জাতীয়

পদ্মায় পানি বৃদ্ধি, নাজিরগঞ্জ-ধাওয়াপাড়া রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ

News সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ 0
পদ্মায় পানি বৃদ্ধি, নাজিরগঞ্জ-ধাওয়াপাড়া রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ
পদ্মায় পানি বৃদ্ধি, নাজিরগঞ্জ-ধাওয়াপাড়া রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ

পদ্মা নদীতে দ্রুত পানি বৃদ্ধি এবং তীব্র স্রোতের কারণে পাবনার নাজিরগঞ্জ ও রাজবাড়ীর ধাওয়াপাড়া নৌরুটে দুই দিনেরও বেশি সময় ধরে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে উভয় ঘাটে আটকা পড়ে নদী পার হওয়ার অপেক্ষায় থাকা বহু পণ্যবাহী যানবাহন। তবে দীর্ঘ অনিশ্চয়তার কারণে অনেক চালক বাধ্য হয়ে বিকল্প পথ ধরেছেন।

স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন এই রুট দিয়ে গড়ে ২৫ থেকে ৩০টি ট্রাকসহ বেশ কিছু ব্যক্তিগত যানবাহন পারাপার হয়। পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও পার্শ্ববর্তী জেলার চালকেরা সময় ও খরচ বাঁচাতে এই পথ ব্যবহার করেন। এটি ব্যবহার করলে স্বাভাবিক দূরত্বের চেয়ে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পথ বেঁচে যায়। কিন্তু সে সুবিধা মিলছে না গত কয়েকদিন ধরে। এর বিপরীতে অতিরিক্ত ব্যয়ে উচ্চ ঝুঁকির স্যালো ইঞ্জিনচালিত ট্রলার বা স্পিডবোটে পারাপার হচ্ছেন যাত্রীরা। তবে পার হতে পারছেন না ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন। বাধ্য হয়ে বিকল্প রুটে অতিরিক্ত দূরত্ব অতিক্রম করে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে চালকসহ সংশ্লিষ্টদের।

স্থানীয় বাসিন্দা রাজু ও ওহাবসহ কয়েকজন জানান, ফেরি বন্ধ থাকায় শুরুতে বেশ কিছু যানবাহন ঘাট এলাকায় আটকে থাকলেও এখন তারা বাধ্য হয়ে ঘুরে বিকল্প রাস্তা দিয়েই যাচ্ছেন। এতে এই রুট ব্যবহারের ফলে ১০০ কিলোমিটার দূরত্ব কমায় যে ব্যয় ও ভোগান্তি ছিল না, সেটি এখন তাদের পোহাতে হচ্ছে। আপাতত ঘাটে ট্রাক বা কোনো যানবাহন নেই।

রাজবাড়ী থেকে পরিবার নিয়ে পাবনায় আসা আমিনুল ইসলাম নামের এক যাত্রী জানান, ফেরি বন্ধ। বাধ্য হয়ে স্ত্রী ও বাচ্চাদের নিয়ে ঝুঁকিতেই স্পিডবোটে পার হতে হয়েছে। এতে মাথাপিছু ১৫০ টাকা করে গুনতে হয়েছে। অথচ ফেরিতে খরচ হতো মাত্র ৩০ টাকা।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) সূত্রে জানা গেছে, এই রুটে ‘ক্যামেলিয়া’ নামের একটি কে-টাইপ ফেরি চলাচল করছিল। তবে নদীতে প্রবল চাপ ও তীব্র স্রোত তৈরি হওয়ায় ফেরিটি চালানো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে সোমবার ভোরে দুর্ঘটনা এড়াতে ফেরি চলাচল স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ। এতে ভোগান্তি বেড়েছে।

মাঝে মধ্যেই এই রুটে চলাচল করতে হয় জানিয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, সাধারণত নাজিরগঞ্জ ঘাট থেকে ধাওয়াপাড়া ঘাটে একটি মোটরসাইকেল ও দুজন যাত্রীর ভাড়া নেওয়া হয় ২৫০ টাকা। সেখানে ফেরি বন্ধ থাকায় মোটরসাইকেল বা কোনো যান নেওয়া যাচ্ছে না। ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে গেলেও মাথাপিছু ৮৫-৯৫ টাকা ভাড়া গুনতে হবে। আবার মোটরসাইকেলের জন্য ১৫০ টাকার মতো লাগবে। আর স্পিডবোটে তো এই সুযোগই নেই। এক্ষেত্রে যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে। দ্রুত বড় ফেরি দেওয়া বা ফেরি চলাচলের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

