আত্মপ্রকাশ করেছে গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ও সমর্থক সাংবাদিকদের সংগঠন ‘জুলাই জার্নালিস্ট ইউনিটি’ (জেজেইউ)। জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে নতুন এই সংগঠনের আত্মপ্রকাশ হয়।
ফেস দ্য পিপলের সম্পাদক সাইফুর সাগর আহ্বায়ক এবং চ্যানেল আইয়ের আহসান কামরুল সদস্য সচিব নির্বাচিত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলরুমে আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভায় শহীদ সাংবাদিক তাহির জামান প্রিয়র মা সামসিয়ারা জামান কমিটি ঘোষণা করেন।
আহ্বায়ক কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন: যুগ্ম আহ্বায়ক লুৎফর রহমান বাদল — প্রকাশক, দৈনিক জাতীয় অর্থনীতি; তালুকদার রুমি — সম্পাদক, দৈনিক পাঞ্জেরী; মাহমুদ রাকিব — এখন টিভি; আকতার হাবীব — চ্যানেল আই; শিমুল পারভেজ — দ্য নিউ নেশন; রিয়াজুর রহমান রিয়াজ — ডেইলি ইন্ডাস্ট্রি; ইসরাফিল ফরাজী — দৈনিক জনকণ্ঠ। যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন আবদুর রহিম — দৈনিক জনকণ্ঠ; কেফায়েত শাকিল — বাংলাভিশন; নুরুল ইসলাম খান মামুন — ভিওডি বাংলা; ওবায়দুর রহমান — ফ্রিল্যান্স জার্নালিস্ট; একেএম রেজাউল করিম — ফ্রিল্যান্স জার্নালিস্ট; আশ্রাফ ফারুকী — অগ্রযাত্রা প্রতিদিন; নিজাম উদ্দিন দরবেশ — দৈনিক বর্তমান; রহমতুল্লাহ — দৈনিক রূপালী বাংলাদেশ। সদস্য হিসেবে রয়েছেন: খোমেনি এহসান — সম্পাদক, অনলাইন বাংলা; আল ইমরান — এটিএন বাংলা; অন্তু মোজাহিদ — এশিয়া পোস্ট; জালাল আহমেদ — দৈনিক যায়যায়দিন; রাকেশ রহমান — ফ্রিল্যান্স জার্নালিস্ট; সাজ্জাদ হোসেন — সোনালী নিউজ; ফখরুল ইসলাম — মাল্টিমিডিয়া হেড, দৈনিক ইত্তেফাক; আবু বকর সিদ্দিক — আরটিএনএন; মিফতাহুল জান্নাত — দৈনিক মানবজমিন; ফারজানা ববি — বাংলানিউজ; তাসবির ইকবাল — বাংলাদেশ টাইমস; মোর্শেদুল আলম — নতুন আশা; কেফায়েত রুমি — দেশ রূপান্তর; মেহেদী হাসান বাপ্পি — দেশ টিভি; রাশেদ মানিক — চ্যানেল আই; ওমর ফারুক — বাংলাভিশন; এইচএম ইমরান হোসেন — স্টার নিউজ; মেহরাজ রাব্বি — আজাদ বাণী।
আহ্বায়ক সাইফুর সাগর বলেন, জুলাই জার্নালিস্ট ইউনিটি (জেজেইউ) সময়ের প্রয়োজনে তৈরি হয়েছে। জুলাইপন্থিথী সব সাংবাদিকের জন্য এটি উন্মুক্ত। গণমাধ্যমকে সঠিক পথে রাখতে জুলাইয়ের সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাবে।
সদস্য সচিব আহসান কামরুল বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংবাদমাধ্যম সঠিক ভূমিকা রাখতে না পারলেও এখনো গণমাধ্যমের কাছে মানুষের প্রত্যাশা রয়েছে। সেই প্রত্যাশা পূরণে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের নিয়ে কাজ করার লক্ষ্যেই আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। আমরা স্বাধীন সাংবাদিকতা চাই, তবে জুলাই গণহত্যাকারীদের পক্ষে যেন কেউ ন্যারেটিভ তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়েও আমরা কাজ করব।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, অন্যদের সমালোচনা করার আগে আমাদের নিজেদের আত্মসমালোচনা করতে হবে। আমরা যেন পূর্ববর্তীদের মতো না হয়ে যাই। এজন্য কেউ আহত হয় এমন কথার বদলে লোম দাঁড়িয়ে যাওয়া নাটক-সিনেমা-গানসহ সৃষ্টিশীল কাজ করতে হবে।
ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ এ কে এম ইলিয়াস বলেছেন, সাংবাদিকদের অংশগ্রহণ ছাড়া অভ্যুত্থান সম্ভব ছিল না। ক্ষুদ্র অংশ হলেও তাদের সমর্থন ছিল। দলান্ধতার বদলে তাদের এখনো দেশের জন্য কাজ করে যেতে হবে।
