ময়মনসিংহে সিলিন্ডার গোডাউনের আগুন নিয়ন্ত্রণে
কক্সবাজারের টেকনাফের সেন্টমার্টিনে বিনামূল্যে সুন্নতে খতনা করানোর দুই দিনের মধ্যে অন্তত ৫০ শিশুর ক্ষতস্থানে ইনফেকশন ও রক্তক্ষরণ হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
একুশে বিজনেস || বিপ্লব কুমার রায়-সিইও, টিভিএস অটো বাংলাদেশ লিমিটেড।
হিন্দু ধর্মের মেলার আয়োজনকে কেন্দ্র করে শাহী মসজিদের একটি অংশ সরিয়ে সড়ক প্রশস্ত করার কাজ শুরু হয়, আর তা নিয়েই বিরোধের সূত্রপাত। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, মেলার সময় বাড়তি যানবাহনের চাপ ও ভক্তদের যাতায়াত সহজ করার জন্য ওই সড়ক প্রশস্ত করা জরুরি।
সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট প্যাকেটজাতে সংশোধন বিধি জারি করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন নির্দেশ নাঅনুযায়ী, কোনো প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান আমিষজাত না নিরামিষজাত, তা প্যাকেটের গায়ে নির্দিষ্ট চিহ্নের মাধ্যমে জানাতে হবে।
কক্সবাজারে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক (টমটম) চলন্ত অবস্থায় চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে সীমা আক্তার নামে এক নারী পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলামকে তার এলাকার ‘বড় ভাই’ পরিচয় দিয়ে এএসআই ইলিয়াস হোসাইন থানার কার্যক্রম ও তদন্তকাজে প্রভাব খাটান। তবে এ অভিযোগের সত্যতাও আলাদাভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটে সহকর্মীর ওপর হামলা ও বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত কো-পাইলট সম্ভবত একাই এই কাজ করেছিলেন। ইসরায়েলি সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে রবিবার সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে রিকশাচালক মো. ফয়েজ আহাম্মদকে (৪৩) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
চারদিকে শুধু সাদা আর সাদা। তুষারের ঘন পর্দা ভেদ করে কয়েক মিটারের বেশি সামনে দেখা যাচ্ছিল না। হিমশীতল বাতাস শরীরের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল ঝড়ের গতিতে। পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটুসমান নরম বরফে ডুবে যাচ্ছিল।
টরন্টো শহরের শীতের আলাদা এক ভাষা আছে।সেই ভাষা শব্দে নয়, তুষারে লেখা। জানালার ওপারে নিরবচ্ছিন্ন সাদা ঝরনা নেমে আসে, রাস্তার আলো কুয়াশা আর বরফের ভেতর ম্লান হয়ে যায়, আর মানুষ বুঝতে শেখে, পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর নীরবতাও কখনো কখনো খুব জোরে কথা বলে।সেদিনও তেমনই এক সন্ধ্যা।বাইরে মাইনাস দশ ডিগ্রি। ফায়ারপ্লেসে জ্বলতে থাকা আগুনের লালচে আলো ঘরের দেয়ালে ছায়া এঁকে দিচ্ছিল। হাতে ধোঁয়া ওঠা কফির মগ। আমরা তিনজন বসে গল্প করছিলাম।সায়েম ভাই, আমাদের কোম্পানির সিনিয়র লিড ইঞ্জিনিয়ার। প্রবাসে এসে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়, যাদের ঘরে ঢুকলেই মনে হয় বহুদিন পর নিজের বাড়িতে ফিরেছি। ভাবিও ঠিক তেমনই। তার আন্তরিকতা কখনো অতিথিপরায়ণতা বলে মনে হয় না; মনে হয় বড় বোনের মমতা।কফির কাপ নামিয়ে ভাবি হঠাৎ আমার দিকে তাকালেন।—নীল, একটা কথা বলব?মৃদু হেসে বললাম,—বলুন, ভাবি।—রাগ করবে না তো?—আপনার ওপর রাগ করার সাহস আমার নেই।তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—এত বছর হয়ে গেল। ক্যারিয়ার হয়েছে, নিজের অবস্থান হয়েছে। কিন্তু নিজের জন্য কী করলে? একা একা আর কত দিন? বিয়ে করার কথা কখনো ভাবো না?আমি হেসে বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চাইলাম।—সবাইকে দিয়ে সবকিছু হয় নাকি, ভাবি?সায়েম ভাই চশমাটা খুলে টেবিলে রাখলেন।—তোমার এই কথাটাই আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়। সারা দিন অফিসে তোমাকে দেখি। কাজে মন, বইয়ে মন, গিটার বাজাও, ভ্রমণ করো। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, জীবন একেবারে গুছিয়ে নিয়েছ। অথচ দিনের শেষে তুমি একাই ফিরে যাও।একটু থেমে তিনি আবার বললেন,—কখনো কি কাউকে ভালোবেসেছিলে?ঘরটা হঠাৎ যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল।ফায়ারপ্লেসের কাঠে আগুন ফেটে ছোট্ট একটা শব্দ হলো।আমি উত্তর দিলাম না।জানালার ওপারে তাকিয়ে রইলাম। সাদা তুষারের ভেতর হঠাৎ ভেসে উঠল বহু বছরের পুরোনো আরেকটা আকাশ। অনেক দূরের একটা বিকেল। আমি ধীরে বললাম,—মানুষ কখনো কখনো একটা গল্প কাউকে বলে না। কারণ, গল্পটা বললে সে আবার সেই সময়ে ফিরে যায়।ভাবি মৃদুস্বরে বললেন,—আজ ফিরে যাও। আমরা শুনব।আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। কফির মগটা টেবিলে রেখে বললাম,—জানেন ভাবি, পৃথিবীর সব ভালোবাসা মিলনের গল্প নয়। কিছু ভালোবাসা শুধু নীরবে মানুষের ভেতরে বেঁচে থাকে। কারও কাছে কোনো দাবি করে না, কোনো অধিকারও চায় না। শুধু মানুষটাকে সারা জীবন বদলে দেয়। আমার গল্পটাও তেমন।আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগের কথা। তখন ঢাকার উত্তরায় থাকতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। বাবার পক্ষে নিয়মিত টাকা পাঠানো সম্ভব হতো না। টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা, বাসাভাড়া আর খরচ চালাতাম। উত্তরার একটা পুরোনো বাড়ির চিলেকোঠার ছোট্ট ঘর ছিল আমার ঠিকানা। ঘরটা বড় ছিল না। একটা খাট, একটা পড়ার টেবিল, বইয়ের তাক আর জানালার পাশে রাখা পুরোনো একটা গিটার। কিন্তু আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ছিল ছাদ।সন্ধ্যা নামার আগে পড়ন্ত রোদ যখন আকাশজুড়ে লালচে রং ছড়িয়ে দিত, আমি গিটার হাতে ছাদে উঠে যেতাম। কখনো বাজাতাম। কখনো বই পড়তাম। কখনো কিছুই করতাম না। শুধু আকাশ দেখতাম। হয়তো মানুষ একা থাকলে আকাশের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি কথা বলে।ঠিক এমনই এক বিকেলে প্রথম তাকে দেখি। আমাদের পাশের ছয়তলা বাড়ির একটি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল সে। অদ্ভুত শান্ত একটি মেয়ে। তার হাতে কোনো মোবাইল ছিল না। কোনো বইও নয়। সে শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। বাতাসে তার চুল উড়ছিল।কিন্তু আমাকে থামিয়ে দিয়েছিল তার চোখ। কিছু কিছু চোখ থাকে, যেগুলোকে সুন্দর বলা যায় না। কারণ, সুন্দর শব্দটা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।সেই চোখ দুটো যেন নিজের ভেতর একটা বিকেল লুকিয়ে রেখেছিল। আমি তার নাম জানতাম না। কখনো জানার চেষ্টাও করিনি। নিজের মনেই একটা নাম দিয়েছিলাম—‘সুনয়না’।নামটা শুধু আমার ছিল। আমার কল্পনার। আমার নীরবতার। তার বাস্তব নাম কী ছিল, তখনো জানতাম না।তার পর থেকে প্রতিদিন বিকেলে আমি অপেক্ষায় থাকতাম। ছাদে উঠতাম। আর কিছুক্ষণ পর সে এসে দাঁড়াত সেই বারান্দায়।আমাদের মধ্যে কখনো কথা হয়নি। চোখাচোখিও খুব কম। তবু মনে হতো, বিকেল নামার সঙ্গে সঙ্গে দুজনের জীবন অদৃশ্য কোনো সেতুতে এসে মিলেছে।কখনো তাকে অনুসরণ করিনি। তার সম্পর্কে খোঁজ নিইনি। কারণ, দূরত্বেরও একটা সৌন্দর্য আছে। সব মানুষকে কাছে গিয়েই জানতে হয় না। কিছু মানুষ দূর থেকেই হৃদয়ের ভেতর জায়গা করে নেয়।এভাবেই কেটে গেল কয়েক মাস। একদিন বিকেলে ছাদে উঠে দেখলাম, বারান্দাটা ফাঁকা। ভাবলাম, হয়তো কোথাও গেছে।পরদিনও এল না।তারপর আরও এক দিন।এক সপ্তাহ।এক মাস।ঋতু বদলে গেল।আকাশের রং বদলে গেল। কিন্তু সেই বারান্দায় আর কাউকে দেখা গেল না। বুঝলাম, কিছু অপেক্ষার কোনো উত্তর হয় না।তারপর ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষ এসে গেল। পড়াশোনা, প্রজেক্ট, ইন্টারভিউ—জীবন অন্যদিকে মোড় নিতে শুরু করল। তবু মাঝেমধ্যে বিকেলের আকাশ দেখলে মনে হতো, কোথাও যেন একটা বারান্দা এখনো খালি দাঁড়িয়ে আছে। আর সেখানে কেউ একজন আর কখনো ফিরে আসবে না।অফিসে যোগ দেওয়ার তিন সপ্তাহের মাথায় প্রথমবার তার সঙ্গে কথা হলো।সেদিন দুপুরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। কাচঘেরা অফিসের জানালায় বৃষ্টির ফোঁটাগুলো লম্বা দাগ টেনে নিচে নেমে আসছিল। ক্যাফেটেরিয়ায় বসে এক কাপ কফি হাতে বাইরে তাকিয়ে ছিলাম। হঠাৎ পাশে এসে কেউ বলল,—এই সিটটা খালি?মুখ তুলে তাকাতেই বুকের ভেতরটা অকারণ ধক করে উঠল।সে।উত্তরার সেই বারান্দার মেয়েটি।আমি সামান্য হাসলাম।—অবশ্যই।সে বসে কফির কাপ নামিয়ে বলল,—আমি নতুন। এখনো কাউকে তেমন চিনি না।—আমিও খুব পুরোনো নই।সেদিনের কথোপকথন ছিল খুব সাধারণ। অফিস, কাজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার যানজট; এর বেশি কিছু নয়। আশ্চর্যের বিষয়, কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলতে কোনো আয়োজন লাগে না। যেন বহুদিনের চেনা।তার নাম জানলাম, সুস্মিতা।আমি নামটা মনে রাখলাম। তবু নিজের ভেতরে সে রয়ে গেল অন্য নামে—‘সুনয়না’।এরপর ধীরে ধীরে পরিচয় বাড়ল।অফিস শেষে মাঝেমধ্যে সবাই মিলে চা খেতে যেতাম। কোনো প্রজেক্ট শেষ হলে পুরো টিম রাত পর্যন্ত কাজ করত। সেই সব দীর্ঘ সন্ধ্যায় সুস্মিতাকে নতুন করে চিনতে শুরু করলাম।সে খুব কম কথা বলত। অকারণ হাসত না। তবে কেউ সমস্যায় পড়লে সবার আগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত।একদিন জানতে পারলাম, সে রবীন্দ্রসংগীত শেখে।আরেক দিন শুনলাম, অবসরে জলরঙে ছবি আঁকে।আমি অবাক হয়ে ভাবলাম, মানুষকে দূর থেকে দেখলে তার সৌন্দর্য দেখা যায়; কাছে এলে দেখা যায় তার নীরবতা। আর নীরবতাই একজন মানুষকে সবচেয়ে আলাদা করে।সেদিন অফিস থেকে বেরোতে বেরোতে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। বৃষ্টি থেমেছে। রাস্তার বাতিগুলো ভেজা ডামারের ওপর হলুদ আলো ফেলছে। আমি বললাম,—কফি খাবেন?সে একটু ভেবে মৃদু হেসে বলল,—আজ খাওয়া যেতে পারে।ছোট্ট একটি ক্যাফেতে আমরা জানালার পাশে বসলাম। বাইরে গাড়ির আলো ভেজা রাস্তায় ভেঙে পড়ছিল।অনেকক্ষণ গল্প হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি, বই, সিনেমা, ভ্রমণ, প্রিয় ঋতু। কথার ফাঁকে হঠাৎ সে জিজ্ঞেস করল,—আপনি এত চুপচাপ কেন?আমি হেসে বললাম,—সবাই সব কথা বলতে পারে না।সে জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,—আমার মনে হয়, যারা কম কথা বলে, তাদের ভেতরে অনেক গল্প জমে থাকে।আমি উত্তর দিলাম না। সত্যিই আমার ভেতরে একটি গল্প ছিল। যার শুরু হয়েছিল উত্তরার এক ছাদের বিকেলে।বহুবার ভেবেছি, আজ বলব। বলব, কয়েক বছর আগে প্রতিদিন বিকেলে আমি এক অচেনা মেয়েকে আকাশ দেখতে দেখতাম। বলব, তার জন্যই আমি সন্ধ্যার অপেক্ষা করতাম। বলব, তাকে না জেনেই একটা নাম দিয়েছিলাম।কিন্তু মানুষের জীবনে কিছু মুহূর্ত আসে, যখন সত্যি কথাটাই সবচেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে। আমি পারলাম না। শুধু কফির কাপে আঙুল ঘুরিয়ে যেতে লাগলাম।ঠিক তখনই তার ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে তার মুখে খুব কোমল একটা হাসি ফুটে উঠল। সে ফোন ধরল। নরম গলায় বলল,—হ্যাঁ... আমি বের হচ্ছি... আর পাঁচ মিনিট।ফোন রেখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—আমাকে উঠতে হবে।আমি শুধু মাথা নাড়লাম।ক্যাফের দরজার বাইরে এসে দেখি, একটা গাড়ি ধীরে ধীরে এসে থামল। গাড়ি থেকে একজন নেমে ছাতা খুলে তার দিকে এগিয়ে এল। সুস্মিতার মুখে যে হাসি ফুটে উঠল, তাতে কোনো দ্বিধা ছিল না, কোনো অভিনয়ও নয়। সে মানুষটিকে এমন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দেখল, যেমন মানুষ নিজের আপনজনকে দেখে। বিদায় নেওয়ার আগে সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—কাল দেখা হবে।আমি বললাম,—ভালো থাকবেন।গাড়িটা ধীরে ধীরে দূরে মিলিয়ে গেল।আমি অনেকক্ষণ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলাম। বৃষ্টি আবার শুরু হয়েছে। ভেজা শহরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে হঠাৎ মনে হলো, কিছু স্বপ্ন ভাঙার শব্দ বাইরে শোনা যায় না। সেগুলো শুধু মানুষের ভেতরেই প্রতিধ্বনি তোলে।সেদিন রাতেই প্রথম বুঝেছিলাম, ভালোবাসা সব সময় কাউকে পাওয়ার নাম নয়। কখনো কখনো সময়মতো কিছু না বলার নামও ভালোবাসা।পরদিন অফিসে গিয়ে সুস্মিতাকে দেখলাম না। ভাবলাম, হয়তো ছুটিতে আছে।পরদিনও এল না।এরপর আরও কয়েক দিন কেটে গেল।কাজের ব্যস্ততা আমাকে ডেস্কে আটকে রাখলেও মনটা বারবার করিডরের দিকে চলে যেত। এক বিকেলে সাহস করে মানবসম্পদ বিভাগের এক সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করলাম,—সুস্মিতা কি ছুটিতে?তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—জানেন না? ওর স্বামীকে সিঙ্গাপুরে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। তাড়াহুড়ো করেই ও চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছে। যাওয়ার আগেই সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছে। আপনি সেদিন ক্লায়েন্ট মিটিংয়ে ছিলেন, তাই হয়তো দেখা হয়নি।আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি। অদ্ভুতভাবে বুকের ভেতর কোনো বিস্ফোরণ ঘটল না। শুধু একটা নিঃশব্দ শূন্যতা নেমে এল, যেন বহু বছর আগে উত্তরার সেই বারান্দাটা আবার একবার খালি হয়ে গেল।এরপর জীবন খুব দ্রুত বদলে গেল। কাজের চাপ বাড়ল। পদোন্নতি হলো। নতুন শহর, নতুন দায়িত্ব, নতুন দেশ। একসময় কানাডার একটা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব গ্রহণ করলাম। বন্ধুরা বলেছিল,—স্বপ্নপূরণ হয়ে গেল!হয়তো সত্যিই হয়েছিল। কিন্তু মানুষ বুঝতে শেখে, সব স্বপ্নের সঙ্গে সব আনন্দ আসে না। কিছু সাফল্য খুব নিঃসঙ্গও হয়।টরন্টোতে আসার পর প্রথম শীতেই আমি বুঝলাম, তুষার শুধু শহর ঢেকে দেয় না, মানুষের স্মৃতিকেও সাদা করে দিতে চায়। কিন্তু সব স্মৃতি ঢেকে যায় না। কখনো কখনো কোনো কফির গন্ধ, কোনো বিকেলের আলো কিংবা কোনো বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা একাকী মানুষের ছায়া হঠাৎ বহু বছর আগের দরজা খুলে দেয়। সেই দরজার ওপাশে এখনো দাঁড়িয়ে আছে উত্তরার সেই বিকেল।আর একটি নাম, যে নাম পৃথিবীর কেউ জানত না। শুধু আমি।সুনয়না।’ফায়ারপ্লেসের আগুন তখন ধীরে ধীরে নিভে আসছে। কথা শেষ করতেই ঘরজুড়ে দীর্ঘ নীরবতা নেমে এল। ভাবি কফির ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কাপটার দিকে তাকিয়ে রইলেন। সায়েম ভাই উঠে এসে আমার পাশে দাঁড়ালেন। তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—তাহলে তুমি তাকে কোনো দিন জানাওনি?আমি মৃদু হেসে মাথা নাড়ালাম।—না।—আফসোস হয় না?জানালার বাইরে তাকালাম। তুষার পড়ছে। প্রতিটি সাদা কণা নিঃশব্দে মাটিতে মিশে যাচ্ছে। আমি ধীরে বললাম,—আফসোস হয় সেই ভালোবাসার জন্য, যেটা কাউকে কষ্ট দিয়ে নিজের করতে হয়। আমার গল্পে তেমন কিছু ছিল না। সে তার জীবন নিয়ে সুখী ছিল। আমি কেন আমার অনুভূতির ভার তার কাঁধে চাপিয়ে দিতাম?ভাবি খুব আস্তে বললেন,—কিন্তু তুমি তো একা রয়ে গেলে।আমি হেসে উত্তর দিলাম,—মানুষ সব সময় কারও অভাবে একা থাকে না। কখনো কখনো একটি সুন্দর স্মৃতির সঙ্গেও সারা জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায়।ঘড়ির কাঁটা তখন রাত বারোটা ছুঁয়েছে। বাইরে তুষারপাত আরও ঘন হয়েছে। বিদায় নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়াতেই সায়েম ভাই আমার কাঁধে হাত রাখলেন।—নীল...—জি?—জীবনে যদি আবার কোনো বিকেল এসে দাঁড়ায়, এবার যেন চুপ করে থেকো না।আমি কোনো উত্তর দিলাম না। শুধু মৃদু হাসলাম।বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির জানালার বাইরে অসংখ্য তুষারকণা উড়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ মনে হলো, মানুষ আসলে কাউকে ভুলে যায় না। সে শুধু স্মৃতির সঙ্গে বসবাস করতে শিখে যায়।সেদিন রাতে ঘরে ফিরে বহুদিন পর জানালার পাশে দাঁড়ালাম। দূরে বরফে ঢাকা শহর ঘুমিয়ে আছে।অন্ধকার কাচে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে মনে হলো, সময় আমার চুলে রুপালি রং ছড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু উত্তরার সেই একফালি আকাশ এখনো কোথাও রয়ে গেছে।আমি চোখ বন্ধ করলাম। কল্পনায় আবার একটি বারান্দা ভেসে উঠল। সেখানে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখ আজও স্পষ্ট নয়। শুধু চোখ দুটো স্পষ্ট। আমি নিঃশব্দে বললাম,—ভালো থেকো, সুনয়না।জানালার ওপারে তুষার পড়তেই থাকল। আর আমি বুঝলাম, কিছু ভালোবাসার শেষ অধ্যায় মিলনে লেখা হয় না। সেগুলো লেখা থাকে নীরবতায়।উত্তরা, ঢাকা
মেকআপ মানেই যেন অনেকগুলো প্রোডাক্ট, ঘন্টার পর ঘন্টা প্রস্তুতি। কিন্তু বলিউড তারকা জাহ্নবী কাপুর সাম্প্রতি তার ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন নিজের বিউটি লুক তৈরির পেছনের গল্প। যেখানে তিনি বলেছেন মাত্র তিনটি ধাপে তার সাজ হয়ে উঠেছে পরিপাটি, ফ্রেশ ও নেচারাল।প্রতিদিনের মেকআপে খুব বেশি কিছু না করেও কীভাবে ফ্রেশ ও গোছানো দেখানো যায়, জাহ্নবীর এই রুটিন তারই সহজ উদাহরণ। আরও মজার বিষয়, মেকআপ ব্রাশ বা স্পঞ্জের ওপর খুব বেশি নির্ভর না করে আঙুল দিয়েই তিনি বেশির ভাগ প্রোডাক্ট ব্লেন্ড করেছেন। ফলে পুরো সাজটি যেমন দ্রুত করা যায়, তেমনি এর ফিনিশও থাকে বেশ স্বাভাবিক। তার সাজের মূল তিনটি বিষয় হচ্ছে সতেজ বেস, নরম গোলাপি ব্লাশ আর নিউড-পিঙ্ক ঠোঁট। View this post on Instagram A post shared by Janhvi Kapoor (@janhvikapoor) ভারী বেস নয়, শুরু হোক কনসিলার দিয়েজাহ্নবীর রুটিনের প্রথম ধাপ কনসিলার। পুরো মুখে ভারী ফাউন্ডেশন লাগানোর বদলে যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করছেন তিনি। চোখের নিচে সরাসরি অ্যাপ্লিকেটর দিয়ে অল্প প্রোডাক্ট নিয়ে আঙুলের সাহায্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে ত্বকের রং কিছুটা সমান দেখালেও মুখ ভারী হয়ে যাচ্ছে না। এই ধরনের মেকআপে ব্লেন্ড করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্তর বাড়ানো যায়, এমন কনসিলারই ভালো। একবারে বেশি না দিয়ে অল্প অল্প করে লাগানোই মূল কৌশল।গালে নরম গোলাপি আভাবেসের পর জাহ্নবী ব্যবহার করছেন সফট পিঙ্ক লিকুইড ব্লাশ। গালে সরাসরি অল্প ব্লাশ নিয়ে আঙুল দিয়ে ট্যাপ করে ব্লেন্ড করেছেন তিনি। ফলে গালে ভারী রঙের বদলে এসেছে হালকা, সতেজ আভা। এই লুকের জন্য ক্রিম বা লিকুইড ব্লাশ বেশ কার্যকর। কারণ অল্প অল্প করে রং বাড়ানো যায়, ফলে মুখে ব্লাশের দাগও স্পষ্ট থাকে না।ঠোঁটে নিউড-পিঙ্কজাহ্নবীর পুরো মেকআপের সঙ্গে ঠোঁটের রংও বেশ নরম। শেষ ধাপে তিনি ব্যবহার করেছেন নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। গালের গোলাপি আভা আর ঠোঁটের একই পরিবারের রং পুরো লুকটিকে করেছে আরও গোছানো। খুব ফ্যাকাশে বেইজ নিউডের বদলে গোলাপি, রোজি বা হালকা ব্রাউন আন্ডারটোনের নিউড বেছে নিলে ঠোঁট আরও স্বাভাবিক দেখাবে। দিনের সাজে লিপস্টিক পুরো ঠোঁটে না দিয়ে মাঝখানে অল্প লাগিয়ে আঙুল দিয়ে ছড়িয়ে দিলেও পাওয়া যাবে আরও নরম ফিনিশ।চোখে শুধু এক কোট মাসকারাজাহ্নবী যে তিনটি মূল ধাপ দেখিয়েছেন, সেখানে মাসকারা ছিল না। তাই এটি মূল রুটিনের অংশ নয়; চাইলে বাড়তি সংযোজন হিসেবে রাখা যায়। বিশেষ করে দিনের সাজ সন্ধ্যার দিকে নিতে চাইলে এক বা দুই কোট মাসকারাই যথেষ্ট। এতে চোখ কিছুটা বেশি স্পষ্ট হবে, কিন্তু পুরো মেকআপের স্বাভাবিক মেজাজ নষ্ট হবে না।ভ্রু থাকুক নেচারালএই লুকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভ্রু। খুব গাঢ় করে আঁকার বদলে যেখানে ফাঁকা আছে, শুধু সেখানে হালকা করে ভরাট করাই যথেষ্ট। এরপর স্পুলি দিয়ে ভ্রু আঁচড়ে নিলে রংটা নরম হয়ে যাবে। এ জন্য পেন্সিল ব্যবহার করা যেতে পারে। লক্ষ্য হবে ভ্রুকে স্পষ্ট করে আঁকা নয়, বরং একটু গোছানো দেখানো।ত্বক যেন ত্বকের মতোই দেখায়জাহ্নবীর মেকআপের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এটাই। নিজের ত্বকের রং পুরোপুরি ঢেকে ফেলার চেষ্টা নেই। ভারী ফাউন্ডেশনের বদলে প্রয়োজনমতো কনসিলার ব্যবহার করায় ত্বকের স্বাভাবিক টেক্সচারও দেখা যায়। এই লুক করতে গিয়ে সবচেয়ে সহজ ভুল হতে পারে বারবার কভারেজ বাড়ানো। যেখানে প্রয়োজন শুধু সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করে থেমে যাওয়াই ভালো। এতে মেকআপ থাকবে হালকা, আর মুখও দেখাবে আরও স্বাভাবিক।ব্রাশ নয়, আঙুলেই ব্লেন্ডজাহ্নবীর রুটিন থেকে সবচেয়ে সহজে নেওয়া যায় যে কৌশল, সেটি হলো আঙুল দিয়ে মেকআপ ব্লেন্ড করা। কনসিলার ও ব্লাশের মতো লিকুইড বা ক্রিম প্রোডাক্ট অল্প করে আঙুলে নিয়ে ত্বকে ট্যাপ করে লাগালে দ্রুত কাজ হয় এবং প্রোডাক্টের পরিমাণও সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিশেষ করে ব্যস্ত সকালে এই পদ্ধতি বেশ সুবিধাজনক। একগাদা ব্রাশ বের করার দরকার নেই, আবার অতিরিক্ত মেকআপ করার ঝুঁকিও কমে।জাহ্নবীর তিন ধাপের সহজ রুটিনপুরো রুটিনকে একেবারে সহজ করে বললে, কনসিলার, ব্লাশ, নিউড লিপ। প্রথমে অল্প কনসিলার দিয়ে ত্বকের প্রয়োজনীয় অংশ সমান করুন। এরপর গালে নরম গোলাপি আভা দিন। সবশেষে নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। সব প্রোডাক্টই হালকা হাতে ব্যবহার করে আঙুল দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করতে হবে। এর সঙ্গে আরও একটু সাজানো লুক চাইলে যোগ করা যায় মাসকারা ও হালকা ভ্রু ডেফিনিশন। তবে মূল সৌন্দর্যটা থাকবে কম প্রোডাক্টে, হালকা হাতে এবং ত্বকের স্বাভাবিকতা বজায় রাখায়।জাহ্নবী কাপুরের সাম্প্রতিক মেকআপ রুটিন শেষ পর্যন্ত খুব সাধারণ একটি কথাই মনে করিয়ে দেয়। দৈনন্দিন গ্ল্যামের জন্য সবসময় অনেক কিছু দরকার হয় না। ত্বককে সমান করা, গালে একটু রং আর ঠোঁটে সামান্য উষ্ণতা এই তিনটিই যথেষ্ট হতে পারে। আসল কৌশল হলো মেকআপের স্তর হালকা রাখা এবং ত্বককে ত্বকের মতোই থাকতে দেওয়া।
ফ্যাশনের দুনিয়ায় কিয়ারা আদভানির সবচেয়ে বড় শক্তি তার বহুমুখী স্টাইল সেন্স। রেড কার্পেটের ঝলমলে গ্ল্যামার, ফটোশুট লুক কিংবা দৈনন্দিন পোশাক-প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের মতো করে স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করতে জানেন এই অভিনেত্রী। কখনো শাড়ি বা অন্য কোনো ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাকে তিনি হয়ে ওঠেন মোহময়ী, আবার কখনো পশ্চিমা পোশাকে ফুটিয়ে তোলেন আধুনিকতার ছাপ। তার সাম্প্রতিক ফটোশুটের লুকটিও সেই বহুমুখী ফ্যাশন ভাবনারই আরেকটি উদাহরণ। এবার কিয়ারার পছন্দ ছিল স্ট্রাকচার্ড পাওয়ার স্যুট। ক্যামেল-বেইজের একরঙা এই সাজে ছিল টেইলারিংয়ের নিখুঁত ছাপ, পুরুষালি পোশাকের অনুপ্রেরণা এবং নারীর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি-সবকিছুর সুন্দর সমন্বয়। পুরো লুকটি যেন দেখিয়ে দিল, পাওয়ার ড্রেসিং মানেই শুধু কঠোর বা ফরমাল হওয়া নয়, সঠিক কাট, রং ও স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে সেটিই হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত গ্ল্যামারাস। কিয়ারার স্যুটের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্ট্রাকচার্ড ওয়েস্টকোট। শরীরের উপরের অংশের সঙ্গে সুন্দরভাবে মানানসই এই ওয়েস্টকোটে ছিল গভীর ভি-নেকলাইন। সামনে একই ক্যামেল-বেইজ রঙের ছোট ছোট বোতামের সারি পোশাকটিতে এনে দিয়েছে পরিপাটি ফিনিশিং। ওয়েস্টকোটের ভেতরে কিয়ারা পরেছিলেন দুই রঙের বেইজ ও সাদা শার্ট। শার্টটির উষ্ণ বেইজ রঙের মূল অংশ ওয়েস্টকোটের সঙ্গে মিশে গেলেও নজর কেড়েছে এর ওভারসাইজড সাদা কলার। সঙ্গে ছিল স্টাইলিশ ফ্রেঞ্চ কাফ, যা পুরো পোশাকে এনে দিয়েছে খানিকটা ক্লাসিক ফরমাল আবহ। এর ওপর ছিল একই রঙের একটি স্ট্রাকচার্ড জ্যাকেট। টেইলারড শোল্ডার, পরিষ্কার ল্যাপেল এবং নিখুঁত কাটিংয়ের কারণে জ্যাকেটটি কিয়ারার সিলুয়েটকে আরও সুস্পষ্ট করে তুলেছে। নিচে ছিল একই ক্যামেল-বেইজ শেডের হাই-ওয়েস্টেড ওয়াইড-লেগ ট্রাউজার্স। প্যান্টের বাড়তি ভলিউম একদিকে যেমন স্বাচ্ছন্দ্য এনেছে, অন্যদিকে পুরো পোশাকটিকে দিয়েছে আধুনিক ও বিলাসবহুল আবহ। প্রচলিত টাইয়ের বদলে কিয়ারার গলায় দেখা গেছে চিকন বেইজ নেকটাই। কলারের নিচে পরিপাটি করে গুঁজে রাখা এই টাই পুরুষদের ক্লাসিক টেইলারিংয়ের ছোঁয়া এনে দিয়েছে নারীর পাওয়ার স্যুটে। পুরো পোশাকে থাকা সূক্ষ্ম প্লেড প্যাটার্নও লুকটিকে একঘেয়ে হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছে। জুতার ক্ষেত্রেও টোনাল স্টাইলিংয়ের পথেই হেঁটেছেন কিয়ারা। পায়ে ছিল উটের রঙের পয়েন্টেড স্টিলেটো পাম্প। সূচালো অগ্রভাগের এই জুতা তার পায়ের রেখাকে আরও দীর্ঘ দেখিয়েছে এবং মাথা থেকে পা পর্যন্ত একরঙা বিন্যাসটিও অটুট রেখেছে। অ্যাক্সেসরিজে রেখেছিলেন একবারে ছিমছাম । একজোড়া সোনালি স্টেটমেন্ট কানের দুল এবং মানানসই একটি আংটিতেই নজর কেড়েছেন। এর সঙ্গে এভিয়েটর সানগ্লাস যোগ করে কিয়ারা পুরো লুকে এনেছেন আরও দৃঢ় ভাব। সানগ্লাসের উপস্থিতিই আত্মবিশ্বাসী বার্তাটিকে আরও জোরালো করেছে। চুল ও মেকআপেও ছিল পরিমিতির ছাপ। পোশাকের কাটিং ও টেইলারিংকে লুকের মূল আকর্ষণ করে তুলতে কিয়ারা তার লম্বা, ঘন বাদামি চুল হালকা ঢেউ খেলানো এবং কিছুটা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে রেখেছেন। মেকআপে ছিল সফট-গ্ল্যাম আবহ- সুবিন্যস্ত ভ্রু, উষ্ণ টোনের আইশ্যাডো এবং নুড-গোলাপি লিপস্টিক। কিয়ারার এই লুকটি প্রমাণ করে, পাওয়ার ড্রেসিংয়ের আসল শক্তি পোশাকে যতটা, তার চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসে। ক্যামেল-বেইজের শান্ত রং, নিখুঁত টেইলারিং, পুরুষালি টেইলারিংয়ের অনুপ্রেরণা এই লুকে কিয়ারা তৈরি করেছেন এমন এক ফ্যাশন স্টেটমেন্ট, যা একই সঙ্গে স্মার্ট, আধুনিক ও নজরকাড়া। এসএকেওয়াই
ঘুম শরীর ও মনের পুনরুদ্ধারের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের ভেতরে শুরু হয় নানা জটিলতা, যা ধীরে ধীরে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেকেই ঘুমকে অবহেলা করেন, অথচ সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি হচ্ছে ভালো ঘুম। যখন ঘুম ঠিকমতো হয় না, তখন শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে সহজেই সর্দি-কাশি বা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঘুমের ঘাটতি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায়, যা অতিরিক্ত খাওয়া ও ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। শুধু তাই নয়, নিয়মিত কম ঘুম মানে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যাওয়া। মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও এর প্রভাব ভয়াবহ। ঘুম কম হলে মন খারাপ লাগে, মনোযোগে ঘাটতি আসে, কাজের উদ্যম কমে যায়। অনেক সময় হতাশা, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা তৈরি হয়। শিক্ষার্থী বা কর্মজীবীদের ক্ষেত্রে এটি সরাসরি কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়। তবে সুস্থ থাকার জন্য ঘুম ঠিক রাখার কিছু সহজ উপায় অনুসরণ করা যায়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং জেগে ওঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। রাতে ঘুমানোর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা উচিত — মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপের আলো ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের ক্ষরণে বাধা দেয়। শোবার ঘরকে ঠান্ডা, অন্ধকার ও শান্ত রাখা ঘুমের মান বাড়ায়। কফি বা চা রাতের বেলা এড়িয়ে চলাই ভালো। দিনের বেলা হালকা ব্যায়াম ও সকালের রোদে কিছুক্ষণ সময় কাটানো ঘুমে সহায়তা করে। আর ঘুমানোর আগে ভারী খাবার না খাওয়াও জরুরি। ঘুমকে যদি গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তাহলে শরীর একসময় সিগন্যাল দিতে শুরু করবে — মাথা ভার, মেজাজ খারাপ, স্মৃতিশক্তি দুর্বল ইত্যাদি নানা রকম সমস্যা দেখা দেবে। তাই সুস্থ থাকতে হলে শুধু খাদ্য, ব্যায়াম বা ওষুধ নয় — একটি পরিপূর্ণ ঘুমই হতে পারে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।
বাংলাদেশে আবারও শুরু হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের নতুন সংকট। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা শহরে একটানা লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, এমনকি হাসপাতালের রোগীরাও অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তীব্র গরম ও অসহনীয় তাপদাহের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই ভুগছেন। শহরাঞ্চলে ফ্যান, এসি ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গরমে হাঁসফাঁস করছেন মানুষ। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে পানির পাম্প চলতে না পারায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, দিনে প্রায় ৬-৮ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর ফিরে আসছে না। বিশেষ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ছোট কারখানাগুলো এই বিদ্যুৎ সংকটে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ছোট দোকানদাররা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ সময় ফ্রিজ বন্ধ থাকায় খাবারদাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আইটি ও অনলাইনভিত্তিক কাজেও সমস্যা হচ্ছে, কারণ ইন্টারনেট রাউটার, কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি চালাতে বিদ্যুৎ অপরিহার্য। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং আয়-রোজগারে বড় ধাক্কা লাগছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, গ্রীষ্ম মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে জেনারেশন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস সংকটের কারণে পুরো উৎপাদন করতে পারছে না। অন্যদিকে আমদানি নির্ভর কয়লা ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সাময়িক এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে লোডশেডিং কমে আসবে। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, কতদিন এমন দুর্ভোগ চলবে? বিশেষ করে যেসব এলাকায় দিনে ৮-১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না, তাদের জন্য এ আশ্বাস কতটা কার্যকর হবে — তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এবং এর সমাধানে স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিকল্প জ্বালানি উৎস যেমন সৌর ও নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে গুরুত্ব না দিলে প্রতি বছরই এ ধরনের সংকটের পুনরাবৃত্তি হবে। এ অবস্থায় মানুষ চায় বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও দ্রুত সমাধান। বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন আর এক নিত্যকার দুর্ভোগে পরিণত না হয় — সেই প্রত্যাশাই করছে সারাদেশ।
দেশের ৭১% প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎ–বিভ্রাটের মুখে পড়ে। মাসে গড়ে ২৬ বার বিভ্রাট হয়। এতে বার্ষিক বিক্রির প্রায় ৯% ক্ষতি হয়।
প্রাথমিক গণিত: বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
ঢাকার শহীদ বীর উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস কলেজে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নার্সারি ভর্তির জন্য আবেদন শুরু হয়েছে।
<blockquote>আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবার খেললেন। বিদায়ের মঞ্চেও দলকে সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিলেন লিওনেল মেসি। গোল করলেন, করালেনও। বহুবারের মতো আরও একবার বিজয়ীর বেশেই মাঠ ছাড়লেন ফুটবলের এই মহাতারকা। তবে এবার আরেকটু বেশি আবেগ নিয়ে। </blockquote><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/o36hqs1x/84040503816498081932073723783980338903904678n.jpg"><figcaption>লকার রুমে এই জার্সি আর দেখা যাবে না, অধিনায়কের আর্মব্যান্ড থাকবে অন্য কারও হাতে।</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-06/r9shwxsq/fbl-friendly-arg-ben-224334.jpg"><figcaption>আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবার মাঠে নামার আগে ওয়ার্মআপে নামছেন মেসি</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/3em2qxly/84088183116499645431917377451127508418338473n.jpg"><figcaption>শেষবারের মতো দেশের হয়ে মাঠে নামা</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/1964rl9y/UONXhMUyP1256x6202.jpg"><figcaption>ভিআইপি বক্সে মেসির পরিবার</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-06/gr7uhj0v/2026-10-06t233604z323244112up1ema61tk3owrtrmadp3soccer-friendly-arg-ben.jpg"><figcaption>জাতীয় সংগীতের মুহূর্তে</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-06/nl4mzpli/2026-10-06t233531z680505339up1ema61tj6ovrtrmadp3soccer-friendly-arg-ben.jpg"><figcaption>মেসির সঙ্গে তিন ছেলে থিয়াগো, মাতেও ও সিরো</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-06/elbv3uk8/fbl-friendly-arg-ben-235005.jpg"><figcaption>মেসিকে শুভেচ্ছা বেনিনের খেলোয়াড়দের</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/zfqpc8o0/2026-10-07t004658z1942336287up1ema70269q2rtrmadp3soccer-friendly-arg-ben.jpg"><figcaption>আর্জেন্টিনার প্রথম গোলের পর জার্সির লোগোতে চুমু নিকোলাস ওতামেন্দির</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/9nmru18r/83809000116499275598621021410916087218441720n.jpg"><figcaption>নিকো পাজের আলিঙ্গনে</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/5t58j22w/2026-10-07t011014z1981757353up1ema70390r0rtrmadp3soccer-friendly-arg-ben.jpg"><figcaption>যেভাবে মেসির গোল</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/g14sfhy5/2026-10-07t010930z1568925685up1ema7037sqyrtrmadp3soccer-friendly-arg-ben.jpg"><figcaption>গোলের হাসি </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/9vnoolq5/fbl-friendly-arg-ben-014458.jpg"><figcaption>ড্রোনে ড্রোনে মেসি</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/iizte9vb/84076461016499865565228691233035096510991141n.jpg"><figcaption>মেসিও দেখছেন ড্রোন শো</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/a4eo4juj/HTwmYMXIAAmj5k.jpg"><figcaption>আবেগাপ্লুত কোচ স্কালোনি</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/6bvwleq8/HT3Ns6WUAAKqY-.jpg"><figcaption>হাসি এবং কান্না</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/e6nb4gmw/HTk0l0XQAA0vi1.jpg"><figcaption>শেষ কান্না</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/srk1z8oz/836663067_1649952076526317_4360320738662166596_n.jpg"><figcaption>এবং বিদায়</figcaption></figure>
ইংরেজি: Short Composition
<p>সেলফোনে এখনো সেই নম্বরটি সংরক্ষিত ০১৫৫.…৯৮৯। নামের পাশে কাঠের পুঁতির মালা গলায় সৌমকান্তি সেই মুখ। মনে হয় এই ফোন বেজে উঠবে, দূর থেকে ভেসে আসবে মধুর এক কণ্ঠ—‘কেমন আছ প্রিয়’। সেই ফোন আর আসে না। হাওরের জলে ভেজা সেই কণ্ঠস্বর কত দিন শুনি না ভেসে আসা ইথারে বা মুখোমুখি বসে। কেউ জানায় না সেই ‘বাসনা’—‘আগামী, তোমার হাতে/ আমার কবিতা যেন/ থাকে দুধে-ভাতে।’</p><p> কবি হেলাল হাফিজ—তাঁকে চিনতে হলে শুধু তাঁর কবিতার কাছে গেলেই হয় না; যেতে হয় তাঁর নীরবতা, দীর্ঘ বিরতি, নিঃসঙ্গতা, তুমুল যৌবন, আড্ডা, অভিমান, প্রেম, আত্মপীড়ন এবং জীবনের প্রতি অদ্ভুত নির্মোহ দৃষ্টির কাছেও। কারণ, জীবন মন্থন করে যে বিষে তিনি হয়েছিলেন নীলকণ্ঠ; সেই জীবনের পরিশ্রুত, সংক্ষিপ্ত ও নান্দনিক প্রকাশই তাঁর কবিতা। যাকে বলতে পারি জীবনের দহন থেকে উঠে আসা প্রদীপ্ত শব্দমালা।</p><p> বাংলা কবিতায় জনপ্রিয়তা অনেক কবিরই আছে। কিন্তু খুব অল্প কয়েকজন কবিই এমন জায়গায় পৌঁছেছেন, যেখানে কবিতার পঙ্ক্তি বইয়ের পৃষ্ঠা ছাড়িয়ে মানুষের ব্যক্তিগত জীবন, প্রেম, বিরহ, রাজনৈতিক চেতনা ও প্রতিবাদের ভাষা হয়ে ওঠে। হেলাল হাফিজ তাঁদের অন্যতম। তাঁর কবিতা কেউ বালিশের নিচে রেখে ঘুমিয়েছে, কেউ মিছিলে উচ্চারণ করেছে, কেউ বিচ্ছেদের রাতে প্রিয়জনকে পাঠিয়েছে, আবার কেউ নিজের অপ্রাপ্তির মুখ খুঁজে পেয়েছে তাঁর কোনো একটি পঙ্ক্তিতে। কবিতার এই জনজীবনে প্রবেশই তাঁর সবচেয়ে বড় অর্জন।</p><p>হেলাল হাফিজের মৌলিক কাব্যগ্রন্থ মাত্র দুটি—‘যে জলে আগুন জ্বলে’ এবং ‘বেদনাকে বলেছি কেঁদো না’। প্রথমটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৬ সালে; দ্বিতীয়টি আসে দীর্ঘ ৩৪ বছরের বিরতির পর—২০১৯ সালে। এত দীর্ঘ কাব্যজীবনে মাত্র দুটি মৌলিক কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেও যে বিপুল পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করা সম্ভব, হেলাল হাফিজ তার এক বিরল দৃষ্টান্ত। দ্বিতীয় বই প্রকাশের আগে প্রায় দুই শ কবিতা থেকে মাত্র ৩৪টি কবিতা বেছে নেওয়ার কথাও তিনি নিজেই বলেছিলেন।</p><p>তবে সংখ্যার বিচারে হেলাল হাফিজকে বোঝা যাবে না। তাঁকে বুঝতে হবে তাঁর কবিতার অভিঘাতের বিচারে। ‘যে জলে আগুন জ্বলে’ প্রকাশের পর বাংলা কবিতার পাঠক খুঁজে পায় একটি স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর। সেখানে প্রেম আছে, কিন্তু তা নিছক রোমান্টিক প্রেম নয়; দ্রোহ আছে, তা–ও কেবল রাজনৈতিক স্লোগান নয়; ব্যক্তিগত বেদনা আছে, যা ব্যক্তিগত ঘেরাটোপে আটকে থাকে না। তাঁর কবিতায় প্রেম ও দ্রোহ পরস্পরের বিপরীত নয়, বরং একই মানবিক বোধের দুই প্রকাশ। কবি নিজেও পরে বলেছেন—তাঁর কাছে দ্রোহ ও প্রেম একই মালার দুটি ফুল। প্রেমিক না হলে বিপ্লবী হওয়া যায় না, আবার প্রকৃত বিপ্লবীর ভেতরেও প্রেমিক সত্তা জেগে থাকে। হেলাল হাফিজের কাব্যসত্তার এই জায়গাটিই বিশেষভাবে লক্ষণীয়। তিনি রাজপথের উত্তাপ আর হৃদয়ের গোপন কাঁপনকে একই কবিতার শরীরে ধারণ করতে পেরেছেন।</p><p>‘নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়’-এর সেই উচ্চারণ ‘এখন যৌবন যার, মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়’—শুধু একটি রাজনৈতিক সময়ের আহ্বান হয়ে থাকেনি; তা হয়ে উঠেছিল একটি প্রজন্মের আত্মপরিচয়ের অংশ। উনসত্তরের গণ–অভ্যুত্থানের উত্তাল বাস্তবতা থেকে জন্ম নেওয়া এই কবিতা পরবর্তী সময়ে স্বাধিকার আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ হয়ে আমাদের যেকোনো রাজনৈতিক সংগ্রাম ও তারুণ্যের প্রতিবাদী চেতনার সঙ্গে একাকার হয়ে গেছে।</p><blockquote>হেলাল হাফিজের মৌলিক কাব্যগ্রন্থ মাত্র দুটি—‘যে জলে আগুন জ্বলে’ এবং ‘বেদনাকে বলেছি কেঁদো না’। প্রথমটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৬ সালে; দ্বিতীয়টি আসে দীর্ঘ ৩৪ বছরের বিরতির পর—২০১৯ সালে। এত দীর্ঘ কাব্যজীবনে মাত্র দুটি মৌলিক কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেও যে বিপুল পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করা সম্ভব, হেলাল হাফিজ তার এক বিরল দৃষ্টান্ত।</blockquote><p>অথচ যে কবি যৌবনকে মিছিলে ও যুদ্ধে যাওয়ার আহ্বান জানালেন, প্রেমের কাছে এসে সেই তিনিই সম্পূর্ণ অন্য মানুষ। তখন তাঁর কবিতায় রাজপথের শোরগোল স্তব্ধ হয়ে যায়; সেখানে প্রতিস্থাপিত কোনো নারীমুখ, একটি চিঠির অপেক্ষা, একটি বিকেলের স্মৃতি কিংবা দীর্ঘ বিচ্ছেদের নিঃশব্দ হাহাকার।</p><p>হেলেন সেই স্মৃতির কেন্দ্রীয় চরিত্র। তাই হেলেনকে বাদ দিয়ে হেলাল হাফিজের প্রেমের কবিতা বোঝা কঠিন। আবার এই হেলেনকে শুধু একজন নারী হিসেবে দেখলেও কবিকে ভুল বোঝা হবে। হেলেনে এসে কখনো সবিতা মিস্ট্রেস, কখনোবা তনা এসে মিশেছে ব্রহ্মপুত্রপারে। তখন এই নারীমুখগুলো তাঁর কবিতায় রক্ত-মাংসের মানুষ থেকে প্রেম, অপ্রাপ্তি, বিচ্ছেদ ও সৌন্দর্যের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। কবি নিজেই জানিয়েছেন, ‘ব্রহ্মপুত্রের মেয়ে’ কবিতাটি একজনকে ভেবে লেখা হলেও কবিতাটির বিস্তার এমন যে তা ব্রহ্মপুত্রপারের যেকোনো মেয়ের জন্যই প্রযোজ্য হয়ে উঠতে পারে। এখানেই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা অতিক্রম করে হেলাল হাফিজের কবিতা সর্বজনীন হয়ে ওঠে। কবির প্রেমের কবিতার শক্তি সম্ভবত এই জায়গাতেই। তিনি নিজের প্রেমের কথা লিখেছেন, কিন্তু পাঠক সেখানে নিজের প্রেম খুঁজে পেয়েছে। তিনি নিজের বিচ্ছেদের কথা বলেছেন, কিন্তু পাঠকের হারানো মানুষটির মুখ সেখানে ফুটে উঠেছে। তাঁর ব্যক্তিগত বেদনা ধীরে ধীরে পাঠকের নিজস্ব বেদনায় রূপ নিয়েছে।</p><p>‘ভালোবাসা মিলনে মলিন হয়, বিরহে উজ্জ্বল’—এ ধরনের উচ্চারণের ভেতরেই তাঁর প্রেমভাবনার স্বাতন্ত্র্য ধরা পড়ে। প্রেমকে তিনি শুধু অর্জনের মধ্যে দেখেননি; হারানোর মধ্যেও তার সৌন্দর্য আবিষ্কার করেছেন। তাঁর কাছে বিচ্ছেদ প্রেমের ব্যর্থতা নয়, প্রেমেরই অন্য এক পরিণতি। ‘ব্রহ্মপুত্রের মেয়ে’ কবিতার অন্তর্গত দর্শনেও সেই বিশ্বাস–শারীরিক মিলন না ঘটলেও প্রেমের পূর্ণতায় ঘাটতি থাকে না।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2024-12-19/jlwro6uc/FF1F3707.JPG"><figcaption>হেলাল হাফিজ (৭ অক্টোবর ১৯৪৮—১৩ ডিসেম্বর ২০২৪)</figcaption></figure><p>এই বোধের পেছনে অবশ্যই কাজ করেছে কবির নিজের জীবনের গভীর ক্ষত। মাত্র তিন বছর বয়সে মাকে হারানো, বাবার মধ্যে একই সঙ্গে মা ও বাবাকে খুঁজে পাওয়া, শৈশবের স্নেহবঞ্চনা, কৈশোরের প্রেম, যৌবনের বিচ্ছেদ, বাবার মৃত্যু, আত্মহননের কিনারায় গিয়ে ফিরে আসা—এসব অভিজ্ঞতা তাঁর ভেতরের মানুষটিকে নির্মাণ করেছে। তাঁর কবিতার বেদনা তাই সাজানো কোনো অলংকার নয়; তা তাঁর জীবন থেকে উঠে এসেছে। ‘স্রোতস্বিনী ভালোবাসা’ কবিতার পেছনেও রয়েছে বাবা-মায়ের ভালোবাসা এবং প্রথম প্রেম হারানোর গভীর আঘাত।</p><p>তাই হেলাল হাফিজের কবিতায় বেদনা কখনো নিছক কান্না নয়। বেদনা তাঁকে ভেঙেছে, আবার সেই ভাঙনের ভেতর দিয়েই তাঁকে কবি করে তুলেছে। তিনি লিখেছেন—‘আজন্ম মানুষ আমাকে পোড়াতে পোড়াতে কবি করে তুলেছে।’ এই একটি উচ্চারণেই যেন তাঁর কবিজীবনের সারাংশ ধরা পড়ে। মানুষ তাঁকে যে কষ্ট দিয়েছে, তিনি সেই কষ্টকে শব্দে রূপ দিয়েছেন। ব্যক্তিগত ক্ষত শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠেছে পাঠকের নান্দনিক অভিজ্ঞতা।</p><p>হেলাল হাফিজের কবিতার আরেকটি অনন্য শক্তি তাঁর ভাষা। তিনি কঠিন শব্দের বর্মে নিজেকে লুকাননি। বরং সহজ কথাকে এমনভাবে কাব্য রূপ দিয়েছেন, যা সহজের চেয়ে অনেক বেশি কিছু কাজ করে। ‘মিছিলের সব হাত, কণ্ঠ, পা এক নয়’—এই সরল বাক্যের মধ্যেই তিনি রাজনৈতিক বাস্তবতার বহুস্তর উন্মোচন করেছেন। আবার ‘নিউট্রন বোমা বোঝো,/ মানুষ বোঝো না’—দুটি লাইনে আধুনিক সভ্যতার এক নির্মম বৈপরীত্যকে ধরে ফেলেছেন। তাঁর জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ এই সহজ অথচ গভীর উচ্চারণ।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo/import/media/2019/10/03/3c8246fab2cd00667cb54f9eb6d88def-5d961e2746ec1.jpg"><figcaption>হেলাল হাফিজ</figcaption></figure><p>তাই সহজ ভাষা মানেই সরল কবিতা নয়, অচল প্রেমের পদ্যও নয়। তাঁর কবিতায় উপমা, উৎপ্রেক্ষা, চিত্রকল্প এবং শব্দের বিন্যাস অত্যন্ত সচেতন। অল্প শব্দে তিনি একটি সম্পূর্ণ দৃশ্য নির্মাণ করেছেন। ‘পাথরচাপা সবুজ ঘাসের সাদা কষ্ট’—এই একটি চিত্রকল্প একই সঙ্গে দৃশ্যমান ও অনুভবযোগ্য। এক দৃষ্টিহীন সাহিত্যমোদী তাঁকে বলেছিলেন, তাঁর কবিতার সেই ‘সাদা কষ্ট’ তিনি শুধু অনুভব করেন না, দেখতেও পান। কবির জন্য এর চেয়ে বড় স্বীকৃতি আর কী হতে পারে!</p><p>হেলাল হাফিজের কবিতা তাই শুধু পড়া যায় না, দেখা যায়; শুধু অনুভব করা যায় না, স্পর্শও করা যায়। এই দৃশ্যমানতাই তাঁর কবিতাকে স্বতন্ত্র করেছে। তাঁর নিজের জীবনও যেন এক দৃশ্যকাব্য—নেত্রকোনার শৈশব, মগড়া নদী, মাতৃহীন শিশুর নিঃসঙ্গতা, বাবার স্নেহ, সবিতা মিস্ট্রেস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ প্রাঙ্গণ, হেলেন, প্রেমের উত্তাপ, বিচ্ছেদের অন্ধকার, প্রেসক্লাবের আড্ডা, তাসের টেবিল, হোটেলের ছোট ঘর—সব মিলিয়ে তাঁর জীবনই যেন তাঁর কবিতার দীর্ঘ পাণ্ডুলিপি।</p><p>কিন্তু সেই জীবন প্রচলিত অর্থে সাফল্যের জীবন ছিল না। দীর্ঘ সময় তিনি একাকী ছিলেন। হাজার মানুষের ভিড়ের মধ্যে থেকেও তাঁর ভেতরে ছিল এক গভীর নিঃসঙ্গতা। জীবনের শেষ পর্বে ‘সুপার হোস্টেলের’ ৬ ফুট বাই ১০ ফুটের ঘরে বসেও তিনি বলেছিলেন—“সবাই জমায় টাকা, আমি চাই মানুষ জমাতে।” এই একটি বাক্য তাঁর জীবনদর্শনের গভীরতম পরিচয় বহন করে। অর্থ, প্রতিষ্ঠা কিংবা সম্পদের চেয়ে মানুষের সান্নিধ্য তাঁর কাছে ছিল বড়। তিনি মানুষের মধ্যে বেঁচে থাকতে চেয়েছেন। সেই বেঁচে থাকা শুধু স্মৃতিতে নয়, ভালোবাসায়।</p><blockquote>‘মিছিলের সব হাত, কণ্ঠ, পা এক নয়’—এই সরল বাক্যের মধ্যেই তিনি রাজনৈতিক বাস্তবতার বহুস্তর উন্মোচন করেছেন। আবার ‘নিউট্রন বোমা বোঝো,/ মানুষ বোঝো না’—দুটি লাইনে আধুনিক সভ্যতার এক নির্মম বৈপরীত্যকে ধরে ফেলেছেন। তাঁর জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ এই সহজ অথচ গভীর উচ্চারণ।</blockquote><p>বিপুল জনপ্রিয়তার মধ্যেও এক হিসেবে হেলাল হাফিজ ছিলেন নিঃসঙ্গ কবি। তাঁর চারপাশে অজস্র মানুষ, অথচ ভেতরটা এক শূন্য—খাঁ-খাঁ। আর সে জন্যই বুঝি তাঁর কবিতায় পাশাপাশি দেখি জনতার মিছিল ও একার সন্ন্যাস, বিপ্লবের পতাকা ও প্রেমিকার অনুপস্থিতি, যুদ্ধ ও বিরহ। এই দ্বৈততাই তাঁর কবিসত্তাকে গভীরতা দিয়েছে।</p><p>দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘বেদনাকে বলেছি কেঁদো না’ সামনে আনে এক পরিণত হেলাল হাফিজকে। প্রথম বইয়ের আগুন এখানে অনেকটা অন্তর্মুখী। দ্রোহ আছে, কিন্তু তার প্রকাশ কোমল; প্রেম আছে, সেটা তারুণ্যের উন্মত্ত প্রেম নয়—অভিজ্ঞ, আহত ও সহিষ্ণু মানুষের প্রেম। অস্থিরতা, হানাহানি, অসহিষ্ণুতা ও সামাজিক অবক্ষয়ের সময়ে তিনি কেবল প্রেম ও বিরহের কথা বলতে চেয়েছেন। কারণ, তাঁর কাছে প্রেমও প্রতিবাদের একটি ভাষা।</p><p>এখানে তাঁর কবিসত্তায় একটি গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তর লক্ষ করা যায়। তারুণ্যে বা যৌবনে হেলাল হাফিজ যেখানে আগুন দিয়ে সময়কে শুদ্ধ করতে চেয়েছিলেন, পরিণত হেলাল হাফিজ সেখানে বেদনাকে ধারণ করে মানুষকে ভালোবাসার দিকে ফিরে গেছেন। তাঁর দ্রোহের ভাষা কঠোর থেকে কোমল হয়েছে; কিন্তু তার অন্তর্গত শক্তি কমেনি। বরং আরও গভীর হয়েছে। ‘যুক্তি যখন আবেগের কাছে অকাতরে পর্যুদস্ত হতে থাকে’ কবি তখন কী অবলীলায় বলেতে পারলেন, ‘মনে হয় মরণের পাখা গজিয়েছে।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo/import/media/2019/10/03/9571ff774ea60e751331a439788b59bf-5d96288f1f205.jpg"><figcaption>হেলাল হাফিজ</figcaption></figure><p>‘সুন্দরের গান’ এই পরিণত বোধের আরেকটি অসাধারণ উদাহরণ। ‘হলো না, হলো না’—এই পুনরাবৃত্তির মধ্যে জীবনের অপূর্ণতা যেমন আছে, তেমনি কবিতার শেষভাগে রয়েছে এক আশ্চর্য উদারতা—‘আমার হলো না তাতে কী হয়েছে? তোমাদের হোক।’ নিজের না পাওয়াকে অতিক্রম করে অন্যের পূর্ণতার জন্য শুভকামনা জানাতে পারা নিছক প্রেমিকের পরাজয় নয়; এটি একজন পরিণত মানুষের অর্জন। এই জায়গায় এসে হেলাল হাফিজ শুধু প্রেমের কবি নন, দ্রোহের কবিও নন। তিনি হয়ে ওঠেন মানবিকতার কবি। সেখানে ব্যক্তিগত ক্ষত সামষ্টিক বেদনায় রূপ নেয়। কবির প্রেম ব্যক্তিগত হয়েও মানবিক; তাঁর দ্রোহ রাজনৈতিক হয়েও অস্তিত্বের প্রশ্ন ছুঁয়ে যায়; তাঁর নিঃসঙ্গতা একান্ত নিজের হলেও তার পাঠকের একাকিত্বকে স্পর্শ করে।</p><blockquote>হেলাল হাফিজ ছিলেন স্বল্পপ্রজ কবিদের একজন। এত কম লিখে এত বড় পাঠককুল তৈরি করা বাংলা কবিতায় সম্ভবত দ্বিতীয়টি নেই। দীর্ঘ বিরতির পরও তাঁর জনপ্রিয়তা কমেনি; বরং নীরবতা যেন তাঁর কবিতাকে আরও ঘনীভূত করেছে। কবিতা প্রকাশের চেয়ে কবিতার স্থায়িত্বকে তিনি বড় করে দেখেছেন।</blockquote><p>হেলাল হাফিজ ছিলেন স্বল্পপ্রজ কবিদের একজন। এত কম লিখে এত বড় পাঠককুল তৈরি করা বাংলা কবিতায় সম্ভবত দ্বিতীয়টি নেই। দীর্ঘ বিরতির পরও তাঁর জনপ্রিয়তা কমেনি; বরং নীরবতা যেন তাঁর কবিতাকে আরও ঘনীভূত করেছে। কবিতা প্রকাশের চেয়ে কবিতার স্থায়িত্বকে তিনি বড় করে দেখেছেন। প্রায় দুই শ কবিতা থেকে মাত্র ৩৪টি কবিতা বেছে দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ প্রকাশের সিদ্ধান্ত তাঁর শিল্পসচেতনতারও প্রমাণ।</p><p>তাই হেলাল হাফিজের কবিতাকে শুধু ‘জনপ্রিয় কবিতা’ বলে বিচার করলে তাঁর প্রতি অবিচার করা হবে। জনপ্রিয়তা তাঁর কবিতার ফল, কারণ নয়। তাঁর কবিতার গভীরে রয়েছে সহজ ভাষায় কঠিন সত্য বলার ক্ষমতা, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে সর্বজনীন করে তোলার শক্তি, অল্প শব্দে বিস্তৃত আবেগ নির্মাণের দক্ষতা এবং প্রেম ও দ্রোহকে একই মানবিক বোধের মধ্যে ধারণ করার বিরল সামর্থ্য।</p><p>হেলাল হাফিজকে মনে করলে তাই প্রথমেই কোনো একটি পঙ্ক্তি মনে পড়ে না; বরং একজন মানুষকে দেখা যায়। একজন সৌম্য মানুষ। ধীরপায়ে হাঁটছেন। মাটির দিকে তাকিয়ে আছেন, যেন মাটির আরও গভীরে তাঁর দৃষ্টি। কখনো প্রেসক্লাবের টেবিলে বসে চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছেন। কখনো রসিকতায় শিশুর মতো হেসে উঠছেন। আবার কখনো হঠাৎ গভীর হয়ে বলছেন—‘আজন্ম মানুষ আমাকে পোড়াতে পোড়াতে কবি করে তুলেছে।’ অথবা সেই তিনিই কোনো এক নিঃসঙ্গ ঘরে বসে লিখছেন—‘তোমার জন্য সকল গোলাপ/ এবং রজনীগন্ধা।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2021-11/84b7b0ae-b545-4618-91d9-a486ad12bcb6/FF1F3899___Copy.JPG"><figcaption>হেলাল হাফিজ</figcaption></figure><p>এই মানুষটির বুকের ভেতরে পাশাপাশি বাস করত প্রেমিক, বিপ্লবী, নিঃসঙ্গ মানুষ এবং কবি। তাদের কাউকে আলাদা করে দেখলে হেলাল হাফিজকে সম্পূর্ণ পাওয়া যায় না। বরং এই চার সত্তার মিলনেই তৈরি হয়েছিল তাঁর স্বতন্ত্র কবিসত্তা। তাঁকে প্রায়ই ‘প্রেম ও দ্রোহের কবি’ বলা হয়। কিন্তু এই পরিচয় তাঁর বিস্তৃত কবিসত্তাকে পুরোপুরি ধারণ করে না। কারণ, তিনি শুধু প্রেম ও দ্রোহের কবি নন; তিনি দহন থেকে সৌন্দর্য নির্মাণের কবি। বেদনার মধ্য থেকে মমতা খুঁজে নেওয়ার কবি। অপ্রাপ্তির ভেতর থেকেও অন্যের প্রাপ্তির জন্য হাত বাড়িয়ে দেওয়ার কবি।</p><p>‘আমার হলো না তাতে কী হয়েছে? তোমাদের হোক।’ এই ‘তোমাদের হোক’-এর মধ্যেই যেন হেলাল হাফিজের কবিসত্তার সবচেয়ে নির্মল আলোটি জ্বলে ওঠে। জীবনের কাছে তাঁর নিজের পাওনা হয়তো পূর্ণ হয়নি, কিন্তু তাঁর কবিতা অন্যদের হাতে তুলে দিয়েছে প্রেম, প্রতিবাদ, সাহস, বিষাদ এবং বেঁচে থাকার এক আশ্চর্য ভাষা। সেখানেই তিনি মূর্ত—আগুনে, প্রেমে, দ্রোহে, বেদনায়, নিঃসঙ্গতায় এবং সর্বোপরি মানুষের গভীরতম মানবিক আকাঙ্ক্ষায়।</p><p>হেলাল হাফিজের কবিতা তাই কোনো একটি সময়ের দলিল হয়ে থেমে যায়নি। সময় পেরিয়ে তা মানুষের কাছে ফিরে ফিরে আসে, নতুন করে উচ্চারিত হয়। কোনো তরুণের বুকের ভেতর আগুন জ্বালায়, কোনো নিঃসঙ্গ মানুষের চোখে জল আনে, কোনো প্রেমিককে শেখায়—বিরহও প্রেমেরই একটি দীর্ঘ, দীপ্ত জীবন। হেলাল হাফিজ সেখানেই শাশ্বত, আর এখানেই তাঁর কবিতা নিশ্চয়তা পায় ‘দুধে-ভাতে’ থাকার।</p>
বছরের প্রথম ৯ মাসে প্রযুক্তি খাতের ধনকুবেরদের সম্পদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এটা নতুন রেকর্ড।
<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-03/1ur518qb/Untitled-1-10.jpg"></figure><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/b93xz6cl33">সিন</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/ojjeo6kg0m">বাঁশ দেওয়ার মজা</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/89xajbzhk6">সেকালের বিজ্ঞাপন একালে</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/816oy38o23">আহসান হাবীবের প্রিয় ৪ কৌতুক</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/2bbl7jm57n">ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে ফুলহাতা শার্ট পরা ছাড়া আর কী কী করা যেতে পারে?</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/ild7ymelwa">তেলসংকটে মহাসমাধান</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/hfgieb5c91">ককটেল সমাচার</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/d0e3kp2eyp">আমাদের ছোট ফ্যান</a></aside>
নয় ঘণ্টা অবস্থান বিক্ষোভে বসে থাকা রাহুল গান্ধীকে হেফাজতে নিয়ে কিংসওয়ে ক্যাম্প থানায় নিয়ে গেছে দিল্লি পুলিশ। অন্যদিকে ‘মব’ করে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. জাওয়াদুল হককে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানোর অভিযোগ উঠেছে। সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে তৈরি ২৪টি রিসোর্টের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
কয়েকদিন অচেতন অবস্থায় থাকার পর যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ক্রিস্টা পাইকের জ্ঞান ফিরেছে। তার সুস্থ হয়ে ওঠার ঘটনাকে নজিরবিহীন বলে অভিহিত করেছেন বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবীরা। তাদের অনেকে বলছেন যে, প্রাণঘাতী ইনজেকশন থেকে বেঁচে যাওয়া একমাত্র ব্যক্তি তিনিই।
বিশ্বের ৫০০ ভালো শহরের তালিকায় বাংলাদেশের কোনো শহর নেই। ৫ই অগাস্টের পরপরই নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে জড়ান বিএনপির তৃণমূলের কিছু নেতাকর্মী। মশা মারার জন্য সারা দেশে ৪৮ হাজারের বেশি কমিটির কাজ করার কথা থাকলেও বাস্তবায়ন নেই। বুধবার ঢাকা থেকে প্রকাশিত সংবাদপত্রে এসব খবর গুরুত্ব পেয়েছে।
৭৩ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদের জীবনটা খুব সহজ নয়, বরং বড় উত্থান-পতনে ঘেরা। বলা চলে, তিনি ছিলেন সেই 'রাজপুত্র' যিনি সবকিছু হারিয়েছিলেন। ‘প্রতিবিপ্লবী’ হিসেবে চিহ্নিত একজন ব্যক্তির পুত্র হওয়ায় কিশোর শি-কে জোর করে একটি পুনঃশিক্ষণ কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল।
ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার জানিয়েছে, গত চৌঠা অক্টোবর সৌদির আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের আল খুরাইস এলাকায় আরামকোর একটি স্থাপনায় হুথিদের নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনের আঘাতে বাংলাদেশি নাগরিক মোঃ সজিব হোসেন মৃত্যুবরণ করেছেন। কে এই সজিব ? কী জানা যাচ্ছে তার সম্পর্কে?
চট্টগ্রামের আদালতে বিভিন্ন মামলায় দীর্ঘদিন ধরে সাক্ষ্য দিতে না আসা প্রায় ৭০০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার একটি সংবাদ নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কেনো এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো এবং গ্রেফতার করা হবে কিনা এমন প্রশ্নও সামনে আসছে।
বেনিনের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচের মাধ্যমেই আর্জেন্টিনার হয়ে লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারের ইতি ঘটবে। ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা এরপর কী করবেন?
উত্তর মেরুর একাধিক সংজ্ঞা রয়েছে - এবং সেগুলোর মধ্যে কয়েকটি একেবারেই স্থির থাকে না।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিভাবে স্বীকৃত সরকার ‘ডন অব ইয়েমেন’ নামক সামরিক অভিযান শুরু করার দুদিন পরই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছে লোহিত সাগর উপকূল বরাবর ইরান-সমর্থিত হুথিদের কাছ থেকে কিছু এলাকা পুনরুদ্ধার করেছে সরকারি বাহিনী।
ভারতীয় বাংলা সংগীতের প্রবীণ ও বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী বিভা সেনগুপ্ত মারা গেছেন।
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার আমডাঙ্গা গ্রামে সাপের কামড়ে কৃষক পলাশ আলী মোল্যার (৪৫) মৃত্যু হয়েছে।
খুলনা নগরীর দৌলতপুরে বিএল কলেজের দ্বিতীয় গেট এলাকায় মহিদুল ইসলাম (২২) নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যাচেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা।
ভোটাধিকার নিশ্চিতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) চালু করা আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালট ভোটিং পদ্ধতি সম্পর্কে অভিজ্ঞতা নিতে নেপালের নির্বাচন কমিশনের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের ইসির সঙ্গে বৈঠক করবে।
নোয়াখালীর সেনবাগ উপেজলার নবীপুরে সুন্দলপুর-৪ গ্যাস কূপে গ্যাসের উপস্থিতব নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বাধাহীন প্রজননের জন্য আজ বুধবার (৮ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে সাগর ও নদীতে শুরু হচ্ছে ইলিশ ধরার ওপর ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা।
বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাদের কন্যা কিমায়ার কথাও বিশেষভাবে বিবেচনা করেন বিজয়েন্দ্র ও প্রীতি।