জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শারজায় গতকাল রাতে দ্বিতীয় টি–টুয়েন্টিতে এই মাইলফলকের দেখা পান রশিদ খান।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির মরদেহ আগামীকাল শনিবার দেশে আসার কথা আছে।
ভুটানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের গাসা জেলায় শিনতাফু হ্রদে হিমবাহের বাঁধ ভেঙে আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের কয়েকটি এলাকায় আকস্মিক বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিস্তারিত ভিডিওতে…
যে জনগোষ্ঠী রবীন্দ্রনাথের গান গায়, জীবনানন্দের ধানসিঁড়ি খুঁজে বেড়ায়, তারাই আবার রাজনীতির ভাষায় কেন এত নির্মম? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে বাংলাদেশের ইতিহাসের দীর্ঘ করিডর ধরে হাঁটতে হয়।
<p>চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অবস্থিত আবুল খায়ের স্টিল মেল্টিং লিমিটেডের (একেএসএমএল) কারখানা পরিদর্শন করেছে জার্মানির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। সে দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়নবিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় ভাইস মিনিস্টার ও স্টেট সেক্রেটারি বারবেল কোফলারের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি সম্প্রতি এ কারখানা পরিদর্শন করে। </p><p>প্রতিনিধিদলে অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত রুডিগার লোটজ এবং জার্মান উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জিআইজেড বাংলাদেশ, জার্মান উন্নয়ন ব্যাংক কেএফডব্লিউ ও ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ইডকল) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। </p><p>প্রতিনিধিদলটি একেএসএমএলের কারখানা চত্বরে পৌঁছালে তাদের স্বাগত জানান একেএসএমএলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইমরান মোমিন।</p>
দাদু তার এলাকার গল্প শোনাত—শৈশবের গল্প। তার লুঙ্গি পরা-হাফপ্যান্ট জীবনের গল্প। এ কণ্ঠের সঙ্গে সে গল্পের শুধু মিল না, আছে আরও কিছু। আছে কিছু রহস্য আর অনেকখানি ভয়
পাঠচক্রে ‘শব্দগুলো ইংরেজদের নয়’, ‘বাংলা মাসের নামের কথা’, ‘শব্দগুলো বিদেশি’, ‘বাংলা ভাষায় ভূত’সহ নির্বাচিত অংশ পাঠ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে বাংলা ভাষার শব্দভান্ডার, শব্দের উৎস এবং ব্যবহারিক পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সরকারি এই নির্দেশিকা জারি হওয়ার পর রাজ্যে প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। সমাজবাদী পার্টি ও কংগ্রেস প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছে, যোগী সরকার ব্রিটিশরাজের মতো আচরণ শুরু করেছে।
<p>‘প্রকৃতির জন্য তৎপরতা’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে আর্মেনিয়ায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রাণবৈচিত্র্য সম্মেলন। ওই সম্মেলনে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে লিখেছেন <strong>পাভেল পার্থ</strong></p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2025-11-15/0xmlkx78/Pavel.jpg"><figcaption>পাভেল পার্থ</figcaption></figure><p>আর্মেনিয়ার রাজধানী ইয়েরেভানে চলছে জাতিসংঘ বিশ্ব প্রাণবৈচিত্র্য সম্মেলনের ১৭তম আসর। ১৯ অক্টোবর শুরু হওয়া এ সম্মেলন শেষ হবে ৩০ অক্টোবর। </p><p>কৃষিজ, ভূমিজ, বন, জলাভূমি, দ্বীপ, সমুদ্র ও উপকূল এবং পাহাড়ি প্রাণবৈচিত্র্য সুরক্ষাকে প্রধান বিবেচনায় রেখে সম্মেলন ঘিরে একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘লিডার্স ফর নেচার সামিট’, কার্টেজেনা প্রটোকলের ১২তম এবং নায়োগা প্রটোকলের ষষ্ঠতম সভা ও মন্ত্রীদের উচ্চপর্যায়ের সভা। </p><p>১৯৯২ সালে ব্রাজিলের রিও ধরিত্রী সম্মেলনে গৃহীত ‘প্রাণবৈচিত্র্য সনদের (সিবিডি)’ অঙ্গীকার সুরক্ষায় প্রতি দুই বছর পর অনুষ্ঠিত হয় রাষ্ট্রপক্ষের প্রাণবৈচিত্র্য সম্মেলন। ২০২২ সালের কানাডার মন্ট্রিলে কুনমিং-মন্ট্রিল গ্লোবাল বায়োডাইভার্সিটি ফ্রেমওয়ার্ক (কেএমজিবিএফ) তৈরি হয়। প্রাণবৈচিত্র্য সুরক্ষার এই বৈশ্বিক কর্মকাঠামো ২০৫০ সালের মধ্যে প্রকৃতিমুখী জীবনব্যবস্থা নিশ্চিতকরণে ৪টি দীর্ঘ ও ২৩টি স্বল্পমেয়াদি কর্মভিত্তিক লক্ষ্য নির্ধারণ করে। </p><p>স্থল ও জলাভূমি এবং সমুদ্র বাস্তুতন্ত্রের অন্তত ৩০ শতাংশ কার্যকরভাবে সংরক্ষণ, দখল ও ক্ষয় থেকে ৩০ শতাংশ বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার, প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণে বছরে ২০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার তহবিল সংগ্রহ, লোকায়ত ঐতিহ্যবাহী জ্ঞানের স্বীকৃতি ও যথাযথ ব্যবহার এবং আদিবাসী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ, অধিকার নিশ্চিতকরণসহ ২৩টি লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে সিবিডি সনদ স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্রগুলোর অর্জন করার কথা। </p><p>কিন্তু সেই সব লক্ষ্য অর্জনে বিশ্বনেতৃত্ব বরাবরই অঙ্গীকার ভঙ্গ করে চলেছেন। প্রতিদিন বিশ্বের কোনো না কোনো বাস্তুতন্ত্র থেকে নিখোঁজ হচ্ছে প্রাণপ্রজাতি, ক্ষয় হচ্ছে বাস্তুতন্ত্র। বিশ্বব্যাপী জারি থাকা প্রবল মানুষকেন্দ্রিক (অ্যানথ্রোপোসেন্ট্রিক) উন্নয়নচিন্তা মৌমাছি থেকে হাতি, অণুজীব থেকে বটগাছ—কারোর জীবনরেখা সুরক্ষিত রাখছে না। </p><p>যুদ্ধ, অস্ত্রবাণিজ্য, অন্যায় খাদ্যব্যবস্থা, দখল, ডিজিটাল উপনিবেশ, দূষণ আর নিওলিবারেল বাহাদুরি এই গ্রহকে বৈচিত্র্যহীন করে তুলছে। মানুষসহ প্রতিটি প্রাণপ্রজাতির বেঁচে থাকা ও বিকশিত হওয়ার শর্তগুলো নানাভাবে চুরমার করে দিচ্ছে।</p><p>ঢাকা থেকে ২৬ অক্টোবর সকালে ইয়েরেভান বিমানবন্দরে যখন পৌঁছাই, আর্মেনিয়ার ৭টি উভচর ও শতাধিক হ্রদ স্বাগত জানাল। আর্মেনিয়ার এনডেমিক নীল প্রজাপতিকে সম্মেলনের লোগো করা হয়েছে। </p><p>বিমানবন্দর থেকে রিপাবলিক স্কয়ারের দিকে ট্যাক্সিতে যেতে যেতে ককেশাস পবর্তমালার দিকে তাকিয়ে আর্মেনিয়ার নীল প্রজাপতি আমাকে বাংলাদেশের মধুপুর শালবনের এক ফলের মাছির কাছে নিয়ে যায়। এই মাছিও আর্মেনিয়ার নীল প্রজাপতির মতো মধুপুর বনে এনডেমিক। যেসব প্রজাতি কেবল একটি নির্দিষ্ট বাস্তুতন্ত্রে বসবাস করে, দুনিয়ার আর কোথাও প্রাকৃতিক পরিবেশে দেখা যায় না, তারাই এনডেমিক।</p><p>মধুপুর শালবনে হলুদ গোত্রের দুটি গাছও এনডেমিক। বনের মান্দি আদিবাসীরা গাছগুলোকে বলে দিগ্গি সামজক। এসব গাছ মধুপুর শালবনের আদিবাসীদের লোকায়ত চিকিৎসা ও বহু আধ্যাত্মিক কৃত্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। </p><p>ইয়েরেভানের মেরিডিয়ান এক্সিবিশন সেন্টারে নিবন্ধনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে সম্মেলনে প্রবেশ করেই চারপাশ বিষণ্ন হয়ে যায়। একটা ব্যানারে লেখা আছে, ২০২৫ সালে আমরা ৫৮টি তাপানুলি ওরাংওটাং হারিয়েছি। প্রবল বৃষ্টি, ভূমিধস ও ঘূর্ণিঝড় সেনিয়ারের কারণে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রায় এরা নিহত হয়েছিল। </p><p>বাংলাদেশের পাহাড়ি ঢল, বন্যা, পাহাড়ধস, উত্তরাঞ্চলের খরা কিংবা প্রাকৃতিক বনে অগ্নিকাণ্ডের কারণে আমরা কত প্রাণপ্রজাতি হারিয়েছি, কে জানে? </p><blockquote>একটি পাখি বা মাছ, সরীসৃপ বা উভচর, নদী বা বন, গাছ বা পতঙ্গের জীবন কি জীবন–মরণের যন্ত্রণা নিয়ে পরের সম্মেলনের জন্য অপেক্ষা করবে? নাকি আমরা বিশ্বব্যাপী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের দায়িত্বশীল তৎপরতা দেখতে পাব? ইয়েরেভান সম্মেলন এখনো এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি।</blockquote><h3>প্রকৃতির জন্য তৎপরতা: ইয়েরেভান ঘোষণা</h3><p>ইয়েরেভানে প্রাণবৈচিত্র্য সম্মেলন শুরু হয়েছে বিশ্বনেতৃত্বের অঙ্গীকার ভঙ্গ ও হতাশার খতিয়ান সামনে রেখে। সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক পর্ব শুরুর আগে ১৬ অক্টোবর ‘লিডার্স ফর নেচার সামিটে’ বিশ্বনেতৃত্ব ‘ইয়েরেভান ঘোষণায়’ স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছেন, বিশ্বজুড়ে প্রাণপ্রকৃতি সুরক্ষায় গৃহীত পদক্ষেপগুলো ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য যথেষ্ট নয়। আবার ২০২৩ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী প্রাণবৈচিত্র্যের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে ২০৫০ সালের মধ্যে মানুষ ও প্রকৃতির সহাবস্থান নিশ্চিতকরণের অঙ্গীকার করা হয়েছে। </p><p>জাতীয় অর্থনীতিতে প্রাণবৈচিত্র্যের অন্তর্ভুক্তি, বাস্তুতন্ত্রের পুনরুদ্ধার ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, অর্থায়নের বৈশ্বিক আহ্বান ও সীমাবদ্ধতার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবমুখী ও দৃশ্যমান তৎপরতা বাস্তবায়নে বিশ্বনেতৃত্ব ইয়েরেভান ঘোষণার মাধ্যমে আবার রাজনৈতিক অঙ্গীকার করলেন। </p><p>একটি পাখি বা মাছ, সরীসৃপ বা উভচর, নদী বা বন, গাছ বা পতঙ্গের জীবন কি জীবন–মরণের যন্ত্রণা নিয়ে পরের সম্মেলনের জন্য অপেক্ষা করবে? নাকি আমরা বিশ্বব্যাপী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের দায়িত্বশীল তৎপরতা দেখতে পাব? ইয়েরেভান সম্মেলন এখনো এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি।</p><h3>ইয়েরেভান প্রাণবৈচিত্র্য সম্মেলনের নয়া তৎপরতা</h3><p>‘কেএমজিবিএফের’ প্রথম বৈশ্বিক পর্যালোচনা হচ্ছে ইয়েরেভান সম্মেলনে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রাণবৈচিত্র্য সুরক্ষায় গৃহীত ২৩টি বৈশ্বিক লক্ষ্য অর্জনে দেশগুলোর সম্মিলিত অগ্রগতি এবং ‘জাতীয় প্রাণবৈচিত্র্য কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা (এনবিএসএপি)’ বাস্তবায়ন ও অর্থায়নের ঘাটতি নিয়ে আলোচনা চলমান।</p><p>পাশাপাশি প্রাণবৈচিত্র্য সুরক্ষায় অর্থায়ন ও তহবিল সংগ্রহ, লোকায়ত ঐতিহ্যবাহী জ্ঞানের সুরক্ষাসহ এসব জ্ঞান থেকে সরাসরি বা জেনেটিক সম্পদের ডিজিটাল সিকোয়েন্স (ডিএসআই) তথ্য ব্যবহারের মাধ্যমে সৃষ্ট সুফলের ন্যায্যবণ্টন এবং এ ক্ষেত্রে উন্নয়নশীল দেশ, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠী কীভাবে উপকৃত হবে, সেসবও এবার আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয়। </p><p>‘প্রকৃতির জন্য তৎপরতা’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে প্রাণবৈচিত্র্য ও জলবায়ু সংকট, ‘ওয়ান হেলথ’ স্বাস্থ্যচিন্তা, বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার, প্রাণবৈচিত্র্যের ওপর চাপ কমানো, আগ্রাসী প্রজাতি রোধ, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়েও দেনদরবার চলমান। </p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/g3yzeonwaf">জলবায়ু সম্মেলন: অঙ্গীকারভঙ্গ ও ক্ষতের দাগ নিয়ে ‘বৈশ্বিক মুটিরাও’</a></aside><h3>অস্পষ্ট তহবিল এবং জনতার স্পষ্ট আওয়াজ</h3><p>প্রাণবৈচিত্র্য সুরক্ষায় বছরে ২০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার তহবিলের অঙ্গীকার এখনো কাঠামোগতভাবে সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট হয়নি। সর্বশেষ কালি প্রাণবৈচিত্র্য সম্মেলনে জেনেটিক সম্পদ থেকে প্রাপ্ত ডিজিটাল সিকোয়েন্স তথ্য বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে অর্জিত সুফলের ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক বণ্টনের জন্য ‘কালি তহবিল’ গঠিত হয়েছিল। </p><p>২০২৫ সালে ইতালির রোমে আনুষ্ঠানিকভাবে তহবিলটি চালু হয়। জেনেটিক সম্পদ–সম্পর্কিত ডিজিটাল তথ্য ব্যবহার করে লাভবান প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির কাছ থেকে লভ্যাংশ সংগ্রহ করে উন্নয়নশীল দেশ, আদিবাসী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা ও অধিকার সুরক্ষায় ব্যয় করার কথা। তহবিলের ৫০ শতাংশ আদিবাসী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অগ্রাধিকার ও অধিকার সুরক্ষায় ব্যয় হবে, যার মধ্যে নারী ও যুবদের অগ্রাধিকারের অঙ্গীকার করা হয়েছে। </p><p>বিশ্বব্যাপী জেনেটিক সম্পদ ও লোকায়ত জ্ঞানের একতরফা বাণিজ্যিক পেটেন্ট ও প্রাণডাকাতির (বায়োপাইরেসি) কোনো কাঠামোগত সুরাহা ছাড়াই ‘ডিজিটাল সিকোয়েন্স তথ্যের (ডিএসআই)’ আলোচনা আরেক নতুন তথ্য-উপনিবেশ ও বৈষম্য প্রতিষ্ঠা করছে।</p><p>লোকায়ত জ্ঞান ও প্রাণসম্পদের জনগোষ্ঠীভিত্তিক সক্রিয় এবং ন্যায্য জনদলিল ও নিবন্ধন ব্যবস্থাপনা ছাড়া ডিজিটাল প্রযুক্তি কেবল নতুনভাবে সংকট তৈরি করবে, প্রাণপ্রকৃতি সুরক্ষায় জনগোষ্ঠীর সহস্র বছরের অবদান ও অধিকারকে স্বীকৃতি দেবে না।</p><p>ইয়েরেভান সম্মেলনে লোকায়ত জ্ঞান ও আদিবাসী এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা হিসেবেই টেবিলে আছে। ‘আদিবাসী আত্মপরিচয়কে’ এককভাবে স্বীকৃতি দিয়ে জাতিসংঘ আদিবাসী অধিকার ঘোষণাকে (২০০৭) সিবিডি বাস্তবায়নের কাঠামোতে যুক্ত করার জোর দাবি এবারও উঠেছে আদিবাসীদের পক্ষ থেকে। একই সঙ্গে জাতিসংঘের ‘ইউনাইটেড ন্যাশনস ডিকলারেশন অন দ্য রাইটস অব পিজান্টস অ্যান্ড আদার পিপল ওয়ার্কিং ইন দ্য রুরাল এরিয়াস (ইউএনডিআরওপি, ২০১৮)’ ঘোষণাকেও সিবিডি কাঠামোতে অন্তর্ভুক্তকরণের আওয়াজ উঠেছে। </p><p>বেলেম জলবায়ু সম্মেলনের লিডার্স সামিটে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বন সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য ‘ট্রপিক্যাল ফরেস্ট ফরএভার ফ্যাসিলিটি (টিএফএফএফ)’ গঠিত হয়।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/z9wrg3e40c">বিশ্ব খাদ্য দিবস: ‘মানুষকেন্দ্রিক’ খাদ্যব্যবস্থার বদল জরুরি</a></aside><p> এ অর্থায়নের ২০ শতাংশ আদিবাসী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দের অঙ্গীকার করা হয়েছিল। ৭০টির বেশি দেশের এক বিলিয়ন হেক্টর গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বন সুরক্ষায় ১২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার তহবিলের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ৬৬টি দেশ সমর্থন জানালেও বাংলাদেশ এখনো টিএফএফএফের আনুষ্ঠানিক সদস্য নয়। </p><p>জাতিসংঘের সমুদ্র আইনবিষয়ক সনদের অধীনে গৃহীত ‘দ্য অ্যাগ্রিমেন্ট অন মেরিন বায়োলজিক্যাল ডাইভার্সিটি অব এরিয়াস বিয়ন্ড ন্যাশনাল জুরিসডিকশন (বিবিএনজে চুক্তি)’ ২০২৪ সালে বাংলাদেশ অনুসমর্থন করে। সমুদ্র সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় লোকায়ত ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান এবং আদিবাসী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষা এই সনদের অন্যতম বিষয়। </p><p>স্বাক্ষর ও অনুসমর্থন করলেও বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত সুরক্ষার বাংলাদেশ লোকায়ত জ্ঞান, জাতীয় আইন বা বৈশ্বিক সনদ মানছে না। কক্সবাজারের বালিয়াড়ি বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস করে তথাকথিত উন্নয়ন বাণিজ্য জারি রেখেছে। সমুদ্র উপকূল ও দ্বীপ বাস্তুতন্ত্রের বন ও প্রাণবৈচিত্র্যকে বিপদের দিকে ঠেলে দিয়ে নানামুখী উন্নয়ন তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। এসব কর্মকাণ্ড প্রাণবৈচিত্র্য সুরক্ষায় বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রার অঙ্গীকার ভঙ্গ করছে। </p><h3>বাংলাদেশ উদাহরণ হোক </h3><p>ইয়েরেভান সম্মেলনে মন্ত্রী পর্যায়ের উচ্চতম সভায় প্রদত্ত বক্তব্যে বাংলাদেশ তার ভূমি, জলাভূমি, উপকূল ও সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র এবং ১৪ হাজার প্রজাতির বৈচিত্র্য বৈভবের শক্তি তুলে ধরেছে। প্রাণবৈচিত্র্যমুখী পরিকল্পনা, পুনরুদ্ধার, সংরক্ষিত এলাকা বৃদ্ধি, আগ্রাসী প্রজাতি চিহ্নিতকরণের মাধ্যমে এক জলবায়ুসহিষ্ণু টেকসই উন্নয়নের অঙ্গীকার করেছে বাংলাদেশ। </p><p>প্রাণপ্রকৃতি সুরক্ষায় কালি তহবিলসহ সব প্রাণবৈচিত্র্য অর্থায়ন বাংলাদেশের জন্য নিশ্চিত করা জরুরি। বাংলাদেশ তার বক্তব্যে ‘এথনিক মাইনোরিটি অ্যান্ড লোকাল কমিউনিটি’ ব্যবহার করলেও, এ ক্ষেত্রে দেশের আদিবাসী জনগণের আত্মপরিচয়কেই স্বীকৃতি দেওয়া জরুরি। এটি সিবিডিসহ বৈশ্বিক সনদ এবং দেশের আদিবাসী জনগণের ঐতিহাসিক পরম্পরা ও অধিকারের প্রতি রাষ্ট্রের প্রাণবৈচিত্র্যমুখী সংযোগ। রাষ্ট্রের এই দায়িত্বশীল তৎপরতা প্রাণবৈচিত্র্য সুরক্ষার তহবিল প্রাপ্তিসহ দেশের প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক ভিত্তির বৈচিত্র্যময় রেখাবিন্দুগুলোর মিলন ঘটাবে। </p><p>জাতীয় প্রাণবৈচিত্র্য জনদলিল এবং লোকায়ত ঐতিহ্যবাহী জ্ঞানের জননেতৃত্বাধীন তালিকা প্রণয়ন করা জরুরি। একই সঙ্গে জাতীয় প্রাণবৈচিত্র্য সুরক্ষা ও ব্যবস্থাপনা তহবিল গঠন করতে হবে।</p><p>এনবিএসএপির লক্ষ্যপূরণে দেশের বাস্তুতন্ত্র, প্রাণবৈচিত্র্য, আদিবাসী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে স্বাধীন, স্বচ্ছ, জবাবদিহি এবং ন্যায্যতার ভিত্তিতে পরিকল্পনা এবং তহবিল ব্যয় করা জরুরি। </p><p>আদিবাসী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি নাগরিক সমাজ, গবেষণাপ্রতিষ্ঠান, বিদ্যায়তন, গণমাধ্যম, সামাজিক-পরিবেশ সংগঠন—সব পক্ষকে নিয়ে সরকার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মতো একটি জাতীয় প্রাণবৈচিত্র্য সুরক্ষা কাঠামো গঠন করতে পারে।</p><p>ভৌগোলিক আয়তনে ছোট হলেও প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে বাংলাদেশ এই গ্রহের শক্তি। বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব বাস্তুতন্ত্রের প্রাণপ্রজাতিই এই গ্রহের অন্যতম বিরল শক্তি। পৃথিবীর সুরক্ষায় তার প্রাণসঞ্জিবনী প্রাণপ্রকৃতির রক্তক্ষতকে আমলে নিতেই হবে। </p><p>● <strong>পাভেল পার্থ</strong> লেখক, গবেষক ও পরিবেশকর্মী</p><p>*মতামত লেখকের নিজস্ব</p>
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।