জাতীয়

ইলেকট্রিশিয়ানের কাজের কথা বলে রাশিয়ায় নিয়ে পাঠানো হয় যুদ্ধক্ষেত্রে, অতঃপর...

News সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ 0
ইলেকট্রিশিয়ানের কাজের কথা বলে রাশিয়ায় নিয়ে পাঠানো হয় যুদ্ধক্ষেত্রে, অতঃপর...
ইলেকট্রিশিয়ানের কাজের কথা বলে রাশিয়ায় নিয়ে পাঠানো হয় যুদ্ধক্ষেত্রে, অতঃপর...

বিদেশে গিয়ে সংসারের হাল ধরার স্বপ্ন ছিল। কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে এখন শুধু লাশ ফেরত চাওয়ার আকুতি। রাশিয়ায় কাজের কথা বলে নিয়ে গিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয় ময়মনসিংহের আল মামুনকে। ইউক্রেন সীমান্তে ড্রোন হামলায় তাঁর মৃত্যুর খবর পেয়ে শোকে ভেঙে পড়েছে পরিবার।

আল মামুন (২৪) ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার খারুয়া ইউনিয়নের খারুয়া গ্রামের মৃত আবুল কাশেম ও রোকেয়া খাতুন দম্পতির একমাত্র ছেলে। দেশে তিনি ইলেকট্রিশিয়ান ও প্লাম্বিংয়ের কাজ করতেন। স্ত্রী, এক ছেলে ও পাঁচ মাসের মেয়েকে রেখে চলতি বছরের ৭ মে রাশিয়ার উদ্দেশে দেশ ছাড়েন। লক্ষ্য ছিল বিদেশে গিয়ে সংসারে সচ্ছলতা ফেরাবেন।

প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলায় মামুন নিহত হয়েছেন বলে পরিবারকে জানিয়েছেন তাঁর সঙ্গে রাশিয়ায় যাওয়া ঝিনাইদহের রাজন হোসেন। গত মঙ্গলবার পরিবার তাঁর মৃত্যুর খবর পায়। এর আগে আহত অবস্থায় রাশিয়া থেকে পালিয়ে গত ২৩ আগস্ট দেশে ফেরেন রাজন। তাঁর দাবি, তাঁদের সঙ্গে একই ফ্লাইটে যাওয়া ৩০ বাংলাদেশির মধ্যে অন্তত ১৭ জন যুদ্ধে অংশ নেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই নিহত হয়েছেন। আরও কয়েকজনের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

মামুনের স্ত্রী মহিমা আক্তারের ভাষ্য, ইলেকট্রিকের কাজের কথা বলেই তাঁর স্বামীকে রাশিয়ায় নেওয়া হয়েছিল। তিনি যুদ্ধ করতে যাননি। তাঁর অভিযোগ, দালালেরা প্রতারণা করে মামুনসহ একই দলের ৩০ বাংলাদেশিকে রুশ সেনাবাহিনীর কাছে নিয়ে যান।

‘আমি যুদ্ধে আছি’

রাশিয়া যাওয়ার পর থেকে স্বামী মামুনের সঙ্গে মহিমার সরাসরি কথাবার্তা কম হতো। তবে মামুন মুঠোফোনে অডিও বার্তা ও ছবি পাঠিয়ে যোগাযোগ রাখতেন। সর্বশেষ গত ১৯ আগস্ট একটি অডিও বার্তা পাঠানোর পর মামুনের আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না বলে জানান স্ত্রী।

মহিমা আক্তার বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে থাকার সময় মামুন ভয় ও শঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী বলেছিল, তাঁর মাথার ওপর দিয়ে ড্রোন ঘুরছে, কখন কী ঘটে বলা যায় না। সন্তানদের দেখে রাখার কথাও বলেছিলেন। এরপর আর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি।’

মহিমা জানান, বিদেশে যাওয়ার আগে মামুন বলেছিলেন, দুই-তিন বছর কাজ করে ঋণ শোধ করবেন এবং বাড়িতে একটি ঘর করবেন। তিনি বলেন, ‘আমার দুইটা সন্তান। ওদের দেখার মতো আর কেউ নাই। স্বামীই একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। এখন আমি কীভাবে সংসার চালাব, বুঝতে পারছি না।’

রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর ইউক্রেন সীমান্তে যুদ্ধের জন্য পাঠানো হয় আল মামুনকে

রাশিয়ায় যেতে সাড়ে ৮ লাখ টাকা খরচ

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আল মামুনকে রাশিয়ায় পাঠাতে তাঁদের প্রায় সাড়ে আট লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এর মধ্যে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান (এনজিও) থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নেওয়া হয়। ধানের ওপর প্রায় ৪ লাখ টাকা দাদন নেওয়া হয়। বাকি টাকা আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধার এবং গরু বিক্রি করে জোগাড় করা হয়।

একমাত্র ছেলে মামুনকে বিদেশে পাঠিয়ে পরিবারের অভাব ঘোচানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন মা রোকেয়া খাতুন। এখন সেই ছেলেই নেই। অথচ রয়ে গেছে ঋণের বোঝা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার একমাত্র ছেলে বিদেশ গেছিল নিজের ভাগ্য বদলানোর জন্য, আমাদের ভালো রাখার জন্য। সাড়ে আট লাখ টাকা ঋণ করে দিছি। এখন ছেলেই নাই। নাতি-নাতনিদের কীভাবে বড় করব, জানি না।’

ছেলের মৃত্যুর সঠিক সময়, কোথায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে কিংবা মরদেহ কোথায় আছে—এসবের কোনো তথ্যই জানে না পরিবারের সদস্যরা। রাশিয়ায় পাঠানো দালালদের বিচার দাবি করে রোকেয়া খাতুন বলেন, ‘আমার ছেলেকে যে দালাল বেইচা দিছে, এই দালালের বিচার চাই। সরকারের কাছে এই আবেদন।’

রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে অংশ নিয়ে আহত হয়ে পালিয়ে দেশে ফিরেছেন ঝিনাইদহের রাজন হোসেন

রুশ ভাষার চুক্তিতে সই

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার গয়েশপুর গ্রামের রাজন হোসেনের সঙ্গে বুধবার রাতে প্রথম আলোর কথা হয়। তিনি জানান, ‘জাবাল-এ নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’ নামের একটি এজেন্সির মাধ্যমে ৭ মে একই ফ্লাইটে ৩০ বাংলাদেশি রাশিয়ায় যান। তাঁদের ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কাজ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। সবার ভিসা, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) কার্ড ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ছিল বলেও তিনি দাবি করেন।

রাজনের ভাষ্য, ৮ মে তাঁরা রাশিয়ায় পৌঁছান। কয়েক দিন পর ১২ মে ব্যাংক কার্ড, সিম কার্ড ও কাজ করার অনুমতিপত্র দেওয়ার কথা বলে তাঁদের একটি চুক্তিতে সই করানো হয়। চুক্তিটি রুশ ভাষায় লেখা ছিল, তাই তাঁরা সেটি বুঝতে পারেননি। পরে জানতে পারেন, সেটি ছিল রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার চুক্তি। এরপর তাঁদের একটি সেনাক্যাম্পে নিয়ে সেখানে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এরপর যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। ১২ জুন সবাইকে যুদ্ধের সম্মুখসারিতে পাঠানো হয়। ১৪ জুন ড্রোন হামলার ঘটনায় ১৭ জন বাংলাদেশি নিহত হন। কেউ ড্রোন হামলায়, কেউ মাইন বিস্ফোরণে মারা যান বলে রাজনের দাবি।

রাজনের ভাষ্য, ১৪ জুন তাঁর মাথার ওপর ড্রোন ও বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। এতে তিনি আহত হন। পরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতাল থেকে পালিয়ে ১৮ আগস্ট বাংলাদেশ দূতাবাসে যান। পরে রাশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সহযোগিতায় ২৩ আগস্ট দেশে ফেরেন।