আরও পড়ুন

সারজিস আলম / নতুন রাজনৈতিক দল নেতৃত্ব না দিলে পুরোনো সিস্টেম আগ্রাসন চালাতে পারে

নাজিরগঞ্জ-ধাওয়াপাড়া ফেরি সার্ভিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও বিআইডব্লিউটিএর ব্যবস্থাপক এম এন আল শিবলী বলেন, কে-টাইপ ‘ক্যামেলিয়া’ ফেরিটি মাত্র ৭-৮টি ট্রাক বহন করতে পারে। স্রোতের কারণে বড় ফেরির চাহিদা পাঠানো হলে বিআইডব্লিউটিসি ১৫ থেকে ১৮টি যান বহনে সক্ষম ‘কদম’ নামের একটি ইউটিলিটি ফেরি বরাদ্দ করেছে।

আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, কুড়িগ্রামের রৌমারীতে থাকা ‘কদম’ ফেরিটি বৃহস্পতিবারের মধ্যে ঘাটে পৌঁছাবে। আশা করা যাচ্ছে, আগামী দুই দিনের মধ্যে এই রুটে পুনরায় ফেরি চলাচল শুরু করা সম্ভব হবে। পরবর্তীতে নদীর পানি কমলে পুরোনো ফেরিটিও চালু করা হবে।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের হাইড্রোলজিক্যাল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শিববার হোসেন জানান, গত কয়েকদিন ধরে প্রতিদিন ১০-১৫ সেন্টিমিটার পানি বাড়ছে। নাজিরগঞ্জ পয়েন্টের কাছে পদ্মা ও ব্রহ্মপুত্র (যমুনা) নদীর মিলনস্থল হওয়ায় দুই নদীর যৌথ প্রবাহের কারণে সেখানে অতিরিক্ত স্রোত ও পানির চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

আলমগীর হোসাইন নাবিল/এনএইচআর

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
আইফোন ডুওর দাম প্রায় ৫ লাখ, তবুও কেন মানুষ কিনবে
আইফোন ডুওর দাম প্রায় ৫ লাখ, তবুও কেন মানুষ কিনবে

আইফোন কিনতে গিয়ে এত দিন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল কোন মডেলের ক্যামেরা ভালো, ব্যাটারি বেশি টিকবে কিংবা প্রসেসর কতটা শক্তিশালী। কিন্তু এবার অ্যাপলের নতুন আইফোন ডুও সেই হিসাবটাই বদলে দিয়েছে। কারণ এটি আর সাধারণ স্মার্টফোন নয়। অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোনটি খুললেই পাওয়া যাচ্ছে ৭.৬ ইঞ্চির বড় ডিসপ্লে, অথচ বন্ধ করলে এটি আবার একটি পকেটসাইজ ফোন। খুললেই বদলে যাবে ফোনের চেহারা আইফোন ডুওর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ অবশ্যই এর ফোল্ডেবল ডিজাইন। খোলা অবস্থায় রয়েছে ৭.৬ ইঞ্চির ওএলইডি সুপার রেটিনা এক্সডিআর ডিসপ্লে। অ্যাপল বলছে, এটি এখন পর্যন্ত আইফোনে ব্যবহৃত সবচেয়ে বড় ডিসপ্লে। আর ফোনটি ভাঁজ করলে সামনে পাওয়া যাবে ৫.৪ ইঞ্চির কভার স্ক্রিন। ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী ছোট ফোনের মতো ব্যবহার করা যাবে, আবার ভিডিও দেখা, গেম খেলা বা কাজের সময় বড় স্ক্রিন পাওয়া যাবে। শুধু বড় স্ক্রিন নয়, কাজেও সুবিধা ডুওর বড় ডিসপ্লের আসল সুবিধা পাওয়া যাবে মাল্টিটাস্কিংয়ে। একই সঙ্গে একাধিক অ্যাপ ব্যবহার, ভিডিও দেখা, ওয়েব ব্রাউজিং কিংবা বড় স্ক্রিনে কাজ করার অভিজ্ঞতা অনেকটা ছোট ট্যাবলেটের মতো হতে পারে। অ্যাপল পেন্সিলের সমর্থনও রয়েছে, ফলে নোট নেওয়া বা সৃজনশীল কাজের ক্ষেত্রেও ফোনটি অন্য আইফোনের তুলনায় আলাদা। আরও পড়ুন আইফোনে ১৮ এর সঙ্গে আর কী কী আনলো অ্যাপল ক্যামেরাতেও রয়েছে নতুনত্ব পেছনে রয়েছে ৪৮ মেগাপিক্সেলের ফিউশন মেইন এবং ৪৮ মেগাপিক্সেলের ফিউশন আলট্রা ওয়াইড ক্যামেরা। মেইন ক্যামেরায় অপটিক্যাল-কোয়ালিটি 2x টেলিফোটো সুবিধাও রয়েছে। পাশাপাশি সেন্টার স্টেজ ফ্রন্ট ক্যামেরা ফ্রেমে থাকা ব্যক্তিদের অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিউ সামঞ্জস্য করতে পারে। সবচেয়ে মজার বিষয়, ডুও-প্রিভিউয়ের মাধ্যমে ফোনের বাইরের ডিসপ্লেতেই ছবির লাইভ প্রিভিউ দেখা যায়। ফলে পেছনের ক্যামেরা দিয়ে নিজের ছবি তোলার সময়ও ফ্রেম ঠিকভাবে দেখা সম্ভব। শক্তির দিক থেকেও পিছিয়ে নেই ফোনটিতে রয়েছে অ্যাপলের নতুন এ২০ প্রো চিপ। এর সঙ্গে উন্নত থার্মাল ম্যানেজমেন্ট দেওয়া হয়েছে, যাতে দীর্ঘ সময় গেম খেলা বা ভারী কাজের সময় পারফরম্যান্স ধরে রাখা যায়। অ্যাপলের দাবি, আইফোন ডুও আইফোন ১৭ প্রো-এর তুলনায় দীর্ঘ সময়ের পারফরম্যান্সে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত উন্নতি দিতে পারে। ব্যাটারির ক্ষেত্রেও রয়েছে বড় সুবিধা। ভেতরে দুই পাশে আলাদা উচ্চ-ক্ষমতার ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। অ্যাপলের হিসাবে, ভেতরের বড় স্ক্রিনে ৩১ ঘণ্টা পর্যন্ত এবং বাইরের স্ক্রিনে ৪৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ভিডিও প্লেব্যাক পাওয়া যেতে পারে। ম্যাগসেফ বা কিউআই২ ওয়্যারলেস চার্জারেও দ্রুত চার্জিংয়ের সুবিধা রয়েছে। তাহলে এত দাম দিয়ে কে কিনবেন? যুক্তরাষ্ট্রে এর দাম শুরু হচ্ছে ১ হাজার ৯৯৯ ডলার থেকে। এর ২টিবি মডেলের দাম প্রায় ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৯০০ রুপি পর্যন্ত যেতে পারে। ফলে ভারতীয় বাজারে ফোনটির দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় হিসাব করলে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকার বেশি হতে পারে। আরও পড়ুন আইফোন ১৮ প্রো-তে ক্যামেরায় বড় চমক, ফটোগ্রাফারদের জন্য আশীর্বাদ প্রশ্ন হচ্ছে, তাহলে এত দাম দিয়ে কে কিনবেন? সত্যি বলতে, শুধু ফোন করার জন্য বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের জন্য আইফোন ডুও কেনার যুক্তি খুব শক্তিশালী নয়। একই কাজ অনেক কম দামের আইফোন বা অ্যান্ড্রয়েড ফোনেও করা সম্ভব। কিন্তু যারা ফোল্ডেবল ফোনের নতুন অভিজ্ঞতা, বড় স্ক্রিনে কাজ, শক্তিশালী পারফরম্যান্স, উন্নত ক্যামেরা এবং অ্যাপলের ইকোসিস্টেম সবকিছু একসঙ্গে চান, তাদের কাছে ডুও-র আকর্ষণ আলাদা। আর সবচেয়ে বড় কারণ? এত দিন অ্যান্ড্রয়েড ফোনেই দেখা যেত ফোল্ডেবল আইফোন। এবার সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছে অ্যাপল। তাই প্রযুক্তিপ্রেমী এবং অ্যাপলের নতুন প্রযুক্তি সবার আগে ব্যবহার করতে চান এমন ক্রেতাদের কাছে প্রায় ৫ লাখ টাকার এই ফোনই হয়ে উঠতে পারে পরবর্তী বড় আকর্ষণ। কেএসকে

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
ঢাকায় জনবল নিয়োগ দেবে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক

ঢাকায় জনবল নিয়োগ দেবে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক

নামাজের সময়সূচি: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নামাজের সময়সূচি: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রসচিঠি

রসচিঠি

মাছরাঙা যেভাবে পানির নিচে শিকার করে
মাছরাঙা যেভাবে পানির নিচে শিকার করে

পুকুরপাড়ে শিকারের আশায় চুপচাপ বসে থাকে মাছরাঙা। ঠিক কীভাবে এরা ১০ ফুট ওপর থেকে পানির নিচে লুকিয়ে থাকা এক আঙুল সমান মাছটাকে খুঁজে বের করে?তুমি হয়তো গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখেছ, খালের ধারে বৈদ্যুতিক তারে বা গাছের ডালে চুপচাপ বসে আছে একটা রঙিন পাখি। নীল-কমলা শরীর, লম্বা ঠোঁট। চোখ দুটো সব সময় নিচের দিকে তাকিয়ে কিছু একটা খুঁজছে। এটাই মাছরাঙা। দেখতে যতটা শান্ত মনে হয়, ভেতরে–ভেতরে চলছে ঠিক ততটাই জটিল এক হিসাব-নিকাশ। সেই হিসাব ভুল হলে তার পেটই ভরবে না।সমস্যাটা শুরু হয় পানির সঙ্গেই। সুইমিং পুলে দাঁড়িয়ে নিচে তাকালে দেখবে তোমার পায়ের অবস্থান আসলে যেখানে দেখাচ্ছে, ঠিক সেখানে নেই। আলো যখন বাতাস থেকে পানিতে ঢোকে, গতিপথ বেঁকে যায়। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে প্রতিসরণ। এই বাঁকা আলোর কারণে পানির নিচের যেকোনো বস্তু আসলে যেখানে আছে তার থেকে একটু সরে থাকা জায়গায় দেখা যায়। মানুষের চোখ এই ফাঁদে বারবার পড়ে; মাছ ধরতে গিয়ে অনেকেই হাত ভুল জায়গায় ঢুকিয়ে ফেলে। মাছরাঙার জন্য অবশ্য এই ভুলের কোনো সুযোগ নেই। একবার আন্দাজ ভুল হলেই সারা দিনের খাবার হাতছাড়া।তাহলে সে এই আলোর ফাঁদ পার হয় কীভাবে? উত্তরটা লুকিয়ে আছে এর চোখের গড়নে। মাছরাঙার রেটিনায় দুই ধরনের কোষ কাজ করে পাশাপাশি, একটা বাতাসে দেখার জন্য, আরেকটা পানির নিচের দৃশ্যের জন্য। মস্তিষ্ক দুই ধরনের তথ্য মিলিয়ে নিয়ে আলোর বাঁকা পথের হিসাব কষে ফেলে নিমেষে। প্রতিটি মাছরাঙার মাথার ভেতর যেন বসানো আছে ছোট্ট একটা ক্যালকুলেটর, যেটা সেকেন্ডের কম সময়ে জ্যামিতির অঙ্ক শেষ করে ফেলে।বউ কথা কও: একটি পাখি, তিনটি দেশ, তিনটি গল্পজলাশয়ের ধারে জোড়া মাছরাঙা। বানিয়াখালী, ডুমুরিয়া, খুলনা, ২৭ নভেম্বর। ছবি: সাদ্দাম হোসেন চোখের কাজ শেষ হলে শুরু হয় শরীরের কাজ। শিকার দেখে ফেলার পর মাছরাঙা সরাসরি নিচে ঝাঁপ দেয় না। প্রথমে মাথা কাত করে দুই চোখ দিয়ে একসঙ্গে তাকায় লক্ষ্যবস্তুর দিকে। এই দুই চোখের কোণ মিলিয়েই সে দূরত্ব আর গভীরতা মেপে ফেলে, ঠিক যেভাবে তুমি বল ছোড়ার আগে দুই চোখ দিয়ে দূরত্ব আন্দাজ করো। তারপর ডাইভ। ডানা গুটিয়ে, ঠোঁট সোজা সামনে, পা পেছনে টেনে শরীরটাকে বানিয়ে ফেলে একটা তীরের আকৃতি। পানিতে পড়ার মুহূর্তে ছিটা প্রায় ওঠেই না, শব্দও হয় না বললেই চলে।এই নিঃশব্দ প্রবেশের রহস্য ঠোঁটের গড়নে। সরু, লম্বা আর সামান্য ত্রিকোণাকার—অনেকটা বর্শার ফলার মতো এই ঠোঁটের কারণে পানির উপরিতলের বাধা অনেকখানি কমে যায়, ফলে পাখিটা প্রায় বিনা বাধায় ঢুকে পড়ে ভেতরে। জাপানের বুলেট ট্রেনের সামনের অংশ নাকি ডিজাইন করা হয়েছিল মাছরাঙার ঠোঁট দেখেই, যাতে টানেলে ঢোকার সময় বিকট শব্দ না হয়। একটা ছোট্ট পাখির শরীরের গড়ন বিশ্বের দ্রুততম ট্রেনের নকশা বদলে দিয়েছে, ভাবলে অবাক লাগে।পানির নিচে ঢোকার পর চোখ কিন্তু বন্ধ হয়ে যায় না। মাছরাঙার চোখে আছে একটা স্বচ্ছ তৃতীয় পাতা, নিক্টিটেটিং মেমব্রেন নামে পরিচিত। ডাইভের মুহূর্তে এই পাতলা পর্দা চোখের ওপর নেমে আসে, আঘাত আর ঘোলা পানি থেকে বাঁচায় চোখকে, অথচ পাখিটা তখনো কিছুটা দেখতে পায়। ফলে পানির নিচে ঢুকে গিয়েও শেষ মুহূর্তে দিক ঠিক করে নেওয়ার সুযোগ থাকে হাতে। দেখা, হিসাব করা, ঝাঁপ দেওয়া, ধরা, এই পুরো প্রক্রিয়ায় সময় লাগে সেকেন্ডেরও কম। চোখের পলক ফেলার আগেই মাছরাঙা তার শিকার নিয়ে আবার ভেসে ওঠে পানির ওপরে।দুটাকার পাখিমাছ মুখে নিয়ে ওঠার পরও কাজ শেষ হয় না অবশ্য। জ্যান্ত মাছ পিছলে বেরিয়ে যেতে পারে, তাই মাছরাঙা প্রথমে ডাল বা তারে ফিরে গিয়ে মাছটাকে বারবার আছড়ায়। এতে মাছের শরীর অবশ হয়ে আসে, কাঁটাও কিছুটা নরম হয়। তারপর ধীরে ধীরে মাথার দিক থেকে গিলে ফেলে, যাতে আঁশ আর কাঁটা গলায় না বেঁধে।সব সময় অবশ্য এই হিসাব মেলে না। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, একটা মাছরাঙার প্রতি ১০টি ডাইভের মধ্যে সফল হয় গড়ে ৬ থেকে ৭টি। বাকিগুলো ফসকে যায়। কখনো মাছ শেষ মুহূর্তে সরে যায়, কখনো ঢেউয়ের কারণে হিসাবে গোলমাল বাধে। অভিজ্ঞ পাখিরা ধীরে ধীরে এই সাফল্যের হার বাড়িয়ে নেয়, অনেকটা নিয়মিত অনুশীলনে একজন ক্রিকেটারের শট খেলা নিখুঁত হয়ে ওঠার মতো।আমাদের দেশের খাল-বিল আর পুকুরপাড়ে এই দৃশ্য একসময় ছিল খুবই সাধারণ। শহরের কাছাকাছি এলাকায় এখন মাছরাঙা দেখা একটু কমে এসেছে, পানি দূষণ আর জলাশয় ভরাটের কারণে। গ্রামের দিকে অবশ্য এখনো ভোরবেলা পুকুরপাড়ে বসলে সেই একই দৃশ্য চোখে পড়ে। নিঃশব্দ অপেক্ষা, হঠাৎ একটা ঝাঁপ, আর পানি ফুঁড়ে ওঠা এক ঝলক নীল, ঠোঁটে রুপালি মাছ।পরেরবার কোনো মাছরাঙাকে ডালে বসে থাকতে দেখলে একটু থেমে দেখো একে। ওই স্থিরদৃষ্টির পেছনে চলছে আলোর বাঁকা পথ মাপার একটা হিসাব, যেটা শেষ হবে চোখের পলকে।সূত্র: লাইভ সায়েন্সসাবমেরিন চালিয়ে সমুদ্রের নিচে টিয়া পাখি

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
পোলকা ডটের ফুরফুরে রেট্রো লুকে ভাবনা

পোলকা ডটের ফুরফুরে রেট্রো লুকে ভাবনা

ওষুধের বাক্সের গায়ে লেখা এ কথাগুলোর মানে কী

ওষুধের বাক্সের গায়ে লেখা এ কথাগুলোর মানে কী

শরতের রূপে জল-পাথরের বিছনাকান্দি

শরতের রূপে জল-পাথরের বিছনাকান্দি

কুষ্টিয়ায় হার্ডিঞ্জ সেতুর পিলারে বাল্কহেডের ধাক্কা, ছিটকে পড়ে ছাত্রদল নেতা নিখোঁজ
কুষ্টিয়ায় হার্ডিঞ্জ সেতুর পিলারে বাল্কহেডের ধাক্কা, ছিটকে পড়ে ছাত্রদল নেতা নিখোঁজ

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় হার্ডিঞ্জ সেতুর পিলারে বাল্কহেডের ধাক্কায় পদ্মা নদীতে পড়ে ছাত্রদলের এক নেতা নিখোঁজ হয়েছেন। আজ শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।গতকাল শুক্রবার রাত ৯টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। একই দুর্ঘটনায় নদীতে পড়া আরও দুজনকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করা হয়েছে।নিখোঁজ ব্যক্তির নাম রাকিবুজ্জামান রকি (৩২)। তিনি ঝিনাইদহের শৈলকুপা পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব।উপজেলা প্রশাসন ও নৌভ্রমণে আসা যাত্রীদের সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার কাতলাগাড়ি এলাকা থেকে ১২৩ জনের একটি দল বাল্কহেডে করে নৌভ্রমণে বের হয়। ভেড়ামারার গোলাপনগর এলাকা ঘুরে ফেরার পথে রাত ৯টার দিকে হার্ডিঞ্জ সেতু এলাকায় পৌঁছায় তাঁরা। একপর্যায়ে তীব্র স্রোতে বাল্কহেডটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুর ৪ নম্বর পিলারে ধাক্কা দেয়। এতে তিনজন নদীর পানিতে পড়ে যান।কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার পদ্মা নদীর ওপর হার্ডিঞ্জ সেতুর পিলারে বাল্কহেডের ধাক্কায় নিখোঁজ ছাত্রদল নেতা রাকিবুজ্জামান রকিপরে অন্য যাত্রীরা লিটন ও ওহাব নামের দুজনকে উদ্ধার করে তীরে তোলেন। তাঁরা সুস্থ আছেন। রাকিবুজ্জামান এখনো নিখোঁজ। ঘটনার পর ঈশ্বরদী ও ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিসের সদস্য ও নৌ পুলিশ সদস্যরা উদ্ধারকাজ শুরু করেন।রাকিবুজ্জামানের বন্ধু আনিসুজ্জামান বলেন, ‘রাকিবুজ্জামান যখন নৌকা থেকে পড়ে গেল, আমি তাঁকে ধরতে গিয়েছিলাম, কিন্তু পারিনি। সে যথেষ্ট শক্তি সামর্থ্যবান ছেলে। সাঁতারে যথেষ্ট দক্ষতা আছে, আশা করছি ফিরে আসবে।’আমিরুল আরাফাত, ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাতে উদ্ধারকাজ কিছুটা কঠিন ছিল। রাকিবুজ্জামানকে উদ্ধারে বিভিন্ন ইউনিট চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।রাকিবুজ্জামানকে উদ্ধারে নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ বেশ কয়েকটি ইউনিট কাজ করছে বলে জানান ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান।রাতে উদ্ধারকাজ কিছুটা কঠিন ছিল জানিয়ে ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিরুল আরাফাত প্রথম আলোকে বলেন, রাকিবুজ্জামানকে উদ্ধারে বিভিন্ন ইউনিট চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
খরগোশ যে দেশের জাতীয় সমস্যা

খরগোশ যে দেশের জাতীয় সমস্যা

সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ বেড়ে সাড়ে ১১ লাখ কোটি টাকা

সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ বেড়ে সাড়ে ১১ লাখ কোটি টাকা

সবার আগে জাপানে নারী ফুটবল দল

সবার আগে জাপানে নারী ফুটবল দল

0 Comments