কলকাতা পুলিশের বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত ৪৭ জন মুসলিম কর্মীর দাড়ি রাখার আবেদন খারিজ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পুলিশের সদর দপ্তর থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, চাকরিতে বহাল থাকতে হলে দাড়ি কামানো বাধ্যতামূলক। বাহিনীর শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা ও চেহারায় একরূপতা বজায় রাখতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ কর্তৃপক্ষ।
৪ সেপ্টেম্বর কলকাতা পুলিশের কমিশনার কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে একটি নির্দেশিকা বা স্মারকপত্র জারি করা হয়। বাহিনীর পুরোনো দাড়িসংক্রান্ত পোশাকবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ওই নথিতে। যুগ্ম কমিশনার (সদর দপ্তর) স্বাক্ষরিত ওই নির্দেশিকায় দাড়ি রাখার আবেদন করা ৪৭ জন মুসলিম কর্মীর নাম নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে। সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে আবেদনকারীদের জানিয়ে দেওয়া এবং নির্দেশিকাটি যথাযথভাবে পালিত হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিভাগীয় প্রধানদের।
কলকাতার একটি সংবাদপত্রের খবর অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষের এমন নির্দেশে ওই পুলিশ কর্মীদের একাংশ মনঃকষ্টে আছেন। তাঁদের বেশির ভাগই ধর্মীয় কারণে দাড়ি রেখেছিলেন। স্থানীয় পত্রিকা ‘পুবের কলম’ জানিয়েছে, অনেকে আবার হজ সম্পন্ন করে এসে সুন্নাহ পালন করার জন্য দাড়ি রেখেছিলেন।
এ নির্দেশিকা ঘিরে ইতিমধ্যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কারণ, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ বাহিনীতে শিখ সম্প্রদায়ের মানুষেরা পাগড়ি, বড় চুল ও দাড়ি রেখেই কাজ করার অনুমতি পান। কিন্তু মুসলিম পুলিশ কর্মীদের ক্ষেত্রে নিয়মটি ভিন্ন। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, এ বিষয়ে আদালতের দ্বারস্থ হলেও মুসলিম কর্মীদের আইনি লড়াইয়ে হেরে যাওয়ার আশঙ্কাই বেশি।
ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশের জন্য তৈরি নির্দিষ্ট ‘ম্যানুয়াল’ বা নিয়মাবলিতে বলা আছে, রাজ্য সরকারের বিশেষ অনুমতি ছাড়া পুলিশের কর্মীরা সাধারণভাবে দাড়ি রাখতে পারবেন না। তবে শিখ সম্প্রদায়কে এই নিয়মের বাইরে রাখা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের পুলিশি ব্যবস্থায় এই নিয়ম মূলত ব্রিটিশদের ঔপনিবেশিক আইনের প্রভাব। ব্রিটিশ সামরিক ও প্রশাসনিক ঐতিহ্যে পুলিশ কর্মীদের এক রকম দেখতে হওয়া এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল। ইউরোপীয় ধর্মনিরপেক্ষতার সংজ্ঞা অনুযায়ী সে সময় নিরাপত্তারক্ষীদের দাড়ি কেটে ফেলার নিয়ম চালু করে ইংরেজরা। তবে ব্রিটিশরাই তাদের ম্যানুয়ালে শিখ সম্প্রদায়ের জন্য দাড়ি রাখার ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী নিয়ম তৈরি করেছিল।
অতীতে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সরকার পুলিশ কর্মীদের দাড়ি রাখার বিষয়ে কোনো আপত্তি করেনি। ফলে আইনি ভাষায় দাড়ি রাখতে দেওয়ার একটি রীতি বা ‘প্রিসিডেন্স’ ছিল। তারপরও জনস্বার্থ মামলা করে খুব একটা লাভ হবে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর কারণ হিসেবে ২০২০ সালের উত্তর প্রদেশের এলাহাবাদ হাইকোর্টের একটি রায়ের কথা উল্লেখ করছেন তাঁরা।
