ব্যাংক

বন্ধ কারখানা চালু করতে ঋণ মিলছে না, আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি ব্যবসায়ীদের

অক্টোবর ৭, ২০২৬
বন্ধ কারখানা চালু করতে ঋণ মিলছে না, আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি ব্যবসায়ীদের
বন্ধ কারখানা চালু করতে ঋণ মিলছে না, আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি ব্যবসায়ীদের
বন্ধ কারখানা চালু করতে ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল থেকে ঋণ পেতে জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা। আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

Prothomalo

View more
বছরে শ্রমবাজারে আসেন ২০ লাখ, কাজ পান ৯ লাখ
বছরে শ্রমবাজারে আসেন ২০ লাখ, কাজ পান ৯ লাখ

দেশের ৭১% প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎ–বিভ্রাটের মুখে পড়ে। মাসে গড়ে ২৬ বার বিভ্রাট হয়। এতে বার্ষিক বিক্রির প্রায় ৯% ক্ষতি হয়।

অক্টোবর ৭, ২০২৬
শহীদ বীর উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস কলেজে নার্সারিতে ছাত্রী ভর্তি, আবেদন শেষ ১৫ নভেম্বর
শহীদ বীর উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস কলেজে নার্সারিতে ছাত্রী ভর্তি, আবেদন শেষ ১৫ নভেম্বর

ঢাকার শহীদ বীর উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস কলেজে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নার্সারি ভর্তির জন্য আবেদন শুরু হয়েছে।

অক্টোবর ৭, ২০২৬
মেসির বিদায়ী ম্যাচের অ্যালবাম: আবেগ আর ভালোবাসার গল্প
মেসির বিদায়ী ম্যাচের অ্যালবাম: আবেগ আর ভালোবাসার গল্প

<blockquote>আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবার খেললেন। বিদায়ের মঞ্চেও দলকে সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিলেন লিওনেল মেসি। গোল করলেন, করালেনও। বহুবারের মতো আরও একবার বিজয়ীর বেশেই মাঠ ছাড়লেন ফুটবলের এই মহাতারকা। তবে এবার আরেকটু বেশি আবেগ নিয়ে। </blockquote><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/o36hqs1x/84040503816498081932073723783980338903904678n.jpg"><figcaption>লকার রুমে এই জার্সি আর দেখা যাবে না, অধিনায়কের আর্মব্যান্ড থাকবে অন্য কারও হাতে।</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-06/r9shwxsq/fbl-friendly-arg-ben-224334.jpg"><figcaption>আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবার মাঠে নামার আগে ওয়ার্মআপে নামছেন মেসি</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/3em2qxly/84088183116499645431917377451127508418338473n.jpg"><figcaption>শেষবারের মতো দেশের হয়ে মাঠে নামা</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/1964rl9y/UONXhMUyP1256x6202.jpg"><figcaption>ভিআইপি বক্সে মেসির পরিবার</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-06/gr7uhj0v/2026-10-06t233604z323244112up1ema61tk3owrtrmadp3soccer-friendly-arg-ben.jpg"><figcaption>জাতীয় সংগীতের মুহূর্তে</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-06/nl4mzpli/2026-10-06t233531z680505339up1ema61tj6ovrtrmadp3soccer-friendly-arg-ben.jpg"><figcaption>মেসির সঙ্গে তিন ছেলে থিয়াগো, মাতেও ও সিরো</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-06/elbv3uk8/fbl-friendly-arg-ben-235005.jpg"><figcaption>মেসিকে শুভেচ্ছা বেনিনের খেলোয়াড়দের</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/zfqpc8o0/2026-10-07t004658z1942336287up1ema70269q2rtrmadp3soccer-friendly-arg-ben.jpg"><figcaption>আর্জেন্টিনার প্রথম গোলের পর জার্সির লোগোতে চুমু নিকোলাস ওতামেন্দির</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/9nmru18r/83809000116499275598621021410916087218441720n.jpg"><figcaption>নিকো পাজের আলিঙ্গনে</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/5t58j22w/2026-10-07t011014z1981757353up1ema70390r0rtrmadp3soccer-friendly-arg-ben.jpg"><figcaption>যেভাবে মেসির গোল</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/g14sfhy5/2026-10-07t010930z1568925685up1ema7037sqyrtrmadp3soccer-friendly-arg-ben.jpg"><figcaption>গোলের হাসি </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/9vnoolq5/fbl-friendly-arg-ben-014458.jpg"><figcaption>ড্রোনে ড্রোনে মেসি</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/iizte9vb/84076461016499865565228691233035096510991141n.jpg"><figcaption>মেসিও দেখছেন ড্রোন শো</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/a4eo4juj/HTwmYMXIAAmj5k.jpg"><figcaption>আবেগাপ্লুত কোচ স্কালোনি</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/6bvwleq8/HT3Ns6WUAAKqY-.jpg"><figcaption>হাসি এবং কান্না</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/e6nb4gmw/HTk0l0XQAA0vi1.jpg"><figcaption>শেষ কান্না</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/srk1z8oz/836663067_1649952076526317_4360320738662166596_n.jpg"><figcaption>এবং বিদায়</figcaption></figure>

অক্টোবর ৭, ২০২৬
হেলাল হাফিজ: আগুন, প্রেম ও বেদনার কবি
হেলাল হাফিজ: আগুন, প্রেম ও বেদনার কবি

<p>সেলফোনে এখনো সেই নম্বরটি সংরক্ষিত ০১৫৫.…৯৮৯। নামের পাশে কাঠের পুঁতির মালা গলায় সৌমকান্তি সেই মুখ। মনে হয় এই ফোন বেজে উঠবে, দূর থেকে ভেসে আসবে মধুর এক কণ্ঠ—‘কেমন আছ প্রিয়’। সেই ফোন আর আসে না। হাওরের জলে ভেজা সেই কণ্ঠস্বর কত দিন শুনি না ভেসে আসা ইথারে বা মুখোমুখি বসে। কেউ জানায় না সেই ‘বাসনা’—‘আগামী, তোমার হাতে/ আমার কবিতা যেন/ থাকে দুধে-ভাতে।’</p><p> কবি হেলাল হাফিজ—তাঁকে চিনতে হলে শুধু তাঁর কবিতার কাছে গেলেই হয় না; যেতে হয় তাঁর নীরবতা, দীর্ঘ বিরতি, নিঃসঙ্গতা, তুমুল যৌবন, আড্ডা, অভিমান, প্রেম, আত্মপীড়ন এবং জীবনের প্রতি অদ্ভুত নির্মোহ দৃষ্টির কাছেও। কারণ, জীবন মন্থন করে যে বিষে তিনি হয়েছিলেন নীলকণ্ঠ; সেই জীবনের পরিশ্রুত, সংক্ষিপ্ত ও নান্দনিক প্রকাশই তাঁর কবিতা। যাকে বলতে পারি জীবনের দহন থেকে উঠে আসা প্রদীপ্ত শব্দমালা।</p><p> বাংলা কবিতায় জনপ্রিয়তা অনেক কবিরই আছে। কিন্তু খুব অল্প কয়েকজন কবিই এমন জায়গায় পৌঁছেছেন, যেখানে কবিতার পঙ্‌ক্তি বইয়ের পৃষ্ঠা ছাড়িয়ে মানুষের ব্যক্তিগত জীবন, প্রেম, বিরহ, রাজনৈতিক চেতনা ও প্রতিবাদের ভাষা হয়ে ওঠে। হেলাল হাফিজ তাঁদের অন্যতম। তাঁর কবিতা কেউ বালিশের নিচে রেখে ঘুমিয়েছে, কেউ মিছিলে উচ্চারণ করেছে, কেউ বিচ্ছেদের রাতে প্রিয়জনকে পাঠিয়েছে, আবার কেউ নিজের অপ্রাপ্তির মুখ খুঁজে পেয়েছে তাঁর কোনো একটি পঙ্‌ক্তিতে। কবিতার এই জনজীবনে প্রবেশই তাঁর সবচেয়ে বড় অর্জন।</p><p>হেলাল হাফিজের মৌলিক কাব্যগ্রন্থ মাত্র দুটি—‘যে জলে আগুন জ্বলে’ এবং ‘বেদনাকে বলেছি কেঁদো না’। প্রথমটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৬ সালে; দ্বিতীয়টি আসে দীর্ঘ ৩৪ বছরের বিরতির পর—২০১৯ সালে। এত দীর্ঘ কাব্যজীবনে মাত্র দুটি মৌলিক কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেও যে বিপুল পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করা সম্ভব, হেলাল হাফিজ তার এক বিরল দৃষ্টান্ত। দ্বিতীয় বই প্রকাশের আগে প্রায় দুই শ কবিতা থেকে মাত্র ৩৪টি কবিতা বেছে নেওয়ার কথাও তিনি নিজেই বলেছিলেন।</p><p>তবে সংখ্যার বিচারে হেলাল হাফিজকে বোঝা যাবে না। তাঁকে বুঝতে হবে তাঁর কবিতার অভিঘাতের বিচারে। ‘যে জলে আগুন জ্বলে’ প্রকাশের পর বাংলা কবিতার পাঠক খুঁজে পায় একটি স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর। সেখানে প্রেম আছে, কিন্তু তা নিছক রোমান্টিক প্রেম নয়; দ্রোহ আছে, তা–ও কেবল রাজনৈতিক স্লোগান নয়; ব্যক্তিগত বেদনা আছে, যা ব্যক্তিগত ঘেরাটোপে আটকে থাকে না। তাঁর কবিতায় প্রেম ও দ্রোহ পরস্পরের বিপরীত নয়, বরং একই মানবিক বোধের দুই প্রকাশ। কবি নিজেও পরে বলেছেন—তাঁর কাছে দ্রোহ ও প্রেম একই মালার দুটি ফুল। প্রেমিক না হলে বিপ্লবী হওয়া যায় না, আবার প্রকৃত বিপ্লবীর ভেতরেও প্রেমিক সত্তা জেগে থাকে। হেলাল হাফিজের কাব্যসত্তার এই জায়গাটিই বিশেষভাবে লক্ষণীয়। তিনি রাজপথের উত্তাপ আর হৃদয়ের গোপন কাঁপনকে একই কবিতার শরীরে ধারণ করতে পেরেছেন।</p><p>‘নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়’-এর সেই উচ্চারণ ‘এখন যৌবন যার, মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়’—শুধু একটি রাজনৈতিক সময়ের আহ্বান হয়ে থাকেনি; তা হয়ে উঠেছিল একটি প্রজন্মের আত্মপরিচয়ের অংশ। উনসত্তরের গণ–অভ্যুত্থানের উত্তাল বাস্তবতা থেকে জন্ম নেওয়া এই কবিতা পরবর্তী সময়ে স্বাধিকার আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ হয়ে আমাদের যেকোনো রাজনৈতিক সংগ্রাম ও তারুণ্যের প্রতিবাদী চেতনার সঙ্গে একাকার হয়ে গেছে।</p><blockquote>হেলাল হাফিজের মৌলিক কাব্যগ্রন্থ মাত্র দুটি—‘যে জলে আগুন জ্বলে’ এবং ‘বেদনাকে বলেছি কেঁদো না’। প্রথমটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৬ সালে; দ্বিতীয়টি আসে দীর্ঘ ৩৪ বছরের বিরতির পর—২০১৯  সালে। এত দীর্ঘ কাব্যজীবনে মাত্র দুটি মৌলিক কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেও যে বিপুল পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করা সম্ভব, হেলাল হাফিজ তার এক বিরল দৃষ্টান্ত।</blockquote><p>অথচ যে কবি যৌবনকে মিছিলে ও যুদ্ধে যাওয়ার আহ্বান জানালেন, প্রেমের কাছে এসে সেই তিনিই সম্পূর্ণ অন্য মানুষ। তখন তাঁর কবিতায় রাজপথের শোরগোল স্তব্ধ হয়ে যায়; সেখানে প্রতিস্থাপিত কোনো নারীমুখ, একটি চিঠির অপেক্ষা, একটি বিকেলের স্মৃতি কিংবা দীর্ঘ বিচ্ছেদের নিঃশব্দ হাহাকার।</p><p>হেলেন সেই স্মৃতির কেন্দ্রীয় চরিত্র। তাই হেলেনকে বাদ দিয়ে হেলাল হাফিজের প্রেমের কবিতা বোঝা কঠিন। আবার এই হেলেনকে শুধু একজন নারী হিসেবে দেখলেও কবিকে ভুল বোঝা হবে। হেলেনে এসে কখনো সবিতা মিস্ট্রেস, কখনোবা তনা এসে মিশেছে ব্রহ্মপুত্রপারে। তখন এই নারীমুখগুলো তাঁর কবিতায় রক্ত-মাংসের মানুষ থেকে প্রেম, অপ্রাপ্তি, বিচ্ছেদ ও সৌন্দর্যের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। কবি নিজেই জানিয়েছেন, ‘ব্রহ্মপুত্রের মেয়ে’ কবিতাটি একজনকে ভেবে লেখা হলেও কবিতাটির বিস্তার এমন যে তা ব্রহ্মপুত্রপারের যেকোনো মেয়ের জন্যই প্রযোজ্য হয়ে উঠতে পারে। এখানেই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা অতিক্রম করে হেলাল হাফিজের কবিতা সর্বজনীন হয়ে ওঠে। কবির প্রেমের কবিতার শক্তি সম্ভবত এই জায়গাতেই। তিনি নিজের প্রেমের কথা লিখেছেন, কিন্তু পাঠক সেখানে নিজের প্রেম খুঁজে পেয়েছে। তিনি নিজের বিচ্ছেদের কথা বলেছেন, কিন্তু পাঠকের হারানো মানুষটির মুখ সেখানে ফুটে উঠেছে। তাঁর ব্যক্তিগত বেদনা ধীরে ধীরে পাঠকের নিজস্ব বেদনায় রূপ নিয়েছে।</p><p>‘ভালোবাসা মিলনে মলিন হয়, বিরহে উজ্জ্বল’—এ ধরনের উচ্চারণের ভেতরেই তাঁর প্রেমভাবনার স্বাতন্ত্র্য ধরা পড়ে। প্রেমকে তিনি শুধু অর্জনের মধ্যে দেখেননি; হারানোর মধ্যেও তার সৌন্দর্য আবিষ্কার করেছেন। তাঁর কাছে বিচ্ছেদ প্রেমের ব্যর্থতা নয়, প্রেমেরই অন্য এক পরিণতি। ‘ব্রহ্মপুত্রের মেয়ে’ কবিতার অন্তর্গত দর্শনেও সেই বিশ্বাস–শারীরিক মিলন না ঘটলেও প্রেমের পূর্ণতায় ঘাটতি থাকে না।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2024-12-19/jlwro6uc/FF1F3707.JPG"><figcaption>হেলাল হাফিজ (৭ অক্টোবর ১৯৪৮—১৩ ডিসেম্বর ২০২৪)</figcaption></figure><p>এই বোধের পেছনে অবশ্যই কাজ করেছে কবির নিজের জীবনের গভীর ক্ষত। মাত্র তিন বছর বয়সে মাকে হারানো, বাবার মধ্যে একই সঙ্গে মা ও বাবাকে খুঁজে পাওয়া, শৈশবের স্নেহবঞ্চনা, কৈশোরের প্রেম, যৌবনের বিচ্ছেদ, বাবার মৃত্যু, আত্মহননের কিনারায় গিয়ে ফিরে আসা—এসব অভিজ্ঞতা তাঁর ভেতরের মানুষটিকে নির্মাণ করেছে। তাঁর কবিতার বেদনা তাই সাজানো কোনো অলংকার নয়; তা তাঁর জীবন থেকে উঠে এসেছে। ‘স্রোতস্বিনী ভালোবাসা’ কবিতার পেছনেও রয়েছে বাবা-মায়ের ভালোবাসা এবং প্রথম প্রেম হারানোর গভীর আঘাত।</p><p>তাই হেলাল হাফিজের কবিতায় বেদনা কখনো নিছক কান্না নয়। বেদনা তাঁকে ভেঙেছে, আবার সেই ভাঙনের ভেতর দিয়েই তাঁকে কবি করে তুলেছে। তিনি লিখেছেন—‘আজন্ম মানুষ আমাকে পোড়াতে পোড়াতে কবি করে তুলেছে।’ এই একটি উচ্চারণেই যেন তাঁর কবিজীবনের সারাংশ ধরা পড়ে। মানুষ তাঁকে যে কষ্ট দিয়েছে, তিনি সেই কষ্টকে শব্দে রূপ দিয়েছেন। ব্যক্তিগত ক্ষত শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠেছে পাঠকের নান্দনিক অভিজ্ঞতা।</p><p>হেলাল হাফিজের কবিতার আরেকটি অনন্য শক্তি তাঁর ভাষা। তিনি কঠিন শব্দের বর্মে নিজেকে লুকাননি। বরং সহজ কথাকে এমনভাবে কাব্য রূপ দিয়েছেন, যা সহজের চেয়ে অনেক বেশি কিছু কাজ করে। ‘মিছিলের সব হাত, কণ্ঠ, পা এক নয়’—এই সরল বাক্যের মধ্যেই তিনি রাজনৈতিক বাস্তবতার বহুস্তর উন্মোচন করেছেন। আবার ‘নিউট্রন বোমা বোঝো,/ মানুষ বোঝো না’—দুটি লাইনে আধুনিক সভ্যতার এক নির্মম বৈপরীত্যকে ধরে ফেলেছেন। তাঁর জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ এই সহজ অথচ গভীর উচ্চারণ।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo/import/media/2019/10/03/3c8246fab2cd00667cb54f9eb6d88def-5d961e2746ec1.jpg"><figcaption>হেলাল হাফিজ</figcaption></figure><p>তাই সহজ ভাষা মানেই সরল কবিতা নয়, অচল প্রেমের পদ্যও নয়। তাঁর কবিতায় উপমা, উৎপ্রেক্ষা, চিত্রকল্প এবং শব্দের বিন্যাস অত্যন্ত সচেতন। অল্প শব্দে তিনি একটি সম্পূর্ণ দৃশ্য নির্মাণ করেছেন। ‘পাথরচাপা সবুজ ঘাসের সাদা কষ্ট’—এই একটি চিত্রকল্প একই সঙ্গে দৃশ্যমান ও অনুভবযোগ্য। এক দৃষ্টিহীন সাহিত্যমোদী তাঁকে বলেছিলেন, তাঁর কবিতার সেই ‘সাদা কষ্ট’ তিনি শুধু অনুভব করেন না, দেখতেও পান। কবির জন্য এর চেয়ে বড় স্বীকৃতি আর কী হতে পারে!</p><p>হেলাল হাফিজের কবিতা তাই শুধু পড়া যায় না, দেখা যায়; শুধু অনুভব করা যায় না, স্পর্শও করা যায়। এই দৃশ্যমানতাই তাঁর কবিতাকে স্বতন্ত্র করেছে। তাঁর নিজের জীবনও যেন এক দৃশ্যকাব্য—নেত্রকোনার শৈশব, মগড়া নদী, মাতৃহীন শিশুর নিঃসঙ্গতা, বাবার স্নেহ, সবিতা মিস্ট্রেস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ প্রাঙ্গণ, হেলেন, প্রেমের উত্তাপ, বিচ্ছেদের অন্ধকার, প্রেসক্লাবের আড্ডা, তাসের টেবিল, হোটেলের ছোট ঘর—সব মিলিয়ে তাঁর জীবনই যেন তাঁর কবিতার দীর্ঘ পাণ্ডুলিপি।</p><p>কিন্তু সেই জীবন প্রচলিত অর্থে সাফল্যের জীবন ছিল না। দীর্ঘ সময় তিনি একাকী ছিলেন। হাজার মানুষের ভিড়ের মধ্যে থেকেও তাঁর ভেতরে ছিল এক গভীর নিঃসঙ্গতা। জীবনের শেষ পর্বে ‘সুপার হোস্টেলের’ ৬ ফুট বাই ১০ ফুটের ঘরে বসেও তিনি বলেছিলেন—“সবাই জমায় টাকা, আমি চাই মানুষ জমাতে।” এই একটি বাক্য তাঁর জীবনদর্শনের গভীরতম পরিচয় বহন করে। অর্থ, প্রতিষ্ঠা কিংবা সম্পদের চেয়ে মানুষের সান্নিধ্য তাঁর কাছে ছিল বড়। তিনি মানুষের মধ্যে বেঁচে থাকতে চেয়েছেন। সেই বেঁচে থাকা শুধু স্মৃতিতে নয়, ভালোবাসায়।</p><blockquote>‘মিছিলের সব হাত, কণ্ঠ, পা এক নয়’—এই সরল বাক্যের মধ্যেই তিনি রাজনৈতিক বাস্তবতার বহুস্তর উন্মোচন করেছেন। আবার ‘নিউট্রন বোমা বোঝো,/ মানুষ বোঝো না’—দুটি লাইনে আধুনিক সভ্যতার এক নির্মম বৈপরীত্যকে ধরে ফেলেছেন। তাঁর জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ এই সহজ অথচ গভীর উচ্চারণ।</blockquote><p>বিপুল জনপ্রিয়তার মধ্যেও এক হিসেবে হেলাল হাফিজ ছিলেন নিঃসঙ্গ কবি। তাঁর চারপাশে অজস্র মানুষ, অথচ ভেতরটা এক শূন্য—খাঁ-খাঁ। আর সে জন্যই বুঝি তাঁর কবিতায় পাশাপাশি দেখি জনতার মিছিল ও একার সন্ন্যাস, বিপ্লবের পতাকা ও প্রেমিকার অনুপস্থিতি, যুদ্ধ ও বিরহ। এই দ্বৈততাই তাঁর কবিসত্তাকে গভীরতা দিয়েছে।</p><p>দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘বেদনাকে বলেছি কেঁদো না’ সামনে আনে এক পরিণত হেলাল হাফিজকে। প্রথম বইয়ের আগুন এখানে অনেকটা অন্তর্মুখী। দ্রোহ আছে, কিন্তু তার প্রকাশ কোমল; প্রেম আছে, সেটা তারুণ্যের উন্মত্ত প্রেম নয়—অভিজ্ঞ, আহত ও সহিষ্ণু মানুষের প্রেম। অস্থিরতা, হানাহানি, অসহিষ্ণুতা ও সামাজিক অবক্ষয়ের সময়ে তিনি কেবল প্রেম ও বিরহের কথা বলতে চেয়েছেন। কারণ, তাঁর কাছে প্রেমও প্রতিবাদের একটি ভাষা।</p><p>এখানে তাঁর কবিসত্তায় একটি গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তর লক্ষ করা যায়। তারুণ্যে বা যৌবনে হেলাল হাফিজ যেখানে আগুন দিয়ে সময়কে শুদ্ধ করতে চেয়েছিলেন, পরিণত হেলাল হাফিজ সেখানে বেদনাকে ধারণ করে মানুষকে ভালোবাসার দিকে ফিরে গেছেন। তাঁর দ্রোহের ভাষা কঠোর থেকে কোমল হয়েছে; কিন্তু তার অন্তর্গত শক্তি কমেনি। বরং আরও গভীর হয়েছে। ‘যুক্তি যখন আবেগের কাছে অকাতরে পর্যুদস্ত হতে থাকে’ কবি তখন কী অবলীলায় বলেতে পারলেন, ‘মনে হয় মরণের পাখা গজিয়েছে।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo/import/media/2019/10/03/9571ff774ea60e751331a439788b59bf-5d96288f1f205.jpg"><figcaption>হেলাল হাফিজ</figcaption></figure><p>‘সুন্দরের গান’ এই পরিণত বোধের আরেকটি অসাধারণ উদাহরণ। ‘হলো না, হলো না’—এই পুনরাবৃত্তির মধ্যে জীবনের অপূর্ণতা যেমন আছে, তেমনি কবিতার শেষভাগে রয়েছে এক আশ্চর্য উদারতা—‘আমার হলো না তাতে কী হয়েছে? তোমাদের হোক।’ নিজের না পাওয়াকে অতিক্রম করে অন্যের পূর্ণতার জন্য শুভকামনা জানাতে পারা নিছক প্রেমিকের পরাজয় নয়; এটি একজন পরিণত মানুষের অর্জন। এই জায়গায় এসে হেলাল হাফিজ শুধু প্রেমের কবি নন, দ্রোহের কবিও নন। তিনি হয়ে ওঠেন মানবিকতার কবি। সেখানে ব্যক্তিগত ক্ষত সামষ্টিক বেদনায় রূপ নেয়। কবির প্রেম ব্যক্তিগত হয়েও মানবিক; তাঁর দ্রোহ রাজনৈতিক হয়েও অস্তিত্বের প্রশ্ন ছুঁয়ে যায়; তাঁর নিঃসঙ্গতা একান্ত নিজের হলেও তার পাঠকের একাকিত্বকে স্পর্শ করে।</p><blockquote>হেলাল হাফিজ ছিলেন স্বল্পপ্রজ কবিদের একজন। এত কম লিখে এত বড় পাঠককুল তৈরি করা বাংলা কবিতায় সম্ভবত দ্বিতীয়টি নেই। দীর্ঘ বিরতির পরও তাঁর জনপ্রিয়তা কমেনি; বরং নীরবতা যেন তাঁর কবিতাকে আরও ঘনীভূত করেছে। কবিতা প্রকাশের চেয়ে কবিতার স্থায়িত্বকে তিনি বড় করে দেখেছেন।</blockquote><p>হেলাল হাফিজ ছিলেন স্বল্পপ্রজ কবিদের একজন। এত কম লিখে এত বড় পাঠককুল তৈরি করা বাংলা কবিতায় সম্ভবত দ্বিতীয়টি নেই। দীর্ঘ বিরতির পরও তাঁর জনপ্রিয়তা কমেনি; বরং নীরবতা যেন তাঁর কবিতাকে আরও ঘনীভূত করেছে। কবিতা প্রকাশের চেয়ে কবিতার স্থায়িত্বকে তিনি বড় করে দেখেছেন। প্রায় দুই শ কবিতা থেকে মাত্র ৩৪টি কবিতা বেছে দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ প্রকাশের সিদ্ধান্ত তাঁর শিল্পসচেতনতারও প্রমাণ।</p><p>তাই হেলাল হাফিজের কবিতাকে শুধু ‘জনপ্রিয় কবিতা’ বলে বিচার করলে তাঁর প্রতি অবিচার করা হবে। জনপ্রিয়তা তাঁর কবিতার ফল, কারণ নয়। তাঁর কবিতার গভীরে রয়েছে সহজ ভাষায় কঠিন সত্য বলার ক্ষমতা, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে সর্বজনীন করে তোলার শক্তি, অল্প শব্দে বিস্তৃত আবেগ নির্মাণের দক্ষতা এবং প্রেম ও দ্রোহকে একই মানবিক বোধের মধ্যে ধারণ করার বিরল সামর্থ্য।</p><p>হেলাল হাফিজকে মনে করলে তাই প্রথমেই কোনো একটি পঙ্‌ক্তি মনে পড়ে না; বরং একজন মানুষকে দেখা যায়। একজন সৌম্য মানুষ। ধীরপায়ে হাঁটছেন। মাটির দিকে তাকিয়ে আছেন, যেন মাটির আরও গভীরে তাঁর দৃষ্টি। কখনো প্রেসক্লাবের টেবিলে বসে চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছেন। কখনো রসিকতায় শিশুর মতো হেসে উঠছেন। আবার কখনো হঠাৎ গভীর হয়ে বলছেন—‘আজন্ম মানুষ আমাকে পোড়াতে পোড়াতে কবি করে তুলেছে।’ অথবা সেই তিনিই কোনো এক নিঃসঙ্গ ঘরে বসে লিখছেন—‘তোমার জন্য সকল গোলাপ/ এবং রজনীগন্ধা।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2021-11/84b7b0ae-b545-4618-91d9-a486ad12bcb6/FF1F3899___Copy.JPG"><figcaption>হেলাল হাফিজ</figcaption></figure><p>এই মানুষটির বুকের ভেতরে পাশাপাশি বাস করত প্রেমিক, বিপ্লবী, নিঃসঙ্গ মানুষ এবং কবি। তাদের কাউকে আলাদা করে দেখলে হেলাল হাফিজকে সম্পূর্ণ পাওয়া যায় না। বরং এই চার সত্তার মিলনেই তৈরি হয়েছিল তাঁর স্বতন্ত্র কবিসত্তা। তাঁকে প্রায়ই ‘প্রেম ও দ্রোহের কবি’ বলা হয়। কিন্তু এই পরিচয় তাঁর বিস্তৃত কবিসত্তাকে পুরোপুরি ধারণ করে না। কারণ, তিনি শুধু প্রেম ও দ্রোহের কবি নন; তিনি দহন থেকে সৌন্দর্য নির্মাণের কবি। বেদনার মধ্য থেকে মমতা খুঁজে নেওয়ার কবি। অপ্রাপ্তির ভেতর থেকেও অন্যের প্রাপ্তির জন্য হাত বাড়িয়ে দেওয়ার কবি।</p><p>‘আমার হলো না তাতে কী হয়েছে? তোমাদের হোক।’ এই ‘তোমাদের হোক’-এর মধ্যেই যেন হেলাল হাফিজের কবিসত্তার সবচেয়ে নির্মল আলোটি জ্বলে ওঠে। জীবনের কাছে তাঁর নিজের পাওনা হয়তো পূর্ণ হয়নি, কিন্তু তাঁর কবিতা অন্যদের হাতে তুলে দিয়েছে প্রেম, প্রতিবাদ, সাহস, বিষাদ এবং বেঁচে থাকার এক আশ্চর্য ভাষা। সেখানেই তিনি মূর্ত—আগুনে, প্রেমে, দ্রোহে, বেদনায়, নিঃসঙ্গতায় এবং সর্বোপরি মানুষের গভীরতম মানবিক আকাঙ্ক্ষায়।</p><p>হেলাল হাফিজের কবিতা তাই কোনো একটি সময়ের দলিল হয়ে থেমে যায়নি। সময় পেরিয়ে তা মানুষের কাছে ফিরে ফিরে আসে, নতুন করে উচ্চারিত হয়। কোনো তরুণের বুকের ভেতর আগুন জ্বালায়, কোনো নিঃসঙ্গ মানুষের চোখে জল আনে, কোনো প্রেমিককে শেখায়—বিরহও প্রেমেরই একটি দীর্ঘ, দীপ্ত জীবন। হেলাল হাফিজ সেখানেই শাশ্বত, আর এখানেই তাঁর কবিতা নিশ্চয়তা পায় ‘দুধে-ভাতে’ থাকার।</p>

অক্টোবর ৭, ২০২৬
এআইয়ের উত্থানে বাড়ছে প্রযুক্তি খাতের ধনকুবেরদের সম্পদ, এ বছর রেকর্ড ৮৪৫ বিলিয়ন ডলার
এআইয়ের উত্থানে বাড়ছে প্রযুক্তি খাতের ধনকুবেরদের সম্পদ, এ বছর রেকর্ড ৮৪৫ বিলিয়ন ডলার

বছরের প্রথম ৯ মাসে প্রযুক্তি খাতের ধনকুবেরদের সম্পদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এটা নতুন রেকর্ড।

অক্টোবর ৭, ২০২৬
দুটি কলেজের সংঘর্ষ বন্ধ করার বিভিন্ন পদ্ধতি
দুটি কলেজের সংঘর্ষ বন্ধ করার বিভিন্ন পদ্ধতি

<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-03/1ur518qb/Untitled-1-10.jpg"></figure><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/b93xz6cl33">সিন</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/ojjeo6kg0m">বাঁশ দেওয়ার মজা</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/89xajbzhk6">সেকালের বিজ্ঞাপন একালে</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/816oy38o23">আহসান হাবীবের প্রিয় ৪ কৌতুক</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/2bbl7jm57n">ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে ফুলহাতা শার্ট পরা ছাড়া আর কী কী করা যেতে পারে?</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/ild7ymelwa">তেলসংকটে মহাসমাধান</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/hfgieb5c91">ককটেল সমাচার</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/d0e3kp2eyp">আমাদের ছোট ফ্যান</a></aside>

অক্টোবর ৭, ২০২৬
যেসব দেশে বিড়ালের সংখ্যা বেশি, সেখানকার মানুষ বেশি সুখী, নতুন গবেষণা
যেসব দেশে বিড়ালের সংখ্যা বেশি, সেখানকার মানুষ বেশি সুখী, নতুন গবেষণা

বিজ্ঞানীরা বিশ্বের ৯৩টি দেশের তথ্য গবেষণা করে দেখেছেন। বিজ্ঞানীরা দেখতে চেয়েছেন, বিড়াল পুষলে কি মানুষের মন ভালো থাকে? বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিড়ালের সঙ্গে মানুষের সুখের একটা সত্যি দারুণ সম্পর্ক আছে

অক্টোবর ৭, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন