দূরপাল্লার ভ্রমণে হাইওয়ে দিয়ে গেলে রাস্তার পাশে বড় বড় সাইনবোর্ড নিশ্চয়ই চোখে পড়ে। কোথায় কত কিলোমিটার দূরে কোন শহর, সামনে কোন পথে গেলে গন্তব্যে পৌঁছানো যাবে সেই তথ্যই থাকে সেই বোর্ডে।
তবে কখনো কি খেয়াল করেছেন, প্রায় সব হাইওয়ের দিকনির্দেশক বোর্ডের রং সবুজ, আর লেখাগুলো সাদা?
এটি কোনো কাকতালীয় বিষয় নয়। বরং এর পেছনে রয়েছে বিজ্ঞান, মানুষের দৃষ্টিশক্তি, মনোবিজ্ঞান এবং সড়ক নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ কিছু কারণ। তাই বিশ্বের অনেক দেশেই একই ধরনের রঙের সাইনবোর্ড ব্যবহার করা হয়।
হাইওয়েতে গাড়ি সাধারণত তুলনামূলক বেশি গতিতে চলে। ফলে একটি সাইনবোর্ড দেখার পর চালকের হাতে সেটি পড়া ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য খুব বেশি সময় থাকে না। এই কারণেই সাইনবোর্ড এমনভাবে তৈরি করা হয়, যাতে দ্রুত চোখে পড়ে এবং অল্প সময়েই তথ্য বোঝা যায়।
ছবি: এআই
শুধু সবুজ রং নয়, সাইনবোর্ডে ব্যবহৃত সাদা অক্ষরেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পটভূমির সঙ্গে ভালো কনট্রাস্ট থাকায় অক্ষর দ্রুত পড়া যায়। বিশেষ করে চলন্ত গাড়ি থেকে ছোট সময়ের মধ্যে তথ্য পড়তে হলে এই বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ।
সড়কের বিভিন্ন ধরনের তথ্য বোঝাতে আবার ভিন্ন ভিন্ন রং ব্যবহার করা হয়। যেমন সতর্কতা বা বিপদের সংকেত বোঝাতে অনেক ক্ষেত্রে হলুদ, লাল বা কমলা রং দেখা যায়। অর্থাৎ রঙের ব্যবহারও চালককে তথ্যের ধরন দ্রুত বুঝতে সাহায্য করে।
দীর্ঘ সময় গাড়ি চালালে চোখে ক্লান্তি আসা স্বাভাবিক। বিশেষজ্ঞদের মতে, সবুজ রং মানুষের চোখের জন্য তুলনামূলক আরামদায়ক। প্রকৃতির সঙ্গে এই রঙের সম্পর্ক থাকায় এটি চোখে কম চাপ ফেলে এবং দীর্ঘ সময় দেখলেও অস্বস্তি তৈরি করে না।
অন্যদিকে লাল বা উজ্জ্বল হলুদ রং সতর্কবার্তার জন্য ব্যবহার করা হয়। এসব রং দীর্ঘ সময় ব্যবহার করলে চোখে চাপ বাড়তে পারে। তাই পথনির্দেশের জন্য সবুজকেই সবচেয়ে উপযুক্ত মনে করা হয়।
শুধু দিনের বেলায় নয়, রাতেও এই সাইনবোর্ডগুলো সহজে দেখা যায়। কারণ বেশির ভাগ বোর্ডেই প্রতিফলক (রিফ্লেকটিভ) উপাদান ব্যবহার করা হয়।
গাড়ির হেডলাইটের আলো পড়লেই সাদা লেখাগুলো উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। ফলে অন্ধকারেও চালকের প্রয়োজনীয় তথ্য বুঝতে অসুবিধা হয় না।
এক দেশ বা এক অঞ্চলে এক ধরনের, আর অন্য জায়গায় অন্য ধরনের সাইনবোর্ড থাকলে চালকদের বিভ্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এ কারণে আন্তর্জাতিকভাবে একটি নির্দিষ্ট মান অনুসরণ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জাপান, অস্ট্রেলিয়া এবং ইউরোপের অনেক দেশেই হাইওয়ের দিকনির্দেশক বোর্ড সবুজ রঙের এবং লেখাগুলো সাদা। এতে নতুন জায়গায় গাড়ি চালালেও পথ চিনতে সুবিধা হয়।
হাইওয়েতে দিন-রাত চলাচল করে অসংখ্য বাস, ট্রাক ও পণ্যবাহী যানবাহন। দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানোর কারণে অনেক চালক শারীরিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েন।
এমন অবস্থায় পরিচিত সবুজ সাইনবোর্ড দ্রুত তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ মোড়, সার্ভিস এরিয়া বা গন্তব্য মিস হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। এতে যাত্রাও হয় আরও নিরাপদ।

অনেকেই মনে করেন, সবুজ রং শুধু দেখতে সুন্দর বলেই ব্যবহার করা হয়। বাস্তবে বিষয়টি তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
এই রং বেছে নেওয়ার পেছনে রয়েছে মানুষের দৃষ্টিশক্তি, মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা, দ্রুত তথ্য বোঝার সুবিধা এবং আন্তর্জাতিক সড়ক নিরাপত্তার মানদণ্ড।
তাই পরেরবার হাইওয়ে দিয়ে কোথাও যাওয়ার সময় রাস্তার পাশের সবুজ সাইনবোর্ড দেখলে জানবেন, এটি শুধু পথ দেখানোর জন্য নয়; নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট
এসএকেওয়াই
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের মেডিসিন বিভাগ থেকে একটি মোবাইল ও একটি পাওয়ার ব্যাংকসহ আব্দুল কুদ্দুস (৩৮) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে আনসার সদস্যরা। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে আনসার সদস্যরা তার কাছে থেকে একটি মোবাইল ও একটি পাওয়ার ব্যাংক উদ্ধার করে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদের প্লাটুন কমান্ডার (পিসি) মো. শাহাদাত হোসেন জানান, নতুন ভবনের পাঁচ তলায় ডিউটি অবস্থায় একজনকে সন্দেহ হলে তার কাছে থেকে একটি মোবাইল ও একটি পাওয়ার ব্যাংক উদ্ধার করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢামেকে পুলিশ ক্যাম্পের সোপর্দ করা হয়। ঢামেকের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. হাবিবুর রহমান জানান, নতুন ভবনের পাঁচ তলা থেকে চোর সন্দেহে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে আনসার সদস্যরা। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি চুরির বিষয়টি স্বীকার করেছেন। পরে তাকে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়। কেএজেডআইএ/এমআইএইচএস
বড় ও মানসম্পন্ন কোম্পানিগুলো যাতে সহজে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে অর্থ সংগ্রহ করতে পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান। তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হলে কোম্পানিগুলো করপোরেট ট্যাক্সে ছাড়, সহজে ব্যাংক ঋণ পাওয়া, কৌশলগত ও বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণসহ বিভিন্ন সুবিধা পায়। বর্তমানে যেসব বড় কোম্পানির বার্ষিক টার্নওভার বা সম্পদের পরিমাণ ৫০০ কোটি টাকা, সেগুলো সহজে সরাসরি তালিকাভুক্ত হতে পারবে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের কনফারেন্স হলে আয়োজিত ‘ক্যাপিটাল মার্কেট: গ্রোথ ডায়ালগ-পাথওয়ে টু লিস্টিং’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম চেম্বার ও আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড যৌথভাবে এ সংলাপের আয়োজন করে। বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, আইপিওতে তালিকাভুক্তির জন্য অডিট করতে হবে। তবে একবার অডিট সম্পন্ন হলে পরবর্তীতে আর অডিট করতে হবে না। আইপিওতে নির্দিষ্ট ফিক্সড প্রাইসের পরিবর্তে ইন্ডিকেটিভ মূল্য থাকবে, যা পরবর্তীতে বাজারের পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। তিনি বলেন, ব্যবসা শুরু, সম্প্রসারণ, পুনর্গঠন ও পরিচালনার জন্য উদ্যোক্তারা মানি মার্কেট ও পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করেন। ব্যবসার স্থিতিশীল ও টেকসই উন্নয়নের জন্য পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করাই বেশি শ্রেয়। কিন্তু তালিকাভুক্তির দীর্ঘসূত্রতার কারণে ব্যবসায়ীরা অর্থলগ্নি খাতের ওপর বেশি নির্ভর করছেন। এতে পুঁজিবাজারে কাঙ্ক্ষিত গতিশীলতা আসছে না এবং ব্যবসার টেকসই প্রসারও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। মাসুদ খান আরও বলেন, বাংলাদেশের মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশনের তুলনায় গড় ট্রেডিং বেশি। তাই মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন বাড়াতে বড় ও মানসম্পন্ন কোম্পানিগুলোকে স্টক মার্কেটে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। এমআরএএইচ/এমআইএইচএস
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আইসক্রিম উৎপাদন ও বাজারজাত করার অভিযোগে ‘মেসার্স মা এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে কারখানার মালিককে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার আধুনগর বাজারে অবস্থিত কারখানাটিতে অভিযান চালিয়ে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অভিযান পরিচালনা করেন লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বায়েজীদ বিন আখন্দ। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কারখানাটিতে কোনো বৈধ অনুমোদন ছাড়াই অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আইসক্রিম তৈরি করে বাজারজাত করা হচ্ছিল। অভিযানে বিপুল পরিমাণ উৎপাদিত আইসক্রিম ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বিভিন্ন মালামাল পাওয়া যায়। পরে সেগুলো ধ্বংস করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারখানাটির মালিক মো. আব্দুল মান্নানকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। অভিযানে লোহাগাড়া থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মাহবুব সারোয়ারসহ পুলিশ ও আনসার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ইউএনও বায়েজীদ বিন আখন্দ বলেন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও ভেজাল পণ্য বাজারজাত কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও ভেজাল পণ্য রোধে উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিত অব্যাহত থাকবে। এমআরএএইচ/এমআইএইচএস