bangladesh

চাকরি ছেড়ে আঙুর বাগান, বছরে লাখ টাকা লাভের সম্ভাবনা

নভেম্বর ৪, ২০২৬
চাকরি ছেড়ে আঙুর বাগান, বছরে লাখ টাকা লাভের সম্ভাবনা
চাকরি ছেড়ে আঙুর বাগান, বছরে লাখ টাকা লাভের সম্ভাবনা
রংপুরের পীরগঞ্জে ২৪ শতক জমিতে বিদেশি জাতের আঙুর চাষ করে সাড়া ফেলেছেন তরুণ উদ্যোক্তা তাওহিদ মিয়া।

Prothomalo

View more
সংস্কার: স্বপ্ন থেকে বাস্তবে
সংস্কার: স্বপ্ন থেকে বাস্তবে

<p>বাংলাদেশের সংবিধান প্রসঙ্গে দুটো পরস্পরবিরোধী কথা একসঙ্গে বলা যায়। বাংলাদেশের সংবিধান মুক্তিযুদ্ধের ফল। ১৯৬০–এর দশকের নিপীড়ক রাষ্ট্রবিরোধী সব সংগ্রামের প্রতিফলন এখানে আছে। কিছু ব্যতিক্রম বাদ দিলে দর্শন ও আকাঙ্ক্ষার বাণী দিয়ে বিচার করতে গেলে আমাদের সংবিধান অত্যন্ত অগ্রসর একটা দলিল। ব্যতিক্রমের মধ্যে অন্যতম হলো এই সংবিধানের উগ্র জাতীয়তাবাদী প্রবণতা, যা নিয়ে গণপরিষদেও কথা উঠেছিল।</p><p>অন্যদিকে এই একই সংবিধানকে কার্যপ্রক্রিয়ার দিক দিয়ে বিচার করা হলে দেখা যাবে, তা জনগণকে যথাসম্ভব ক্ষমতাহীন করেছে এবং ক্ষমতাকে করেছে এক ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত। গণপরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত একে এককথায় এভাবে প্রকাশ করেছিলেন, ‘পাকিস্তানের ১৯৬২ সালের সংবিধানে আইয়ুব খানকে কেন্দ্র করে যেভাবে যা রচিত হয়েছিল, ঠিক আজকে আমাদের ১৯৭২ সালের বাংলাদেশের সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীকে কেন্দ্র করে সেইভাবে তাই রচনা করা হয়েছে।’</p><p>বাংলাদেশের সংবিধানের এই বৈপরীত্য নিয়ে সংবিধান প্রণয়নের সময়েই কথা উঠেছিল, গণপরিষদ সদস্য মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা বলেছিলেন, ‘এক হাতে অধিকার দেওয়া হয়েছে এবং অন্য হাতে সেটা কেড়ে নেওয়া হয়েছে।’ </p><p>বহু দশক পর সংবিধানের দর্শন ও কার্যপ্রক্রিয়ার এই বৈপরীত্যই রাজনীতির মাঠে প্রধান প্রশ্ন হিসেবে সামনে চলে এসেছে।</p><p><strong>২</strong></p><p>পৃথিবীজুড়েই এখন সংস্কারের মৌসুম চলছে। শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশের পথ ধরে নেপালেও সরকার উড়ে গেল। ভারতের তরুণেরা বহু দশক পর রাজপথ উত্তাল করেছে। এরপর এল ইউরোপজুড়ে বিক্ষোভের ঢেউ।</p><p>দুনিয়াজুড়ে এই তারুণ্যের বিদ্রোহের মধ্যে কি কোনো গোপন যোগসাজশ, কোনো গোপন ঐকতান আছে, যেমন ছিল অগ্নিঝরা ১৯৬০–এর দশকের ছাত্র আন্দোলনে, কিংবা ২০ বছর আগেকার আরব বসন্তে? কিংবা তাদের আকাঙ্ক্ষার ধরনে কি কোনো সাদৃশ্য আছে?</p><p>মিলের জায়গা একটাই। আন্দোলনগুলোর সূচনা হয়েছে কিছু একটার প্রতিবাদে তরুণদের বিক্ষোভে ফেটে পড়া থেকে। তারপর কোনো কোনো আন্দোলনে শ্রমিক, মধ্যবিত্ত, অন্যান্য রাজনৈতিক দল নানান মাত্রায় যুক্ত হয়েছে। কিন্তু আন্দোলনের সূচনার সূচিমুখ হিসেবে সব সময় তরুণেরাই থেকেছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-03/rmwagu6y/Prothomalo-Atol28.jpeg"></figure><p>বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের মিলটা এখানে দেখা যাক। বাংলাদেশের বৈষম্যবিরোধী তরুণদের অপমানসূচকভাবে ‘রাজাকার’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন সরকারি লোকজন। বলা যায়, ২০১৮ সাল থেকে তরুণদের কয়েকবারের বিস্ফোরণের পরিণতি হলো চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থান। ভারতের এই তরুণদের ‘তেলাপোকা’ বলে অভিহিত করেছিলেন সেখানকার প্রধান বিচারপতি। প্রতিবাদে ‘তেলাপোকা’ পরিণত হলো বিদ্রোহের প্রতীকে। তারা একভাবে এমন একটা ন্যায্যতার ভাবমূর্তি তৈরি করতে পেরেছে যে বাকি সব রাজনৈতিক দলকে তাদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই আন্দোলনে নামতে হয়েছে।</p><p>ফ্রান্সের তরুণদেরও একটা কথা বারবার উচ্চারিত হয়েছে—আমাদের কথা কেউ শুনতে চায় না। শ্রেণিকক্ষের পরিস্থিতি নিয়ে যে আন্দোলনের সূচনা, তা শেষ পর্যন্ত শ্রেণিগত, বণবাদী, জাতিগত এবং সম্পদের বৈষম্যের বিষয়গুলো নিয়ে সর্বস্তরের ক্ষোভকে ভাষা দিয়েছে। </p><p>অমিলের জায়গাও অনেক। কিন্তু অমিলগুলোর একটা বড় কারণ সম্ভবত রাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়ার ধরন থেকে এসেছে। বাংলাদেশে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের মতো ঘটনায় যেভাবে শিশুদের রক্ত ঝরানো হয়েছিল, কোটা আন্দোলনে হাতুড়ি আর হেলমেটের যে দাপট মানুষ দেখেছে এবং সর্বশেষ গণ–অভ্যুত্থানের শুরু থেকেই পুলিশ-র্যাব-বিজিবি যেভাবে বেপরোয়া গুলিবর্ষণ ও অন্যান্য ধরনের নিপীড়ন করেছে, তা দুনিয়াজুড়ে সাম্প্রতিক সময়ের কোনো আন্দোলনেই এতটা ছিল না। অথচ শেষ অধ্যায়ের আগপর্যন্ত বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলন শুধু অহিংস ছিল না, নিজের বৈধতা উৎপাদনের ভাষাতেও হিংসাত্মক আহ্বান প্রায় ছিল না।</p><blockquote>বাংলাদেশে সাংবিধানিক সংকট বলি, অর্থনৈতিক সংকট বলি, সমাজের গতিশীলতার সংকট বলি—সব একটা সূচিমুখে জমা হয়েছে। তা হলো বিদ্যমান বন্দোবস্ত তরুণ সমাজের সম্ভাবনা বিকাশের পথ রুদ্ধ করে দিয়েছে। এটা সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।</blockquote><p>কারণ, এই দেশগুলোর গণতন্ত্রের ক্ষয়িষ্ণুতা নিয়ে, বৈষম্য নিয়ে, সম্পদের নিয়ন্ত্রণ যতই আলোচনা করা হোক না কেন, সেখানে এখনো শক্তিশালী সব প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রীয়ভাবে কার্যকর রয়েছে। আর বাংলাদেশে সংবিধানের আদি প্রবণতাগুলো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আদৌ তৈরিই হতে দেয়নি।</p><p>এ কারণেই বাংলাদেশে সংবিধানের সংস্কারের প্রশ্নটা বারবার আসছে। সেটা সংস্কারের মাধ্যমে অর্জিত হবে, নাকি বিপ্লবাত্মক রূপ নিতে পারে, সেই বিষয়ে ভাবনাটা জরুরি। কেননা, যেকোনো রাষ্ট্র ও সমাজে কোনো একটা কাঠামোগত বিভাজন কিংবা বৈষম্য যদি ক্রমেই বাড়তে থাকে এবং রাজনীতির প্রক্রিয়াগুলো তা অনুধাবন করতে, তার সমাধান সন্ধান করতে ব্যর্থ হয়, মানুষ যখন বুঝতে পারে, স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় তাদের নালিশ কেউ শুনবে না, রাজনীতির চেনা পথগুলোয় তার সমাধান নেই, তখনই একটা পর্যায়ে বিস্ফোরণগুলো ঘটে। বিস্ফোরণ প্রতিদিন ঘটে না বলে আমরা ধরে নিই মানুষ শান্ত আছে, মানুষ মেনে নিয়েছে। রাজনীতিতে এটা একটা অত্যন্ত ভুল ‘ধরে নেওয়া’।</p><p><strong>৩</strong></p><p>জনগোষ্ঠীর মনে যখন ক্ষোভ–অসন্তোষ জমে ওঠে, তখন শাসকেরা যোগ্য ও বিচক্ষণ হলে সংস্কারের পথে তার নিরসন হয়। শাসকেরা অযোগ্য, দুর্নীতিপরায়ণ কিংবা অন্ধ হলে বিস্ফোরণ বা সহিংসতায় তার প্রকাশ ঘটে। এ কারণেই সমাজে কী কী অসন্তোষ ধূমায়িত হচ্ছে, তা নিয়ে সচেতন থাকা যেকোনো বুদ্ধিমান শাসকের কর্তব্য।</p><p>বাংলাদেশে সাংবিধানিক সংকট বলি, অর্থনৈতিক সংকট বলি, সমাজের গতিশীলতার সংকট বলি—সব একটা সূচিমুখে জমা হয়েছে। তা হলো বিদ্যমান বন্দোবস্ত তরুণ সমাজের সম্ভাবনা বিকাশের পথ রুদ্ধ করে দিয়েছে। এটা সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।</p><blockquote>রাষ্ট্রের শাসনতান্ত্রিক কাঠামো যদি কতিপয়ের হাতে কুক্ষিগত থাকে, তাহলে তরুণ উদ্যোক্তা, তরুণ পণ্ডিত, তরুণ চিকিৎসক, তরুণ প্রকৌশলী, তরুণ বুদ্ধিজীবী—কেউই নিজের সম্ভাবনা বিকশিত করার যথেষ্ট পরিসর পান না। </blockquote><p>গণ–অভ্যুত্থানের কল্যাণে রাজনীতিতে কিছু তরুণ মুখ এসেছেন। কিন্তু তাঁদেরও একটা বড় অংশ রাষ্ট্রচিন্তার ক্ষেত্রে পুরোনো বন্দোবস্তের লোক। ফলে এত বড় একটা গণ–অভ্যুত্থানের ফল হয়েছে কিছু নতুন মুখের অন্তর্ভুক্তি।</p><p>রাজনীতি করে, রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় নিজেকে গড়ে তুলে নিজেকে জনগণের সামনে নেতৃত্ব আকারে হাজির করা বাংলাদেশ থেকে বলতে গেলে উধাও হয়েছে। গত সরকারের আমলে আমরা দেখেছি, রাজনৈতিক দলে জায়গা করে নেওয়া ও পদোন্নতির জন্য প্রধান যে গুণটা প্রয়োজন ছিল, তা গুন্ডামি। বহু ক্ষেত্রেই গুন্ডারা আলোকচিত্রীদের অনুরোধ করতেন তাঁদের নৃশংসতার ছবি ছাপাতে, কারণ তাতে পদপদবিতে এগোনো যাবে।</p><p>এটা কিন্তু শুধু রাজনীতিতে নয়, অর্থনীতিরও অধিকাংশ পরিসরে প্রযোজ্য। যোগাযোগ ছাড়া কোনো সৎ উদ্যোক্তার পক্ষে টিকে থাকা মুশকিল। সাধারণভাবে দেশের উদ্যোক্তা শ্রেণি জিম্মি আমলাতন্ত্র ও রাজনৈতিক চক্রের কাছে। এর মধ্যে দ্বিতীয়টা পরিবর্তনশীল হলেও প্রথমটা পাকিস্তান আমল থেকেই অনড়-অচল।</p><p>এর প্রভাব সমাজে সর্বত্র পড়ে। রাষ্ট্রের শাসনতান্ত্রিক কাঠামো যদি কতিপয়ের হাতে কুক্ষিগত থাকে, তাহলে তরুণ উদ্যোক্তা, তরুণ পণ্ডিত, তরুণ চিকিৎসক, তরুণ প্রকৌশলী, তরুণ বুদ্ধিজীবী—কেউই নিজের সম্ভাবনা বিকশিত করার যথেষ্ট পরিসর পান না। </p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-03/crp3pk4a/Supply-6.png"><figcaption>ফিরোজ আহমেদ</figcaption></figure><p>তরুণদের সঙ্গে রাষ্ট্রের সংঘাত একেক রাষ্ট্রে একেক সময়ে একেক কারণে হয়। আবার, সংঘাত প্রকাশের ধরনেও ভিন্নতা থাকে। বাংলাদেশের বেলায় নিশ্চিত করে বলা যায়, বহু বছর ধরেই এ দেশের কম বয়সীরা রাষ্ট্রকে প্রতিবন্ধক হিসেবে বিবেচনা করেছেন। পুলিশ, রাজনীতিবিদ, আমলা, এমনকি সাধারণভাবে জ্যেষ্ঠ জনগোষ্ঠী—সবাই বর্গ আকারেই তরুণদের প্রতিপক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। ক্ষমতা কুক্ষিগত করার যে প্রক্রিয়া বাহাত্তরের সংবিধানে শুরু হয়েছিল, এটা তারই পরিণতি এবং এটা বিপজ্জনক। কোনো সমাজে স্বাভাবিক বিকাশের সুযোগ না থাকলে দুর্নীতি ও সহিংসতা সেই সমাজের সাধারণ বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়।</p><p>পঁচাত্তর–পরবর্তী শাসকেরা বাহাত্তরের সংবিধানে বিসমিল্লাহ, রাষ্ট্রধর্ম ইত্যাদি যুক্ত করলেও এর ক্ষমতাকাঠামোতে মৌলিক কোনো বদল করেনি। এর ব্যাখ্যায় বদরুদ্দীন উমর লিখেছিলেন, ‘তার কারণ গুণগতভাবেই এই সংবিধানটি এমন ছিল যে এই কাঠামোর ভেতর ছোটখাট কিছু সংশোধনীর মাধ্যমেই সামরিক শাসকেরা নিজেদের কাজকর্ম চালিয়ে নিতে পেরেছিল।’</p><p>অর্থাৎ উৎপাদনশীলতা নয়, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতা ব্যবহার–অপব্যবহার করে অবৈধ অর্থ আদায়, এমনকি নিয়োগ–বাণিজ্য পরিণত হয়েছে বিত্তবান হওয়ার প্রধান উপায়ে। ফলে বহু ক্ষেত্রেই এ দেশে পরিশ্রমী শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের চেয়ে রাজনীতিঘনিষ্ঠ ব্যক্তি ও আমলারা বেশি সম্পদশালী। সংবিধানের কাঠামো এই বাস্তবতা নির্মাণ করায় বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। এটাই সমাজে মোট সম্ভাব্য সুযোগ তৈরির সম্ভাবনাকে সীমিত করে রাখে, যার ছাপ আমরা দেখি সব পেশায়, এমনকি সৃজনশীল কর্মকাণ্ডেও।</p><p><strong>৪</strong></p><p>সংবিধান সংস্কার কমিশন বিদ্যমান সংবিধানের ক্ষমতাকাঠামোর সংস্কারে যে কয়টি সুপারিশ করেছে, সেগুলো হলো ক্ষমতার প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা, প্রধানমন্ত্রীর পদের একচ্ছত্র ক্ষমতা হ্রাস, বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ, শক্তিশালী স্থানীয় সরকারব্যবস্থা সুনিশ্চিতকরণ, মৌলিক অধিকারের আওতা সম্প্রসারণ, সাংবিধানিক সুরক্ষা ও বলবৎকরণ নিশ্চিতকরণ।</p><p>কিন্তু বাংলাদেশে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বলা যায়, সম্পদের প্রবাহের ওপর একচ্ছত্র কর্তৃত্ব কায়েম করা রাজনৈতিক সরকার ও আমলাতন্ত্র—উভয়েই এই বিষয়ে ন্যূনতম আগ্রহী থাকবে। অন্যদিকে তরুণ জনগোষ্ঠীকে এই ক্ষমতাকাঠামোতে বেঁধে রাখার যে বন্দোবস্ত কার্যকর ছিল, আওয়ামী লীগের অপসারণের মাধ্যমে সেটার অবসান ঘটেছে। আওয়ামী লীগের আমলের বড় সময়জুড়েই এ দেশের শিক্ষাঙ্গনগুলোয় প্রায় কবরের শান্তি বিরাজ করেছে, মাঝেমধ্যে যে শব্দটুকু শোনা গেছে, তা নিপীড়নের শিকারদের আর্তনাদ। নিরাপদ সড়কের আন্দোলন ও কোটা সংস্কারের প্রথম আন্দোলনকে হাতুড়িপেটা করে দমন করতে সক্ষম হয়েছিল হাসিনার সরকার। এমন কাজ এখন করা ততটা সহজ হবে না। চেষ্টা চলতে পারে, কিন্তু প্রতিরোধ ও প্রতিবাদও আগের চেয়ে অনেক দ্রুত সংগঠিত হবে।</p><p>কারণ, অজস্র ব্যর্থতা থাকলেও গণ–অভ্যুত্থানের অন্তত একটা বড় অর্জন হলো, তৃণমূল থেকে গণরুম-গেস্টরুমের মতো নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থার অপসারণ। চাঁদাবাজির মতো যত অভিযোগ সরকারি দলের বিরুদ্ধে থাকুক, অভ্যুত্থান–পরবর্তী বাংলাদেশের বিদ্যমান বাস্তবতার কারণেই আওয়ামী লীগের মতো করে তৃণমূলে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের কাঠামো তৈরি করা বিএনপির পক্ষে প্রায় অসম্ভব। ফলে সংস্কার না হলে বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তরুণদের সংঘাত বৃদ্ধি পেতে থাকবে। সংঘাতের পরণতিতে দঙ্গলবাজির নিপীড়ক সংস্কৃতি শক্তিশালী হবে, নাকি প্রগতিশীল আন্দোলনের বিকাশ ঘটাবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। সমুদ্রমন্থনের পর শুরুতে উঠে এসেছিল বিষ, তারপর অমৃত। অভ্যুত্থানের পর বিষাক্ত ও সহিংস দঙ্গলবাজির সংস্কৃতি আমরা দেখেছি। অমৃত উঠবে কি না, তা নির্ভর করবে রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতির ওপর।</p><p>এসব আলোচনা জরুরি, কেননা বাংলাদেশের তরুণেরা যদি সত্যিই ইতিবাচক আন্দোলনের পথে দানা বাঁধতে পারে, তাহলে গণ–অভ্যুত্থান যেসব সংস্কারের স্বপ্ন ও সম্ভাবনা তৈরি করেছিল, সেগুলো বাস্তবে রূপ পাবে। দার্শনিক কার্ল মার্ক্স যেমন বলেছিলেন, মানুষ গ্রহণ করলে তত্ত্ব নিজেই একটা বস্তুগত শক্তিতে পরিণত হয়। l</p> <p><strong>* ফিরোজ আহমেদ: </strong>লেখক ও রাজনৈতিক সংগঠক</p>

নভেম্বর ৪, ২০২৬
ট্টাম্পের কণ্ঠে বিদায়ের সুর!
ট্টাম্পের কণ্ঠে বিদায়ের সুর!

<p>যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির জয় নিশ্চিত করতে মরিয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনী বৈতরণি পার হতে তিনি নানা প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রণোদনার লোভনীয় প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে এর মধ্যেই ট্রাম্পের কণ্ঠে শোনা গেছে এক বিষণ্ন ও বিদায়ী সুর, যা মার্কিন রাজনীতিতে একটি যুগের অবসানের ইঙ্গিত দিচ্ছে।</p><p> কানসাসের স্যালিনা আঞ্চলিক বিমানবন্দরে নিজের মধ্যবর্তী নির্বাচনের শেষ র‍্যালিতে (রোববার) বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। ৩২ দিনের ৩০ সমাবেশের ইতি টেনেছিলেন স্যালিনায়। ১১ বছর ধরে চলা তাঁর কোলাহলপূর্ণ ও জমকালো রাজনৈতিক সমাবেশগুলোর ইতি টানার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আজ রাতেই আমি এটা বন্ধ করে দিচ্ছি। এটাই শেষ।’</p><blockquote>দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: dp@prothomalo.com</blockquote><p>বিভিন্ন সমাবেশে ট্রাম্প আবার প্রমাণ করেছেন রিপাবলিকান পার্টিতে তাঁর নিরঙ্কুশ আধিপত্য। রক কনসার্টের উন্মাদনা, ধর্মীয় পুনরুজ্জীবন আর ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উত্তেজনার এক অপূর্ব মিশ্রণ ছিল এই রাজনৈতিক সমাবেশগুলো। তবে নিজের নিম্ন জনসমর্থন এবং রাষ্ট্রপতির মেয়াদের অন্তিম পর্যায়ে এসে ট্রাম্প এমন এক ভবিষ্যতের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছেন, যেখানে হাজার হাজার ভক্তের উন্মাদনা ও গর্জনের সেই দিনগুলো হয়তো আর থাকবে না। ২০১৫ সালে আলাবামার মোবাইলে প্রথম বিশাল সমাবেশের পর থেকে ট্রাম্পের র‍্যালির ফরম্যাটে খুব একটা পরিবর্তন আসেনি। এলভিস প্রিসলি কিংবা ফ্র্যাঙ্ক সিনাত্রার গান, ট্রাম্পকে ‘ত্রাণকর্তা’ হিসেবে তুলে ধরা ভিডিও প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে শুরু হতো এই শো। ভাষণে ট্রাম্প বরাবরের মতোই ডেমোক্র্যাটদের তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং নানা বিতর্কিত মন্তব্য টেনে এনেছেন। তবে এবার ভোটারদের আকর্ষণ করতে তিনি একটি বড় অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখলে দেশের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫,০০০ ডলারের ‘ট্রাম্প ডিভিডেন্ড’ বা চেক দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। যদিও এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়ে খোদ তাঁর সমর্থকদের অনেকেও সংশয় প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া নির্বাচনে জয় পেতে ডেমোক্র্যাটরা ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে বিভিন্ন রাজ্যে ব্যালট কারচুপির অভিযোগ তুলে সরকারি দলের প্রার্থীরা আগে থেকেই আদালতে আপিল করে রেখেছেন। দীর্ঘ ১১ বছর ধরে আমেরিকার রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে আমূল বদলে দেওয়া এই র‍্যালির শেষ মুহূর্তে এসে ট্রাম্প তাঁর চিরাচরিত ভঙ্গিমায় কানসাসের তরুণ ও মেগা সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি চেয়েছিলাম সেরাটি দিয়ে তোদের শেষটা করতে। ভাষণ শেষে বরাবরের মতো যুক্তরাষ্ট্রকে শক্তিশালী, সম্পদশালী, স্বাস্থ্যবান এবং সব শেষে ‘আমেরিকাকে আবারও মহান করে তোলার’ প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভিলেজ পিপল-এর জনপ্রিয় গান ‘ওয়াই.এম.সি.এ’–এর তালে তালে চিরচেনা ভঙ্গিতে ঘুষি উঁচিয়ে ও কোমর দুলিয়ে সমর্থকদের বিদায় জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।</p><aside><a href="https://nagorik.prothomalo.com/durporobash/vvtbulyoiv">চোখধাঁধানো এয়ার শো—যেন নীল আকাশে পাখির মেলা</a></aside>

নভেম্বর ৪, ২০২৬
ট্রিলিয়ন ডলারের চিপের বাজার, বাংলাদেশ কতটা প্রস্তুত
ট্রিলিয়ন ডলারের চিপের বাজার, বাংলাদেশ কতটা প্রস্তুত

বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর বাজার আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের দিকে এগোচ্ছে। সেমিকন্ডাক্টরের বিশাল এই বাজারের অংশ হওয়ার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ

নভেম্বর ৪, ২০২৬
আমরা কি ঠিকভাবে বাণিজ্যচুক্তি করতে পারছি
আমরা কি ঠিকভাবে বাণিজ্যচুক্তি করতে পারছি

<figure>https://admin-prothomalo-video.chorki.net/v1/bytes/amra-ki-thikvabe-banijzcukti-krte-parchi</figure>

নভেম্বর ৪, ২০২৬
শৈশবের কোচকে নিয়ে যা বললেন শান্ত
শৈশবের কোচকে নিয়ে যা বললেন শান্ত

<figure>https://admin-prothomalo-video.chorki.net/v1/bytes/soisber-kocke-niye-za-bllen-sant</figure>

নভেম্বর ৪, ২০২৬
চাকরি ছেড়ে আঙুর বাগান, বছরে লাখ টাকা লাভের সম্ভাবনা
চাকরি ছেড়ে আঙুর বাগান, বছরে লাখ টাকা লাভের সম্ভাবনা

রংপুরের পীরগঞ্জে ২৪ শতক জমিতে বিদেশি জাতের আঙুর চাষ করে সাড়া ফেলেছেন তরুণ উদ্যোক্তা তাওহিদ মিয়া।

নভেম্বর ৪, ২০২৬
ঋণের বোঝা থেকে মুক্ত হতে মহানবী (সা.) যে উপায় দেখিয়েছেন
ঋণের বোঝা থেকে মুক্ত হতে মহানবী (সা.) যে উপায় দেখিয়েছেন

ইসলামে ঋণ করাকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে; এমনকি একজন শহীদের সব পাপ মাফ হয়ে গেলেও তার ঋণের দায় মাফ হয় না, যতক্ষণ না তা পরিশোধ করা হয়।

নভেম্বর ৪, ২০২৬
প্রথম সেঞ্চুরির অনুভূতিই আলাদা
প্রথম সেঞ্চুরির অনুভূতিই আলাদা

<figure>https://admin-prothomalo-video.chorki.net/v1/bytes/prthm-sencurir-onuvuutii-alada</figure>

নভেম্বর ৪, ২০২৬
শান্তর ২০২২ বিশ্বকাপ দলে আসার গল্প
শান্তর ২০২২ বিশ্বকাপ দলে আসার গল্প

<figure>https://admin-prothomalo-video.chorki.net/v1/bytes/santr-2022-biswkap-dle-asar-glp</figure>

নভেম্বর ৪, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

পোশাকের ট্যাবু ভেঙে ‘সংস্কৃতির সমতার’ বার্তায় যবিপ্রবিতে ‘লুঙ্গি প্যারেড’

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।