প্যাশন ফ্রুট বা আনারকলি ফল নিয়ে বাংলাদেশে কেন আগ্রহ বাড়ছে

বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় চাষ হচ্ছে প্যাশন ফল নামের একটি ফল, যার প্রতি কৃষকদের আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে বলে জানা যাচ্ছে। কোনো কোনো জায়গায় এটি আনারকলি, ট্যাং ফল বা শরবতি ফল হিসেবেও পরিচিত। সরকারের কৃষি তথ্য সার্ভিস বলছে, "এটি বাংলাদেশের কৃষিতে এক নতুন সংযোজন"।

সালমান আগার সেঞ্চুরিতে শ্রীলঙ্কাকে হারাল পাকিস্তান, ১৬ হাজারি ক্লাবে বাবর

সালমান আলি আগার দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে শ্রীলঙ্কাকে ৩৭ রানে হারিয়ে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে শুভসূচনা করেছে পাকিস্তান।

সালমান আগার সেঞ্চুরিতে শ্রীলঙ্কাকে হারাল পাকিস্তান, ১৬ হাজারি ক্লাবে বাবর
দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের ঘটনায় সৌদি রাষ্ট্রদূতকে ডেকে তথ্য চেয়েছে ঢাকা

সৌদি আরবের মক্কায় সম্প্রতি দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূতকে ডেকে এনে বৈঠক করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ফেব্রুয়ারির বদলে আগামী...

দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের ঘটনায় সৌদি রাষ্ট্রদূতকে ডেকে তথ্য চেয়েছে ঢাকা
হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সৌদির পাশে থাকার ঘোষণা মিশরের

সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে মিশর প্রস্তুত রয়েছে। রবিবার মিশরের প্রেসিডেন্টের দপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে।

হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সৌদির পাশে থাকার ঘোষণা মিশরের
মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর, প্রতিমন্ত্রীর দাবি ‘গুজব’

মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র প্রদর্শন করে বিতর্কের জন্ম দেওয়া মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে গুঞ্জন উঠেছে। 

মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর, প্রতিমন্ত্রীর দাবি ‘গুজব’
প্যারিসে বিক্ষোভ রূপ নিয়েছে দাঙ্গা ও লুটপাটে

রবিবার সকালে ফ্রান্স জেগে উঠেছে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের দৃশ্য দেখে। শনিবার সেখানে দাঙ্গা ও বিক্ষোভের পর প্যারিসের ফুটপাতে ছড়িয়ে ছিল ভাঙা দোকানের কাঁচ,পুড়ে যাওয়া গাড়ি ও মোটরসাইকেল এবং ধ্বংসাবশেষের স্তূপ।

প্যারিসে বিক্ষোভ রূপ নিয়েছে দাঙ্গা ও লুটপাটে
বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে সমর্থন দিলেন ট্রাম্প

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনের ৯ দিন আগে মিত্র বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবার রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। দীর্ঘদিনের ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেত...

বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে সমর্থন দিলেন ট্রাম্প

সারা দেশ

View more
এক পোর্টালেই মিলবে ট্রেড লাইসেন্স, চালু হবে যৌথ পরিদর্শন
এক পোর্টালেই মিলবে ট্রেড লাইসেন্স, চালু হবে যৌথ পরিদর্শন

সভায় জানানো হয়, বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে পৃথক ব্যবস্থায় ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া হয়। প্রস্তাবিত অনলাইন পোর্টালে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে আবেদন ও নির্ধারিত ফি পরিশোধের মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা ঘরে বসেই ট্রেড লাইসেন্স নিতে পারবেন। লাইসেন্সের মেয়াদ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রচলিত ট্রেড লাইসেন্সকে ‘বিজনেস রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট’ বা সমজাতীয় নামে রূপান্তরের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।

Video news

Rss feed news

জেলেপাড়ায় সারা বছর টানাটানির সংসার, দুর্গাপূজায় আনন্দের কমতি নেই
জেলেপাড়ায় সারা বছর টানাটানির সংসার, দুর্গাপূজায় আনন্দের কমতি নেই

জেলেদের জীবন প্রকৃতির ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। মাছের জোগান ভালো থাকলে আয় বাড়ে, আবার কখনো মাছ কম পাওয়া গেলে সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়ে।

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
জমি দান বা হেবায় দানকর, আয়কর ও সম্পত্তি হস্তান্তরের হিসাব কীভাবে করবেন
জমি দান বা হেবায় দানকর, আয়কর ও সম্পত্তি হস্তান্তরের হিসাব কীভাবে করবেন

পরিবারের সদস্যদের মধ্যে জমি বা অন্যান্য সম্পত্তি হস্তান্তরের প্রচলিত পদ্ধতি হলো দান বা হেবা। তবে এ ধরনের হস্তান্তরে কর প্রযোজ্য কি না, তা নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। কেউ মনে করেন, হেবা করলেই কর দিতে হবে। আবার কারও ধারণা, পারিবারিক দান সম্পূর্ণ করমুক্ত।

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় বিনা মূল্যের অনলাইন কোর্স, যেভাবে আবেদন
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় বিনা মূল্যের অনলাইন কোর্স, যেভাবে আবেদন

<p>বিশ্বের যেকোনো দেশের আগ্রহী ব্যক্তিদের জন্য বিনা মূল্যে অনলাইন কোর্সের সুযোগ দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। চিকিৎসা, জনস্বাস্থ্য, স্বাস্থ্যগত জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা, মহামারি প্রস্তুতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে এসব কোর্সের মাধ্যমে জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এসব কোর্সে অংশ নিতে কোনো নিবন্ধন ফি লাগে না।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/education/gyeib3qecm">মাধ্যমিকে শিক্ষার্থী কমেছে ১ বছরে ৪ লাখ, বেড়েছে মাদ্রাসা ও ইংরেজি মাধ্যমে </a></aside><p><strong>যেসব বিষয়ে শেখার সুযোগ</strong></p><p>ডব্লিউএইচওর শিক্ষা উপকরণে জনস্বাস্থ্য, সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব, মহামারি মোকাবিলার প্রস্তুতি ও স্বাস্থ্যগত জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয়সহ বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব উপকরণ স্বাস্থ্যকর্মী, শিক্ষার্থী, গবেষক ও জনস্বাস্থ্য বিষয়ে আগ্রহী ব্যক্তিদের কাজে লাগতে পারে।</p><p>প্ল্যাটফর্মটির শিক্ষা উপকরণ বিভিন্ন ভাষায় পাওয়া যায়। নির্দিষ্ট কোর্সের ভাষা ও বিষয়বস্তু প্ল্যাটফর্মে যাচাই করে নেওয়া উচিত।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/education/scholarship/7fqpa4z1xd">ব্র্যাকের মেধাবিকাশ বৃত্তি কলেজশিক্ষার্থীদের জন্য, মাসে পাবে ৫,০০০ টাকা</a></aside><blockquote>নির্দিষ্ট কোনো জাতীয়তা বা শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই। বিশ্বের যেকোনো দেশের আগ্রহী ব্যক্তি কোর্স করতে পারবেন।</blockquote><p><strong>আবেদনের যোগ্যতা</strong></p><p>নির্দিষ্ট কোনো জাতীয়তা বা শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই। বিশ্বের যেকোনো দেশের আগ্রহী ব্যক্তি কোর্স করতে পারবেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীসহ স্বাস্থ্য খাতের সঙ্গে যুক্ত এবং এ বিষয়ে আগ্রহী ব্যক্তিদের জন্যও রয়েছে শেখার সুযোগ।</p><p><strong>আবেদনের নিয়ম</strong></p><p><a href="https://openwho.org/esearch/search?keyword=courses" target="_blank" rel="nofollow"> ওয়েবসাইটের মাধ্যমে</a> আবেদন করতে হবে।</p><p><strong>আবেদনের সময়সীমা</strong></p><p>কোর্সভেদে আবেদনের সময়সীমা ভিন্ন হয়ে থাকে।</p><p><a href="https://www.opportunitiescircle.com/who-free-online-courses/?utm_source=larapush&amp;utm_medium=notification&amp;utm_campaign=2821" target="_blank" rel="nofollow">বিস্তারিত দেখুন এ ঠিকানায়</a>।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/jxum1yny67">আইইউবিতে ক্যারিয়ার ডে: চাকরি ও ইন্টার্নশিপের পরামর্শসহ নানা সুযোগ</a></aside>

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
প্রশ্নপত্র ফাঁস ও কেন্দ্র-কন্ট্র্যাক্ট: মেধার বদলে টাকার দাপটে দিশাহারা চাকরিপ্রার্থীরা
প্রশ্নপত্র ফাঁস ও কেন্দ্র-কন্ট্র্যাক্ট: মেধার বদলে টাকার দাপটে দিশাহারা চাকরিপ্রার্থীরা

<p>১০ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের এই নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে সারা দেশ থেকে ঢাকায় এসেছিলেন লাখ লাখ বেকার তরুণ–তরুণী। তবে বেলা ১১টায় পরীক্ষা শুরুর আগেই (আগের দিন রাত) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে প্রশ্নপত্রের ছবি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সকাল ১০টা ৩ মিনিটে মাত্র দুই মিনিটের নোটিশে পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দেয় কর্তৃপক্ষ। ২৪২টি শূন্যপদের বিপরীতে ৩ লাখ ১৮ হাজার ৯৭৬ জন চাকরিপ্রার্থী আবেদন করেছিলেন। পরে বিশেষ নজরদারিতে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হলেও ঘটনাটি সরকারি নিয়োগব্যবস্থার সার্বিক নিরাপত্তা ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।</p><p>ঘটনার তদন্তে নেমে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) প্রশ্নপত্র ফাঁস ও চক্রের মাধ্যমে উত্তর সরবরাহের চাঞ্চল্যকর তথ্য পায়। তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষার দিন ভোর ৪টা ৪৩ মিনিটে নূর মোহাম্মদ নামের এক ব্যক্তির কাছে প্রশ্নপত্রের অস্পষ্ট ছবি পৌঁছায়। এরপর সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে প্রশ্নপত্রের স্পষ্ট ছবি পান জাহাঙ্গীর নামের আরেক সদস্য। উত্তর প্রস্তুত করে তা পরীক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য চক্রটি ভুয়া হোয়াটসঅ্যাপ আইডি ব্যবহার করত। অনুসন্ধানে জানা যায়, তৃতীয় শ্রেণির পদের জন্য ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা এবং দ্বিতীয় শ্রেণির পদের জন্য ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত হাঁকানো হচ্ছিল। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সাতজনের মধ্যে পাঁচজনই বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মচারী।</p><p><strong>প্রশ্নপত্র ফাঁসের পাশাপশি  ‘কেন্দ্র-কন্ট্র্যাক্ট’ও আলোচনায়</strong></p><p>নিয়োগ পরীক্ষার অনিয়ম কেবল আগেই প্রশ্ন ছড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এখন কেন্দ্রভিত্তিক সূক্ষ্ম কারচুপি বা ‘কেন্দ্র-কন্ট্র্যাক্ট’ নতুন আতঙ্ক হিসেবে সামনে এসেছে। পরীক্ষা হলের ভেতরে একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা ও পরীক্ষাকেন্দ্রের যোগসাজশে নির্দিষ্ট কিছু প্রার্থীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়। ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে বাইরে থেকে সমাধান পাঠানো কিংবা হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নীরব সমর্থনের অভিযোগও হরহামেশাই উঠছে।</p><p>সম্প্রতি সমাপ্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও এমন তিক্ত অভিজ্ঞতা দেখা গেছে। ২০২৫ সালের ৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষার পর ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করা হয়। তবে নীলফামারীর একটি কেন্দ্রে পরীক্ষা শুরুর পরপরই বাইরে থেকে উত্তর সরবরাহ করা এবং নির্দিষ্ট কক্ষে বিশেষ সুবিধার গুরুতর অভিযোগ ওঠে। প্রার্থীরা সেখানে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানালেও সে বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম আর পরিবারের জমানো টাকা খরচ করে পরীক্ষা দিতে এসে প্রার্থীরা যখন এমন জালিয়াতি দেখেন, তখন তাঁদের সব আশা ভেঙে চুরমার হয়ে যায়।</p><p>এ বিষয়ে নিজের ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইশরাত জাহান ইরা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা যারা বহুদূর থেকে কষ্ট করে কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে আসি, ধারদেনা করে বই কেনা আর যাতায়াতের খরচ জোগাই, পরীক্ষা শুরুর পর ওএমআর কেটে নেওয়া বা প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর শুনলে আমাদের মাথার ওপর আকাশ ভেঙে পড়ে। দিনরাত এক করে পড়াশোনা করার পর যখন দেখি মেধার বদলে টাকার জোরে চাকরি বিক্রি হচ্ছে, তখন পুরো নিয়োগব্যবস্থার ওপর আর কোনো আস্থা থাকে না। আমরা শুধু পরীক্ষা বাতিলের সাময়িক লোকদেখানো সিদ্ধান্ত চাই না; যারা প্রশ্ন বিক্রি করে আর যারা টাকার জোরে চাকরি কেনে—দুই পক্ষেরই দৃষ্টান্তমূলক সাজা দেখতে চাই।’</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/chakri/chakri-suggestion/3gj3wulgre">পেট্রোবাংলার অধীনে ৭৫৩ পদে নিয়োগ, ঘরে বসে আবেদনের নিয়ম জানুন</a></aside><p><strong>একজন আবেদ আলী ও ধীরগতির বিচারব্যবস্থা</strong></p><p>প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নিয়োগ–বাণিজ্যের শিকড় কত দূর গভীরে পৌঁছেছে, তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ পিএসসির সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলীর ঘটনাটি। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান পিএসসির ভেতরে থেকে তিনি ও তাঁর সহযোগীরা বছরের পর বছর ধরে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নিয়োগ–বাণিজ্যের নেটওয়ার্ক চালিয়ে গেছেন।</p><p>২০১৪ সালে পিএসসির একটি নিয়োগ পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর কাছে লিখিত উত্তরপত্র পাওয়ার ঘটনায় প্রথম মামলা হয়। পুলিশের তদন্তে আবেদ আলী ও তাঁর সহযোগীদের সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। ২০১৫ সালে বিচারকাজ শুরুর আদেশ হলেও পরবর্তী ১০ বছরে ১২ জন সাক্ষীর মধ্যে মাত্র ২ জনকে আদালতে হাজির করতে পেরেছে প্রসিকিউশন। এই দীর্ঘ বিচারহীনতা ও নজরদারির অভাবকেই কাল হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।</p><p>সাজার মুখোমুখি না হওয়ার সুযোগে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ রেলওয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে আবারও গ্রেপ্তার হন আবেদ আলী, তাঁর ছেলে এবং পিএসসির একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ৫৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হলেও আগের মামলার সুরাহা না হওয়ায় চক্রটি বারবার পার পেয়ে গেছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/chakri/chakri-suggestion/jzcvkd42ul">সরকারি ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার নিয়োগ: ফিন্যান্সিয়াল অ্যান্ড ব্যাংকিং নলেজ প্রস্তুতিতে করণীয়</a></aside><p><strong>পরীক্ষা কমিটিতে রাজনৈতিক বিবেচনার প্রভাব</strong></p><p>নিয়োগপ্রক্রিয়ায় বারবার এই ধস নামার পেছনে কেবল প্রযুক্তিগত বা ব্যক্তিপর্যায়ের দুর্নীতি নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক অসততা ও রাজনৈতিক বিবেচনাকে দায়ী করছেন বিশষজ্ঞরা।</p><p>ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক তানজিম উদ্দীন খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘সাধারণত রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় এলে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের পরীক্ষা কমিটির দায়িত্ব বণ্টন করা হয় রাজনৈতিক বিবেচনায়। অথচ পরীক্ষা কমিটিতে যাঁরা থাকবেন, তাঁদের যোগ্যতার একমাত্র মাপকাঠি হওয়া দরকার সততা ও দক্ষতা। এটি সব সময় আমাদের দেশে উপেক্ষিত হয়েছে, বর্তমানেও তাই চলছে।’</p><p>নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে এই অধ্যাপক আরও বলেন, ‘আমি নিজে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পরীক্ষা কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেছি। আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, একটি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে কি না, সেটি নির্ভর করে পরীক্ষা কমিটির ওপর। পরীক্ষা কমিটির একজন সদস্যও যদি অসৎ হন, তবে সেই পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার ক্ষেত্রে বড় ঝুঁকি থাকে। এত বড় একটা গণ-অভ্যুত্থান হলো, এতগুলো তাজা প্রাণ ঝরল, কিন্তু আমরা কোনো শিক্ষা নিলাম না! অসততা ও অন্যায়ের চর্চা আগের থেকে বেশি মাত্রায় কীভাবে করা যায়, সমাজ ও রাষ্ট্রে আমরা যেন এখন তার প্রতিযোগিতা দেখছি।’</p><p>বিশ্লেষকদের মতে, শুধু পরীক্ষা স্থগিত করা বা দু-একজন নিচের সারির অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে এই বড় সংকট থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়। প্রশ্নপত্র ফাঁসে যুক্ত মূল হোতা, প্রশ্ন কেনা অসৎ প্রার্থী এবং ভেতরের জড়িত কর্মকর্তাদের দ্রুত চিহ্নিত করতে হবে। বিশেষ ট্রাইব্যুনালে তাঁদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা নিশ্চিত করা না গেলে সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/chakri/employment/hguya1f1xn">বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালে চিকিৎসক ও কর্মচারী পদে ১০৮ জনের চাকরির সুযোগ </a></aside>

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
রবীন্দ্রনাথের বিরোধিতা, নাকি বাঙালির বিভাজন
রবীন্দ্রনাথের বিরোধিতা, নাকি বাঙালির বিভাজন

<p>রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ শুধু ‘রবীন্দ্রবিরোধিতা’ হিসেবে দেখলে সম্ভবত সমস্যাটির গভীরে পৌঁছানো যাবে না। শিল্পকলা একাডেমির সামনে তাঁর প্রতিকৃতিতে কালি দেওয়া, তাঁকে ঘিরে অবমাননাকর বক্তব্য, তাঁর ইতিহাস ও রাজনৈতিক ভূমিকা সম্পর্কে পুরোনো ও অপ্রমাণিত অভিযোগ নতুন করে প্রচার—এসবের মধ্যে একজন কবির প্রতি বিরাগের চাইতে আরও বেশি কিছু আছে বলে আমার ব্যক্তিগত ধারণা। রবীন্দ্রনাথ শুধু একজন ব্যক্তি নন, শুধু একজন কবি নন তিনি একটি সাংস্কৃতিক পরিচয়, বাংলা ভাষা, সাহিত্য, সংগীত, বাঙালি জাতিসত্তা এবং শেষ বিচারে বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। ফলে তাঁর প্রতিকৃতির ওপর আঘাতকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই বরং প্রশ্ন করা উচিত—এই ঘটনার মধ্য দিয়ে কি বাঙালির সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারকে নতুন করে বিতর্কিত করার চেষ্টা হচ্ছে না?</p><p>বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে যখন রবীন্দ্রনাথকে ‘হিন্দু’, ‘ভারতীয়’ বা ‘এই দেশের সংস্কৃতির বাইরের মানুষ’ হিসেবে উপস্থাপন করে বাংলাদেশের মুসলিম পরিচয়ের বিপরীতে দাঁড় করানোর প্রবণতা দেখা যায়।</p><p>এর মধ্যে একটি পুরোনো রাজনৈতিক বিভাজনের ছায়া স্পষ্ট—বাঙালি সংস্কৃতি বনাম ইসলামি সংস্কৃতি। যেন বাঙালি হতে হলে ইসলামি পরিচয় থেকে দূরে যেতে হবে, অথবা মুসলমানের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষা করতে হলে রবীন্দ্রনাথ, বাংলা নববর্ষ, লোকসংস্কৃতি কিংবা বাংলা ভাষার বহুত্ববাদী ঐতিহ্য থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে হবে। অথচ বাংলাদেশের ইতিহাস এই দ্বৈততার সাক্ষ্য দেয় না। শত শত বছর ধরে এ ভূখণ্ডের মুসলমানেরা একই সঙ্গে বাঙালি ও মুসলমান—তাঁদের ভাষা বাংলা, তাঁদের লোকজ স্মৃতি বাংলার, আবার তাঁদের বিশ্বাস ও ধর্মীয় ঐতিহ্য ইসলামের। এই দুই পরিচয়ের সহাবস্থানই বাংলাদেশের সমাজের ঐতিহাসিক বাস্তবতা।</p><blockquote>বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে যখন রবীন্দ্রনাথকে ‘হিন্দু’, ‘ভারতীয়’ বা ‘এই দেশের সংস্কৃতির বাইরের মানুষ’ হিসেবে উপস্থাপন করে বাংলাদেশের মুসলিম পরিচয়ের বিপরীতে দাঁড় করানোর প্রবণতা দেখা যায়।</blockquote><p>সে কারণেই বর্তমান ঘটনাপ্রবাহকে ‘রবীন্দ্রনাথ বনাম তাঁর সমালোচক’—এই সংকীর্ণ কাঠামোয় আটকে রাখা ঠিক হবে না বরং দেখতে হবে, রবীন্দ্রনাথকে সামনে রেখে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সংজ্ঞা নিয়েই নতুন করে একটি রাজনৈতিক ও আদর্শিক লড়াই তৈরি করা হচ্ছে কি না। একদিকে ভাষা, সাহিত্য, লোকজ ঐতিহ্য, মুক্তিযুদ্ধ এবং বহুত্ববাদী বাঙালি সংস্কৃতিকে বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখা হয় অন্যদিকে একটি প্রবণতা ধর্মীয় পরিচয়কে জাতীয় সংস্কৃতির প্রধান নির্ধারক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এই দুই দৃষ্টিভঙ্গির বিতর্ক নতুন নয়—পাকিস্তান আমলে বাংলা ভাষা, রবীন্দ্রসংগীত এবং বাঙালি সাংস্কৃতিক চর্চাকে ঘিরে রাষ্ট্রীয় দ্বন্দ্বের মধ্যেও আমরা এর পূর্বসূত্র দেখতে পাই।</p><p>লক্ষণীয় যে ‘বাঙালি সংস্কৃতিবিরোধী অভিযান’ বেশ কিছু দিন ধরেই চালু রয়েছে। গত দশকগুলোর বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলোর সাথে সাম্প্রতিক রবীন্দ্রবিরোধী কার্যক্রমের ঘটনা জোড়া দিলে বুঝতে আর সময় লাগে না যে একটি কেন্দ্রীয়ভাবে পরিকল্পিত ও পরিচালিত বাঙালি সংস্কৃতিবিরোধী অভিযান সারা বাংলাদেশে চলছে। কখনো মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন, কখনো নববর্ষ উদ্যাপন, কখনো রবীন্দ্রনাথ—একটার পর একটা ঘটনা সামনে আসছে। এসব ঘটনার ভাষা, প্রতীক নির্বাচন এবং রবীন্দ্রনাথকে ঘিরে পুনরুজ্জীবিত কিছু পুরোনো অভিযোগ আমাদের সামনে একটি বড় আকারের জিজ্ঞাসা চিহ্ন নিয়ে উপস্থিত হয়েছে: বাংলাদেশের মানুষকে কি ‘বাঙালি সংস্কৃতি’ ও ‘ইসলামী সংস্কৃতি’—এই দুই কৃত্রিম শিবিরে ভাগ করার চেষ্টা হচ্ছে? এর পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের মনে আর একটি প্রশ্ন জাগে—বাংলাদেশ তার বহুমাত্রিক ইতিহাসকে ধারণ করবে, নাকি ধর্ম ও সংস্কৃতিকে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী বানিয়ে নিজের জাতীয় পরিচয়কেই দুই ভাগে বিভক্ত করবে?</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-08-06/zmssc205/%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%A5-%E0%A6%A0%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%B0-%E0%A7%A8%E0%A7%AB-%E0%A6%AC%E0%A7%88%E0%A6%B6%E0%A6%BE%E0%A6%96-%E0%A7%A7%E0%A7%A8%E0%A7%AC%E0%A7%AE%E2%80%94%E0%A7%A8%E0%A7%A8-%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%A3-%E0%A7%A7%E0%A7%A9%E0%A7%AA%E0%A7%AE-%E0%A6%AC%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A7%83%E0%A6%A4%E0%A6%BF-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%95-%E0%A6%B9%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B2.jpg"><figcaption>রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর</figcaption></figure><p>এই নিবন্ধে আমরা এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে প্রয়াসী হব। একই সঙ্গে আমরা রবীন্দ্রনাথের নামে প্রচারিত ইতিহাস, অপ্রমাণিত অভিযোগ এবং সাংস্কৃতিক বিদ্বেষ সম্পর্কেও আলোচনা করব। আমার ধারণা, এই জায়গা থেকেই রবীন্দ্রনাথকে ঘিরে বর্তমান বিতর্কটির আলোচনা হওয়া দরকার। তবে মুক্তবুদ্ধির চর্চা সমুন্নত রাখতে হলে আমাদের প্রশ্ন করতে হবে—আমরা কি ইতিহাসকে তথ্য দিয়ে বিচার করব, নাকি ‘বিশেষ কোনো রাজনৈতিক মতবাদের প্রয়োজন’ অনুযায়ী অতীতকে নতুন করে লিখব?</p><p>২.</p><p>রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ভালোবাসতেই হবে—এমন কোনো সাংবিধানিক, নৈতিক বা সাংস্কৃতিক বাধ্যবাধকতা আমাদের কারও নেই। রবীন্দ্রনাথের কবিতা কারও ভালো লাগতে পারে আবার কারও ভালো না-ও লাগতে পারে। তাঁর রাজনৈতিক চিন্তা, জমিদারি, বঙ্গভঙ্গবিরোধী অবস্থান, জাতীয়তাবাদ সম্পর্কে তাঁর দ্বিধা, এমনকি তাঁর সাহিত্যকেও কঠোরভাবে সমালোচনা করার অধিকার সবারই আছে। কোনো একজন মহান কবি বা বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সমালোচনার ঊর্ধ্বে তুলে রাখা মোটেও মুক্তবুদ্ধির পরিচয় নয়।</p><p>কিন্তু সমালোচনা আর ইতিহাস বিকৃত করা এক বিষয় নয়। সাহিত্যিক পছন্দ-অপছন্দ আর কোনো লেখকের প্রতিকৃতিতে কালি মাখানোও এক কথা নয়। রবীন্দ্রনাথের চিন্তার সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা আর তাঁকে ‘মুসলিমবিদ্বেষী’, ‘বাংলাদেশবিরোধী’ কিংবা ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরোধী’ প্রমাণ করতে অপ্রমাণিত কাহিনি প্রচার করাও কোনোভাবেই কাম্য নয়।</p><blockquote>লক্ষণীয় যে ‘বাঙালি সংস্কৃতিবিরোধী অভিযান’ বেশ কিছু দিন ধরেই চালু রয়েছে। গত দশকগুলোর বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলোর সাথে সাম্প্রতিক রবীন্দ্রবিরোধী কার্যক্রমের ঘটনা জোড়া দিলে বুঝতে আর সময় লাগে না যে একটি কেন্দ্রীয়ভাবে পরিকল্পিত ও পরিচালিত বাঙালি সংস্কৃতিবিরোধী অভিযান সারা বাংলাদেশে চলছে।</blockquote><p>৫ অক্টোবর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিসংলগ্ন ফুটপাত দখলমুক্ত করার পর পাশের দেয়ালে বাংলাদেশের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত ১০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির প্রতিকৃতি আঁকা হয়। তাঁদের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পাশাপাশি ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, জয়নুল আবেদিন, এস এম সুলতান, জহির রায়হান, শাহ আবদুল করিম, হুমায়ূন ফরীদি, সত্যজিৎ রায় প্রমুখ।</p><p>১০ অক্টোবর সেই দেয়ালে রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতি কালো কালি দিয়ে মুছে ফেলার চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রাষ্ট্রসংলাপ ফোরামের এক নেতাসহ কয়েকজনকে আটক করে। পরে চারজনকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গণমাধ্যমে প্রকাশিত মামলার তথ্য অনুযায়ী, দণ্ডবিধির ১২০বি, ১৫৩এ ও ২৯৫এ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে—অর্থাৎ অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা উসকে দেওয়া এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতসংক্রান্ত অভিযোগ। ১১ অক্টোবর আদালত দুই আসামিকে তিন দিন এবং অন্য দুজনকে দুই দিনের রিমান্ডে দেন।</p><p>পরদিন রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতির সামনে উদীচীর একটি অংশ ‘যে কবি জনতার’ শিরোনামে সাংস্কৃতিক প্রতিবাদের আয়োজন করে।</p><p>এর মধ্যেই বিতর্ক পৌঁছায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার রবীন্দ্রসংগীতের সুর নিয়ে ‘রঠা সংগীত’ নামে একটি বিকৃত ভিডিও প্রকাশ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের অনেকে এ ঘটনার প্রতিবাদ করেন। পরে একজন ছাত্রদল নেতা রাকসু ভবনে রবীন্দ্রনাথের পক্ষে কবি শামসুর রাহমানের বাণী সংবলিত একটি পোস্টার লাগান।</p><p>গত ১৩ অক্টোবর ৩৭ জন বিশিষ্ট নাগরিক এক বিবৃতিতে রবীন্দ্রনাথের ছবিতে কালি দেওয়ার ঘটনাসহ সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরির চেষ্টার অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2024-08/42f1ce48-6783-4345-9ae2-eaf9d871fc1f/31.jpg"><figcaption>রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (২৫ বৈশাখ ১২৬৮—২২ শ্রাবণ ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ)</figcaption></figure><p>গতকাল ১৪ অক্টোবর, এ ঘটনার জের হিসেবে আদালতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রিমান্ড শেষে দুজন আসামির জামিন শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যেকার উত্তেজনা শারীরিক সংঘর্ষে গড়ায়। বিব্রত বিচারক কিছু সময়ের জন্য এজলাস ছেড়ে যান। একই দিনে জাতীয় কবিতা পরিষদ ঢাকায় ‘অসাম্প্রদায়িক রবীন্দ্রনাথকে মুছে ফেলা যাবে না’ শিরোনামে কবিতাপাঠ ও আলোচনা আয়োজন করে। সেখানে বক্তারা রবীন্দ্রনাথকে কেন্দ্র করে বিভাজন তৈরির প্রচেষ্টার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। মোদ্দাকথা, ১০ অক্টোবরের দেয়ালচিত্রের ঘটনাটি এখন শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে সীমাবদ্ধ নেই এটি সংগঠিত সাংস্কৃতিক প্রতিক্রিয়াও তৈরি করছে।</p><p>৩.</p><p>সব কটি ঘটনা বিবেচনা করলে এটিও অস্বীকার করার উপায় থাকে না যে—রবীন্দ্রনাথকে কেন্দ্র করে পুরোনো কিছু অভিযোগ নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও প্রকাশ্য রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক পরিসরে ছড়িয়ে পড়ছে। সাম্প্রতিক একটি গবেষণাও দেখিয়েছে, বাংলাদেশে রবীন্দ্রনাথ ও জাতীয় সংগীত দীর্ঘদিন ধরে ভাষাভিত্তিক বাঙালি জাতীয়তাবাদ এবং ধর্মভিত্তিক পরিচয়-রাজনীতির টানাপোড়েনের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। একটা বিশেষ গোষ্ঠী সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সামনে রেখে নানা ধরনের মিথ্যা ও অপতথ্য প্রচারের মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথবিরোধী অদ্ভুত এক বয়ান সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।</p><p>রবীন্দ্রনাথবিরোধী আলোচনায় সম্ভবত সবচেয়ে বেশি পুনরাবৃত্ত দাবি হলো—তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন। কখনো আরও এক ধাপ এগিয়ে তাঁর নামে এমন কথাও প্রচার করা হয় যে পূর্ববঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন নেই কিংবা ‘মূর্খের দেশে আবার কিসের বিশ্ববিদ্যালয়’। সমস্যা হচ্ছে, এসব বক্তব্যের পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রাথমিক ঐতিহাসিক দলিল পাওয়া যায় না।</p><blockquote>গত ১৩ অক্টোবর ৩৭ জন বিশিষ্ট নাগরিক এক বিবৃতিতে রবীন্দ্রনাথের ছবিতে কালি দেওয়ার ঘটনাসহ সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরির চেষ্টার অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।</blockquote><p>১১ অক্টোবর ২০২৬ বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ফ্যাক্টওয়াচের গবেষণালব্ধ তথ্য উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন—এমন দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বহুল প্রচারিত কাহিনিতে বলা হয়েছিল, ১৯১২ সালের ২৮ মার্চ কলকাতার গড়ের মাঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিরোধী সভায় রবীন্দ্রনাথ সভাপতিত্ব করেছিলেন। অবশ্য তাঁর দিনপঞ্জির সঙ্গেও সেই দাবির অসংগতি রয়েছে।</p><p>অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ইতিহাসে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। ১৯২৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল পরিদর্শন করেন এবং হলের সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘বাসন্তিকা’র জন্য কবিতা লিখে দেন। সুতরাং, বারবার একই মিথ্যা নানাভাবে বললেই তা সত্য হয়ে যায় না।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2024-05/55133980-82ba-4abe-9254-31a127808e0f/Rabindranath_Tagore.jpg"><figcaption>রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (২৫ বৈশাখ ১২৬৮—২২ শ্রাবণ ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ)</figcaption></figure><p>রবীন্দ্রনাথ ‘বিদেশি’, তাই বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ নন: রবীন্দ্রনাথ জন্মেছিলেন কলকাতায়, ১৮৬১ সালে। বর্তমান রাষ্ট্রসীমার হিসাবে কলকাতা ভারতে কিন্তু এখান থেকে যদি সিদ্ধান্ত হয় যে রবীন্দ্রনাথ বাংলাদেশের ইতিহাসের ‘বিদেশি ব্যক্তি’, তাহলে উনিশ শতকের ইতিহাসকে ১৯৪৭ ও ১৯৭১-পরবর্তী রাষ্ট্রসীমা দিয়ে বিচার করা হয়।</p><p>রবীন্দ্রনাথের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় বর্তমান বাংলাদেশের ভূখণ্ডে। পারিবারিক জমিদারি দেখাশোনার সূত্রে তিনি শিলাইদহ, শাহজাদপুর, পতিসর ও পূর্ববঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন। পদ্মা, বাংলার গ্রাম, কৃষক, প্রকৃতি ও সাধারণ মানুষের জীবন তাঁর গল্প, কবিতা ও চিঠিতে গভীর ছাপ ফেলেছে। বাংলাপিডিয়ার জীবনীতেও এই পূর্ববঙ্গ-অভিজ্ঞতাকে তাঁর সাহিত্যিক বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।</p><p>আরও মৌলিক একটি সত্য আছে। ১৯৭২ সালের বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত, জাতীয় পতাকা এবং জাতীয় প্রতীক–সম্পর্কিত অধ্যাদেশে (The Bangladesh National Anthem, Flag and Emblem Order, 1972) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিরচিত এই গানকেই জাতীয় সংগীত হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। বাংলাদেশের সংবিধানের ৪(১) অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের জাতীয় সংগীত ‘আমার সোনার বাংলা’র প্রথম ১০ চরণ।</p><p>অতএব রবীন্দ্রনাথ পশ্চিমবঙ্গ বা ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য—এটি যেমন সত্য, তেমনি তিনি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসেরও অবিচ্ছেদ্য অংশ। সংস্কৃতি পাসপোর্ট নিয়ে জন্মায় না। লালনকে শুধু কুষ্টিয়ার, নজরুলকে শুধু বর্ধমানের কিংবা জীবনানন্দকে শুধু বরিশালের সম্পত্তি বানালে যেমন তাঁদের ছোট করা হয়, রবীন্দ্রনাথকেও বর্তমান রাষ্ট্রসীমার খোপে আটকে দিলে একই ভুল হয়।</p><blockquote>রবীন্দ্রসাহিত্যে বাংলার মুসলমান জনসংখ্যার আনুপাতিক উপস্থিতি কম বলেই কি তাঁকে মুসলিমবিদ্বেষী বলা যেতে পারে? ঔপনিবেশিক বাংলার উচ্চবর্ণীয় ভদ্রলোক সমাজের সন্তান হিসেবে তাঁর সামাজিক অবস্থান এবং তাঁর সাহিত্যে কোন জনগোষ্ঠী কতটা প্রতিনিধিত্ব পেয়েছে, সেটি অবশ্যই গবেষণার বিষয় হতে পারে কিন্তু ‘মুসলমান চরিত্র তুলনামূলক কম’ থেকে ‘রবীন্দ্রনাথ মুসলিমবিদ্বেষী’—এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে গেলে অনেক ঐতিহাসিক তথ্য অস্বীকার করতে হয়।</blockquote><p>রবীন্দ্রসাহিত্যে বাংলার মুসলমান জনসংখ্যার আনুপাতিক উপস্থিতি কম বলেই কি তাঁকে মুসলিমবিদ্বেষী বলা যেতে পারে? ঔপনিবেশিক বাংলার উচ্চবর্ণীয় ভদ্রলোক সমাজের সন্তান হিসেবে তাঁর সামাজিক অবস্থান এবং তাঁর সাহিত্যে কোন জনগোষ্ঠী কতটা প্রতিনিধিত্ব পেয়েছে, সেটি অবশ্যই গবেষণার বিষয় হতে পারে কিন্তু ‘মুসলমান চরিত্র তুলনামূলক কম’ থেকে ‘রবীন্দ্রনাথ মুসলিমবিদ্বেষী’—এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে গেলে অনেক ঐতিহাসিক তথ্য অস্বীকার করতে হয়।</p><p>সাম্প্রতিক গবেষণায় তাঁর ইসলাম ও মুসলিম সমাজের সঙ্গে সম্পর্ক বিশ্লেষণ করে দেখানো হয়েছে যে পূর্ববঙ্গে জমিদারি পরিচালনার সময় তাঁর অধিকাংশ প্রজাই ছিলেন মুসলমান সেই অভিজ্ঞতা হিন্দু-মুসলমান সম্পর্ক সম্পর্কে তাঁর চিন্তাকে প্রভাবিত করে। তিনি পারস্যের সুফি কবি হাফিজ ও সাদির প্রতি গভীর আগ্রহী ছিলেন তাঁর রচনায় মুসলমান চরিত্র এবারেই অনুপস্থিত নয়—‘কাবুলিওয়ালা’, ‘ক্ষুধিত পাষাণ’, ‘মুসলমানীর গল্প’সহ বিভিন্ন রচনায় তা পাওয়া যায়। বিশ্বভারতীতে ১৯২৭ সালে ইসলামিক স্টাডিজের বিভাগ খোলা হয়, এবং পরে সেখানে পারস্য বিদ্যাচর্চার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়।</p><p>রবীন্দ্র–সাহিত্যে মুসলিম জনসংখ্যার প্রতিনিধিত্বের সীমাবদ্ধতা নিয়ে সমালোচনা হয়তো করা যেতে পারে কিন্তু তাঁকে মুসলিমবিদ্বেষী ঘোষণা করার দাবির পক্ষে ইতিহাসের সামগ্রিক সাক্ষ্য অত্যন্ত দুর্বল।</p><p>কৃষক-শোষক জমিদার রবীন্দ্রনাথ: এখানেও ইতিহাসকে সাদা-কালো করলে ভুল হবে। রবীন্দ্রনাথ জমিদার পরিবারের সদস্য ছিলেন এবং জমিদারি পরিচালনা করেছেন—এটি কেউ অস্বীকার করে না। ঔপনিবেশিক বাংলার জমিদারিব্যবস্থা নিজেই ছিল বৈষম্যমূলক ভূসম্পর্কের অংশ। সুতরাং রবীন্দ্রনাথের শ্রেণিগত অবস্থান আড়াল করাও সঠিক ইতিহাসচর্চা হয় না।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo/import/media/2015/12/18/4ffd582d822c423b7161980684395d78-10.jpg"><figcaption>রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর</figcaption></figure><p>তাই বলে বিপরীতক্রমে, তাঁকে কেবল ‘অত্যাচারী জমিদার’ বানালেও ঐতিহাসিক তথ্য অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। পূর্ববঙ্গের গ্রামীণ দারিদ্র্যের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা তাঁর চিন্তায় পরিবর্তন আনে। পতিসরে কৃষকদের মহাজনি ঋণ থেকে বের করার লক্ষ্যে তিনি কৃষি ও সমবায়ভিত্তিক ক্ষুদ্রঋণের উদ্যোগ, গ্রামসংগঠন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষি উন্নয়নের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর, রবীন্দ্রনাথ সেই অর্থের প্রায় পুরোটাই (এক লাখ আট হাজার টাকা) নওগাঁর পতিসরে কৃষকদের কল্যাণে বিনিয়োগ করেন। তিনি পতিসরে ‘কৃষি সমবায় ব্যাংক’ স্থাপন করেন, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় মহাজনদের চড়া সুদ থেকে কৃষকদের রক্ষা করা। ১৯৩০-এর দশকের বিশ্বমন্দা ও ১৯৩৬ সালে ‘বঙ্গীয় ঋণসালিসি আইন’ পরবর্তী সময়ে রবীন্দ্রনাথের বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত আসেনি ফলে ব্যাংকটিও এক পর্যায়ে বন্ধ হয়ে যায়। রবীন্দ্রনাথের পল্লি পুনর্গঠন-ভাবনায় গ্রামবাসীর সম্মিলিত সক্ষমতা ও আত্মশক্তির উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল।</p><p>অতএব ন্যায়সংগত মূল্যায়ন হবে: রবীন্দ্রনাথ জমিদারি কাঠামোর বাইরে ছিলেন না আবার সেই কাঠামোর সুবিধাভোগী হয়েও তিনি মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করে গ্রামীণ দারিদ্র্য, ঋণ ও উন্নয়নের সমস্যা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন।</p><p>রবীন্দ্রনাথের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সমালোচনাগুলোর একটি তাঁর ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গবিরোধী অবস্থান। পূর্ববঙ্গের বহু মুসলমান বঙ্গভঙ্গকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। ঢাকাকেন্দ্রিক নতুন প্রদেশ তাঁদের শিক্ষা, প্রশাসনিক প্রতিনিধিত্ব ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বাড়াবে—এমন প্রত্যাশা ছিল। অন্যদিকে রবীন্দ্রনাথের তিনটি জমিদারিই ছিল পূর্ববঙ্গে। তাঁর বঙ্গভঙ্গবিরোধী অবস্থানের প্রধান কারণ ছিল তার শ্রেণিস্বার্থ, যা সেই সময়ের পূর্ববঙ্গের মুসলমান জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।</p><p>পাশাপাশি রবীন্দ্রনাথ স্বদেশি আন্দোলনের উগ্রতা, বর্জনের জবরদস্তি এবং হিন্দু-মুসলমান বিভেদের বিপদ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন। গবেষণায় দেখা যায়, পূর্ববঙ্গের দরিদ্র মুসলমান ও নমশূদ্র কৃষকেরা দামি স্বদেশি পণ্যের স্বার্থে সস্তা আমদানি করা কাপড় ও লবণ বর্জনে সব সময় রাজি ছিলেন না এ সংঘাত রবীন্দ্রনাথকে জাতীয়তাবাদের নৈতিক বিপদ সম্পর্কে আরও সতর্ক করে। তাঁর প্রবন্ধ এবং পরে ‘ঘরে বাইরে’ উপন্যাসে উগ্র জাতীয়তাবাদের এই বিপজ্জনক রূপ সঠিকভাবে আঁকতে পেরেছিলেন। অর্থাৎ তিনি বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করেছিলেন—সত্য। তাই তিনি মুসলমানের শত্রু ছিলেন—এটি ইতিহাস থেকে স্বতসিদ্ধভাবে প্রমাণিত হয় না।</p><blockquote>একজন মানুষের একাধিক পরিচয় পরস্পরকে বাতিল করে না। বাংলাদেশের একজন নাগরিক একই সঙ্গে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ বা খ্রিষ্টান হতে পারেন বাঙালি বা অন্য জাতিসত্তার সদস্য হতে পারেন দক্ষিণ এশীয় ইতিহাসের উত্তরাধিকার বহন করতে পারেন আবার আধুনিক বিশ্বের নাগরিকও হতে পারেন।</blockquote><p>আরেকটি সুবিধাজনক প্রচার হলো রবীন্দ্রনাথ নাকি ব্রিটিশপন্থী অভিজাত বা ব্রিটিশদের কবি ছিলেন। তাঁর পরিবার ঔপনিবেশিক ব্যবস্থার সুবিধাভোগী ছিল—এ কথা অসত্য নয়। ১৯১৫ সালে ব্রিটিশ সরকার তাঁকে নাইট উপাধিও দিয়েছিল কিন্তু ১৯১৯ সালে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের পর রবীন্দ্রনাথ সেই সম্মানসূচক নাইটহুড উপাধি ত্যাগ করেন। মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে তাঁর জন্য নাইটহুড উপাধি ত্যাগ করা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের আনুগত্য ত্যাগ করার সমার্থকই ছিল। তিনি ঔপনিবেশিক শাসনের বিরোধী ছিলেন কিন্তু একই সঙ্গে বিশ্বাস করতেন—জাতীয়তাবাদ যদি মানুষকে অন্ধ সমষ্টিগত অহংকার, ঘৃণা ও সহিংসতার দিকে ঠেলে দেয়, তবে স্বাধীনতার আন্দোলনও মানবিকতা হারাতে পারে। তাঁর অবস্থানকে তাই সাম্রাজ্যবাদ ও উগ্র জাতীয়তাবাদ উভয়ের সমালোচনা হিসেবে দেখা উচিত হবে বলে আধুনিককালের বেশির ভাগ গবেষণাতেই বেরিয়ে এসেছে।</p><p>প্রকৃতপক্ষে, রবীন্দ্রনাথ তাঁর নিজ সময়ের সন্তান। তাঁর শ্রেণি ছিল, সামাজিক অবস্থান ছিল, সীমাবদ্ধতা ছিল। তাঁর নারীবিষয়ক দৃষ্টিভঙ্গি, গ্রামভাবনা, জাতীয়তাবাদ, জমিদারি, ধর্ম, রাজনৈতিক কর্মপন্থা—সবকিছু নিয়েই প্রশ্ন করা যায়। তাঁর কোনো সাহিত্যকর্মকে অতিমূল্যায়িত মনে হলে তা–ও অবলীলায় বলা যায় কিন্তু প্রশ্ন করা আর তাঁর সম্পর্কে অপপ্রচার করা এক নয়।</p><p>রবীন্দ্রনাথ কেন বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করেছিলেন? তা নিশ্চয় ইতিহাসের গবেষক খুঁজে বের করবেন। তাঁর জমিদারি ও পল্লি উন্নয়ন চিন্তার মধ্যে কি দ্বন্দ্ব ছিল? এটি সমাজতাত্ত্বিক গবেষণার প্রশ্ন। তাঁর সাহিত্যে মুসলমান সমাজ যথেষ্ট প্রতিনিধিত্ব পেয়েছে কি? সেটি সাহিত্যিক-সমাজতাত্ত্বিক বিষয়। তবে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন—এটি একটি মীমাংসিত তথ্য-যাচাইয়ের বিষয়। এ বিষয়ে বাসস গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে।</p><p>তবে রবীন্দ্রনাথের দেয়ালচিত্রে কালিমা লেপন কোনো বুদ্ধিবৃত্তিক সমালোচনা নয় এটি একটি কুৎসিত ঘরানার হীন রাজনৈতিক প্রচেষ্টা মাত্র।</p><p>৪.</p><p>এই লেখার শুরুতেই পাঠকের জন্য যে প্রশ্ন রেখেছিলাম, সেই প্রশ্ন সঠিক ছিল বলেই মনে হচ্ছে। বাংলাদেশে রবীন্দ্রনাথকে ঘিরে এই পুনরাবৃত্ত বিরোধের পেছনে সম্ভবত আরও গভীর একটি পরিচয়সংকট কাজ করছে। আমরা কি বাঙালি, নাকি মুসলমান? বাংলাদেশের নাগরিক হতে হলে কি শাশ্বত বাঙালি সংস্কৃতির উত্তরাধিকার পরিত্যাগ করতে হবে? এমন সামাজিক-সাংস্কৃতিক বিচার কি ন্যায়সংগত?</p><p>একজন মানুষের একাধিক পরিচয় পরস্পরকে বাতিল করে না। বাংলাদেশের একজন নাগরিক একই সঙ্গে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ বা খ্রিষ্টান হতে পারেন বাঙালি বা অন্য জাতিসত্তার সদস্য হতে পারেন দক্ষিণ এশীয় ইতিহাসের উত্তরাধিকার বহন করতে পারেন আবার আধুনিক বিশ্বের নাগরিকও হতে পারেন।</p><p>নাগরিকের জাতীয় পরিচয় শূন্য স্থানে বসানোর এমন কোনো একমাত্রিক বস্তু নয় যে সেখানে আর অন্য কোনো পরিচয় রাখার জায়গা হয় না। বাংলাদেশের নাগরিক একই সঙ্গে তার সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ইত্যাদি পরিচয় ধারণ করতে পারেন। রবীন্দ্রনাথের পাশাপাশি আলাওল, লালন, হাসন রাজা, নজরুল, শাহ আবদুল করিম, আবদুল হাকিম, বেগম রোকেয়া, মাইকেল মধুসূদন, জসীমউদ্দীন, জীবনানন্দ দাশ, সুফিয়া কামাল প্রমুখও আমাদের সাহিত্য-সংস্কৃতি জগতের পূর্বপুরুষ—তাঁদের কাউকেই অস্বীকার করার সুযোগ আমাদের নেই। আমরা অসংখ্য লোকজ, বৌদ্ধ, হিন্দু, মুসলিম, বৈষ্ণব, সুফি এবং আধুনিক পাশ্চাত্য চিন্তার উত্তরাধিকার। অসংখ্য সাংস্কৃতিক-সামাজিক স্রোতের মিলনমেলা আমাদের এই বাংলাদেশ।</p><p>রবীন্দ্রনাথকে বাদ দিয়ে তাই বাংলাদেশকে আরও বেশি ‘বাংলাদেশি’ করা যায় না। একইভাবে রবীন্দ্রনাথকে সামনে রেখে অন্য ধারার সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে ছোট করেও বাংলাদেশকে বোঝা যায় না। ইতিহাস বিয়োগের বা নতুন কিছু যোগের অঙ্ক নয়।</p><p>১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পাওয়া রবীন্দ্রনাথ প্রথম এশীয় নোবেল সাহিত্য বিজয়ী হিসেবে বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে স্থান করে নেন। নোবেল কমিটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, তাঁর কবিতার সংবেদনশীলতা ও নিজস্ব ইংরেজি রূপান্তরের মাধ্যমে তাঁর চিন্তা পাশ্চাত্য সাহিত্যের অংশ হয়ে ওঠার স্বীকৃতিতেই তাঁকে পুরস্কৃত করা হয়েছিল।</p><p>কিন্তু বাংলাদেশের কাছে তাঁর গুরুত্ব নোবেল পুরস্কারের চেয়েও অন্য উচ্চতায়। এই দেশের নদী, বর্ষা, ধানখেত, গ্রাম, পদ্মার চর, কৃষকের দারিদ্র্য ও মানুষের সম্পর্ক তাঁর সৃষ্টির মধ্য দিয়ে বিশ্বসাহিত্যে প্রবেশ করেছে। আর তাঁর লেখা একটি গান স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের অংশ হয়ে গেছে। তাই দেয়ালে আঁকা রবীন্দ্রনাথকে কালো কালি দিয়ে ঢেকে দেওয়া সম্ভব হলেও রবীন্দ্রনাথকে বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে মুছে দেওয়া সম্ভব নয়। আজ তাই কোনো ব্যক্তির পক্ষে বা বিপক্ষে দাঁড়ানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো, মুক্তবুদ্ধিচর্চার পক্ষে দাঁড়ানো।</p><p>যেখানে রবীন্দ্রনাথ ভুল করেছেন, সেখানে ইতিহাস তাঁকে প্রশ্ন করুক। যেখানে তাঁর শ্রেণিগত সীমাবদ্ধতা ছিল, গবেষণা তা দেখাক। বঙ্গভঙ্গের প্রশ্নে পূর্ববঙ্গের মুসলমানের ভিন্ন অভিজ্ঞতা সামনে আসুক। তাঁর জমিদারি নিয়ে বিতর্ক হোক। তাঁর সাহিত্য নতুন প্রজন্ম ভিন্ন চোখে পড়ুক। কেউ তাঁকে ভালোবাসুক, কেউ সমালোচনা করুক।</p><p>কিন্তু যে কথা তিনি বলেননি, সেটি তাঁর নামে চালানো যাবে না। যে সভায় তাঁর উপস্থিতির প্রমাণ নেই, সেখানে তাঁকে সভাপতি বানানো যাবে না। বর্তমান রাষ্ট্রসীমা অতীতে বসিয়ে তাঁকে ‘বিদেশি’ ঘোষণা করা যাবে না। আর রাজনৈতিক অপছন্দের কারণে কোনো সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের মুখে কালি মাখিয়ে ইতিহাস পুনর্লিখন করা যায় না।</p><p>একটি আত্মবিশ্বাসী জাতি তার ইতিহাসের বড় মানুষদের ভয় পায় না। তাঁদের দেবতা বানায় না, আবার প্রতিকৃতিও মুছে দেয় না। তাদের পড়ে তাদের প্রশ্ন করে তাদের ভুল শনাক্ত করে এবং তাদের অবদানকে ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়ার নৈতিক সাহস রাখে।</p><p>রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে বাংলাদেশের আজকের পরীক্ষাটি সম্ভবত এখানেই নিহিত। এটি শেষ পর্যন্ত একজন কবির মর্যাদা রক্ষার পরীক্ষা নয়। এটি আমাদের নিজেদের বুদ্ধিবৃত্তিক সততা, সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাস এবং ভিন্নমত সহ্য করার ক্ষমতার পরীক্ষা। দেয়ালের ছবিতে কালি লাগলে সেটি আবার আঁকা যায়। তবে একটি সমাজ যখন তথ্যের জায়গায় কল্পকাহিনি, সমালোচনার জায়গায় ঘৃণা এবং ইতিহাসের জায়গায় পরিচয়-রাজনীতিকে বসিয়ে দেয়, তখন যে কালিটা লাগে, সেটি দেয়ালে নয়&lt;bha&gt;;&lt;/bha&gt; লাগে সমাজের সম্মিলিত স্মৃতিতে, বোধে। সেই দাগ মুছতে অনেক বেশি সময় লাগে।</p>

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
মণ্ডপে মণ্ডপে উৎসবের আমেজ, আজ মহাষ্টমী
মণ্ডপে মণ্ডপে উৎসবের আমেজ, আজ মহাষ্টমী

আজ দুর্গাপূজার মহাষ্টমী। এদিন সকাল সাড়ে নয়টায় রামকৃষ্ণ মিশনে কুমারীপূজা অনুষ্ঠিত হবে।

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
মেসি না রোনালদো: বয়স ৩০ পেরোনোর পর কে বেশি ভালো
মেসি না রোনালদো: বয়স ৩০ পেরোনোর পর কে বেশি ভালো

<p>১২ অক্টোবর আল নাসরের ঘরের মাঠে গোল করলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগে উজবেক ক্লাব নেফতচি ফারগানার বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানের জয়। বয়স তখন ৪১ বছর ৮ মাস।</p><p>পাঁচ দিন পর ১৭ অক্টোবর আটলান্টা ইউনাইটেডের মাঠে ইন্টার মায়ামির ৩-১ জয়ে দুটি গোল করলেন লিওনেল মেসি। বয়স ৩৯ বছর ৩ মাস।</p><p>একই সপ্তাহ, একই কাজ, দুই মহাদেশ।</p><p>ফুটবলের পুরোনো ব্যাকরণে এই দৃশ্যটা ভুল। ডিয়েগো ম্যারাডোনা ৩০ ছুঁয়েছিলেন ১৯৯০ সালের অক্টোবরে। বিশ্বকাপ ফাইনালে কান্নাভেজা হারের তখন তিন মাসও হয়নি। তারপর নাপোলিতে কোকেনের পরীক্ষায় ধরা পড়ে ১৫ মাসের নিষেধাজ্ঞা। এরপর ১৯৯৪ বিশ্বকাপে ডোপ পরীক্ষায় ধরা পড়ে টুর্নামেন্ট থেকেই বিদায়। ৩০–এর পর প্রতিভার সূর্যাস্ত, এটাই ছিল ফুটবলের পাঠ্যবইয়ের নিয়ম।</p><p>মেসি-রোনালদো সেই পাঠ্যবই ছিঁড়ে ফেলেছেন। এবার দেখা যাক, ছেঁড়া পাতার ওপাশে তাঁরা কী লিখলেন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/football/hlyu3d4s29">মেসি–রোনালদো কি সত্যিই একই দলে খেলবেন</a></aside><h3>সংখ্যার প্রথম অধ্যায়</h3><p> ৩০–এর পর মেসি খেলেছেন ৪৮০ ম্যাচ; গোল ৩৭১, অ্যাসিস্ট ১৯৬ (অপ্টার হিসাবে)। রোনালদো খেলেছেন ৬২২ ম্যাচ; গোল ৫১৮, অ্যাসিস্ট ১০৬।</p><p>গোল আর অ্যাসিস্ট যোগ করলে রোনালদো এগিয়ে, ৬২৪ বনাম ৫৬৭। কিন্তু ওই ৬২৪ পেতে তাঁকে ১৪২ ম্যাচ বেশি খেলতে হয়েছে। ম্যাচপ্রতি হিসাবে ছবিটা উল্টে যায়। মেসির ১.১৮, রোনালদোর ১.০০। সময়ের হিসাবে মেসি প্রতি ৭২ মিনিটে একটি গোলে অবদান রাখেন। রোনালদো প্রতি ৮৫ মিনিটে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-18/ixa6lnl9/WhatsApp-Image-2026-10-18-at-18.57.07.jpeg"><figcaption>তথ্য সূত্র: অপ্টা ও ট্রান্সফারমার্কেট </figcaption></figure> <p>শুধু গোল ধরলে ফারাক সামান্য। ম্যাচপ্রতি রোনালদো ০.৮৩, মেসি ০.৭৭। তবে গোলের ভেতরের গল্পটা আলাদা। রোনালদোর ১১০টি গোল এসেছে পেনাল্টি থেকে, মেসির ৪১টি। অর্থাৎ, রোনালদোর ২১ শতাংশের বেশি গোলের জন্মই স্পট–কিকে, মেসির ১১ শতাংশ। পেনাল্টি বাদ দিলেও রোনালদো এগিয়ে, ৪০৮ বনাম ৩৩০। তবে একটা মজার তথ্য আছে। ফ্রি-কিক থেকে মেসির গোল ৪৩টি, রোনালদোর ২২টি। ফ্রি-কিকের ওস্তাদ হিসেবে খ্যাতি যাঁর বেশি, গোল তাঁর অর্ধেক।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/sports-interview/t7ipdkbpif">‘মেসি ঈশ্বরের আশীর্বাদ পাওয়া এক জাদুকর, আর রোনালদো...’</a></aside><h3>যিনি গোল করেন, আর যিনি গোল বানান</h3><p>অ্যাসিস্টের জায়গায় এসে দুজনের পথ আলাদা হয়ে যায়। অপ্টার হিসাবে ৩০ পেরোনোর পর মেসি সতীর্থদের দিয়ে গোল করিয়েছেন ১৯৬টি। একই সময়ে রোনালদোর অ্যাসিস্ট ১০৬টি। ট্রান্সফারমার্কটের হিসাবে ২২৬ বনাম ১২২। মেসি প্রতি ২০৭ মিনিটে একটি গোল করান। রোনালদো প্রতি ৫০০ মিনিটে।</p><p> ৩০–এর পর রোনালদো ক্রমে বক্সের ভেতরের শিকারি হয়ে উঠলেন। মেসি নামলেন মাঝমাঠে, বল নিয়ে ঘুরতে ঘুরতে অন্যের জন্য গোল বুনলেন। একজন বদলালেন জায়গা, আরেকজন বদলালেন কাজ।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2024-07/5367fac4-5c51-4326-9510-e2aaf2296555/1d768333-68e1-4d50-bf1d-aa7bfd3100b3.jpeg"><figcaption>লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো</figcaption></figure><h3>ক্লাব ধরে ধরে দেখলে</h3><p>ক্লাব ধরলে দুটো রেখা উল্টো দিকে চলে।</p><p>রোনালদোর ৩০-পরবর্তী সেরা সময়টা একেবারে ৩০–এর ঠিক পরই। রিয়াল মাদ্রিদে ১৬১ ম্যাচে ১৬২ গোল, ম্যাচপ্রতি অবদান ১.২৭। তারপর রেখা নামতে থাকে। জুভেন্টাসে ০.৯০, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ০.৫৯। আল নাসরে এসে আবার ১.০০।</p><p>মেসির রেখা উল্টো। বার্সেলোনায় ১৯৫ ম্যাচে ১৬৫ গোল ও ৭৪ অ্যাসিস্ট, ম্যাচপ্রতি ১.২৩। পিএসজিতে ৭৫ ম্যাচে ৩২ গোল ও ৩৪ অ্যাসিস্ট, ০.৮৮। এটাই তাঁর ৩০–এর পরের একমাত্র পড়তি অধ্যায়। কিন্তু ইন্টার মায়ামিতে ১২০ ম্যাচে ১০৬ গোল ও ৫৭ অ্যাসিস্ট, ম্যাচপ্রতি ১.৩৬। ৩০–এর পর তাঁর সর্বোচ্চ।</p><p>অবশ্য এমএলএস আর লা লিগা এক নয়। সৌদি প্রো লিগ আর প্রিমিয়ার লিগও নয়। তাই এই সংখ্যাগুলো পড়তে হবে একটু সাবধানে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/football/is4nkj4vcz">মেসি-রোনালদো: গোল, অ্যাসিস্ট, হ্যাটট্রিকে কে কোথায় এগিয়ে</a></aside><h3>ফাইনালের আলো</h3><p>শিরোপার হিসাবে রোনালদো সামান্য এগিয়ে, ১৯ বনাম ১৭। ৩০–এর পর তাঁর ঝুলিতে বড় শিরোপা রিয়ালের তিনটি চ্যাম্পিয়নস লিগ, ২০১৬ সালের ইউরো। সেই ইউরো ফাইনালের ছবিটা ভোলার নয়। প্যারিসে হাঁটু চেপে কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছাড়ছেন রোনালদো। কিছুক্ষণ পর টাচলাইনে দাঁড়িয়ে তিনিই কোচের মতো চিৎকার করছেন। মেসির ঝুলিতে ২০২১ ও ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকা, আর ২০২২ সালে লুসাইলের সেই অবিশ্বাস্য বিশ্বকাপ।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-06/w2redrc2/%E0%A7%A8%E0%A7%A6%E0%A7%A8%E0%A7%A8-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%AA-%E0%A6%9C%E0%A7%9F%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A6%B0-%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B8%E0%A6%BF"><figcaption>২০২২ কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর মেসি</figcaption></figure> <p>ফাইনালের পরিসংখ্যানে আছে চমক। রোনালদো ২০ ফাইনালে জিতেছেন ১৪টি, মেসি ১৭ ফাইনালে ১২টি। জয়ের হার প্রায় সমান, ৭০ আর ৭১ শতাংশ। ফাইনালে গোল রোনালদোর বেশি, ১৪টি; মেসির ১০টি। কিন্তু অ্যাসিস্টে মেসির ৯টির বিপরীতে রোনালদো শূন্য। মেসি ফাইনালে প্রতি ৮৯ মিনিটে একটি গোলে অবদান রাখেন। রোনালদো ১২১ মিনিটে।</p><p>ব্যালন ডি’অরেও এই দুই ধারা। ৩০–এর পর রোনালদো দুটি জিতেছেন, ২০১৬ ও ২০১৭। মেসি জিতেছেন তিনটি, ২০১৯, ২০২১ ও ২০২৩।</p> <h3>একই প্রতিপক্ষ, দুই বিদায়</h3><p>এই গ্রীষ্মের বিশ্বকাপই সম্ভবত দুজনের ৩০-পরবর্তী অধ্যায়ের শেষ বড় মঞ্চ ছিল।</p><p> ৬ জুলাই আরলিংটনে পর্তুগাল স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে রাউন্ড অব সিক্সটিনেই বিদায় নিল। ছয় বিশ্বকাপে গোল করা একমাত্র খেলোয়াড় রোনালদো মাঠ ছাড়লেন নির্বিকারভাবে। এই আসরে তাঁর গোল তিনটি। বিশ্বকাপে তাঁর সর্বোচ্চ সাফল্য ২০০৬ সালের সেমিফাইনাল।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2021-06/70708b75-76c5-4762-a782-017db0f8c68c/cristiano_ronaldo_portugal_euro_2016_trophy.jpg"><figcaption>২০১৬ ইউরো ফাইনাল জয়ের পর রোনালদো।</figcaption></figure> <p> আর মেসি? আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক দিয়ে শুরু করেছিলেন ৩৮ বছর বয়সে। সেই হ্যাটট্রিকে ছুঁয়েছিলেন মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড। বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার রেকর্ডটি অবশ্য পরে ভেঙে দিয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এরপর ১৯ জুলাইয়ের ফাইনালে সেই স্পেনই ফেরান তোরেসের অতিরিক্ত সময়ের গোলে থামিয়ে দিল তাঁকে। মেসির একটি শট ফিরে এল মিকেল মেরিনোর মুখে লেগে।</p><p> একই স্পেন, একই গ্রীষ্ম, বিশ্বকাপ থেকে দুই কিংবদন্তির দুই বিদায়।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/football/xukag7v6sn">রোনালদো–মেসি: বাইসাইকেল কিকে গোল করায় কে এগিয়ে</a></aside><h3>তাহলে রায়?</h3><p>কার্যকারিতায় মেসি এগিয়ে। ম্যাচপ্রতি অবদান, অ্যাসিস্ট, পেনাল্টি বাদ দিলে গোলে অংশগ্রহণ, ফাইনালে প্রভাব—সবখানেই। স্থায়িত্ব আর সংখ্যায় এগিয়ে রোনালদো। বেশি ম্যাচ, বেশি গোল, মোট অবদান, ফাইনালে বেশি গোল, শিরোপাও দুটি বেশি। আর ৩০ পেরোনোর পর ৬২২ ম্যাচ খেলে ফেলা নিজেই এক অবিশ্বাস্য কীর্তি।</p><p>রোনালদো জানতেন, গোল কীভাবে নিজের নামের পাশে লিখতে হয়। মেসি শিখে নিলেন, গোল কীভাবে অন্যের নামের পাশে লিখে দিতে হয়। ৩০–এর পর দুজনের তফাত বোধ হয় এটুকুই।</p><p>ফুটবলের পুরোনো পাঠ্যবইয়ের শেষ পাতায় লেখা ছিল—৩০–এর পর আর কিছু নেই।</p><p>এই দুজন পাতাটা উল্টে দিলেন। দেখা গেল, ওপাশেও নতুন এক মহাকাব্য! </p>

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
মেট্রোস্টেশনেই টেনিস-জিম, যাতায়াতের পথেই শরীরচর্চা
মেট্রোস্টেশনেই টেনিস-জিম, যাতায়াতের পথেই শরীরচর্চা

<p>চীনের গুয়াংজু শহরে মেট্রোস্টেশনেই এখন সেরে নেওয়া যাচ্ছে শরীরচর্চা। যাতায়াতের পথেই রয়েছে টেনিস ও পিকলবল খেলার কোর্ট। এমনকি ব্যায়াম করার জন্য আধুনিক জিমের ব্যবস্থাও আছে। বিস্তারিত ভিডিওতে…</p><figure></figure>

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের ঘটনায় সৌদি রাষ্ট্রদূতকে ডেকে তথ্য চেয়েছে ঢাকা
দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের ঘটনায় সৌদি রাষ্ট্রদূতকে ডেকে তথ্য চেয়েছে ঢাকা

সৌদি আরবের মক্কায় সম্প্রতি দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূতকে ডেকে এনে বৈঠক করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ফেব্রুয়ারির বদলে আগামী বছর একুশে বইমেলা শুরু হবে জানুয়ারি মাসে। সাতই জানুয়ারি শুরু হয়ে মেলা চলবে ছয়ই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
প্যাশন ফ্রুট বা আনারকলি ফল নিয়ে বাংলাদেশে কেন আগ্রহ বাড়ছে
প্যাশন ফ্রুট বা আনারকলি ফল নিয়ে বাংলাদেশে কেন আগ্রহ বাড়ছে

বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় চাষ হচ্ছে প্যাশন ফল নামের একটি ফল, যার প্রতি কৃষকদের আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে বলে জানা যাচ্ছে। কোনো কোনো জায়গায় এটি আনারকলি, ট্যাং ফল বা শরবতি ফল হিসেবেও পরিচিত। সরকারের কৃষি তথ্য সার্ভিস বলছে, "এটি বাংলাদেশের কৃষিতে এক নতুন সংযোজন"।

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
সৌদি আরবে বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড বিষয়ে জানিনা বলে দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ কতটা
সৌদি আরবে বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড বিষয়ে জানিনা বলে দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ কতটা

দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের খবরের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে সৌদি সরকারের কাছে যে কূটনৈতিক পত্র পাঠিয়েছিল ঢাক তার একটি অনুলিপি রোববারের বৈঠকে সৌদি রাষ্ট্রদূতের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলেও জানা যাচ্ছে। কর্মকর্তারা অবশ্য জানিয়েছেন, আবদুল্লাহ বিন জাফর এইচ বিন আবিয়াকে ডেকে পাঠানোর এই ঘটনাটি ঠিক 'তলব' নয়, বরং 'তথ্য জানতে বৈঠক'।

অক্টোবর ১৮, ২০২৬
ইশরাক হোসেনের প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন নিয়ে নানা প্রশ্ন
ইশরাক হোসেনের প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন নিয়ে নানা প্রশ্ন

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপির সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনের অস্ত্র হাতে অবৈধ মাদক ব্যবসায়ীদের ধাওয়া করার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

অক্টোবর ১৮, ২০২৬
কলকাতায় পদপিষ্টের ঘটনায় কেন অভিযোগ পুলিশ ও উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে?
কলকাতায় পদপিষ্টের ঘটনায় কেন অভিযোগ পুলিশ ও উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে?

দুর্গাপুজোর সময় কলকাতায় ব্যাপক জনসমাগম নতুন নয়। কিন্তু ১৭ই অক্টোবর শনিবার সন্ধ্যায় চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটির প্যান্ডেলে পদপিষ্টের ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে পুলিশ প্রশাসন ও উদ্যোক্তাদের ব্যবস্থাপনা নিয়ে।

অক্টোবর ১৮, ২০২৬
ফ্রান্সজুড়ে সহিংস সংঘর্ষ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ চলছে, গ্রেপ্তার ১ হাজারের বেশি
ফ্রান্সজুড়ে সহিংস সংঘর্ষ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ চলছে, গ্রেপ্তার ১ হাজারের বেশি

ফ্রান্সের সরকার বিক্ষোভকারীদের দাবির প্রতি অনেকটাই নমনীয় বলে মনে হচ্ছে। আটই অক্টোবর এক সাক্ষাৎকারে শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার গেফ্রে অতিরিক্ত তিন হাজার অস্থায়ী শিক্ষক নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেন। তবে এরপরও বিক্ষোভ থামেনি, বরং আরও তীব্র হয়েছে।

অক্টোবর ১৮, ২০২৬
কানাডার উদ্ধার করা ৩০টি বেলুগা তিমির অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ
কানাডার উদ্ধার করা ৩০টি বেলুগা তিমির অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

মেরিনল্যান্ডকে তার বন্দি তিমিগুলোর জন্য একটি নতুন আবাস খুঁজে বের করতে হয়েছিল। কিন্তু প্রাণী কল্যাণের বিষয়ে উদ্বেগের কারণে কানাডীয় সরকার যখন চীনে তিমিগুলো বিক্রি করার পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করে, তখন পার্ক কর্তৃপক্ষ জানায় যে সেগুলোকে হয়তো তাদের কষ্ট না দিয়ে মেরে ফেলতে হবে। এই ঘোষণার পর বেশ কয়েকটি অ্যাকোয়ারিয়াম একটি আন্তর্জাতিক উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

অক্টোবর ১৮, ২০২৬
কলকাতায় দুর্গাপুজোর মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু
কলকাতায় দুর্গাপুজোর মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু

কলকাতায় একটি খ্যাতনাম দুর্গাপুজো মন্ডপে পদপিষ্ট হয়ে অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন। তিনি জানান, আরও ২৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।

অক্টোবর ১৮, ২০২৬
টঙ্গীতে ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালে আগুনের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটি
টঙ্গীতে ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালে আগুনের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটি

গাজীপুরের টঙ্গীতে ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ইউনিট-২-এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স।

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
ঝড় তোলা ‘জেলার টু’ সিনেমার জন্য কে কত টাকা পারিশ্রমিক নিলেন?
ঝড় তোলা ‘জেলার টু’ সিনেমার জন্য কে কত টাকা পারিশ্রমিক নিলেন?

নেলসন দিলীপ কুমার নির্মিত আলোচিত সিনেমা ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘জেলার টু’। সিনেমাটির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন তামিল সিনেমার সুপারস্টার রজনীকান্ত।

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
সরকারের সচিব পদে রদবদল, বাণিজ্যে শরফ উদ্দিন
সরকারের সচিব পদে রদবদল, বাণিজ্যে শরফ উদ্দিন

সরকার বাণিজ্য ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে রদবদল করেছে।

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
কোনাবাড়ীতে ঝুটের গোডাউনে অগ্নিকাণ্ড
কোনাবাড়ীতে ঝুটের গোডাউনে অগ্নিকাণ্ড

গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী এলাকায় একটি ঝুটের গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
সালমান আগার সেঞ্চুরিতে শ্রীলঙ্কাকে হারাল পাকিস্তান, ১৬ হাজারি ক্লাবে বাবর
সালমান আগার সেঞ্চুরিতে শ্রীলঙ্কাকে হারাল পাকিস্তান, ১৬ হাজারি ক্লাবে বাবর

সালমান আলি আগার দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে শ্রীলঙ্কাকে ৩৭ রানে হারিয়ে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে শুভসূচনা করেছে পাকিস্তান।

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর, প্রতিমন্ত্রীর দাবি ‘গুজব’
মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর, প্রতিমন্ত্রীর দাবি ‘গুজব’

মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র প্রদর্শন করে বিতর্কের জন্ম দেওয়া মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে গুঞ্জন উঠেছে। 

অক্টোবর ১৮, ২০২৬
হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সৌদির পাশে থাকার ঘোষণা মিশরের
হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সৌদির পাশে থাকার ঘোষণা মিশরের

সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে মিশর প্রস্তুত রয়েছে। রবিবার মিশরের প্রেসিডেন্টের দপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে।

অক্টোবর ১৮, ২০২৬
মসলিনের প্রযুক্তি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের কাছে হস্তান্তর করতে চায় সরকার
মসলিনের প্রযুক্তি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের কাছে হস্তান্তর করতে চায় সরকার

ঢাকাই মসলিনের বাণিজ্যিক উৎপাদন বাড়াতে পুনরুদ্ধার করা মসলিন তৈরির প্রযুক্তি দ্রুত বেসরকারি উদ্যোক্তাদের কাছে হস্তান্তরের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম। একইসঙ্গে মসলিন তৈরির কাঁচামাল ফুটি কার্পাস তুলার জাত উন্নয়নে গবেষণার জন্য সর্বোচ্চ আর্থিক ও আনুষঙ্গিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

অক্টোবর ১৮, ২০২৬