সে সময় উত্তর প্রদেশের লক্ষ্ণৌ পুলিশের মহাপরিচালক (ডিজি) পুলিশ কর্মীদের দাড়ি কেটে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। নির্দেশ অমান্য করায় এক মুসলিম কনস্টেবলকে বরখাস্ত করা হয়। ওই কর্মী সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদ (ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ধর্ম অনুশীলনের অধিকার) উল্লেখ করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। কিন্তু এলাহাবাদ হাইকোর্টের লক্ষ্ণৌ বেঞ্চ রায় দেন, দাড়ি রাখা সরকারি নির্দেশের লঙ্ঘন এবং তা কর্তব্যে অবহেলার আওতাভুক্ত। আদালত আরও জানায়, সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদের আওতায় কেউ এ বিষয়ে সুরক্ষা দাবি করতে পারেন না। ফলে কলকাতায় এ নিয়ে মামলা হলেও আবেদনকারীদের হেরে যাওয়ার আশঙ্কাই প্রবল।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কলকাতা পুলিশের ভুক্তভোগী মুসলমান কর্মীরা জানিয়েছেন, নির্দেশটি নিয়ে তাঁদের মন খারাপ হলেও তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হবেন না। মূলত নিজেদের চাকরি বাঁচাতেই এই নির্দেশ মেনে নেবেন তাঁরা।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
মা হতে চলেছেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী মৌসুমী হামিদ। মাতৃত্বের নতুন অধ্যায়কে ঘিরে এরই মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতেছেন এই অভিনেত্রী। সম্প্রতি নিজের বাসার ছাদে সহকর্মী ও কাছের মানুষদের নিয়ে ঘরোয়া আয়োজনে বেবি শাওয়ার করেছেন তিনি। আনন্দঘন সেই আয়োজনে প্রিয়জনদের সঙ্গে হাসি-আড্ডায় মেতে ওঠেন মৌসুমী। বেবি শাওয়ারের বিশেষ মুহূর্তের বেশ কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী। ছবিগুলোতে তাকে বেশ হাস্যোজ্জ্বল ও আনন্দমুখর দেখা গেছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে ‘চরকি কার্নিভ্যাল’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রথমবার মা হওয়ার খবর জানিয়েছিলেন মৌসুমী হামিদ। এবার বেবি শাওয়ারের আয়োজনে ধরা দিলেন তিনি। আরও পড়ুন নতুন পরিচয়ে আসছেন সামিনা চৌধুরী মাতৃত্বের এই আয়োজনটি ছিল অনেকটা গেট টুগেদারের মতো। এতে মৌসুমীর সহকর্মী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা শ্যামল মাওলা, নাজিয়া হক অর্ষা, অহনা রহমান, নূর ইমরান মিঠু, গায়িকা ঐশীসহ আরও অনেকে। প্রিয় মানুষদের সঙ্গে আনন্দ-আড্ডায় সময় কাটান অভিনেত্রী। বেবি শাওয়ারের পর স্বামী আবদুল ওয়াদুদের সঙ্গেও ছবি তুলেছেন মৌসুমী। আবদুল ওয়াদুদ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। বিয়ের আগে দীর্ঘ ১৪ বছরের বন্ধুত্ব ছিল তাদের। বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের মধ্যে মিল থাকার কারণেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছিলেন মৌসুমী। এ আয়োজন প্রসঙ্গে মৌসুমী জানান, তার মা হওয়ার আনন্দে বন্ধুরাই স্বল্প পরিসরে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন। সে কারণে অনেককেই জানানো সম্ভব হয়নি। অনুষ্ঠানে অতিথিদের দেশীয় খাবার দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। মাছ, ভাতসহ নানা ধরনের খাবারের আয়োজন ছিল সেখানে। আরও পড়ুন যে সিনেমা আনোয়ার হোসেনকে বানিয়েছিল ঢাকাই চলচ্চিত্রের ‘নবাব’ সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি মাসেই মা হবেন মৌসুমী হামিদ। জীবনের নতুন এই অধ্যায়ে প্রবেশের আগে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন এই অভিনেত্রী। এমএমএফ
বিশ্বকাপের পরই একরকম জানিয়ে দিয়েছিলেন নেইমার, ব্রাজিলের জার্সিতে তাঁকে আর দেখা যাবে না। এবার তা নিশ্চিত করলেন সেলেসাওদের কোচ কার্লো আনচেলত্তিও। গত বিশ্বকাপে হতাশাজনকভাবে বিদায়ের পর এখন সবকিছু নতুন করে ঢেলে সাজানোর ভাবনা তাঁর।সিএনএন এস্পোর্তেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি বলেন, ‘তার মানের কারণেই তার সেখানে (বিশ্বকাপে) থাকা উচিত ছিল। নেইমার নিজেই নিশ্চিত করেছে যে সে জাতীয় দলে আর ফিরতে চায় না। নেইমারের বিকল্প পাওয়া সম্ভব নয়, কারণ সে এক অসাধারণ ও অনন্য প্রতিভা।’নেইমার–অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির পর এখন নতুন করে পুরো দলকে সাজাতে চাইছেন আনচেলত্তি। ২০৩০ বিশ্বকাপের মধ্যে ব্রাজিলকে বিশ্ব ফুটবলের চূড়ায় ফিরিয়ে আনতে সক্ষম এমন একটা নতুন প্রজন্ম তৈরি করাই লক্ষ্য।নিজের ভাবনার কথা জানিয়ে আনচেলত্তি বলেন, ‘আমি মনে করি, আমাদের ধাপে ধাপে এগোতে হবে। এখন আমাদের এমন তরুণ খেলোয়াড়দের দিকে মনোযোগ দিতে হবে যারা ভবিষ্যৎ হতে পারে, যেমন ২০০৪, ২০০৫ ও ২০০৬ সালে জন্ম নেওয়া খেলোয়াড়েরা।’‘আমাদের ২০০৮ সালে জন্ম নেওয়া কিছু মানসম্পন্ন তরুণ আছে যারা এখনো খেলছে না, তবে খেলতে পারবে। এখন তাদের বয়সকে গুরুত্ব দিয়ে এবং সম্মান জানিয়ে তাদের দিকে তাকানোর সময়। এটা সত্যি যে একজন খেলোয়াড় ৩৬ বা ৩৭ বছর বয়সেও খুব ভালো খেলতে পারে। তবে এখন তরুণদের অগ্রাধিকার দেওয়ার সময়।’ যোগ করেন আনচেলত্তি।ব্রাজিলের ফুটবলের বড় একটা সমালোচনা ব্যক্তিগত নৈপুণ্য দেখাতেই ফুটবলারদের মনোযোগ বেশি থাকে। এই ধারা ভেঙে দলীয় সংস্কৃতি গড়ে তুলতেও মন দিয়েছেন আনচেলত্তি। প্রতিভাবান তরুণ ফুটবলারদের খুঁজে বের করে এখনকার ফুটবলের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে চান।তিনি বলেছেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আধুনিক ফুটবলে দলগত কাজটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, ব্যক্তিগত প্রতিভা নয়। আপনার যদি দারুণ ব্যক্তিগত প্রতিভা থাকে, তবে জয়ের সম্ভাবনা বেশি থাকে, কিন্তু আধুনিক ফুটবলে দলগত কাজটা জরুরি। আমরা ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্তিশালী দল গড়তে কাজ করছি, কোনো একক দুর্দান্ত ব্যক্তিগত প্রতিভার ওপর নির্ভর করার জন্য নয়।’ফিল ফোডেনের লাল কার্ড: আসলে দোষী কে, কী বললেন বিশ্লেষকেরা
শিক্ষক মূল্যায়নের ওয়েবসাইট চালু এবং সংগ্রহশালায় মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি রাখা নিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছে ডাকসু। এ দুটি বিষয় নিয়ে প্রথম আলোর বার্তাকক্ষে আলোচনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খান। সঙ্গে ছিলেন প্রথম আলোর হেড অব ডিপ নিউজ রাজীব আহমেদ।