<p>রিয়াল মাদ্রিদ জিতেছে ৪-১ গোলে। কিলিয়ান এমবাপ্পে করেছেন জোড়া গোল। লা লিগার শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সঙ্গে পয়েন্টের ব্যবধানও কমিয়ে এনেছে তারা। অথচ ম্যাচ শেষে আলোচনায় রিয়ালের দাপুটে জয় কিংবা এমবাপ্পের গোল নয়। সব ছাপিয়ে আলোচনায় আর্দা গুলেরের একটি ‘কনুইয়ের আঘাত’, যা আদৌ ঘটেছে কি না, সেটিই মানতে নারাজ রিয়াল কোচ জোসে মরিনিও!</p><p><br>রোববার সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে সেভিয়াকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। আন্তর্জাতিক বিরতির পর সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা তিন ম্যাচ জিতল মরিনিওর দল। ২১ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগার তালিকায় তিনে উঠেছে রিয়াল। দ্বিতীয় স্থানে থাকা আতলেতিকো মাদ্রিদের চেয়ে ১ পয়েন্ট এবং শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার চেয়ে ৬ পয়েন্ট পিছিয়ে তারা। ১৪ পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে সেভিয়া।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/3p1hm1bl/692978-01-02.jpg"><figcaption>গুলের ও এমবাপ্পের গোল উদযাপন।</figcaption></figure><p><br>আগামী সপ্তাহেই বার্সেলোনার বিপক্ষে এল ক্লাসিকো। তার আগে এমন জয় রিয়ালের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর কথা। কিন্তু সেভিয়া কোচ লুইস গার্সিয়া প্লাসার দাবি, ম্যাচের ২৫ মিনিটেই একজন খেলোয়াড় কমে যাওয়ার কথা ছিল রিয়ালের। সেটি হলে ম্যাচের গল্পটাও অন্য রকম হতে পারত।</p><p><br>ঘটনাটি প্রথমার্ধের। তখনো ম্যাচে গোল হয়নি। সেভিয়ার জেরার্দ ‘পিকে’ ফার্নান্দেজের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান রিয়ালের তুর্কি মিডফিল্ডার আর্দা গুলের। অভিযোগ, প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে কনুই দিয়ে আঘাত করেছেন গুলের। কিন্তু রেফারি কোনো ব্যবস্থা নেননি। গুলেরকে লাল কার্ডও দেখানো হয়নি।</p><p>এতেই ক্ষুব্ধ সেভিয়া কোচ লুইস গার্সিয়া প্লাসা। ম্যাচ শেষে তাঁর অভিযোগ, রেফারির ভুল সিদ্ধান্তের কারণে ৬৫ মিনিট একজন বেশি নিয়ে খেলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে তাঁর দল।</p><p>গার্সিয়া প্লাসা বলেছেন, ‘আজ ২৫ মিনিট থেকেই আমাদের একজন বেশি নিয়ে খেলার কথা ছিল। ১১ জনের বিপক্ষে ১০ জন। এরপর ম্যাচে কী হয়েছে, তা নিয়ে আমি কথা বলতে চাই না। এটা অবিশ্বাস্য। আমি নিজে ঘটনাটা দেখেছি। বিরতিতে পিকে আমাকে বলছিল, ও (গুলের) আমাকে মেরেছে। এটা পরিষ্কার লাল কার্ড।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/ta7y4nvb/gulfnews2026-10-18raq5q9loHU8BLUDW0AAAVGZ.avif"><figcaption>গুলেরের যে কনুই মারার ঘটনা নিয়ে সেভিয়ার অভিযোগ।</figcaption></figure><p>সেভিয়া কোচ এখানেই থামেননি, ‘হয়তো আমরা তারপরও জিততে পারতাম না। কিন্তু ৬৫ মিনিট আমাদের ১১ জনের বিপক্ষে ১০ জন নিয়ে খেলার কথা ছিল। আমার কাছে এটাই ম্যাচের সারসংক্ষেপ।’</p><p>তবে মরিনিওর চোখে ঘটনাটিই নাকি পড়েনি! শুধু তা-ই নয়, টেলিভিশনের ফুটেজ থেকে শুরু করে নিজের কোচিং স্টাফের ধারণ করা ভিডিওতেও অভিযুক্ত আঘাতের কোনো প্রমাণ খুঁজে পাননি বলে দাবি রিয়াল কোচের।