আলোকচিত্রী শহীদুল আলম বলেন, প্রেসক্লাবে শেখ হাসিনার ছবি সাংবাদিকরাই ঝুলিয়েছিল। এখনও যাতে একই ধরনের কাজ না হয়। দেশের মানুষের জন্য নিরপেক্ষভাবে সাংবাদিকতা করতে হবে, যাতে সরকার পরিবর্তন হলে সাংবাদিকদের পালিয়ে যেতে না হয়।
জেজেইউর যুগ্ম আহ্বায়ক তালুকদার রুমি বলেন, ফ্যাসিবাদের সময়েও বহু সাংবাদিক আন্দোলন সংগ্রাম করেছে। তারা সেসময়ে বঞ্চিত ছিল, এখনো বঞ্চিত। জুলাইয়ের সাংবাদিকদের ন্যায্য হিস্যা আদায়ে জেজেইউ কাজ করে যাবে।
জেজেইউর সদস্য ও অনলাইন বাংলার সম্পাদক খোমেনি এহসান স্বাগত বক্তব্যে বলেন, এটি এমন এক উদ্যোগ যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নির্ভয়ে সত্য বলার অধিকার নিশ্চিত করা। এ সংগঠনের অঙ্গীকার হলো হামলা, মামলা ও চাকরিচ্যুতির হুমকি যেন সাংবাদিকের কলম থামিয়ে দিতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করা। আমাদের অবস্থান সাংবাদিকতার স্বাধীনতার পক্ষে, পেশাগত মর্যাদার পক্ষে এবং জনগণের জানার অধিকারের পক্ষে।
এ ছাড়া শহীদ জাবির ইব্রাহিমের বাবা কবির হোসেন এবং শহীদ সাংবাদিক তাহির জামান প্রিয়র মা সামসিয়ারা জামান অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। দেরিতে হলেও এ সংগঠনের আত্মপ্রকাশ হওয়ায় তারা আশা প্রকাশ করেন। তবে চরম শত্রুও যেন অন্যায়ের শিকার না হন, সেটিও খেয়াল রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, জুলাই শহীদ পরিবারসহ সাংবাদিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
কেএএ/
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
তরুণ উদ্যোক্তাদের হাত ধরেই তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন ব্যবসা ও সম্ভাবনার গল্প। তবে একটি উদ্যোগ শুরু করা থেকে সেটিকে টিকিয়ে রাখা এবং এগিয়ে নেওয়ার পথ সহজ নয়। নানা চ্যালেঞ্জ, সিদ্ধান্ত ও শেখার অভিজ্ঞতা পেরিয়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা কীভাবে গড়ে তুলছেন নিজেদের স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান—সেই সব গল্প নিয়েই প্রথম আলো ডটকম ও প্রাইম ব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে বিশেষ পডকাস্ট শো ‘লিগ্যাসি উইথ এমআরএইচ: সিজন–৩’। এই পর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ রিদওয়ানুল হকের সঞ্চালনায় অতিথি ছিলেন শতমূল অ্যাগ্রোর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুন্নবী সোহাগ।‘আপনি যদি ব্যবসা করতে চান, আপনাকে হয় সময় লস দিয়ে শিখতে হবে অথবা টাকা লস করে শিখতে হবে। রাস্তায় যদি ফকিরও কোনো কিছু শেখায়, আমি তার কাছে বসে, তার পা ধরে শিখতে রাজি আছি!’পডকাস্টে অংশ নিয়ে কথাগুলো বলেন মো. মাহমুদুন্নবী সোহাগ। পর্বটি প্রচারিত হয় শনিবার প্রথম আলোর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে।পডকাস্টের শুরুতেই সঞ্চালক জানতে চান, শৈশব থেকে কীভাবে তাঁর প্রাণী পালনের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছিল এবং কবুতর পালনের শুরুটা কীভাবে?উত্তরে মো. মাহমুদুন্নবী সোহাগ বলেন, ‘আমার শৈশব কেটেছে নাটোরে। ছোটবেলায় আমার একটি টিয়া পাখি পালনের ইচ্ছা ছিল। একসময় রংপুর থেকে আমার এক চাচা আমাকে একটি টিয়া পাখি এনে দেন। পরে নানাভাই আমাকে বোঝান, পাখিকে খাঁচায় আটকে রাখা মানে তাকে কষ্ট দেওয়া। সেই ঘটনা আমার মনে প্রভাব ফেলে। এরপর আমি আর পাখি পালন করিনি। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকে কবুতর পালনের দিকে আমার আগ্রহ তৈরি হয়। কারণ, কবুতর খোলা পরিবেশে পালন করা যায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘নাটোরে বিভিন্ন ধরনের কবুতরের খামার ছিল। আমি সেসব খামারে যেতাম, কবুতর দেখতাম এবং ধীরে ধীরে বিভিন্ন জাতের কবুতর সম্পর্কে জানতে শুরু করলাম। ২০০৯-১০ সালের দিকে নিয়মিত কবুতর কেনা শুরু করি। শখের এ কাজটাই একসময় আমার আয়ের একটি উৎস হয়ে ওঠে।’প্রসঙ্গক্রমে সঞ্চালক জানতে চান, কবুতর পালন থেকে আয়ের সুযোগ কীভাবে তৈরি হয়েছিল?মো. মাহমুদুন্নবী সোহাগ বলেন, ‘২০১২ সালের দিকে হলুদমুখো এক জোড়া কবুতরের বাজারমূল্য ছিল দুই লাখ টাকার বেশি। এর বাচ্চাও বিক্রি হতো ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা। একপর্যায়ে এক জোড়া কবুতর কেনার পর সেগুলো থেকে দুটি ডিম পাই। সেই ডিম থেকে পরবর্তী সময়ে কয়েকটি বাচ্চা উৎপাদন করে প্রায় দুই লাখ আট হাজার টাকায় বিক্রি করি। ২০১৪ সালের দিকে আমার কবুতরের মোট বাজারমূল্য দাঁড়ায় প্রায় ২৭ লাখ টাকা।’তখন কবুতর পালন তাঁর কাছে শুধু শখ ছিল না, এটি বড় ধরনের অর্থ উপার্জনের সম্ভাবনাও তৈরি করেছিল বলে জানান সোহাগ। পরবর্তী সময়ে কীভাবে পরিস্থিতি বদলাল এবং ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতি কী প্রভাব ফেলেছিল—সে সম্পর্কে মো. মাহমুদুন্নবী সোহাগ বলেন, ‘কবুতর পালন একধরনের শখের ব্যবসা। নতুন করে কবুতর পালা নিয়ে শৌখিন মানুষের আনাগোনা না থাকলে মার্কেটে কবুতরের মূল্য কমে যায়। তাই কবুতরের বাজারে ওই সময় হঠাৎ বড় ধরনের ধাক্কা আসে। একসময় যে কবুতরগুলোর বাজারমূল্য প্রায় ২৭ লাখ টাকা ছিল, সেগুলো শেষ পর্যন্ত মাত্র ২২ হাজার টাকায় বিক্রি করতে হয়েছিল আমাকে। এত বড় ক্ষতি আমার উদ্যোক্তা জীবনের অন্যতম বড় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।’প্রসঙ্গক্রমে সঞ্চালক জানতে চান, কবুতরের পর কীভাবে ছাগল, ভেড়া ও গরুর খামার শুরু করলেন এবং সেখানে কী ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন?উত্তরে মো. মাহমুদুন্নবী সোহাগ বলেন, ‘২০১২ সালে আমি ঢাকায় এসে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে পড়াশোনা শুরু করেছিলাম। কবুতর পালন তখনো আমার শখ ও আয়ের একটি উৎস ছিল। তবে এই বড় ধরনের ক্ষতির পর ব্যবসা নিয়ে আমাকে নতুন করে ভাবতে হয়।’নতুন ব্যবসা শুরুর প্রসঙ্গে মো. মাহমুদুন্নবী সোহাগ বলেন, ‘নাটোরে বাড়ির কাছেই আমি ছাগল, ভেড়া, দুম্বা ও ভারতীয় গরু নিয়ে খামার করার চেষ্টা করি। এ কাজে আমার কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। ইউটিউবে বিভিন্ন ভিডিও দেখে নিজেই শেখার চেষ্টা করি। একসময় শুরু করি গবাদিপশু পালন। প্রায় দুই বছর পর রমজানের সময়ে পিপিআর ভাইরাসে এক রাতে প্রায় ৩২টি পশু মারা যায়। এ ঘটনায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয় আমার।’একই সময়ে পরিবারের কাছ থেকেও বাধা আসা শুরু করে বলে জানান সোহাগ। তিনি বলেন, ‘পড়াশোনায় মনোযোগ না দিয়ে কেন আমি ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত, তা নিয়েও নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। ফলে একসময় প্রায় এক-দুই বছর ব্যবসা থেকে দূরেই ছিলাম।’এরপর নতুন করে তাঁর ব্যবসায় ফেরার গল্প জানতে চান সঞ্চালক। তিনি জিজ্ঞেস করেন, কীভাবে আবার কৃষিভিত্তিক পণ্যের ব্যবসায় আসার চিন্তা হলো এবং গ্রামের খাঁটি পণ্য ঢাকার মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ধারণা তৈরি হলো?জবাবে মো. মাহমুদুন্নবী সোহাগ বলেন, ‘ঢাকায় মেসে থাকার সময় খাবার ও পরিবেশের কারণে আমি প্রায়ই অসুস্থ বোধ করতাম। তখন গ্রামের খাঁটি খাবারের কথা মনে পড়ত। আমার পরিবারের কৃষির সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। নানাভাইও কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেখান থেকেই আমার মনে হয়, গ্রামের ভালো ও খাঁটি পণ্য ঢাকার মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।’সোহাগ আরও বলেন, ‘নাটোর থেকে আমি সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিচিতদের আম পাঠাতাম। অনেকেই সেই আম উপহার হিসেবে নিতে চাইত। ২০১৬-১৭ সালের দিকে অনলাইনে তাজা আমের বাজার এখনকার মতো বড় ছিল না। উপহার দেওয়ার সেই অভিজ্ঞতাকেই আমি ধীরে ধীরে ব্যবসায়িক উদ্যোগে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করি।’‘শতমূল অ্যাগ্রো’র যাত্রা শুরুর প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মো. মাহমুদুন্নবী সোহাগ বলেন, ‘ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ডিপ্লোমা শেষ করে আমি গাজীপুরে বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরিতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাটাচমেন্টে যাই। ২০১৬ সালের শেষের দিকে গাজীপুর চৌরাস্তার কাছে এক ব্যক্তিকে রাস্তার পাশে মধু বিক্রি করতে দেখি। খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, তিনি প্রতি কেজি মধু ৪০০ টাকায় কিনে ৮০০ টাকায় বিক্রি করছেন। তখন আমি তাঁকে প্রস্তাব দিই, বেশি পরিমাণে মধু দিলে তিনি ২৩০ টাকা দরে মধু সরবরাহ করতে পারবেন কি না। আমার প্রস্তাবে তিনি রাজি হন।’সোহাগ বলেন, ‘এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বড় ভাই মাহমুদ ভাইয়ের মাধ্যমে আল মদিনা এন্টারপ্রাইজে নমুনা পাঠাই। পণ্য পছন্দ হওয়ায় তারা বেশি পরিমাণ মধু কিনে নেয় আমার কাছ থেকে। এ ঘটনা আমাকে ব্যবসা নিয়ে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।’আলোচনার শেষ পর্যায়ে সঞ্চালক জানতে চান, ব্যবসায় লাভ আসলে কেনার সময় নাকি বিক্রির সময়?উত্তরে সোহাগ বলেন, ‘ব্যবসার মূল জায়গাটি হলো “কেনা”। আমার মতে, আপনাকে কিনে জিততে হবে। আপনি যদি কিনে জিততে না পারেন, তাহলে বিক্রি করে লাভ করতে পারবেন না।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ঢাকার আশুলিয়া থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় মিষ্টি সুভাসকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বিস্তারিত ভিডিও প্রতিবেদনে...
ঢাকার মিরপুর-১ সার্কেলের রূপায়ণ লতিফা শামসুদ্দীন স্কয়ারে পঞ্চম আউটলেট উদ্বোধন করেছে দেশীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘হুর’। গত বৃহস্পতিবার আউটলেটটি উদ্বোধন করেন যমুনা গ্রুপের পরিচালক (মার্কেটিং, সেলস অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ আলমগীর আলম। এ সময় ‘হুর’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। নতুন এই আউটলেটে নারী, পুরুষ ও শিশুদের জন্য থাকছে নানা ধরনের পোশাকের সংগ্রহ। পরিবারের সদস্যদের জন্য রয়েছে ‘ম্যাচিং কালেকশন’, যেখানে একই রং ও নকশার পোশাকে পুরো পরিবারকে সাজানোর সুযোগ থাকছে।দেশীয় শিল্প, ঐতিহ্যবাহী নকশা, আকর্ষণীয় প্রিন্ট ও আধুনিক ফ্যাশনের সমন্বয়ে ‘হুর’-এর পোশাক তৈরি। দৈনন্দিন ব্যবহারের উপযোগী পোশাকের পাশাপাশি তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যে ফ্যাশনপ্রেমীদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে ২০২০ সালে যাত্রা শুরু করা ব্র্যান্ডটি।