মানুষের জ্ঞান যত দিন থাকবে, মতভেদও তত দিন থাকবে। কারণ, মতভেদ কোনো দুর্ঘটনা নয়। মতের ভিন্নতা মানবজ্ঞান ও অস্তিত্বের স্বাভাবিক পরিণতি। একই আকাশের নিচে, একই পৃথিবীতে, একই ঘটনার সামনে দাঁড়িয়েও মানুষ ভিন্ন ফয়সালায় পৌঁছায়।
ইতিহাসের প্রতিটি যুগ, প্রতিটি সভ্যতা ও প্রতিটি জ্ঞানপরম্পরা এই বাস্তবতার সাক্ষ্য বহন করে।
অতএব মতভেদ কেন আছে, তা নিয়ে আমাদের বিকার নেই। প্রকৃত সওয়াল হলো, মতভেদ কী থেকে জন্ম নেয়, তার সীমা কোথায় এবং সত্যের অনুসন্ধানে তার স্থান কী?
এই প্রশ্নের জবাব ছাড়া কোনো জ্ঞানতত্ত্ব কামিল হতে পারে না।
ফিতরাতি বাস্তুবিদ্যা মতভেদকে প্রথমেই সত্যের বহুত্বের প্রমাণ বলে কবুল করে না। সত্য একাধিক হতে পারে না। কারণ, বাস্তবতার উৎস এক এবং কায়েনাত একটি অভিন্ন নেজামের অধীনে পরিচালিত।
কিন্তু সত্যের পথে মানুষের যাত্রা একরৈখিক নয়। মানুষের দৃষ্টিশক্তি সীমিত, অভিজ্ঞতা অসম্পূর্ণ, ভাষা বহুমাত্রিক ও বাস্তবতা স্তরবিন্যস্ত। ফলে একই সত্যের দিকে অগ্রসর হওয়ার পথে বহু ব্যাখ্যা, অনুমান ও উপলব্ধির জন্ম হওয়া স্বাভাবিক।
মতভেদ তখনই কল্যাণকর, যখন তা যৌথভাবে সত্যের তলব করে। কিন্তু বিরোধ জন্ম নেয় তখন, যখন সত্যের পরিবর্তে ব্যক্তি, দল বা মতবাদ নিজেই মাকসাদে পরিণত হয়।
অতএব মতভেদকে সত্যের বিভক্তি বলার সুযোগ নেই। সত্যে পৌঁছানোর মানবিক অভিযাত্রার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হলো মতভেদ।
এ কারণে ফিতরাতি বাস্তুবিদ্যা মতভেদ ও বিরোধকে এক জিনিস মনে করে না। মতভেদ তখনই কল্যাণকর, যখন তা যৌথভাবে সত্যের তলব করে। কিন্তু বিরোধ জন্ম নেয় তখন, যখন সত্যের পরিবর্তে ব্যক্তি, দল বা মতবাদ নিজেই মাকসাদে পরিণত হয়।
প্রথম ক্ষেত্রে মতভেদ জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করে, আর দ্বিতীয় ক্ষেত্রে তা সমাজকে বিভক্ত করে। ফলে প্রতিটি ইখতিলাফ সমান নয়। কোনো মতভেদ হিকমাহর পথ উন্মুক্ত করে, আবার কোনো মতভেদ নফসানি সংঘাতে পরিণত হয়।
ফিতরাতি ব্যাখ্যায় মতভেদের উৎপত্তি ঘটে প্রধানত চারটি তবকায়। প্রথম তবকা বাস্তবতার জটিলতা। কায়েনাতের প্রতিটি বিষয় একই মাত্রায় সুস্পষ্ট নয়। অনেক বাস্তবতা বহুস্তরীয়। ফলে বিভিন্ন পর্যবেক্ষক তাঁর ভিন্ন ভিন্ন দিক প্রত্যক্ষ করতে পারেন।
দ্বিতীয় তবকা ভাষা। মানবভাষা কখনো সম্পূর্ণ যান্ত্রিক নয়। একটি শব্দ, একটি রূপক বা একটি বাক্য বহুমাত্রিক অর্থ ধারণ করতে পারে। ফলে উপলব্ধির মাত্রা বিচিত্র হতে পারে।
তৃতীয় স্তর অভিজ্ঞতা। মানুষ যে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক পরিমণ্ডলে বেড়ে ওঠে, তা তার দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রভাবিত করে।
চতুর্থ স্তর হলো নৈতিক অবস্থা। একই প্রমাণ ভিন্ন ভিন্ন হৃদয়ে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। কারণ, ব্যাখ্যা শুধু বুদ্ধির কাজ নয়। ইনসানি আখলাকও ব্যাখ্যার কাজ করে।
এই দর্শনে মতভেদকে তিনটি পর্যায়ে বোঝা যায়। প্রথমটি হলো তানাওউ বা বৈচিত্র্য। এখানে ভিন্ন মতগুলো পরস্পরকে অস্বীকার করে না; বরং একই সত্যের বিভিন্ন দিক উন্মোচন করে।
যেমন একটি বনকে উদ্ভিদবিদ, জলবায়ুবিজ্ঞানী, কবি ও ফকিহ ভিন্নভাবে বর্ণনা করতে পারেন, অথচ তাঁদের বর্ণনাগুলো পরস্পরবিরোধী নয়; বরং তাঁরা সম্মিলিতভাবে বনের পূর্ণতর অর্থ জাহির করেন। এই বৈচিত্র্য জ্ঞানের সম্পদ।
দ্বিতীয় তবকা হলো ইজতিহাদি মতভেদ। এখানে অনুসন্ধানকারীরা একই সত্যে পৌঁছাতে আন্তরিক থাকলেও প্রমাণের মূল্যায়ন, ব্যাখ্যার তরিকা কিংবা অগ্রাধিকারের তফাতের কারণে ভিন্ন ফয়সালায় উপনীত হন।
এই মতভেদ মানবজ্ঞানগত সীমাবদ্ধতার স্বাভাবিক ফল। এখানে বিনয় অপরিহার্য। কারণ, প্রতিটি ব্যাখ্যা আংশিক হতে পারে এবং নতুন প্রমাণের আলোকে সংশোধিত হতে পারে।
এখানে সমস্যা দেখা দেয় হকের প্রতি আনুগত্যের অভাবে। যখন নফস, ক্ষমতা, লোভ, দলীয় আনুগত্য কিংবা আদর্শিক সংকীর্ণতা ব্যাখ্যাকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে, তখন মতভেদ আর জ্ঞানগত নয়; তা বরং নৈতিক সংকটে পরিণত হয়।
এই স্তরে মতভেদকে শত্রুতা নয়; বরং পারস্পরিক শিক্ষা হিসেবে দেখা উচিত।
তৃতীয় তবকা হলো বিভ্রান্তিকর মতভেদ। এখানে সমস্যা দেখা দেয় হকের প্রতি আনুগত্যের অভাবে। যখন নফস, ক্ষমতা, লোভ, দলীয় আনুগত্য কিংবা আদর্শিক সংকীর্ণতা ব্যাখ্যাকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে, তখন মতভেদ আর জ্ঞানগত নয়; তা বরং নৈতিক সংকটে পরিণত হয়।
এ অবস্থায় মানুষ প্রমাণকে অনুসরণ করে না; বরং প্রমাণকে নিজের অবস্থানের অধীন করতে চায়। ফলে ইখতিলাফ ধীরে ধীরে ইফতিরাকে, আর সংলাপ সংঘাতে রূপান্তরিত হয়।
ফিতরাতি বাস্তুবিদ্যা মতভেদের সমাধানে একরূপতা প্রতিষ্ঠার কথা বলে না। কারণ, সব মানুষকে একই ভাষায়, অভিজ্ঞতায় ও চিন্তাপদ্ধতিতে আবদ্ধ করা ফিতরাতের বিরুদ্ধাচরণ। আল্লাহ কায়েনাতকে বৈচিত্র্যসহ পয়দা করেছেন; মানবসমাজও সেই বৈচিত্র্যের অংশ।
ফলে লক্ষ্য মতের বিলুপ্তি নয়; বরং মতের নৈতিক শৃঙ্খলা। এই শৃঙ্খলার প্রথম নীতি হলো, কোনো মতই নিজেকে সত্যের সমার্থক মনে করতে পারে না। মানুষ সত্যের অনুসন্ধানকারী; সত্যের মালিক নয়।
এ কারণেই ফিতরাতি বাস্তুবিদ্যায় ইখতিলাফের আদব একটি জ্ঞানতাত্ত্বিক নীতি। প্রতিপক্ষকে পরাজিত করা নয়; বরং তার বক্তব্যকে যথাযথভাবে বোঝা ইলমের শর্ত। নিজের অবস্থানের দুর্বলতা অনুসন্ধান করা যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রতিপক্ষের শক্তিশালী যুক্তিকেও ন্যায্যভাবে উপস্থাপন করা প্রয়োজন।
কারণ, যে জ্ঞান শুধু নিজের পক্ষে সাক্ষ্য সংগ্রহ করে, সে জ্ঞান ধীরে ধীরে মতাদর্শে পরিণত হয়। কিন্তু যে জ্ঞান নিজের বিরুদ্ধের প্রমাণকেও গুরুত্ব দেয়, সে সত্যের দিকে অগ্রসর হয়।
এই দর্শন আরও মনে করে যে সব মতের সমান মূল্য নেই। মতের মর্যাদা নির্ধারিত হয় তার সত্যনিষ্ঠা, নৈতিক পরিণতি, বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য ও ফিতরাতের সঙ্গে সংগতির দ্বারা। ফলে বহুস্বর মানে সত্যের আপেক্ষিকতা নয়; বরং সত্যের অনুসন্ধানে বহুমাত্রিক অংশগ্রহণ।
এই দর্শনে বহুত্বকে স্বীকার করা হয়, কিন্তু আপেক্ষিকতাকে নয়। কারণ, যদি সব মত সমান সত্য হয়, তবে সত্যের ধারণাই অর্থহীন হয়ে পড়ে।
ইখতিলাফের নৈতিক নিয়ন্ত্রণ হারালে তা ফিতনা সৃষ্টি করে। ইখতিলাফ ফিতরাত, আদব ও ইনসাফের অধীনে পরিচালিত হলে তা হিকমাহর দ্বার উন্মুক্ত করে।
ফিতরাতি বাস্তুবিদ্যার দৃষ্টিতে ইখতিলাফের সর্বোচ্চ উদ্দেশ্য তাকামুল বা পারস্পরিক পূর্ণতা। মানুষ একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়; বরং অসম্পূর্ণ উপলব্ধির বাহক।
একজনের অভিজ্ঞতা অন্যজনের সীমাবদ্ধতা পূরণ করতে পারে, একটি শাস্ত্র অন্য শাস্ত্রের অপূর্ণতা দূর করতে পারে, একটি সভ্যতা অন্য সভ্যতার ভুল থেকে শিক্ষা নিতে পারে। এভাবেই মতভেদ বিভাজনের শক্তি না হয়ে সম্মিলিত প্রজ্ঞার উৎসে পরিণত হয়।
অতএব ফিতরাতি বাস্তুবিদ্যায় মতভেদ কোনো অনিবার্য অকল্যাণ নয়, আবার কোনো রোমান্টিক আদর্শও নয়। এটি মানুষের সীমিত জ্ঞান, বহুমাত্রিক বাস্তবতা ও সত্যের দীর্ঘ অভিযাত্রার স্বাভাবিক সঙ্গী। ইখতিলাফের নৈতিক নিয়ন্ত্রণ হারালে তা ফিতনা সৃষ্টি করে। ইখতিলাফ ফিতরাত, আদব ও ইনসাফের অধীনে পরিচালিত হলে তা হিকমাহর দ্বার উন্মুক্ত করে।
এ কারণেই প্রকৃত ইলম সব কণ্ঠকে এক কণ্ঠে পরিণত করার কুশেশ করে না; বরং সে বহু কণ্ঠকে এমন এক নেজামের মধ্যে স্থাপন করতে চায়, যেখানে তাদের ভিন্নতা সত্যের দিকেই সমবেত অগ্রযাত্রায় পরিণত হয়।
মুসা আল হাফিজ: লেখক, প্রাবন্ধিক ও গবেষক। ইসলামিক হিস্ট্রি অ্যান্ড কালচার অলিম্পিয়াড বাংলাদেশের চেয়ারম্যান
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
কুড়িগ্রামের রাজীবপুরে সরকারি বরাদ্দের ইউরিয়া সার গুদামে রেখে বেশি দামে বিক্রির চেষ্টার অভিযোগে বিএনপি নেতা ও সার ডিলার শফিউর রহমানের গুদামে হামলা চালিয়ে তালা ভাঙার চেষ্টা করেছেন ক্ষুব্ধ কৃষকরা। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজীবপুর বাজারে শফি এন্টারপ্রাইজের গুদামে এ ঘটনা ঘটে। পরে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং গুদামে থাকা সার কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করেন। শফিউর রহমান উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তৌফিক আল জুবায়ের বলেন, শফিউর রহমানের গুদামে ৫০০ বস্তা ইউরিয়া সার ছিল। সকালে কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণের জন্য স্লিপ দেওয়া হচ্ছিল। এ প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগায় কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। একপর্যায়ে তারা গুদামের তালা ভেঙে সার নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে সার বিতরণ করেন। কৃষকদের অভিযোগ, সার পাওয়ার আশায় তারা রাত ৩টা থেকে বিভিন্ন ডিলারের দোকান ও গুদামের সামনে অপেক্ষা করছিলেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও অনেকে সার পাননি। তাদের দাবি, অন্য ডিলারদের তুলনায় শফিউর রহমানের গুদামে বেশি সার মজুত থাকলেও তা আটকে রাখা হয়েছিল। কৃষক মফিজুল হক ও আবদুল হাকিম বলেন, তারা রাত ৩টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাদের অভিযোগ, সরকারি দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির জন্য শফিউর রহমান কৃত্রিম সংকট তৈরি করছিলেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শফিউর রহমান। তিনি বলেন, ওই দিন বিতরণের জন্য তার গুদামে ৫০০ বস্তা ইউরিয়া সার ছিল। এর চেয়ে কয়েকশ বেশি কৃষক সেখানে ভিড় করেন। ভিড় সামলানো ও বিতরণের সুবিধার জন্য পাশের বাড়ি থেকে কৃষকদের স্লিপ দেওয়া হচ্ছিল। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগকে জানানো হয়েছিল। শফিউর রহমানের দাবি, কিছু ব্যক্তি স্লিপধারী কৃষকদের গুদাম থেকে সার নিতে বাধা দেন। তাদের সার না দিলে স্লিপধারী কৃষকদেরও সার দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়। একপর্যায়ে গুদামে হামলা চালিয়ে সার নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। হামলার সময় উসকানিদাতাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের কয়েকজন ‘চিহ্নিত ব্যক্তি’ ছিলেন বলেও অভিযোগ করেন শফিউর রহমান। তার দাবি, তাদের আবাদি জমি না থাকলেও তারা সারের জন্য ভিড়ের মধ্যে ঢুকেছিলেন। এদিকে রাজীবপুরের আরেক সার ডিলার আবদুল হাইয়ের বিরুদ্ধেও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ করেছেন কৃষকরা। তাদের অভিযোগ, ১ হাজার ৩৫০ টাকা দামের সার ১ হাজার ৭৩০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। আবদুল হাই জানান, তিনি সরকারি বরাদ্দের বাইরে চট্টগ্রাম থেকে বেশি দামে সার কিনে এনেছেন। তাই ওই সারের দাম বেশি। তবে সরকারি বরাদ্দের সার ১ হাজার ৩৫০ টাকা দামেই বিক্রি করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তৌফিক আল জুবায়ের বলেন, আবদুল হাইয়ের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে। তিনি চট্টগ্রাম থেকে সার কিনে আনার কথা জানিয়েছেন। সরকারি বরাদ্দের সার গুদামে রেখে বাইরে থেকে কেনা সার বেশি দামে বিক্রি করা আইনবহির্ভূত কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই আইনবহির্ভূত। তার বিরুদ্ধে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।’ কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, রাজীবপুরে কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী কৃষি কর্মকর্তা ও প্রশাসনের উপস্থিতিতে সার বিতরণ করা হয়েছে। সার ডিলার শফিউর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। রোকনুজ্জামান মানু/কেএইচকে
জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মৌসুমী আক্তার সালমার বাবা মারা গেছেন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বাবার মৃত্যুর খবর জানান। আবেগঘন সেই পোস্টে সালমা লেখেন, 'আমার আব্বা আর নেই।' সালমার বাবার নাম ফজলুল হক। তার মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তবে মৃত্যুর কারণ, জানাজা ও দাফনের সময়-স্থান সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য জানা যায়নি। প্রসঙ্গত, সংগীতাঙ্গনে ব্যস্ত সময় পার করছিলেন সালমা। সম্প্রতি বিপ্লব সাহার সঙ্গে তার দ্বৈত কণ্ঠে প্রকাশ পেয়েছে নতুন গান ‘প্রেম লীলা’। লোকজ ঐতিহ্য ও প্রেমের আবহে নির্মিত গানটির মিউজিক ভিডিওও মুক্তি পেয়েছে। এর আগে সাময়িক বিরতির পর রেকর্ডিংয়ে ফিরে গুরু শফি মণ্ডলের কথা ও সুরে ‘কুঞ্জে আর ভালো লাগে না বন্ধু বিহনে’ শিরোনামের একটি গান রেকর্ড করেন তিনি। গানটি দুর্গাপূজায় প্রকাশের কথা রয়েছে। এ ছাড়া রোহান রাজের লেখা ও সুর করা জনপ্রিয় গান ‘মানুষ বড়ই স্বার্থপর’-এর নতুন সংগীতায়োজনেও কণ্ঠ দিয়েছেন সালমা। গানটিতে তার সঙ্গে রয়েছেন সুমী শবনম, তসিবা, জারিন ও রোহান রাজ। মিউজিক ভিডিওর শুটিং ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং গানটি ১৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশের কথা রয়েছে। এলআইএ/কেএইচকে
মা–বাবা থাকলেও তাঁদের স্নেহ-ছায়া থেকে বঞ্চিত শিশু রিফাত। জীবনের নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দাদির স্নেহ ও সামর্থ্যের ওপর ভর করে এগিয়ে চলেছে তার বেড়ে ওঠা ও পড়াশোনা। সীমিত সামর্থ্যের কারণে ছোট্ট ছেলেটির ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছিল অনিশ্চয়তা।রিফাতের জীবনের গল্প জানতে পেরে তার পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সাভার বন্ধুসভার উপদেষ্টা ফরহাদ হোসেন। তিনি শিশুটির পড়াশোনার যাবতীয় দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। জানান, দশম শ্রেণি পর্যন্ত তার পড়াশোনার খরচ বহন করবেন তিনি।একটি শিশুর জীবনে শিক্ষার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া শুধু সহযোগিতা নয়; এটি তার স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখার পাশাপাশি একটি সুন্দর ভবিষ্যতের পথ তৈরি করে দেওয়া।এ বিষয়ে সাভার বন্ধুসভার সভাপতি জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘এই উদ্যোগ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধ থেকে এগিয়ে এলে সমাজের পিছিয়ে পড়া শিশুরাও নতুন স্বপ্ন দেখার সুযোগ পেতে পারে।’