<p>সাররাজ আজকাল ফেসবুকে ঢুকতেই পারছে না। ঢুকলেই তার নিজেকে গৃহবন্দী লাগছে। নিউজ ফিডজুড়ে শুধু সবুজ-কমলা-নীল রঙের বাংলাদেশ। ঘটনা কী? ঘটনা হলো, সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন নতুন ট্রেন্ড, ‘বাংলাদেশ ভ্রমণ ম্যাপ’। কে কত জেলা ঘুরেছে, তা–ই দেখা যাচ্ছে এ ম্যাপে। এ জায়গায় সাররাজ বড্ড নিরুপায়। সে মাত্র দুটো জেলা দেখেছে, নিজের বাসা ঢাকা আর কোনো এক আদিকালে পরিবার তাকে কক্সবাজারে নিয়ে গিয়েছিল সঙ্গে করে।</p><p>নাহ! এটা সাররাজের জন্যে বড়ই অপমানজনক। কোনোভাবেই এটা সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা যাবে না, এ রকম দুরবস্থা দেখলে তার যা ফ্যান–ফলোয়ার আছে, সেগুলোও ছি! ছি! করে আনফলো করে দেবে। এখন আবার ট্রেন্ডিংয়ের সাথে তাল না মেলালে তার এত সুন্দর আইডির রিচ কমে যাওয়ার ভয়। কী করা যায় ভাবতে ভাবতে তার যথারীতি ৬৯টা উপায় মাথায় এল, যেগুলোর মাধ্যমে জেলার সংখ্যা সে বাড়াতে পারবে।</p><p>এর মধ্যে কয়েকটাকে সাররাজ বেশি প্রাধান্য দিল:</p><p>১। হাইওয়ে নীতি</p><p>এ নীতিতে সাররাজের বাস ঢাকা থেকে কক্সবাজারে যাওয়ার পথে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, কুমিল্লা, ফেনী, চট্টগ্রাম হয়ে গেছে অর্থাৎ এ সুযোগে সেসব জেলাও সুযোগ পেয়ে যাবে ম্যাপের মধ্যে। সহজ বাংলায় ‘বাস তো ওখান দিয়েই এসেছে’।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/opoz47soeu">এত দিন যাত্রী আমাকে খুঁজত। এখন শুনছি সরকারও আমাকে খুঁজবে! —বাংলার টেসলা</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/i81ladl0cs">আমারও একটা ডিভোর্স হয়েছে</a></aside><p>২। হাইওয়ে নীতি নিয়ে একটু বিতর্ক হতেই পারে। তাই সাররাজ ঠিক করল যে তার বাসকে প্রতিটি জেলায় দাঁড় করাবে। নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর ব্রিজের যানজটে বাসটাকে আটকে দিল। এতে সেখানে সে বাস থেকে ব্রিজের ওপর হাঁটাহাঁটি করল, মানে তার পদধূলি ওই জেলায় পড়েছে। অর্থাৎ তালিকায় নারায়ণগঞ্জ যুক্ত হলো। এরপর বাসটাকে মুন্সিগঞ্জ জেলায় মানাবে অ্যামিউজমেন্ট পার্কের সামনে আটকে দিল যানজটে। তবে প্রতিবার যানজটে আটকানো যায় নাকি? একটু তো ভিন্নতা থাকতে হবে যাতে ফ্যান–ফলোয়াররা সন্দেহ না করে। তাই এবার বরাবরের মতো যাত্রাবিরতি কুমিল্লায় দিয়ে তালিকায় কুমিল্লাও যুক্ত করল।</p><p>৩। ২–এর মতো একই উপায়, তবে কৌশল একটু ভিন্ন থাকায় সাররাজ একে নাম দিল ইকোরুম থিওরি। যাকে ভাঙলে শব্দ দুটো এমন হয়—ইকোনমি ও ওয়াশরুম; একসঙ্গে ইকোরুম থিওরি। এ আবার কেমন থিওরি? সে এ যাত্রায় বাসকে ফেনী জেলার একটা ফিলিং স্টেশনে ঢুকিয়ে দিল, ডিজেল নিতে হবে। এ সুযোগে সে ফেনীতে নেমে তার পদধূলি দিয়ে সেখানকার ওয়াশরুম ব্যবহার শেষে দোকান থেকে এক কাপ কড়া রং–চা নিল যার মাধ্যমে সেখানকার স্থানীয় অর্থনীতিতে অবদান রেখেছে এবং পানি ব্যবহার করেছে। একে তার ভাষায় ‘ভ্রমণ’ না বলাটা চরম অকৃতজ্ঞতা হবে। একই থিওরি সে চট্টগ্রামেও খাটাল। তবে এবার আর তার বাস থামাতে হয়নি। চট্টগ্রামে এসে বাস নিজে থেকেই কাউন্টারে থামে এবং যথারীতি সাররাজ তার ইকোরুম থিওরি প্রয়োগ করল।