নির্বিচার হত্যা মানেই ইসরায়েলের জয় নয়
জনপ্রিয় অভিনেতা হলেও নানা পাটেকর সামরিক বাহিনীর কেউ ছিলেন না। তাহলে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কীভাবে যোগ দিলেন?
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
একুশে বিজনেস || বিপ্লব কুমার রায়-সিইও, টিভিএস অটো বাংলাদেশ লিমিটেড।
হিন্দু ধর্মের মেলার আয়োজনকে কেন্দ্র করে শাহী মসজিদের একটি অংশ সরিয়ে সড়ক প্রশস্ত করার কাজ শুরু হয়, আর তা নিয়েই বিরোধের সূত্রপাত। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, মেলার সময় বাড়তি যানবাহনের চাপ ও ভক্তদের যাতায়াত সহজ করার জন্য ওই সড়ক প্রশস্ত করা জরুরি।
সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট প্যাকেটজাতে সংশোধন বিধি জারি করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন নির্দেশ নাঅনুযায়ী, কোনো প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান আমিষজাত না নিরামিষজাত, তা প্যাকেটের গায়ে নির্দিষ্ট চিহ্নের মাধ্যমে জানাতে হবে।
কক্সবাজারে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক (টমটম) চলন্ত অবস্থায় চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে সীমা আক্তার নামে এক নারী পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলামকে তার এলাকার ‘বড় ভাই’ পরিচয় দিয়ে এএসআই ইলিয়াস হোসাইন থানার কার্যক্রম ও তদন্তকাজে প্রভাব খাটান। তবে এ অভিযোগের সত্যতাও আলাদাভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটে সহকর্মীর ওপর হামলা ও বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত কো-পাইলট সম্ভবত একাই এই কাজ করেছিলেন। ইসরায়েলি সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে রবিবার সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে রিকশাচালক মো. ফয়েজ আহাম্মদকে (৪৩) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
চারদিকে শুধু সাদা আর সাদা। তুষারের ঘন পর্দা ভেদ করে কয়েক মিটারের বেশি সামনে দেখা যাচ্ছিল না। হিমশীতল বাতাস শরীরের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল ঝড়ের গতিতে। পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটুসমান নরম বরফে ডুবে যাচ্ছিল।
টরন্টো শহরের শীতের আলাদা এক ভাষা আছে।সেই ভাষা শব্দে নয়, তুষারে লেখা। জানালার ওপারে নিরবচ্ছিন্ন সাদা ঝরনা নেমে আসে, রাস্তার আলো কুয়াশা আর বরফের ভেতর ম্লান হয়ে যায়, আর মানুষ বুঝতে শেখে, পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর নীরবতাও কখনো কখনো খুব জোরে কথা বলে।সেদিনও তেমনই এক সন্ধ্যা।বাইরে মাইনাস দশ ডিগ্রি। ফায়ারপ্লেসে জ্বলতে থাকা আগুনের লালচে আলো ঘরের দেয়ালে ছায়া এঁকে দিচ্ছিল। হাতে ধোঁয়া ওঠা কফির মগ। আমরা তিনজন বসে গল্প করছিলাম।সায়েম ভাই, আমাদের কোম্পানির সিনিয়র লিড ইঞ্জিনিয়ার। প্রবাসে এসে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়, যাদের ঘরে ঢুকলেই মনে হয় বহুদিন পর নিজের বাড়িতে ফিরেছি। ভাবিও ঠিক তেমনই। তার আন্তরিকতা কখনো অতিথিপরায়ণতা বলে মনে হয় না; মনে হয় বড় বোনের মমতা।কফির কাপ নামিয়ে ভাবি হঠাৎ আমার দিকে তাকালেন।—নীল, একটা কথা বলব?মৃদু হেসে বললাম,—বলুন, ভাবি।—রাগ করবে না তো?—আপনার ওপর রাগ করার সাহস আমার নেই।তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—এত বছর হয়ে গেল। ক্যারিয়ার হয়েছে, নিজের অবস্থান হয়েছে। কিন্তু নিজের জন্য কী করলে? একা একা আর কত দিন? বিয়ে করার কথা কখনো ভাবো না?আমি হেসে বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চাইলাম।—সবাইকে দিয়ে সবকিছু হয় নাকি, ভাবি?সায়েম ভাই চশমাটা খুলে টেবিলে রাখলেন।—তোমার এই কথাটাই আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়। সারা দিন অফিসে তোমাকে দেখি। কাজে মন, বইয়ে মন, গিটার বাজাও, ভ্রমণ করো। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, জীবন একেবারে গুছিয়ে নিয়েছ। অথচ দিনের শেষে তুমি একাই ফিরে যাও।একটু থেমে তিনি আবার বললেন,—কখনো কি কাউকে ভালোবেসেছিলে?ঘরটা হঠাৎ যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল।ফায়ারপ্লেসের কাঠে আগুন ফেটে ছোট্ট একটা শব্দ হলো।আমি উত্তর দিলাম না।জানালার ওপারে তাকিয়ে রইলাম। সাদা তুষারের ভেতর হঠাৎ ভেসে উঠল বহু বছরের পুরোনো আরেকটা আকাশ। অনেক দূরের একটা বিকেল। আমি ধীরে বললাম,—মানুষ কখনো কখনো একটা গল্প কাউকে বলে না। কারণ, গল্পটা বললে সে আবার সেই সময়ে ফিরে যায়।ভাবি মৃদুস্বরে বললেন,—আজ ফিরে যাও। আমরা শুনব।আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। কফির মগটা টেবিলে রেখে বললাম,—জানেন ভাবি, পৃথিবীর সব ভালোবাসা মিলনের গল্প নয়। কিছু ভালোবাসা শুধু নীরবে মানুষের ভেতরে বেঁচে থাকে। কারও কাছে কোনো দাবি করে না, কোনো অধিকারও চায় না। শুধু মানুষটাকে সারা জীবন বদলে দেয়। আমার গল্পটাও তেমন।আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগের কথা। তখন ঢাকার উত্তরায় থাকতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। বাবার পক্ষে নিয়মিত টাকা পাঠানো সম্ভব হতো না। টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা, বাসাভাড়া আর খরচ চালাতাম। উত্তরার একটা পুরোনো বাড়ির চিলেকোঠার ছোট্ট ঘর ছিল আমার ঠিকানা। ঘরটা বড় ছিল না। একটা খাট, একটা পড়ার টেবিল, বইয়ের তাক আর জানালার পাশে রাখা পুরোনো একটা গিটার। কিন্তু আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ছিল ছাদ।সন্ধ্যা নামার আগে পড়ন্ত রোদ যখন আকাশজুড়ে লালচে রং ছড়িয়ে দিত, আমি গিটার হাতে ছাদে উঠে যেতাম। কখনো বাজাতাম। কখনো বই পড়তাম। কখনো কিছুই করতাম না। শুধু আকাশ দেখতাম। হয়তো মানুষ একা থাকলে আকাশের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি কথা বলে।ঠিক এমনই এক বিকেলে প্রথম তাকে দেখি। আমাদের পাশের ছয়তলা বাড়ির একটি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল সে। অদ্ভুত শান্ত একটি মেয়ে। তার হাতে কোনো মোবাইল ছিল না। কোনো বইও নয়। সে শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। বাতাসে তার চুল উড়ছিল।কিন্তু আমাকে থামিয়ে দিয়েছিল তার চোখ। কিছু কিছু চোখ থাকে, যেগুলোকে সুন্দর বলা যায় না। কারণ, সুন্দর শব্দটা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।সেই চোখ দুটো যেন নিজের ভেতর একটা বিকেল লুকিয়ে রেখেছিল। আমি তার নাম জানতাম না। কখনো জানার চেষ্টাও করিনি। নিজের মনেই একটা নাম দিয়েছিলাম—‘সুনয়না’।নামটা শুধু আমার ছিল। আমার কল্পনার। আমার নীরবতার। তার বাস্তব নাম কী ছিল, তখনো জানতাম না।তার পর থেকে প্রতিদিন বিকেলে আমি অপেক্ষায় থাকতাম। ছাদে উঠতাম। আর কিছুক্ষণ পর সে এসে দাঁড়াত সেই বারান্দায়।আমাদের মধ্যে কখনো কথা হয়নি। চোখাচোখিও খুব কম। তবু মনে হতো, বিকেল নামার সঙ্গে সঙ্গে দুজনের জীবন অদৃশ্য কোনো সেতুতে এসে মিলেছে।কখনো তাকে অনুসরণ করিনি। তার সম্পর্কে খোঁজ নিইনি। কারণ, দূরত্বেরও একটা সৌন্দর্য আছে। সব মানুষকে কাছে গিয়েই জানতে হয় না। কিছু মানুষ দূর থেকেই হৃদয়ের ভেতর জায়গা করে নেয়।এভাবেই কেটে গেল কয়েক মাস। একদিন বিকেলে ছাদে উঠে দেখলাম, বারান্দাটা ফাঁকা। ভাবলাম, হয়তো কোথাও গেছে।পরদিনও এল না।তারপর আরও এক দিন।এক সপ্তাহ।এক মাস।ঋতু বদলে গেল।আকাশের রং বদলে গেল। কিন্তু সেই বারান্দায় আর কাউকে দেখা গেল না। বুঝলাম, কিছু অপেক্ষার কোনো উত্তর হয় না।তারপর ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষ এসে গেল। পড়াশোনা, প্রজেক্ট, ইন্টারভিউ—জীবন অন্যদিকে মোড় নিতে শুরু করল। তবু মাঝেমধ্যে বিকেলের আকাশ দেখলে মনে হতো, কোথাও যেন একটা বারান্দা এখনো খালি দাঁড়িয়ে আছে। আর সেখানে কেউ একজন আর কখনো ফিরে আসবে না।অফিসে যোগ দেওয়ার তিন সপ্তাহের মাথায় প্রথমবার তার সঙ্গে কথা হলো।সেদিন দুপুরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। কাচঘেরা অফিসের জানালায় বৃষ্টির ফোঁটাগুলো লম্বা দাগ টেনে নিচে নেমে আসছিল। ক্যাফেটেরিয়ায় বসে এক কাপ কফি হাতে বাইরে তাকিয়ে ছিলাম। হঠাৎ পাশে এসে কেউ বলল,—এই সিটটা খালি?মুখ তুলে তাকাতেই বুকের ভেতরটা অকারণ ধক করে উঠল।সে।উত্তরার সেই বারান্দার মেয়েটি।আমি সামান্য হাসলাম।—অবশ্যই।সে বসে কফির কাপ নামিয়ে বলল,—আমি নতুন। এখনো কাউকে তেমন চিনি না।—আমিও খুব পুরোনো নই।সেদিনের কথোপকথন ছিল খুব সাধারণ। অফিস, কাজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার যানজট; এর বেশি কিছু নয়। আশ্চর্যের বিষয়, কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলতে কোনো আয়োজন লাগে না। যেন বহুদিনের চেনা।তার নাম জানলাম, সুস্মিতা।আমি নামটা মনে রাখলাম। তবু নিজের ভেতরে সে রয়ে গেল অন্য নামে—‘সুনয়না’।এরপর ধীরে ধীরে পরিচয় বাড়ল।অফিস শেষে মাঝেমধ্যে সবাই মিলে চা খেতে যেতাম। কোনো প্রজেক্ট শেষ হলে পুরো টিম রাত পর্যন্ত কাজ করত। সেই সব দীর্ঘ সন্ধ্যায় সুস্মিতাকে নতুন করে চিনতে শুরু করলাম।সে খুব কম কথা বলত। অকারণ হাসত না। তবে কেউ সমস্যায় পড়লে সবার আগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত।একদিন জানতে পারলাম, সে রবীন্দ্রসংগীত শেখে।আরেক দিন শুনলাম, অবসরে জলরঙে ছবি আঁকে।আমি অবাক হয়ে ভাবলাম, মানুষকে দূর থেকে দেখলে তার সৌন্দর্য দেখা যায়; কাছে এলে দেখা যায় তার নীরবতা। আর নীরবতাই একজন মানুষকে সবচেয়ে আলাদা করে।সেদিন অফিস থেকে বেরোতে বেরোতে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। বৃষ্টি থেমেছে। রাস্তার বাতিগুলো ভেজা ডামারের ওপর হলুদ আলো ফেলছে। আমি বললাম,—কফি খাবেন?সে একটু ভেবে মৃদু হেসে বলল,—আজ খাওয়া যেতে পারে।ছোট্ট একটি ক্যাফেতে আমরা জানালার পাশে বসলাম। বাইরে গাড়ির আলো ভেজা রাস্তায় ভেঙে পড়ছিল।অনেকক্ষণ গল্প হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি, বই, সিনেমা, ভ্রমণ, প্রিয় ঋতু। কথার ফাঁকে হঠাৎ সে জিজ্ঞেস করল,—আপনি এত চুপচাপ কেন?আমি হেসে বললাম,—সবাই সব কথা বলতে পারে না।সে জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,—আমার মনে হয়, যারা কম কথা বলে, তাদের ভেতরে অনেক গল্প জমে থাকে।আমি উত্তর দিলাম না। সত্যিই আমার ভেতরে একটি গল্প ছিল। যার শুরু হয়েছিল উত্তরার এক ছাদের বিকেলে।বহুবার ভেবেছি, আজ বলব। বলব, কয়েক বছর আগে প্রতিদিন বিকেলে আমি এক অচেনা মেয়েকে আকাশ দেখতে দেখতাম। বলব, তার জন্যই আমি সন্ধ্যার অপেক্ষা করতাম। বলব, তাকে না জেনেই একটা নাম দিয়েছিলাম।কিন্তু মানুষের জীবনে কিছু মুহূর্ত আসে, যখন সত্যি কথাটাই সবচেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে। আমি পারলাম না। শুধু কফির কাপে আঙুল ঘুরিয়ে যেতে লাগলাম।ঠিক তখনই তার ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে তার মুখে খুব কোমল একটা হাসি ফুটে উঠল। সে ফোন ধরল। নরম গলায় বলল,—হ্যাঁ... আমি বের হচ্ছি... আর পাঁচ মিনিট।ফোন রেখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—আমাকে উঠতে হবে।আমি শুধু মাথা নাড়লাম।ক্যাফের দরজার বাইরে এসে দেখি, একটা গাড়ি ধীরে ধীরে এসে থামল। গাড়ি থেকে একজন নেমে ছাতা খুলে তার দিকে এগিয়ে এল। সুস্মিতার মুখে যে হাসি ফুটে উঠল, তাতে কোনো দ্বিধা ছিল না, কোনো অভিনয়ও নয়। সে মানুষটিকে এমন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দেখল, যেমন মানুষ নিজের আপনজনকে দেখে। বিদায় নেওয়ার আগে সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—কাল দেখা হবে।আমি বললাম,—ভালো থাকবেন।গাড়িটা ধীরে ধীরে দূরে মিলিয়ে গেল।আমি অনেকক্ষণ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলাম। বৃষ্টি আবার শুরু হয়েছে। ভেজা শহরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে হঠাৎ মনে হলো, কিছু স্বপ্ন ভাঙার শব্দ বাইরে শোনা যায় না। সেগুলো শুধু মানুষের ভেতরেই প্রতিধ্বনি তোলে।সেদিন রাতেই প্রথম বুঝেছিলাম, ভালোবাসা সব সময় কাউকে পাওয়ার নাম নয়। কখনো কখনো সময়মতো কিছু না বলার নামও ভালোবাসা।পরদিন অফিসে গিয়ে সুস্মিতাকে দেখলাম না। ভাবলাম, হয়তো ছুটিতে আছে।পরদিনও এল না।এরপর আরও কয়েক দিন কেটে গেল।কাজের ব্যস্ততা আমাকে ডেস্কে আটকে রাখলেও মনটা বারবার করিডরের দিকে চলে যেত। এক বিকেলে সাহস করে মানবসম্পদ বিভাগের এক সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করলাম,—সুস্মিতা কি ছুটিতে?তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—জানেন না? ওর স্বামীকে সিঙ্গাপুরে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। তাড়াহুড়ো করেই ও চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছে। যাওয়ার আগেই সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছে। আপনি সেদিন ক্লায়েন্ট মিটিংয়ে ছিলেন, তাই হয়তো দেখা হয়নি।আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি। অদ্ভুতভাবে বুকের ভেতর কোনো বিস্ফোরণ ঘটল না। শুধু একটা নিঃশব্দ শূন্যতা নেমে এল, যেন বহু বছর আগে উত্তরার সেই বারান্দাটা আবার একবার খালি হয়ে গেল।এরপর জীবন খুব দ্রুত বদলে গেল। কাজের চাপ বাড়ল। পদোন্নতি হলো। নতুন শহর, নতুন দায়িত্ব, নতুন দেশ। একসময় কানাডার একটা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব গ্রহণ করলাম। বন্ধুরা বলেছিল,—স্বপ্নপূরণ হয়ে গেল!হয়তো সত্যিই হয়েছিল। কিন্তু মানুষ বুঝতে শেখে, সব স্বপ্নের সঙ্গে সব আনন্দ আসে না। কিছু সাফল্য খুব নিঃসঙ্গও হয়।টরন্টোতে আসার পর প্রথম শীতেই আমি বুঝলাম, তুষার শুধু শহর ঢেকে দেয় না, মানুষের স্মৃতিকেও সাদা করে দিতে চায়। কিন্তু সব স্মৃতি ঢেকে যায় না। কখনো কখনো কোনো কফির গন্ধ, কোনো বিকেলের আলো কিংবা কোনো বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা একাকী মানুষের ছায়া হঠাৎ বহু বছর আগের দরজা খুলে দেয়। সেই দরজার ওপাশে এখনো দাঁড়িয়ে আছে উত্তরার সেই বিকেল।আর একটি নাম, যে নাম পৃথিবীর কেউ জানত না। শুধু আমি।সুনয়না।’ফায়ারপ্লেসের আগুন তখন ধীরে ধীরে নিভে আসছে। কথা শেষ করতেই ঘরজুড়ে দীর্ঘ নীরবতা নেমে এল। ভাবি কফির ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কাপটার দিকে তাকিয়ে রইলেন। সায়েম ভাই উঠে এসে আমার পাশে দাঁড়ালেন। তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—তাহলে তুমি তাকে কোনো দিন জানাওনি?আমি মৃদু হেসে মাথা নাড়ালাম।—না।—আফসোস হয় না?জানালার বাইরে তাকালাম। তুষার পড়ছে। প্রতিটি সাদা কণা নিঃশব্দে মাটিতে মিশে যাচ্ছে। আমি ধীরে বললাম,—আফসোস হয় সেই ভালোবাসার জন্য, যেটা কাউকে কষ্ট দিয়ে নিজের করতে হয়। আমার গল্পে তেমন কিছু ছিল না। সে তার জীবন নিয়ে সুখী ছিল। আমি কেন আমার অনুভূতির ভার তার কাঁধে চাপিয়ে দিতাম?ভাবি খুব আস্তে বললেন,—কিন্তু তুমি তো একা রয়ে গেলে।আমি হেসে উত্তর দিলাম,—মানুষ সব সময় কারও অভাবে একা থাকে না। কখনো কখনো একটি সুন্দর স্মৃতির সঙ্গেও সারা জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায়।ঘড়ির কাঁটা তখন রাত বারোটা ছুঁয়েছে। বাইরে তুষারপাত আরও ঘন হয়েছে। বিদায় নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়াতেই সায়েম ভাই আমার কাঁধে হাত রাখলেন।—নীল...—জি?—জীবনে যদি আবার কোনো বিকেল এসে দাঁড়ায়, এবার যেন চুপ করে থেকো না।আমি কোনো উত্তর দিলাম না। শুধু মৃদু হাসলাম।বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির জানালার বাইরে অসংখ্য তুষারকণা উড়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ মনে হলো, মানুষ আসলে কাউকে ভুলে যায় না। সে শুধু স্মৃতির সঙ্গে বসবাস করতে শিখে যায়।সেদিন রাতে ঘরে ফিরে বহুদিন পর জানালার পাশে দাঁড়ালাম। দূরে বরফে ঢাকা শহর ঘুমিয়ে আছে।অন্ধকার কাচে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে মনে হলো, সময় আমার চুলে রুপালি রং ছড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু উত্তরার সেই একফালি আকাশ এখনো কোথাও রয়ে গেছে।আমি চোখ বন্ধ করলাম। কল্পনায় আবার একটি বারান্দা ভেসে উঠল। সেখানে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখ আজও স্পষ্ট নয়। শুধু চোখ দুটো স্পষ্ট। আমি নিঃশব্দে বললাম,—ভালো থেকো, সুনয়না।জানালার ওপারে তুষার পড়তেই থাকল। আর আমি বুঝলাম, কিছু ভালোবাসার শেষ অধ্যায় মিলনে লেখা হয় না। সেগুলো লেখা থাকে নীরবতায়।উত্তরা, ঢাকা
মেকআপ মানেই যেন অনেকগুলো প্রোডাক্ট, ঘন্টার পর ঘন্টা প্রস্তুতি। কিন্তু বলিউড তারকা জাহ্নবী কাপুর সাম্প্রতি তার ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন নিজের বিউটি লুক তৈরির পেছনের গল্প। যেখানে তিনি বলেছেন মাত্র তিনটি ধাপে তার সাজ হয়ে উঠেছে পরিপাটি, ফ্রেশ ও নেচারাল।প্রতিদিনের মেকআপে খুব বেশি কিছু না করেও কীভাবে ফ্রেশ ও গোছানো দেখানো যায়, জাহ্নবীর এই রুটিন তারই সহজ উদাহরণ। আরও মজার বিষয়, মেকআপ ব্রাশ বা স্পঞ্জের ওপর খুব বেশি নির্ভর না করে আঙুল দিয়েই তিনি বেশির ভাগ প্রোডাক্ট ব্লেন্ড করেছেন। ফলে পুরো সাজটি যেমন দ্রুত করা যায়, তেমনি এর ফিনিশও থাকে বেশ স্বাভাবিক। তার সাজের মূল তিনটি বিষয় হচ্ছে সতেজ বেস, নরম গোলাপি ব্লাশ আর নিউড-পিঙ্ক ঠোঁট। View this post on Instagram A post shared by Janhvi Kapoor (@janhvikapoor) ভারী বেস নয়, শুরু হোক কনসিলার দিয়েজাহ্নবীর রুটিনের প্রথম ধাপ কনসিলার। পুরো মুখে ভারী ফাউন্ডেশন লাগানোর বদলে যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করছেন তিনি। চোখের নিচে সরাসরি অ্যাপ্লিকেটর দিয়ে অল্প প্রোডাক্ট নিয়ে আঙুলের সাহায্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে ত্বকের রং কিছুটা সমান দেখালেও মুখ ভারী হয়ে যাচ্ছে না। এই ধরনের মেকআপে ব্লেন্ড করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্তর বাড়ানো যায়, এমন কনসিলারই ভালো। একবারে বেশি না দিয়ে অল্প অল্প করে লাগানোই মূল কৌশল।গালে নরম গোলাপি আভাবেসের পর জাহ্নবী ব্যবহার করছেন সফট পিঙ্ক লিকুইড ব্লাশ। গালে সরাসরি অল্প ব্লাশ নিয়ে আঙুল দিয়ে ট্যাপ করে ব্লেন্ড করেছেন তিনি। ফলে গালে ভারী রঙের বদলে এসেছে হালকা, সতেজ আভা। এই লুকের জন্য ক্রিম বা লিকুইড ব্লাশ বেশ কার্যকর। কারণ অল্প অল্প করে রং বাড়ানো যায়, ফলে মুখে ব্লাশের দাগও স্পষ্ট থাকে না।ঠোঁটে নিউড-পিঙ্কজাহ্নবীর পুরো মেকআপের সঙ্গে ঠোঁটের রংও বেশ নরম। শেষ ধাপে তিনি ব্যবহার করেছেন নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। গালের গোলাপি আভা আর ঠোঁটের একই পরিবারের রং পুরো লুকটিকে করেছে আরও গোছানো। খুব ফ্যাকাশে বেইজ নিউডের বদলে গোলাপি, রোজি বা হালকা ব্রাউন আন্ডারটোনের নিউড বেছে নিলে ঠোঁট আরও স্বাভাবিক দেখাবে। দিনের সাজে লিপস্টিক পুরো ঠোঁটে না দিয়ে মাঝখানে অল্প লাগিয়ে আঙুল দিয়ে ছড়িয়ে দিলেও পাওয়া যাবে আরও নরম ফিনিশ।চোখে শুধু এক কোট মাসকারাজাহ্নবী যে তিনটি মূল ধাপ দেখিয়েছেন, সেখানে মাসকারা ছিল না। তাই এটি মূল রুটিনের অংশ নয়; চাইলে বাড়তি সংযোজন হিসেবে রাখা যায়। বিশেষ করে দিনের সাজ সন্ধ্যার দিকে নিতে চাইলে এক বা দুই কোট মাসকারাই যথেষ্ট। এতে চোখ কিছুটা বেশি স্পষ্ট হবে, কিন্তু পুরো মেকআপের স্বাভাবিক মেজাজ নষ্ট হবে না।ভ্রু থাকুক নেচারালএই লুকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভ্রু। খুব গাঢ় করে আঁকার বদলে যেখানে ফাঁকা আছে, শুধু সেখানে হালকা করে ভরাট করাই যথেষ্ট। এরপর স্পুলি দিয়ে ভ্রু আঁচড়ে নিলে রংটা নরম হয়ে যাবে। এ জন্য পেন্সিল ব্যবহার করা যেতে পারে। লক্ষ্য হবে ভ্রুকে স্পষ্ট করে আঁকা নয়, বরং একটু গোছানো দেখানো।ত্বক যেন ত্বকের মতোই দেখায়জাহ্নবীর মেকআপের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এটাই। নিজের ত্বকের রং পুরোপুরি ঢেকে ফেলার চেষ্টা নেই। ভারী ফাউন্ডেশনের বদলে প্রয়োজনমতো কনসিলার ব্যবহার করায় ত্বকের স্বাভাবিক টেক্সচারও দেখা যায়। এই লুক করতে গিয়ে সবচেয়ে সহজ ভুল হতে পারে বারবার কভারেজ বাড়ানো। যেখানে প্রয়োজন শুধু সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করে থেমে যাওয়াই ভালো। এতে মেকআপ থাকবে হালকা, আর মুখও দেখাবে আরও স্বাভাবিক।ব্রাশ নয়, আঙুলেই ব্লেন্ডজাহ্নবীর রুটিন থেকে সবচেয়ে সহজে নেওয়া যায় যে কৌশল, সেটি হলো আঙুল দিয়ে মেকআপ ব্লেন্ড করা। কনসিলার ও ব্লাশের মতো লিকুইড বা ক্রিম প্রোডাক্ট অল্প করে আঙুলে নিয়ে ত্বকে ট্যাপ করে লাগালে দ্রুত কাজ হয় এবং প্রোডাক্টের পরিমাণও সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিশেষ করে ব্যস্ত সকালে এই পদ্ধতি বেশ সুবিধাজনক। একগাদা ব্রাশ বের করার দরকার নেই, আবার অতিরিক্ত মেকআপ করার ঝুঁকিও কমে।জাহ্নবীর তিন ধাপের সহজ রুটিনপুরো রুটিনকে একেবারে সহজ করে বললে, কনসিলার, ব্লাশ, নিউড লিপ। প্রথমে অল্প কনসিলার দিয়ে ত্বকের প্রয়োজনীয় অংশ সমান করুন। এরপর গালে নরম গোলাপি আভা দিন। সবশেষে নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। সব প্রোডাক্টই হালকা হাতে ব্যবহার করে আঙুল দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করতে হবে। এর সঙ্গে আরও একটু সাজানো লুক চাইলে যোগ করা যায় মাসকারা ও হালকা ভ্রু ডেফিনিশন। তবে মূল সৌন্দর্যটা থাকবে কম প্রোডাক্টে, হালকা হাতে এবং ত্বকের স্বাভাবিকতা বজায় রাখায়।জাহ্নবী কাপুরের সাম্প্রতিক মেকআপ রুটিন শেষ পর্যন্ত খুব সাধারণ একটি কথাই মনে করিয়ে দেয়। দৈনন্দিন গ্ল্যামের জন্য সবসময় অনেক কিছু দরকার হয় না। ত্বককে সমান করা, গালে একটু রং আর ঠোঁটে সামান্য উষ্ণতা এই তিনটিই যথেষ্ট হতে পারে। আসল কৌশল হলো মেকআপের স্তর হালকা রাখা এবং ত্বককে ত্বকের মতোই থাকতে দেওয়া।
ফ্যাশনের দুনিয়ায় কিয়ারা আদভানির সবচেয়ে বড় শক্তি তার বহুমুখী স্টাইল সেন্স। রেড কার্পেটের ঝলমলে গ্ল্যামার, ফটোশুট লুক কিংবা দৈনন্দিন পোশাক-প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের মতো করে স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করতে জানেন এই অভিনেত্রী। কখনো শাড়ি বা অন্য কোনো ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাকে তিনি হয়ে ওঠেন মোহময়ী, আবার কখনো পশ্চিমা পোশাকে ফুটিয়ে তোলেন আধুনিকতার ছাপ। তার সাম্প্রতিক ফটোশুটের লুকটিও সেই বহুমুখী ফ্যাশন ভাবনারই আরেকটি উদাহরণ। এবার কিয়ারার পছন্দ ছিল স্ট্রাকচার্ড পাওয়ার স্যুট। ক্যামেল-বেইজের একরঙা এই সাজে ছিল টেইলারিংয়ের নিখুঁত ছাপ, পুরুষালি পোশাকের অনুপ্রেরণা এবং নারীর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি-সবকিছুর সুন্দর সমন্বয়। পুরো লুকটি যেন দেখিয়ে দিল, পাওয়ার ড্রেসিং মানেই শুধু কঠোর বা ফরমাল হওয়া নয়, সঠিক কাট, রং ও স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে সেটিই হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত গ্ল্যামারাস। কিয়ারার স্যুটের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্ট্রাকচার্ড ওয়েস্টকোট। শরীরের উপরের অংশের সঙ্গে সুন্দরভাবে মানানসই এই ওয়েস্টকোটে ছিল গভীর ভি-নেকলাইন। সামনে একই ক্যামেল-বেইজ রঙের ছোট ছোট বোতামের সারি পোশাকটিতে এনে দিয়েছে পরিপাটি ফিনিশিং। ওয়েস্টকোটের ভেতরে কিয়ারা পরেছিলেন দুই রঙের বেইজ ও সাদা শার্ট। শার্টটির উষ্ণ বেইজ রঙের মূল অংশ ওয়েস্টকোটের সঙ্গে মিশে গেলেও নজর কেড়েছে এর ওভারসাইজড সাদা কলার। সঙ্গে ছিল স্টাইলিশ ফ্রেঞ্চ কাফ, যা পুরো পোশাকে এনে দিয়েছে খানিকটা ক্লাসিক ফরমাল আবহ। এর ওপর ছিল একই রঙের একটি স্ট্রাকচার্ড জ্যাকেট। টেইলারড শোল্ডার, পরিষ্কার ল্যাপেল এবং নিখুঁত কাটিংয়ের কারণে জ্যাকেটটি কিয়ারার সিলুয়েটকে আরও সুস্পষ্ট করে তুলেছে। নিচে ছিল একই ক্যামেল-বেইজ শেডের হাই-ওয়েস্টেড ওয়াইড-লেগ ট্রাউজার্স। প্যান্টের বাড়তি ভলিউম একদিকে যেমন স্বাচ্ছন্দ্য এনেছে, অন্যদিকে পুরো পোশাকটিকে দিয়েছে আধুনিক ও বিলাসবহুল আবহ। প্রচলিত টাইয়ের বদলে কিয়ারার গলায় দেখা গেছে চিকন বেইজ নেকটাই। কলারের নিচে পরিপাটি করে গুঁজে রাখা এই টাই পুরুষদের ক্লাসিক টেইলারিংয়ের ছোঁয়া এনে দিয়েছে নারীর পাওয়ার স্যুটে। পুরো পোশাকে থাকা সূক্ষ্ম প্লেড প্যাটার্নও লুকটিকে একঘেয়ে হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছে। জুতার ক্ষেত্রেও টোনাল স্টাইলিংয়ের পথেই হেঁটেছেন কিয়ারা। পায়ে ছিল উটের রঙের পয়েন্টেড স্টিলেটো পাম্প। সূচালো অগ্রভাগের এই জুতা তার পায়ের রেখাকে আরও দীর্ঘ দেখিয়েছে এবং মাথা থেকে পা পর্যন্ত একরঙা বিন্যাসটিও অটুট রেখেছে। অ্যাক্সেসরিজে রেখেছিলেন একবারে ছিমছাম । একজোড়া সোনালি স্টেটমেন্ট কানের দুল এবং মানানসই একটি আংটিতেই নজর কেড়েছেন। এর সঙ্গে এভিয়েটর সানগ্লাস যোগ করে কিয়ারা পুরো লুকে এনেছেন আরও দৃঢ় ভাব। সানগ্লাসের উপস্থিতিই আত্মবিশ্বাসী বার্তাটিকে আরও জোরালো করেছে। চুল ও মেকআপেও ছিল পরিমিতির ছাপ। পোশাকের কাটিং ও টেইলারিংকে লুকের মূল আকর্ষণ করে তুলতে কিয়ারা তার লম্বা, ঘন বাদামি চুল হালকা ঢেউ খেলানো এবং কিছুটা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে রেখেছেন। মেকআপে ছিল সফট-গ্ল্যাম আবহ- সুবিন্যস্ত ভ্রু, উষ্ণ টোনের আইশ্যাডো এবং নুড-গোলাপি লিপস্টিক। কিয়ারার এই লুকটি প্রমাণ করে, পাওয়ার ড্রেসিংয়ের আসল শক্তি পোশাকে যতটা, তার চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসে। ক্যামেল-বেইজের শান্ত রং, নিখুঁত টেইলারিং, পুরুষালি টেইলারিংয়ের অনুপ্রেরণা এই লুকে কিয়ারা তৈরি করেছেন এমন এক ফ্যাশন স্টেটমেন্ট, যা একই সঙ্গে স্মার্ট, আধুনিক ও নজরকাড়া। এসএকেওয়াই
ঘুম শরীর ও মনের পুনরুদ্ধারের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের ভেতরে শুরু হয় নানা জটিলতা, যা ধীরে ধীরে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেকেই ঘুমকে অবহেলা করেন, অথচ সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি হচ্ছে ভালো ঘুম। যখন ঘুম ঠিকমতো হয় না, তখন শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে সহজেই সর্দি-কাশি বা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঘুমের ঘাটতি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায়, যা অতিরিক্ত খাওয়া ও ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। শুধু তাই নয়, নিয়মিত কম ঘুম মানে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যাওয়া। মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও এর প্রভাব ভয়াবহ। ঘুম কম হলে মন খারাপ লাগে, মনোযোগে ঘাটতি আসে, কাজের উদ্যম কমে যায়। অনেক সময় হতাশা, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা তৈরি হয়। শিক্ষার্থী বা কর্মজীবীদের ক্ষেত্রে এটি সরাসরি কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়। তবে সুস্থ থাকার জন্য ঘুম ঠিক রাখার কিছু সহজ উপায় অনুসরণ করা যায়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং জেগে ওঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। রাতে ঘুমানোর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা উচিত — মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপের আলো ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের ক্ষরণে বাধা দেয়। শোবার ঘরকে ঠান্ডা, অন্ধকার ও শান্ত রাখা ঘুমের মান বাড়ায়। কফি বা চা রাতের বেলা এড়িয়ে চলাই ভালো। দিনের বেলা হালকা ব্যায়াম ও সকালের রোদে কিছুক্ষণ সময় কাটানো ঘুমে সহায়তা করে। আর ঘুমানোর আগে ভারী খাবার না খাওয়াও জরুরি। ঘুমকে যদি গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তাহলে শরীর একসময় সিগন্যাল দিতে শুরু করবে — মাথা ভার, মেজাজ খারাপ, স্মৃতিশক্তি দুর্বল ইত্যাদি নানা রকম সমস্যা দেখা দেবে। তাই সুস্থ থাকতে হলে শুধু খাদ্য, ব্যায়াম বা ওষুধ নয় — একটি পরিপূর্ণ ঘুমই হতে পারে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।
বাংলাদেশে আবারও শুরু হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের নতুন সংকট। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা শহরে একটানা লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, এমনকি হাসপাতালের রোগীরাও অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তীব্র গরম ও অসহনীয় তাপদাহের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই ভুগছেন। শহরাঞ্চলে ফ্যান, এসি ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গরমে হাঁসফাঁস করছেন মানুষ। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে পানির পাম্প চলতে না পারায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, দিনে প্রায় ৬-৮ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর ফিরে আসছে না। বিশেষ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ছোট কারখানাগুলো এই বিদ্যুৎ সংকটে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ছোট দোকানদাররা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ সময় ফ্রিজ বন্ধ থাকায় খাবারদাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আইটি ও অনলাইনভিত্তিক কাজেও সমস্যা হচ্ছে, কারণ ইন্টারনেট রাউটার, কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি চালাতে বিদ্যুৎ অপরিহার্য। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং আয়-রোজগারে বড় ধাক্কা লাগছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, গ্রীষ্ম মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে জেনারেশন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস সংকটের কারণে পুরো উৎপাদন করতে পারছে না। অন্যদিকে আমদানি নির্ভর কয়লা ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সাময়িক এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে লোডশেডিং কমে আসবে। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, কতদিন এমন দুর্ভোগ চলবে? বিশেষ করে যেসব এলাকায় দিনে ৮-১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না, তাদের জন্য এ আশ্বাস কতটা কার্যকর হবে — তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এবং এর সমাধানে স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিকল্প জ্বালানি উৎস যেমন সৌর ও নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে গুরুত্ব না দিলে প্রতি বছরই এ ধরনের সংকটের পুনরাবৃত্তি হবে। এ অবস্থায় মানুষ চায় বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও দ্রুত সমাধান। বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন আর এক নিত্যকার দুর্ভোগে পরিণত না হয় — সেই প্রত্যাশাই করছে সারাদেশ।
<p>মাত্র ৩৫ টাকা মাসিক আয়। সঙ্গে দিনে একবেলা খাবার। জীবিকার তাগিদে কিশোর বয়সেই সিনেমার পোস্টার আঁকতেন। কলেজে পড়ার সময় রাস্তায় জেব্রা ক্রসিং এঁকেও উপার্জন করেছেন। সেই কিশোরই একদিন হয়ে ওঠেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম শক্তিশালী অভিনেতা। খ্যাতি, অর্থ, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার—সবই পেয়েছেন। কিন্তু ভুলে যাননি অভাবের দিনগুলোর কথা। তাই পর্দার বাইরেও গড়ে তুলেছিলেন অন্য এক পরিচয়। মহারাষ্ট্রের অসহায় কৃষক ও তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে হয়ে উঠেছিলেন বহু মানুষের ভরসা। তিনি নানা পাটেকর।</p><p>আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ৭৫ বছর বয়সে মারা গেছেন নানা পাটেকর। গোয়ার বাসভবনে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, অভিনেতার ছেলে মালহার পাটেকর বাবার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি গোয়ায় যাচ্ছেন এবং পরে বিস্তারিত বিবৃতি দেবেন বলেও জানিয়েছেন।</p><p>নানা পাটেকরের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁকে স্মরণ করছেন অনেকে। ফিরে আসছে তাঁর অভিনীত চলচ্চিত্রের দৃশ্য, জনপ্রিয় সংলাপ ও অভিনয়জীবনের নানা স্মৃতি। সেই সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় এসেছে পর্দার বাইরের মানুষটির জীবন। বিশেষ করে দরিদ্র কৃষকদের জন্য তাঁর দীর্ঘদিনের কাজ এবং সাধারণ জীবনযাপনের গল্প।</p><blockquote>নিজের জীবনযাপনে বড় পরিবর্তন আনেননি। মুম্বাইয়ের সাধারণ অ্যাপার্টমেন্টে থাকার পাশাপাশি গ্রামের বাড়িতে সময় কাটাতে ভালোবাসতেন। দামি পোশাক, বিলাসবহুল বাড়ি কিংবা তারকাসুলভ জাঁকজমকের চেয়ে সাধারণ জীবনই ছিল তাঁর বেশি পছন্দের।</blockquote><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-08/4y2rxz5f/WhatsApp_Image_2026_10_08_at_10_00_30_AM.jpeg"><figcaption>পর্দার বাইরেও গড়ে তুলেছিলেন অন্য এক পরিচয়। </figcaption></figure><aside><a href="https://www.prothomalo.com/entertainment/bollywood/bcl6gljbwo">অভিনেতা নানা পাটেকর মারা গেছেন</a></aside><p>অভাবের সঙ্গে নানা পাটেকরের পরিচয় শৈশবেই। রিডার্স ডাইজেস্টে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের সেই দিনগুলোর কথা বলেছিলেন তিনি। জানিয়েছিলেন, মাত্র ১৩ বছর বয়সে মাসে ৩৫ টাকা ও একবেলা খাবারের বিনিময়ে সিনেমার পোস্টার আঁকতেন। কলেজে পড়ার সময় জেব্রা ক্রসিং এঁকে পেতেন ১৫ টাকা। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে ছোটবেলা থেকেই তাঁকে উপার্জনের পথ খুঁজতে হয়েছে। সেই সাক্ষাৎকারে নানা বলেছিলেন, নিজের এই অভিজ্ঞতার কারণেই বঞ্চিত মানুষের কষ্টের সঙ্গে সহজে একাত্ম হতে পারেন তিনি। অন্যের যন্ত্রণা যেন নিজেরই মনে হয়।<br>সেই কঠিন দিনগুলো পেরিয়ে অভিনয়ে প্রতিষ্ঠা পান নানা পাটেকর। ‘পরিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘অগ্নিসাক্ষী’, ‘অব তক ছাপ্পান’ কিংবা ‘ওয়েলকাম’; একেক ছবিতে একেক রূপে হাজির হয়েছেন দর্শকের সামনে। কখনো কঠোর পুলিশ কর্মকর্তা, কখনো প্রতিবাদী মানুষ, কখনো আবার হাস্যরসের চরিত্রে দর্শককে মাতিয়েছেন। সংলাপ বলার স্বতন্ত্র ভঙ্গি, তীক্ষ্ণ দৃষ্টি আর অভিনয়ের তীব্রতা তাঁকে আলাদা পরিচিতি এনে দেয়।<br>অথচ এত সাফল্যের পরও নিজের জীবনযাপনে বড় পরিবর্তন আনেননি। মুম্বাইয়ের সাধারণ অ্যাপার্টমেন্টে থাকার পাশাপাশি গ্রামের বাড়িতে সময় কাটাতে ভালোবাসতেন। দামি পোশাক, বিলাসবহুল বাড়ি কিংবা তারকাসুলভ জাঁকজমকের চেয়ে সাধারণ জীবনই ছিল তাঁর বেশি পছন্দের। ২০১৫ সালে এক সাক্ষাৎকারে নানা জানিয়েছিলেন, তাঁর চাহিদা খুবই সীমিত। দামি গাড়ি কেনার পেছনে এক কোটি রুপি খরচ করার চেয়ে সেই অর্থ দিয়ে কোনো কৃষকের মুখে হাসি ফোটানো তাঁর কাছে বেশি অর্থবহ।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/entertainment/bollywood/207xnjjjk1">বলিউড অভিনেতা মুশতাক খান মারা গেছেন</a></aside><p>২০১৬ সালে ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা ও ইন্ডিয়া টাইমসের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, নিজের আয়ের প্রায় ৯০ শতাংশ দাতব্য কাজে ব্যয় করতেন নানা পাটেকর। যদিও তাঁর আয় ও অনুদানের পূর্ণাঙ্গ আর্থিক হিসাব প্রকাশ্যে পাওয়া যায় না। তবে অসহায় কৃষকদের জন্য তাঁর সরাসরি অর্থসহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগের তথ্য বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নথিতে রয়েছে।<br>২০১৫ সালে মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ খরা দেখা দেয়। ফসলহানি, ঋণের বোঝা আর আর্থিক সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন অসংখ্য কৃষক। একের পর এক কৃষকের আত্মহত্যার খবর আসতে থাকে। এসব ঘটনা গভীরভাবে নাড়া দেয় নানা পাটেকরকে। তিনি নিজেই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারগুলোর কাছে যেতে শুরু করেন।<br>বিদর্ভ অঞ্চলে আত্মহত্যা করা কৃষকদের ৬২টি পরিবারকে ১৫ হাজার রুপি করে অর্থসহায়তা দেন তিনি। পরে লাতুর ও ওসমানাবাদ অঞ্চলের আরও ১১৩টি পরিবারকে একইভাবে সহায়তা করেন। শুধু অর্থ পাঠিয়ে দায়িত্ব শেষ করেননি; অনেক পরিবারের সঙ্গে সরাসরি দেখা করেছেন, তাঁদের অভাব-অভিযোগ শুনেছেন।<br>কিন্তু কৃষক পরিবারগুলোর কাছে গিয়ে নানা বুঝতে পারেন, এককালীন অর্থসহায়তা দিয়ে তাঁদের সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ। সেই ভাবনা থেকেই মারাঠি অভিনেতা মকরন্দ অনাসপুরের সঙ্গে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠা করেন ‘নাম ফাউন্ডেশন’।</p><blockquote>নানা জানিয়েছিলেন, তাঁর চাহিদা খুবই সীমিত। দামি গাড়ি কেনার পেছনে এক কোটি রুপি খরচ করার চেয়ে সেই অর্থ দিয়ে কোনো কৃষকের মুখে হাসি ফোটানো তাঁর কাছে বেশি অর্থবহ।</blockquote><p>প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, খরাপীড়িত কৃষকদের সহায়তা, পানির সংকট মোকাবিলা, জলাধার পুনরুদ্ধার ও গ্রামীণ উন্নয়নে কাজ করে সংগঠনটি। কৃষকদের আত্মহত্যা ও আর্থিক সংকটের মতো সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খোঁজাই ছিল উদ্যোগটির অন্যতম উদ্দেশ্য।<br>২০১৬ সালে গভর্ন্যান্স নাউকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নানা পাটেকর জানিয়েছিলেন, টেলিভিশনে এক কৃষকের আত্মহত্যার পর তাঁর পরিবারের দুর্দশার কথা দেখে তিনি সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নেন। শুরুতে নিজের জমানো অর্থ থেকে সহায়তা দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে দেখা করার পর উপলব্ধি করেন, তাঁদের পাশে দীর্ঘদিন থাকতে হবে। সেই উপলব্ধি থেকেই আরও বড় পরিসরে কাজ শুরু করেন।<br>২০১৮ সালে দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়াকে নানা বলেছিলেন, কৃষকদের শুধু অর্থ দিলেই হয় না, তাঁদের মানসিক ও সামাজিক সমর্থনও প্রয়োজন। তাঁরা যেন বুঝতে পারেন, বিপদের দিনে একা নন। এই ভাবনা থেকে নাম ফাউন্ডেশন আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি কৃষকদের মানসিক সংকট মোকাবিলায়ও কাজ শুরু করে।<br>২০২৫ সালের মে মাসে প্রকাশিত নবভারত টাইমসের একটি বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, নাম ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মহারাষ্ট্রে ২ হাজার ৬৪১ জনের বেশি কৃষকের বিধবা স্ত্রী আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন। কারও জন্য ঘর নির্মাণ করা হয়েছে, কাউকে জীবিকা নির্বাহের ব্যবস্থা করতে সাহায্য করা হয়েছে।<br>কাজের পরিধি যে কতটা বেড়েছিল, তার ধারণা পাওয়া যায় নাম ফাউন্ডেশনের সাম্প্রতিক হিসাব থেকে। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের কার্যক্রমের বিবরণ অনুযায়ী, এই সময়ে মহারাষ্ট্রে ২ হাজার ২৪৬টি পানির উৎস পুনরুদ্ধার এবং ১৭৮টি নদী পুনরুজ্জীবিত করার কাজ করেছে সংগঠনটি। এসব উদ্যোগে ৭৭ লাখের বেশি কৃষক উপকৃত হয়েছেন বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই অর্জন অবশ্য ফাউন্ডেশনের কর্মী, স্বেচ্ছাসেবক ও সহযোগীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।</p><p>২০২৬ সালেও এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন নানা পাটেকর। গত মে মাসে নাগপুরে পানি সংরক্ষণবিষয়ক এক অনুষ্ঠানে নাম ফাউন্ডেশনের সভাপতি হিসেবে অংশ নেন তিনি। দ্য হিতবাদা পত্রিকার ১৯ মে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেখানে নানা পাটেকর বলেছিলেন, পানি সংরক্ষণের কাজ করার তাগিদ মানুষের ভেতর থেকেই আসতে হবে, লোকদেখানোর জন্য নয়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-08/10bui5yf/WhatsApp_Image_2026_10_08_at_10_00_29_AM__1_.jpeg"><figcaption>কখনো কঠোর পুলিশ কর্মকর্তা, কখনো প্রতিবাদী মানুষ, কখনো আবার হাস্যরসের চরিত্রে দর্শককে মাতিয়েছেন।</figcaption></figure><p>চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মহারাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে নাম ফাউন্ডেশনের নতুন উন্নয়ন সহযোগিতার খবরও প্রকাশ করে দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া। গড়চিরোলি অঞ্চলে পানি সংরক্ষণ, নদী খনন ও গ্রামীণ জীবিকার উন্নয়ন ছিল সেই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।<br>নিজের দানশীলতা নিয়ে প্রচার পছন্দ করতেন না নানা পাটেকর। রিডার্স ডাইজেস্টের সাক্ষাৎকারে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, কেন মানুষের জন্য এত কাজ করেন, অথচ প্রচার করেন না? উত্তরে তিনি জানিয়েছিলেন, অন্যরা দীপাবলিতে আতশবাজি ফোটান, মিষ্টি কেনেন; তাঁর কাছে অসহায় মানুষকে সাহায্য করাই দীপাবলির আনন্দ। অন্যের জন্য কাজ করে তিনি নিজেই আনন্দ পান।</p><p>বৃহস্পতিবার সকালে নানা পাটেকরের মৃত্যুর খবরে তাই অভিনয়জীবনের পাশাপাশি ফিরে আসছে তাঁর মানবিক কাজের স্মৃতিও। দর্শকের কাছে তিনি ‘ক্রান্তিবীর’-এর প্রতিবাদী কণ্ঠ, ‘পরিন্দা’-র দাপুটে অভিনেতা কিংবা ‘ওয়েলকাম’-এর হাস্যরসের চরিত্র। আর মহারাষ্ট্রের বহু কৃষক পরিবারের কাছে ছিলেন বিপদের দিনে পাশে দাঁড়ানো একজন মানুষ। একদিন মাসে ৩৫ টাকা উপার্জন করা সেই কিশোরই পরবর্তী জীবনে নিজের অর্থ ও সময় ব্যয় করেছেন অসহায় মানুষের জন্য। তিনটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, পদ্মশ্রীসহ অসংখ্য অর্জন নিয়ে বিদায় নিলেন নানা পাটেকর।<br><sup>তথ্যসূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট, নবভারত টাইমস, দ্য হিতবাদা, দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া।</sup></p>
জন্ম থেকেই দুই হাত নেই দুঃখু মিয়ার। পা দিয়ে লিখে উচ্চশিক্ষা অর্জন করেছেন। চাকরি না পেয়ে গড়েছেন স্কুল, ছড়াচ্ছেন শিক্ষার আলো
ফোনটিতে ৮ হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ারের ব্লুভোল্ট ব্যাটারি থাকায় একবার পূর্ণ চার্জ করে টানা ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত শর্টস ভিডিও দেখা যায়।
<p>আন্তর্জাতিক গণিত ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের ২৩তম আসরে প্রথম স্বর্ণপদক জিতেছে বাংলাদেশ। অনূর্ধ্ব ১৩ বছর বয়সী শিশুদের জন্য আয়োজিত এ অলিম্পিয়াডে মোট ১৫টি পদক জিতেছে বাংলাদেশ দল।</p><p>ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভায় ২-৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক আসরে বাংলাদেশের ১৬ জন খুদে শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৫ জনই পদক পেয়েছে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের অর্জন ১টি স্বর্ণ, ৭টি রৌপ্য ও ৭টি ব্রোঞ্জপদক। মোট ২৩টি দেশের চার শতাধিক প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী এই অলিম্পিয়াডে অংশ নেয়।</p><p>বাংলাদেশের প্রথম স্বর্ণপদকটি এসেছে বিজ্ঞান বিভাগে। মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী তাহমিদ হাসান এই অসামান্য গৌরব অর্জন করে। সে অলিম্পিয়াডে বিজ্ঞানের তাত্ত্বিক অংশে সেরা হয়েছে এবং বিজ্ঞান বিভাগে সব দেশের প্রতিযোগীদের মধ্যে তার স্কোর পঞ্চম সর্বোচ্চ।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/oa7er8ul/Gold_medalist_Tahmid.jpeg"></figure><p>স্বর্ণপদক জয়ের পর উচ্ছ্বসিত তাহমিদ বলে, ‘স্বর্ণপদক পাওয়ার ইচ্ছা নিয়েই এসেছিলাম। তত্ত্বীয়-২-এ কয়েকটি সাধারণ ভুল করে একটু দুশ্চিন্তায় ছিলাম। কিন্তু ব্যবহারিক পরীক্ষা সেটি পুষিয়ে দিয়েছে। স্বর্ণপদক পেয়ে খুব ভালো লাগছে।’</p><p>ভবিষ্যতে গণিতে আরও ভালো করতে চায় তাহমিদ; বিশ্বের সেরা দশটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটিতে পড়ার স্বপ্ন তার। ইন্দোনেশিয়ার অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে সে জানায়—পরীক্ষা, ঘোরাঘুরি, খাবার; সব মিলিয়ে সময়টা তার জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/events/bzm6siomvo">আন্তর্জাতিক রোবটিকস আসরে বাংলাদেশের টিম ব্লুপ্রিন্টের ব্রোঞ্জ জয়</a></aside><p>বিজ্ঞান দল স্বর্ণ ছাড়াও চারটি রৌপ্য ও দুটি ব্রোঞ্জপদক পেয়েছে। বিজ্ঞানে পদকজয়ী ১৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ষষ্ঠ। বাংলাদেশের আগে রয়েছে সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইন। বিজ্ঞানে রৌপ্যপদক পেয়েছে অভিজ্ঞান রায়, মোহাম্মদ মুশরিফ আলম, রাইয়ান আফরাদ ও আরহাম আবিদ। ব্রোঞ্জপদক পেয়েছে রাফসান শফিক তালুকদার ও সাহাবী ইবনে কাব্য। দলের সর্বকনিষ্ঠদের মধ্যে মুশরিফ ও রাইয়ান দুজনই চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। বিজ্ঞান দলের অপর শিক্ষার্থী মো. মিফতাহুল ইসলাম মাত্র ১.২৫ নম্বরের ব্যবধানে ব্রোঞ্জপদক পায়নি।</p><p>গণিত বিভাগে বাংলাদেশের আট প্রতিযোগীর প্রত্যেকেই পদক জিতেছে; এসেছে তিনটি রৌপ্য ও পাঁচটি ব্রোঞ্জপদক। মজার বিষয় হলো, গণিত দলের আটজন সদস্যের সবাই ঢাকার সেন্ট যোসেফ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বাংলাদেশ গণিত দলের মধ্যে সর্বোচ্চ স্কোর করে রৌপ্যপদক জিতেছে অরিজিৎ সাহা।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/tcdfg15t/Gold_Medalist_with_Bd_Team_leaders.jpeg"></figure><p>মাত্র অল্প কয়েক নম্বরের ব্যবধানে তার স্বর্ণপদক হাতছাড়া হয়েছে। অন্য দুটি রৌপ্যপদক পেয়েছে ইহান আবরাদ রহমান ও মো. সামিন সাইফ। ব্রোঞ্জ পেয়েছে মো. নবীহ হোসাইন, আলী ওমর, শারাফ বিন আনোয়ার, মো. শাহিদ মোরসালিন ও ইরতিশ জায়েদ লিয়াম।</p><p>অরিজিৎ সাহা বলে, ‘এবার আমার প্রস্তুতি বেশ ভালো ছিল এবং স্বর্ণপদকের প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু সংক্ষিপ্ত ও রচনামূলক কোনোটিই প্রত্যাশামতো হয়নি, যদিও এক্সপ্লোরেশন বেশ ভালো হয়েছিল।’ তাহমিদের মতো আইএমএসওতে এটিই অরিজিতের শেষ অংশগ্রহণ। তবে তার সামনের লক্ষ্য আরও বড়। সে জানায়, ‘এখন থেকেই আইজেএসও এবং আইএমওর জন্য প্রস্তুতি নিতে চাই।’ ভবিষ্যতে গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানে উচ্চতর পড়াশোনা করার ইচ্ছা রয়েছে অরিজিতের।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/events/r0uvhyityz">আন্তর্জাতিক এআই অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের দুই রৌপ্য ও দুই ব্রোঞ্জ জয়</a></aside><p>উল্লেখ্য, বাংলাদেশ গত বছর মালয়েশিয়ার কেদাহে অনুষ্ঠিত ২২তম আয়োজনে প্রথমবারের মতো অংশ নেয়। সেবার ১২ জনের সবাই পদক পেয়েছিল (২টি রৌপ্য ও ১০টি ব্রোঞ্জ)। এবার প্রতিযোগীর সংখ্যা বেড়ে ১৬ হয়েছে, এসেছে বাংলাদেশের প্রথম স্বর্ণপদক। বেড়েছে রৌপ্যপদকের সংখ্যাও। এই দলের সঙ্গে আরও ছিলেন দলের দলনেতা তানভীরুল ইসলাম, বিজ্ঞানের প্রশিক্ষক মিম নাজ রহমান ও গণিতের প্রশিক্ষক সামিরা সুমাইয়া।</p><p>বিজ্ঞানের প্রশিক্ষক মিম নাজ রহমান বলেন, ‘প্রতিযোগীদের একাগ্রতা, অভিভাবকদের পরিশ্রম আর মেন্টরদের সার্বক্ষণিক পরিচর্যার সমন্বয়েই এই সাফল্য। আগামী বছর আমরা আরও ভালো ফল করতে চাই।’</p><p>আইএমএসও বাংলাদেশের কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর এবং বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক ও বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতির সভাপতি মুনির হাসান বলেন, ‘গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে অংশ নিচ্ছে। গণিত থেকে শুরু করে পদার্থবিজ্ঞান, ইনফরমেটিকস, বিজ্ঞান, এআই—নানা ক্ষেত্রে আমাদের ছেলেমেয়েরা এখন নিয়মিত আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের সক্ষমতার পরিচয় দিচ্ছে। আমার মনে হয়, এবার আমাদের পরবর্তী ধাপ নিয়ে ভাবার সময় এসেছে; বাংলাদেশকেও একটি বড় আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডের আয়োজক হতে হবে।’</p><p>বাংলাদেশ গণিত ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড আয়োজন করে বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক, বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি ও ম্যাসল্যাব। এই আয়োজনে পাওয়ার্ড বাই হিসেবে ছিল পুষ্টি। ম্যাগাজিন পার্টনার হিসেবে ছিল কিশোর আলো এবং বিজ্ঞানচিন্তা। এ ছাড়া সহযোগিতা করেছে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, টিবিএস গ্র্যাজুয়েটস, টেমস একাডেমি, রিফ্লেকটিভ টিনস, শৈশব ও নিত্য উপহার।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/events/yg4id74of8">রোবট প্রদর্শনীতে উদ্ভাবনের চমক, দক্ষিণ কোরিয়া যাচ্ছে টিম বাংলাদেশ</a></aside>
ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। তখন এ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এই প্রেক্ষাপটে রিহ্যাব সেন্টারটির দুই কর্মীকে আটক করল পুলিশ।
সিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ দম্পতির বিরুদ্ধে ভেনেজুয়েলার কারাগারে আটক মার্কিনদের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় ভূমিকা রাখার নতুন অভিযোগ আনা হচ্ছে।
<p>হলিক্রস উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে ২০২৭ সালে দিবা শাখায় ষষ্ঠ শ্রেণিতে ছাত্রী ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ভর্তির আবেদন ফরম ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ২৮, ২৯ অক্টোবর ও ০১ নভেম্বর ২০২৬, সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে বিদ্যালয় থেকে সংগ্রহ করা যাবে।</p><p> <strong>জরুরি তথ্য</strong></p><p> ১. বাবা অথবা মা যেকোনো একজনকে ভর্তির আবেদন ফরম সংগ্রহ করতে হবে।</p><p> ২. আবেদন ফরমের মূল্য ৩০০ টাকা, যা ফেরত দেওয়া হবে না।</p><p> ৩. সঠিক পরিমাণ টাকা সঙ্গে আনতে হবে, কোনো ভাঙতি দেওয়া যাবে না।</p><p> ৪. এ বিদ্যালয় থেকে দেওয়া আবেদন ফরমটি ছাত্রীর নিজ হাতে পূরণ করতে হবে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/education/n22bjl1ztq">আগের নিয়মেই ফিরছে ক্যাডেট কলেজের ভর্তি পরীক্ষা, ২০২৭–এর সিলেবাস প্রকাশ</a></aside><p><strong>প্রার্থীর যোগ্যতা</strong></p><p># প্রার্থীর যোগ্যতা ২০২৭ সনে দিবা শাখায় ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী ছাত্রীর বয়স ১ জানুয়ারি ২০২৭ সালে ১০ থেকে ১১ বছরের মধ্যে হতে হবে।</p><p># শিক্ষা বোর্ড দেওয়া ২০২৬ সালের ৫ম শ্রেণির বোর্ডের পাঠ্যপুস্তকের বিষয়বস্তু সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান থাকতে হবে।</p><p><strong>পূরণ করা ফরম জমা ও প্রার্থী বাছাই কার্যক্রম</strong></p><p># তারিখ: ১৩ নভেম্বর ২০২৬ শুক্রবার ।</p><p># সময়: সকাল ৮ থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত। (উপস্থিত হতে হবে: সব প্রার্থীকে সকাল ৮টায়)।</p><p># বিষয়: বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/education/admission/xm2k17fat1">শহীদ বীর উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস কলেজে নার্সারিতে ছাত্রী ভর্তি, আবেদন শেষ ১৫ নভেম্বর </a></aside><p><strong>পূরণ করা ফরমের সঙ্গে নিচের কাগজপত্র জমা দিতে হবে</strong></p><p>১. জন্ম নিবন্ধন সনদের ‘ডিজিটাল রঙিন কপি’ জমা দিতে হবে।</p><p>২. খ্রিষ্টান প্রার্থীদের জন্মনিবন্ধন সনদের ‘ডিজিটাল রঙিন কপি’ এবং বাপ্তিস্ম সার্টিফিকেটের ‘অরিজিনাল কপি’ জমা দিতে হবে।</p><p>৩. শিক্ষার্থীর ২০২৬ সালে পড়াশোনা করা বিদ্যালয়ের স্কুল ড্রেসে পাসপোর্ট সাইজের এক কপি ‘রঙ্গিন ছবি’ ফরমের সঙ্গে লাগিয়ে দিতে হবে।</p><p>৪. মা ও বাবার ‘এনআইডি’ একই পৃষ্ঠায় ফটোকপি করে জমা দিতে হবে।</p><p>৫. শিক্ষার্থীর ২০২৬ সালে পড়াশোনা করা বিদ্যালয় হতে প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হবে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/education/admission/ia19yultx3">হলি ক্রস স্কুলে ২০২৭ সালে প্রথম, ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণিতে ভর্তি, ফরমের মূল্যসহ যা যা জানা প্রয়োজন</a></aside><p><strong>দরকারি তথ্য</strong></p><p>১. ফলাফল ঘোষণার তারিখ ও ফলাফল <a href="https://holycrossgirlshighschool.com/" target="_blank" rel="nofollow">বিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে</a> জানিয়ে দেওয়া হবে।</p><p>২. ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি প্রক্রিয়ার সব তথ্য ও সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।</p><p>৩. ভর্তি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী সব ছাত্রীর মা-বাবা ও অভিভাবকেরা এই বিদ্যালয়ের প্রচলিত সব নিয়মকানুন মেনে নিতে সম্মত রয়েছেন বলে বিবেচিত হবেন।</p><p>৪. ওপরে দেওয়া সব নিয়মকানুনের সঙ্গে ভর্তির আবেদন ফরম পূরণ করা সব শিক্ষার্থীর মা-বাবা বা অভিভাবকদের সম্মতি রয়েছে বলে বিবেচিত হবে।</p><p># <a href="https://holycrossgirlshighschool.com/" target="_blank" rel="nofollow">বিস্তারিত তথ্য জানতে ওয়েবসাইট: </a></p>
কেউ পছন্দের বই হাতে নিয়ে পাতা উল্টে দেখছেন, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে বই নিয়ে কথা বলছেন। কেউ আবার বই কিনে সেখানেই বসে পড়ছেন।
ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। এদিকে, বাংলাদেশে আসন্ন দুর্গাপূজায় টানা তিনদিন সরকারি ছুটি পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা, তবে তাদের এক দিনের সপ্তাহিক ছুটি কমছে।
বলিউড অভিনেতা নানা পাটেকর ৭৫ বছর বয়সে মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার সকালে গোয়া রাজ্যে তার মৃত্যু হয়।
তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরকে সামনে রেখেই একগুচ্ছ বার্তা নিয়ে দিল্লি গেছেন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী; চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ২৯ শতাংশ; এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়ে নির্ধারণ করলেও তা মানছেন না বিক্রেতারা— এ সংক্রান্ত খবর ঢাকা থেকে প্রকাশিত পত্রিকায় গুরুত্ব পেয়েছে।
ককরোচ জনতা পার্টি, বামপন্থি দল ও সংগঠনগুলোর যে বিক্ষোভ ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে গত সপ্তাহ ধরে শুরু হয়েছে, তাদের সঙ্গে ইন্ডিয়া জোটের দলগুলোও যুক্ত হয়েছে।
একটি প্লেগ গবেষণা কেন্দ্রে একজন রুশ টেকনিশিয়ানের মৃত্যু নিয়ে কী জানা যাচ্ছে? তিনি ঠিক কীভাবে মারা গেলেন? আর প্লেগ নিয়ে মানুষের আসলে কতটা চিন্তিত হওয়া উচিত?
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক বলেছে, গত চার বছরে দেশটিতে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৮০ লাখ। এর মধ্যে গত এক বছরেই প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছেন। আরও প্রায় ছয় কোটি ২০ লাখ মানুষ, যারা এখন নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণিতে অবস্থান করছেন, তারাও দরিদ্র শ্রেণিতে নেমে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাষ্কর্যে জুতার মালা পরানোর ঘটনা সামনে আসার পর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে ভাঙচুরের শিকার মুক্তিযুদ্ধের স্থাপনা ও ভাষ্কর্যের রক্ষা বা সংস্কারে বর্তমান সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে?
পূর্ব লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেলে অবস্থিত ‘আপনজন’ নামক একটি বাংলাদেশি এলজিবিটি সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্কিত পৃথক পৃথক ভুয়া দাবির অভিযোগে মঙ্গলবার ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে জাল প্রমাণ তৈরিতে সাহায্যের জন্য সাড়ে চার হাজার পাউন্ড পর্যন্ত অর্থ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে।
বাংলাদেশে কার্যক্রমের ১৫ বছর পূর্ণ করেছে স্পোর্টস ও জীবনধারাভিত্তিক পণ্য ব্র্যান্ড লোটো। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই সময় গাজীপুরের কাপাসিয়ায় নতুন কারখানার উদ্বোধন করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ক্রিল লেন্ডার জানান, তিনি বগুড়া থেকে লোকাল ট্রেনে সান্তাহার হয়ে নাটোরে আসেন। পরে ভারত যাওয়ার জন্য নাটোর রেলস্টেশনের ওয়েটিং রুমে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় ২০ থেকে ২৫ বছর বয়সী এক যুবক তার কাছে এসে টিকিট করে দেওয়ার কথা বলেন। কথাবার্তার একপর্যায়ে ওই যুবক তার ল্যাপটপ ও ক্যামেরা থাকা ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায়।
গ্যাস সংকটে আট মাস বন্ধ থাকার পর উৎপাদনে ফেরার দুই দিনের মাথায় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে জামালপুরের সরিষাবাড়ীর যমুনা সার কারখানায় সার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে।
দুজনেই মহাতারকা। দুজনেই ফুটবলকে দিয়েছেন অবিশ্বাস্য সব মুহূর্ত। কিন্তু আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাঁদের বিদায়ের ছবিটা এখন যেন দুই মেরুর। একদিকে লিওনেল মেসি বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্তালে প্রায় লক্ষ মানুষের ভালোবাসায় শেষ করেছেন আর্জেন্টিনা অধ্যায়।
ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় ঝালকাঠির সুগন্ধা ও বিষখালী নদীতে মাছ ধরা বন্ধ রয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে মাছ ধরা বন্ধ রয়েছে। জেলেরা নৌকা ট্রলার নিয়ে ঘাটে ফিরছে ।
মেঘনা ব্যাংক পিএলসি মেঘনা-পে-এর মাধ্যমে বাংলা কিউআর পেমেন্ট সেবা চালু করেছে। সমন্বিত ডিজিটাল লেনদেন সুবিধা সম্প্রসারণ ও নগদবিহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এ সেবা চালু করেছে ব্যাংকটি।
রোনালদো ও মেসির লড়াইয়ে দেড় যুগেরও বেশি সময় মেতে ছিল ফুটবল সমর্থকরা। কখনো তাদের ব্যালন ডি’অর অর্জনের, কখনো গোলের রেকর্ড ভাঙার, কখনো ক্লাব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই চলেছে।
সর্বশেষ, গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের চিরতরে তাড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনাও সফল হয়নি। বারবার বাস্তুচ্যুতি, অনাহার, বাড়িঘর ও অবকাঠামো ধ্বংস এবং “স্বেচ্ছায় দেশত্যাগের” নানা লোভ দেখিয়ে ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের দেশ ছাড়তে বাধ্য করার চেষ্টা করেছে। ধ্বংসলীলা গাজাকে বসবাসের অযোগ্য করে তুললেও, এখানকার বেশিরভাগ মানুষ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে তারা দেশ ছাড়বে না। এমনকি মিশর থেকে অনেকে আবার ফিরেও এসেছেন। এই মুহূর্তে এটা স্পষ্ট যে, গাজায় ইসরায়েল এখন এক মারাত্মক সংকটের মুখোমুখি। তাদের সামরিক বাহিনী পুরো উপত্যকাকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে পারে, কিন্তু ইসরায়েলের নিজস্ব লক্ষ্য পূরণ করতে পারে এমন কোনো নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তারা তৈরি করতে পারছে না। গাজাকে এক নরকীয় ভূদৃশ্যে পরিণত করলে ফিলিস্তিনিরা চরম হতাশায় নিজেদের অধিকার ও সংগ্রামের আশা ছেড়ে দেবে— এই ধারণাও ভুল প্রমাণিত হয়েছে। ফিলিস্তিনিদের টিকে থাকা, তাদের অবিরাম প্রতিরোধ এবং বিশ্বজুড়ে ফিলিস্তিনি দাবির ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক গুরুত্ব এটাই প্রমাণ করে যে, ইসরায়েলের এই নৃশংস আগ্রাসন পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। সামরিক শক্তি সাময়িকভাবে কোনো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, কিন্তু তা দিয়ে নিজে থেকে কোনো রাজনৈতিক বৈধতা পাওয়া যায় না। বরং উল্টোটা হয়— এটি দেশের সব বৈধতা ধ্বংস করে দেয়। আর ইসরায়েলি সরকার ও তাদের সামগ্রিক প্রকল্পের ক্ষেত্রে ঠিক এই ঘটনাই ঘটেছে। গত মাসে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে যখন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মঞ্চে ওঠেন, তখন বেশিরভাগ সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা সভাকক্ষ থেকে ওয়াকআউট করে চলে যান। যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC) নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেছে। আর এই জঘন্য যুদ্ধ কেবল তাঁর আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তুই ধ্বংস করেনি। বিশ্বের বেশিরভাগ মানুষের কাছে ইসরায়েল দিন দিন আরও বেশি ঘৃণিত হয়ে উঠছে। ৩৬টি দেশে চালানো পিউ রিসার্চ সার্ভিসের এক জরিপে দেখা গেছে, ৬৭ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ইসরায়েলকে নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখে। ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশের নাগরিকরাও তাদের খুব খারাপভাবে দেখছে: যুক্তরাষ্ট্র— ৬০ শতাংশ; জার্মানি— ৭৩ শতাংশ; যুক্তরাজ্য— ৬৯ শতাংশ এবং ফ্রান্স— ৬৮ শতাংশ। ওয়াশিংটনে ইসরায়েলকে মার্কিন সমর্থন দেওয়া নিয়ে বিতর্ক এখন এতদূর গড়িয়েছে যে, অনেক আইনপ্রণেতাই সামরিক সাহায্য কমানো বা নিষেধাজ্ঞা আরোপের পক্ষে বিল আনছেন। ইউরোপের রাজধানীগুলোতেও একই ধরনের আলোচনার জেরে অবৈধ ইসরায়েলি বসতিগুলোর সাথে বাণিজ্যের ওপর সম্প্রতি নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। আজ ইসরায়েলি নেতারা জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন, নিজেদের সামরিক সাফল্যের বড়াই করবেন, শক্তির উল্লাস করবেন এবং আরও প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দেবেন। কিন্তু আসল সত্য হলো— সর্বাধুনিক যুদ্ধবিমান, অত্যাধুনিক ড্রোন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে পরিচালিত ৯০০ টন ওজনের বোমা নিয়ে সজ্জিত বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সামান্য কিছু হালকা অস্ত্র হাতে থাকা একটি দুর্বল গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এই গণহত্যা যুদ্ধ শুরু করেছিল... এবং শেষ পর্যন্ত হেরে গেছে। মানুষকে মেরে ফেলা যায়, বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া যায় এবং জমি দখল করা যায়, কিন্তু দশকের পর দশক ধরে বিশ্বজুড়ে মানুষের মনে যে ন্যায়সঙ্গত আন্দোলন বেঁচে আছে, তা সামরিক শক্তি দিয়ে কখনো মুছে ফেলা যায় না।