৩০ বাংলাদেশির জন্য দোভাষী হিসেবে একজন রুশভাষী কমান্ডার ছিলেন বলে জানান রাজন। ওই কমান্ডারের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ আছে তাঁর। সেই সূত্রে বাংলাদেশিদের অবস্থা সম্পর্কে কিছু তথ্য জানতে পারছেন রাজন। ওই কমান্ডারের কাছ থেকেই গত সোমবার মামুনের মৃত্যুর খবর পান রাজন। তিনি বলেন, ‘কমান্ডার আমাকে জানিয়েছেন, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ড্রোন হামলায় মামুন মিয়া মারা গেছে। এরপর আমি তাঁর পরিবারকে খবর দিয়েছি।’

মুঠোফোনে ছেলের ছবি দেখিয়ে আহাজারি করছেন আল মামুনের মা রোকেয়া খাতুন। বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়মনসিংহের নান্দাইলের খারুয়া গ্রামে

মন্ত্রণালয়ে গিয়েও মেলেনি সমাধান

মামুনকে রাশিয়ায় পাঠানোর প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন তাঁর খালা-শাশুড়ি মোসাম্মৎ কোবিলা আক্তার। তিনি বলেন, মামুনকে প্রায় দুই বছর আগে রাশিয়ায় পাঠানোর জন্য কাগজপত্র দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘদিন পর ‘জাবাল-এ নূর’ নামের এজেন্সির মাধ্যমে ভিসা হয়। এরপর ৭ মে মামুন রাশিয়া যান।

কোবিলা আক্তারের দাবি, রাশিয়ায় যাওয়ার পর মামুনদের কাছ থেকে রুশ ভাষায় চুক্তিতে সই নেওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে তাঁরা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেন। সেখানে তাঁদের আশ্বস্ত করা হয়েছিল, বাংলাদেশিদের যুদ্ধে পাঠানো হবে না। তিনি বলেন, তাঁরা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে বারবার যোগাযোগ করেছেন। এ বিষয়ে মামলা করার জন্যও থানায় যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু আশ্বাস ছাড়া কিছুই মেলেনি।

কোবিলা আক্তারের অভিযোগ, ‘জাবাল-এ নূর’ এজেন্সির মাধ্যমেই প্রতারণা হয়েছে। ওই এজেন্সির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন তিনি। তাঁর দাবি, ৩০ বাংলাদেশিকে মাসে দেড় লাখ টাকা বেতনের কথা বলে রাশিয়ায় নেওয়া হয়েছিল।

নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাত প্রথম আলোকে বলেন, মামুনের মৃত্যুর বিষয়টি তাঁর পরিবার মৌখিকভাবে জানিয়েছে। পরিবারকে লিখিত আবেদন দিতে বলা হয়েছে। আবেদন পাওয়ার পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রবাসী কল্যাণ শাখার মাধ্যমে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি জানানো হবে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
১০-১২ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরিয়ে নিলো বিএসএফ
১০-১২ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরিয়ে নিলো বিএসএফ

সাতক্ষীরার কালিন্দী নদী সীমান্ত দিয়ে ১০-১২ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। পরে বিজিবির বাধার মুখে তাদের ভারতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রচণ্ড বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে নীলডুমুর ব্যাটালিয়নের (১৭ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ খুরমী বিওপি থেকে দক্ষিণ দিকে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে কালিন্দী নদীর মধ্যস্থ চর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিজিবি জানায়, ছোট বাঁশঝাড়িয়া মিনি ফরেস্ট নামের ওই এলাকায় ভারতের ৭৭ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের চর সাহেবখালী বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা একটি কান্ট্রি বোট ও একটি স্পিডবোট নিয়ে ওই ১০-১২ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করেন। বিষয়টি খুরমী বিওপির টহলদলের নজরে পড়লে বিজিবি সদস্যরা প্রচণ্ড বৃষ্টি উপেক্ষা করে স্পিডবোটে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এসময় তারা ওই ব্যক্তিদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেন। আরও পড়ুন বাজারে যাওয়ার পথে তুলে এনে বাংলাদেশে পুশ-ইন, ভারতে ফিরতে চান নারী   বিজিবির দাবি, তাদের দৃঢ় অবস্থানের কারণে বিএসএফ সদস্যরা ওই ব্যক্তিদের বাংলাদেশে প্রবেশ করাতে ব্যর্থ হন। পরে বেলা ১১টার দিকে বিএসএফ সদস্যরা ১০-১২ জনকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যান। এ বিষয়ে নীলডুমুর ব্যাটালিয়নের (১৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার আবু সহল আব্দুল্লাহ বলেন, ‘দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৭ বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অবৈধভাবে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।’ তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, প্রচলিত আইন ও বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার পরিপন্থি যেকোনো পুশ-ইনের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হচ্ছে। আহসানুর রহমান রাজীব/এসআর  

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
পুনর্নিরীক্ষণে ফল পরিবর্তন হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা

পুনর্নিরীক্ষণে ফল পরিবর্তন হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা

ঢাকায় চলছে খাদ্যপণ্যের প্রদর্শনী, শনিবার শেষ দিন

ঢাকায় চলছে খাদ্যপণ্যের প্রদর্শনী, শনিবার শেষ দিন

ডিজিটাল বিজ্ঞাপনে এআই প্ল্যাটফর্ম অ্যাডজোইকের যাত্রা শুরু

ডিজিটাল বিজ্ঞাপনে এআই প্ল্যাটফর্ম অ্যাডজোইকের যাত্রা শুরু

প্যারিসের সেই ভয়ংকর রাত, আদালতে সাক্ষ্য দিলেন দোন্নারুম্মা
প্যারিসের সেই ভয়ংকর রাত, আদালতে সাক্ষ্য দিলেন দোন্নারুম্মা

ফুটবল মাঠে তাঁর কাজই হলো বিপদ ঠেকানো। ২৪ ফুট চওড়া আর ৮ ফুট উঁচু গোলপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে প্রতিপক্ষের একের পর এক শট ফিরিয়ে দেন তিনি। কখনো দুর্দান্ত সেভে দলকে বাঁচান, কখনো তাঁর হাতেই লেখা হয় ম্যাচের ভাগ্য। কিন্তু জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর এক রাতে সেই গোলকিপারই ছিলেন সম্পূর্ণ অসহায়।তিনি জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা—২০২১ ইউরোজয়ী ইতালির গোলরক্ষক। পিএসজির হয়ে খেলার সময় ২০২৩ সালের এক রাতে প্যারিসের নিজ বাড়িতে ভয়াবহ ডাকাতির শিকার হয়েছিলেন তিনি ও তাঁর সঙ্গী আলেসিয়া এলেফান্তে। তিন বছর পর সেই রাতের স্মৃতি আবারও ফিরে এসেছে আদালতে। সাক্ষ্য দিতে গিয়ে দোন্নারুম্মা ও আলেসিয়া শুনিয়েছেন সেই রাতের আতঙ্কের গল্প।ঘটনাটি ২০২৩ সালের ২১ জুলাই রাতের। ঘড়ির কাঁটায় রাত ২টা ৫২ মিনিটে আচমকা দোন্নারুম্মার ঘরে ঢুকে পড়েন চার মুখোশধারী। একটি মই বেয়ে তাঁরা ভবনের ছাদে ওঠেন। সেখান থেকে নেমে আসেন বারান্দায়। এরপর জানালা ভেঙে ঢুকে পড়েন ঘরের ভেতর। ঘুম ভেঙে চোখ মেলতেই দোন্নারুম্মা দেখতে পান, সামনে দাঁড়িয়ে একজন মুখোশধারী। কী ঘটছে, তা বুঝে ওঠার আগেই শুরু হয় মারধর। তাঁর দিকে তাক করা হয় ছুরি। পেছন থেকে আরও দুজন চিৎকার করে জানতে চাইছিলেন দামি ঘড়ি আর মূল্যবান জিনিসপত্র কোথায় রাখা? ভয়ে দোন্নারুম্মা ড্রেসারের ওপর রাখা একটি ঘড়ির দিকে ইঙ্গিত করেন। কিন্তু তাতেও থামেননি দুর্বৃত্তরা।জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা ও তাঁর স্ত্রী আলেসিয়া এলিফান্তেতাঁরা এলেফান্তেকে বেঁধে ফেলেন। এরপর একে একে দাবি করতে থাকেন টাকা, ঘড়ি ও গয়না। বাধ্য হয়ে এলেফান্তে প্রায় ১২ হাজার রিয়াল সমপরিমাণ নগদ অর্থ, একটি মূল্যবান ঘড়ি এবং বেশ কিছু গয়না তাঁদের হাতে তুলে দেন। এরপর তাঁদের নজর পড়ে একটি আলমারির দিকে। আলমারি খোলার গোপন কোড জানতে চান তাঁরা। এলেফান্তে জানান, তিনি কোড জানেন না। আলমারিতে মূল্যবান কিছু নেইও। এই জবাবে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে ডাকাত দল। একপর্যায়ে এলেফান্তের চুল টেনে ধরা হয়, আঘাত করা হয় পায়েও। ভয় আর যন্ত্রণার মধ্যে তখন এলেফান্তে জানান, তিনি অন্তঃসত্ত্বা। কিন্তু সেই কথাতেও থামেনি হামলা।