কলাম

বাংলাদেশে রাজনীতির মাঠ যেন একটা বক্সিং রিং

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
বাংলাদেশে রাজনীতির মাঠ যেন একটা বক্সিং রিং
বাংলাদেশে রাজনীতির মাঠ যেন একটা বক্সিং রিং
যে জনগোষ্ঠী রবীন্দ্রনাথের গান গায়, জীবনানন্দের ধানসিঁড়ি খুঁজে বেড়ায়, তারাই আবার রাজনীতির ভাষায় কেন এত নির্মম? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে বাংলাদেশের ইতিহাসের দীর্ঘ করিডর ধরে হাঁটতে হয়।

Prothomalo

View more
জীর্ণ ভবনে নামেই হার্ভার্ড কলেজ, দেশে  শিক্ষার সব স্তরেই অপরিকল্পনার ছাপ
জীর্ণ ভবনে নামেই হার্ভার্ড কলেজ, দেশে শিক্ষার সব স্তরেই অপরিকল্পনার ছাপ

কোনো প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী নেই, শিক্ষক আছে; আবার কোথাও শিক্ষার্থী আছে, শিক্ষক নেই। সব স্তরেই চাহিদার সঙ্গে মিল না রেখে প্রতিষ্ঠান ও আসন বাড়ছে।

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা নিয়ে পিছুটান, কী শিক্ষা পেলাম
ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা নিয়ে পিছুটান, কী শিক্ষা পেলাম

<p>মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট হলো বাংলাদেশ সরকারের রাজস্ব আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। ভ্যাটের আওতায় নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানকে সারা মাসের কার্যক্রমের হিসাব অর্থাৎ দাখিলপত্র বা রিটার্ন সাধারণত পরবর্তী মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে অনলাইনে দাখিল করতে হয়।</p><p> গত বাজেটের সময় অর্থ আইনের মাধ্যমে মাসিক রিটার্ন দাখিলের নিয়ম পরিবর্তন করে ত্রৈমাসিক দাখিলের নিয়ম করা হয়। আপাতদৃষ্টিতে প্রতি মাসের পরিবর্তে তিন মাস অন্তর রিটার্ন দাখিল করা ব্যবসা সহজীকরণ বলে মনে হলেও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা, রাজস্ব সুরক্ষা ও হিসাববিজ্ঞানের মৌলিক নীতির আলোকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে সিদ্ধান্তটি রাজস্ব ব্যবস্থাপনার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।</p><p> রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিতে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে বলে জানা যায়নি। মাঠপর্যায়ে ভ্যাট ব্যবস্থার সঙ্গে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের অনেকেই সে সময়ে বলেছিলেন যে সিদ্ধান্তটি সঠিক হয়নি। ভ্যাট রিটার্ন প্রতি মাসের পরিবর্তে তিন মাস অন্তর দাখিল করার অনেক প্রভাব রয়েছে।</p><p>সরকারের অর্থ তিন মাস ব্যবসায়ীর কাছে থাকলে প্রয়োজনে চলতি মূলধন হিসেবে ব্যবহার করে ফেলতে পারেন তাঁরা। তিন মাস পর রিটার্ন দাখিল করার সময় বড় অঙ্কের ভ্যাট পরিশোধের সামর্থ্য না থাকলে তিনি ফাঁকি দেওয়ার পথ বেছে নিতে বাধ্য হতে পারেন। ইতিমধ্যে ব্যবসায়ে লোকসান হলে সংগৃহীত ভ্যাটের অর্থ নিজ প্রয়োজনে ব্যবহারে বাধ্য হতে পারেন।</p><p>স্বচ্ছভাবে হিসাব সংরক্ষণ করে—এমন প্রতিষ্ঠানের জন্য ত্রৈমাসিক রিটার্ন দাখিলে সুবিধার চেয়ে অসুবিধাই বেশি। তিন মাস পর রেয়াত নিতে গেলে অনেক ক্রয় দলিলের বিপরীতে হিসাব মেলানো জটিল। সাপ্লাই চেইনের একটা প্রতিষ্ঠান তিন মাস পর রিটার্ন দাখিল করলে রেয়াত দাবির সময়সীমা ও ইনভয়েস ট্র্যাকিং দুরূহ হবে। তিন মাসের ক্রয় হিসাব, বিক্রয় হিসাব ও চালানপত্র একসঙ্গে জমা হলে হিসাব বিভাগের ওপর সাময়িকভাবে কাজের চাপ বেড়ে যাবে। আবার রিটার্ন দাখিলের পর দীর্ঘদিন কাজের চাপ থাকবে না। এতে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায়ও বিরূপ প্রভাব পড়বে।</p><p>দাখিল করা রিটার্নে কোনো ভুল হলে পরবর্তী মাসেই তা সংশোধন করা সহজ। ত্রৈমাসিক পদ্ধতিতে ভুলের প্রভাব তিন মাসের লেনদেনের ওপর পড়বে, যা উদ্‌ঘাটন ও সংশোধন করা জটিল। সরকারের প্রতি মাসে কিছু নির্দিষ্ট পরিচালনা ব্যয় ও উন্নয়ন ব্যয় থাকে। ভ্যাট প্রতি মাসে সরকারি কোষাগারে জমা না হয়ে তিন মাস পর জমা হলে সরকারের তাৎক্ষণিক নগদ অর্থের সংকট তৈরি হতে পারে।</p><p>ভ্যাট কর্মকর্তারা প্রতি মাসে দাখিলপত্র যাচাই–বাছাই করে ভ্যাট ফাঁকি রোধে কাজ করেন। তিন মাসের তথ্য ও দলিলপত্র একসঙ্গে জমা হলে সীমিত জনবল দিয়ে এত বেশি লেনদেন যাচাই করা দুরূহ হয়ে পড়বে। এভাবে ভ্যাট বকেয়া হয়ে গেলে তা আদায়ের জন্য ঘন ঘন কারণ দর্শানো নোটিশ, ডিমান্ড নোটিশ ইত্যাদি জারি করতে প্রশাসনিক জটিলতা ও মামলা জট বেড়ে যেতে পারে।</p><blockquote>সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি সঠিক নয়। কোনো অংশীজন এটা দাবি করেননি। তাহলে কেন করা হলো, কীভাবে করা হলো, সে প্রশ্ন থেকেই যায়। কত বিষয় রয়েছে যা অংশীজনেরা দাবি করেন, তারপরও সেগুলো বাস্তবায়ন হয় না। অথচ এই বিষয় কেউ না চাইতেই বাস্তবায়িত হয়ে গেল। বোঝা যায় যে, সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ার অভাব ছিল। এই ঘটনা থেকে আমরা আরও বুঝতে পারি যে, এভাবে এক পা এগিয়ে আবার এক পা পেছানো হলে নিজ স্থানেই দাঁড়িয়ে থাকা হয়—অগ্রসর হওয়া যায় না।</blockquote><p>জনগণের দেওয়া কর যা সরকারের কাছে হস্তান্তরের জন্য ব্যবসায়ীর কাছে রয়েছে, তা দীর্ঘদিন ব্যবসায়ীর কাছে রেখে দেওয়া সমীচীন নয়। জনগণের করের অর্থ রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে ব্যয় হবে। ভোক্তা ক্রয়ের সঙ্গে সঙ্গে কর বাবদ অর্থ দিয়ে দেন, অথচ সরকার সেই অর্থ নিজের কোষাগারে না এনে তিন মাস ব্যবসায়ীর কাছে বিনা সুদে রেখে দেবে। আবার সরকার তাৎক্ষণিক খরচ মেটাতে ব্যাংক থেকে ঋণ নিচ্ছে—এটা একধরনের বৈপরীত্য। তিন মাস ধরে শত শত কোটি টাকা ব্যবসায়ীদের হাতে থাকলে সরকার অর্থের সময়মূল্য থেকেও বঞ্চিত হবে।</p><p>ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা গত জুনে এক মাস থেকে তিন মাস করার পর জুলাই–আগস্ট মাসের রাজস্ব আহরণ বেশ কমে যায়। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য মতামত দেওয়া শুরু করেন। অবশেষে ১৪ অক্টোবর অধ্যাদেশ জারি করে আবার রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা এক মাস নির্ধারণ করা হয়েছে।</p><p>এই ঘটনা থেকে প্রথমত আমরা বুঝতে পারি যে, সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি সঠিক নয়। কোনো অংশীজন এটা দাবি করেননি। তাহলে কেন করা হলো, কীভাবে করা হলো, সে প্রশ্ন থেকেই যায়। কত বিষয় রয়েছে যা অংশীজনেরা দাবি করেন, তারপরও সেগুলো বাস্তবায়ন হয় না। অথচ এই বিষয় কেউ না চাইতেই বাস্তবায়িত হয়ে গেল। বোঝা যায় যে, সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ার অভাব ছিল। এই ঘটনা থেকে আমরা আরও বুঝতে পারি যে, এভাবে এক পা এগিয়ে আবার এক পা পেছানো হলে নিজ স্থানেই দাঁড়িয়ে থাকা হয়—অগ্রসর হওয়া যায় না। আমাদের রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় বারবার এমন হচ্ছে। তাই অগ্রগতি হচ্ছে না।</p><p>শুনছি, নির্ধারিত পরিমাণ ভ্যাট আদায় করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ১২ লাখ ছোট প্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত করে এক হাজার টাকা করে ভ্যাট আদায় করার কথা বলা হচ্ছে। এতে তেমন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভ্যাট আদায় হবে না। তারপরও এই কাজ করা হচ্ছে। ১৯৯৮ সালে এই পদ্ধতি ব্যর্থ হয়েছিল। এবারও নিশ্চিত ব্যর্থ হবে। হুট করে রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়ানো এবং ফিরে আসা থেকে কোনো শিক্ষা নেওয়া হলো না।</p><p>দীর্ঘদিন ধরে রাজস্ব খাতের বিশেষজ্ঞরা অনেকেই বলে আসছেন যে রাজস্ব ফাঁকি হয় মূলত এবং প্রধানত ক্রয়–বিক্রয়ের তথ্য গোপন করে। তাই রাজস্ব সংস্কারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো ক্রয়–বিক্রয়ের সব তথ্য এনবিআরের কাছে নিয়ে আসা। তাহলে প্রকৃত বিক্রির ওপর ভ্যাট ও আয়কর সঠিক পরিমাণে আদায় করা সম্ভব হবে। এই ব্যবস্থা বাস্তবায়নে জোরালো পদক্ষেপ দরকার।</p><p>ইতিমধ্যে আবার আইএমএফের পদচারণ শুরু হয়েছে। তাদের তোতা পাখির বুলি—আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চা, স্বার্থের দ্বন্দ্ব, করের ভিত্তি সম্প্রসারণ, অব্যাহতি কমানো, ইউনিফর্ম করহার চালু, টিআইএন–বিআইএন একীভূত করা, নীতি এবং বাস্তবায়ন আলাদা করা—আবার এসব বিষয় সামনে চলে আসবে। সবশেষে ব্যর্থ হবে। আবার নতুন করে শুরু হবে। এভাবে চলতে থাকলে রাজস্ব সংস্কার হবে না।</p><p><strong>মো. আব্দুর রউফ,</strong> সাবেক সদস্য, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড</p>

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
‘এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন’ কী, যেভাবে কাজ করে
‘এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন’ কী, যেভাবে কাজ করে

এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন হলো তথ্য আদান-প্রদানের এমন একটি নিরাপত্তাপদ্ধতি, যেখানে প্রেরকের যন্ত্রেই বার্তাকে সংকেতবদ্ধ করা হয়।

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
ঋণ পাবেন কি না, ঠিক করে দেবে যন্ত্র
ঋণ পাবেন কি না, ঠিক করে দেবে যন্ত্র

মেশিন যদি অতীতের বৈষম্যপূর্ণ তথ্য থেকে শেখে, সেই বৈষম্যই সে আবার করতে পারে। আবার সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা না করলে আপনি প্রতিবাদও করতে পারেন না।

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
তাহসিফের বন্ধু দীপ পুলিশের হেফাজতে, তাহসিফের ব্যবহৃত বাইক উদ্ধার
তাহসিফের বন্ধু দীপ পুলিশের হেফাজতে, তাহসিফের ব্যবহৃত বাইক উদ্ধার

<p>বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই দীপকে হেফাজতে নিয়েছে পিবিআই। ঘটনার আগের রাতে তাঁরা একসঙ্গে বের হয়েছিলেন। বিস্তারিত ভিডিওতে...</p><figure></figure>

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
ট্রাস্ট ব্যাংকের সঞ্চয় সেবা পাওয়া যাবে বিকাশ অ্যাপে 
ট্রাস্ট ব্যাংকের সঞ্চয় সেবা পাওয়া যাবে বিকাশ অ্যাপে 

<p>ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যাংকিং লেনদেন আরও সহজ করতে একছাতার নিচে এল ট্রাস্ট ব্যাংক ও বিকাশ। ফলে এখন থেকে সরাসরি বিকাশ অ্যাপ থেকেই ট্রাস্ট ব্যাংকের বিভিন্ন আর্থিক সেবা নিতে পারবেন গ্রাহকেরা।</p><p>প্রাথমিকভাবে বিকাশ অ্যাপে ট্রাস্ট ব্যাংকের সঞ্চয় (ডিপিএস) সেবা চালু করা হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে আরও সম্প্রসারিত হবে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিকাশ।</p><p>গত বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘এক্সপান্ডিং অ্যাক্সেস, এম্পাওয়ারিং পসিবিলিটিজ’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যৌথ এই সেবার উদ্বোধন করেন ট্রাস্ট ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মোহা. হোসাইন আল মোরশেদ। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম ও আরিফ হোসেন খান; ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও আহসান জামান চৌধুরী এবং বিকাশের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও কামাল কাদীর উপস্থিত ছিলেন।</p><p>ট্রাস্ট ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান মোহা. হোসাইন আল মোরশেদ বলেন, ‘বর্তমান যুগে প্রযুক্তি আর্থিক লেনদেনের ধরন বদলে দিলেও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য সময়মতো সহজ শর্তে আর্থিক সহায়তা পাওয়া এখনো চ্যালেঞ্জিং। ট্রাস্ট ব্যাংকের দায়িত্বশীল ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা এবং বিকাশের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে একসঙ্গে কাজে লাগিয়ে এই সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।’</p>

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
অভিলাষ
অভিলাষ

<p> ইচ্ছে করে তোমাকে নিয়ে ধরি একটা বাজি<br> ভোজবাজির মতো করে সবটা জিতে যাই<br> জনসমুদ্রে হোক উৎসব না হয় বিষাদ,<br> তারপর জানুক সমাজ,<br> আমি যে তোমার!<br> তারপর আসে বিষাদের দুপুর<br> নিজের সাথে চলে নিজের বিগ্রহ!<br> সাইন, কস, থিটা সব হয় এলোমেলো<br> মনে হয়, অজানা ছায়াপথে<br> আমি যাচ্ছি চলে,<br> চাঁদের আলোর হাতছানিতে সূর্যের তীব্র উষ্ণতায়!<br> জোড়াতালি হিসেবের সম্মুখে তুমি<br> জয়-পরাজয়ের মধ্যস্থতায় আমিও হাজির,<br> একপাশে পড়ে থাকে অসহায় ব্যাকুল মন<br> আকুল করা অনুরোধে দেয় সাড়া।<br> তারপর আসে এক সোনালি বিকেল<br> হলুদ পাতা জানায় বসন্তের উষ্ণ সম্ভাষণ,<br> বসন্ত আসুক, থেকে যাক শতাব্দীজুড়ে,<br> না হয় হাঁটব না আর ফেলে আসা ফ্রোজেন লেকে।।<br> *লেখক: তামান্না মহুয়া, প্রোগ্রাম এক্সেস কো–অর্ডিনেটর, সাস্কাচুয়ান হেলথ রিজিওন, সাস্কাটুন, কানাডা </p><blockquote>দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: dp@prothomalo.com</blockquote>

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
বাজার থেকে পেঁপে কিনে ঠকছেন? জেনে নিন, মিষ্টি পেঁপে কেনার ৭টি কৌশল
বাজার থেকে পেঁপে কিনে ঠকছেন? জেনে নিন, মিষ্টি পেঁপে কেনার ৭টি কৌশল

<p>অনেক সময় পেঁপে কিনতে গেলে বাইরে থেকে দেখতে পাকা মনে হলেও ভেতরে মিষ্টি না হওয়ার ঘটনা প্রায়ই ঘটে। তবে বাজারে গিয়ে ভালোভাবে দেখেশুনে পেঁপে কিনলে ঠকার আশঙ্কা অনেকটাই কমে যায়। জেনে নিন, মিষ্টি পেঁপে কেনার ৭টি কৌশল।</p><figure><img alt="পেঁপে, ফল কেনা" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-29/1gin8cg1/040A4072.jpg"><figcaption>পেঁপে কেনার সময় গায়ে হলুদ কিংবা লালচে ভাব আছে কি না দেখে নিন</figcaption></figure><p>পুষ্টিগুণে ভরপুর ফল পেঁপে। বছরজুড়েই বাজারে মিলে বারোমাসি এই ফল। পেটের সমস্যা দূর করা থেকে শুরু করে ত্বক ভালো রাখা—সব ক্ষেত্রেই পেঁপের জুড়ি নেই। রোগীর পথ্য হিসেবেও এটি বেশ জনপ্রিয়। অন্য ফলের তুলনায় দামও অপেক্ষাকৃত কম। তবে বাজার থেকে কিনে আনা পেঁপেটি যদি পানসে হয়, তবে হতাশ হতে হয়। </p><p> এ নিয়েই মিজান মিয়ার সঙ্গে কথা হচ্ছিল। ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আসা মিজান ৩০ বছর ধরে আগারগাঁও তালতলা এলাকায় ফল বিক্রি করছেন। নিজের দোকানের পেঁপে হাতে নিয়ে দেখাতে দেখাতে ভালো মানের মিষ্টি পাকা পেঁপে কেনার সময় যেসব বিষয় খেয়াল রাখা দরকার, সে বিষয়ে পরামর্শ দেন।</p><h3>১. গায়ের রং পরীক্ষা</h3><p>পুরোপুরি সবুজ রঙের পেঁপে কখনোই পাকা হবে না। কেনার সময় খেয়াল করুন পেঁপের গায়ে হলুদ কিংবা লালচে ভাব আছে কি না। বিক্রেতারা বলেন, ‘শির পাকা পেঁপে’। পেঁপের গায়ে হালকা খাঁজকাটা দাগ থাকে। পরপর দুটি খাঁজকাটা দাগের মাঝের উঁচু অংশটাই শির। এই অংশ থেকে পাকা ভাবটা শুরু হয়। </p><p>যে পেঁপের গায়ে এমন গাঢ় হলুদ বা খানিকটা হলদে–কমলা রং ছড়িয়ে রয়েছে, সেটি বেছে নিন। যদি পেঁপের গায়ে হালকা সবুজাভ ভাব থাকে, বুঝতে হবে এটি দু–এক দিনের মধ্যে পেকে যাবে। এমন পেঁপেও নিতে পারেন। তবে পেঁপের গায়ে সমানভাবে রং ছড়িয়ে থাকলে সেসব পেঁপে নেওয়া থেকে বিরত থাকুন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/shopping/ypv3rc58lp">ঢাকার সবচেয়ে বড় ও প্রাচীন ফলের আড়তে যাওয়ার আগে যা জানা দরকার</a></aside><figure><img alt="পেঁপে, ফল কেনা" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-29/e0a8rh0a/040A4052.jpg"><figcaption>বছরজুড়েই বাজারে মিলে বারোমাসি এই ফল পেঁপে</figcaption></figure><h3>২. স্পর্শ করে পরীক্ষা</h3><p>পেঁপে কেনার সময় বুড়ো আঙুল দিয়ে আলতো চাপ দিয়ে দেখতে পারেন। যদি পেঁপেটি অতিরিক্ত শক্ত লাগে, তবে এটি কাঁচা বা গাছে পুরোপুরি না পাকতেই তোলা হয়েছে। আবার যদি অতিরিক্ত নরম বা আঙুল ভেতরে দেবে যায়, তবে সেটি বেশি পেকে পচে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। কেনার সময় হালকা নরম পাকা পেঁপে কিনুন, যা আঙুলের চাপে সামান্য বসে আবার আগের জায়গায় ফিরে আসবে।</p><h3>৩. বোঁটার অংশটি ভালোভাবে খেয়াল করুন</h3><p>পেঁপের বোঁটা বা বোঁটার চারপাশের অংশটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বোঁটার চারপাশ যদি কিছুটা খাঁজকাটা ও লালচে–হলুদ রঙের হয়, তবে সেই পেঁপে মিষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। বোঁটার কাঁচা অংশ বা খুব বেশি সাদা কষ জমে থাকলে তা না কেনাই ভালো। গাছপাকা পেঁপের গায়ে খুব বেশি সাদা কষ দেখা যায় না। যদি পেঁপের শরীরজুড়ে অতিরিক্ত সাদা আঠা জমে থাকতে দেখেন, তবে বুঝে নেবেন এটি নির্ধারিত সময়ের আগেই গাছ থেকে পেড়ে কৃত্রিমভাবে পাকানো হয়েছে।</p><figure><img alt="পেঁপে, ফল কেনা" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-29/rbpnvrp4/040A4167.jpg"><figcaption>পাকা পেঁপের একটি মিষ্টি ও হালকা সুবাস থাকে</figcaption></figure><h3>৪. মিষ্টি সুবাস পরীক্ষা</h3><p>পাকা পেঁপের একটি মিষ্টি ও হালকা সুবাস থাকে। পেঁপের বোঁটার কাছাকাছি ঘ্রাণ নিয়ে দেখুন। যদি হালকা মিষ্টি ঘ্রাণ পান, তবে নিশ্চিত হতে পারেন পেঁপেটি সুস্বাদু ও পাকা। কিন্তু যদি কোনো ঘ্রাণ না থাকে বা অতিরিক্ত ঝাঁজালো বা পচা গন্ধ নাকে আসে, তখন তা এড়িয়ে চলাই ভালো।</p><h3>৫. ফলের গায়ে দাগ</h3><p>পেঁপের গায়ে খুব বেশি কালচে দাগ বা ছোট ছোট ছিদ্র থাকলে তা না কেনাই ভালো। কারণ, এটি হতে পারে ভেতরে পোকা থাকা বা পচে যাওয়ার লক্ষণ। তবে খুব সামান্য দাগ থাকলে সমস্যা নেই।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/health/977c86j59h">মুরগি কাটার সময় পেটে পাওয়া ডিম কি খাওয়া উচিত</a></aside><figure><img alt="পেঁপে, ফল কেনা" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-29/pupeus77/040A4141.jpg"><figcaption>পেঁপে কেনার সময় বুড়ো আঙুল দিয়ে আলতো চাপ দিয়ে দেখতে পারেন</figcaption></figure><h3>৬. আকার–আকৃতি খেয়াল রাখুন</h3><p>জাতভেদে পেঁপের আকার ও আকৃতি ভিন্ন হতে পারে—এটা স্বাভাবিক। তবে একই জাতের পেঁপের মধ্যে আকারে চিকন টাইপের পেঁপে বেছে নিন। আকারে মোটা পেঁপের ভেতরটা অনেক ক্ষেত্রে ফাঁপা থাকে, বীজের পরিমাণ বেশি থাকায় ওজনও হয় বেশি। তাই তুলনামূলক চিকন ও মাঝারি আকারের পেঁপে বেছে নেওয়া ভালো।</p><h3>৭. জাত ও অঞ্চল</h3><p>জাতভেদেও পেঁপের স্বাদে ভিন্নতা আসে। কোন অঞ্চল থেকে আসছে, তার ওপরও মিষ্টতায় কমবেশি হয়। মিষ্টতায় শুরুতেই আসবে থাই রেড লেডি পেঁপে। ভেতরটা যেন আগুন রঙে রাঙা। এর পরে শাহি পেঁপেসহ দেশি জাতের মিষ্টি পেঁপে। দেশের সবচেয়ে ভালো মিষ্টি পেঁপে আসে টাঙ্গাইলের মধুপুর, গাজীপুর আর নওগাঁ জেলা থেকে।<br>নিজেই পেঁপে চাষ করুন</p><figure><img alt="পেঁপে, ফল কেনা" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-29/u1df8lue/040A4050.jpg"><figcaption>জাতভেদেও পেঁপের স্বাদে ভিন্নতা আসে</figcaption></figure><p>আর সবশেষে পরামর্শ হতে পারে, রোদ পায়—এমন বাসার বারান্দা বা ছাদে নিজেই চাষ করে সব রকম ভেজালের দুশ্চিন্তা এড়িয়ে তরতাজা পেঁপে খাওয়া। এ ব্যাপারে কথা হয় ১০ বছর ধরে শাহি জাতের পেঁপে চাষ করা দিনাজপুরের জুলহাশ আহমেদ রুবেল ভাইয়ের সঙ্গে। ‘রুবেল মিয়ার পেঁপে চাষ’ নামের একটি বইও লিখেছেন তিনি। </p><p>তাঁর পরামর্শ, বারান্দা বা ছাদে বড় টব, জিও ব্যাগ, হাফ ড্রাম বা বেডে সহজেই পেঁপে চাষ করা যায়। ভার্মিকম্পোস্ট সার যোগে বেলে দোআঁশ মাটি দিয়ে টব ভর্তি করে চারা রোপণ করতে পারেন। নিয়মিত পানি ও জৈব সার প্রয়োগ করলে ৯০ থেকে ১২০ দিনের মধ্যেই নিজের লাগানো গাছেই পেঁপের দেখা পেয়ে যাবেন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/interior/lglym4s3ha">অনন্যা পান্ডের বাড়ির অন্দর কেমন, দেখুন ছবিতে</a></aside>

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
ডেঙ্গু আক্রান্ত তিন বোনই হাসপাতালে ছিল, একজনের ফেরা হলো না
ডেঙ্গু আক্রান্ত তিন বোনই হাসপাতালে ছিল, একজনের ফেরা হলো না

মেয়ের অবস্থা দেখে বাবা বুঝতে পারছিলেন, হাতে আর বেশি সময় নেই। তখন মেয়ের কাছে মাফ চান, মেয়েকে বাঁচিয়ে রাখতে পারলেন না বলে।

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।