অঙ্ক করার প্রথম ধাপই নামতা শেখা। ১০ বা ১১ ঘরের নামতা মুখস্থ করা বেশ সহজ, কিন্তু তার ওপরের সংখ্যাগুলোতে গেলেই মাথা গুলিয়ে যায়। যেমন, হুট করে তুমি বলে দিতে পারবে, ১৬ ও ৮ গুণ করলে কত হবে? হয়তো ১৬-এর ঘরের নামতা তোমার মুখস্ত নেই, আসলে বেশিরভাগ মানুষেরই থাকে না। দু-একজন ব্যতিক্রম থাকতে পারে। তবে বেশিরভাগ মানুষই এই গুণের জন্য পকেট থেকে মোবাইলটা বের করে সমাধান শুরু করে দেবে।
কিন্তু আজ তোমাকে এমন একটা জাদুর কৌশল শেখাব, যার সাহায্যে ১২ থেকে ৯৯ পর্যন্ত নামতা তুমি মনে মনেই কষে ফেলতে পারবে! এখানে একটা মজার তথ্য জানিয়ে রাখি। এই কৌশলটি ব্যবহার করে ২ হাজার ৩১২ জন শিক্ষার্থীকে ৯৯ পর্যন্ত নামতা শিখিয়ে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়া হয়েছিল। হাজার হাজার শিক্ষক এই কৌশলটি তাঁদের শিক্ষার্থীদের শিখিয়ে দারুণ ফলাফলও পেয়েছেন।
কৌশলে যাওয়ার আগে আরও একটা তথ্য জানিয়ে রাখি। আমাদের মস্তিষ্ক প্যাটার্ন বা ছক বুঝতে ভালোবাসে। একটা সহজ পরীক্ষা করা যাক। ৯৮১০১৯৯১০১ একটি সংখ্যা। এখন চোখ বন্ধ করে সংখ্যাটা বলতে পারবে? হয়তো পারবে না। আচ্ছা ১০ সেকেন্ড সংখ্যাটা আবার ভালোভাবে দেখ। ১০ সেকেন্ডের বেশি সময় নিও না কিন্তু। এবার বলতে পারবে? হয়তো এখনো পারবে না। এবার এটা দেখ: ৯৮-১০১-৯৯-১০১। এখন কি এই সংখ্যাটা বলতে পারবে? হয়তো পারবে। আসলে এখানে দুটি সংখ্যা একই। প্রথমটায় প্যাটার্ন আকারে সাজানো নেই, কিন্তু দ্বিতীয়টায় সাজানো আছে। তাই একবার দেখেই তুমি হয়তো এখন বলে দিতে পারবে আটানব্বই-এক শ এক-নিরানব্বই-এক শ এক। প্যাটার্ন সহজেই আমাদের মস্তিষ্কে সেভ হয়ে থাকে। অঙ্কও ঠিক এমনই এক প্যাটার্নের খেলা। না বুঝে মুখস্থ করার চেয়ে প্যাটার্ন ধরে শিখলে নামতাও অনেক সহজ হয়ে যাবে।
আমাদের মস্তিষ্ক প্যাটার্ন বা ছক বুঝতে ভালোবাসে। একটা সহজ পরীক্ষা করা যাক। ৯৮১০১৯৯১০১ একটি সংখ্যা। এখন চোখ বন্ধ করে সংখ্যাটা বলতে পারবে? হয়তো পারবে না।
এই জাদু শেখার আগে তোমার দুটি জিনিস জানা থাকতে হবে:
১ থেকে ৯ পর্যন্ত নামতা খুব ভালোভাবে জানা থাকতে হবে।
মনে মনে দুটি সংখ্যা যোগ করার ক্ষমতা থাকতে হবে।
প্রথমে ১২-এর নামতা দেখা যাক। ২-এর নামতা জানা থাকলেই ১২-এর নামতা বের করা যায়। আগে ছবিটা দেখ, এরপর ব্যাখ্যা দেখলেই বিষয়টা পরিস্কার হয়ে যাবে।

২ × ১ = ২। এখানে গুণক ১-কে গুণফল ২-এর দশকের ঘরে বসিয়ে দিলেই পেয়ে যাবে ১২ × ১ = ১২।
একইভাবে ২ × ২ = ৪ থেকে ১২ × ২ = ২৪।
২ × ৩ = ৬ থেকে ১২ × ৩ = ৩৬।
২ × ৪ = ৮ থেকে ১২ × ৪ = ৪৮।
কিন্তু যদি গুণফল দুই অঙ্কের হয়? যেমন ১২ × ৫? এখানে গুণক ৫-কে গুণফল ১০-এর দশকের ঘরের অঙ্ক ১-এর সঙ্গে যোগ করতে হবে। অর্থাৎ ৫ + ১ = ৬। আর এককের ঘরের শূন্য যেমন আছে তেমনই থাকবে। তাহলে ১২ × ৫ = ৬০!
১২ × ৫? এখানে গুণক ৫-কে গুণফল ১০-এর দশকের ঘরের অঙ্ক ১-এর সঙ্গে যোগ করতে হবে। অর্থাৎ ৫ + ১ = ৬। আর এককের ঘরের শূন্য যেমন আছে তেমনই থাকবে। তাহলে ১২ × ৫ = ৬০!
একইভাবে ৩-এর নামতা দিয়ে ১৩-এর নামতা, ৪-এর নামতা দিয়ে ১৪-এর নামতা, ৫-এর নামতা দিয়ে ১৫-এর নামতা, ৭-এর নামতা দিয়ে ১৭-এর নামতা এবং ৯-এর নামতা দিয়ে ১৯-এর নামতা বের করতে পারবে। ধরো, তুমি ১৩ × ৬ বের করতে চাও। পুরো নামতা পড়ার কোনো দরকার নেই।
মনে মনে ৩ × ৬ = ১৮ ভাবো।
এবার গুণক ৬-এর সঙ্গে ১৮-এর দশকের ঘরের ১ যোগ করো; মানে ৬ + ১ = ৭।
আর এককের ঘরের ৮ শেষে বসে যাবে। অর্থাৎ উত্তর: ৭৮।
চলো আরও কিছু উদাহরণ দেখি:
১৬ × ৮: প্রথমে ৬ × ৮ = ৪৮। এবার ৮ এবং ৪ যোগ করো (৮ + ৪ = ১২)। শেষে এককের ঘরের ৮ বসিয়ে দাও। উত্তর: ১২৮।
১৭ × ৭: প্রথমে ৭ × ৭ = ৪৯। এবার ৭ এবং ৪ যোগ করো (৭ + ৪ = ১১)। শেষে ৯ বসিয়ে দাও। উত্তর: ১১৯।
১৯ × ৬: প্রথমে ৯ × ৬ = ৫৪। এবার ৬ এবং ৫ যোগ করো (৬ + ৫ = ১১)। শেষে ৪ বসিয়ে দাও। উত্তর: ১১৪।
মনে মনে ৩ × ৬ = ১৮ ভাবো। এবার গুণক ৬-এর সঙ্গে ১৮-এর দশকের ঘরের ১ যোগ করো; মানে ৬ + ১ = ৭। আর এককের ঘরের ৮ শেষে বসে যাবে। অর্থাৎ উত্তর: ৭৮।
১২ থেকে ১৯ পর্যন্ত নামতাগুলো এক সপ্তাহ প্র্যাকটিস করলেই তুমি ২১ থেকে ৯৯ পর্যন্ত যেকোনো নামতা মনে মনে কষে ফেলতে পারবে। ধরো, তুমি ৮৭-এর নামতা বের করতে চাও।
প্রথমে ৮-এর নামতা এবং তার পাশে ৭-এর নামতা কল্পনা করো।
৮৭ × ৪: প্রথমে ৮ × ৪ = ৩২ এবং ৭ × ৪ = ২৮ ভাবো। এবার ৩২-এর সঙ্গে ২৮-এর দশকের ঘরের ২ যোগ করো। অর্থাৎ ৩২ + ২ = ৩৪। শেষে ৮ বসিয়ে দাও। উত্তর: ৩৪৮।
৮৭ × ৬: প্রথমে ৮ × ৬ = ৪৮ এবং ৭ × ৬ = ৪২। এবার ৪৮-এর সঙ্গে ৪২-এর দশকের ঘরের ৪ যোগ করো (৪৮ + ৪ = ৫২)। শেষে এককের ঘরের ২ বসিয়ে দাও। উত্তর: ৫২২।
৮৭ × ৭: প্রথমে ৮ × ৭ = ৫৬ এবং ৭ × ৭ = ৪৯। ৫৬-এর সঙ্গে ৪৯-এর দশকের ঘরের ৪ যোগ করো (৫৬ + ৪ = ৬০)। শেষে ৯ বসিয়ে দাও। উত্তর: ৬০৯।
এভাবে তুমি যেকোনো নামতা ম্যাজিকের মতো করে ফেলতে পারবে!
শেষ করার আগে একটু ধাঁধা হয়ে যাক। ধাধাটি হলো: আমি ৯-এর সঙ্গে ৫ যোগ করে ২ পাই। উত্তরটি সঠিক, কিন্তু কীভাবে?
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মুক্ত আনন্দের রাজবাড়ীর আয়োজনে আজাদী ময়দানে বাউল উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনা সভায় ‘মুক্ত আনন্দের রাজবাড়ী’র সভাপতি পারভীন হকের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন, রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এ এম বাচ্চু রহমান, লোক গবেষক সুমন কুমার দাস, ‘মুক্ত আনন্দের রাজবাড়ী’র উপদেষ্টা অধ্যক্ষ আজিজুল হক, সাধারণ সম্পাদক অজয় দাস তালুকদার, জেলা জাসাসের সদস্য সচিব কাজী মিজানুর রহমান পলাশ প্রমুখ। সভা সঞ্চালনা করেন, মীর মোশাররফ হোসেন স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক রাজ্জাকুল আলম। আরও পড়ুন সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে আবারও মুখ খুললেন মেঘনা আলম বাউল উৎসবে রাজবাড়ীর বিভিন্ন স্থানের ১৬ জন বাউল শিল্পী গান পরিবেশন করেন। এ সময় গান পরিবেশনকারী বাউল শিল্পীদের ক্রেস্ট দিয়ে সম্মানিত করা হয়। প্রধান অতিথি রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, ‘গান মানুষে মানুষে সম্প্রীতি, ভালোবাসা ও মানবতার কথা বলে। বাউলদের গানে প্রেম, মানবতাবাদ এবং ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের পরম বাণী নিহিত রয়েছে। সুবিধা ও অর্থের তোয়াক্কা না করে বাউল সাধকেরা আজীবন গানের আলো ছড়িয়ে গেছেন।’ আরও পড়ুন বিটিভির প্যাকেজ প্রিভিউ কমিটি পুনর্গঠন, দায়িত্বে যারা তিনি আরও বলেন, ‘কিংবদন্তিতুল্য শাহ আবদুল করিম তেমনই একজন সাধক, যিনি চরম দারিদ্র্যের সাথে যুদ্ধ করেও রচনা করেছেন প্রায় ১৬০০ গান। তার এই অমূল্য সৃষ্টিগুলো যেন কালক্রমে হারিয়ে না যায়, সে জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। বাউল শিল্পী আপনারা এই গানগুলোর চর্চা ও প্রচার করবেন এবং শুধু গান নয়, গানের ভাবার্থ। সবার কাছে তুলে ধরবেন। যাতে বাউল দর্শন ও লোকসংগীত নিয়ে সমাজে কোনো ভুল বোঝাবোঝি না থাকে।’ আরইউআর/এমএমএফ
গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন না করে বিএনপি সরকার অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দেশ পরিচালনা করতে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।আজ শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক বটতলায় জাতীয় ছাত্রশক্তির প্রথম কাউন্সিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম এ অভিযোগ করেন।নাহিদ ইসলাম বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে পটপরিবর্তন হলেও এর আকাঙ্ক্ষা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। একটি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু ক্ষমতায় এসে তারা অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দেশ পরিচালনা করতে যাচ্ছে।বিএনপি সরকারের অগণতান্ত্রিক আচরণের নানা নিদর্শন ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘দখলদারত্ব ও গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতির বিরুদ্ধে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তা এখনো শেষ হয়নি। ছাত্রলীগকে পরাজিত করার মধ্য দিয়ে আমরা ভেবেছিলাম—এই লড়াই হয়তো সমাপ্ত হয়েছে, কিন্তু সেই লড়াই এখনো শেষ হয়নি।’সম্প্রতি গাজীপুরে সিফাত নামের এক তরুণকে গ্রেপ্তার ও তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করার সমালোচনা করেন নাহিদ ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, বৈধ আইন বা বিধি ছাড়া এভাবে গ্রেপ্তার এবং কলেজ থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া স্বৈরতান্ত্রিক প্রক্রিয়ারই অংশ।সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মৌখিক পরীক্ষায় নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগকে দলীয় নেতা-কর্মীদের চাকরি দেওয়ার ‘কূটকৌশল’ বলে অভিযোগ করেন এনসিপির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সময় ছিল কোটাপ্রথা, আর এখন তারেক রহমানের হাতে এসে তৈরি হয়েছে ‘ভাইভা প্রথা’।আখতার হোসেন বলেন, বিসিএসসহ সরকারি চাকরি ও পিএসসি সংস্কারের প্রশ্নে সরকার পশ্চাৎপদ ভূমিকা পালন করছে। পিএসসিতে তিনটি কমিশন গঠনের প্রস্তাব এড়িয়ে এখন মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানো হচ্ছে, যাতে নিজেদের লোকজনকে চাকরি দেওয়া যায়।আখতার হোসেন বলেন, ‘কোটা নিয়ে শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে দাঁড়ানোর কারণেই শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয়েছে। আমরা নতুন সরকারকে বলব, ভাইভা বিষয়ে পশ্চাৎপদ সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করে নম্বর কমিয়ে আনুন এবং মেধার সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করুন।’অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও কেন্দ্রীয় সংগঠক সারজিস আলম। জাতীয় ছাত্রশক্তির বর্তমান সভাপতি আবু বাকের মজুমদারের সঞ্চালনায় সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তাহমিদ আল মুদ্দাসসির চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তৌহিদ মো. সিয়াম। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ শাখা এবং জেলা শাখার নেতারা উপস্থিত ছিলেন।