‘যেদিন সে জন্ম নিছে, সেদিন থেকে এমনি নরমালে খাইতে পারে নাই। বুকের দুধও খাইতে পারে নাই। অনেক কষ্টে তারে আমি বাঁচাইছি।’
বাক্প্রতিবন্ধী মেয়েকে বড় করতে গিয়ে দিনের পর দিন এভাবেই লড়াই করেছেন ময়মনসিংহের ধোবাউড়ার নিয়তি ম্রোং। মেয়েকে শুধু বড়ই করেননি, পড়াশোনা করিয়ে প্রতিষ্ঠিতও করেছেন। স্কুল–কলেজের পড়াশোনা শেষ করে মেয়ে সুমনা ম্রোং এখন চাকরি করছেন। হাল ধরেছেন সংসারেরও।
গত ৩১ জুলাই ধোবাউড়া সদরের বণিকপাড়ায় বসে মেয়েকে বড় করার লড়াইয়ের কথা বলছিলেন নিয়তি ম্রোং।
তবে সুমনার এই পথচলা সহজ ছিল না। ছোটবেলায় স্কুলে গিয়ে পড়া বুঝতে পারলেও নিজের কথা শিক্ষককে বোঝাতে গেলেই তৈরি হতো সমস্যা। কথা বলার প্রতিবন্ধকতার কারণে পড়াশোনার পাশাপাশি সামাজিক নানা বাধার মুখেও পড়তে হয়েছে তাঁকে। তবে মেয়ের পাশে ছিলেন নিয়তি। মেয়ের হয়ে কথা বলেছেন, তাঁকে বুঝিয়েছেন। প্রতিবন্ধী মেয়ে বলে অবহেলা করেননি। অন্য সন্তানদের মতোই বড় করেছেন।

বাক্প্রতিবন্ধী মেয়েকে বড় করতে গিয়ে দিনের পর দিন এভাবেই লড়াই করেছেন ময়মনসিংহের ধোবাউড়ার নিয়তি ম্রোং। মেয়েকে শুধু বড়ই করেননি, পড়াশোনা করিয়ে প্রতিষ্ঠিতও করেছেন। স্কুল–কলেজের পড়াশোনা শেষ করে মেয়ে সুমনা ম্রোং এখন চাকরি করছেন। হাল ধরেছেন সংসারেরও।
পরিবারের সমর্থনে এগিয়ে যাওয়া
নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে এত দূর আসার পেছনে পরিবারের ভূমিকার কথাই বলেছেন সুমনা।
সুমনা বলেন, ‘প্রতিবন্ধী মানুষকে যদি তাঁর পরিবার প্রথমে সমর্থন না করে, সে বাইরের পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারে না। সে ক্ষেত্রে আমার পরিবার আমার সঙ্গে ছিল। তারপরও আমি অনেকগুলো বাধা পেয়েছি।’
প্রাথমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে পড়ার সময় অন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অবহেলা ও কটুকথা শুনতে হয়েছে তাঁকে। এসব পরিস্থিতিতে পরিবারই তাঁকে সাহস জুগিয়েছে।
সুমনা বলেন, ‘অন্যরা অনেক কথা বলবে। সেগুলো কানে তুলবে না—আমার পরিবার আমাকে এটাই বুঝিয়েছিল।’
পরিবারের এই সমর্থন আর নিজের অধ্যবসায়েই শেষ পর্যন্ত পড়াশোনা শেষ করে কর্মজীবনে প্রবেশ করেছেন সুমনা।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা পরিবার ও সমাজের সহযোগিতা পেলে যে স্বাবলম্বী হতে পারেন, সুমনা তার একটি উদাহরণ। শুধু সুমনা নন, ধোবাউড়ায় এমন আরও কয়েকটি উদাহরণ পাওয়া গেল।

পরিবারের এই সমর্থন আর নিজের অধ্যবসায়েই শেষ পর্যন্ত পড়াশোনা শেষ করে কর্মজীবনে প্রবেশ করেছেন সুমনা।
এক পা হারান কৃষক জামাল
ধোবাউড়ার চারুয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জামাল হোসেন। একসময় ঢাকার কারওয়ান বাজারে ডিমের ব্যবসা করতেন। ২০১২ সালে টাঙ্গাইল থেকে পিকআপে করে ডিম আনার সময় সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে এক পা হারান তিনি।
হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পর বদলে যায় তাঁর জীবন। জামাল বলেন, ‘যখন আমি ডিমের ব্যবসা করছি, তখন এলাকার ভাই–বেরাদার, আত্মীয়স্বজন আমার কাছে যাইতো, তাদের টাকা–পয়সা দিতাম। যখন আমি অ্যাক্সিডেন্ট করছি, তখন সবাই আমার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। কারণ, আমি একজন প্রতিবন্ধী।’
শুধু তা-ই নয়, বাইরে কোথাও যেতে হলেও পরিচিতদের অনেকে তাঁর সঙ্গে যেতে চাইতেন না। সময় নেই বলে এড়িয়ে যেতেন।
এই অবহেলা জামালকে দমাতে পারেনি; বরং ঘুরে দাঁড়ানোর সংকল্প করেন। নিজের জমিতে শুরু করেন কৃষিকাজ।
প্রথমে নিজে কিছু বিনিয়োগ করেন। পরে স্থানীয় একটি বেসরকারি সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে গড়ে তোলেন শাকসবজির খামার। এই কাজে তাঁকে প্রেরণা জোগান তাঁর স্ত্রী। সন্তানেরাও বাবাকে সাহস জুগিয়েছে। প্রতিবন্ধী বলে অবহেলা করেনি। দুঃসময়ে পরিবারকে পাশে পেয়ে দ্বিগুণ শক্তিতে কাজ শুরু করেন জামাল।
