জাতীয়

মহাসড়কে মৃত্যু: দায় কি কেবল চালকের, নাকি কাঠামোগত ত্রুটিরও

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
মহাসড়কে মৃত্যু: দায় কি কেবল চালকের, নাকি কাঠামোগত ত্রুটিরও
মহাসড়কে মৃত্যু: দায় কি কেবল চালকের, নাকি কাঠামোগত ত্রুটিরও

প্রতিদিন খবরের পাতা খুললেই চোখে পড়ে সড়কে মৃত্যুর শোকাবহ সংবাদ। বিশেষ করে সদ্য সমাপ্ত আগস্ট মাসের পরিসংখ্যান আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে তোলে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, গত আগস্ট মাসেই দেশে ৫১৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৮১ জন মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং আহত হয়েছেন ৬৬৪ জন। জুলাই মাসের তুলনায় আগস্টে দৈনিক গড় প্রাণহানি একধাক্কায় বেড়েছে ১৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ। শুধু তা–ই নয়, গত বছর ৬ হাজার ৭২৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ হাজার ১১১ জন মানুষের মৃত্যুর যে ভয়াবহ পরিসংখ্যান আমরা দেখেছি, তার ধারাবাহিকতা যেন কোনোভাবেই থামছে না। একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে এই প্রাণহানিগুলোকে আমি নিছক দুর্ঘটনা হিসেবে দেখি না। এটি শুধু চালকের বেপরোয়া মনোভাবের ফল নয়। এর গভীরে লুকিয়ে আছে আমাদের সড়কের জ্যামিতিক নকশা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং পরিবহন নীতির এক দীর্ঘস্থায়ী কাঠামোগত ত্রুটি।

দুর্ঘটনার ভৌগোলিক অবস্থান এবং সড়কের ধরন বিশ্লেষণ করলে এই কাঠামোগত ত্রুটির সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়। আগস্ট মাসে সর্বোচ্চ ১৭২টি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে প্রাণ হারিয়েছেন ১৪৪ জন। ঢাকা শহরের ভেতরেও ৪৮টি দুর্ঘটনায় ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে সবচেয়ে আশঙ্কাজনক তথ্য হলো, এই মাসে সবচেয়ে বেশি ২১৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে এবং ১৬৩টি ঘটেছে জাতীয় মহাসড়কে। শহরের ভেতরে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৭১টি। হাইওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দৃষ্টিকোণ থেকে এর অর্থ অত্যন্ত পরিষ্কার। শহরের তুলনায় আঞ্চলিক সড়ক ও মহাসড়কগুলোয় যানবাহনের গতি স্বভাবতই অনেক বেশি থাকে। কিন্তু আমাদের দেশের বেশির ভাগ আঞ্চলিক সড়ক ও মহাসড়কে পর্যাপ্ত লেন বিভাজক বা ডিভাইডার নেই। সবচেয়ে বড় কথা হলো, এই সড়কগুলোতে কোনো ‘অ্যাকসেস কন্ট্রোল’ বা প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থা নেই। ফলে যেকোনো স্থান থেকে ছোট যানবাহন সরাসরি উচ্চগতির মূল সড়কে উঠে আসছে। গতির এই অসামঞ্জস্য মহাসড়কগুলোকে আক্ষরিক অর্থেই মৃত্যুফাঁদে পরিণত করেছে।

দুর্ঘটনার শিকার যানবাহনের ধরন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, দুই চাকার অরক্ষিত যান অর্থাৎ মোটরসাইকেল এখন সড়কে এক নতুন মহামারির রূপ নিয়েছে। আগস্ট মাসেই ১৮৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৭৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যা মোট নিহতের ৩৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ। গত বছরের সামগ্রিক পরিসংখ্যানেও দেখা যায়, ২ হাজার ৪৯৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৯৮৩ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ৩৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ। মোটরসাইকেলের পাশাপাশি ভারী যানবাহনের আধিপত্যও এখানে প্রবল। আগস্টে বাস, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের মতো ভারী যানের অসংখ্য যাত্রী ও চালক নিহত হয়েছেন। আমাদের মহাসড়কগুলোয় স্বল্পগতির ভ্যান, রিকশা বা থ্রি-হুইলারের সঙ্গে উচ্চগতির ভারী যান এবং তরুণদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল একই লেনে চলাচল করে। ট্রান্সপোর্টেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ভাষায় একে বলা হয় ‘মিক্সড ট্রাফিক ফ্লো’ বা মিশ্র ট্রাফিক প্রবাহ। এই মিশ্র প্রবাহ রাস্তায় অসংখ্য ‘কনফ্লিক্ট পয়েন্ট’ বা সংঘর্ষবিন্দু তৈরি করে। গতির এই বিশাল পার্থক্যের কারণে যখনই একটি বাস কোনো ধীরগতির যানকে অতিক্রম করতে যায়, তখনই ভয়াবহ দুর্ঘটনার ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়।