ঘটনার তিন বছর পর রাতের ঘটনা উঠে এসেছে দোন্নারুম্মা ও এলেফান্তের আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যে। ফরাসি সংবাদমাধ্যম লেকিপ জানিয়েছে, বর্তমানে প্যারিসের একটি আদালতে ওই ডাকাতির মামলার শুনানি চলছে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দুই দফায় শুনানি হয়েছে। এতে অভিযুক্ত আসামি তিনজন।তাঁদের মধ্যে ইলিয়াস খেরবুশ ওরফে ‘গানিতো’ এবং খিয়ান মামুনি ওরফে ‘কিকি’ নিজেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে অন্য আসামি ২৪ বছর বয়সী মোকতার দিয়োপ ডাকাতিতে অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।এই রাফিনিয়া যেন ধানের শিষের ওপর একটি শিশিরবিন্দুযদিও দোন্নারুম্মা ও এলেফান্তের ওপর হামলায় তিনি জড়িত ছিলেন না বলে দাবি করেছেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করা আরেক ব্যক্তি ২০২৪ সালে কারাগারেই মারা যান। ঘটনার সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকা আরও দুজনকে এরই মধ্যে শিশু আদালতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে তাঁদের একজনকে তিন বছর এবং অন্যজনকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।আদালতে মামলার শুনানিও ছিল উত্তেজনাময়। খেরবুশ ও মামুনি পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাঁদের আদালতকক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে উত্তেজনা এতটাই বেড়ে যায় যে শুনানি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়। দোন্নারুম্মা বর্তমানে ম্যানচেস্টার সিটিতে খেলেন।সেই কুতিনিও এখন কোথায়

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
বঙ্গোপসাগরে ইঞ্জিন বিকল ট্রলারসহ ১২ জেলেকে উদ্ধার করলো নৌবাহিনী

বঙ্গোপসাগরে ইঞ্জিন বিকল ট্রলারসহ ১২ জেলেকে উদ্ধার করলো নৌবাহিনী

ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বাড়ছেই, পৌঁছালো ১৪১ জনে

ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বাড়ছেই, পৌঁছালো ১৪১ জনে

পুতিনের বুলেটপ্রুফ লিমুজিন এখন দিল্লির সড়কে

পুতিনের বুলেটপ্রুফ লিমুজিন এখন দিল্লির সড়কে

চাঁদা না পেয়ে ছাত্রদল নেতার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর যুবদল নেতার
চাঁদা না পেয়ে ছাত্রদল নেতার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর যুবদল নেতার

বগুড়ার শেরপুরে পৌর যুবদলের এক নেতার বিরুদ্ধে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও পাঁচ কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত যুবদল নেতার দাবি, চাঁদা দাবি বা হামলার কোনো ঘটনা ঘটেনি। বরং জমিসংক্রান্ত বিরোধ ঘিরে তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতেই এ মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শেরপুর পৌরসভার সান্যালপাড়া হাটখোলা সড়ক এলাকায় অবস্থিত সায়েম ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস এবং সায়েম ট্রেডার্স নামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় একই দিন রাতে প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী প্রবাসী আবদুল মান্নানের ছেলে মো. আবদুল্লাহ আল রাফাত (৩৩) বাদী হয়ে শেরপুর থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন। মামলায় শেরপুর পৌর যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম সম্রাটকে (৪২) প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া এজাহারে আরও ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়। মামলার বাদী আবদুল্লাহ আল রাফাত নিজেও শেরপুর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় প্রধান আসামি তরিকুল ইসলাম সায়েম ট্রাভেলসের কার্যালয়ে যান। সেখানে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মো. রেজাউল করিম মণ্ডল সুরুজকে হুমকি দিয়ে তিনি বলেন, তোদের মালিক যদি আমাকে ৫ কোটি টাকা চাঁদা না দেয়, তবে এই এলাকায় কোনো ব্যবসা করতে দেব না। একই সঙ্গে তাদের মালিকানাধীন জায়গা জোরপূর্বক দখল করে নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তরিকুল ইসলামের প্রত্যক্ষ নেতৃত্ব ও মদদে ৫০-৬০ জনের একদল লোক দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে অনধিকার প্রবেশ করে। সেখানে পুনরায় পাঁচ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং তা দিতে অস্বীকার করায় কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। এতে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। বাধা দিতে গেলে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদেরও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে টেবিলের ওপর ব্যাগে থাকা নগদ ১ লাখ ১০ হাজার টাকা আসামিরা ছিনিয়ে নিয়ে যায় এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে আসামিদের শনাক্ত করা হয়। ঘটনার বিষয়ে মামলার বাদী আবদুল্লাহ আল রাফাত বলেন, আমরা একই দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা সত্ত্বেও আমাদের পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে যেভাবে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা ও ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে, তাতে আমরা আতঙ্কিত। এর আগেও সরকারের অধিগ্রহণ করা জমি দখল করে ওই যুবদল নেতা ভাড়া বাণিজ্য চালিয়ে আসছিলেন। আমরা এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করছি। তবে চাঁদা দাবি, হামলা ও ভাঙচুরের সব অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান অভিযুক্ত যুবদল নেতা তরিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সময় আমি বগুড়া শহরে ছিলাম। সেখানে চাঁদা দাবি বা হামলার কোনো প্রশ্নই আসে না। মূল ঘটনা হচ্ছে, আরফান ও আবদুল মান্নানরা স্থানীয় পৈতৃক ও সরকারি জমি দখলের অপচেষ্টা করছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সেখানে গিয়ে কেবল এর প্রতিবাদ করেছেন। আপনারা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করলেই বুঝতে পারবেন সেখানে চাঁদার কোনো কথা হয়নি। রাজনৈতিকভাবে আমাকে হয়রানি করতেই এই ভিত্তিহীন এজাহার দায়ের করা হয়েছে। এ বিষয়ে শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দিন বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে বিষয়টি মূলত জায়গা-জমিসংক্রান্ত ব্যক্তিগত বিরোধ। চাঁদাবাজির কোনো স্পষ্ট ঘটনা পাওয়া যায়নি। তবে এ সংক্রান্ত একটি লিখিত এজাহার পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এল.বি/কেএইচকে

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
জজ মিয়া হত্যা: আব্দুল্লাহর স্বীকারোক্তিতে বেরিয়ে এলো যেসব তথ্য

জজ মিয়া হত্যা: আব্দুল্লাহর স্বীকারোক্তিতে বেরিয়ে এলো যেসব তথ্য

সারা দেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযান শুরু শনিবার ও অন্যান্য খবর

সারা দেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযান শুরু শনিবার ও অন্যান্য খবর

ঝাও হুইয়ান এখন আয়ান ইসলাম, বিয়ে করলেন রংপুরের পীরগঞ্জের তরুণীকে

ঝাও হুইয়ান এখন আয়ান ইসলাম, বিয়ে করলেন রংপুরের পীরগঞ্জের তরুণীকে

0 Comments