সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার এসআই আলতাব হোসেনকে (৫৮) পিটিয়ে হত্যার সুষ্ঠু বিচার এবং অত্র এলাকাকে মাদকমুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) জুম্মা নামাজের পর দুপুর আড়াইটার দিকে আমিনবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ঢাকামুখী সার্ভিস লেনের পাশে এ মানববন্ধন করেন স্থানীয়রা।
মানববন্ধনে স্থানীয়রা, গত শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে আমিনবাজারের বরদেশী এলাকায় পিটিয়ে পুলিশের বিশেষ শাখার এসআই আলতাব হোসেন হত্যার ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং আমিনবাজারের বিভিন্ন এলাকা মাদকমুক্ত করার লক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।
মানববন্ধন থেকে আমিন বাজার পুলিশ ক্যাম্পের কিছুসংখ্যক পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে এলাকাটিতে অবাধে মাদকের কেনা-বেচা চলছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দা ইমন মাহমুদ পান্না বলেন, মাদক ব্যবসায়ীরা কিছু অসাধু পুলিশের সহযোগিতায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। স্থানীয় কিছু সুবিধাবাদী লোকও টাকার বিনিময়ে গোপনে তাদের মদদ দিচ্ছে। কোনো মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার হলেও পরে ছাড়া পেয়ে যান। পুলিশ সদস্য আলতাব হোসেন হত্যার কারণে আজ আমিনবাজারের সব মানুষ মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে।
মো. আলী হোসেন দুলাল বলেন, মাদক নির্মূলের মূল দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। কিন্তু দিনের আলোতে সেতুর নিচে, আন্ডারপাসের সামনে ও প্রকাশ্যে গাড়িচালক-হেলপারদের কাছে গাজা ও অন্যান্য মাদক বিক্রি হচ্ছে। আমিনবাজার পুলিশ ক্যাম্পের পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। যারা ব্যবস্থা নিচ্ছে না তাদের সরিয়ে দিতে হবে।
মাহফুজুর রহমান নিপু/এসজেডএইচ/জেআইএম
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
পুরান ঢাকার লালবাগে পাওনা তিন লাখ টাকা চাওয়ায় ব্যবসায়ী শেখ ওয়াসিমকে তাঁর বন্ধু মাসুম হত্যা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিস্তারিত ভিডিও প্রতিবেদনে...
পাবনায় জমিতে জমে থাকা পানিতে নেমে ভাইবোনসহ তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আজ শুক্রবার বেলা দুইটার দিকে সদর উপজেলার চর তারাপুর ইউনিয়নের নবীন বাজার দাশপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। একসঙ্গে তিন শিশুর মৃত্যুতে গ্রামটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।নিহত তিন শিশু হলো দাশপাড়া গ্রামের আশরাফুল ইসলামের ছেলে খালিদ হোসেন (৮) ও মেয়ে আফিয়া খাতুন (৬) এবং শিমুল মল্লিকের মেয়ে সুমি খাতুন (৭)। তারা তিনজনই স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেনে পড়ত।স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গ্রামটি পদ্মা নদীর তীরবর্তী। বৃষ্টি ও নদীর পানি বেড়ে গ্রামের ফসলের জমি ডুবে আছে। বেলা দুইটার দিকে তিন শিশু জমির পানিতে গোসল করতে নামে। ধারণা করা হচ্ছে, এ সময় প্রথমে কেউ একজন পানিতে ডুবে যায়। অন্য দুজন তাকে বাঁচাতে গেলে তারাও ডুবে যায়।হঠাৎ তাদের দেখতে না পেয়ে পরিবারের লোকজন ও স্থানীয় লোকজন তাদের খুঁজতে পানিতে নামেন। একপর্যায়ে অচেতন অবস্থায় তিন শিশুকে উদ্ধার করা হয়। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী আবদুস সালাম জানান, ঘটনার পর দুটি বাড়িতেই মাতম চলছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। শিশুদের মরদেহ পুলিশ হেফাজতে আছে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
ইউটিউবে চ্যানেল খুলে ভিডিও বানিয়ে আয় করার স্বপ্ন এখন অনেকেরই। তবে শুধু নিয়মিত ভিডিও আপলোড করলেই যে চ্যানেলে ভিউ, সাবস্ক্রাইবার বা আয় আসবে এমনটা নয়। ২০২৬ সালে ইউটিউবের কনটেন্ট তৈরির ধরন যেমন বদলেছে, তেমনই গুরুত্ব পেয়েছে কনটেন্টের মান, মৌলিকত্ব, দর্শক ধরে রাখার ক্ষমতা এবং সঠিক পরিকল্পনা। তাই নতুন চ্যানেল শুরু করার আগে কয়েকটি বিষয় জানা জরুরি। ১. এআই ব্যবহার করুন, তবে নিজের সৃজনশীলতা রাখুন স্ক্রিপ্ট লেখা, ভয়েসওভার তৈরি, ভিডিও এডিটিংসহ নানা কাজে এখন এআই -এর সাহায্য নেওয়া যায়। এতে সময়ও বাঁচে। তবে পুরো ভিডিওকে যদি যান্ত্রিকভাবে এআই -নির্ভর করে ফেলা হয়, তাহলে কনটেন্টের নিজস্বতা হারাতে পারে। তাই এআই -কে সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করে নিজের তথ্য, বিশ্লেষণ ও উপস্থাপনার ধরন যোগ করা ভালো। এআই -নির্মিত বা পরিবর্তিত কনটেন্টের ক্ষেত্রে ইউটিউবের প্রযোজ্য ডিসক্লোসার নিয়মও মেনে চলতে হবে। ২. শর্টস দিয়ে দর্শক তৈরি করুন নতুন চ্যানেলের ক্ষেত্রে ইউটিউব শর্টস দ্রুত নতুন দর্শকের কাছে পৌঁছানোর একটি কার্যকর মাধ্যম হতে পারে। ছোট, আকর্ষণীয় এবং নির্দিষ্ট বিষয়ের ভিডিও নিয়মিত প্রকাশ করলে চ্যানেলের পরিচিতি তৈরি করার সুযোগ বাড়ে। তবে শুধু ভিউয়ের জন্য এলোমেলো শর্টস না বানিয়ে মূল চ্যানেলের বিষয় বা নাইসির সঙ্গে মিল রেখে ভিডিও তৈরি করা বেশি কার্যকর। আরও পড়ুন ইউটিউবের ভিউ গণনায় নতুন নিয়ম ৩. আয়ের একাধিক পথ রাখুন শুরু থেকেই শুধু বিজ্ঞাপনের আয়ের ওপর নির্ভর করার পরিকল্পনা না করাই ভালো। চ্যানেলের ধরন ও যোগ্যতা অনুযায়ী ভবিষ্যতে স্পন্সারশিপ, অ্যাফেলিয়েটেড মার্কেটিং, ইউটিউব শপিং, সুপার থ্যাংকস বা অন্যান্য ফান-ফান্ডিং সুবিধা কাজে লাগানো যেতে পারে। অর্থাৎ কনটেন্ট তৈরির পাশাপাশি সম্ভাব্য আয়ের পথও আগে থেকে পরিকল্পনায় রাখা দরকার। ৪. ভিডিওর মানে নজর দিন দামি ক্যামেরা না থাকলেও ভালো ভিডিও তৈরি সম্ভব। তবে পরিষ্কার অডিও, পর্যাপ্ত আলো, স্থির ফ্রেম এবং দর্শকের জন্য সহজবোধ্য উপস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় দুর্বল শব্দ বা অগোছালো ভিডিওর কারণে দর্শক শুরুতেই ভিডিও ছেড়ে দেন। ৫. একটি নির্দিষ্ট বিশেষ ক্ষেত্র বেছে নিন আজ প্রযুক্তি, কাল রান্না, পরদিন ক্রিকেট এভাবে একেক দিন একেক বিষয়ে ভিডিও করলে নির্দিষ্ট দর্শক তৈরি করা কঠিন হতে পারে। শুরুতেই একটি বিশেষ ক্ষেত্র বেছে নেওয়া ভালো। যেমন প্রযুক্তি, গেমিং, ফাইন্যান্স, শিক্ষা, ভ্রমণ কিংবা ক্রিকেট বিশ্লেষণ। এতে কোন ধরনের দর্শকের জন্য ভিডিও বানাচ্ছেন, সেটি পরিষ্কার থাকবে। ৬. শিরোনাম এবং থাম্বনেইল-কে গুরুত্ব দিন ভিডিও ভালো হলেও আকর্ষণীয় শিরোনাম এবং থাম্বনেইল না হলে অনেক দর্শক সেটিতে ক্লিক নাও করতে পারেন। তাই ভিডিওর বিষয় স্পষ্ট করে এমন শিরোনাম এবং চোখে পড়ার মতো থাম্বনেইল তৈরি করুন। ডেস্ক্রিপশন ও অন্যান্য মেটাডাটাতেও প্রাসঙ্গিক তথ্য ব্যবহার করুন। ৭. নিয়মিত কাজ করুন, দ্রুত ফলের আশা নয় ইউটিউবে সাফল্য পেতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো কোনসিস্টেন্সি। নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী নিয়মিত ভিডিও প্রকাশ করুন এবং কোন ধরনের কনটেন্টে দর্শকের আগ্রহ বেশি, তা অ্যানালিটিকস দেখে বোঝার চেষ্টা করুন। প্রথম কয়েকটি ভিডিওতে কম ভিউ এলেই হতাশ হওয়ার কারণ নেই। সময়ের সঙ্গে কনটেন্টের মান উন্নত করে ধৈর্য ধরে এগিয়ে যাওয়াই নতুন চ্যানেলের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কেএসকে