স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ২৪টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে বাস্তবে কর্মরত মাত্র একজন—তিনি কোনো চিকিৎসক, নার্স বা ফার্মাসিস্ট নন; একজন নিরাপত্তা প্রহরী। সপ্তাহে মাত্র দুই দিন উপজেলা থেকে একজন চিকিৎসক এসে কিছু সময়ের জন্য রোগী দেখে যান, আর সেই রোগীদের হাতে সারিবদ্ধভাবে ওষুধ তুলে দেন সেই নৈশপ্রহরী! ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার গুনিয়াউক ১০ শয্যাবিশিষ্ট পল্লী স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এই বাস্তবতা কেবল একটি নির্দিষ্ট এলাকার দুরবস্থা নয়; এটি আমাদের দেশের প্রান্তিক স্বাস্থ্যসেবা কাঠামোর চরম জরাজীর্ণ ও ভঙ্গুর রূপটিকেই প্রকাশ করে।
১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং আশপাশের বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের প্রায় ১৫ হাজার মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসার প্রধান আশ্রয়স্থল ছিল এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র। কিন্তু বর্তমানে ৪ একর জায়গার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা ১৯টি কক্ষের ১৭টিই অব্যবহৃত, পরিবেশ নোংরা এবং পুরো চিকিৎসাকেন্দ্র ধুঁকে ধুঁকে চলছে। সপ্তাহের পাঁচ দিনই দূরদূরান্ত থেকে আসা অসুস্থ সাধারণ মানুষকে চিকিৎসা না পেয়ে শূন্য হাতে ফিরে যেতে হয়। সংবিধানে স্বীকৃত মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বাস্থ্যসেবার এমন দশা কোনো দায়িত্বশীল ব্যবস্থার পরিচয় হতে পারে না।
গুনিয়াউক ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবদুল মালেকের বক্তব্য, আড়াই থেকে তিন বছর আগে এখানে চিকিৎসক থাকতেন। তখন প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ রোগী হতো। কিন্তু স্বাস্থ্যসেবার করুণ দশার কারণে আগের মতো রোগীর ভিড় নেই। মানুষকে বাধ্য হয়ে বেসরকারিভাবে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে, অনেকে ফার্মেসির পরামর্শে ওষুধ কিনে খাচ্ছেন। এতে একদিকে যেমন রোগীর খরচ বেড়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে অপচিকিৎসার শিকারও হতে হচ্ছে তাঁদের। অনেকে ছোটখাটো রোগের চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়ে দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জনবলসংকটের প্রশ্নে স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বাঁধাধরা উত্তর, ‘প্রতি মাসেই মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হচ্ছে।’ কিন্তু বছরের পর বছর ধরে চলা সরকারি আমলাতন্ত্রের এই চিঠি–চালাচালি আর দাপ্তরিক দীর্ঘসূত্রতার বলি হচ্ছে সাধারণ মানুষ। পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাব বা জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতির ওপর নির্ভর করে কোনো হাসপাতাল সচল বা অচল থাকার যে চিত্র এখানে দেখা গেছে, তা প্রশাসনিক সদিচ্ছা ও কাঠামোগত জবাবদিহির চরম অভাবকেই নির্দেশ করে।
চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবলের তীব্র ঘাটতি মেটাতে কেবল আমলাতান্ত্রিক চিঠিপত্র আদান-প্রদানে আটকে থাকলে চলবে না। জরুরি ভিত্তিতে পদায়নের মাধ্যমে গুনিয়াউক পল্লী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক, নার্স ও প্রয়োজনীয় টেকনিশিয়ান নিয়োগ দিতে হবে। প্রান্তিক মানুষের মৌলিক স্বাস্থ্য অধিকার সুনিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অবিলম্বে মাঠপর্যায়ে কার্যকর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন; অন্যথায় নিরাপত্তা প্রহরী দিয়ে হাসপাতাল চালানোর এই অদ্ভুত ও ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব হবে না।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
পেশাজীবীদের জন্য গাড়ি কেনাকে স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে সুবিধা দিচ্ছে প্রাইম ব্যাংক। ব্যাংকটি কাস্টমাইজড প্যাকেজ, নারী গ্রাহকদের জন্য সবুজ অর্থায়ন ও অ্যাপ ব্যবহারে গাড়ির ঋণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। অটো লোন সুবিধা, ইভি অর্থায়ন এবং গ্রাহকবান্ধব ডিজিটাল ব্যাংকিং নিয়ে কথা বলেছেন ব্যাংকটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল রহমান। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক।ডাক্তার, প্রকৌশলী ও করপোরেট পেশাজীবীদের জন্য প্রাইম ব্যাংকের অটো লোনে কী কী বিশেষ সুবিধা রয়েছে?ফয়সাল রহমান: বর্তমান কর্মব্যস্ত জীবনে চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও করপোরেট কর্মকর্তাদের জন্য সময় বাঁচানো এবং দ্রুত সেবা পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই প্রাইম ব্যাংক পেশাজীবীদের জন্য বিশেষ কাস্টমাইজড অটো লোন প্যাকেজ সাজিয়েছে। এখানে আমরা অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক সুদের হার, দ্রুত ঋণ অনুমোদন, সহজ ডকুমেন্টেশন প্রক্রিয়া এবং সুবিধাজনক মেয়াদের কিস্তি সুবিধা নিশ্চিত করছি। আমাদের মূল লক্ষ্য কেবল গাড়ি কেনায় ঋণ দেওয়া নয়, বরং পুরো প্রক্রিয়াটিকে ঝামেলামুক্ত রাখা। পাশাপাশি দেশের শীর্ষস্থানীয় অটোমোবাইল ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে আমাদের কৌশলগত অংশীদারত্বের মাধ্যমে গ্রাহকেরা বিশেষ মূল্যছাড়, আকর্ষণীয় অফার এবং সেরা বিক্রয়োত্তর সেবার সুবিধা পাচ্ছেন।নারী গাড়িচালকদের জন্য হাইব্রিড ও ইলেকট্রিক গাড়ি অর্থায়নে সুদের হার বা প্রসেসিং ফিতে কোনো সুবিধা আছে কি?ফয়সাল রহমান: প্রাইম ব্যাংক টেকসই অর্থায়ন ও নারীর ক্ষমতায়নকে সমানভাবে গুরুত্ব দেয়। আমাদের বিশেষায়িত ‘নীরা’ উইমেন ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নারী গ্রাহকদের ইভি ও হাইব্রিড গাড়ি কেনায় সাশ্রয়ী প্রসেসিং ফি, প্রতিযোগিতামূলক সুদের হার ও দ্রুত ঋণের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। নারীদের যাতায়াত সহজ ও পরিবেশবান্ধব করতে আমরা ইলেকট্রিক টু-হুইলার অর্থায়নের উদ্যোগও নিয়েছি।আপনাদের করপোরেট পে-রোল গ্রাহকদের জন্য অটো লোন পাওয়ার প্রক্রিয়া কতটা দ্রুত ও সহজ?ফয়সাল রহমান: পে-রোল গ্রাহকদের জন্য ব্যাংকিং প্রক্রিয়া হওয়া উচিত সম্পূর্ণ স্বাচ্ছন্দ্যময় ও গতিশীল। যেহেতু ব্যাংকের কাছে তাঁদের চাকরির স্থায়িত্ব ও আয়ের ধারাবাহিকতার তথ্য পূর্ব-যাচাইকৃত থাকে, তাই ক্রেডিট অ্যাসেসমেন্ট এবং অনুমোদনপ্রক্রিয়া খুব দ্রুত সম্পন্ন হয়। ফলে গ্রাহকেরা সামান্য নথিপত্র জমা দিয়েই দ্রুততম সময়ে ঋণছাড়ের সুবিধা উপভোগ করতে পারেন। আমাদের ‘মাইপ্রাইম’ অ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহকেরা খুব সহজেই প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং সমাধান পান। কম সময়ের প্রসেসিং, আকর্ষণীয় সুদের হার এবং ডেডিকেটেড গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।প্রথাগত গাড়ির তুলনায় হাইব্রিড ও ইভি গাড়ি ক্রয়ে ডাউন পেমেন্ট ও সর্বোচ্চ ঋণের সীমানায় কীভাবে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন?ফয়সাল রহমান: পরিবেশবান্ধব গাড়ির ব্যবহার উৎসাহিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালার আলোকে আমরা সুনির্দিষ্ট সুবিধা দিচ্ছি। হাইব্রিড ও ইলেকট্রিক গাড়িতে মোট মূল্যের সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হচ্ছে। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো গ্রিন যানবাহনের প্রাথমিক আর্থিক বাধা দূর করে টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলা।অটো লোনের প্রসেসিং ফি, ডকুমেন্টেশন ও অন্যান্য চার্জের ক্ষেত্রে বর্তমানে কেমন ছাড় চলছে?