দুর্ঘটনার ধরন এবং হতাহতের পেছনের কারণগুলো কারিগরিভাবে বিশ্লেষণ করলে প্রকৌশলগত ঘাটতিগুলো আরও স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। আগস্ট মাসের দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১২৬টি ছিল সরাসরি মুখোমুখি সংঘর্ষ এবং ১৯৫টি ঘটেছে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে। এ ছাড়া ৭৮টি ঘটনায় একটি যানবাহন অপরটির পেছনে আঘাত করেছে এবং ১০৬টি দুর্ঘটনায় পথচারীরা চাপা পড়েছেন। হাইওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সূত্রমতে, দ্বিমুখী সড়কে মুখোমুখি সংঘর্ষের প্রধান কারণ হলো অপর্যাপ্ত ‘ওভারটেকিং সাইট ডিসট্যান্স’ বা অতিক্রম করার জন্য প্রয়োজনীয় দৃষ্টিসীমার অভাব। চালক যখন সামনের গাড়িটিকে অতিক্রম করতে যান, তখন বিপরীত দিকের গাড়িটির গতি ও দূরত্ব তিনি সঠিকভাবে অনুমান করতে ব্যর্থ হন। অন্যদিকে অতিরিক্ত গতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারানোর এই বিপুল পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে সড়কের বাঁকগুলোতে কারিগরি ত্রুটি রয়েছে। আধুনিক সড়ক নির্মাণে ‘সুপারএলিভেশন’ বা ব্যাংকিং অত্যন্ত জরুরি একটি বিষয়, যাতে কেন্দ্রাতিক বলের কারণে গাড়ি ছিটকে না যায়। আমাদের অনেক সড়কেই এর মারাত্মক অভাব রয়েছে। পেছন থেকে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে চালকেরা ‘স্টপিং সাইট ডিসট্যান্স’ বা নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখছেন না। তা ছাড়া দুর্বল পেভমেন্ট সারফেস এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহনের কারণে ব্রেকিং এফিশিয়েন্সি কমে যায়, যা দুর্ঘটনাকে অবধারিত করে তোলে।

সড়ক দুর্ঘটনা নামক এই জাতীয় বিপর্যয় রোধে এখন আর শুধু চালকের শাস্তির ওপর নির্ভর করলে চলবে না। সামগ্রিক পরিবহন ব্যবস্থার আমূল কাঠামোগত ও প্রকৌশলগত সংস্কার এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। সড়ক নিরাপত্তা বাড়াতে বিশেষজ্ঞ সংস্থাগুলো যেসব সুপারিশ করেছে, তা অত্যন্ত যৌক্তিক ও বিজ্ঞানসম্মত। মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহনের জন্য আলাদা সার্ভিস রোড নির্মাণ করা এখন আর কোনো বিলাসিতা নয়, বরং অপরিহার্য। ঝুঁকিপূর্ণ থ্রি-হুইলার বা নসিমন-করিমনের পরিবর্তে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ইলেকট্রিক বাসের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে। ত্রুটিপূর্ণ ও মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন সড়ক থেকে সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করতে হবে। রাজধানীতে রুট রেশনালাইজেশনের মাধ্যমে কোম্পানিভিত্তিক বাসসেবা চালু করা গেলে অসুস্থ প্রতিযোগিতা কমবে। চালকদের বিজ্ঞানভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিআরটিএর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার ঘাটতি পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একটি নিরাপদ সড়কব্যবস্থা গড়ে তোলা কোনো বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে সম্ভব নয়। বিজ্ঞানভিত্তিক নকশা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছার মাধ্যমেই শুধু আমরা এই মৃত্যুর মিছিল থামিয়ে একটি স্বস্তিদায়ক সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারি।

* লেখক: সুজন শর্মা, শিক্ষার্থী, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়

নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: ns@prothomalo.com
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
‘আরুশি ও একটি মিছরিদানা আংটি’: গল্প শেষ, রেশ কি শেষ
‘আরুশি ও একটি মিছরিদানা আংটি’: গল্প শেষ, রেশ কি শেষ

কিছু বই পড়া শেষ হয় শেষ পৃষ্ঠায়, কিছু বইয়ের শেষ পৃষ্ঠা পেরিয়েও পাঠকের ভেতরে সেগুলোর যাত্রা চলতে থাকে। কাজী লাবণ্যের ‘আরুশি ও একটি মিছরিদানা আংটি’ তেমনই একটি গল্প সংকলন। ১৬টি গল্পের এই ছোট্ট বইটি আয়তনে খুব বড় নয়; কিন্তু এর গল্পগুলোর আবেগ ও অনুরণন বেশ দীর্ঘ। একটানা পড়ে যাওয়ার মতো বই হয়েও বইটি আসলে একটানা পড়ে ফেলার নয়। একটি গল্প শেষ করার পর খানিকটা থামতে হয়, চরিত্রগুলোর দিকে ফিরে তাকাতে হয়, কখনো নিজের দিকেও। বেশ দীর্ঘ সময় নিয়েই একেক দিন একেকটি গল্প পড়া হলো।লেখক যদি সামাজিক ও পারিবারিক জীবনের নানা বাস্তবতা থেকে গল্প তুলে এনে পাঠকের মনে বিষণ্নতার একটি দীর্ঘস্থায়ী আবহ তৈরি করতে চেয়ে থাকেন, তবে বলতে হয়—সেই প্রচেষ্টায় সফল কাজী লাবণ্য। তবে এই বিষণ্নতা নিছক মন খারাপের নয়। কোথাও তা করুণ, কোথাও অস্বস্তিকর, কোথাও প্রশ্নবিদ্ধ, আবার কোথাও গভীর মানবিক মমতায় ভেজা। অনেকটা শরৎচন্দ্রের গল্পের মতো—যেখানে মানুষের ব্যক্তিগত দুঃখ কখনো কেবল ব্যক্তিগত থাকে না; তার সঙ্গে সমাজ, সম্পর্ক ও সময়ের একটি বৃহত্তর বাস্তবতা জড়িয়ে যায়। তবে কাজী লাবণ্যের গল্পের স্বর স্বতন্ত্র। তিনি বৃহৎ সামাজিক বক্তব্যের চেয়ে ছোট ছোট মানবিক মুহূর্তের ভেতর দিয়েই পাঠককে বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করান।‘নুরবানু ও একটি সূর্যাস্ত’ গল্প দিয়ে বইটির শুরু। কক্সবাজারের প্রেক্ষাপট ও স্থানীয় জীবনের আবহ গল্পটিকে নিজস্ব স্বাদ দিয়েছে। আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহারও সেই আবহ নির্মাণেরই অংশ। ব্যক্তিগত পাঠ-রুচির জায়গা থেকে মনে হয়েছে, ভাষার আঞ্চলিক টানটি অন্যভাবে বিন্যস্ত হলে হয়তো গল্পটির সঙ্গে সংযোগ আরও সহজ হতো। তবে এটি একান্তই পাঠকের অনুভব। গল্পটির সামগ্রিক আবহ বা উদ্দেশ্যকে তা ছাপিয়ে যায়নি।এরপরের গল্পগুলোতে যেন বইটি ক্রমশ নিজের শক্তি আবিষ্কার করে। ‘চার্লির বোন’-এ দুই বোনের জীবনের সঙ্গে একটি বিদেশি কুকুরের অদ্ভুত সম্পর্ক এবং একটি দুর্ঘটনা গল্পের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ‘আবলুশ হাহাকার’ মৃত্যুর পরের এক কৌতূহলোদ্দীপক অস্তিত্বের দরজা খুলে দেয়—মৃত মানুষ কি আপনজনদের প্রতিক্রিয়া দেখতে পারে? ‘অপেক্ষার দৈর্ঘ্য’ দীর্ঘ ৩০ বছরের অপেক্ষাকে সামনে এনে প্রশ্ন তোলে—একজন ফিরে এলে কি অপেক্ষার অবসান ঘটে, নাকি নতুন করে অন্যদের ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা জন্ম নেয়? ‘ঘুড্ডি’তে প্রবাসী সন্তানের জন্য অপেক্ষারত মায়ের নিঃসঙ্গতা যেন খুব পরিচিত এক বেদনা।‘ফানুশ’, ‘সোনামুখী সুঁই’, ‘মুল্লুকখাওয়া’ ও ‘নটেগাছ’—প্রতিটি গল্পেই সম্পর্ক, অভাব, নৈতিকতা ও পারিবারিক বাস্তবতার ভিন্ন মুখ দেখা যায়। বিশেষ করে ‘মুল্লুকখাওয়া’য় ক্ষুধা কীভাবে মানুষের নৈতিক বোধকে সংকটের মুখে ঠেলে দিতে পারে, তা তীব্রভাবে উঠে এসেছে। চরিত্রটির প্রতি পাঠক হিসেবে আমার অনুভূতি একেবারে সরল সহানুভূতিতে থিতু হয়নি; ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও হয়তো সেই পাঠকে প্রভাবিত করেছে। তবু চরিত্রটির অবস্থান ও তার নির্মাণ পাঠককে ভাবায়—আর সেটিই গল্পের সার্থকতার একটি জায়গা।‘নেপথ্যে’, ‘অজুফা’ ও ‘পোর্ট কী’ বইটির আবেগঘন কেন্দ্রের দিকে নিয়ে যায়। ‘অজুফা’র আগুন কেবল ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয় না, পাঠকের ভেতরেও একধরনের অসহায়তা জ্বালিয়ে যায়। ‘পোর্ট কী’ এসে সেই বেদনাকে আরও ঘনীভূত করে। ‘শেকড়’-এ মৃত্যুপথযাত্রী বাবার একটি সত্য রেহানের পরিচিত পৃথিবীকেই বদলে দেয়। আর ‘নয়নতারা’ যেন এত বিষণ্নতার ভেতর হঠাৎ একটু আলো—নয়নতারা ও মামুদের জন্য পাঠকের মনও স্বতঃস্ফূর্তভাবে শুভকামনা জানায়।নরওয়েজিয়ান উড: প্রেমের গল্প, নাকি হারিয়ে যাওয়ারসবচেয়ে ভালো লেগেছে নামগল্পটি—‘আরুশি ও একটি মিছরিদানা আংটি’। দুই নিঃসঙ্গ মানুষের পরিচয় হয় বিমানে, নিজেদের সন্তানদের কাছে কানাডা যাওয়ার পথে। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে দুজন মানুষ যেন আবার ভালোবাসা, সঙ্গ ও আশ্রয়ের সম্ভাবনা খুঁজে পায়। অথচ গল্পের শেষে বাস্তবতা আর কল্পনার সীমারেখাটি এমনভাবে অস্পষ্ট হয়ে যায় যে প্রশ্ন জাগে—এ কি সত্যিই ঘটেছিল, নাকি নিঃসঙ্গ হৃদয়ের এক সুন্দর হ্যালুসিনেশন?সব মিলিয়ে, ‘আরুশি ও একটি মিছরিদানা আংটি’ এমন বই নয়, যা পড়ে উঠে হালকা লাগে। বরং শেষ পৃষ্ঠাটি পড়ার পর কিছুক্ষণ চুপ করে থাকতে ইচ্ছা করে। লেখিকার বিষয় নির্বাচনের তীক্ষ্ণতা, মানুষের ভেতরের অপ্রকাশিত বেদনার প্রতি দৃষ্টি এবং জীবনের ছোট ছোট গল্পকে বড় অনুভূতিতে পরিণত করার ক্ষমতা বইটির প্রধান শক্তি। দ্রুত পড়ে শেষ করলে হয়তো গল্পগুলো জানা হবে; কিন্তু সেগুলোর ভেতরের কথাগুলো অনুভব করা হবে না। কারণ, এ বইয়ের গল্পগুলো শেষ হয়—তাদের রেশ শেষ হয় না।রাজারহাট, কুড়িগ্রাম

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
অর্থ আত্মসাতের দায়ে দুই কর্মকর্তাকে আজীবন নিষিদ্ধ করল ফিফা

অর্থ আত্মসাতের দায়ে দুই কর্মকর্তাকে আজীবন নিষিদ্ধ করল ফিফা

পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে রাজি জেলেনস্কি বললেন, মাসে ১০০টি ক্ষেপণাস্ত্র পাওয়াই বিশাল চ্যালেঞ্জ

পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে রাজি জেলেনস্কি বললেন, মাসে ১০০টি ক্ষেপণাস্ত্র পাওয়াই বিশাল চ্যালেঞ্জ

কক্সবাজারে আরেকটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ করা হবে

কক্সবাজারে আরেকটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ করা হবে

আগামী শিক্ষাবর্ষে মাধ্যমিকের বইয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গুরুত্ব পাবে: মাহদী আমিন
আগামী শিক্ষাবর্ষে মাধ্যমিকের বইয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গুরুত্ব পাবে: মাহদী আমিন

আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যবইয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিকস, মেশিন লার্নিং ও সাইবার নিরাপত্তাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে শুধু মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়েই নয়, উচ্চশিক্ষা স্তরেও স্টেম (বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত) শিক্ষাকে সমানভাবে অগ্রাধিকার দিতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।শনিবার বিকেলে রাজধানীর বিজয় সরণির বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটারে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এর প্লেনারি সেশনে তিনি এ কথা বলেন।বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এ মেলার আয়োজন করা হয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও দক্ষ ও যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় শিক্ষাক্রমে এসব যুগোপযোগী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র। পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাক্রমে বেশ কিছু নতুন বিষয় যুক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, চতুর্থ শ্রেণিতে প্রাথমিক পর্যায়ে ‘খেলাধুলা’ ও ‘সংস্কৃতি’ নামে দুটি নতুন বিষয় যুক্ত হচ্ছে। আর ষষ্ঠ শ্রেণিতে আসছে আরও দুটি নতুন বিষয়, যার একটি হলো ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা আনন্দের সঙ্গে শিক্ষা। একই সঙ্গে কারিগরি শিক্ষাকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে মূলধারায় নিয়ে এসে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে এটি অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পর্যায়ক্রমে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বাধ্যতামূলকভাবে কারিগরি শিক্ষার এই অংশটুকু সম্পন্ন করতে হবে।উচ্চশিক্ষায় বাস্তবমুখী জ্ঞানদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পুঁথিগত বিদ্যা ও বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে যে দূরত্ব রয়েছে, তা কমিয়ে আনতে কাজ করছে সরকার। মাহদী আমিন বলেন, বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রকৌশল শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের জন্য নিছক সনদ বা থিওরি যথেষ্ট নয়। থিওরি ও প্র্যাকটিসের উপযুক্ত সমন্বয়ের মাধ্যমেই শিক্ষার্থীদের অর্জিত সনদকে কর্মসংস্থান ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরির শক্ত হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার শিক্ষাক্রম সংস্কারের ওপর জোর দিচ্ছে।জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন সারা দেশে প্রায় আড়াই হাজার কলেজ থাকার কথা উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে আলোচনা করেছি—কীভাবে কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষাকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা যায় এবং বাস্তবতার নিরিখে পাঠ্যক্রমকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা যায়।’এর পাশাপাশি দেশে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে দেড় শতাধিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে উল্লেখ করে মাহদী আমিন জানান, তাঁদের লক্ষ্য হলো পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে বাস্তব জীবনের প্রয়োজনের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত করা। এ কারণে প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পরিমার্জনের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।প্লেনারি সেশনটি সঞ্চালনা করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন। আলোচনায় আরও অংশ নেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (আইইউবি) উপাচার্য অধ্যাপক ম তামিম, ইউনেসকো ঢাকা অফিসের শিক্ষা প্রধান এস কিয়াং কো, টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তানভীর মোহাম্মদ প্রমুখ।

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
পদ্মায় নৌকাডুবি, ১০ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করল বিএসএফ

পদ্মায় নৌকাডুবি, ১০ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করল বিএসএফ

ছিনতাইয়ের ৯০ ঘণ্টা পরেও মুঠোফোনটি সচল, অবস্থান চিহ্নিত, খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ

ছিনতাইয়ের ৯০ ঘণ্টা পরেও মুঠোফোনটি সচল, অবস্থান চিহ্নিত, খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আনা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আনা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

‘৮০-র দশকের’ সূর্যবংশীকে চিনতেই পারলেন না ভারতীয় তারকারা!
‘৮০-র দশকের’ সূর্যবংশীকে চিনতেই পারলেন না ভারতীয় তারকারা!

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন নস্টালজিয়ার জোয়ার। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সাহায্যে ছবি পরিবর্তন করে ১৯৮০-এর দশকের আবহে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে মানুষকে। পুরোনো দিনের ফ্যাশন, চুলের স্টাইল, পোশাক আর ছবি তোলার ধরন- সব মিলিয়ে তৈরি হচ্ছে এমন সব ছবি, যা দেখলে মনে হয় কয়েক দশক আগের পারিবারিক অ্যালবাম কিংবা বলিউডের পুরোনো স্টুডিও থেকে উঠে এসেছে। এবার সেই ট্রেন্ডে মেতেছে ভারতীয় ক্রিকেট দলও। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) দলের খেলোয়াড়দের এআই দিয়ে তৈরি ‘৮০-এর দশকের’ ছবি প্রকাশ করেছে। শুধু ছবি প্রকাশ করেই থামেনি বোর্ড, খেলোয়াড়দের সামনে সেই ছবিগুলো দেখিয়ে তাদের প্রতিক্রিয়াও ধারণ করেছে। সেখানেই ঘটেছে মজার ঘটনা। নিজেদের সতীর্থদের এআই-রূপ চিনতে পারলেও ১৫ বছর বয়সী বৈভব সূর্যবংশীর ছবির সামনে গিয়ে রীতিমতো বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন ভারতের তারকারা। ছবিটি যে সূর্যবংশীর, সেটাই বুঝতে পারেননি তারা। এআইয়ের তৈরি ছবিতে ক্রিকেটারদের চেহারা ও সাজসজ্জায় এমনভাবে পরিবর্তন আনা হয়েছিল যে বর্তমান সময়ের পরিচিত মুখগুলোকেও কয়েক দশক আগের তারুণ্যের রূপে মনে হচ্ছিল। সেই তালিকায় সূর্যবংশীর ছবিটিই সবচেয়ে বেশি ধাঁধায় ফেলেছে সতীর্থদের। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই ভারতীয় ক্রিকেটে আলোড়ন তৈরি করা সূর্যবংশী এখন দলের অন্যতম আলোচিত তরুণ মুখ। তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিং এবং নির্ভীক ক্রিকেটের কারণে তাকে ‘বয় ওয়ান্ডার’ বলেও ডাকা হচ্ছে। কিন্তু এআইয়ের জাদুতে সেই পরিচিত মুখটিই এতটাই বদলে গিয়েছিল যে ভারতীয় ক্রিকেটারদের কাছেও তাকে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। Vintage vibes. Priceless reactions. #TeamIndia takes on the 1980s trend - By @RajalArora #AFGvIND pic.twitter.com/nSaClHHdyn — BCCI (@BCCI) September 12, 2026 এদিকে মাঠের ক্রিকেটে অবশ্য সূর্যবংশীকে নিয়ে ভারতের সামনে রয়েছে আরও বড় এক সিদ্ধান্ত। রোববার থেকে আফগানিস্তানের বিপক্ষে শুরু হচ্ছে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। প্রথম ম্যাচের একাদশে সূর্যবংশীকে রাখা হবে, নাকি অভিজ্ঞ সাঞ্জু স্যামসনকে ফিরিয়ে আনা হবে- এ প্রশ্নই এখন ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের সামনে। ইংল্যান্ড সফরে সূর্যবংশীকে একাদশে জায়গা দিতে স্যামসনকে বাইরে রাখা হয়েছিল। তবে সিরিজের শেষ ম্যাচে আবার অভিজ্ঞ স্যামসনের জন্য জায়গা ছেড়ে দিতে হয় ১৫ বছর বয়সী এই ব্যাটারকে। ফলে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একাদশ নির্বাচনটা ভারতের জন্য মোটেও সহজ হবে না। একদিকে সূর্যবংশীর আগ্রাসী ব্যাটিং, অন্যদিকে স্যামসনের অভিজ্ঞতা ও স্বাভাবিক বিস্ফোরক ব্যাটিং- দুই বিকল্পেরই রয়েছে আলাদা সুবিধা। স্যামসন ও অভিষেক শর্মার জুটি টি-টোয়েন্টিতে তুলনামূলকভাবে বেশি পরীক্ষিত এবং স্থিতিশীল। অন্যদিকে সূর্যবংশীকে ঘিরে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, সেটিও এখন উপেক্ষা করা কঠিন। এ কারণেই ভারতের কোচ গৌতম গম্ভীর ও অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ- দুই ক্রিকেটারকেই পর্যাপ্ত সুযোগ দিয়ে এশিয়ান গেমসের জন্য চূড়ান্ত একাদশ ঠিক করা। শুক্রবার সন্ধ্যার নেট সেশনে অবশ্য স্যামসনকে কিছুটা বেশি নিয়ন্ত্রিত মনে হয়েছে। বিপরীতে সূর্যবংশীকে সামলাতে হয়েছে ভারতের তারকা পেসার জাসপ্রিত বুমরাহর কঠিন পরীক্ষা। বুমরাহ তাকে দেখিয়েছেন কিভাবে পিচ থেকে ম্যুভমেন্ট পাওয়া দ্রুতগতির বল মোকাবিলা করতে হয়। তবে এর পেছনে যুক্তিও আছে। টানা তিনটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলে আসার পর সূর্যবংশীর শরীর ও ব্যাটিংয়ে কিছুটা ক্লান্তির প্রভাব থাকতেই পারে। লাল বলের ক্রিকেটের পর হঠাৎ টি-টোয়েন্টির গতিতে মানিয়ে নিতে তার কিছুটা সময় লাগাও স্বাভাবিক। তবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে পরিস্থিতি হতে পারে সম্পূর্ণ ভিন্ন। আফগান বোলিং আক্রমণে বুমরাহর মতো বিশ্বমানের গতিময় ও সুইং করা বোলার নেই। তাদের বোলিংয়ের গতি ও ধরন বরং সূর্যবংশীর আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের সঙ্গে মানিয়ে যেতে পারে। খুব বেশি পা না নড়িয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বল মারার যে নিজস্ব ধরন সূর্যবংশী তৈরি করেছেন, আফগানদের বিপক্ষে সেটিই হয়ে উঠতে পারে ভারতের বড় অস্ত্র। অন্যদিকে স্যামসনকে ইংল্যান্ড সিরিজে মাত্র তিনটি ব্যর্থতার পর বাদ দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। উচ্চঝুঁকির টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে কয়েকটি ইনিংসে ব্যর্থতার পর একজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে সরিয়ে দেওয়া অনেকের কাছেই কঠিন সিদ্ধান্ত মনে হয়েছিল। কিন্তু সূর্যবংশীকে ঘিরে জনসমর্থন ও প্রত্যাশা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে শেষ পর্যন্ত দলীয় ব্যবস্থাপনাকেও সেই আবেগের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হয়েছে। যদিও ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট বরাবরই দাবি করে আসছে, বাইরের চাপ বা জনপ্রিয় মতামত তাদের একাদশ নির্বাচনে প্রভাব ফেলে না। তবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে এমন একটি সমাধানও তৈরি হতে পারে, যেখানে সূর্যবংশী ও স্যামসন দুজনকেই একাদশে দেখা যাবে। নেটে শুক্রবার পিঠে চোটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে ইশান কিষানের। শেষ পর্যন্ত তিনি খেলতে না পারলে দুই ব্যাটারের একসঙ্গে মাঠে নামার সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। আইএইচএস/

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
ইভি গাড়ি আমদানির সুযোগ চায় বারভিডা

ইভি গাড়ি আমদানির সুযোগ চায় বারভিডা

নিষিদ্ধ দল উঁকি মারার চেষ্টা করছে, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কী করছে: রিজভী

নিষিদ্ধ দল উঁকি মারার চেষ্টা করছে, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কী করছে: রিজভী

জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতৃত্বে বাকের-মুদ্দাসসির, ঢাবি শাখায় হাসিব-রাইয়ান

জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতৃত্বে বাকের-মুদ্দাসসির, ঢাবি শাখায় হাসিব-রাইয়ান

0 Comments