</p><p>এভাবে সাররাজের ম্যাপে ২টা জেলার সঙ্গে আরও ৫টা জেলা যুক্ত হয়ে মোট ৭টা হলো—ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, কুমিল্লা, ফেনী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার। তারপরও তো ১০টা পূরণ হচ্ছে না। তাই এবার তার ৪ নম্বর উপায়টা দেখে আসি।</p><p>৪। এ উপায়ে সাররাজ তার দূরসম্পর্কের আত্মীয়দের বাড়ি কোন কোন জেলায় আছে, তা খুঁজে বের করল। ঠিক এভাবে যে আমার দূরসম্পর্কের চাচাতো বোনের মেয়ে আমাকে মামা ডাকবে আর তার শ্বশুরবাড়ি নোয়াখালী এবং মামা হিসেবে আমাকে তার শ্বশুরবাড়ির পরিবারের মানুষই বলা যায় (কারণ, আত্মীয়তা মানেই পরিবারের অংশ)। তো মনস্তাত্ত্বিকভাবে আমি নোয়াখালীরও বাসিন্দা। এভাবে সে আরও ৩টা জেলা খুঁজে বের করে ১০টা পূরণ করল।</p><p>এবার সাররাজের মনে হলো, হ্যাঁ, ঠিক আছে। এবার কোনোরকমে এটা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দেওয়া যায়। তবে তার একটু আফসোসও হলো যে এত সুন্দর দেশটা সে কখনো দেখার জন্য বেরও হয়নি। তাই এবার সে পণ করল, ধনধান্যে পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা দেখতে সে আসলেই ভ্রমণের জন্যে বের হবে।</p>
<p>অনেক সময় মনে হয়, কোনোভাবে কেবল দিনটা পার করে দিচ্ছি। চাপ, দুশ্চিন্তা, ক্লান্তি কিংবা হতাশার মধ্যেও কাজ করে যাচ্ছি। তখন নিজেকে হয়তো খুব একটা শক্তিশালী মনে হয় না। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই টিকে থাকাটাই হতে পারে আপনার মানসিক দৃঢ়তা বা রেজিলিয়েন্সের লক্ষণ।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/ooghkug4/pexels-photo-7580707.avif"><figcaption>রেজিলিয়েন্স মানে সব পরিস্থিতিতে শক্ত থাকার চেষ্টা করা কিংবা কোনো কিছুতেই ভেঙে না পড়া নয়</figcaption></figure><h3>মানসিক দৃঢ়তা বা রেজিলিয়েন্স কী? </h3><p>রেজিলিয়েন্স মানে সব পরিস্থিতিতে শক্ত থাকার চেষ্টা করা কিংবা কোনো কিছুতেই ভেঙে না পড়া নয়। নিউইয়র্ক ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির মনোবিজ্ঞান ও কাউন্সেলিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রবার্ট আলেকজান্ডারের মতে, এটি মূলত মানসিকভাবে নমনীয় থাকা। আর অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যেও সামনে এগিয়ে যেতে পারা।</p><p>চাপ আসবেই। গুরুত্বপূর্ণ হলো, সেই চাপ থেকে আপনি কতটা দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারছেন। দীর্ঘদিনের অতিরিক্ত চাপ শরীর ও মনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে মানসিক দৃঢ়তা চাপ সামলে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সাহায্য করে।</p><p>আপনার মধ্যেও হয়তো এমন কিছু লক্ষণ আছে, যেগুলোকে আপনি রেজিলিয়েন্স হিসেবে কখনো ভাবেননি।</p><h3>১. কঠিন সময়েও দায়িত্ব পালন করেন</h3><p>দুশ্চিন্তা, হতাশা বা অতিরিক্ত চাপের মধ্যেও প্রয়োজনীয় কাজ করে যাওয়া মানসিক দৃঢ়তার লক্ষণ। চাপ অনুভব করেও সিদ্ধান্ত নিতে ও দায়িত্ব পালন করতে পারাটাই গুরুত্বপূর্ণ।</p><h3>২. চাপের মধ্যে আটকে থাকেন না</h3><p>চাপ অনুভব করার পর ধীরে ধীরে নিজেকে সামলে আবার কাজে ফিরতে পারা রেজিলিয়েন্সের ইঙ্গিত।</p><h3>৩. প্রয়োজন হলে সাহায্য চান</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2025-09-23/krvdmvw5/Thumb.jpg"><figcaption>কখন সাহায্য প্রয়োজন, তা বুঝতে পারা এবং অন্যের সহযোগিতা গ্রহণ করাও মানসিক দৃঢ়তার অংশ</figcaption></figure><p>সবকিছু একা সামলানোই শক্তির পরিচয় নয়। কখন সাহায্য প্রয়োজন, তা বুঝতে পারা এবং অন্যের সহযোগিতা গ্রহণ করাও মানসিক দৃঢ়তার অংশ।</p><h3>৪. নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে পারেন</h3><p>সব সময় ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করাই শক্ত হওয়ার প্রমাণ নয়। মনোবিজ্ঞানী অ্যাডাম বোরল্যান্ডের মতে, নেতিবাচক আবেগ অনুভব করার সুযোগ দেওয়াও রেজিলিয়েন্সের অংশ। কথা বলা, ডায়েরি লেখা কিংবা নিজের অনুভূতিকে স্বীকার করে নেওয়া এতে সাহায্য করে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/eyb7wvywjb">এআইয়ের চোখে মানুষের সেরা ২৫ অনুভূতি</a></aside><h3>৫. কোন বিষয় আপনার নিয়ন্ত্রণে, তা বোঝেন</h3><p>ভয়, রাগ বা হতাশার বদলে পরিস্থিতিতে আপনি কী করতে পারেন, সেদিকে মনোযোগ দেওয়া মানসিক দৃঢ়তার লক্ষণ। নিজের ভূমিকা স্বীকার করে সমাধানের দিকে এগোনোও এর অংশ।</p><h3>৬. পরিকল্পনা বদলাতে পারেন</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2025-10-29/bu5crdl4/160.jpg"><figcaption>পরিস্থিতি বদলে গেলে নিজের প্রত্যাশা বা পদ্ধতিও বদলাতে পারা মানসিক নমনীয়তার পরিচয়</figcaption></figure><p>সব পরিকল্পনা অনুযায়ী জীবন চলে না। পরিস্থিতি বদলে গেলে নিজের প্রত্যাশা বা পদ্ধতিও বদলাতে পারা মানসিক নমনীয়তার পরিচয়।</p><h3>৭. নিজেকে শান্ত করতে পারেন</h3><p>চাপের মুহূর্তে গভীর শ্বাস নেওয়া, কিছুক্ষণ বিরতি নেওয়া, হাঁটাহাঁটি করা কিংবা ইতিবাচকভাবে নিজের সঙ্গে কথা বলা—এসব ছোট অভ্যাস নিজেকে সামলাতে সাহায্য করে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/81pspz0xsp">পরীক্ষার সময় সন্তানকে যেভাবে শান্ত রাখবেন</a></aside><h3>৮. মন না চাইলেও ছোট কাজগুলো করেন</h3><p>মানসিকভাবে ক্লান্ত থাকলেও খাওয়া, গোসল, ঘর গোছানো বা প্রয়োজনীয় কাজগুলো করে যাওয়া রেজিলিয়েন্সের লক্ষণ। ছোট, বাস্তবসম্মত লক্ষ্য পূরণের অভ্যাসও মানসিক দৃঢ়তা বাড়ায়।</p><h3>৯. বিশ্রামকে গুরুত্ব দেন</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2022-06/42bb3739-72ab-43b7-b3c5-b099cb939375/539A0628.JPG"><figcaption>পর্যাপ্ত ঘুম, শারীরিক সক্রিয়তা, পুষ্টিকর খাবার ও সামাজিক যোগাযোগ চাপ সামলাতে সাহায্য করে</figcaption></figure><p>মানসিক দৃঢ়তা মানেই সব সময় চাপের মধ্যে থাকা নয়। কখন থামতে হবে, কখন বিশ্রাম নিতে হবে, তা বুঝতে পারাও জরুরি। পর্যাপ্ত ঘুম, শারীরিক সক্রিয়তা, পুষ্টিকর খাবার ও সামাজিক যোগাযোগ চাপ সামলাতে সাহায্য করে।</p><h3>১০. ‘কোনোমতে দিনটা পার করছি’ এমন দিনে</h3><p>কখনো মনে হতে পারে, আজ শুধু দিনটা পার করাই কঠিন। তবু আপনি উঠে দাঁড়ান, প্রয়োজনীয় কাজ করেন এবং পরদিন আবার চেষ্টা করেন। এটিও মানসিক দৃঢ়তা। বোরল্যান্ডের মতে, সবকিছু নিখুঁত করার চেষ্টা না করে কখনো কখনো ‘চলার মতো’ কিছুকে মেনে নেওয়াও জরুরি। বিশেষ করে ক্লান্ত সময়ে ছোট ছোট সাফল্যগুলোকে স্বীকৃতি দেওয়া দরকার।</p><p><sup>সূত্র: দ্য হেলদি</sup></p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/health/49g00g6xlc">বিবলিওথেরাপি বা বইয়ের মাধ্যমে কি আসলেই মানসিক চিকিৎসা সম্ভব?</a></aside>
<p>কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে বার্তা পাঠানোর পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত লেখা যায়। আর তাই বিভিন্ন ব্লগ পোস্ট, প্রবন্ধ, ই–মেইল থেকে শুরু করে গবেষণাপত্র ও পত্রিকার কলাম লেখায় এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে। বর্তমানে অনেক এআই মডেল মানুষের লেখার মতোই সাবলীলভাবে লিখতে পারায় সেগুলো মানুষ না এআই লিখেছে, তা সহজে বোঝা যায় না। আর তাই ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নতুন এআই আইন মেনে চলতে চ্যাটজিপিটি দিয়ে লেখা বার্তা, ব্লগ পোস্ট, প্রবন্ধ, ই–মেইল থেকে শুরু করে গবেষণাপত্রে অদৃশ্য জলছাপ যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে ওপেনএআই।</p><p>ওপেনএআই জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোয় বসবাসকারীদের জন্য নতুন এ সুবিধা চালু করা হবে। সুবিধাটি চালু হলে চ্যাটজিপিটি ও কোডেক্স এআই মডেলের মাধ্যমে কোনো বার্তা লেখার সময়ই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অদৃশ্য জলছাপ যুক্ত হয়ে যাবে। এই জলছাপ চোখে দেখা না গেলেও বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করা সম্ভব। ফলে এআই দিয়ে লেখা আধেয় বা কনটেন্ট দ্রুত শনাক্ত করা যাবে।</p><p>ওপেনএআইয়ের তথ্যমতে, ‘টেক্সটগ্রেইন’ প্রযুক্তির মাধ্যমে এআই দিয়ে লেখা সব তথ্যে অদৃশ্য জলছাপ যুক্ত করা হবে। এ জন্য এআই মডেলের শব্দ ও বাক্যের মধ্যে বিশেষ ধরনের পরিসংখ্যানগত সংকেত তৈরি করা হবে। সাধারণভাবে লেখা পড়ার সময় এসব সংকেত শনাক্ত করা যাবে না। তবে বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে সংকেতগুলো বিশ্লেষণ করে কোনো লেখায় অদৃশ্য জলছাপ রয়েছে কি না, তা শনাক্ত করতে পারবে ওপেনএআই। প্রযুক্তিটি এখনো উন্নয়নের পর্যায়ে থাকায় নতুন এ সুবিধা চালু হতে কয়েক সপ্তাহ দেরি হতে পারে।</p><p>প্রসঙ্গত, ইউরোপীয় ইউনিয়নের এআই আইনে নির্দিষ্ট ধরনের এআই–নির্মিত ও পরিবর্তিত কনটেন্টকে মেশিনের মাধ্যমে শনাক্ত করা যায়—এমন ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট সম্পর্কে স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং অনলাইনে তথ্যের উৎস সম্পর্কে ব্যবহারকারী ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও সচেতন করা। এই নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই ইউরোপে চ্যাটজিপিটির লেখায় অদৃশ্য জলছাপ যুক্ত করার সুবিধা চালু করতে যাচ্ছে ওপেনএআই।</p>
পথ কখনো শেষ হয় না; বরং ভ্রমণস্মৃতি নিয়ে চেনা পথে ফিরে আসাই প্রেরণা হয়ে ওঠে নতুন কোনো পথ–সন্ধানের। এ–ও যেন ঠিক তেমনই এক ভ্রমণ অভিজ্ঞতা; যেখানে গল্প বলে পাহাড়, পাখির কূজনে ঘুম ভাঙে আর হৃদয় মাতে প্রকৃতির নানা রঙে।
বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার মাত্র ৫% নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক। বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে। তবে জোর দিচ্ছে নতুন সরকার।
এই টানাপোড়েনের মধ্যেই গত মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
জাপানের বিফুকায় গাড়ির দিকে তেড়ে এসে বনেটে হামলা চালায় এক ভালুক।
বৃত্তির জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা এককালীন ৮ হাজার টাকা এবং মাসে ৫ হাজার টাকা বৃত্তি পাবে। আবেদনের শেষ সময় ২০ অক্টোবর ২০২৬।
<p>ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশ-ভারত যৌথ কার্যদলের (জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ) বৈঠক শুরু হয়েছে। স্থলবন্দরের বাধা দূর করা, পাটপণ্যে ভারতের শুল্ক পুনর্বিবেচনা ও আমদানি-রপ্তানি স্বাভাবিক করা বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।</p><p> বৈঠকে যোগ দিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) আয়েশা আক্তারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের বাংলাদেশি প্রতিনিধিদল গতকাল নয়াদিল্লি গেছে।</p><p> বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দুই দেশের বাণিজ্য–ঘাটতি কমানো, পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা দূর করা আর বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের উপায় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হবে। বাংলাদেশি পাটপণ্যে ভারতের নতুন শুল্ক এবং ভারতীয় সুতা আমদানিতে বাংলাদেশের বিধিনিষেধও আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।</p><h3>তিন বছর পর বৈঠক</h3><p>বাংলাদেশ-ভারত যৌথ কার্যদলের আগের বৈঠক হয়েছিল ২০২৩ সালের ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায়। এর আগে ১৪তম বৈঠক হয় ২০২২ সালের ২ ও ৩ মার্চ নয়াদিল্লিতে।</p><p>২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। এর প্রভাব পড়ে বাণিজ্য আলোচনায়। ফলে নিয়মিত এই বৈঠক নির্ধারিত সময়ে হয়নি।</p><p>আগের বৈঠকগুলোয় স্থলবন্দর ও সমন্বিত সীমান্তচৌকির অবকাঠামো উন্নয়ন, বন্দরসংক্রান্ত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার, সীমান্ত হাট চালু, রেলপথে পণ্য পরিবহন ও আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পণ্যের মানদণ্ড নির্ধারণে সমন্বয় ও পারস্পরিক স্বীকৃতি, বাংলাদেশ-ভারত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি নিয়ে যৌথ সমীক্ষা ও পেট্রাপোল-বেনাপোল চেকপোস্ট ২৪ ঘণ্টা চালু রাখার বিষয়ও আলোচনায় ছিল।</p><h3>বিধিনিষেধে কমেছে স্থলপথের বাণিজ্য</h3><p>দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কে টানাপোড়েনের বড় বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে স্থলবন্দর ব্যবহারের ক্ষেত্রে। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ বেনাপোল, ভোমরা, সোনামসজিদ, বাংলাবান্ধা ও বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় সুতা আমদানির সুবিধা বন্ধ করে দেয়। সমুদ্রপথে আমদানির সুযোগ অবশ্য রাখা হয়।</p><p>এর কয়েক সপ্তাহ পর ভারত বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, প্লাস্টিক, পিভিসিসহ বিভিন্ন পণ্য স্থলপথে আমদানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে। ওই বছরের জুনে পাট ও নির্দিষ্ট কিছু বস্ত্রপণ্যের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ দেওয়া হয়।</p><p>এর প্রভাব পড়ে বেনাপোল স্থলবন্দরের রপ্তানি পরিসংখ্যানে। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে এই বন্দর দিয়ে ভারতে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি হয় ১ লাখ ৮৯ হাজার ৩৫৮ টন। আগের অর্থবছরে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৮১ হাজার ৪৪০ টন।</p><p>তবে পরিমাণ কমলেও রপ্তানি আয় প্রায় একই ছিল। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বেনাপোল দিয়ে রপ্তানি আয় হয় ১৭৫ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরে তা ছিল ১৭৬ কোটি ডলার।</p><h3>পাটপণ্যে ভারতের নতুন শুল্ক</h3><p>বৈঠকের আগে বাংলাদেশি পাটপণ্যে ভারতের নতুন শুল্ক আরোপের বিষয়টি সামনে এসেছে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে আমদানি করা পাটের সুতা ও টুইন, হেসিয়ান কাপড়, পাটের বস্তা ও স্যাকিং ক্লথের ওপর সংশোধিত অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক নির্ধারণ করে।</p><p>বাংলাদেশি পাটের সুতা ও টুইনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি টনে ৪৪৫ ডলার। ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন তদন্তের ভিত্তিতে এই শুল্ক আরোপ করা হয়নি। আগের শুল্কের মধ্যবর্তী পর্যালোচনার ভিত্তিতে হার পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।</p><p>এ ছাড়া গত ২৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশসহ পাঁচটি দেশ থেকে আমদানি করা পিইটি ফিল্মের ওপর প্রতি টনে সর্বোচ্চ ২১৮ ডলার অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক আরোপের সুপারিশ করেছে ভারতের বাণিজ্য প্রতিকার অধিদপ্তর (ডিজিটিআর)। বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান আকিজ বায়াক্স ফিল্মসের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত শুল্ক ৫৮ ডলার। তবে ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন না হওয়া পর্যন্ত এই সুপারিশ কার্যকর হচ্ছে না।</p><h3>ব্যবসায়ীদের দাবিও আলোচনায়</h3><p>নয়াদিল্লির বৈঠকের এজেন্ডা তৈরির আগে গত মে মাসে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ব্যবসায়ীরা স্থলবন্দরের বিধিনিষেধ প্রত্যাহার, অশুল্ক বাধা দূর করা ও আগে বাতিল হওয়া ট্রান্সশিপমেন্ট–সুবিধা পুনরায় চালুর সুপারিশ করেন।</p><p>বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার পবনকুমার তুলসীদাস বাধে গত মাসে এফবিসিসিআই নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে শুল্ক ও অশুল্ক বাধা কমানোর পাশাপাশি দুই দেশের ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে যৌথ ব্যবসায়ী টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়।</p><p>এর আগে গত আগস্ট মাসে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির ও ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকে সীমান্ত হাট চালু, স্থলবন্দরগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো ও ভারতীয় সুতা আমদানিতে বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের বিষয়টি আলোচনায় আসে।</p>
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন