পশ্চিমঙ্গ রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন থেকে শুরু করে আগামী ৭ অক্টোবর তাঁর কর্মজীবনের ২৫ বছর পূর্তি পর্যন্ত মোট ২০ দিনজুড়ে এই ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমুখী কর্মসূচি পালন করা হবে। অতীতে এ ধরনের অনুষ্ঠান পশ্চিমবঙ্গে হয়নি।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৭৫তম জন্মদিন আর প্রশাসক হিসেবে তাঁর ২৫ বছরের কর্মজীবন উদ্যাপনে প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গে নানা আয়োজনের কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে। সম্প্রতি এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে রাজ্যের প্রশাসনিক শীর্ষস্থানীয় কর্তা, মন্ত্রী ও বিধায়কদের উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই বহুমুখী আয়োজনের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। মোট ২০ দিনজুড়ে চলবে এ আয়োজন।
তবে এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের এতে শামিল করার সমালোচনা হচ্ছে। আর পূজার সময় এ আয়োজন করায় খুচরো দোকানের বিক্রি কমবে বলে মনে করছেন দোকানিরা।
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন থেকে শুরু করে আগামী ৭ অক্টোবর তাঁর কর্মজীবনের ২৫ বছর পূর্তি পর্যন্ত মোট ২০ দিনজুড়ে এই ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমুখী কর্মসূচি পালন করা হবে। অতীতে এ ধরনের অনুষ্ঠান পশ্চিমবঙ্গে হয়নি।
রাজ্য সচিবালয় নবান্ন থেকে জারি করা সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, ১৭ সেপ্টেম্বর সূর্যাস্তের পর রাজ্যজুড়ে ‘আশীর্বাদো কি দিয়া’ বা আশীর্বাদের প্রদীপ জ্বালানোর মাধ্যমে এই কর্মসূচির সূচনা হবে। পরিকল্পনার আওতায় থাকা পশ্চিমবঙ্গের মোট ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রেই আলো জ্বালানোর বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিধানসভায় কমপক্ষে ২৫ হাজার প্রদীপ জ্বালানো হবে। অর্থাৎ রাজ্যজুড়ে ওই সন্ধ্যায় ছাত্রছাত্রী ও সাধারণ মানুষের উদ্যোগে ৭০ লাখের বেশি প্রদীপ জ্বলে উঠবে। নবান্ন, রাজ্য সচিবালয়, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল ও কালীঘাট মন্দিরের মতো ঐতিহ্যপূর্ণ স্থানগুলো প্রদীপের আলোয় সাজিয়ে তোলা হবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন উপলক্ষে।
প্রধান অনুষ্ঠানটি গঙ্গার তীরে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। এই বৃহৎ কর্মযজ্ঞে রাজ্যের ৮০ হাজারের বেশি প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়কে যুক্ত করা হয়েছে। বিধানসভাভিত্তিক শিক্ষার্থীদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করে তা সংশ্লিষ্ট বিধায়কদের কাছে হস্তান্তরের জন্য জেলা স্কুল পরিদর্শকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই তালিকা অনুযায়ী পড়ুয়াদের মাথাপিছু একটি প্রদীপ দেওয়া হবে। ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ঠিক সাতটায় নিজের বাড়িতে সপরিবার সেই প্রদীপ জ্বালিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তারা ধন্যবাদ জানাবে এবং ২০৪৭ সালে বিকশিত ভারতের জন্য সংকল্প গ্রহণ করবে। প্রদীপ কেনার জন্য মাথাপিছু দুই টাকা বরাদ্দ করেছে প্রশাসন। শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, যেসব অভিভাবক সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন, তাঁদেরও এই কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এই বৃহৎ কর্মযজ্ঞে রাজ্যের ৮০ হাজারের বেশি প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়কে যুক্ত করা হয়েছে। বিধানসভাভিত্তিক শিক্ষার্থীদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করে তা সংশ্লিষ্ট বিধায়কদের কাছে হস্তান্তরের জন্য জেলা স্কুল পরিদর্শকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রকে উদ্ধৃত করে পশ্চিমবঙ্গের প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে আগামী ১০ অক্টোবর পর্যন্ত সময়সীমায় রাজ্যের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিবিধ সামাজিক ও সৃজনশীল প্রতিযোগিতা আয়োজিত হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের পড়ুয়াদের জন্য ‘স্বপ্নের ভারত’ ভাবনার ভিত্তিতে অঙ্কন, কুইজ, তাৎক্ষণিক বক্তৃতা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার পাশাপাশি ‘নমো সেবা নাটক’ মঞ্চস্থ করার নির্দেশও দিয়েছে স্কুলশিক্ষা দপ্তর। জানা গেছে, উচ্চশিক্ষা দপ্তরের উদ্যোগে ‘বিকশিত ভারত সংকল্প যাত্রা’ কর্মসূচির অধীন পশ্চিমবঙ্গ থেকে ২৫ প্রতিনিধিকে উত্তর প্রদেশে পাঠানো হবে এবং উত্তর প্রদেশের সমসংখ্যক শিক্ষার্থী এ রাজ্যে এসে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর কনটেন্ট সৃষ্টি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিরন্তর প্রচার করবে।
ক্রীড়া দপ্তরের অধীন ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’, ‘সেবা সেতু অভিযান’, ‘আলপনা প্রতিযোগিতা’ এবং আইআইটি খড়গপুর বা আইআইএম কলকাতার মতো বিশিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় ‘রাষ্ট্রীয় ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’ পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে। গোটা প্রকল্পে যুবসমাজকে যুক্ত করতে মোটরবাইক ও সাইকেল মিছিল, স্বাস্থ্য শিবিরের আওতায় সাফাই অভিযান ও রক্তদান কর্মসূচি রূপায়ণ করা হবে। উৎসবের উৎকর্ষ বাড়াতে প্রাকৃতিক রং ব্যবহার করে ১০৮ মিটারজুড়ে বিশাল ‘ভারত মণ্ডল’ রঙ্গোলি বা রঙিন আলপনা আঁকার পরিকল্পনাও করা হয়েছে।
এই সুবিশাল কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য, কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে মানুষের জীবনযাপনের যে ব্যাপক হারে মানোন্নয়ন হয়েছে, সেই বার্তা প্রচার করা। সেই উদ্দেশ্যে কেন্দ্র সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি যেমন প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, আয়ুষ্মান ভারত, জল জীবন মিশন অথবা পিএম কিষান সম্মাননিধির মতো প্রকল্পের সুবিধাপ্রাপ্ত পরিবারগুলোকে ‘নমো সেবা গাথা’ (মোদি সেবা কাব্য) এবং ‘কাহানি বদলাও কি’ (পরিবর্তনের কাহিনি) শিরোনামে বিশেষ প্রচার করা হবে।
এর ফলে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের সুবাদে তৃণমূল স্তরে সামাজিক ও অর্থনৈতিক রূপান্তরের চিত্র প্রকাশ করা সম্ভব হবে। এই সমগ্র আয়োজনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে মোট ১৩টি বিশেষ উদ্যোগ বা প্রকল্প, যার অন্যতম ‘জনসেবা মহাকুম্ভ’। শুধু তা–ই নয়, প্রতিটি কর্মসূচির আলোকচিত্র এবং ভিডিও তৈরি করে নির্দিষ্ট প্রতিবেদন জমা দেওয়াও আবশ্যক করা হয়েছে। সমগ্র প্রকল্পটি সমন্বয়ের দায়িত্বে রয়েছে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর।
গোটা প্রকল্পে যুবসমাজকে যুক্ত করতে মোটরবাইক ও সাইকেল মিছিল, স্বাস্থ্য শিবিরের আওতায় সাফাই অভিযান ও রক্তদান কর্মসূচি রূপায়ণ করা হবে। উৎসবের উৎকর্ষ বাড়াতে প্রাকৃতিক রং ব্যবহার করে ১০৮ মিটারজুড়ে বিশাল ‘ভারত মণ্ডল’ রঙ্গোলি বা রঙিন আলপনা আঁকার পরিকল্পনাও করা হয়েছে।
সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, ৭ অক্টোবর এই মহা-আয়োজনের অন্তিম দিনে রাজ্যের প্রতিটি জেলা সদরে বড় মাপের সরকারি অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে এবং সব জেলার সাধারণ মানুষের উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী, যা ইন্টারনেট মাধ্যমের সাহায্যে প্রচারিত হবে। এর পাশাপাশি পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে নিয়ে কলকাতার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে একটি কেন্দ্রীয় সমাপ্তি অনুষ্ঠানেরও পরিকল্পনা থাকছে।
তবে নন্দীগ্রাম বা রেজিনগরের মতো বিধানসভা এলাকা যেখানে উপনির্বাচন হতে চলেছে, সেখানে নির্বাচন কমিশনের আদর্শ আচরণবিধি মেনে কোনো সরকারি কর্মসূচি হবে না বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, উল্লিখিত অঞ্চলের জনসাধারণ চাইলে ব্যক্তিগত বা সামাজিক স্তরে এই মহা-উদ্যাপনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
রাজ্য সরকারের উদ্যোগে এই বিশাল উদ্যোগকে ঘিরে ইতিবাচক উদ্দীপনার পাশাপাশি মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাবিদ ও শিক্ষক সংগঠনগুলোর একাংশের তরফে। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডলের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন ও কর্মজীবনের রজতজয়ন্তী উদ্যাপনের মাধ্যমে সাধারণ স্কুলপড়ুয়া ও অভিভাবকদের এক রাজনৈতিক বা সামাজিক সমীক্ষায় শামিল করা হচ্ছে। সরকারি সুবিধার উপভোক্তাদের এভাবে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণে বাধ্য করাকে অনুচিত বলে দাবি করে তিনি এই উদ্যোগের কড়া সমালোচনা করেছেন।
রাজ্যজুড়ে ওই সন্ধ্যায় ছাত্রছাত্রী ও সাধারণ মানুষের উদ্যোগে ৭০ লাখের বেশি প্রদীপ জ্বলে উঠবে। নবান্ন, রাজ্য সচিবালয়, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল এবং কালীঘাট মন্দিরের মতো ঐতিহ্যপূর্ণ স্থানগুলো প্রদীপের আলোয় সাজিয়ে তোলা হবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন উপলক্ষে।
পাশাপাশি পুজোর মুখে এর ফলে খুচরো দোকানের বিক্রি কমবে বলে মনে করছেন দোকানিরা। ‘ইতিমধ্যেই মানুষ কেনাকাটা অনেক কমিয়ে দিয়েছেন। এর প্রধান কারণ নানা স্তরে বাজারের ওপর আঘাত এসেছে। বেআইনি দোকান বলে একাধিক রেস্তোরাঁ, হোটেল ইত্যাদি বন্ধ করা হয়েছে, হকার তুলে দিয়েছে এবং পাশাপাশি বড় বাড়ি, (মূলত ফ্ল্যাট বাড়ি) বানানোর অনুমতি দিচ্ছে না সরকার। এর ফলে মানুষের হাতে যে বাড়তি অর্থ টাকা থাকে, তা পুজোর আগে নেই। তার ওপর সরকার এখন ঝাঁপিয়ে পড়ল প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালনে। এতে আপত্তির কিছু নেই, কিন্তু তার পরিবর্তে বাজারে আরেকটু অর্থ ঢোকাতে পারলে ভালো হতো বলে মনে হয়’, মন্তব্য দক্ষিণ কলকাতার সর্ববৃহৎ গরিয়াহাট বাজার সমিতির এক নেতার। তবে নিজের নাম প্রকাশ করতে চাইলেন না তিনি।
অনেকেই বলছেন, আগের সরকার ধারাবাহিকভাবে নানা ধরনের উৎসব ও মেলার আয়োজন করত, বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ সরকার সেটাকেই একটু পাল্টে নানা ধরনের ধর্মীয় গুরু শহরে এনে ‘ইভেন্ট’ করছে অথবা প্রধানমন্ত্রী জন্মদিন পালন করছে। এভাবে সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নতি সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে সরকারের ক্ষমতায় আসার চার মাসের মাথায়।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ভারতীয় বংশোদ্ভূত কবি, ঔপন্যাসিক, অনুবাদক ও গবেষক কেতকী কুশারী ডাইসন (৮৬) মারা গেছেন। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকার পর ইংল্যান্ডে অক্সফোর্ডের শহরতলি কিডলিংটনে শুক্রবার শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক থেকে অনুবাদ সাহিত্যের একাধিক ক্ষেত্রে কেতকী কুশারীর ছিল স্বতন্ত্র বিচরণ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিত্রকর্ম নিয়ে তাঁর গবেষণা যেমন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, তেমনই রবীন্দ্রসাহিত্যের অনুবাদেও তাঁর অবদান স্মরণে থাকবে পাঠকদের। প্রবাসী হয়েও তিনি আজীবন বাংলা ভাষা ও বিশ্বসাহিত্যের সেতু হিসেবে কাজ করে গেছেন।১৯৪০ সালে কলকাতায় জন্মেছিলেন কেতকী কুশারী। প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ১৯৫৮ সালে রেকর্ড নম্বর নিয়ে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক হন। এরপর তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য যান অক্সফোর্ডে। সেখানে ১৯৬৩ সালে প্রথম শ্রেণিতে ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৭৫ সালে পিএইচডি লাভ করেন। অক্সফোর্ডে অধ্যয়নকালেই ইয়র্কশায়ারের অধিবাসী এবং পদার্থবিদ্যার গবেষক রবার্ট ডাইসনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হয়ে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব অর্জনের পর তিনি নিজের নামের সঙ্গে স্বামীর পদবি ‘ডাইসন’ যোগ করেন। বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করলেও নিজের ভাষা ও বাংলার সংস্কৃতির সঙ্গে তাঁর আত্মিক বন্ধন কমেনি, বরং বেড়েছে।১৯৭৭ সালে প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘বল্কল’ দিয়ে সাহিত্যজগতে যাত্রা শুরু করে কেতকী কুশারী মোট ছয়টি কবিতার বই প্রকাশ করেন। সাহিত্যজীবনে ‘নারী, নগরী’, ইংল্যান্ডে অভিবাসীদের জীবন নিয়ে লেখা ‘নোটন নোটন পায়রাগুলি’ প্রবলভাবে প্রশংসিত হয়। ‘জল ফুঁড়ে আগুন’ও একটি উচ্চ প্রশংসিত গ্রন্থ। উপন্যাসের পাশাপাশি তিনি ‘রাতের রোদ’ এবং ‘সুবর্ণরেখা’ নামে নাটকও রচনা করেছেন। গবেষণামূলক কাজের ক্ষেত্রে তাঁর রচিত ‘রবীন্দ্রনাথ ও ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর সন্ধানে’ গ্রন্থটি প্রবল সাড়া ফেলেছিল। রবীন্দ্রনাথের আঁকা ছবির বিশদ বিশ্লেষণ এবং রবীন্দ্রসাহিত্যের নিখুঁত ইংরেজি অনুবাদে তাঁর অবদান বাংলা সাহিত্যের এক মাইলফলক।বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই কেতকী কুশারী কবিতাও লিখেছেন। ‘সবীজ পৃথিবী’, ‘জলের করিডর ধরে’ এবং ‘কথা বলতে দাও’ তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতার বই। ইংরেজিতে লিখেছেন ‘হিবিস্কাস ইন দ্য নর্থ’, ‘স্যাপ উড’ প্রভৃতি কাব্যগ্রন্থ। এ ছাড়া লিখেছেন একাধিক প্রবন্ধগ্রন্থ, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ’, যা তিনি যৌথভাবে লিখেছিলেন প্রাবন্ধিক সুশোভন অধিকারীর সঙ্গে। ‘শিকড়বাকড়’, ‘ভাবনার ভাস্কর্য’—এই দুই প্রবন্ধগ্রন্থও যথেষ্ট সমাদর পেয়েছিল পাঠকমহলে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ তলানিতে এসে ঠেকেছে। এ অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহের আরেক গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বাব আল–মানদেব প্রণালিও কার্যত এখন ইয়েমেনের ইরান–সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতির নিয়ন্ত্রণে। এই প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে তারা। এরই মধ্যে হামলার শিকার হওয়ার পর সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল দিয়ে জ্বালানি রপ্তানি আরও হুমকির মুখে পড়েছে।ইস্ট–ওয়েস্ট পাইপলাইন নামের সৌদি আরবের ওই সরবরাহ পথে ড্রোন হামলা হয় গত বৃহস্পতিবার। এদিন স্যাটেলাইট থেকে ধারণ করা ছবিতে সৌদি আরবের মদিনা অঞ্চলের দক্ষিণে ওই পাইপলাইন থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়। এরপর শুক্রবার সৌদি সরকার জানায়, ইরাক থেকে এ হামলা চালানো হয়েছে। দেশটির যে অঞ্চল থেকে হামলা হয়েছে, সেটি ইরান–সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে। হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন।ইস্ট–ওয়েস্ট পাইপলাইন সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে শিল্পনগরী আবকাইককে পশ্চিমে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এর দৈর্ঘ্য ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার। ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় এই পাইপলাইনের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়িয়েছিল রিয়াদ। গত কয়েক মাসে এই পাইপলাইন দিয়ে দিনে ৪০ থেকে ৫০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ করা হয়েছে, যা বিশ্বের মোট সরবরাহ করা জ্বালানি তেলের ৪ থেকে ৫ শতাংশ।হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যায় ইরান যুদ্ধ শুরুর পরপরই। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট জ্বালানির প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ হতো এ জলপথ দিয়ে। দিনে চলাচল করত শতাধিক পণ্যবাহী জাহাজ। এখন দিন গড়ে ১৪টি করে জাহাজ চলাচল করছে। এতে যুদ্ধ শুরুর পরপরই রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছে যায় জ্বালানি তেলের দাম। প্রভাব পড়ে বাংলাদেশেও। সম্প্রতি দাম কিছুটা কমলেও লোহিত সাগরে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ ঘিরে উত্তেজনায় তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি আবার ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রেও ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গ্যালনপ্রতি ৬ ডলার ছাড়িয়ে যায় ডিজেলের দাম।এখন সৌদি পাইপলাইন বন্ধে তেলের দাম আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। সৌদি বিশ্লেষক খালেদ বারতাফি আল–জাজিরাকে বলেন, এই পাইপলাইন বন্ধের প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে। এটি বন্ধের কারণে বাজার থেকে প্রতিদিন ৫০ লাখ ব্যারেল তেল সরে যাবে। এটি পুরো বিশ্বের সমস্যা। ইরান যদি হরমুজ প্রণালির মতো বাব আল-মানদেব প্রণালিও বন্ধ করে দিতে পারে, তাহলে এর মূল্য পুরো বিশ্বকে দিতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এখন কিছু করা প্রয়োজন।অভিযোগের আঙুল ইরানের দিকেইস্ট–ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলার দায় কোনো পক্ষ স্বীকার করেনি। রিয়াদ জানিয়েছে, হামলার পেছনে কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করতে বড় পরিসরে তৎপরতা চালানো হচ্ছে। বাগদাদের অনুরোধে তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, পাল্টা হামলা চালাবে না। এর বদলে সৌদি আরব ও প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরাক থেকে চালানো হামলা ঠেকাতে বাগদাদের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করা হবে।যেহেতু হামলাটি ইরাকে ইরান–সমর্থিত গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চল থেকে হয়েছে, তাই অভিযোগের আঙুল তেহরানের দিকেই উঠছে। হামলার পর ইরানের সঙ্গে শালামচেহ সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ করে দিয়েছে বাগদাদ। এ ছাড়া গতকাল আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেছেন, পাইপলাইনে হামলার পেছনে ইরানের হাত থাকতে পারে।ইরানের যুক্ত থাকার পেছনে যৌক্তিক কারণ দেখছেন বিশেষজ্ঞরাও। নিরাপত্তা বিশ্লেষক ভলফগ্যাং পুস্তাই আল-জাজিরাকে বলেন, ইরানের হয়ে কাজ করা ইরাকি গোষ্ঠীগুলো পাইপলাইনে হামলা চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর নির্দেশ সম্ভবত তেহরান থেকে দেওয়া হয়েছে। এ হামলা চালিয়ে তারা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে লড়াই করা হুতিদের সহায়তা করেছে। তেহরান-সমর্থিত হুতিদের লক্ষ্য হলো ইয়েমেন থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনী বিতাড়িত করা।বাব আল-মানদেব প্রণালি এখন হুতিদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণেহুতিদের ওপর হামলাইয়েমেনের হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরবের বিরোধ পুরোনো। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর পর দুই পক্ষ নতুন করে দ্বন্দ্বে জড়ায়। গত জুলাইয়ে সৌদি বন্দরগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি। লোহিত সাগরের বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে সৌদি জাহাজ চলাচলেও বাধা দিচ্ছে তারা। এর জেরে তিন দশকের মধ্যে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি এখন সবচেয়ে কম।ইরান–সমর্থিত হুতি যোদ্ধাদের উল্লাস। গত বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের হাইসে সিকিউরিটি ডিরেক্টরেট ভবনের সামনে। এদিনই গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বন্দরনগরী মোখা দখলে নেয় হুতি বাহিনী। পরদিন বাব আল–মানদেব প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে তারা সম্প্রতি সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা হয়েছে। তবে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি সবচেয়ে বড় অগ্রগতি পায় শুক্রবার। এদিন ইয়েমেন সরকার জানায়, বাব আল–মানদেব প্রণালিতে গুরুত্বপূর্ণ পেরিম দ্বীপ দখল করে নিয়েছে হুতিরা। এ ছাড়া ইয়েমেনের মোখা শহরও তাদের দখলে এসেছে। এতে বাব আল–মানদেব প্রণালি–সংলগ্ন পুরো ইয়েমেন উপকূল এখন হুতিদের দখলে রয়েছে।দুটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, প্রণালিটিতে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি পাওয়ার পর গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে লড়াই করতে সম্প্রতি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ফোন করে ট্রাম্পের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছিলেন। তবে ট্রাম্প জানিয়ে দিয়েছিলেন, এ সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি জড়াবে না; বরং গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করবে। গতকাল ডাবলিনের সংবাদ সম্মেলনেও ট্রাম্প বলেছেন, হুতিদের পক্ষ থেকে তাঁকে ফোন করা হয়েছিল। তারা এই সংঘাতে না জড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে খালি হাতে ফেরার পর গতকাল সৌদি–সমর্থিত ইয়েমেন সরকার হুতিদের ওপর হামলার খবর জানিয়েছে। ইয়েমেন সরকার পরিচালিত বার্তা সংস্থা সাবার খবর অনুযায়ী, ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র মাজেদ আবদুল্লাহ আল–নাজিলি বলেছেন, বন্দর শহর মোখার কাছে হুতিদের যানবাহন ও অস্ত্র ধ্বংস করেছে সরকারি বাহিনী। এ সময় হুতি যোদ্ধারা নিহত হয়েছেন।হরমুজের পর এবার বাব আল-মানদেব: জ্বালানি নিরাপত্তার ঝুঁকি কীভাবে কাটবে৭৬ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুতলোহিত সাগর ঘিরে নতুন করে উত্তেজনার আগে ইয়েমেনে প্রায় ৫২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত অবস্থায় ছিলেন। এর পর থেকে নতুন করে প্রায় ৭৬ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। তাঁদের প্রায় ৫০০ জন বাব আল–মানদেব প্রণালি পেরিয়ে জিবুতিতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের অভিবাসনবিষয়ক সংস্থা আইওএম।ইয়েমেন ও জিবুতির দূরত্ব সাগরপথে ২৫ কিলোমিটার। জিবুতির অর্থমন্ত্রী ইলিয়াস দাওয়ালেহ গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, আশ্রয় নেওয়া ইয়েমেনিদের জিবুতির ওবক শহরের উপকূল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁরা লোহিত সাগরে নৌকায় ভাসমান অবস্থায় ছিলেন। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছেন।ইয়েমেনেও নতুন করে বাস্তচ্যুত হওয়া মানুষ বড় সংকটের মধ্যে রয়েছেন। সবচেয়ে বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন তাইজ এলাকায়। সেখানে খোলা আকাশের নিচে তাঁবু খাটিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন তাঁরা। আল–জাজিরাকে বাস্তুচ্যুত এক ইয়েমেনি বলেন, ‘বড় দুর্দশার মধ্যে রয়েছি। বেঁচে থাকার জন্য আমাদের ত্রিপল, মাদুর, খাবার, পানি—সবকিছু দরকার।’হুতিদের শক্তি কোথায়, বিলিয়ন ডলারের যুদ্ধে জড়িয়েও কেন পিছু হটল যুক্তরাষ্ট্র
ফেনীতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ডাকাত, একাধিক মামলার আসামি, মাদক কারবারি ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিসহ ২১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এসময় আসামিদের হেফাজত থেকে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি মদ, বিয়ার ও ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দিনব্যাপী পরিচালিত এ অভিযান শেষে গ্রেফতারদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফেনী মডেল থানা-পুলিশের একাধিক টিম বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। অভিযানে মহিপাল এলাকা থেকে সন্ত্রাসবিরোধী মামলার আসামি আশ্রাফুজ জামান সোহাগ (২০) এবং শহরের এসএসকে রোড থেকে ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য সাইফুল ইসলাম রিয়াজকে (২৮) গ্রেফতার করা হয়। পৃথক অভিযানে ধর্মপুর এলাকা থেকে ৫০ বোতল বিদেশি মদসহ একাধিক মাদক মামলার আসামি মো. সেলিম (২৪) এবং চাটপুর খাজুরিয়া জজ কোর্ট কলোনি এলাকা থেকে ১০ লিটার দেশীয় চোলাই মদসহ মো. হৃদয় (২০) ও তার মা রাবেয়া আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া অভিযানকালে ৫৭ ইয়াবাসহ শাহরিয়ার হোসেন (২২), নাজমুল ইসলাম (২১), শহিদুল ইসলাম সুমন (৫৪), ইসমাইল হোসেন ইমন (২৬) ও মো. রুবেলকে (২৬) এবং ৩ বোতল বিয়ারসহ আবু ছায়াদ (২০) ও মো. ইকবাল হোসেনকে (৫২) গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতার বাকি আসামিরা বিভিন্ন মামলার পরোয়ানাভুক্ত। অভিযান শেষে পুলিশ মোট ৫০ বোতল বিদেশি মদ, ১০ লিটার দেশীয় চোলাই মদ, ৩ বোতল বিয়ার ও ৫৭ পিস ইয়াবা বাজেয়াপ্ত করে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সজল কান্তি দাশ জানান, গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং মাদক ও অপরাধ দমনে পুলিশের এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। আবদুল্লাহ আল-মামুন/এমআইএইচএস