞানের ভাষায় এদের বলে কাইরাল অণু।</blockquote><p>এরপর থেকেই রসায়নবিদদের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়, ল্যাবে কীভাবে এমন বিক্রিয়া ঘটানো যায়, যেখানে অণুর দুটি রূপ তৈরি না হয়ে শুধু আমাদের দরকারি রূপটাই তৈরি হবে! তবে কাজটা সহজ ছিল না।</p><p>এই গল্পের শুরু আরও অনেক আগে। ১৮৪০-এর দশকে ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর টারটারিক অ্যাসিড নিয়ে কাজ করছিলেন। সে সময় তিনি খেয়াল করলেন, এই অ্যাসিডের ক্রিস্টালগুলোর মধ্যে দুটো আলাদা রূপ আছে। সেগুলো ঠিক একটি অন্যটির প্রতিবিম্ব। পাস্তুর খুব সাবধানে চিমটার সাহায্যে এই দুই ধরনের স্ফটিক আলাদা করলেন। এরপর পানিতে গলিয়ে দেখলেন এক অদ্ভুত ব্যাপার! একটি দ্রবণ আলোকে ডান দিকে বাঁকিয়ে দিচ্ছে। প্রথমটি আলোকে যতটা ডানদিকে বাঁকিয়ে দিচ্ছে, দ্বিতীয়টি ঠিক ততটাই বাঁকাচ্ছে বাঁ দিকে। কিন্তু দুটোকে একসঙ্গে মেশালে আলোর গতিপথ আর বদলাচ্ছে না। যেন একটি অন্যটির শক্তিকে বাতিল করে দিচ্ছে। এভাবেই বিজ্ঞানীরা প্রথম বুঝতে পারলেন, অণুগুলোরও মানুষের মতো ডান ও বাঁ হাতি রূপ বা কাইরালিটি আছে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/wnyjwe6ge7">ফান্ডের জন্য আবেদন লেখার সময় এল নোবেল জয়ের খবর</a></aside><blockquote>১৮৪০-এর দশকে ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর টারটারিক অ্যাসিড নিয়ে কাজ করছিলেন। সে সময় তিনি খেয়াল করলেন, এই অ্যাসিডের ক্রিস্টালগুলোর মধ্যে দুটো আলাদা রূপ আছে।</blockquote><p>সবচেয়ে বড় বিস্ময় লুকিয়ে আছে আমাদের দেহের ভেতর। এই ডান-বাঁয়ের খেলায় প্রকৃতি যেন ইচ্ছে করেই একপক্ষ নিয়ে নিয়েছে। আমাদের শরীরের প্রোটিন যে অ্যামিনো অ্যাসিড দিয়ে তৈরি, তার সবগুলোই বাঁ-হাতি। আবার ডিএনএ বা আরএনএর ভেতরে যে শর্করার অণু থাকে, সেগুলোও শুধু একটি নির্দিষ্ট কাইরাল রূপই ব্যবহার করে। সেটি ডান-হাতি। অণুগুলোর এই একপেশে স্বভাবকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলে হোমোকাইরালিটি।</p><p>কিন্তু প্রশ্ন হলো, পৃথিবীর শুরুতে যখন জীবনের প্রথম স্পন্দন তৈরি হচ্ছিল, তখন তো এই একপেশে আধিপত্য থাকার কথা নয়। তাহলে কোটি কোটি বছর আগে কীভাবে ডান বা বাঁ হাতি অণুর কোনো একটি অন্যটির চেয়ে সামান্য বেশি তৈরি হলো? আর সেই সামান্য পার্থক্যই–বা কীভাবে এত বিশাল হয়ে গেল যে, আজ পুরো জীবজগত কেবল একটিমাত্র রূপই ব্যবহার করছে? এই রহস্যের জট খুলতেই বিজ্ঞানীরা নেমে পড়লেন এক দীর্ঘ রাসায়নিক অনুসন্ধানে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/znlljdz47p">নিউট্রিনো ডিটেক্টর তৈরি করে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল</a></aside><blockquote>ডিএনএ বা আরএনএর ভেতরে যে শর্করার অণু থাকে, সেগুলোও শুধু একটি নির্দিষ্ট কাইরাল রূপই ব্যবহার করে। সেটি ডান-হাতি। অণুগুলোর এই স্বভাবকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলে হোমোকাইরালিটি।</blockquote><h2><strong>তিন</strong></h2><p>ল্যাবে যখন কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটানো হয়, তখন সাধারণত অণুর দুটো রূপই সমানভাবে তৈরি হয়। অর্থাৎ, ৫০ শতাংশ ডান হাতি আর ৫০ শতাংশ বাঁ হাতি। কিন্তু রসায়নবিদরা যদি এমন কোনো অনুঘটক ব্যবহার করেন, যার নিজেরই ডান বা বাঁ হাতি হওয়ার ঝোঁক আছে, তখন বিক্রিয়ায় একটি রূপ বেশি তৈরি হতে পারে। এই ব্যাপারটাকে বলা হয় অপ্রতিসম বিক্রিয়া বা অ্যাসিমেট্রিকেল রিঅ্যাকশন। আর অনুঘটক হলো এমন একটি পদার্থ, যা রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটতে সাহায্য করে, কিন্তু বিক্রিয়া শেষে নিজে স্থায়ীভাবে শেষ হয়ে যায় না। বিয়ের ঘটকের সঙ্গে অনুঘটকের অনেকটা মিল আছে। ঘটক পাত্রী দেখে বিয়ে দিয়ে দেয় ঠিকই, কিন্তু নিজে বিয়ে করে না।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/o77kr2vb/3.png"></figure><p>বিজ্ঞানীরা আগে ভাবতেন, ব্যাপারটা বুঝি পাটিগণিতের মতো সোজা। ধরুন, আপনি এমন একটি অনুঘটক ব্যবহার করলেন যার ৭৫ শতাংশ ডান-হাতি আর ২৫ শতাংশ বাঁ-হাতি। বিজ্ঞানীরা ভেবেছিলেন, বিক্রিয়া শেষে যে উৎপাদ পাওয়া যাবে, সেখানেও ঠিক ৭৫ শতাংশ ডান-হাতি অণুই থাকবে। অর্থাৎ, সম্পর্কটা হবে একদম সরলরৈখিক। কিন্তু ফরাসি বিজ্ঞানী অঁরি কাগান দেখিয়ে দিলেন, প্রকৃতির নিয়ম এতটাও সহজ নয়।</p><p>আশির দশকে কাগান এক অদ্ভুত জিনিস খেয়াল করলেন। তিনি দেখলেন, অনুঘটকের ভেতরের ডান বা বাঁ হাতি অণুগুলো একা একা কাজ করে না, বরং একটি ধাতব পরমাণুকে ঘিরে সেগুলো জোট বাঁধে। এখন যদি আপনার অনুঘটকে ৭৫ শতাংশ ডান এবং ২৫ শতাংশ বাঁ হাতি অণু থাকে, তাহলে সেই ধাতব পরমাণুর সঙ্গে তিন রকম জুটি তৈরি হতে পারে—ডান-ডান, বাঁ-বাঁ এবং ডান-বাঁ।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/physics/1xadcsoyps">নিউট্রিনো কণা শনাক্ত করে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন ফ্রান্সিস হালজেন</a></aside><blockquote>আশির দশকে কাগান এক অদ্ভুত জিনিস খেয়াল করলেন। তিনি দেখলেন, অনুঘটকের ভেতরের ডান বা বাঁ হাতি অণুগুলো একা একা কাজ করে না, বরং একটি ধাতব পরমাণুকে ঘিরে সেগুলো জোট বাঁধে।</blockquote><p>কাগান দেখলেন, এই তিন জুটির কাজ করার ক্ষমতা মোটেও এক নয়। ধরুন, ডান-ডান আর বাঁ-বাঁ জুটি খুব চমৎকার কাজ করছে, কিন্তু ডান-বাঁ জুটিটা ভীষণ অলস, প্রায় কাজই করছে না! ফলে কী হবে? যেহেতু ডান-ডান জুটি বেশি সক্রিয়, তাই বিক্রিয়া শেষে উৎপাদে ডান-হাতি অণুর পরিমাণ ৭৫ শতাংশ ছাড়িয়ে হয়তো ৯০ শতাংশে গিয়ে ঠেকবে! অর্থাৎ, শুরুতে থাকা সামান্য পার্থক্যটা বিক্রিয়ার শেষে গিয়ে বিশাল ব্যবধান তৈরি করে ফেলছে। ১৯৮৬ সালে কাগান ঠিক এই ব্যাপারটাই প্রমাণ করে দেখান।</p><p>বিজ্ঞানের ভাষায় এবারের নোবেলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো ‘নন-লিনিয়ার ইফেক্ট’ বা অ-সরলরৈখিক প্রভাব। শব্দটা শুনতে খটমটে লাগলেও ব্যাপারটা কিন্তু ওই পাটিগণিতের হিসাব না মেলার মতোই সহজ। বাস্তব জীবনের একটা উদাহরণ দেওয়া যাক। ধরুন, কোনো ক্লাসের ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার আগে একটা বিশেষ গাইডলাইন দেওয়া হলো। সরল হিসাবে আশা করা যায়, ওই ক্লাসের সাফল্যের হারও ৬০ শতাংশের আশপাশেই থাকবে। কিন্তু রেজাল্ট বের হওয়ার পর দেখা গেল, সাফল্যের হার ৯০ শতাংশ! কারণ, ওই ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থী শুধু সংখ্যায় বেশি ছিল না, তারা বাকি ৪০ শতাংশের ওপর এমন প্রভাব ফেলেছে। সেটাই পুরো ক্লাসের সাফল্যের হার বদলে দিয়েছে।</p><p>রাসায়নিক বিক্রিয়াতেও ঘটে ঠিক একই ঘটনা। অণুগুলো কীভাবে একে অপরের সঙ্গে জোট বাঁধে বা বিক্রিয়া করে, সেটাই পালটে দেয় পুরো ফলাফল। কাগানের এই যুগান্তকারী কাজ রসায়নবিদদের বুঝিয়ে দিল, কাইরালিটি শুধু কোনো অণুর নিজস্ব বৈশিষ্ট্য নয়, বরং এক অণু অন্য অণুর সঙ্গে কীভাবে মিশছে, তার ওপরই নির্ভর করছে পুরো বিক্রিয়ার ভবিষ্যৎ।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/cnzid3s4z4">আলোর সাহায্যে কীভাবে মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রণ করা যায়, জানালেন নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী কার্ল ডাইসারোথ</a></aside><blockquote>যেহেতু ডান-ডান জুটি বেশি সক্রিয়, তাই বিক্রিয়া শেষে উৎপাদে ডান-হাতি অণুর পরিমাণ ৭৫ শতাংশ ছাড়িয়ে হয়তো ৯০ শতাংশে গিয়ে ঠেকবে!</blockquote><p>এই তথ্য কাজে লাগিয়ে সেগুলো বিক্রিয়াকে নিজেদের মতো করে সাজাতে পারে, যাতে একদম নিখুঁত ও বিশুদ্ধ এনানসিওমার পাওয়া যায়। এ কারণে কাগানের আবিষ্কার পরে নতুন নতুন অপ্রতিসম রাসায়নিক বিক্রিয়া নকশা করার গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ওষুধ, সুগন্ধি, স্বাদ, কৃষি রাসায়নিক এবং নতুন উপাদান তৈরিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি নতুন ধরনের বস্তু তৈরির ক্ষেত্রেও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তবে এখানেই গল্পের শেষ নয়।</p><p>কাগানের পর বিজ্ঞানীদের মাথায় আরও একটি কঠিন প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে লাগল। কাগান তো দেখালেন, শুরুতে থাকা সামান্য পার্থক্য কীভাবে বিশাল হয়ে ওঠে। কিন্তু শুরুতে যদি কোনো পার্থক্যই না থাকে, তবুও কি কোনো অণু নিজেই নিজের সংখ্যা বহুগুণে বাড়াতে পারে?</p><p>রসায়নের দুনিয়ায় অটোক্যাটালাইসিস বা স্বয়ংক্রিয় অনুঘটকের ধারণা নতুন নয়। সহজভাবে বললে, কোনো বিক্রিয়ায় যে পদার্থটি তৈরি হচ্ছে, সেটি নিজেই যদি আবার নিজেকে তৈরির কাজটা বাড়িয়ে দেয়, তবে তাকে সয়ংক্রিয় অনুঘটক বা স্ব-অনুঘটক বলে। </p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/mtzwn39t/4.png"></figure><p>একটা সহজ উদাহরণ আছে। ইথাইল অ্যাসিটেট ভাঙার একটি বিক্রিয়ায় অ্যাসিটিক অ্যাসিড অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। এতে অ্যাসিটিক অ্যাসিড তৈরি হয়। অর্থাৎ একটা তৈরি হওয়া পদার্থ আবার নিজেকে তৈরি করতে সাহায্য করতে পারে।</p><p>আরেকটু সহজভাবে বলি। ধরুন, আপনি একটি বুদ্ধিমান রোবট বানালেন। রোবটটা হুবহু তার নিজের মতোই আরেকটা রোবট বানাতে পারে। তাহলে এখন রোবট হলো দুটি। একটি আপনি বানিয়েছেন, অন্যটি রোবটটি নিজে বানিয়েছে। এবার ওই দুটি রোবট আবার দুটি রোবট বানাবে। তাহলে হবে চারটি রোবট। চারটি থেকে হবে আটটি…এভাবে রোবটের সংখ্যা বাড়তেই থাকবে।</p><p>কিন্তু কেনসো সোআইয়ের সামনে আরও কঠিন প্রশ্ন ছিল।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/cx4eeolb3k">যে আবিষ্কারের কারণে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন তিন বিজ্ঞানী</a></aside><blockquote>সহজভাবে বললে, কোনো বিক্রিয়ায় যে পদার্থটি তৈরি হচ্ছে, সেটি নিজেই যদি আবার নিজেকে তৈরির কাজটা বাড়িয়ে দেয়, তবে তাকে সয়ংক্রিয় অনুঘটক বা স্ব-অনুঘটক বলে।</blockquote><h2><strong>চার</strong></h2><p>এই নন-লিনিয়ার ইফেক্ট নিয়ে কাজ করতে গিয়ে একটি দারুণ ব্যাপার খেয়াল করলেন জাপানের টোকিও ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্সের রসায়নবিদ কেনসো সোআই। তিনি দেখলেন, তাঁর বিক্রিয়ায় যে অনুঘটক ব্যবহার করা হচ্ছে এবং বিক্রিয়া শেষে যে উৎপাদ পাওয়া যাচ্ছে, তাদের আণবিক কাঠামোর মধ্যে বেশ মিল আছে। তখন সোআইয়ের মাথায় এক অদ্ভুত বুদ্ধি এল। তিনি ভাবলেন, এমন কোনো বিক্রিয়া কি ডিজাইন করা সম্ভব, যেখানে বাইরে থেকে কোনো প্রভাবক দিতে হবে না, বরং বিক্রিয়ায় তৈরি হওয়া অণুটি নিজেই নিজের প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে?</p><p>শুরু হলো দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষা। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে এমন কয়েকটি বিক্রিয়ার কথা জানা থাকলেও, তার কোনোটিই কাইরাল বা অপ্রতিসম ছিল না। কিন্তু সোআই হাল ছাড়ার পাত্র নন। দিনের পর দিন পরীক্ষা চালানোর পর ১৯৯৫ সালে তিনি একটি যুগান্তকারী গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন।</p><p>সেখানে তিনি দেখান, তিনি একটি এনানসিওমারের মাত্র ২ শতাংশ বেশি পরিমাণ নিয়ে বিক্রিয়া শুরু করেছিলেন। কিন্তু বিক্রিয়াটি এতই স্বয়ংক্রিয় ছিল যে, সেটি নিজেই নিজের পক্ষে কাজ করতে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত সেই এনানসিওমারের পরিমাণ ৮৭ শতাংশে গিয়ে পৌঁছায়! অর্থাৎ, শুরুতে পার্থক্য ছিল যৎসামান্য। কিন্তু সেই সামান্য পার্থক্যই চক্রবৃদ্ধি হারে নিজের ক্ষমতা বাড়িয়ে নিয়েছে। একেই বলা যায় সেলফ-রেইনফোর্সিং বা স্ব-শক্তিবর্ধক।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/mogl1qvu35">আলো দিয়ে স্নায়ু নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি অপটোজেনেটিকসে চিকিৎসাবিজ্ঞানের নোবেল</a></aside><blockquote>শুরু হলো দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষা। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে এমন কয়েকটি বিক্রিয়ার কথা জানা থাকলেও, তার কোনোটিই কাইরাল বা অপ্রতিসম ছিল না। কিন্তু সোআই হাল ছাড়ার পাত্র নন।</blockquote><p>সোআইয়ের লক্ষ্য ছিল আরও বড়। তিনি এমন একটি বিক্রিয়া খুঁজছিলেন, যা পৃথিবীর বুকে প্রথম প্রাণের উৎপত্তির মতোই একদম শূন্য থেকে শুরু হবে। ২০০৩ সালে তিনি সেই অসাধ্য সাধন করলেন। ব্যাপারটা বুঝতে কয়েন টসের উদাহরণ দেওয়া যায়। আপনি একটি কয়েন ছুড়লে হেড বা টেল পড়ার সম্ভাবনা অর্ধেক অর্ধেক। শুরুতে পরপর দু-একবার হেড আসাটা নিতান্তই ভাগ্যের ব্যাপার। কিন্তু প্রথমবার হেড আসার পর যদি কয়েনের ভেতরে এমন কোনো ম্যাজিক শুরু হয় যে, পরের বার হেড আসার সম্ভাবনা আরও বেড়ে যাবে? তাহলে কয়েকবার কয়েন টসের পর দেখা যাবে শুধু হেডই আসছে!</p><p>সোআইয়ের বিক্রিয়াটিও ঠিক এভাবেই কাজ করে। তিনি নন-কাইরাল দ্রবণ দিয়ে বিক্রিয়া শুরু করেন। বিক্রিয়ায় ডান ও বাঁ উভয় রূপই তৈরি হতে থাকে। কিন্তু নিতান্তই ভাগ্যের জোরে কোনো একটি রূপ সামান্য একটু বেশি তৈরি হয়ে যায়। এই অতি সামান্য আধিক্যই (০.০০০০৫ শতাংশ) পুরো বিক্রিয়ার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য যথেষ্ট। তিনবার নতুন উপাদান যোগ করার পর দেখা যায়, ওই নির্দিষ্ট এনানসিওমারটি পুরো বিক্রিয়া দখল করে নিয়েছে। আর তার পরিমাণ ছাড়িয়ে গেছে ৯৯.৫ শতাংশ! অর্থাৎ শুরুতে যে পার্থক্য প্রায় চোখেই পড়ে না, রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সেটিই হয়ে গেছে বিশাল বড়। একেই রসায়নের ইতিহাসে বিখ্যাত সোআই রিঅ্যাকশন বলা হয়।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/biology/zcxdn67h2u">অপটোজেনেটিকস আবিষ্কার করে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন তিন বিজ্ঞানী</a></aside><blockquote>সোআই নন-কাইরাল দ্রবণ দিয়ে বিক্রিয়া শুরু করেন। বিক্রিয়ায় ডান ও বাঁ উভয় রূপই তৈরি হতে থাকে। কিন্তু নিতান্তই ভাগ্যের জোরে কোনো একটি রূপ সামান্য একটু বেশি তৈরি হয়ে যায়।</blockquote><p>এখানে আরও একটি মজার বিষয় আছে। সোআই যদি একই বিক্রিয়াটি আবার নতুন করে শুরু করেন, তাহলে আগেরবার যে রূপটি  রাজত্ব করেছিল, এবারও যে সে-ই জিতবে তার কোনো গ্যারান্টি নেই! মানে প্রথমবার ডান-হাতি রুপটি বেশি পাওয়া গেলে দ্বিতীয়বারও যে ডান-হাতি রূপ বেশি পাওয়া যাবে, এমন কোনো গ্যারান্টি নেই। পরের বার হয়তো বাঁ-হাতি এনানসিওমারটি পুরো বিক্রিয়া দখল করে নিতে পারে। কারণ, শুরুতে ভাগ্যের জোরে ঠিক কোন রূপটি সামান্য একটু বেশি তৈরি হবে, তা আগে থেকে বলা মুশকিল। কিন্তু একবার যে রূপটি এই দৌড়ে চুল পরিমাণ এগিয়ে যায়, এই স্বয়ংক্রিয় অনুঘটক প্রক্রিয়া সেটাই বিজয়ের মুকুট পরিয়ে দেয়। এভাবেই কোটি কোটি বছর আগে হয়তো প্রকৃতিও ভাগ্যের জোরে আমাদের জীবনের জন্য শুধু বাঁ-হাতি অণুগুলোই বেছে নিয়েছিল!</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/feature/v8cspn1s31">নোবেল পেতে কেমন লাগে</a></aside><blockquote>সোআই যদি একই বিক্রিয়াটি আবার নতুন করে শুরু করেন, তাহলে আগেরবার যে রূপটি  রাজত্ব করেছিল, এবারও যে সে-ই জিতবে তার কোনো গ্যারান্টি নেই!</blockquote><h2><strong>পাঁচ</strong></h2><p>এবার চলুন টাইম মেশিনে চড়ে পৃথিবীর একদম শুরুর দিনগুলোতে ফিরে যাই। শুরুতে যদি ডান ও বাঁ-হাতি অ্যামিনো অ্যাসিড সমান সমান তৈরি হয়ে থাকে, তাহলে কোটি কোটি বছর ধরে জীবজগত কেন শুধু একটি রূপই বেছে নিল? কেন আমাদের প্রোটিনগুলো শুধু বাঁ-হাতি, আর ডিএনএর শর্করাগুলো শুধুই ডান-হাতি?</p><p>এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই ১৯৫৩ সালে চার্লস ফ্র্যাংক একটি চমৎকার গাণিতিক মডেল প্রস্তাব করেন। তাঁর মতে, তিনটি শর্ত পূরণ হলে শুরুতে থাকা খুব সামান্য একটি পার্থক্য ধীরে ধীরে বিশাল আকার ধারণ করে পুরো রাজত্ব দখল করে নিতে পারে। প্রথমত, বিক্রিয়াটি অপ্রতিসম হতে হবে। দ্বিতীয়ত, একটি প্রতিবিম্ব তৈরির হার বাড়িয়ে অন্যটি তৈরিতে বাধা দিতে হবে। তৃতীয়ত, তৈরি হওয়া পদার্থকে নিজের বিক্রিয়ায় অনুঘটক হিসেবে কাজ করতে হবে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/feature/ijx1ghsddo">নোবেল জেতার সহজ উপায়</a></aside><blockquote>চার্লস ফ্র্যাংকের মতে, তিনটি শর্ত পূরণ হলে শুরুতে থাকা খুব সামান্য একটি পার্থক্য ধীরে ধীরে বিশাল আকার ধারণ করে পুরো রাজত্ব দখল করে নিতে পারে।</blockquote><p>কাগান এবং সোআইয়ের কাজ মূলত ফ্র্যাংকের এই তাত্ত্বিক মডেলই বাস্তবে প্রমাণ করে দেখিয়েছে। এই দুই বিজ্ঞানীর কাজকে যদি আমরা একদম সহজ করে বলি, তাহলে ব্যাপারটা দাঁড়ায় এ রকম—অঁরি কাগান দেখিয়েছেন, রাসায়নিক বিক্রিয়ায় শুরুতে যে সামান্য পার্থক্য বা অসমতা থাকে, তা সবসময় পাটিগণিতের সরল নিয়মে এগোয় না। অণুগুলোর পারস্পরিক মেলামেশার কারণে সেই সামান্য পার্থক্যই বিক্রিয়া শেষে অনেক বড় হয়ে ধরা দিতে পারে। অন্যদিকে, কেনসো সোআই আরেক ধাপ এগিয়ে দেখালেন, বিক্রিয়ায় তৈরি হওয়া অণুটি যদি নিজেই নিজের অনুঘটক হয়ে যায়, তাহলে সেই সামান্য পার্থক্যটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চক্রবৃদ্ধি হারে নিজেকে বাড়াতে থাকে।</p><p>সহজ কথায়, কাগান দেখালেন কীভাবে পার্থক্য বাড়ানো যায়, আর সোআই দেখালেন কীভাবে সেই পার্থক্য নিজেই নিজেকে বহুগুণে বাড়িয়ে তোলে। এই দুটো কাজকে একসঙ্গে মেলালেই বোঝা যায়, কেন তাঁদের এই যুগান্তকারী আবিষ্কার নোবেল পুরস্কারের দাবিদার।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/feature/8itfeuyiqn">নোবেল পুরস্কারের সোনার মেডেলে অন্যপাশে কী থাকে</a></aside><blockquote>কেনসো সোআই আরেক ধাপ এগিয়ে দেখালেন, বিক্রিয়ায় তৈরি হওয়া অণুটি যদি নিজেই নিজের অনুঘটক হয়ে যায়, তাহলে সেই সামান্য পার্থক্যটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চক্রবৃদ্ধি হারে নিজেকে বাড়াতে থাকে।</blockquote><h2><strong>ছয়</strong></h2><p>তাঁদের এই গবেষণা শুধু পৃথিবীতে প্রাণের সূচনা কীভাবে হয়েছিল, তা বুঝতে সাহায্য করছে না, বরং কাগানের আবিষ্কৃত নন-লিনিয়ার ইফেক্ট এখন রসায়নবিদদের প্রতিদিনের কাজের অপরিহার্য হাতিয়ার। বিক্রিয়ার ফলাফল দেখেই বিজ্ঞানীরা এখন বুঝতে পারেন, ভেতরে অণুগুলো কীভাবে কাজ করছে। এই জ্ঞান কাজে লাগিয়ে তাঁরা এখন এমন সব বিক্রিয়া ডিজাইন করছেন, যা দিয়ে একদম নিখুঁত ওষুধ তৈরি করা যায়। কোনো ওষুধের অণুর দুটি রূপ থাকলে বিজ্ঞানীরা এখন সহজেই শুধু দরকারি রূপটিই বিশুদ্ধভাবে তৈরি করতে পারেন। শুধু ওষুধ নয়; সুগন্ধি, স্বাদ বাড়ানোর উপাদান, কৃষিকাজের রাসায়নিক এবং নতুন ধরনের উপাদান তৈরির ক্ষেত্রেও তাঁদের এই আবিষ্কার এক বিপ্লব ঘটিয়েছে।</p><p>তবে এখানে একটু সতর্ক হওয়া দরকার। সোআইয়ের বিক্রিয়াটি ল্যাবরেটরিতে তৈরি একটি কৃত্রিম বিক্রিয়া। এর মানে এই নয় যে, আজ থেকে প্রায় ৪০০ কোটি বছর আগে পৃথিবীতে ঠিক এই রাসায়নিক বিক্রিয়াটির মাধ্যমেই প্রাণের শুরু হয়েছিল। জীবনের একেবারে শুরুতে ঠিক কী ঘটেছিল, তার ১০০ ভাগ নিশ্চিত উত্তর হয়তো আমরা কখনোই পাব না।</p><p>তবে সোআইয়ের কাজ সারা বিশ্বের বিজ্ঞানীদের মধ্যে জীবনের উৎপত্তি নিয়ে এক নতুন উন্মাদনা তৈরি করেছে। কারণ, তাঁর কাজ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করে দিয়েছে, রসায়নের নিয়মের মধ্যেই নন-কাইরাল অণু থেকে হোমোকাইরালিটি অণু তৈরি হওয়া সম্ভব।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/feature/%E0%A6%86%E0%A6%B2%E0%A6%AB%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%A1-%E0%A6%A8%E0%A7%8B%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%89%E0%A6%87%E0%A6%B2-%E0%A6%8F%E0%A6%AC%E0%A6%82-%E0%A6%A8%E0%A7%8B%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%B2-%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0">আলফ্রেড নোবেলের উইল এবং নোবেল পুরষ্কার</a></aside><blockquote>সোআইয়ের বিক্রিয়াটি ল্যাবরেটরিতে তৈরি একটি কৃত্রিম বিক্রিয়া। এর মানে এই নয় যে, আজ থেকে প্রায় ৪০০ কোটি বছর আগে পৃথিবীতে ঠিক এই রাসায়নিক বিক্রিয়াটির মাধ্যমেই প্রাণের শুরু হয়েছিল।</blockquote><p>এ বারের নোবেল পুরস্কারের ঘোষণাটি শুনলে যে কারও একটু ভয় লাগতে পারে—‘অপ্রতিসম জৈব সংশ্লেষণে অরৈখিক প্রভাব ও স্ব-অনুঘটন আবিষ্কারের জন্য তাঁরা নোবেল পেয়েছেন।’ শব্দগুলো বেশ খটমটে, তাই না? কিন্তু এর ভেতরের গল্পটা ভীষণ সুন্দর। প্রকৃতির অনেক অণুই আয়নার প্রতিবিম্বের মতো দুটো রূপে থাকতে পারে। কিন্তু জীবজগৎ তার মধ্যে শুধু একটিকেই বেছে নিয়েছে। এই একটিকে বেছে নেওয়ার ঘটনা কীভাবে ঘটল, তা ছিল রসায়নের সবচেয়ে বড় রহস্যগুলোর একটি।</p><p>কাগান দেখালেন, রাসায়নিক বিক্রিয়ায় সামান্য ডান-বাঁয়ের পার্থক্যকে কীভাবে আরও বড় করা যায়। আর সোআই দেখালেন, সেই পার্থক্যকে কীভাবে এমন এক জাদুকরি পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যায়, যেখানে তৈরি হওয়া অণু নিজেই আবার নিজেকে তৈরি করতে পারে। রসায়নের এই অপ্রতিসম রহস্য সমাধানের অসামান্য স্বীকৃতি হিসেবেই অঁরি কাগান ও কেনসো সোআই পেলেন এই পুরস্কার।</p><h4>সূত্র: নোবেল প্রাইজ ডটঅর্গ</h4><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/feature/4lt6y95vxx">নোবেল নিয়ে পাঁচ তথ্য</a></aside>

Prothomalo

View more
যেভাবে রক্ষা পেল বাংলাদেশের স্যাটেলাইট
যেভাবে রক্ষা পেল বাংলাদেশের স্যাটেলাইট

যেভাবে রক্ষা পেল বাংলাদেশের স্যাটেলাইট

অক্টোবর ৭, ২০২৬
আংটি পরানোর প্রথা কবে শুরু হলো
আংটি পরানোর প্রথা কবে শুরু হলো

বিয়ের রীতিনীতি কিংবা ঐতিহ্যের অন্যতম একটি অংশ আংটিবদল। এই প্রথা প্রতিটি পরিবারের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে গেছে। তবে রীতির প্রচলন এমনি এমনি হয়নি। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস।

অক্টোবর ৭, ২০২৬
উপাচার্যকে হেনস্তা করার প্রতিবাদে মানববন্ধন, ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম
উপাচার্যকে হেনস্তা করার প্রতিবাদে মানববন্ধন, ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে হেনস্তা করে পদত্যাগপত্রে সই করানোর অভিযোগের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন চিকিৎসক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

অক্টোবর ৭, ২০২৬
তৈরি পোশাকশ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার
তৈরি পোশাকশ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার

<p>শ্রমিক সংগঠনের দাবির মুখে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের জন্য নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। চলতি মাসেই মজুরি বোর্ড গঠিত হতে পারে—এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন শ্রম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।</p><p> জানা যায়, গত সপ্তাহে সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, শ্রমসচিব মো. আবদুর রহমান তরফদার, তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ও নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের জন্য নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়।</p><p>বিষয়টি নিশ্চিত করে শ্রমসচিব মো. আবদুর রহমান তরফদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘তৈরি পোশাকশিল্পে মজুরি পুনর্নির্ধারণের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া আমরা শুরু করেছি। প্রথমেই মালিক ও শ্রমিকপক্ষের কাছে থেকে তাদের প্রতিনিধির নাম চাওয়া হবে। তারপরই মজুরি বোর্ডের প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।’ তিনি জানান, মালিক ও শ্রমিকপক্ষের নাম পাওয়া গেলে চলতি মাসেই মজুরি বোর্ড গঠন করা হবে।</p><p>সরকার শ্রম আইন সংশোধন করে শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময়কাল পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর নির্ধারণ করেছে। তৈরি পোশাকশ্রমিকদের সর্বশেষ ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হয়েছিল ২০২৩ সালের নভেম্বরে। আর কার্যকর হয় ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে। আগামী নভেম্বরে মজুরি ঘোষণার তিন বছর পূর্ণ হবে।</p><p>শ্রম আইন সংশোধন হওয়ার পর, নাকি আগে থেকে তিন বছর সময় গণনা করা হবে, তা নিয়ে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের ভিন্নমত রয়েছে। শ্রমিকনেতারা বলছেন, আইন অনুযায়ী চলতি বছরই নতুন মজুরিকাঠামো করতে হবে। অন্যদিকে মালিকপক্ষের নেতারা বলছেন, আইন পাসের পর থেকেই সময় গণনা হওয়া উচিত।</p><p>এ বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রমসচিব মো. আবদুর রহমান তরফদার বলেন, মালিক, শ্রমিক ও সরকারের শ্রমসংক্রান্ত কারিগরি কমিটির সভায় বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। সেখানে সম্ভব না হলে জাতীয় ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের (টিসিসি) সভায় যাবে। সেখানেও না হলে সরকারের উচ্চপর্যায় সিদ্ধান্ত নেবে।</p><p>২০২৩ সালে তৈরি পোশাক খাতের ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার ৫০০ টাকা হয়। এ ক্ষেত্রে মজুরি বৃদ্ধি পেয়েছিল ৫৬ দশমিক ২৫ শতাংশ। ওই মজুরিকাঠামোতে সাতটি গ্রেডের বদলে পাঁচটি গ্রেড করা হয়।</p><p>জানতে চাইলে বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম প্রথম আলোকে বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতির এই সময়ে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবি যৌক্তিক। একই সঙ্গে বাড়তি মজুরি দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি পোশাক কারখানার রয়েছে কি না, সেটিও দেখতে হবে। বর্তমান মজুরিকাঠামোতে বহু কারখানা টিকতে না পেরে বন্ধ হয়েছে। নতুন করে মজুরি বাড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে।</p>

অক্টোবর ৭, ২০২৬
হত্যার দুই বছর পর কবর থেকে সেলিম খান ও তাঁর ছেলের লাশ উত্তোলন
হত্যার দুই বছর পর কবর থেকে সেলিম খান ও তাঁর ছেলের লাশ উত্তোলন

<p>হত্যার দুই বছর পর কবর থেকে তোলা হয়েছে আলোচিত সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম খান ও তাঁর ছেলে চিত্রনায়ক শান্ত খানের লাশ। ৭ অক্টোবর তাঁদের লাশ তোলা হয়। বিস্তারিত ভিডিও প্রতিবেদনে…</p><figure></figure>

অক্টোবর ৭, ২০২৬
গেরিলা কায়দায় যন্তর মন্তরে যাওয়ার চেষ্টা, রাহুল-প্রিয়াঙ্কাকে পাঁজাকোলা করে তুলে নিয়ে গেল পুলিশ
গেরিলা কায়দায় যন্তর মন্তরে যাওয়ার চেষ্টা, রাহুল-প্রিয়াঙ্কাকে পাঁজাকোলা করে তুলে নিয়ে গেল পুলিশ

আজকের অভিযানের খবর পুলিশের কাছে ছিল না। ‘ইন্ডিয়া’ জোটও তা ঘোষণা করেনি। তাই জমায়েতের খবর পেয়ে পুলিশ জনপথ ঘিরে ফেলে।

অক্টোবর ৭, ২০২৬
১৩ মাসের বাচ্চাকে ২ লাখ টাকায় বিক্রি, দাদা-দাদিসহ পাঁচজন গ্রেপ্তার
১৩ মাসের বাচ্চাকে ২ লাখ টাকায় বিক্রি, দাদা-দাদিসহ পাঁচজন গ্রেপ্তার

এ ঘটনায় শিশুটির মা রোজিনা বেগম বাদী হয়ে মানব পাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে আজ সকালে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন।

অক্টোবর ৭, ২০২৬
ছুটে আসছিল স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ, যেভাবে রক্ষা পেল বাংলাদেশের স্যাটেলাইট
ছুটে আসছিল স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ, যেভাবে রক্ষা পেল বাংলাদেশের স্যাটেলাইট

স্যাটেলাইটের কাছ দিয়ে কোনো বস্তু যাওয়ার সময় সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি হয়। ২০০৯ সালে রাশিয়ার অকেজো একটি স্যাটেলাইটের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্যাটেলাইটের সংঘর্ষ হয়েছিল। এতে দুটি স্যাটেলাইটই ধ্বংস হয়ে যায়।

অক্টোবর ৭, ২০২৬
কুষ্টিয়ায় ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে দুই যুবককে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ
কুষ্টিয়ায় ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে দুই যুবককে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ

পরিবার দুটির অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন কুষ্টিয়া জেলা ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক উল ইসলাম। তাঁর দাবি, পুলিশের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ সঠিক নয়।

অক্টোবর ৭, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন