জাতীয়

কম উপাদানে হাঁটু-কনুই কালচে দাগ কমাবেন যেভাবে

News সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ 0
কম উপাদানে হাঁটু-কনুই কালচে দাগ কমাবেন যেভাবে
কম উপাদানে হাঁটু-কনুই কালচে দাগ কমাবেন যেভাবে

মুখের ত্বকের যত্নে আমরা যতটা মনোযোগ দিই, হাঁটু ও কনুইয়ের ক্ষেত্রে অনেক সময়ই তা দেখা যায় না। অথচ শরীরের অন্যান্য অংশের তুলনায় এই দুই জায়গার ত্বক দ্রুত শুষ্ক, রুক্ষ ও কালচে হয়ে যেতে পারে। নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার না করা, অতিরিক্ত ঘর্ষণ, শুষ্কতা কিংবা ত্বকের যত্নে অবহেলার কারণে এমনটা হতে পারে।

কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো ত্বকের সমস্যার সঙ্গেও কালচে ও মোটা ত্বকের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। তাই হঠাৎ বা দীর্ঘদিনের পরিবর্তন হলে শুধু ঘরোয়া যত্নের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

তবে সাধারণ শুষ্কতা ও রুক্ষতার ক্ষেত্রে নিয়মিত ময়েশ্চারাইজিংয়ের পাশাপাশি ঘরোয়া কিছু উপাদান দিয়ে ত্বকের যত্ন নেওয়া যেতে পারে। বেসন, টক দই, ওটমিল, মধু ও অ্যালোভেরার মতো সহজলভ্য উপাদান দিয়ে তৈরি করা যায় কয়েক ধরনের মৃদু মাস্ক।

মুখের পাশাপাশি যত্ন চাই হাঁটু-কনুইয়ের ত্বকেরওমুখের পাশাপাশি যত্ন চাই হাঁটু-কনুইয়ের ত্বকেরও

বেসন ও টক দইয়ের মাস্ক

রূপচর্চায় বেসনের ব্যবহার বহুদিনের। এর সঙ্গে টক দই মিশিয়ে তৈরি করা যায় সহজ একটি মাস্ক। দইয়ে থাকা ল্যাকটিক অ্যাসিড ত্বকের ওপরের মৃত কোষ আলগা করতে এবং ত্বককে তুলনামূলক মসৃণ রাখতে সহায়তা করতে পারে।

২ টেবিল চামচ বেসনের সঙ্গে প্রয়োজনমতো টক দই মিশিয়ে মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। এবার হাঁটু ও কনুইয়ে পাতলা করে লাগিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর স্বাভাবিক বা হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সবশেষে ভালো একটি ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।

ওটমিল ও মধুর মাস্ক

শুষ্ক ও রুক্ষ ত্বকের যত্নে মিহি ওটমিল ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি ত্বককে মৃদুভাবে পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। অন্যদিকে মধু আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করে। ফলে এই দুই উপাদানের মিশ্রণ হাঁটু ও কনুইয়ের শুষ্ক ত্বকে আরাম দিতে পারে।

১ টেবিল চামচ মিহি গুঁড়া ওটমিলের সঙ্গে ১ টেবিল চামচ মধু ও সামান্য পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে প্রায় ১০ মিনিট রাখুন। ধোয়ার সময় ত্বক ভিজিয়ে খুব হালকা হাতে পরিষ্কার করুন। জোরে ঘষাঘষি করার প্রয়োজন নেই। ধুয়ে নেওয়ার পর ময়েশ্চারাইজার লাগান।

অ্যালোভেরা ও হলুদের মাস্ক

অ্যালোভেরা জেল ত্বকে আর্দ্রতা যোগ করতে এবং শুষ্কতার কারণে হওয়া অস্বস্তি কমাতে সহায়তা করতে পারে। অল্প পরিমাণ হলুদও এই মাস্কে যোগ করা যায়। তবে হলুদ সবার ত্বকে মানানসই নাও হতে পারে এবং এটি ত্বকের রং পরিবর্তন করে ফেলতে পারে, তাই পরিমাণ খুব কম রাখাই ভালো।

১ টেবিল চামচ অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে ১ চিমটি হলুদ গুঁড়া মিশিয়ে নিন। হাঁটু ও কনুইয়ে পাতলা করে লাগিয়ে ১০ মিনিট পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এরপর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।

নিয়মিত যত্নই সবচেয়ে জরুরি

ঘরোয়া মাস্ক ব্যবহার করলেই একদিনে কালচে বা খসখসে ত্বক বদলে যাবে-এমনটা ভাবা ঠিক নয়। নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার, অতিরিক্ত ঘর্ষণ এড়িয়ে চলা এবং ত্বক পরিষ্কার ও আর্দ্র রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন

তিল-আঁচিল তুলতে আপেল সিডার ভিনেগারের ব্যবহারে হতে পারে ত্বকের ক্ষতি

নতুন কোনো মাস্ক ব্যবহারের আগে হাতের ছোট অংশে প্যাচ টেস্ট করে নিন। জ্বালা, চুলকানি, লালচে ভাব বা র‍্যাশ দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করুন। আর মরা চামড়া তুলতে গিয়ে কখনোই হাঁটু বা কনুই জোরে ঘষবেন না। অতিরিক্ত ঘর্ষণে ত্বকে প্রদাহ তৈরি হয়ে কালচে ভাব আরও বাড়তে পারে।

আরও পড়ুন

৫০ বছরে উজ্জ্বল ত্বক, রাতে ব্যবহার করুন ঘরোয়া ক্রিম

দীর্ঘদিন সমস্যা থাকলে বা শরীরের অন্য জায়গাতেও একই ধরনের পরিবর্তন দেখা দিলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ফেমিনা, পার্পেল ডট কম

এসএকেওয়াই

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
মৃত্যুর ৮ মাস পর দেশে ফিরল লিবিয়াপ্রবাসীর মরদেহ
মৃত্যুর ৮ মাস পর দেশে ফিরল লিবিয়াপ্রবাসীর মরদেহ

লিবিয়ায় তরিকুল ইসলামের মৃত্যুর খবর পরিবার পেয়েছিল আট মাস আগে। তবে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতায় তাঁর মরদেহ দেশে ফিরবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিলেন স্বজনেরা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর আজ শনিবার বিকেলে কফিনে করে তাঁর মরদেহ পৌঁছে জয়পুরহাটে গ্রামের বাড়িতে।তরিকুল ইসলাম (২৫) ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের গুরুড়া গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের অভাব-অনটন দূর করতে প্রায় সাত বছর আগে তিনি লিবিয়ায় যান।স্বজনেরা বলেন, লিবিয়ায় অবস্থানকালে গত ৩ জানুয়ারি অসুস্থ হয়ে তরিকুলের মৃত্যু হয়। পরিবারের সদস্যদের তাঁর মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছিল। এরপর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়। কিন্তু আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতায় সেই প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়। আট মাস ধরে তাঁরা অপেক্ষায় ছিলেন, শেষ পর্যন্ত তরিকুলের মরদেহ দেশে ফিরবে কি না।তরিকুল ইসলামশনিবার দুপুরে তরিকুলের মরদেহ ঢাকা বিমানবন্দরে পৌঁছায়। বিকেল চারটার দিকে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। বিকেল পাঁচটার দিকে স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে জানাজা হয়। এতে স্বজন, প্রতিবেশীসহ স্থানীয় লোকজন অংশ নেন। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর মরদেহ দাফন করা হয়।আলমপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল মোত্তালেব হোসেন বলেন, তরিকুল অবৈধভাবে লিবিয়ায় গিয়েছিলেন। আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে দেশে তাঁর মরদেহ দেরিতে ফিরেছে।

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
নোয়াখালী পৌর বণিক সমিতির সভাপতি আপেল, সম্পাদক মুকুল

নোয়াখালী পৌর বণিক সমিতির সভাপতি আপেল, সম্পাদক মুকুল

ঘুষ-দুর্নীতিই এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের প্রধান অন্তরায়

ঘুষ-দুর্নীতিই এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের প্রধান অন্তরায়

বায়তুল মোকাররমে শুরু মাসব্যাপী আন্তর্জাতিক ইসলামি বইমেলা

বায়তুল মোকাররমে শুরু মাসব্যাপী আন্তর্জাতিক ইসলামি বইমেলা

৬৩ বিদেশির কারও কাছে মিললো না পাসপোর্ট, খুলশীতে কী করছিলেন তারা?
৬৩ বিদেশির কারও কাছে মিললো না পাসপোর্ট, খুলশীতে কী করছিলেন তারা?

চট্টগ্রাম নগরের খুলশীতে অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার ৬৩ বিদেশি নাগরিকের কারও কাছেই পাসপোর্ট পাওয়া যায়নি। তাদের কাছ থেকে ১৩৪টি মোবাইল ফোন ও ৫৭টি ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ডিভাইস উদ্ধার করা হলেও পাসপোর্টের কোনো হদিস মেলেনি। ফলে গ্রেফতার ব্যক্তিরা কোন ভিসায় বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন, সে তথ্যও এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) ফয়সাল আহমেদ। তিনি জানান, গ্রেফতার ৬৩ বিদেশির মধ্যে লাওসের ৩৪ জন, পাকিস্তানের ২১ জন, চীনের পাঁচজন, নেপালের একজন ও ভিয়েতনামের একজন রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২০ জন নারী। এছাড়া তাদের সঙ্গে একটি শিশুও ছিল। অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, বিদেশিদের কাছ থেকে ১৩৪টি মোবাইল ফোন এবং বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৫৭টি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে কারও কাছেই পাসপোর্ট পাওয়া যায়নি। তিনটি পাকিস্তানি জাতীয় পরিচয়পত্র ও কম্বোডিয়ার একটি চাকরির কার্ড পাওয়া গেছে। পুলিশ জানায়, খুলশীর কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার একটি আটতলা ভবন পুরোপুরি ভাড়া নিয়ে সেখানে অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছিল। প্রায় ছয় মাস আগে দুবাইপ্রবাসী এক ব্যক্তির মালিকানাধীন ভবনটি মাসে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকায় ভাড়া নেওয়া হয়। সেখানে দেশভেদে আলাদা করে বিদেশি নাগরিকদের রাখা হয়েছিল এবং তাদের জন্য রান্নার ব্যবস্থাও ছিল। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, মহসিন নামে এক ব্যক্তির কাছে অধিকাংশ বিদেশির পাসপোর্ট রয়েছে। তিনিই ভবনটি ভাড়া নিয়ে বিদেশিদের থাকা ও অন্যান্য বিষয় দেখভাল করতেন। বর্তমানে তাকে খুঁজছে পুলিশ। কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কর্মকর্তাদের ধারণা, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এসব বিদেশিকে বাংলাদেশে আনা হয়ে থাকতে পারে। তাদের কেউ কেউ অনলাইন মার্কেটিংয়ের নামে পণ্য দেওয়ার কথা বলে অগ্রিম টাকা নেওয়া কিংবা হানিট্র্যাপের মতো প্রতারণায় জড়িত থাকতে পারেন। তবে কী ধরনের প্রতারণা করা হতো, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। অতিরিক্ত কমিশনার ফয়সাল আহমেদ বলেন, পুরো ভবনটি ভাড়া নিয়ে দেশি-বিদেশি কয়েকটি চক্র অনলাইন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছিল। প্রতারণার ধরন বিস্তারিতভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। আপাতত তাদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করা হয়েছে। খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুর রহিম বলেন, গ্রেফতার ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তারা কবে এবং কোন ভিসায় বাংলাদেশে এসেছেন, তা জানার চেষ্টা করা হবে। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। এমআরএএইচ/এমআইএইচএস/

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
‘প্রিয় মানুষদের সামনে গান করতে পেরে আনন্দিত হয়েছি’

‘প্রিয় মানুষদের সামনে গান করতে পেরে আনন্দিত হয়েছি’

ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশজুড়ে প্রচারপত্র বিতরণ করবে বিএনপি

ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশজুড়ে প্রচারপত্র বিতরণ করবে বিএনপি

ডেঙ্গুতে প্রাণ গেলো অন্তঃসত্ত্বার, বাঁচেনি গর্ভের সন্তানও

ডেঙ্গুতে প্রাণ গেলো অন্তঃসত্ত্বার, বাঁচেনি গর্ভের সন্তানও

মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি ও তদন্তে গতি আনতে সমন্বিত পদক্ষেপের তাগিদ
মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি ও তদন্তে গতি আনতে সমন্বিত পদক্ষেপের তাগিদ

মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি, তদন্তে গতি আনা, সময়মতো অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল, মেডিক্যাল ও ফরেনসিক প্রতিবেদন দ্রুত আদালতে উপস্থাপন এবং বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাতে আদালত, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।শনিবার রাজধানীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্সে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও নির্দেশনা দেওয়া হয়। ঢাকা জেলা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসি এ কনফারেন্সের আয়োজন করে।চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (ভারপ্রাপ্ত) মো. মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে কনফারেন্সে প্রধান অতিথি ছিলেন সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলাম। এতে জেলার মামলা নিষ্পত্তি-সংক্রান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান এবং সঞ্চালনা করেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাজুল ইসলাম সোহাগ।বৈষম্যবিরোধী মামলার অগ্রগতি ও সম্পূরক অভিযোগপত্রকনফারেন্সে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন-সংক্রান্ত মামলার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। এসব মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করে অভিযোগপত্র দাখিলের জন্য থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে পুলিশ সুপারের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়। তদন্তে কোনো আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগের পর্যাপ্ত ভিত্তি না থাকলে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।তবে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেওয়ার সময় মূল অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত আসামি যেন বাদ না পড়ে, সে বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তাদের সতর্ক করেন সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলাম। পাশাপাশি দ্রুত পরোয়ানা তামিল এবং সংশ্লিষ্ট আসামিদের গ্রেপ্তারে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়।রাজধানীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সম্মেলনকক্ষে শনিবার অনুষ্ঠিত পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্সে অংশ নেন বিচার বিভাগ, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন যথাসময়ে আদালতে পাঠাতে নির্দেশনাহত্যা মামলার ক্ষেত্রে মামলার পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও সুরতহাল প্রতিবেদন, জব্দতালিকা ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন আদালতে সময়মতো না আসার বিষয়টি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। মামলার পরপরই ভিকটিমের সুরতহাল প্রতিবেদন ও জব্দতালিকা এবং পরবর্তী সময়ে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন যথাসময়ে আদালতে পাঠানো নিশ্চিত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।দীর্ঘদিন ধরে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল না হওয়ার বিষয়েও সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। দ্রুত পরোয়ানা তামিল এবং সংশ্লিষ্ট আসামিদের গ্রেপ্তারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি নির্দেশনা দেওয়া হয়।ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি ও স্বীকারোক্তি গ্রহণের ক্ষেত্রেও আইনগত শর্ত, স্বেচ্ছাস্বীকৃতি এবং নির্ধারিত পদ্ধতি যথাযথভাবে অনুসরণের বিষয়ে আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে আইনের বিধান যথাযথভাবে প্রতিপালনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।মেডিক্যাল প্রতিবেদন ও ডিজিটাল আলামত সংরক্ষণকনফারেন্সে মেডিক্যাল প্রতিবেদন চাওয়ার ক্ষেত্রে সঠিক কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন এবং সংশ্লিষ্ট থানা থেকে যথাযথ রিকুইজিশন পাঠানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। চিকিৎসা প্রদানকারী চিকিৎসক কর্মরত না থাকলে সংশ্লিষ্ট পদে থাকা চিকিৎসকের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় বোর্ড গঠন করে যথাযথ স্বাক্ষরে দ্রুত প্রতিবেদন দেওয়ার বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়।নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় ভুক্তভোগীর মেডিক্যাল পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট আইনি বিষয় যথাযথভাবে বিবেচনা করে মামলা গ্রহণ ও তদন্ত পরিচালনার ওপর জোর দেওয়া হয়। এ ছাড়া সিসি ক্যামেরার ডিভিআরসহ সংশ্লিষ্ট ডিভাইস সঠিকভাবে জব্দ করা এবং মুঠোফোন জব্দের সময় সিমের তথ্য এবং আইএমইআই নম্বর যথাযথভাবে নথিভুক্ত করার বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তাদের সতর্ক করা হয়। একই সঙ্গে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি ও স্বীকারোক্তি গ্রহণের ক্ষেত্রে আইনগত শর্ত, স্বেচ্ছাস্বীকৃতি ও নির্ধারিত পদ্ধতি যথাযথভাবে অনুসরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়।কনফারেন্সে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন, সিআইডির পুলিশ সুপার, পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, জেল সুপার, সিভিল সার্জন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন থানার ওসি, জেলা পিপি, ঢাকা বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
শেয়ারবাজারে ৫০০ কোটি টাকার কোম্পানি আসতে পারবে সরাসরি

শেয়ারবাজারে ৫০০ কোটি টাকার কোম্পানি আসতে পারবে সরাসরি

মিরপুরে বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ৬৬

মিরপুরে বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ৬৬

মোহাম্মদপুর-বংশাল-মতিঝিলে অভিযান, গ্রেফতার ৫১

মোহাম্মদপুর-বংশাল-মতিঝিলে অভিযান, গ্রেফতার ৫১

0 Comments