ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে ব্যাংকটির কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন গ্রাহকরা। একই সঙ্গে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া গ্রাহকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মতিঝিলের দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে এসব দাবি জানানো হয়।
ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে অধ্যাপক নুরুন্নবী মানিক বলেন, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ না থাকায় প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর নেতিবাচক প্রভাব দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও পড়ছে। তাই দ্রুত পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করতে হবে।
তিনি বলেন, প্রশাসন যতক্ষণ পর্যন্ত কর্মসূচির বিপরীত অবস্থানে থাকা পক্ষ বা বহিরাগতদের সরিয়ে না দেবে, ততক্ষণ গ্রাহকদের অবস্থান কর্মসূচি চলবে।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া গ্রাহকদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে সচেতন গ্রাহক ফোরামের সহ-সভাপতি মুতাসিম বিল্লাহ বলেন, যারা হামলা চালিয়েছে তাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। এ বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি।
এদিকে ইসলামী ব্যাংকের পল্টন শাখার এক গ্রাহক জানান, তিনি দীর্ঘ নয় বছর ধরে ব্যাংকটির নিয়মিত ও সনদপ্রাপ্ত ব্যবসায়ী গ্রাহক। তবে ব্যবসার প্রয়োজনেও এখন ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ তুলতে পারছেন না।
তিনি অভিযোগ করেন, গত কয়েক বছরে ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের কারণে বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে দেশের অর্থনীতি ও উৎপাদনশীল খাতকে দুর্বল করতে ইসলামী ব্যাংককে ধ্বংসের চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় তাদের ওপর বহিরাগতরা হামলা চালিয়েছে। হামলায় আহত হওয়ার পরও দাবির সঙ্গে সংহতি জানাতে তিনি কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন।
দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান রক্ষায় দ্রুত ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে ব্যাংকটির কার্যক্রম স্বাভাবিক করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ইএআর/এমআইএইচএস/
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নানা বাড়িতে বেড়াতে এসে সড়ক দুর্ঘটনায় মাহির হোসেন (৬) নামে এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার হাজীপুর এলাকায় মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মাহির উপজেলার দক্ষিণ মুসুল্লিয়াবাদ গ্রামের মহিউদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে। সে দক্ষিণ মুসুল্লিয়াবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্লে শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা মহিউদ্দিন কুয়াকাটা পৌরসভা এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় ঝিনুক ব্যবসায়ী। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুই দিন আগে বাবা-মায়ের সঙ্গে মাহির উপজেলার হাজীপুর এলাকায় নানা ওহিদ শিকদারের বাড়িতে বেড়াতে আসে। দুপুরে নানা ওহিদ শিকদারের সঙ্গে বরিশালে যাওয়ার উদ্দেশ্যে গাড়ির অপেক্ষায় মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল সে। এ সময় কুয়াকাটা থেকে ছেড়ে আসা একটি বিআরটিসি বাস মাহিরকে পিষে দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। আরও পড়ুন ‘হয় ১৩ লাখ টাকা চাঁদা দে, না হয় এলাকা ছাড়’ দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা বাসটি ও চালককে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসটি জব্দ করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এনএইচআর
অবৈধ মজুদের অভিযোগে দিনাজপুরের বিরলে দিনব্যাপী অভিযানে ১৩৯১ বস্তা সার জব্দ করেছে প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ। একই সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালতে চারজন সার ডিলারকে এক লাখ দুই হাজার টাকা জরিমানা ও একটি সার গুদাম সিলগালা করা হয়। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার ২ নম্বর ফরক্কাবাদ ইউনিয়নের বিরল-বোচাগঞ্জ সড়কের পাশে মহাদেবপুর মাছুয়াপাড়া মোড়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রেজাউল ইসলাম মেসার্স শাহির ট্রেডার্স প্রো. মো. নাসিম ইকবাল খোকনকে অবৈধভাবে সার মজুত করার দায়ে ৭৮২ বস্তা সার যার মধ্যে টিএসপি ৪৪৬ বস্তা, ডিএপি ২৭৬ বস্তা, এমওপি ৪৬ বস্তা ও ইউরিয়া ১৪ বস্তা জব্দ করে পঞ্চাশ হাজার টাকা অর্থদণ্ডাদেশ দেন। রাতেই তিনি পার্শ্ববর্তী একই এলাকায় লাইসেন্সবিহীন খুচরা বিক্রেতা মো. আলিম এর দোকানে অবৈধভাবে মজুদকৃত ১৭ বস্তা সার যার মধ্যে টিএসপি ৭ বস্তা, এমওপি ৭ বস্তা ও ডিএপি ৩ বস্তা জব্দ করে দুই হাজার টাকা অর্থদণ্ডাদেশ দেন। আরও পড়ুন রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের অভিযানে ১৮৩ গ্রেফতার এছাড়াও উপজেলার ৪ নম্বর শহরগ্রাম ইউনিয়নের নাড়াবাড়ী বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনোয়ার হোসেন মেসার্স নবাব ট্রেডার্স প্রো. মশিউর রহমানের দোকানের দুইটি ঘরে নিবন্ধন ব্যতীত সার ৮২ বস্তা যার মধ্যে ডিএপি ৩২ বস্তা, ইউরিয়া ২৫ বস্তা, এমওপি ২৫ বস্তা অবৈধ মজুতকালে জব্দ করে দশ হাজার টাকা অর্থদণ্ডাদেশ দেন এবং চককাঞ্চন মোড়ে পৃথক অভিযানে মেসার্স হাসেম ট্রেডার্স (বিসিআইসি ডিলার) প্রো. মো. হাসেমের ভাই মো. জাহাঙ্গীর আলমকে অবৈধভাবে মজুদকৃত ৫১০ বস্তা সার যার মধ্যে ডিএপি ১০৩ বস্তা ও এমওপি ৪০৭ বস্তা জব্দ করে চল্লিশ হাজার টাকা অর্থদণ্ডাদেশ দেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা জব্দকৃত সার সরকারী মূল্যে কৃষকদের নিকট বিক্রয় করে প্রাপ্ত অর্থ সরকারী কোষাগারে জমা দেওয়ার জন্য বিরল উপজেলা কৃষি অফিসার ও সংশ্লিষ্ট উপসহকারী কৃষি অফিসারকে নির্দেশ দেন। এমদাদুল হক মিলন/এনএইচআর
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন আশির দশকের স্মৃতিচারণে মেতেছেন অনেকেই। পুরোনো দিনের ছবি প্রকাশ করে ফিরে যাচ্ছেন সেই সময়ের নানা স্মৃতিতে। এবার সেই স্রোতে যোগ দিলেন প্রবীণ অভিনেত্রী দিলারা জামানও। তবে কোনো এআই ছবি নয়, নিজের পুরোনো একটি ছবি প্রকাশ করেছেন তিনি। জানালেন, ছবিটি আশির দশকের শুরুর দিকে তোলা। সম্প্রতি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি প্রকাশ করে দিলারা জামান লিখেছেন, ‘সবাই দেখছি ৮০ দশকের ছবি দিচ্ছে। এটা আমার ৮০ বা ৮১ সালে তোলা ছবি চট্টগ্রামে।’ ছবিটি প্রকাশের পর অভিনেত্রীর ভক্ত ও অনুরাগীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নস্টালজিয়া। ছবিতে দিলারা জামানকে দেখা গেছে আশির দশকের শুরুর সময়ের সাজ ও উপস্থিতিতে। সময়ের ব্যবধানে সেই পুরোনো ছবি যেন ফিরিয়ে এনেছে তারুণ্যের দিনের স্মৃতি। দিলারা জামান বাংলাদেশের অভিনয়জগতের অন্যতম পরিচিত মুখ। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে অসংখ্য চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে তার সাবলীল অভিনয় ও স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব তাকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। তার প্রকাশ করা ছবিটি নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগ্রহ দেখা গেছে। পুরোনো দিনের তারকারা যখন একের পর এক আশির দশকের ছবি প্রকাশ করছেন, তখন দিলারা জামানের এই ছবিও সেই নস্টালজিয়ার সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হলো। চট্টগ্রামে তোলা প্রায় চার দশকের পুরোনো ছবিটি শুধু একটি স্থিরচিত্র নয়, বরং অভিনেত্রীর জীবনের একটি সময়ের স্মৃতিচিহ্ন। নিজের হাতে সেই স্মৃতি সামনে এনে দিলারা জামান যেন ভক্তদেরও ফিরিয়ে নিলেন আশির দশকের সেই দিনগুলোতে। এলআইএ