নীলফামারীর দারোয়ানী টেক্সটাইল মিল পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) পদ্ধতিতে পুনরায় চালুর লক্ষ্যে বেসরকারি অংশীদার নির্বাচনের জন্য চুক্তির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এ প্রকল্পে প্রায় ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ এবং তিন হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবটি উপস্থাপন করা হয়। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশন (বিটিএমসি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এতে সরকারের বিনিয়োগ থাকবে না, শুধু মিলের জমি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে। প্রকল্পের অর্থায়ন করবে বেসরকারি অংশীদার।
প্রস্তাবনায় বলা হয়, বিটিএমসির নিয়ন্ত্রণাধীন ২৫টি মিলের মধ্যে ১৬টি মিল পিপিপি পদ্ধতিতে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে চারটি মিল পিপিপি পদ্ধতিতে বেসরকারি অংশীদারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
দারোয়ানী টেক্সটাইল মিলটি ৩৭ দশমিক ৮৬ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। মিলটি ১৯৮০ সাল থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত বাণিজ্যিকভাবে চালু ছিল। এটি পিপিপির আওতায় পুনরায় চালুর জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ক্লাসিক্যাল হ্যান্ডমেড প্রোডাক্টস বিডি লিমিটেড, ঢাকাকে প্রেফার্ড বিডার হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সম্পাদিতব্য চূড়ান্ত চুক্তির মেয়াদ হবে ৩০ বছর। মিলের ভূমি ব্যবহারের বিপরীতে বেসরকারি অংশীদার এককালীন ৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা সাইনিং মানি দেবে। পাশাপাশি তিন বছর গ্রেস পিরিয়ড শেষে প্রতি মাসে ১২ লাখ ৯১ হাজার ৬৬৭ টাকা কন্ট্রাক্ট ফি হিসেবে বিটিএমসিকে পরিশোধ করবে।
এছাড়া বেসরকারি অংশীদার পিপিপি কর্তৃপক্ষকে ডেভেলপমেন্ট ফি হিসেবে ৭৫ লাখ টাকা এবং বিটিএমসিকে ব্যাংক গ্যারান্টি হিসেবে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা প্রদান করবে।
প্রস্তাবনায় আরও বলা হয়, ১৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখের অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় চূড়ান্ত চুক্তিপত্রের নীতিগত অনুমোদনের প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছিল। তখন চুক্তির বিষয়ে লেজিসলেটিভ ও সংসদ-বিষয়ক বিভাগের মতামত গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের মতামত নিয়ে চুক্তিটি সংশোধন করে চূড়ান্ত করা হয়েছে।
এরপর ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬-এর ৩১ ধারা অনুযায়ী ক্লাসিক্যাল হ্যান্ডমেড প্রোডাক্টস বিডি লিমিটেডের সঙ্গে সম্পাদিতব্য চূড়ান্ত চুক্তিপত্রের নীতিগত অনুমোদনের জন্য প্রস্তাবটি আবার উপস্থাপন করা হয়।
পিপিপি পদ্ধতিতে মিলটি চালু হলে সেখানে আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন গ্রিন ফ্যাক্টরি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে প্রায় ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে।
একই সঙ্গে প্রায় তিন হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রকল্পটি দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এমএএস/এমকেআর
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
এশিয়া গেমসে সেমিফাইনালের হতাশা ভুলে আগামীকাল এশিয়ান গেমসে মিশন শুরুর হচ্ছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের। আইসিসির পূর্ণ সদস্য হিসেবে এই টুর্নামেন্টে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই মাঠে নামছে টাইগ্রেসরা। জাপানের নিশিন শহরের কোরোগি স্পোর্টস পার্কে আগামীকাল সকাল ৬টায় বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ চীন। গত এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জ জিতেছিল বাংলাদেশ। পাকিস্তানকে হারিয়ে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করেছিল নিগার সুলতানা জোতির দল। এবারও পদকের প্রত্যাশা নিয়ে জাপানে গেছে বাংলাদেশ। এশিয়া কাপ শেষে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে সরাসরি জাপানে গিয়েছে নারী দল। সেখানে অবশ্য বৃষ্টি আর সময় সল্পতায় পর্যাপ্ত অনুশীলন করতে পারেনি তারা। বুধবার পুরো অনুশীলন সেশন শেষ করে জ্যোতিরা। এশিয়ান গেমসে মাঠে নামার আগে কিছুটা অস্বস্তিও আছে বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমে। চতুর্মুখী সমালোচনায় টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব ছাড়তে চেয়ে বিসিবিকে মেইল দিয়েছেন নিগার সুলতানা জ্যোতি। ড্রেসিংরুমেও নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন আস্তে আস্তে। জ্যোতি অবশ্য এশিয়ান গেমসে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আজ অঘটন ঘটে গেলে টি-টোয়েন্টিতে অধিনায়ক হিসেবে জ্যোতি শেষ ম্যাচও হতে পারে এটা। এসকেডি/আইএইচএস/
রাজধানীর গুলশানে ককটেল বিস্ফোরণ ও নাশকতার অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় আরও দুইজনকে সাত দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম এই আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশীদ জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রিমান্ডে পাঠানো ব্যক্তিরা হলেন নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নরসিংদীর মহিসাসুরা ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রাসেল মাহমুদ (৪১) এবং দলটির সক্রিয় কর্মী মো. রফিক (৪০)। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রুহুল আমিন আসামিদের আদালতে হাজির করে সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) গোয়েন্দা পুলিশ রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে। আরও পড়ুন গুলশানে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল, গ্রেফতার ২৫ জন রিমান্ডে গত ১১ সেপ্টেম্বর গুলশানে সরকারবিরোধী এজেন্ডা বাস্তবায়ন, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং জনমনে আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাদের লক্ষ্য করেও ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায় এবং ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি তাজা ককটেল উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় গুলশান থানার এসআই মো. মাহবুব হোসাইন বাদী হয়ে ১১৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৮০ থেকে ১০০ জনকে আসামি করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করেন। এই মামলায় এর আগেও বিভিন্ন ধাপে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার ও রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। এমডিএএ/এমএমকে
মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির (এমআরএ) রাজস্ব খাতভুক্ত একাধিক শূন্য পদে জনবল নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। আগ্রহী যোগ্য প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে। আবেদন শুরু ১৭ সেপ্টেম্বর। আবেদন শেষ ১৬ অক্টোবরে।পদের নাম ও সংখ্যা:১. প্রোগ্রামার - ০২টি২. মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার—০১টি৩. সহকারী মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার—০১টি৪. উপসহকারী পরিচালক—০১টি৫. অফিস সহকারী কাম ডাটা এন্ট্রি অপারেটর—০৪টি৬. ডাটা এন্ট্রি অপারেটর—০২টি৭. অফিস সহায়ক—০১টিসমাজসেবায় ১৪৮৫ পদে নিয়োগ: আবেদনকারী কত, পরীক্ষার তারিখ কবেআবেদনের বয়সসীমা: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রার্থীর বয়স সর্বনিম্ন ১৮ বছর হতে হবে। পদের ধরন অনুযায়ী বয়স ৩২ থেকে ৩৫ বছর পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য।আবেদন প্রক্রিয়া: আগ্রহী প্রার্থীদের অনলাইনে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে।৫১তম বিসিএস সাধারণ না বিশেষ, কোনটি আগে আসছেবিনা মূল্যে এআই প্রশিক্ষণ, দিনে ভাতা ২০০, যাঁরা আবেদনের যোগ্য