এখন নিজের খামারে উৎপাদিত ফসলের পাশাপাশি অন্য কৃষকদের কাছ থেকে শাকসবজি কিনে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেন জামাল। সবজির একটি দোকানও ভাড়া নিয়েছেন। বাড়ির উঠানে আছে গবাদিপশু ও ছাগল। সব মিলিয়ে জামাল এখন পুরোদস্তুর কৃষক। কৃষিকাজের আয় দিয়ে এক ছেলে ও এক মেয়ের পড়াশোনার খরচ চালাচ্ছেন। জামালের আশা—সন্তানদের সফলতা একদিন তাঁর জীবনের কষ্ট ভুলিয়ে দেবে।

ট্রাইসাইকেলে বদলে গেল রাজুর চলাফেরা
ধোবাউড়ার কলসিন্দুর গ্রামের যুবক রাজু শেখ। জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী। তবে এ জন্য পরিবারের সদস্যরা তাঁকে অবহেলা করেননি। গ্রামের মানুষের সঙ্গে মিশতে দিয়েছেন, সাধারণ মানুষের মতো চিন্তা করতে দিয়েছেন। ফলে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আসে। নিজের মতো করে কিছু করার উৎসাহ জাগে।
ইচ্ছাশক্তি থাকলেও চলাফেরায় সমস্যা হতো তাঁর। একসময় বিয়ারিংয়ের গাড়িতে চড়ে চলাফেরা করতে হতো তাঁকে। পরে একটি বেসরকারি সংস্থা তাঁকে একটি ট্রাইসাইকেল দেয়। এখন সেটিতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারেন রাজু।
নিজের একটি দোকানও দিয়েছেন। সেখানে বসে ব্যবসা করেন। নিজের কাজ নিজেই করছেন, আয়ও করছেন।
সুমনা, জামাল ও রাজুর গল্প আলাদা। কারও জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধকতা, কারও জীবনে তা এসেছে দুর্ঘটনার পর; কিন্তু তাঁদের তিনজনের গল্পেই একটি বিষয় অভিন্ন—পরিবার, সমাজ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও নিজের জীবন গড়তে পারেন।

ইচ্ছাশক্তি থাকলেও চলাফেরায় সমস্যা হতো তাঁর। একসময় বিয়ারিংয়ের গাড়িতে চড়ে চলাফেরা করতে হতো তাঁকে। পরে একটি বেসরকারি সংস্থা তাঁকে একটি ট্রাইসাইকেল দেয়। এখন সেটিতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারেন রাজু।

শুধু সহায়তা নয়, দরকার সমান সুযোগ
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করছেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ডিজঅ্যাবিলিটি ইন ডেভেলপমেন্টের (সিডিডি) নির্বাহী পরিচালক নাজমুল বারী। তাঁর মতে, সুযোগ পেলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা ভালো কিছু করতে পারেন। সমাজে এমন অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। তাঁদের সফল হওয়ার গল্প যত বেশি মানুষের সামনে তুলে ধরা যাবে, মানুষ তত বেশি সচেতন হবে।
নাজমুল বারী বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা কোনো পণ্য উৎপাদন করলে সেটি বিক্রির ক্ষেত্রেও তাঁদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। অনেক সময় ব্যবসার কাঁচামাল কিনতে তাঁদের মাঠে যেতে হয়। এ জন্য তাঁদের উপযোগী পরিবহনব্যবস্থা প্রয়োজন। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সেই সুবিধা পাচ্ছেন কি না, তা দেখতে হবে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত প্রতিবন্ধী ৪০ লাখের কিছু বেশি। তাদের কর্মসংস্থান ও জীবনমান উন্নয়নে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মূল সমস্যা শুধু চাকরি নিশ্চিত করা নয়। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি তাঁদের অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিভিন্ন স্থানে প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভবন নির্মাণের সময় এসব বিষয় নিশ্চিত করার জন্যও কাজ চলছে।
ধোবাউড়ার সুমনা মনে করেন, সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি আশপাশের মানুষের একটু উৎসাহ ও সহযোগিতা একজন প্রতিবন্ধী মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে। তাঁর নিজের জীবনই তার উদাহরণ। পরিবারের সমর্থন পেয়েছিলেন বলেই নানা বাধা পেরিয়ে তিনি দাঁড়াতে পেরেছেন।
ফারজানা শারমীন বলেন, বাংলাদেশ জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন এবং নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট (এনডিডি সুরক্ষা ট্রাস্ট) থেকে প্রতিবছর এসব এনজিওকে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। এখানে প্রণোদনার হার বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে, সেই চেষ্টা করা হচ্ছে।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩ অনুযায়ী কর্মক্ষেত্রে তাঁদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট, প্রবেশগম্যতা ও বিচারগম্যতা তথা সম–অধিকারের বিষয়টি প্রাধান্য দিতে সরকার কাজ শুরু করেছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
ধোবাউড়ার সুমনা মনে করেন, সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি আশপাশের মানুষের একটু উৎসাহ ও সহযোগিতা একজন প্রতিবন্ধী মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে। তাঁর নিজের জীবনই তার উদাহরণ। পরিবারের সমর্থন পেয়েছিলেন বলেই নানা বাধা পেরিয়ে তিনি দাঁড়াতে পেরেছেন।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
দক্ষিণ সিটিতে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী হিসেবে সাদিক কায়েমকে অভিনন্দন জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, আসুন, ঢাকার জন্য প্রতিযোগিতা হোক, কে কতটা ভালো সেবা ও পরিবর্তন দিতে পারি। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এসব কথা লেখেন। পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লেখেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে আবু সাদিক কায়েমকে আন্তরিক স্বাগত ও অভিনন্দন। তিনি আরও লেখেন, গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতায় মতের ভিন্নতা থাকুক, তবে থাকুক সৌহার্দ্য, সৌজন্য ও ইতিবাচক প্রতিযোগিতা। আসুন, ঢাকার জন্য প্রতিযোগিতা হোক, কে কতটা ভালো সেবা ও পরিবর্তন দিতে পারি। এর আগে, রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে উত্তর সিটিতে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও দক্ষিণ সিটিতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে এনসিপি। এএমএ
ভুয়া গ্রেফতারি পরোয়ানার (ওয়ারেন্ট) মাধ্যমে নাগরিকদের গ্রেফতার ও হয়রানি বন্ধে কোনো পরোয়ানা কার্যকর করার আগে পুলিশের সেন্ট্রাল ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম থেকে এর সত্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এ বিষয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) সার্কুলার জারি করে তা সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম ও বিচারপতি মুরাদ-এ-মওলা সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রুল নিষ্পত্তি করে এ রায় দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জে আর খান রবিন ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ হুমায়ন হোসেন তুহিন। রিটের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ ছারওয়ার আহাদ চৌধুরী ও নাসরিন সুলতানা। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, কোনো পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করতে গেলে প্রথমে কেন্দ্রীয় ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম থেকে পরোয়ানাটির সত্যতা যাচাই করতে হবে। এরপরই গ্রেফতারের ব্যবস্থা নিতে হবে। আরও পড়ুন অ্যাটর্নি জেনারেল-বিচারপতিদের নিরাপত্তা আগের মতোই বহাল আদালতের এই নির্দেশনা উল্লেখ করে আইজিপিকে সার্কুলার জারি করে তা সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায়ে আদালত বলেন, কোনো নাগরিককে গ্রেফতার করতে হলে ফৌজদারি কার্যবিধিতে নির্ধারিত বিধান অনুসরণ করে ব্যবস্থা নিতে হবে। এর ব্যত্যয় হলে তা আইনের লঙ্ঘন হবে। ভুয়া ওয়ারেন্টের মাধ্যমে কাউকে গ্রেফতার করা হলে তার মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়। এসব অধিকার নিশ্চিত করা সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব। আদালত আরও বলেন, আদালতের মাধ্যমে মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন, সেজন্য মামলা দায়ের ও গ্রেফতারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন অত্যন্ত প্রয়োজন। অন্যথায় একজন নাগরিকের যে ক্ষতি হয়, তা পরবর্তী সময়ে পূরণ করা সম্ভব নয়। এফএইচ/এএমএ
ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসা ও পুরস্কার পেয়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছিল তথ্যচিত্র ‘নাজা’। তবে উৎসবে সাফল্যের পর এবারই কঠিন চাপের মুখে পড়েছেন ছবিটির দুই নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম ও র্যাচেল জোর। ইসরায়েলের সংস্কৃতিমন্ত্রী মিকি জোহার তাদের নাগরিকত্ব বাতিলের হুমকি দিয়েছেন। সম্প্রতি ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে ‘নাজা’র প্রদর্শনী ঘিরে ব্যাপক সাড়া পড়ে। ছবিটির প্রদর্শনী শেষে দর্শকেরা প্রায় ২৪ মিনিটের দীর্ঘ করতালি দেন, যা উৎসবটির ইতিহাসে দীর্ঘতম বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ছবিটির নির্মাতারা তাদের কাজের জন্য বিশেষ জুরি পুরস্কারও পান। তবে ছবিটির বিষয়বস্তু নিয়ে ইসরায়েলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ‘নাজা’তে গাজায় ফিলিস্তিনি বেসামরিক মানুষের ওপর ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ড ও এর পেছনের ব্যবস্থাগুলো তুলে ধরা হয়েছে বলে ছবিটির আনুষ্ঠানিক পরিচিতিতে বলা হয়েছে। ইসরায়েলের সংস্কৃতিমন্ত্রী মিকি জোহার ছবিটিকে ‘চমকপ্রদ’ বলে মন্তব্য করার পাশাপাশি নির্মাতাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ তোলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার কারণে তিনি এই দুই নির্মাতার ইসরায়েলি নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ নেবেন। মন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, নির্মাতারা বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলবিরোধী মানুষের প্রশংসা পাওয়ার জন্য নিজেদের দেশের ক্ষতি করছেন। তবে নাগরিকত্ব বাতিলের হুমকি দেওয়ার বিষয়ে নির্মাতাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো পাল্টা বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ভেনিসে পুরস্কার গ্রহণের সময় ইউভাল আব্রাহাম বলেন, ছবিটি নিয়ে ইসরায়েলের রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিকদের সমালোচনা করা তার জন্য সহজ নয়। তার দাবি, ছবিটি না দেখেই অনেকে এর সমালোচনা ও অস্বীকার করছেন। আব্রাহাম আরও বলেন, কোনো অপরাধ অস্বীকার করাই সেটিকে টিকে থাকতে সহায়তা করে। তাই ইসরায়েলি নাগরিকদের এই ছবি দেখা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। একই সঙ্গে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের দর্শকদেরও ছবিটি দেখার আহ্বান জানান নির্মাতা। ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে ব্যাপক প্রশংসা পাওয়ার পর ‘নাজা’ এখন রাজনৈতিক বিতর্কেরও কেন্দ্রে। ছবিটির দুই নির্মাতাকে নাগরিকত্ব বাতিলের হুমকি দেওয়ার ঘটনা সেই বিতর্ককে আরও তীব্র করে তুলেছে। এলআইএ