</p><p>সংবাদ সম্মেলনে মরিনিও বলেছেন, ‘যে ঘটনাটি ঘটেছে বলে দাবি করা হচ্ছে, সেটির কোনো ছবি আমাকে কেউ দেখাতে পারেনি। কোনো ফুটেজ নেই। আমি টেলিভিশনের ফুটেজ চেয়েছি। আমাদের কোচিং স্টাফের ট্যাকটিক্যাল ক্যামেরায় ধারণ করা ফুটেজও দেখতে চেয়েছি। কিন্তু লুইসকে (গার্সিয়া প্লাসা) যে ঘটনাটি এত ক্ষুব্ধ করেছে, তার কোনো ছবিই দেখতে পাইনি।’</p> <figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/4ppp9cbm/692738-01-02.jpg"><figcaption>সেভিয়া কোচ লুইস গার্সিয়া প্লাসা</figcaption></figure><p><br>মরিনিও অবশ্য দাবি করেছেন, রেফারির কোনো সিদ্ধান্তে রিয়াল অন্যায় সুবিধা পেলে সেটি স্বীকার করতে তাঁর আপত্তি নেই। তবে তাঁর ধারণা, উল্টো ঘটনাই বেশি ঘটবে।</p><p>পর্তুগিজ কোচের কথায়, ‘সত্যি বলতে, কোনো দিন যদি এমন কিছু ঘটে, যাতে আমরা সুবিধা পাই, সেটি স্বীকার করতে আমার কোনো সমস্যা নেই। তবে আমার মনে হয়, উল্টো ঘটনাই অনেক বেশি ঘটবে। প্রবণতাটা সে রকমই। আমি কিছুই দেখিনি। শনিবারের মধ্যে কেউ যদি আমাকে এমন কোনো পরিষ্কার ও নিরপেক্ষ ছবি দেখাতে পারে, যা আমি এখনো দেখিনি এবং যে ঘটনা ঘটেনি বলে আমার খেলোয়াড় দাবি করছে, তাহলে আমি সেটি নিয়ে কথা বলব। তার আগে নয়।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/44aigz7y/665345-01-02.jpg"><figcaption>রিয়াল কোচ জোসে মরিনিও</figcaption></figure><p>গুলেরের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে এত প্রশ্নে কিছুটা বিরক্তিও প্রকাশ করেছেন মরিনিও। তাঁর মতে, ৪-১ গোলে হারের পর বিতর্কিত একটি ঘটনা নিয়ে আলোচনা সেভিয়া কোচের জন্য বরং সুবিধাজনক।</p><p>মরিনিও বলেছেন, ‘আমি লুইসকে বুঝতে পারছি। তাঁর দল ৪-১ গোলে হেরেছে। এমন অবস্থায় কোচকে যদি এমন একটি ঘটনা নিয়ে চার-পাঁচটি প্রশ্ন করা হয়, যেটি ঘটেইনি, তাহলে তো তাঁর জন্য দারুণ ব্যাপার!’</p><p>ঘটনার সময়ই সহকারী কোচ পেদ্রো মাচাদোকে ফুটেজ দেখানোর কথা বলেছিলেন মরিনিও। কিন্তু কিছুই দেখতে পাননি বলে জানিয়েছেন তিনি, ‘হয়তো অন্য কোনো ক্যামেরায় কিছু আছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কিছুই দেখিনি।’<br>এরপর সাংবাদিকদের পাল্টা প্রশ্ন করেন রিয়াল কোচ, ‘আপনাদের কেউ কি ঘটনাটি পরিষ্কারভাবে দেখেছেন? তাহলে বুঝতে পারছেন, এ নিয়ে এত প্রশ্ন করার এই আবেশটা আমার কাছে কেন অদ্ভুত লাগছে।’</p>
অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রামের (ওকাপ) গবেষণায় দেখা গেছে, বাধ্য হয়ে ফিরে আসা নারী কর্মীর ৯৪ শতাংশই প্রবাসে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ৪৭ শতাংশ নারী যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন।
মৃত্যুর এই মিছিলের সমান্তরালে নীরবে ডালপালা মেলেছে বর্জ্য পরিবহনের জ্বালানি চুরির এক সুসংগঠিত সিন্ডিকেট।
<p>শামীমা আক্তারের বিদেশে পড়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে গেছে বাল্যবিবাহ হওয়ার কারণে। অন্যদিকে মুক্তার হোসেন চেয়েছিলেন বড় হয়ে পুলিশ অফিসার হতে। কিন্তু দারিদ্র্যের কাছে হার মেনে তাঁদের জীবন অন্য পথে চলে গেছে। বিস্তারিত ভিডিওতে…</p><figure></figure>
<p>বাংলাদেশ সচিবালয় বর্তমান জায়গা থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে। সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমানে আবদুল গনি রোডে অবস্থিত সচিবালয় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে (পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠ) নেওয়া হবে।</p><p>২০২৯ সালে নতুন জায়গায় অফিস শুরুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর যখন সচিবালয় সরিয়ে নেওয়া হবে তখন পুরোনো ঢাকায় অবস্থিত জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং অধস্তন আদালত সচিবালয়ের বর্তমান জায়গায় স্থানান্তর করা হতে পরে। যদিও বিষয়টি এখনো ঠিক হয়নি।</p><p>গতকাল রোববার বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। এর আগে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় সচিবালয় স্থানান্তরের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।</p><p>প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই সভায় গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, গণপূর্ত অধিদপ্তর ও স্থাপত্য অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরদিনই সচিবালয় স্থানান্তরের একটি প্রকল্প বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) অন্তর্ভুক্ত করতে পরিকল্পনা কমিশনকে চিঠি দেয় গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এখন মন্ত্রিসভায় এই প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়ার মাধ্যমে কাজটি আরেক ধাপ এগিয়ে গেল।</p><p>মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেছেন, মূল বিষয়টি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং বলা হয়েছে আরও কিছু পরীক্ষা–নিরীক্ষার কাজ এগিয়ে নিতে। ২০২৯ সালের মধ্যে এটি করার প্রচেষ্টা রয়েছে। এখন ব্যয়ের প্রাক্কলন চলছে।</p><h3>৩১ দশমিক ৫৮ একর জায়গায় হবে নতুন সচিবালয়</h3><p>মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, বর্তমানে আবদুল গনি রোডে বাংলাদেশ সচিবালয়ে ১৭ দশমিক ৫৭ একর জায়গায় ১৩টি ভবন আছে। এর মধ্যে আটটি ভবন স্বাধীনতার আগে নির্মাণ করা হয়েছে। সচিবালয়ের পুরোনো ১, ২, ৩ ও ৮ নম্বর ভবন ১৯৩৭ থেকে ১৯৩৯ সালে, ৫ নম্বর ভবনটি ১৯৪৭ সালে নির্মিত। এগুলো ভূমিকম্প সহনীয় হিসেবে নির্মিত হয়নি। ঢাকা শহর ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় এসব স্থাপনা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় বা বিভাগের কার্যক্রম পরিচালনা করা ঝুঁকিপূর্ণ। এ ছাড়া ভবনগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।</p><p>মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বলেছে, ভবনগুলোতে পর্যাপ্তসংখ্যক ওয়াশ-ব্লক নেই। ধারণক্ষমতার বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী ব্যবহার করায় স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। বিদ্যমান বাংলাদেশ সচিবালয়ে মোট অফিসের জায়গা প্রায় ১৮ দশমিক ৭৬ লাখ বর্গফুট। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত অফিস জায়গার চাহিদা এবং সচিবালয় চত্বরের বাইরে অবস্থিত বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা বিভাগের স্থান সংকুলানের জন্য আরও প্রায় ১০ লাখ বর্গফুটের বেশি অফিস জায়গা প্রয়োজন।</p><p>মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বলছে, এ বিষয়ে একনেক সভার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে লুই আই কানের মহাপরিকল্পনা (মাস্টার প্ল্যান) অনুযায়ী ঢাকার শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠ প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থাপনের লক্ষ্যে স্থাপত্য অধিদপ্তর ধারণাগত স্থাপত্য নকশা প্রণয়ন করে। এ নকশা অনুযায়ী শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠের প্রায় ৩১ দশমিক ৫৮ একর জায়গায় মোট প্রায় ৩৩ দশমিক ১৬ লাখ বর্গফুট জায়গা–সংবলিত তিনটি বেজমেন্টসহ (২০০টি ভূ-উপরিস্থ পার্কিংসহ ৩,৮০০টি গাড়ি পার্কিং) ১৪টি ১২ তলা ভবন (মসজিদ, ৩৫০ জন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন দুটি মাল্টিপারপাস হল, একটি ক্যাফেটেরিয়া, একটি ডাকঘর ইত্যাদি) নির্মাণ করা হবে। প্রকল্প এলাকায় প্রায় ৩০ শতাংশ জায়গায় সবুজায়ন ও জলাধারের সংস্থান রাখা হয়েছে।</p><h3>বর্তমান জায়গায় আসতে পারে ডিসি অফিস ও অধস্তন আদালত</h3><p>সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল সচিবালয় সরানো হলে বর্তমান জায়গায় কী হবে। জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, ভবিষ্যতে ভালো কিছু হতে পারে। পুরোনো ঢাকায় প্রশাসনিক ও বিচার (জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও অধস্তন আদালত) কাজ হয়। সেগুলো আসতে পারে বা অন্যান্য আরও কিছু অফিস এখানে আসতে পারে। তবে ঠিক কী হবে, তা এখনই বলতে পারছেন না।</p>
<p>পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার সীমান্তঘেঁষা মহানন্দা নদী। নদীটি ভারতের পাহাড় থেকে নুড়িপাথর আর সিলিকা বালু বয়ে নিয়ে আসে বাংলাদেশের অংশে। এই নুড়িপাথর আর বালু তুলে জীবিকা নির্বাহ করেন হাজারো স্থানীয় মানুষ। প্রতিদিন ভোর থেকে চলে এই কর্মযজ্ঞ। হেমন্তের এই দিনে সেখান থেকে মাথা তুললে চোখে ধরা দেয় হিমালয়ের কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বতের চূড়া।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-18/ogv5gsks/1.-PanchagarhTetuliaborder-Mahananda-Riverlivelihood19102026.jpeg"><figcaption>পানির ওপর পাথর রাখতে প্রয়োজন হয় বিশেষ ধরনের এই টিউব</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-18/aavlhku9/2.-PanchagarhTetuliaborder-Mahananda-Riverlivelihood19102026.jpeg"><figcaption>নদীতে নামার আগে ঠিকঠাক করা হচ্ছে টিউব। দূরে দেখা যাচ্ছে হিমালয়ের কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বতের চূড়া।</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-18/10mhitsk/3.-PanchagarhTetuliaborder-Mahananda-Riverlivelihood19102026.jpeg"><figcaption>লম্বা বাঁশের মাথায় কোদাল বা কোদাল–জাতীয় বস্তু লাগিয়ে পানির ভেতর থেকে টেনে আনা হয় পাথর। কোথাও কোথাও একে ঝাঁকি কোদালও বলে</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-18/me33cc4i/4.-PanchagarhTetuliaborder-Mahananda-Riverlivelihood19102026.jpeg"><figcaption>নদীর মাঝখানে এখন হাঁটুপানি। সেখানে পাথর তুলছেন একদল শ্রমিক।</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-18/6w3ngy79/5.-PanchagarhTetuliaborder-Mahananda-Riverlivelihood19102026.jpeg"><figcaption>নদীপাড়ে স্তূপ করে রাখা হচ্ছে সিলিকা বালু।</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-18/iyehmelv/6.-PanchagarhTetuliaborder-Mahananda-Riverlivelihood19102026.jpeg"><figcaption>টিউবে ভাসিয়ে কূলে আনা হচ্ছে নুড়িপাথর।</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-18/xjuscv17/7.-PanchagarhTetuliaborder-Mahananda-Riverlivelihood19102026.jpeg"><figcaption>চালুনিতে ছেঁকে আলাদা করে রাখা হচ্ছে পাথর।</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-18/l7gdqk9q/8.-PanchagarhTetuliaborder-Mahananda-Riverlivelihood19102026.jpeg"><figcaption>নদীপাড়ে নুড়িপাথরের স্তূপ।</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-18/avob4az5/9.-PanchagarhTetuliaborder-Mahananda-Riverlivelihood19102026.jpeg"><figcaption>ট্রাকে তোলা হচ্ছে সিলিকা বালু।</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-18/x5h1o0qa/10.-PanchagarhTetuliaborder-Mahananda-Riverlivelihood19102026.jpeg"><figcaption>দিনভর চলে এমন কর্মযজ্ঞ। এই পেশার সঙ্গে যুক্ত একটি বড় জনগোষ্ঠী</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-18/vycacoxa/11.-PanchagarhTetuliaborder-Mahananda-Riverlivelihood19102026.jpeg"><figcaption>পরবর্তী দিনের জন্য ঠিকঠাক করে রাখা হচ্ছে টিউব</figcaption></figure>
তবু কিবোর্ডের আড়ালে জমে থাকা এই না-বলা হরফগুলো, একদিন হয়তো ভেঙে ফেলবে তোমার সব অলিখিত অনুশাসন। যন্ত্রবৎ পায়ের তলায় ফেটে চৌচির হবে এই পিচঢালা খাঁচা, শৃঙ্খল ছিঁড়ে রক্তে ভেসে উঠবে আমার বেঁচে থাকার নাম। একদিন হয়তো সব ব্যাকস্পেস মুছে যাবে, থেমে যাবে এই বাধ্য চরণের হাঁটা; সেদিন কি তুমি পাবে তোমার কাঙ্ক্ষিত জয়, নাকি শূন্যতায় ঢাকা পড়বে এই মিথ্যে নিয়ন্ত্রণ?
<p>এক বালতি কালি হাতে নিয়ে বের হয়েছি। উদ্দেশ্য মহৎ—সমাজের অন্যায়-অনিয়মের মুখে একটু কালি লেপন করবো। কিন্তু কাকে দিয়ে শুরু করব? দুর্নীতিবাজকে ধরতে গেলে সে আরেকজনের নাম বলে, আরেকজনকে ধরতে গেলে সে বলে, ‘আগে ওর মুখে কালি দিন!’ দেখতে দেখতে বালতির কালি শুকিয়ে এল। সমাজের কার–কার মুখে কালি লেপন করলে দেশ উপকৃত হতো তা ভেবেছেন মাহমুদুল হাসান এবং এঁকেছেন সৌখিন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-17/8izjwn7e/Untitled-1-05.jpg"></figure><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/xmopsikmhc">ঘর ভাঙার পর</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/z87t7zqecu">স্মার্টফোনের অবসর চেয়ে আবেদন</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/bwluvlmmu8">বিবাহিত পুরুষ চেনার সহজ উপায়</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/mrplq2ed70">ইলিশ আছে, ইলিশ হ্যাজ!</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/kdnfiunl2l">চাঁদাবাজের বর্ণ পরিচয়</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/uw52c84wv8">সবজান্তা সমীপেষু</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/1b2pl7u0b9">ভদ্র ছেলেরা কখনো হাফপ্যান্ট পরে বাইরে যায়?</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/89xajbzhk6">সেকালের বিজ্ঞাপন একালে</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/2bbl7jm57n">ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে ফুলহাতা শার্ট পরা ছাড়া আর কী কী করা যেতে পারে?</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/ild7ymelwa">তেলসংকটে মহাসমাধান</a></aside>
ব্যভিচারের অনেক পথের শুরু একটি দৃষ্টি থেকে। তাই ইসলাম অপরাধের শেষ পর্যায়ে গিয়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি; শুরুতেই দৃষ্টিকে সংযত করার নির্দেশ দিয়েছে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন