পরিবেশ

বায়ুদূষণে বিশ্বের ১২৫ শহরের মধ্যে ঢাকা তৃতীয়, অন্য বিভাগীয় শহরগুলোর কী অবস্থা

অক্টোবর ৭, ২০২৬
বায়ুদূষণে বিশ্বের ১২৫ শহরের মধ্যে ঢাকা তৃতীয়, অন্য বিভাগীয় শহরগুলোর কী অবস্থা
বায়ুদূষণে বিশ্বের ১২৫ শহরের মধ্যে ঢাকা তৃতীয়, অন্য বিভাগীয় শহরগুলোর কী অবস্থা
ঢাকার বাতাসে প্রধান দূষক ছিল অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা বা পিএম ২.৫। এর ঘনত্ব ৯৫ দশমিক ৫ মাইক্রোগ্রাম। এটি ডব্লিউএইচওপর বার্ষিক নির্দেশিত মানের প্রায় ১৯ গুণ।

Prothomalo

View more
'এই সাগর পাড়ে আইসা আমার মাতাল মাতাল লাগে', ৩ লুকে জেন-জি সুন্দরীর সমুদ্রবিলাস
'এই সাগর পাড়ে আইসা আমার মাতাল মাতাল লাগে', ৩ লুকে জেন-জি সুন্দরীর সমুদ্রবিলাস

'এই সাগর পাড়ে আইসা আমার মাতাল মাতাল লাগে'। কুঁড়েঘর ব্যান্ডের এই জনপ্রিয় গানটির কথা মনে পড়ছে জেন-জি সুন্দরীর সমুদ্রবিলাস দেখে।

অক্টোবর ৭, ২০২৬
ভালো থেকো, লিও
ভালো থেকো, লিও

<p>বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচের মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনার হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন লিওনেল মেসি। তাঁকে নিয়ে এক ভক্তের লেখা।</p><p>কিছু মানুষের সঙ্গে আমাদের কখনো দেখা হয় না। তাঁরা জানেনও না, পৃথিবীর অন্য প্রান্তে কেউ তাঁদের আনন্দে খুশি হয়, তাঁদের মন খারাপ হলে নিজেও বিষন্ন হয়ে পড়ে। অথচ সেই মানুষগুলোই কখনো কখনো আমাদের জীবনের গল্পের সঙ্গে অদ্ভুতভাবে জড়িয়ে যায়। আমার জীবনে সেই মানুষটির নাম লিওনেল আন্দ্রেস মেসি।</p><p>ভাবছি, লেখাটা কীভাবে শুরু করলে পরিপূর্ণ শোনাবে। কিন্তু ভাবনাগুলো দলা পাকাচ্ছে। মন খারাপ হচ্ছে। জীবনের সঙ্গে জুড়ে যাওয়া একটা বিশেষ অধ্যায়ের শেষ হলো আজ। আকাশি-সাদা জার্সিতে মেসির শেষ খেলা। যতটা সহজে কথাটা লিখছি, বাস্তবটা ততটাই কঠিন হয়ে ধরা দিচ্ছে। মেসিকে আর খেলতে দেখবো না? ভাবলেই কেমন একটা শূন্যতা ভর করছে। এতোটা আবেগ কীভাবে আসে একজন ভিনদেশি মানুষের জন্য? কী হয় মেসি আমার?</p><p>উত্তরটা খুঁজতে হলে ফিরে যেতে হবে ২০০৬ সালে। ফুটবলের সঙ্গে তখন আমার দূরদূরান্তেরও কোনো সম্পর্ক ছিল না। পারিবারিক সূত্রে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের একটা দল বেছে নেওয়ার গল্পও আমার ছিল না। বরং কাকতালীয়ভাবেই মেসির সঙ্গে আমার পরিচয়। ছোটবেলায় বোর্ডিং স্কুলে পড়ার সুবাদে বেশ কড়া নিরাপত্তার মধ্যে থাকতাম। মোবাইল ফোন বা কোনো ডিভাইস, গল্পের বই, ম্যাগাজিন কিংবা টেলিভিশন—কিছুই দেখার সুযোগ ছিল না। সেই বছর ছুটিতে বাড়ি গিয়ে একটা ম্যাগাজিন নিয়ে এলাম হোস্টেলে লুকিয়ে। ভেতরে কী আছে, তাও জানতাম না। তারপর একদিন সেই ম্যাগাজিন খুলে প্রথম পাতায় আবিষ্কার করলাম বাদামি চুলের ১৮ বছরের এক আর্জেন্টাইন তরুণকে। ১৩ বছরের কিশোরী আমার এটাই জীবনের প্রথম 'ক্রাশ'। মজার ব্যাপার হলো, মেসিকে নিয়ে আমার প্রথম অনুভূতিটা ফুটবল থেকে আসেনি, এসেছিল ম্যাগাজিনের ছবিটা থেকে। সে বয়সে বান্ধবীরা হিন্দি সিনেমার হিরোর ভিউকার্ড জমাতো আর আমি এক আর্জেন্টাইন ছেলের । তখন থেকেই মেসিকে অনুসরণ করা শুরু আমার । মেসির খেলা দেখবো বলে হোস্টেল সুপারকে মিথ্যা কথা বলে বাড়ি চলে যাওয়া, লুকিয়ে বাগানে বসে খেলা দেখে ডেঙ্গু বাধানো, প্রথম আলোর খেলার পাতা থেকে মেসির সব ছবি কেটে ফেলা—সবই ছিল পাগলামির চূড়ান্ত।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/v5rdz3u4/b85062a6_8d4f_4a48_837f_0439fdaa6b42.jpg"><figcaption>যে ছবি দেখে মেসিকে চিনেছিলাম</figcaption></figure><p>সেই বয়সে নিজের ভালো লাগার পক্ষে কোনো যুক্তি খুঁজতে হয় না। মেসির জন্মস্থান রোজারিও। আর আমার পদবিও রোজারিও। মেসি খেলে ইন্টার মায়ামিতে, যে ক্লাব ফ্লোরিডা শহরে, আর আমার নাম? ওটাই! কী কাকতাল! ভাবলে হাসি পায়, আনন্দও হয়। ফুটবলের প্রতি আমার ভালোবাসাটা মেসির জন্যই—এ কথা বলতে কোনো দ্বিধা নেই। আজ এত বছর পর বুঝি, কৈশোরের সেই ভালো লাগার সঙ্গে সঙ্গে আমার নিজের একটা জগতও তৈরি হয়ে গিয়েছিল। সত্যি বলতে, আমি মেসিকে দেখতে দেখতে বড় হয়েছি, অভ্যস্ত হয়েছি । এই বিশ বছরের অভ্যস্ততার ঘোর কাটানো কঠিন।</p><p>এই দীর্ঘ জার্নিতে মেসিকে নিয়ে নানা গল্প জমে গেছে, সব কী আর লিখে বুঝানো যায় ! তবু কিছু পাগলামির গল্পও ভাগ করে নিতে ইচ্ছে করছে। ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনাল আমার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় রাত। মেসির হাতে বিশ্বকাপ ওঠার মুহূর্তে আমার মনে হয়েছিল, স্কুলজীবন থেকে যে ছেলেটাকে দেখে এত পাগলামি শুরু হয়েছিল, তার জীবনের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত মুহূর্তটার সাক্ষী হতে পারলাম আমি। মনে হয়েছিল, এবার বুঝি গল্পটা পূর্ণ হলো। তবে আর্জেন্টিনার অনেক মানুষের মতো আমিও ‘কাবালা’ (কুসংস্কার) বিশ্বাস করি। ২০২২ বিশ্বকাপে তাই কিছু নিয়ম মেনে চলতাম। যেমন, একা খেলা দেখব, ঘরে কেউ থাকবে না—এ রকম আরও কত কী!</p><p>আর্জেন্টিনা-ফ্রান্স ফাইনালের শেষ ৩০ মিনিট আমি খেলা দেখিনি। ল্যাপটপ বন্ধ করে বাইবেল নিয়ে বসেছিলাম প্রার্থনায়। প্রার্থনাটা ছিল অদ্ভুত। ‘আমার জীবন থেকে এক বছর নিয়ে নাও, এর বিনিময়ে মেসিকে জিতিয়ে দাও। ও এটা ডিজার্ভ করে। প্লিজ, ২০১৪ সালের মতো কিছু যেন না হয়।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/n3uxbb1e/837799155180154184309577576920959704797220486n_1.jpg"><figcaption>লিওনেল মেসি</figcaption></figure><p>বিষয়টা আমার কাছে এতটাই সিরিয়াস হয়ে গিয়েছিল যে, মনে মনে সত্যিই নিজের জীবন থেকে এক বছর দিয়ে দিয়েছিলাম। শুনতে অদ্ভুত লাগতে পারে। কিন্তু আমি সত্যিই ভয়ে ফাইনালটা দেখিনি। তারপর মেসি জিতে গেলো। মনে হলো, আমিও জিতে গেলাম। সারারাত ঢাকা শহর ঘুরেছি। রাস্তায় তখন বিজয় মিছিলের আনন্দ। মেসি যেন সবার হয়ে গেছে। পরে অবশ্য সেই ফাইনাল খেলা আমি অসংখ্যবার দেখেছি।</p><p>আর এবারের ফাইনাল? সেটা শুরু হওয়ার ১৫ মিনিট পর থেকে আর দেখিনি। পরেও দেখিনি। সাহস হয়নি, কেন জানি না। শুধু কি ফাইনাল? আর্জেন্টিনা-মিশরের ম্যাচে বাইরে সবাই চিৎকার করছে গোল! গোল! আর্জেন্টিনার না, মিশরের। আমি তখন টিভি রেখে অন্য রুমে গিয়ে ভয়ে বাইবেল জড়িয়ে জপছি, আর্জেন্টিনাকে তুমি জিতিয়ে দাও! আর্জেন্টিনাকে তুমি জিতিয়ে দাও।</p><p>তাতেও ক্ষান্ত হইনি। ডায়রি বের করে পাতার পর পাতা লিখে গেছি, আর্জেন্টিনা জিতে গেছে। আর্জেন্টিনা জিতে গেছে! তারপর আর্জেন্টিনা জিতে গেলো। সে কী আনন্দ!</p><p>আমি জানতাম, মেসিকে একদিন থামতে হবে। ঠিক যেমনটা ভেবেছিলাম, স্পেনের সঙ্গে ফাইনালে সেটাই ছিল মেসির শেষ ম্যাচ। কিন্তু শেষ হয়েও কি শেষ হয়? এ তো মেসি। কী অদ্ভুত এক যাদুর বলয়ে আটকে রেখেছে সব প্রজন্মকে। কিন্তু এবার সত্যিই শেষ হচ্ছে সব। আজ সেই দিন, আর্জেন্টিনার হয়ে শেষবার মাঠে নামলেন মেসি। মেসি আর আর্জেন্টিনার জার্সিতে খেলবে না—এই সত্যের সঙ্গে মানিয়ে নিতে আমার, আমাদের হয়তো অনেকটা সময় লাগবে।</p><p>মাঝেমধ্যে সত্যিই মনে হয়, উচ্চতার শিখরে পৌঁছানোর জন্য যা কিছু করা সম্ভব, মেসি তার সবই অর্জন করেছে। তবু সবার থেকে সে আলাদা অন্য একটা কারণে—মানুষ হিসেবে তাঁর বিনয়, তাঁর সংবেদনশীলতা আর শিশুসুলভ আবেগ। তা না হলে কেউ এভাবে ডায়েরির তিনটি পাতায় নিজের অবসরের ঘোষণা দিতে পারে ? অবশ্য মেসি সবই পারে। তাই এই জীবন্ত কিংবদন্তির বিদায়টাও যেন রাজকীয়।</p><p>মেসি হয়তো জানবেন না, আজ পৃথিবীর কত মানুষের মন খারাপ। হয়তো এই খারাপ লাগাটা অনেক দিন থাকবে। হয়তো কারও কারও সঙ্গে সারাজীবন। মেসি হয়তো কোনো দিন জানবেও না, পৃথিবীর অন্য প্রান্তে একজন মানুষ তাঁর এই বিদায়ের সঙ্গে নিজেও যেন অবসর নিয়ে ফেলেছে। ২০০৬–২০২৬। বিশ বছর। একটা মানুষকে দেখতে দেখতে বড় হয়ে যাওয়ার বিশ বছর। একটা ভালোবাসাকে নিজের জীবনের অংশ করে ফেলার বিশ বছর। ভালো থেকো, লিও। আমার ছোটবেলার প্রেমিক।</p>

অক্টোবর ৭, ২০২৬
বন্ধ কারখানা চালু করতে ঋণ মিলছে না, আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি ব্যবসায়ীদের
বন্ধ কারখানা চালু করতে ঋণ মিলছে না, আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি ব্যবসায়ীদের

বন্ধ কারখানা চালু করতে ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল থেকে ঋণ পেতে জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা। আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

অক্টোবর ৭, ২০২৬
যুদ্ধ থামাতে ইরানকে অবশ্যই পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কমাতে হবে: জেডি ভ্যান্স
যুদ্ধ থামাতে ইরানকে অবশ্যই পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কমাতে হবে: জেডি ভ্যান্স

তবে আলোচনায় ইরান কীভাবে সিদ্ধান্ত নেয়, তা নিয়ে ওয়াশিংটনের অনিশ্চয়তা রয়েছে বলেও জেডি ভ্যান্স উল্লেখ করেন।

অক্টোবর ৭, ২০২৬
‘বিবাহিত জীবনে হ্যাপি থাকার রেসিপি’
‘বিবাহিত জীবনে হ্যাপি থাকার রেসিপি’

মজা করে তিশা বলেন, ‘ভাইয়েরা, আমাদের বসে থাকার ভিডিও না করে চলুন, আমরা “হ্যাপিলি ম্যারিড” দেখি।’

অক্টোবর ৭, ২০২৬
নয়াদিল্লিতে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করলেন দীনেশ ত্রিবেদী
নয়াদিল্লিতে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করলেন দীনেশ ত্রিবেদী

গত সোমবার রাতে ঢাকা থেকে নয়াদিল্লি পৌঁছে পরদিন মঙ্গলবার দুপুরে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করেন দীনেশ ত্রিবেদী।

অক্টোবর ৭, ২০২৬
মেসি বিদায় নিলেন, থেকে গেলেন মেসি
মেসি বিদায় নিলেন, থেকে গেলেন মেসি

<p>হাজার হাজার মানুষের গর্জন। মনুমেন্তাল স্টেডিয়াম যেন কেঁপে উঠছে। জাতীয় দলের জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নামা মানুষটিকে শেষবারের মতো অভিবাদন জানাচ্ছে আর্জেন্টিনা। চারপাশে একটাই ধ্বনি, ‘মেসি...মেসি...মেসি...’</p><p>স্লোগান নয়, যেন প্রার্থনার মতো কিছু। যাঁরা গাইছেন, তাঁদের কেউ কেউ শিশু, কেউ কেউ আর শিশু নন। কিন্তু সবাই কাঁদছেন; কারণ, তাঁরা আর্জেন্টিনা দলের কথা ভাবতে গেলে লিওনেল মেসি ছাড়া আর কিছু ভাবতে পারেন না। ‘ভিনগ্রহী’ এই লোকটা সেই দলে ছিলেন ২১ বছর। অনেকের জন্মের আগে থেকে, অনেকের বড় হওয়ার পুরোটা জুড়ে।</p><p>একটা দেশে অনেক ভাগাভাগি থাকে। অনেক দল, অনেক মত। কিন্তু আজ আর্জেন্টিনা কয়েক ঘণ্টার জন্য ভুলে গিয়েছিল সব ভাগাভাগির কথা। আবেগ সবাইকে ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। তাদের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার, হয়তো সেরাই, জাতীয় দলকে বিদায় বলে দিয়েছেন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/football/xi1stw4j5y">এক গোল, দুই অ্যাসিস্টে বিদায় রাঙালেন মেসি</a></aside><p>২.</p><p>মেসি কাঁদছিলেন স্টেডিয়ামে ঢোকার আগেই।</p><p>বাসে বসে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়েছিলেন। চোখের সামনে যেন ভেসে উঠছিল জাতীয় দলের জার্সিতে কাটানো দুই দশকের বেশি সময়। নিজের জীবনটাই যেন সিনেমার মতো ছুটে যাচ্ছিল জানালার ওপারে। চোখের পানি মুছে নিচ্ছিলেন বারবার।</p><p>মনুমেন্তালে পৌঁছে আরও এক আবেগের ধাক্কা। সাজানো ড্রেসিংরুম। চারপাশে মেসিকে ঘিরে স্মৃতির আবহ। ফোন করে আগেই নিশ্চিত করেছিলেন, স্ত্রী আন্তোনেলা আর ছেলেরা ভিআইপি বক্সে আছে কি না।</p><p>তারপর একের পর এক আবেগের মুহূর্ত। ওয়ার্মআপে নামার সময় গ্যালারি যখন উঠে দাঁড়াল, তিনি কান্না চেপে রাখার চেষ্টা করলেন। পারলেন না পুরোপুরি। শুধু হাত তুললেন, এক দিকে, আরেক দিকে, সব দিকে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/e23ri33x/83695975110858512477647725327569277095534048n.jpg"><figcaption>মেসির বিদায়ী ম্যাচে গ্যালারিতেও নেমেছিল আবেগের ঢল</figcaption></figure> <p>৩.</p><p>মাঠে ঢুকে আকাশের দিকে তাকালেন মেসি। সঙ্গে তিন ছেলে। জাতীয় সংগীত বাজছে। কিন্তু এবার মেসি গাইলেন না। গলায় তখন আবেগের বিশাল এক দলা।</p><p>সেই মুহূর্তে যেন ফিরে গেলেন ছোট্ট লিওর কাছে। হয়তো মনে পড়ে গিয়েছিল দাদি সেলিয়ার কথা। হাত ধরে মাঠে নিয়ে যেতেন খেলা দেখতে। প্রথম কোচ সালভাদর আপারিসিওকে একদিন বলেছিলেন, ‘ওকে নামান, ও ম্যাচ বাঁচিয়ে দেবে।’ উত্তরটাও প্রায় স্পষ্ট মনে আছে মেসির, ‘ম্যাডাম, ও খুব ছোট, ওকে মেরে বসবে।’ দাদি তখনও নাছোড়, ‘ওকে নামান।’</p><p>দাদির জন্যই মেসি তাঁর সাম্প্রতিক অ্যালবাম ‘লাস্ট ড্যান্স’ উৎসর্গ করেছেন, সঙ্গে বাবা হোর্হের জন্যও। ফুটবলের প্রতি তাঁর যে ভালোবাসা, তার শুরুটাও যেন সেই দিনগুলোতেই। আজ যার সবচেয়ে প্রিয় অধ্যায়টা শেষ হলো।</p> <aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/football/ew0u62c09a">আমি যেতে চাই না, এই মাঠ ছেড়ে যেতে চাই না: বিদায়ী বক্তৃতায় মেসি</a></aside><p>৪.</p><p>বিদায়ী ম্যাচেও প্রতিটা আচার মানলেন মেসি। টসের পর বেনিনের অধিনায়কের হাতে তুলে দিলেন আর্জেন্টিনার পতাকা। বেনিনের অধিনায়কও তাঁর হাতে তুলে দিলেন সঙ্গে আনা বিশেষ উপহার। সতীর্থদের প্রত্যেককে আলিঙ্গন করলেন। তারপর শুরু হলো সেই ম্যাচ, যেটি আসলে ম্যাচের চেয়ে অনেক বেশি কিছু।</p><p>প্রথমে ছন্দ পাচ্ছিলেন না মেসি, দলও না। বেনিনের খেলোয়াড়েরা একে একে মেসির কাছে এসে আলিঙ্গন করছিলেন। শ্রদ্ধা জানাচ্ছিলেন। মিনিট দশেকের সময় তো খেলাও একটু থেমে গেল সে কারণে। তারপর মেসির যেন মনে হলো, আনুষ্ঠানিকতা যত দ্রুত শেষ করা যায়, তত ভালো। কারণ তিনি এসেছেন খেলতে। শেষবারের মতো।</p><p>দ্বিতীয়ার্ধে সেটাই করলেন। নিকোলাস ওতামেন্দির গোলে তাঁর অ্যাসিস্ট। আর্জেন্টিনা এগিয়ে গেল ১-০। এরপর নিকো পাজকে গোলের সুযোগ করে দেওয়ার আগে তাঁর সেই পরিচিত স্পর্শ। ২-০। তারপর শেষটাও যেন নিজের মতো করে লিখলেন মেসি। পেনাল্টি থেকে গোল। ৩-০।</p><p>সতীর্থরা তাঁকে ঘিরে গোল হয়ে দাঁড়ালেন। যেন জন্মদিনের কেকের চারপাশে সবাই। মেসি হাসছেন। সতীর্থরা তাঁকে উদ্যাপনের কেন্দ্রে রেখেছেন। জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁর ১২৬তম গোল। দাদির জন্য আরেকটি গোল।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/sonmn6i7/83521667516448007536970185680024743859203457n.jpg"><figcaption>ম্যাচের আগে প্রিয় বন্ধু রদ্রিগো দি পলের সঙ্গে।</figcaption></figure> <p>৫.</p><p>ছোটবেলা থেকে লিও মেসির চাওয়া খুব বেশি ছিল না। তিনি শুধু ফুটবল খেলতে চেয়েছিলেন।</p><p>আজও তাঁর তিন ছেলে তাই করে। বল দেখলেই ছুটে যায় থিয়াগো, সিরো আর মাতেও। কাতারে বিশ্বকাপ জয়ের রাতেও তারা বল নিয়ে ছুটেছে। চ্যাম্পিয়নদের উৎসবের মাঝেও। পেছনে দাঁড়িয়ে তাদের দেখেছেন পাবলো আইমার, বাবার সেই ছোটবেলার আদর্শ। ইন্টার মায়ামির মাঠে কিংবা মনুমেন্তালে, তিন ছেলের দৌড় দেখে কখনো কখনো মনে হয় সময় বুঝি ফিরে এসেছে। দৃশ্যটা প্রায় হুবহু মিলে যায় মা সেলিয়ার স্মৃতির সঙ্গে। গ্রান্দোলি ক্লাবের মাঠে, নয়তো রাস্তায়, বল নিয়ে লিও, মাতিয়াস আর রদ্রিগো তিন ভাই।</p> <p>৬.</p><p>ছোট্ট মেসির স্বপ্ন ছিল নিউয়েলস ওল্ড বয়েজের হয়ে খেলা, জাতীয় দলেও। কিন্তু রোজারিওর সেই ছেলেটার পথে জীবন একের পর এক বাধা বসাচ্ছিল। কোচেরা বারবার বলতেন, ‘৮৭ সালে জন্মানো একটা বাঁ পায়ের ছেলে আছে, ও সবাইকে নাচিয়ে ছাড়ছে।’ কিন্তু গ্রোথ হরমোনের ঘাটতি সেই প্রতিভাকে ঝুঁকিতে ফেলে দিল। নিয়তি তখনো জানত না, কার সঙ্গে খেলতে নেমেছে...</p><p>সেই ছেলেটিই আজ ৩৯ বছরের বাবা। আন্তোনেলার স্বামী। সেলিয়ার ছেলে। হোর্হের সন্তান। রদ্রিগো দি পল, ওতামেন্দি, লো সেলসো, দি মারিয়া ও পারেদেসের বন্ধু। এনজো ফার্নান্দেজ, কুটি রোমেরো, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, হুলিয়ান আলভারেজ ও লিসান্দ্রো মার্তিনেজদের অনুপ্রেরণা।</p><p>নিকো পাজ, ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুওনোদের মতো তরুণদের চিরকালের আদর্শ। যাদের কেউ কেউ একদিন মেসিকে দূর থেকে দেখেছেন। পরে তাঁর সতীর্থ হয়েছেন। কী অদ্ভুত জীবন!</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/3u4v5e4v/83830066415921821787468798761036050537345183n.jpg"><figcaption>শেষ ম্যাচ, শেষ নাচ।</figcaption></figure> <p>৭.</p><p>মাত্র ১০ বছর আগেও তো মেসি বলেছিলেন, জাতীয় দলের হয়ে আর খেলবেন না।</p><p>কোপা আমেরিকার ফাইনালে হারের পর তখন চারপাশে সমালোচনা। তীব্র সমালোচনা। মেসির ওপরও ছিল প্রবল আক্রমণ। অভিমানে বলেছিলেন, ‘জাতীয় দল আমার জন্য নয়।’</p><p>কিন্তু মেসি কী আর্জেন্টিনা ছেড়ে যেতে পারেন! ওটা ছিল তাঁর জীবনের আরেকটি ড্রিবল। আরেকবার প্রতিপক্ষকে ফাঁকি দেওয়া। হারানো ফাইনালগুলো, অপমান, সমালোচনা, সবকিছুই শেষ পর্যন্ত তাঁকে বদলে দিল। বার্সেলোনায় যাওয়ার পর মায়ের জন্য মন খারাপ করে পাবলিক ফোন থেকে কান্নাভেজা কণ্ঠে কথা বলা। গ্রোথ হরমোনের জন্য হাজার হাজার ইনজেকশন নেওয়া। শৈশবের শহর ছেড়ে অচেনা দেশে পাড়ি দেওয়া। স্পেনের প্রস্তাবে বারবার না বলা। সব করেছিলেন তো আর্জেন্টিনার হয়ে একদিন খেলবেন বলেই।</p> <aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/football/uvv8k1vlmy">মেসির বিদায় বেলায় আপ্লুত নেইমার, ‘তোমার সঙ্গে ইতিহাসের অংশ হতে পারা সম্মানের’</a></aside><p>৮.</p><p>একসময় মনে হয়েছিল, গল্পটা হয়তো অসম্পূর্ণই থেকে যাবে। কিন্তু তিনি আরও চেয়েছিলেন। ৩৭ বছর বয়সে জিতেছেন দ্বিতীয় কোপা আমেরিকা। ৩৫ বছর বয়সে জিতেছিলেন বিশ্বকাপ। ৩৯ বছর বয়সেও বিশ্বকাপের মঞ্চে ছিলেন দলের সেরা খেলোয়াড়দের একজন। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে উপহার দিলেন এমন এক মুহূর্ত, যা শুধু তাঁর সঙ্গেই মানানসই। ক্লান্ত শরীরে দুই তরুণ ইংলিশ খেলোয়াড়কে এড়িয়ে যাওয়া। তারপর লাওতারো মার্তিনেজের মাথায় বল তুলে দেওয়া। গ্যালারিতে বিস্ফোরণ।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/e0ge1ru2/83923668023279257277447137614862597268743353n.jpg"><figcaption>বিদায়ী ম্যাচে আবেগাপ্লুত মেসি</figcaption></figure> <p>৯.</p><p>তাঁকে ছাড়া আর্জেন্টিনা আর কখনো আগের মতো হবে না। যুগের পর যুগ মানুষ মেসির ফুটবল নিয়ে অনেক কথা বলবে। গোলের সংখ্যা নিয়ে বলবে। ট্রফির কথা বলবে। রেকর্ডের কথা বলবে। কিন্তু হয়তো তাঁর সবচেয়ে বড় লিগ্যাসিটা হচ্ছে নিষ্ঠা। ২১ বছরের বেশি সময় ধরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকার সৌভাগ্য সবার হয় না। মেসি সেটা করে দেখিয়েছেন। নিজের শক্তিতে করেছেন। শেষ পর্যন্তও রেখে গেলেন সেই নিষ্ঠার শিক্ষা। বিশ্বকাপে খেলতে নেমেছেন। ম্যাচ জিতিয়েছেন। প্রতিপক্ষকে ড্রিবল করে পেছনে ফেলেছেন। গ্যালারির প্রতিটি দর্শকের টিকিটের দাম উসুল করেছেন। অথচ জানতেন, বাবা হোর্হে জীবনের শেষ সময়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। কেঁদেছেন গোপনে। এই অবস্থাতেও মেসি খেলেছেন মেসির মতো। এই যে বেনিনের বিপক্ষে বিদায়ী ম্যাচ, তার শেষ বাঁশি পর্যন্তও নিজেকে নিংড়ে দিয়ে গেলেন।</p><p>মেসি বিদায় নিলেন, কিন্তু মেসি থেকে যাবেন।</p>

অক্টোবর ৭, ২০২৬
ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়তে থাকায় সব হাসপাতালে শয্যা বাড়ানোর নির্দেশ
ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়তে থাকায় সব হাসপাতালে শয্যা বাড়ানোর নির্দেশ

গত রোববার সচিবালয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। সভা শেষে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।

অক্টোবর ৭, ২০২৬
শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কেন এই ছেলেখেলা
শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কেন এই ছেলেখেলা

সংকট নিরসনে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ এবং আলোচনা আহ্বানের কথা জানা গেছে।

অক্টোবর ৭, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন