পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘অতএব, তোমার রবের কসম! তারা ততক্ষণ পর্যন্ত ইমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা তাদের নিজেদের মধ্যকার পারস্পরিক বিরোধ ও বিবাদের ক্ষেত্রে তোমাকে বিচারক হিসেবে মেনে নেয়। অতঃপর তোমার দেওয়া ফয়সালার ব্যাপারে তাদের অন্তরে আর কোনো দ্বিধা বা সংকীর্ণতা থাকবে না এবং তারা তা পূর্ণ সন্তুষ্টির সাথে মেনে নেবে।’ (সুরা নিসা: ৬৫)
আজকের দিনে অনেকের মনেই এই প্রশ্নটি উঁকি দেয় যে, কোরআন যখন আমাদের কাছে আছেই, তখন হাদিস বা রাসুলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহর অনুসারী হওয়ার আদৌ কোনো প্রয়োজন আছে কি না। এই জটিল বিষয়টি বোঝার জন্য কোনো একাডেমিক বা জটিল পরিভাষার আশ্রয়ের প্রয়োজন নেই; বরং অত্যন্ত প্রাঞ্জল ও সাধারণ অনুধাবনের মাধ্যমে বিষয়টি উপলব্ধি করা যায়।
প্রথমত, কোরআনের নিজস্ব যুক্তিই হাদিস অনুসরণের অপরিহার্যতার পক্ষে সবচেয়ে বড় প্রমাণ। কোরআন গভীরভাবে উপলব্ধি করলে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে দ্বিধা থাকে না যে, রাসুলুল্লাহর (সা.) সুন্নাহ ও হাদিস কোরআন থেকে আলাদা করা অসম্ভব। এটি কোরআন অধ্যয়ন ও অনুশীলনেরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, এটি কোনো নতুন বিভ্রান্তি নয়। মদিনায় ইসলাম গ্রহণকারী একদল মানুষের মনেও এই একই সংশয় দেখা দিয়েছিল। রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন কোনো কথা বলতেন, তারা জানতে চাইত এটি কি তাঁর নিজের কথা, নাকি কোরআনের ওহি? তারা রাসুলুল্লাহর (সা.) ব্যক্তিগত মতামত ও ওহির মধ্যে পার্থক্য করতে চেয়েছিল।
কোরআনের মাদানি সুরাগুলোতে, বিশেষ করে সুরা নিসায় আল্লাহ তাআলা এই মানসিকতার চূড়ান্ত জবাব দিয়েছেন। সুরা নিসার ৬৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ নিজের কসম খেয়ে বলেছেন, মানুষ যতক্ষণ পর্যন্ত রাসুলুল্লাহকে (সা.) তাদের সমস্ত বিরোধের চূড়ান্ত ফয়সালাকারী হিসেবে মেনে না নেবে এবং তাঁর সিদ্ধান্তের সামনে নিজেদের মন থেকে সব ধরনের দ্বিধা সরিয়ে পুরোপুরি সমর্পণ না করবে, ততক্ষণ তারা কোনোভাবেই মুমিন হতে পারবে না।
কোরআনের অন্যান্য জায়গায় আল্লাহ সাধারণত তাঁর সৃষ্টির নামে শপথ করেন যেমন সময়, ডুমুর, জলপাই কিংবা তুর পাহাড়ের শপথ। কিন্তু এই বিশেষ আয়াতে আল্লাহ তাআলা নিজের নামে শপথ করেছেন এবং রাসুলুল্লাহকে (সা.) সম্বোধন করে বলেছেন, ‘তোমার রবের কসম!’ এটিই প্রমাণ করে রাসুলুল্লাহর (সা.) সিদ্ধান্ত ও তাঁর সুন্নাহর মর্যাদা আল্লাহর কাছে কতটা সুউচ্চ।
কোরআন কেবল আকাশ থেকে নেমে আসা শুষ্ক কোনো আইনের বই হিসেবে আসেনি, যা কোনো কুরিয়ার সার্ভিসের মতো কেবল পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। কোরআন এসেছে একজন জীবন্ত রোল মডেল বা আদর্শ মানুষের মাধ্যমে। কোরআনের নীতি ও আদর্শকে কীভাবে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে হবে, তা রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজের জীবন দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন। তাই কোরআন ও রাসুলুল্লাহর (সা.) জীবনে এর প্রয়োগকে আলাদা করা যায় না।
মক্কার মুশরিকরা যখন রাসুলুল্লাহর (সা.) কাছে অলৌকিক নিদর্শন বা মোজেজা দাবি করেছিল, তখন আল্লাহ বলেছিলেন যে তাদের কাছে অবতীর্ণ এই কিতাবই কি তাদের জন্য মোজেজা হিসেবে যথেষ্ট নয়? এর অর্থ এই নয় যে কেবল বই থাকলেই চলবে আর রাসুলুল্লাহর (সা.) প্রয়োজন নেই; বরং এর অর্থ হলো কোরআনের বাণী নিজেই এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী অলৌকিক প্রমাণ।
রাসুলুল্লাহর (সা.) নিজের ভাষা ও কোরআনের অলৌকিক ভাষার মধ্যে সুস্পষ্ট ফারাক ছিল। দীর্ঘ ৪০ বছর যিনি মক্কাবাসীদের মাঝে বাস করেছেন, তাঁর কথা বলার ভঙ্গি আর কোরআনের শৈলীর তফাত সবাই স্পষ্ট বুঝতে পারত। তাই সুন্নাহ ও হাদিসকে কোরআনের সত্যতার অন্যতম প্রামাণিক দলিল হিসেবেই দেখা উচিত।
তদুপরি, যে ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতায় ও যে বিশ্বস্ত সাহাবিদের মাধ্যমে আমাদের কাছে কোরআন পৌঁছেছে, সেই একই নির্ভরযোগ্য সূত্রে হাদিসও সংরক্ষিত ও হস্তান্তরিত হয়েছে। ফলে সুন্নাহ বা হাদিসের ঐতিহাসিক প্রামাণিকতাকে অস্বীকার করতে গেলে কোরআনের সংকলন ও হস্তান্তর প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠে যায়, যে প্রশ্ন তোলা কোনো মুমিনের পক্ষে সম্ভব নয়।
তবে হাদিস অনুধাবনের ক্ষেত্রে প্রেক্ষাপট বা কনটেক্সট বোঝা অত্যন্ত জরুরি। কোনো হাদিসের গভীরতা ও মূল শিক্ষা না বুঝে কেবল অনুবাদ পড়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাওয়া বিপজ্জনক। কোরআনের মতো দ্বীনের গভীর বিষয়গুলোকে বুঝতে হলে বুদ্ধি ও বিচারবিবেচনা প্রয়োগ করতে হয়।
আল্লাহ কোরআনকে স্মরণের জন্য সহজ করেছেন, কিন্তু দ্বীনের হেদায়েত ও শরিয়তের গভীরতা বুঝতে হলে রাসুলুল্লাহর (সা.) জীবন ও সুন্নাহর আলোকেই তা বুঝতে হবে। সুন্নাহ ও রাসুলুল্লাহর (সা.) নবুয়তি মর্যাদাকে পূর্ণাঙ্গভাবে অনুধাবন করে সর্বান্তকরণে তা মেনে নেওয়ার মাধ্যমেই একজন মুমিন তার ইমানের পূর্ণতা অর্জন করতে পারে। আল্লাহর শরিয়ত ও রাসুলের (সা.) সুন্নাহর সামনে নিজেকে পূর্ণাঙ্গভাবে সমর্পণ করাই ইসলামি জীবনদর্শনের মূল ভিত্তি।
সূত্র: নোমান আলী খানের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেল
ওএফএফ
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারের বাসায় মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকীকে হত্যা ও ডাকাতির মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আবারও পিছিয়েছে। মামলার এক আসামির আদালতে উপস্থিত হতে না পারায় সময় চেয়ে করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানির নতুন তারিখ আগামী ২৫ অক্টোবর নির্ধারণ করেছেন আদালত। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার নবম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মাহমুদুল ইসলামের আদালতে মামলাটির অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা ছিল। এদিন আসামি ইঞ্জিনিয়ার ওরফে রিয়াজ ওরফে রিপনের আইনজীবী মো. জায়েদুর রহমান সময় চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, আসামির মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তিনি আদালতে হাজির হতে পারেননি। এ কারণে তার পক্ষে আদালতে উপস্থিত হয়ে শুনানিতে অংশ নেওয়ার জন্য কয়েকদিন সময় প্রয়োজন। আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করেন। বিষয়টি আদালতের বেঞ্চ সহকারী আবুল কাশেম জানান। এদিন মামলার আসামি আব্দুল্লাহ আল তাসনিম নাহিদ ও আবু রায়হান মাহমুদ আব্দুল হাদী আদালতে হাজিরা দেন। কারাগারে থাকা আসামি হাদিসুর রহমান সাগরকেও আদালতে হাজির করা হয়। পরে সাগরের পক্ষে তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট কে. এম. শরীফুল ইসলাম জামিনের আবেদন করেন। আদালত ওই আবেদনের ওপর শুনানির জন্যও আগামী ২৫ অক্টোবর দিন নির্ধারণ করেন। মামলার অন্য দুই আসামি মাহমুদ ইবনে বাশার ও রফিকুল ইসলাম ফারদীন পলাতক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে। তবে মামলার নথি অনুযায়ী, মাহমুদ ইবনে বাশার জামিনে রয়েছেন। যেভাবে হত্যা করা হয় ফারুকীকে ২০১৪ সালের ২৭ আগস্ট রাতে পূর্ব রাজাবাজারের নিজ বাসায় মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকীকে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ওই রাতেই বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ফারুকীর ছেলে ফয়সাল ফারুকী বাদী হয়ে মামলা করেন। দীর্ঘ তদন্তের পর ঘটনার প্রায় ১০ বছর পর ২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর ছয়জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার কে এম আবুল কাশেম ওই অভিযোগপত্র দাখিল করেন। শুরুতে মামলাটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে করা হলেও তদন্তে আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা ছাড়াও ডাকাতির অভিযোগের তথ্য উঠে আসে। মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ২৭ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টার দিকে ফারুকীর পূর্ব রাজাবাজারের বাসার দরজায় কয়েকজন দুর্বৃত্ত কলিং বেল দেয়। দরজা খুললে প্রথমে দুজন ভেতরে ঢুকে নুরুল ইসলাম ফারুকীর সঙ্গে ড্রয়িংরুমে বসে কথা বলতে থাকে। কিছুক্ষণ পর আরও ছয় থেকে সাতজন ওই বাসায় প্রবেশ করে। তাদের বসার জন্য জায়গা সংকুলান না হওয়ায় ফারুকীর মামাতো ভাই মারুফ হোসেন ভেতর থেকে চেয়ার আনতে যান। চেয়ার নিয়ে ফিরে এসে তিনি দেখতে পান, নুরুল ইসলাম ফারুকীর মাথায় পিস্তল ও চাপাতি ঠেকিয়ে রেখেছে দুর্বৃত্তরা। এরপর বাসার সদস্যদের বেঁধে ফেলে তারা। একপর্যায়ে নুরুল ইসলাম ফারুকীকে হত্যা করা হয়। পরে বাসা থেকে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, স্বর্ণালঙ্কার ও ক্যামেরাসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে চলে যায় দুর্বৃত্তরা। এমডিএএ/এমকেআর
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে নিয়োগ, বদলি ও পদায়নে কোটি কোটি টাকা লেনদেন এবং বিদেশে টাকা পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করার কথা জানিয়েছে দুদক। অভিযোগটি চলমান অনুসন্ধানের সঙ্গে যুক্ত করে অনুসন্ধানের সিন্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আজ রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ তানজির আহমেদ বলেন, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে নতুন করে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি দুদকের এখতিয়ারভুক্ত হওয়ায় আগের অনুসন্ধানের সঙ্গে যুক্ত করে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত হয়েছে।তানজির আহমেদ বলেন, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা এবং সারা দেশে ৩৬ জন জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়নে ২ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে টেন্ডার বাণিজ্য এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনকালে উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ কমিশন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের টেন্ডার বাণিজ্যের সঙ্গেও তাঁর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করা হয়েছে।এ ছাড়া হেলিকপ্টারে ভ্রমণ করে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয়, হোটেল ওয়েস্টিনসহ পাঁচ তারকা হোটেলে নিয়মিত যাতায়াত, বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে বসবাস ও গাড়ি ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তানজির আহমেদ বলেন, অভিযোগে বিদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের দাবিও করা হয়েছে। এর মধ্যে দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি টাকা, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি টাকা ও সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে। এসব অর্থ দিয়ে বিদেশে বিলাসবহুল ভিলা (বড় বাড়ি) কেনা ও বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগের অভিযোগ করা হয়েছে।সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, পর্তুগালে জমি কেনা, দুবাইয়ের গ্রিন গ্রুপে বিনিয়োগ এবং সুইস ব্যাংকে অর্থ জমা রাখার অভিযোগও রয়েছে। দুই বোনজামাই ও ভাগ্নের মাধ্যমে বিদেশে কোটি কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় বাড়িয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে। ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।গত ২ সেপ্টেম্বর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।আজ দুপুরে দুদকের সংবাদ সম্মেলনের পর ফেসবুকে আসিফ মাহমুদ লিখেছেন, ‘অনুসন্ধানে বিদেশে কিছু পেলে আমাকে শুধু ১০% দিয়েন, চলতে কষ্ট হচ্ছে।’আগেও এসব অভিযোগ ও দুদকের বক্তব্যের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন আসিফ মাহমুদ। গত বুধবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার বিষয়ে দুদকের বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানান। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।পরে তাঁর পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক আখতারুল ইসলামের কাছে আইনি নোটিশ পাঠান। গত বৃহস্পতিবার পাঠানো ওই নোটিশে দুদকের বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।গত শুক্রবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে আসিফ মাহমুদ দাবি করেন, গত ২ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে দুদক কর্মকর্তা আখতারুল ইসলাম বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতিতে অনিয়মের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার কথা জানান। এরপর বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।আসিফ মাহমুদের অভিযোগ, কোনো তদন্তের ফলাফল বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশের আগেই দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তার ওই বক্তব্যের কারণে তাঁকে নিয়ে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ শুরু হয়। এতে অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে—এমন ধারণা জনমনে তৈরি হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে এবং তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেকের সই নকল করে জমির নামজারি জালিয়াতির অভিযোগে কে এম প্রিন্স (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। তিনি দলিল লেখকের সহকারী হিসেবে কাজ করেন। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ভূমি অফিসে ম্যাকটেন হোল্ডিং লিমিটেডের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) শাম্মী আক্তারের মৌখিক অভিযোগের পর তাকে আটক করা হয়। আটক কেএম প্রিন্স কলাপাড়া পৌর শহরের এতিমখানা এলাকার বাসিন্দা। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন মাস আগে ৫৬ নম্বর জেএল খাজুরা মৌজার সাতটি দলিলের নামজারি (মিউটেশন) করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কেএম প্রিন্সের কাছে জমা দেন শাম্মী আক্তার। পরবর্তী সময়ে প্রিন্স দুটি দলিলের নামজারি সম্পন্ন হওয়ার কাগজপত্র তাকে দেন। কাগজপত্র হাতে পাওয়ার পর শাম্মী আক্তার কিউআর কোড স্ক্যান করে যাচাই করলে নামজারি দুটি ভুয়া বলে শনাক্ত হয়। ওই কাগজপত্রে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেকের সইয়ের স্ক্যান কপি ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। আরও পড়ুন ঘুসের রেট ২০ হাজার থেকে দেড় লাখ, টাকা ছাড়া কাজ করেন না ভূমি কর্মকর্তা রোববার দুপুরে উপজেলা ভূমি অফিসে গিয়ে এসিল্যান্ডকে বিষয়টি জানান শাম্মী আক্তার। পরে পুলিশের কাছে মৌখিক অভিযোগ দেন। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে কেএম প্রিন্সকে আটক করে। কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেক বলেন, ‘এ ধরনের জালিয়াতি চক্রের প্রতারণার কারণে বিনিয়োগকারীরা কুয়াকাটা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। আমার কাছে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৭টি জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়েছে। এসব জালিয়াতির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’ আসাদুজ্জামান মিরাজ/এসআর/এএসএম