ফয়সাল রহমান: আমরা নিয়মিত সময়ে ফি ও চার্জের ওপর বিশেষ ক্যাম্পেইন পরিচালনা করি। আমাদের নিজস্ব পে-রোল গ্রাহকদের জন্য লোন প্রসেসিং ফি সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে এবং বিশেষ সুদের হারের অফার রাখা হয়েছে। এ ছাড়া অংশীদার শোরুমগুলোর মাধ্যমে গ্রাহকেরা অতিরিক্ত মূল্যছাড় ও বিশেষ প্রিভিলেজ পাচ্ছেন।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মনে বৃক্ষপ্রেমের বীজ বুনে দিতে উদ্যোগ নিয়েছে ভৈরব বন্ধুসভা। ‘বৃক্ষ শুধু রোপণ নয়, যত্ন নিয়ে বাঁচাতে হয়’ প্রতিপাদ্যে স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ, চারা বিতরণ ও গাছের পরিচর্যাবিষয়ক নানা কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি।গত ২৭ আগস্ট আফছর উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। এদিন শিক্ষার্থীদের মধ্যে শতাধিক ফলদ, বনজ ও পরিবেশবান্ধব গাছের চারা বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি বিদ্যালয় চত্বরেও বেশ কয়েকটি চারা রোপণ করেন বন্ধুসভার সদস্যরা।পরিবেশবিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতাচারা হাতে পেয়ে আনন্দে মেতে ওঠে শিক্ষার্থীরা। শুধু গাছ লাগানোই নয়, সেগুলো পরম যত্নে বড় করে তোলার দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত করে তারা। কর্মসূচিকে আরও প্রাণবন্ত করতে আয়োজন করা হয় পরিবেশবিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা।অনুষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা তুলে ধরে বক্তব্য দেন ভৈরব বন্ধুসভার সভাপতি জান্নাতুল মিশু। এ ছাড়া সাধারণ সম্পাদক জিসানউল্লাহ আনাস বৃক্ষরোপণকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন এবং পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক মহিমা মেধা প্রতিটি চারাকে পরিচর্যার মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ গাছে পরিণত করার আহ্বান জানান।শিক্ষার্থীদের মধ্যে গাছের পরিচর্যা নিয়ে আলোচনাআফছর উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম রিপন বন্ধুসভার এ উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ‘আশা করি, শিক্ষার্থীরা গাছগুলোকে ভালোবাসবে ও বড় করবে। একই সঙ্গে পরিবেশ রক্ষায় উদ্যোগী হয়ে উঠবে।’পরবর্তী ধাপে ব্লু বার্ড স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও অর্ধশত গাছ উপহার হিসেবে দেওয়া হয়। কেবল নতুন চারা রোপণই নয়, পূর্বের বছরগুলোতে রোপণ করা গাছের নিয়মিত খোঁজখবর রাখছে সংগঠনটি। তারই অংশ হিসেবে জব্বার জুট মিলস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন সদস্যরা।ব্লু বার্ড স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য গাছ পাঠানোবিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক হাসিনা পান্না জানান, গত বছর বন্ধুসভার সহযোগিতায় গড়ে তোলা ফলের বাগানটির সঠিক যত্ন নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে চলতি সেপ্টেম্বরেও সেখানে নতুন কিছু চারা উপহার দেওয়া হচ্ছে।সব মিলিয়ে ভৈরব বন্ধুসভার ও শুভানুধ্যায়ীদের যৌথ অর্থায়নে চলতি মৌসুমে দুই শতাধিক চারা রোপণ ও বিতরণ করা হয়েছে।আফছর উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গাছ রোপণ করাকর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি আফিসা আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাসেল রাজ, বইমেলা সম্পাদক মাহমুদুল হাসান, পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক হেপী বেগম, মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক ভুবন আহমেদ, বন্ধু অনুপম, তুহিন, আদিব, লোভনা ইসলাম, জিসান, রাকিবসহ অনেকে।সাংস্কৃতিক সম্পাদক, ভৈরব বন্ধুসভা
ইরানপন্থী হুতিরা পবিত্র মক্কা নগরীর দিকে ড্রোন ছুড়েছে বলে অভিযোগ করেছে সৌদি আরব। এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে ওআইসি। সৌদি আরবের মিত্র তুরস্ক ও পাকিস্তান এ বিষয়ে কী বলছে, দেখুন ভিডিওতে...